আসন পুনরুদ্ধারের টার্গেটে দুই দল, জাপা চায় ধারাবাহিকতা

0

ঢাকা-১ আসনে বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের স্ত্রী তিনি। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খানকে পরাজিত করেন সালমা ইসলাম। জাতীয় পার্টি থেকে সালমা ইসলাম এবারও মনোনয়ন পাবেন। এ আসনে জাতীয় পার্টির আর কোনো প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণা নেই বললেই চলে। আওয়ামী লীগের হাত ছাড়া হওয়া এই আসনটি উদ্ধার করতে নৌকা পেতে এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ করছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে স্থান পাওয়া সালমান এফ রহমান। তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা পদে রয়েছেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে হেরে যান। জয়ী হয়েছিলেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক বিমান মন্ত্রী আবদুল মান্নানকে পরাজিত করে জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তৎকালীন দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান। ছাত্র ইউনিয়ন ১৬তম কমিটির সভাপতি ছিলেন আবদুল মান্নান খান। বর্তমানে আবদুল মান্নান খান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। আবদুল মান্নান খান এবারও নৌকা প্রতীক চান। তিনি এলাকায় ব্যাপকভাবে কাজ করে চলছেন। মান্নান খান এবারও আশাবাদী।

এই আসনে প্রভাবশালী ক্যান্ডিডেট বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ। ঢাকা জেলা পূজা উদযাপন কমিতির সভাপতি হিসাবে রয়েছে ৭৫হাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটের  উপর একক আধিপত্য। এছাড়া গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তার রেটিং অনেক ভালো। ত্যাগী, দলের প্রতি নিবেদিত হিসাবে, স্বচ্ছ রাজনীতিক হিসাবে দলের প্রধানের কাছে রয়েছে তার অসাধারণ গুরুত্ব।

এ আসনে নৌকা প্রতীক পেতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ। তিনি নিয়মিত এলাকায় গণসংযোগ, কর্মিসভা করে চলেছেন। স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার ব্যাপক পরিচিত রয়েছে। এ ছাড়া তিনি আওয়ামী কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ছিলেন। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন বর্তমানে ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান। ঢাকা জেলা প্রশাসক হওয়ায় এবার জাতীয় নির্বাচনে তিনি অংশ নেবেন কিনা তা এখনো সুস্পষ্ট নয়। তবে বর্তমানে সালমান এফ রহমানের বিভিন্ন প্রোগ্রামে তাকে নিয়মিতই দেখা যায়। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ব্যবসায়ী মো. নূর আলীও রয়েছেন আলোচনায়। ২০০১ সালে তৎকালীন ঢাকা-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন তিনি। বিএনপির প্রার্থী আবদুল মান্নানের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন নূর আলী। বর্তমানে তিনি ঢাকা-১ আসনের ভোটার। অন্যদিকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে এ আসনের দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে এখন থেকেই হিসাব-নিকাশ কষছেন বিএনপি নেতারা। উপযুক্ত প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও স্থানীয় নেতাদের মতামত প্রাধান্য দেবে দলটি। আগামী ওই নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে এই আসনটিতে কে পাবেন মনোনয়ন এ নিয়ে নেতাদের মধ্য চলছে খোশ-গল্প। কৌতূহলের বশে তাদের অনেকেই টানছেন ‘হুদা’ প্রসঙ্গ। সালমান এফ রহমান এবং নাজমুল হুদা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। দীর্ঘদিন দুজনের মধ্যে খুব মান-অভিমান ছিল। কয়েকদিন আগে অবশ্য তাদের অভিমানের সমাধান হয়েছে। সম্পর্কের উন্নতির ফলে একই মঞ্চে বসে সভা করেছেন তারা। একটি সূত্র জানিয়েছে, এ বছর নাজমুল হুদা এই আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নাও নিতে পারেন। তাকে ঢাকার অন্য একটি আসন ‘সমঝোতা’র মাধ্যমে ছেড়ে দিলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট বা মহাজোটকে ছাড় দেবেন নাজমুল হুদা। আর তা না হলে তিনি এ আসনে লড়বেন বলে জানা গেছে। এ আসনে এবার বিএনপির মনোনয়ন পেতে জোর প্রচার-প্রচারণায় রয়েছেন সাবেক বিমানমন্ত্রী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান। তিনি ু৪ বারের সাবেক এমপি নিয়মিত এলাকায় গণসংযোগ করে চলেছেন। আরেক শক্তিশালী প্রার্থী ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক। তিনি নিয়মিত গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। বিএনপির নেতা-কর্মীরা আসনটি পুনরুদ্ধারের জন্য তাকেই ধানের শীষ প্রতীকে দেখতে চান। অসম্ভব জনপ্রিয় এই নেতা সরকার বিরোধী আন্দোলনে ছিলেন সোচ্চার। নেতা-কর্মিদের সাথে তার আন্তরিক ও সার্বক্ষণীক যোগাযোগ রয়েছে।

নবাবগঞ্জে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চাল ও অর্থ বিতরণ

ঢাকার নবাবগঞ্জের বান্দুরা ইউনিয়নের ইছামতি নদীর শাখা সাদাপুর খালের ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৩৫ পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল ও নগদ ১ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। গত শুক্রবার সাদাপুর গ্রামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট সালমা ইসলাম।

নবাবগঞ্জের ইউএনও শাকিল আহমেদ বলেন, তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ত্রাণ এলে দেওয়া হবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ মিয়া, কলাকোপা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহীম খলিল, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি জাহিদ হায়দার উজ্জ্বল প্রমুখ।

জয়পাড়া কলেজকে কেন সরকারীকরণ করা হবে না জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল

দোহার উপজেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ জয়পাড়া কলেজকে কেন সরকারী করণ করা হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একই সাথে উপজেলার মুকসুদপুরে অবস্থিত পদ্মা ডিগ্রী কলেজ জাতীয়করণের সকল প্রক্রিয়া স্থগিত করার আদেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। জয়পাড়া কলেজের পক্ষে রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৬ আগষ্ট বুধবার এ আদেশ জারি করে উচ্চ আদালত।

জানা যায়, দোহার উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জয়পাড়া কলেজকে জাতীয়করণ না করে উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পদ্মা ডিগ্রী কলেজকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয় জয়পাড়া কলেজের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। জয়পাড়া কলেজকে জাতীয়করণের দাবিতে ছাত্র সংগ্রাম ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষ। পরবর্তীতে গত ৬ মার্চ জয়পাড়া কলেজকে জাতীয়করণ কেন করা হবে না এই মর্মে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়,  ১৬ আগষ্ট বুধবার ওই রিট আবেদনের শুণানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে  বিচারপতি তারিকুল হাকিম ও বিচারপতি মো. ফারুকের আদালত বেঞ্চে পদ্মা ডিগ্রী কলেজের জাতীয়করণের প্রক্রিয়া রিট আবেদন নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেন এবং জয়পাড়া কলেজ কেন জাতীয়করণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরকে অবহিত করে রুল জারি করেন।এ বিষয়ে রিট আবেদনকারী জয়পাড়া কলেজের সাবেক জিএস ও গভর্নিং বডির সদস্য আব্দুর রহমান আকন্দ নিউজ থার্টিনাইনকে বলেন, “২০০৮ সালে জয়পাড়া বড় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ওয়াদা করেছিলেন জয়পাড়া কলেজকে সরকারী করা হবে। কিন্তু সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও জয়পাড়া কলেজকে জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমাদের যৌক্তিক দাবির সুরাহা পেতে আমরা উচ্চ আদালতে রিট করেছি। আমরা মনে করি, এখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতিকে উপেক্ষা করা হয়েছে”।

তিনি আরো বলেন, আমি আশা করছি এবার আমরা দোহারবাসী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে পাবো।

আরেক রিট আবেদনকারী জয়পাড়া কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারন সম্পাদক রাজিব শরীফ নিউজ থার্টিনাইনকে বলেন, “আমি আশা করছি এই রিট আবেদনের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ২০০৮ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রতির বাস্তবায়ন ঘটবে”।

উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ জয়পাড়া কলেজের পক্ষে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন কলেজের পরিচালনা পরিষদের সদস্য মো. ফজলুল হক, সাবেক ভিপি আলমাছ উদ্দিন, সাবেক জিএস ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আব্দুর রহমান আকন্দ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রাজীব শরীফ। ওই রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৬ আগষ্ট বুধবার আদালত এ রুল জারি করেন।

 

দোহারের নারিশায় পদ্মায় বিলীন ১৪ টি বাড়ি

দোহার উপজেলার নারিশা পশ্চিমচর এলাকার পদ্মার তীব্র স্রোতে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে বিধ্বস্ত হয়েছে  ১৪টি ঘরবাড়ি।পানিতে তলিয়ে গেছে ৪টি ঘর। এলাকার বাসিন্দরা ব্যস্ত ভাঙনের হাত থেকে তাদের বাড়িঘর সরিয়ে নিতে । এলাকাজুড়ে চলছে সর্বহারা মানুষের আহাজারি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীতে তীব্র স্রোত প্রবাহিত হচ্ছিল।  রবিবার দিবাগত রাতে আকস্মিকভাবে প্রচণ্ডবেগে স্রোতে সেখানে থাকা ৪টি ঘর মুহুর্তেই নদীতে তলিয়ে যায়। ভেঙে যায় আরও ১০টি ঘর। ভাঙনের ভয়াবহতা দেখে নদীপারের বাসিন্দারা আতিঙ্কত হয়ে ছুটোছুটি করতে থাকে।

এসময় অন্তত পাঁচজন আহত হয়। এদিকে ঘরে থাকা খাবারটুকুসহ সবকিছু হারিয়ে বাড়িঘরহারা মানুষগুলো যেন একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত সরকারি সাহায্য কামনা করেছেন তারা।

এ বিষয়ে নারিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন দরানী বলেন, এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর তালিকা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে নারিশা পশ্চিমচর অংশ দিয়ে আগ্রাসী হয়ে উঠেছে পদ্মা। ভাঙনে আতঙ্কে মানুষ দিন-রাত কাটাচ্ছে। পানি একটু কমলে ভাঙন আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

 

দোহারে ৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার

দোহারে ১২ বছর পালিয়ে থাকার পর ৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী মো. মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে দোহার থানা পুলিশ।

আটককৃত মিজানুর উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের ঝনকি গ্রামের ফরিদ চোকদারের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দোহার থানা পুলিশের এস আই আল-মামুন এবং এ এস আই হাবিবের নেত্বতে দোহার থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল মিজানুরের বাড়ি থেকে তাকে আটক করে। পরে আজ সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। যার দোহার থানায় মামলা নং ১১(১১)০৩।

TeamDNSM এর কাশিয়াখালী বেড়ীবাঁধ পরিদর্শন

শুক্বিরবার কেল ৫ ঘটিকার সময় “দোহার-নববগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্ট” (ডিএনএসএম) এর একটি টিম (ইঞ্জিনিয়ার সহ) ঢাকা রক্ষা বাঁধ (কাশিয়াখালী/সোনাবাজু বেড়ীবাঁধ) পরিদর্শনে যায়।

পরিদর্শন শেষে এই #ডিএনএসএম টিম বাঁধ রক্ষার্থে তাঁদের সাধ্যমতো কায়িক শ্রমসহ সকল চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে ঘোষনা দেয়। দোহার-নবাবগঞ্জের এই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে ও এই প্রাকৃতিক দূর্যোগের মোকাবেলা করতে “দোহার-নববগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্ট” #ডিএনএসএম সকল সদস্যসহ আপামর সকল জনসাধারণকে এগিয়ে আসার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়। একই সাথে বাধের উপর থেকে দর্শনার্থী ও খাবারের দকান সরিয়ে নেয়ার জন্য বেড়িবাধ রক্ষা কমিটিকে পরামর্শ দেয়া হয়। 


এ সময় উপস্থিত ছিলেন DNSM সভাপতি – মু, তারেক রাজীব, সহ সভাপতি – শহিদুর রহমান সুমন, সহ সভাপতি – মাহমুদুল হাসান সুমন, সাংগাঠনিক সম্পাদক – মাসুম পারভেজ রবিন, দপ্তর সম্পাদক – আছিফুর রহমান, জন সং যোগ সম্পাদক – ইঞ্জিনিয়ার অভিষেক পাল অন্তু, মানবাধিকার সম্পাদক – আবু নাঈম মোহাম্মদ তাইমিয়া, শিক্ষা সম্পাদক – সাগর রায়, কোষাধ্যক্ষ – আমিনুল ইসলাম মানিক, মানবাধিকার সহ সম্পাদক – মোয়ায হোসেন, ত্রাণ সম্পাদক – আবু হামিম আদনান, ক্রীড়া সম্পাদক – মোঃ জামান সহ আরো অনেকে।

বাহ্রা বাধ রক্ষায় দোহার-নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেণ্টের স্বেচ্ছাশ্রম

0

বুধবার সকালে বাধ ভেঙ্গে যাচ্ছে এরকম  সংবাদ পেয়ে এশিয়ান টিভি’র সাংবাদিক আবু নাঈমের মাধ্যমে নয়াবাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শামীম হান্নান ও ডিএনএসএম এর উপদ্বেষ্টা নির্মল রঞ্জন গুহ এর আহবানে ২দিন টানা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছে দোহার-নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেণ্ট (ডিএনএসএম)। জানা যায়, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির কারণে বাহ্রাতে বাধের ৪টি পয়েণ্ট অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। যে কোন মুহুর্তে বাঁধ ভেংগে পানিতে তলিয়ে যেতে পারে নয়াবাড়ি, কুসুমহাটি ইউনিয়ন সহ নবাবগঞ্জের জয়কৃষনপুর ও বারুয়াখালী ইউনিয়ন।

সেখানে গিয়ে জানা যায়,  বাঁধ সংস্কারের জন্য কোন লেবার পাওয়া যাচ্ছে না। তখন স্বেচ্ছাশ্রমের জন্য খবর দেয়া হয় দোহার-নবাবগঞ্জের প্রিয় সংগঠন “দোহার-নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্ট” এর সদস্যদের।

এই সংগঠনই প্রথম পদ্মা ভাঙ্গন রোধে সারা দোহার থানায় মিছিল, সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, সামাজিক মাধ্যমে প্রচার, গণ মাধ্যমে প্রচার করিয়ে বাধের দাবীতে জনসচেতনতা তৈরি করেছিল।
TeamDNSM যখন শুনেছে বাধ ভেঙে পানি ঢুকছে। লেবার নেই কাজ করার মত। ঠিক ১ ঘন্টার মধ্যে তখনই সবাই চলে আসে সেচ্ছাসেবী হিসেবে বাহ্রাঘাটে পদ্মার বাধ রক্ষায় কাজ করতে । সাথে সাথেই বাধ সংস্কারের কাজের জন্য নেমে পরে সবাই । সারাদিন কাজ করে বাঁধ রক্ষা করেছে ২টি পয়েণ্টে। বন্যা বা প্লাবিত হলেও বাঁধ রক্ষায় এপ্রোন পদ্ধতি প্রয়োগ করায় বাঁধ ঐ ২টি স্থানে ভাঙ্গনের ঝুকি কমে গেছে।

এই ব্যাপারে নয়াবাড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শামীম হান্নান নিউজ৩৯কে বলেন, এই টিমের সাথে থাকতে এবং কাজ করতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। আমাদের সাথে থেকে সার্বিক সহযোগিতা ও কাজ করেছে এই তরুণেরা।

বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, এরা তরুণ। এরা দূর দূরান্ত থেকে এসেছে বাঁধ রক্ষায়। এটি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা। আমি এদের উত্তোরত্তর সাফল্য কামনা করি।

এই ব্যাপারে ডিএনএসএম সভাপতি তারেক রাজীব নিউজ৩৯কে বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান শামীম আহাম্মেদ হান্নান, বাবু নির্মল রঞ্জন এর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। বাধের ব্যাপারে এই ২ জনকে সর্বদা সজাগ পেয়েহি। তারা এই শ্বেচ্ছাশ্রমের সময় আমাদের খাইয়েছেন। “দোহার-নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্ট” আছে মানুষের পাশে সব সময়। বাধ নির্মানের জন্য আন্দোলনেও ছিলো “দোহার-নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্ট” এখন বাধ রক্ষায়ও এগিয়ে এসেছে “দোহার-নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্ট”। যে কোন মানবিক কাজে ডাকলে আমরা আমাদের সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে যাবো ইনশ্ললাহ।

 

 

বন্যার পানিতে ডুবে গেছে দোহারের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল; ঝুঁকিতে রয়েছে শতশত পরিবার

ঢাকার দোহারে বন্যার পানিতে ডুবে গেছে অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল। ঝুঁকিতে রয়েছে শতশত পরিবার। বন্যার পানিতে নিম্নাঞ্চলের কয়েক ইউনিয়নের প্রায় বিশ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়েছে ।

উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের মেঘুলা বাজার, সাতভিটা, চৈতাবাতর, নারিশা বাজার, মুকসুদপুর ইউনিয়নের পূর্বচর, গোড়াবন, সুতারপাড়া ইউনিয়নের কাজীর চর গ্রামসহ বিলাশপুর ও রায়পাড়া ইউনিয়নের প্রায় বিশ হাজার মানুষ বন্যার পানিতে বন্দীদশায় রয়েছে।

গত ৪ দিনে পদ্মার পানি অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় নয়াবাড়ি ইউনিয়নের বাহ্রা ও আন্তা বাহ্রার এবং কাজীরচরের রাস্তা ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে ফসলিজমিসহ বসতবাড়ি। ইতোমধ্যে কয়েকটি রাস্তাঘাটসহ বন্যায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে মসজিদ-মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল আমিন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নিয়ে ইতোমধ্যে কয়েকটি বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় এবং সেখানকার মানুষদের সাথে কথা বলে ত্রানের আশ্বাস দেন।

পানি বৃদ্ধিতে একাধিক স্থানে ফাটল: হুমকীর মুখে দোহারের নির্মাণাধীন বাহ্রা-মেঘুলা বাঁধ

পদ্মার ভয়াল আগ্রাসী থাবায় গ্রামের পর গ্রাম বিলীন হয়ে যখন দোহারের অস্তিত্ব যখন সংকটের মুখে সেই তখন থেকে দোহারবাসীর দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল আজকের এই বাহ্রা বাঁধ। কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্য থেকে দোহারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। আগামী তিন দিন পদ্মা নদীর পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সারা দেশের ন্যায় দোহার নবাবগঞ্জে বড় বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর এতে আতংকিত হয়ে পড়েছে দোহার-নবাবগঞ্জের অধিবাসীরা। কেননা তীব্র হুমকির মুখে পড়েছে বাহ্রা ও মেঘুলা বাঁধ। আর আশংকা তীব্র হয়েছে বাহ্রার পার্শ্ববর্তী ধোয়াইর বাজার প্লাবিত হওয়ায়। এদিকে মালিকান্দা মেঘুলা স্কুলে পানি ঢূকে পড়েছে। তাই তীব্র ঝুকিতে রয়েছে নির্মাণাধীন পদ্মা রক্ষা বাঁধ। এতে আতংকিত হয়ে পড়েছে এই জনপদের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ।

প্রাথমিকভাবে বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চলছে। সরেজমিনে দেখা যায় বাধের প্রায় পাঁচটি পয়েন্টে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে দুটি পয়েন্টে বাধের উপর দিয়ে পানি অপর পাশে ঢুকতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় আতঙ্ক বিরাজ করছে নদীপারের বাসিন্দারের মাঝে।

নয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ হান্নান নিউজ৩৯কে বলেন, আমরা উদ্যোগে নিয়ে এলাকাবাসীসহ তাৎক্ষণিকভাবে বালুর বস্তা ফেলে তা প্রতিরোধের চেষ্টা করছি। বাঁধ রক্ষা করতে প্রাথমিক কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরপরও ঝুঁকিমুক্ত হচ্ছে না। বাতাসে নদীর পানি ঢেউ খেলছে। আর প্রবল বেগে ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে। এজন্য ঢেউয়ের কারণে এসব বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

তাই  নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষজন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।কিন্তু ঢেউয়ের তোড়ে বাঁধের ভেতরে থাকা বাড়িঘর ভাঙনের মুখে পড়েছে। এতে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাউকে বাধের কাছে দেখা যায়নি।

ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করেঃ আব্দুল মান্নান খান

0

জাতীয় শোক দিবসে হত্যা, ষড়যন্ত্র ও অশুভ রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের  প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান। মঙ্গলবার দোহার-নবাবগঞ্জের উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আলোচনা সভা ও বিভিন্ন ওয়ার্দে কাংগালি ভোজে তিনি বলেন,  শোক দিবসে গোটা জাতির কাছে আমাদের আহ্বান, আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে এ বাংলাদেশে যারা ষড়যন্ত্র ও হত্যার রাজনীতি করে, তাদের বের করে দেয়ার জন্য শেখ হাসিনার ডাকে ঐক্যবদ্ধ হই। খন্দকার মোশতাকের মতো ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও হত্যার রাজনীতি করে।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত অশুভ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এই অশুভ রাজনীতি, হত্যা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি চিরতরে নির্মূল করে দিতে পারি- এই হোক আজকে আমাদের অঙ্গীকার।

সভায় উপস্থিত বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সিন্নিয়র সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, দেশে যত জায়গায় জঙ্গি হামলা হয়েছে, এর সঙ্গে যারা জড়িত রয়েছে তারা সবাই বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর মাধ্যমে প্রমাণিত দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে তৎপর জামায়াত-বিএনপি গোষ্ঠী।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় আংশিক কার্যকর হয়েছে। এখনও কিছু খুনি দেশের বাইরে পালিয়ে আছে। যে সব দেশে খুনিরা পালিয়ে আছে, সে রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানাবো খুনিদের বিচারের রায় কার্যকর করার জন্য তাদের যেন দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

জাতীয় শোক দিবসের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির আওতায় দোহার-নবাবগঞ্জের  বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ে কাঙালিভোজের আয়োজন করে দলটি। এর অংশ হিসেবে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন তারা।