নারিশায় জাতীয়তাবাদী অনলাইন গ্রুপের ত্রান বিতরন

মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাতে ভারত, নেপাল চীনের বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে বাংলাদেশেও। এর প্রভাবে সারা দেশের মতো দোহার-নবাবগঞ্জেও দেখা দিয়েছে বন্যা। ক্রমাগত বৃষ্টিপাত ও পদ্মা বিধ্যত এই অঞ্চলে পদ্মার ক্রমাগত পানি বৃদ্ধি আক্রান্ত করেছে দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষকেও। নবাবগঞ্জের জয়কৃষ্ণপুর, দোহারের নয়াবাড়ি, কুসুমহাটি, চর মাহমুদপুর, বিলাশপুর ও নারিশা ইউনিয়নেও বন্যাইয় আক্রান্ত হয়েছেন ৬০ হাজারের মতো মানুষ। আর এই বন্যা দুর্গতদের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি বর্গ, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি সাহায্য এগিয়ে এসেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বন্যা দুর্গতদের জন্য ত্রান দিয়ে সহায়তা করছে দোহার জাতীয়তাবাদী অনলাইন গ্রুপ নামের একটি সংগঠন।

দেশে বিদেশের মানুষদের সহায়তায় এই সংগঠনটি গতকাল ত্রান দিয়েছে নারিশা ইউনিয়নের পশ্চিম চর গ্রাগ দোহার জাতীয়তাবাদী অনলাইন গ্রুপের এই ত্রান বিতরন কার্যক্রম শুরু হয়। এই সময় গ্রুপের সদস্যরা বাড়ি বাড়ি যেয়ে বন্যা দুর্গতের হাতে ত্রান পৌছে দিয়ে আসেন। এসময় গ্রুপের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি ফাহিমা হোসেইন জুবলী, দোহার জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন হিটু, আওয়াল আকন্দসহ উপস্থিত ছিলেন দোহার জাতীয়তাবাদো অনলাইন গ্রুপের সদস্যরা।

এসময় জাতীয়তাবাদী অনলাইন গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয়তাবাদী অনলাইন গ্রুপের পক্ষ থেকে এই ত্রান পর্যায়ক্রমে নয়াবাড়ি, কুসুমহাটি, মাহমুদপুর, বিলাশপুরেও পৌছে হবে।

ই-কমার্স সাইটের নাম কেমন হওয়া উচিৎ?

0

গত কয়েক বছরে এতো বেশি ই-কমার্স ওয়েব সাইট চালু হয়েছে যে বাংলাদেশের ই-কমার্স খাত ইতোমধ্যে নাম সংকটে পড়ে গেছে। এর প্রামণ পাওয়া যায় নতুন চালু হওয়া অনলাইন শপগুলির নামে। বেশিরভাগ ই-কমার্স চালু হয় ব্যক্তিউদ্যোগে, যাদের ই-কমার্স সাইটের নাম-করণের বিষয়ে যথাযথ ধারণা না থাকাই স্বাভাবিক। এইসব বিষয় বিবেচনা করে ডোমেইন নির্ধারণ করলে অদ্ভুত সব নামের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।

ই-কমার্স সাইটের নাম কেমন হওয়া উচিৎ:

১. .কমের আগে বিডি নয়

ইংরেজি ভাষার সমস্ত জেনেরিক শব্দের ডোমেইন নাম শেষ হয়ে গেছে। তাই এখন কোনো জেনেরিক শব্দ বা শব্দগুচ্ছে ডোমেইন নিতে অনেকেই .কম এর আগে বিডি বসিয়ে নেন। বিষয়টা খুব সাধারণ হয়ে গেছে, যার ফলে এখন আর বিডি দিয়ে নাম অনন্য (ইউনিক) হচ্ছে না, ব্র্যান্ডিঙের জন্যেও আর উপযুক্ত না। তার চে “.কম.বিডি” কেনা ভাল অথবা সম্পর্কযুক্ত কোনো শব্দ জুড়ে দিয়ে, যেমন ntvbd.com না হয়ে  ntvonline.com

আবার অনেক সময় .com এর আগের bd চোখে পড়ে না।

২. দুই শব্দযুক্ত ডোমেইনের মাঝে একই বর্ণ নয়

দুইটি শব্দ দিয়ে বানানো ডোমেইনে প্রথম শব্দের শেষে ও দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে একই বর্ণ না দেয়া ভাল, যেমন nrbbazar.com । এখনে মাঝে দুইটি b এর একটা b টাইপ করতে গিয়ে প্রায়ই হারিয়ে যেতে পারে, অনেক সময় দুইটি সমবর্ণ চোখে নাও পড়তে পরে।

৩. কনফিউজিং বানানের শব্দ এড়িয়ে চলা

সহজ ও সোজা শব্দের বানানে নাম নিতে হবে, একাধিক ভাবে বানান করা যায় এমন শব্দে নাম ঠিক না করা উচিৎ। এতে নাম মনে রাখার মত হলেও বানান মনে রাখা যায় না।

৪. আশেপাশের ডোমেইন কিনে রাখা

যদি এমন কোনো নামে ডোমেইন নেয়া হয় যার উচ্চারণ বা বানান সুনির্দিষ্ট না বা এমন বানান যা মানুষ অচেতনভাবেই টাইপ করতে ভুল করবে এমন হলে সম্ভাব্য সব বানানে ডোমেইন নিয়ে রাখা। যদিও নতুন বা ছোট উদ্যোক্তারা প্রথমেই একাধিক ডোমেইন কিনতে পারেন না, তার জন্য পরে খেসারত দিতে হয়। যেমন বাংলাদেশের শীর্ষ চাকরির সাইট bdjobs.com, বেশ কিছু নতুন সাইট কাছাকাছি ডোমেইন নাম নিয়ে চাকরির সাইট খুলেছে। এর ফলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে, যেমন, bdjobs.com.bd, bdjobz.com, jobsbd.com ইত্যাদি। বাগডুম ইংরেজিতে দুইভাবে বানান করা যায়, বাগডুম.কম bagdoom.com ও bagdum.com দুটোই কিনে রেখেছে। বিশেষভাবে বাংলা নামে ডোমেইন নিতে গেলে এই বিষয়টা খেয়াল রাখতে হবে যে ইংরেজিতে বাংলা বানানের সুনির্দিষ্টি নিয়ম নেই, একই শব্দ একাধিক ভাবে বানান করা হয়। যার কারণে বিভ্রান্তিকর বাংলা বানানে ব্র্যান্ডিং করাও কঠিন।

মাঝে মধ্যে উল্টো ডোমেইনও কিনতে হতে পারে। amazoff.com amazon.com কে বহু ভুগিয়েছে। শেষে চড়া দামে amazoff.com কিনে উদ্ধার পেতে হয়েছে এমাজনকে।

৫. .website, .store, .live, .xyz জাতীয় ডোমেইন না কেনা

সারা পৃথিবীতেই মানুষ এখনো ডোমেইন বলতে .কম বুঝে। .website, .store, .live, .xyz জাতীয় শত শত ডোমেইন বের হয়েছে এখন। ধরা যাক আপনার সাইটের ঠিকানা daraz.store, ক্রেতা daraz.store.com এ যাবার চেষ্টা করবে, তার মাথায় আসবে না .store একটা ডোমেইন। অনেক মোবাইলের কিপ্যাডে সরাসরি .com বাটন থাকে।

৬. শব্দ সংক্ষেপ দিয়ে ডোমেইন না নেয়া

শব্দগুচ্ছের অদ্যাক্ষর দিয়ে ডোমেইন নাম নিলে ডোমেইন ছোট হলে উচ্চারণে বড় হয়ে যায়, এসইও ফ্রেন্ডলি হয় না অনেক সময়। যদি শব্দসংক্ষেপ নতুন কোনো আকর্ষনীয় শব্দ সৃষ্টি করে তবে নেয়া যেতে পারে, যেমন, yahoo.com, নয়তো ডোমেইন নেম ছোট হলেও উচ্চারণে বড় হয়ে যায়, যা ব্র্যান্ডিঙের জন্য উপযুক্ত নয়, যেমন, nrbbazaar.com

৭. মোমোরেবল

সবসময় একই তত্ব মেনে ডোমেইন নাম নিতে হবে এমন নয়। কখনো নাম অর্থবোধক হতে হয়, একাই সাথে মেমোরেবল হতে হয়, আবার কখনো শুধু মেমোরেবল হলেই হয়।

৮. নামের মধ্যে ইকমার্স নির্দেশক শব্দ থাকতেই হবে এমন নয়

অনেকে নামের মধ্যে দোকান বা কেনাকাটা নির্দেশক শব্দ রেখে ডোমেইন নাম নিতে গিয়ে হিলারিয়াস সব নাম নেয়, যেমন: আমিকিনি.কম, কিদরকার.কম, নানাবাজার.কম ইত্যাদি, ইত্যাদি। ইকমার্স নির্দেশক ভাল নাম পাওয়া গেলে ভাল, না পাওয়া গেলে শ্রুতিমধুর কোনো নাম রাখা যেতে পারে। বিশ্বের সবচে বড় ইকমার্স সাইটের নামে ইকমার্স নির্দেশক কিছু নেই, একটা অরণ্যের নামে নাম রাখা।

৯. বাংলা নামের ডোমেইনের সতর্কতা

যেসব বাংলা নাম ইংরেজিতে শুধু একভাবেই বানান করা যায় এমন নামে ডোমেইন নেয়া ভাল। যেমন: দোকান, ইংরেজিতে Dokan (ডোমেইন পাওয়া যাবে না, উদাহরণ দেবার জন্য বললাম)। অনেক শব্দ আছে একেকজন একেকভাবে বানান করে, যেমন: মঙ্গল, এটি ইংরেজিতে বিভিন্নভাবে বানান করা যায়; বাংলা ‘ভ’ ইংরেজিতে একাধিক বানান প্রচলিত আছে। একসময় দেখা যাবে একই নামের ভিন্ন ভিন্ন বানানে একাধিক ওয়েবসাইট হয়ে গেছে।

১০. বহুল প্রচলিত শব্দ এড়িয়ে চলা

বহুল প্রচলিত শব্দ এড়িয়ে চলাই ভাল, এমন নাম মেমোরেবল হয় না। একই রকম নামের সাইটগুলোকে ক্রেতারা গুলিয়ে ফেলতে পারে। যথাসম্ভব অনন্য নাম হতে হবে।

১১. ডোমেইনের বর্ণসংখ্যা

নাম ছোট হওয়া ভাল। ইংরেজি চার বর্ণ দিয়ে বানানো সম্ভব এমন যাবতীয় ডোমেইন বিক্রি হয়ে গেছে। পাঁচ ও ছয় বর্ণেও ভাল ডোমেইন নাম পাওয়া যায় না। তাই ডোমেইন বারো বর্ণের বেশি না হওয়া উচিৎ, সাত থেকে নয়-এ রাখাতে পারলে ভাল। এসইওর জন্য কিওয়র্ড গুরুত্বপূর্ণ, তাই ভাল কিওয়ার্ড পাওয়া গেলে নাম একটু বড় হলে সমস্যা নেই।

১২. ডেমেইনে হাইফেন বা সংখ্যা নয়

ডোমেইনে হাইফেন ও সংখ্যা এড়াতে হবে। হাইফেন অনেকেই খেয়াল করে না। হাইফেন ও সংখ্যা এসইওর’র জন্যেও ভাল না বলেই এসইও এক্সপার্টরা বলেন।

১৩. ক্যাজুয়াল শব্দ এড়ানো

নাম শুনেই বা দেখেই ক্রেতার মধ্যে প্রাথমিক ইমপ্রেশন আসে। নামের মধ্যে সিরিয়াসনেস থাকতে হবে, অতিরিক্ত ক্যাজুয়াল শব্দ এড়াতে হবে, যেমন: কীদরকার.কম, যেমনখুশি.কম সবকিছু.কম, বাজার-সদাই ইত্যাদি।

আপনার ই-কমার্স বা অনলাইন শপের ডিজিটাল মার্কেটং সমন্ধে দক্ষ লোকের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করতে ডিজিটাল মার্কেটিং ফর ই-কমার্স : ব্রান্ডিং. মার্কেটিং. সেল্‌স বইটি পড়তে পারেন।

লেখক: পারভেজ রবিন

দোহারে বন্যার্তদের মাঝে “সে টুগেদার” এর ত্রান বিতরণ।

দোহার উপজেলায় চর এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।
রবি বার  প্রায় ১৩০ পরিবারে মধ্যে এই  ত্রান বিতরণ করা হয়। প্রত্যেককে পাঁচ কেজি চাল, এক কেজি ডাল, এক কেজি আলু, এক কেজি পেয়াজ, এক কেজি লবণ,  এক লিটার তৈল, বিস্কুট  এবং খাবার স্যালাইন  দেওয়া হয়। সে টুগেদার এর উদ্যোগে এই ত্রাণ বিতরণ করা হয়। সে টুগেদার একটি সেবামূল সংগঠন  এ সময় “সে টুগেদার” এর পক্ষ থেকে ত্রানবিতরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রনহ্কারী সকল সদস্য, শুভাকাঙ্খী ও আর্থিক সাহায্যকারীদেরকে ধন্যবাদ জানায়।

ত্রান বিতরনের সময় উপস্থিত ছিলেন, সে টুগেদারের এক ঝাক তরুন।

নবাবগঞ্জে গৃহবধূ দগ্ধ : স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রেপ্তার

ঢাকার নবাবগঞ্জে সুমি রাণী (২০) নামে এক গৃহবধূ শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় স্বামী বিকাশ দাস (২৫), শ্বশুর ফকির চাঁন দাস (৫৫) ও শাশুড়ি ছায়া রানীকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। শনিবার সকালে উপজেলা বাহ্রা ইউনিয়নের পশ্চিম বাহ্রা গ্রামের নিজবাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট মঙ্গলবার রাতে সুমির দেবর বিক্রম দাস তার ৭/৮ বন্ধু মিলে ঘরের ভেতরে মদের আসর বসায়। এ সময় তারা মদ্যপান করে মাতলামী করে। পরে গৃহবধূ সুমি রাণী বিষয়টি সইতে না পেরে শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে দেবরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এতে তারা কর্ণপাত করেননি। উল্টো সুমি রানীকে শাসন করে স্বামীসহ শ্বশুর-শাশুড়ি। এ ঘটনায় দেবর ক্ষিপ্ত হয়ে মাতলামি অবস্থায় গভীর রাত পর্যন্ত সুমিকে বকাঝকা করে। পরিবারের কটু কথায় অভিমান করে গত ১৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে বাড়ির সৌচাগারে নিজের গায়ে আগুন দেয় গৃহবধূ সুমি। পরে মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে সুমিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেফার্ড করেন চিকিৎসক। এরপর ১৮ আগস্ট শুক্রবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমির মৃত্যু হয়। এঘটনায় ১৮ আগস্ট শুক্রবার রাতে সুমির বাবা কানদেব দাস বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। শনিবার সকালে নিজবাড়ি থেকে সুমির স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সুমির পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ৩ বছর আগে একই গ্রামের ফকির চাঁন দাসের ছেলে বিকাশ দাস ভালোবেসে বিয়ে করে সুমিকে। তাদের ঘরে পাপড়ি নামে দেড় বছরে একটি মেয়ে সন্তানও রয়েছে।

নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার রাতে সুমির বাবা কানদেব দাস বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(ক) ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের শনিবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

নবাবগঞ্জে ফেনসিডিল ও ইয়াবাসহ আটক ৫

ঢাকার নবাবগঞ্জে ইয়াবাসহ ৪ জন ও ফেনসিডিলসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার ও শনিবার রাতে উপজেলার পৃথক স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়।

ইয়াবাসহ আটককৃতরা হল উপজেলার আমিরপুরের মৃত শেখ আলাউদ্দিনের ছেলে শফিউদ্দিন সফু, একই এলাকার আলমগীরের ছেলে শুভ, জয়নাল ভূঁইয়ার ছেলে সুমন ও দীঘিরপাড় গ্রামের মৃত শেখ রজ্জব আলীর ছেলে কাইয়ূম এবং ফেনসিডিলসহ আটক মো. সোহেল উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের মৃত বাবর আলীর ছেলে। পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে মাদক বেচাকেনা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার আমিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এদের আটক করে পুলিশ। এসময় তাদের দেহ তল্লাশি করে ২৪২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মাদক মামলায় রোববার সকালে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান নবাবগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই শফিকুল ইসলাম সুমন।

অন্যদিকে, শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা সদর কাশিমপুর এলাকার মো. সোহেলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাড়ির গোয়ালঘর থেকে ৪০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ থানার এএসআই মামুন হোসাইন।

দোহার–নবাবগঞ্জে পানি কমছে দুর্ভোগ বাড়ছে

ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে দুর্ভোগ বেড়েছে পানিবন্দী মানুষের। এই এলাকার ৬৫ হাজার বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য আসেনি কোনো ত্রাণ-সহায়তা।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র ভাগ্যকুল গেজ স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে গতকাল শনিবার বেলা দেড়টা পর্যন্ত ৩ সেন্টিমিটার পানি কমে বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ সেন্টিমিটার পানি কমার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

অপরদিকে গত পাঁচ দিনেও দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় সরকারি ত্রাণ পৌঁছেনি বলে জানা গেছে। সরেজমিনে বন্যাদুর্গত এলাকায় জানা যায়, নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাবাজু, তিতপালদিয়া, পানিকাউর, আশয়পুর, কুঠুরী, রায়পুর, কেদারপুর, ঘোষাইল, আরঘোষাইল, সাতবাজার, রাজাপুর, বালেঙ্গা, কান্তারটেক, নয়াডাঙ্গি, চারাখালি, মঠবাড়ি, পূর্বচর ও শিকারীপাড়া ইউনিয়নের সোনাতলা, নূরপুর চরসোনাতলা, বিষমপুরসহ ২২টি গ্রামের কর্মজীবী লোকজন পানিবন্দী হয়ে আছেন। কাজে বেরোতে না পেরে কষ্টে চলছে তাঁদের জীবন। কৃষকের আউশ-আমন ধানসহ সবজিখেত নষ্ট হয়ে গেছে।

নবাবগঞ্জের চর সোনাতলা গ্রামের কৃষক কালু ব্যাপারী জানান, তাঁর সবজিখেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

শিকারীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলিমুর রহমান খান বলেন, গত পাঁচ দিনেও সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ এলাকায় পৌঁছেনি। এতে বন্যাদুর্গত লোকদের কাছে যেতে পারছেন না তাঁরা।

দোহারের রাধানগর গ্রামের সালেহা বেগম জানান, এই কয়দিনে কোনো জনপ্রতিনিধি তাঁদের খোঁজ নিতে আসেননি। পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন।

মাহমুদপুর ইউপির চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন মুন্সি বলেন, তিনি দুর্গত লোকজনের খোঁজ নিচ্ছেন। তবে কোনো ত্রাণ-সহায়তা দিতে পারেননি।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম আল-আমীন বলেন, শুক্রবার দুর্গত এলাকায় পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি, খাওয়ার স্যালাইনসহ কিছু ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। তবে দু-এক দিনের মধ্যে সরকারি ত্রাণ আসতে পারে।

নবাবগঞ্জের ইউএনও শাকিল আহমেদ বলেন, তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ত্রাণ এলে দেওয়া হবে।

দোহার-নবাবগঞ্জে ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি 

পদ্মা নদীতে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই উপজেলার অন্তত ২০ হাজার বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। সব মিলিয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এর মধ্যে দোহার উপজেলার পরিস্থিতি ভয়াবহ। এই ভয়াবহ পরিস্থিতেও দোহারে এখনও শুরু হয় নি কোন ত্রান কার্যক্রম। যদিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল আমিন আশ্বাস দিয়েছেন অতি দ্রুত ত্রান কার্যক্রম শুরু হবে দোহার উপজেলায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, দোহার উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের রাধানগর, দেবিনগর, চর বিলাসপুর, কুলছুড়ি, আলমবাজারসহ অধিকাংশ এলাকার বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে ইউনিয়নটির প্রধান প্রধান সড়কসহ কয়েকটি হাট-বাজার। এ ছাড়া সুতারপাড়া ইউনিয়নের মধুরচর, নারিশা ইউনিয়নের মেঘুলা বাজার, নারিশা জোয়ার, রানীপুরসহ মুকসুদপুর ও মাহমুদপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকা গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।

দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমিন বন্যাকবলিত বেশ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করে সরকারি সাহায্যের আশ্বাস প্রদান করেন।

বন্যা দুগত অঞ্চলে অতি দ্রুত ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রান বিতরন শুরু হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এছাড়া দোহারে নির্মাণাধীন বাঁধ যাতে কোন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেই দিকেও তিনি লক্ষ রাখছেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে এই ব্যাপারে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

এদিকে, দোহার উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নে ২১৭ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত চলমান পদ্মা বাঁধ প্রকল্পের দুটি স্থানে বাঁধ উপচে পানি ঢুকছে। বাঁধের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ভাঙন। বালুর বস্তা ফেলে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়া নবাবগঞ্জের কাশিয়াখালী বেরিবাঁধের একাধিক স্থান দিয়ে পানি ঢুকছে নবাবগঞ্জের কয়েকটি এলাকায়। দোহারের ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নবাবগঞ্জের অন্তত ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

পদ্মার তাণ্ডবে এক ঘণ্টায় নারিশায় ১৪ বাড়ি বিলীন

পদ্মার তীব্র স্রোতে মাত্র এক ঘণ্টা পদ্মায় বিলীন হয়েছে ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা পশ্চিমচর এলাকার ১৪টি ঘরবাড়ি। এর মধ্যে এক নিমিষেই পানিতে তলিয়ে গেছে ৪টি ঘর। ভাঙন আতঙ্কে বাড়িঘর সরিয়ে নিতে ব্যস্ত এলাকার বাসিন্দরা। এলাকাজুড়ে চলছে সর্বহারা মানুষের আহাজারি।

এলাকাবাসীরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীতে তীব্র স্রোত প্রবাহিত হচ্ছিল। আজ রবিবার রাতে আকস্মিকভাবে প্রচণ্ডবেগে স্রোতে সেখানে থাকা ৪টি ঘর মুহুর্তেই নদীতে তলিয়ে যায়। ভেঙে যায় আরও ১০টি ঘর। ভাঙনের ভয়াবহতা দেখে নদীপারের বাসিন্দারা আতিঙ্কত হয়ে ছুটোছুটি করতে থাকে।

এসময় অন্তত পাঁচজন আহত হয়। এদিকে ঘরে থাকা খাবারটুকুসহ সবকিছু হারিয়ে বাড়িঘরহারা মানুষগুলো যেন একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত সরকারি সাহায্য কামনা করেছেন তারা।

নারিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন দরানী বলেন, এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর তালিকা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে নারিশা পশ্চিমচর অংশ দিয়ে আগ্রাসী হয়ে উঠেছে পদ্মা। ভাঙনে আতঙ্কে মানুষ দিন-রাত কাটাচ্ছে। পানি একটু কমলে ভাঙন আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

যারা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ মেনে নেয়নি, তারাই ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল

নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন গুলো ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা দিবসে শোক র‌্যালী ও পথসভা করেছে। উক্ত র‍্যালীতে আব্দুল মান্নান খান বলেন, ৭৫-এর ১৫ আগস্ট ব্যক্তি মুজিবকে নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হত্যার অপচেষ্টা করা হয়। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ মেনে নিতে পারেনি, তারাই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের সহায়তায় ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল।

এ উপলক্ষ্যে সোমবার সকালে উপজেলা আওয়ামীলীগ নবাবগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি শোক র‌্যালী বের করে। র‌্যালীটি উপজেলার প্রধান সড়ক সমূহ প্রদক্ষিণ করে ফিরে এসে পথসভা করে। এসময় বক্তারা বলেন, ১৫ আগষ্ট ও ২১ আগষ্টের হামলাকারীগণ একসূত্রে গাঁথা। তারা দেশের উন্নয়ন চায় না । তাই আমাদের সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ বিরোধী এই চক্রকে প্রতিহত করতে হবে।

র‌্যালীতে অংশগ্রহণ করেন, আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মান্নান খাঁন, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম জালাল সিমু, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন, এস. এম সাইফুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান হাজী ইব্রাহিম খলিল, মোশারফ হোসেন জুয়েল, মীর আরিফ, কৃষক নেতা জাহিদ হায়দার উজ্জল, আবুল কালাম, মিজানুর রহমান সেলু, আসাদুজ্জামান রনি প্রমূখ।

দুর্যোগ মোকাবেলা করুন, আমি পাশে আছি: সালমা ইসলাম এমপি

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-১ এর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেছেন, যে কোনো দুর্যোগকে আপনারা সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবেলা করুন। আমি আপনাদের পাশে আছি এবং থাকব। দোহার নবাবগঞ্জের জনসাধারণের সব দুঃখ-কষ্টে আমি সাড়া  দেব ইনশাআল্লাহ।

শুক্রবার ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার সাদাপুরে ইছামতি নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চাল ও টাকা বিতরণকালে এ কথা বলেন তিনি।

সালমা ইসলাম আরও বলেন, সারা দেশ আজ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বর্তমান সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে। আমাদের দোহার নবাবগঞ্জেও বন্যা দেখা দিয়েছে। ভয়ের কিছু নেই, নদী ভাঙন ও বন্যা মোকাবেলায় সরকারের পাশে থেকে আমিও কাজ করব। আপনারা জানেন, পদ্মার ভাঙন রোধে আমার প্রচষ্টোয় প্রধানমন্ত্রী ২১৭ কোটি টাকার প্রকল্প দিয়েছেন। এতে দোহারের নয়াবাড়ী থেকে বাহ্রাঘাট পর্যন্ত নদীতীর শাসনে কাজ চলমান আছে।

সালমা ইসলাম এ সময় নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, তারা যাতে দ্রুত খাস জমি বন্দোবস্ত পেয়ে পরিবারের লোকজন নিয়ে বসবাস করতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

সালমা ইসলাম এদিন ৩৫টি পরিবারের মাঝে চাল ও নগদ টাকা বিতরণ করেন। যে কোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এ সময় সেখানে ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ মিয়া, কলাকোপা ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহীম খলিল, কৃষক লীগ নেতা জাহিদ হায়দার উজ্জ্বল, মিনাল মিয়া প্রমুখ।