নবাবগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা

ঢাকার নবাবগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের দীঘিরপাড় এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ বছর বয়সী এক মোটরসাইকেল আরোহী। আজ বুধবার (১৯ নভেম্বর ২০২৫) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে দীঘিরপাড় কল্যাণ পরিষদের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মো. মোহিন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মেট্রো-২৩-৭৬০৪ নম্বরের একটি প্রাইভেট কারের সাথে মোহিন চালিত মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং মোহিন ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মোহিন নবাবগঞ্জ উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা। তাদের বসতবাড়ি স্থানীয় কবরস্থানের ঠিক সামনেই। তার পিতা মো. টিটু একজন প্রবাসী এবং তিনি পরিবারটির একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য। কিশোর মোহিনের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। এলাকাজুড়েও বিরাজ করছে শোক ও বিষাদের আবহ।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারে হস্তান্তর করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে। তবে প্রাথমিকভাবে বেপরোয়া গতিকে এই দুর্ঘটনার কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কৃষিজমি রক্ষায় ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’ চূড়ান্ত

0

অপরিকল্পিত নগরায়ন, এলোমেলো উন্নয়ন প্রকল্প ও দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপে বাংলাদেশে কৃষিজমি উদ্বেগজনক হারে কমছে। কৃষিনির্ভর দেশের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার প্রণয়ন করেছে ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’। ভূমি মন্ত্রণালয় খসড়া চূড়ান্ত করেছে; উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের পর এটি কার্যকর হবে।

এই অধ্যাদেশ বলবৎ হলে অনুমতি ছাড়া কোনো কৃষিজমিতে আবাসন, বাণিজ্যিক স্থাপনা, রিসোর্ট বা কারখানা নির্মাণ করা যাবে না। কৃষিজমি ভরাট, বিশেষ কৃষি অঞ্চল নষ্ট করা, পাহাড়–টিলা কাটা, জলাধার বা জলাভূমি ভরাট এবং ইটভাটায় উর্বর মাটি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

এসব অপরাধে সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা, পাশাপাশি স্থাপনা অপসারণ ও ক্ষতিপূরণের বিধান রাখা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা শাস্তি

  • অনুমতি ছাড়া জোনিং পরিবর্তন—৬ মাস কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা
  • কৃষিজমি অকৃষিকাজে ব্যবহার—১ বছর কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা
  • কৃষিজমিতে আবাসন/রিসোর্ট/কারখানা—২ বছর কারাদণ্ড বা ৪ লাখ টাকা জরিমানা
  • ইটভাটায় কৃষিজমি বা পাহাড়-টিলার মাটি ব্যবহার—২ বছর কারাদণ্ড বা ৪ লাখ টাকা জরিমানা
  • বিশেষ কৃষি অঞ্চল ক্ষতি—৩ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা
  • জলাধার–পাহাড়–বন ধ্বংস—প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তি + পুনঃস্থাপন আদেশ,

অপরাধে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামও জব্দ করা হবে।

১৮ শ্রেণিতে ভূমি ভাগ, তৈরি হবে জোনিং ম্যাপ

আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি অঞ্চলের ভূমির বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে ‘ভূমি ব্যবহার জোনিং ম্যাপ’ তৈরি করা হবে।

জমিকে মোট ১৮ ধরনের জোনে শ্রেণিবদ্ধ করা হবে—যেমন কৃষি অঞ্চল, বিশেষ কৃষি অঞ্চল, কৃষি–মৎস্য চাষ অঞ্চল, নদী–খাল, জলাশয়, বাণিজ্যিক এলাকা, শহুরে আবাসিক, গ্রামীণ বসতি, শিল্প এলাকা, বন, পাহাড়–টিলা, পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন অঞ্চল ইত্যাদি।

প্রয়োজনে সরকার নতুন জোন তৈরি বা পুরোনো জোন বাতিল করতে পারবে।

কৃষিজমির বিস্তৃত সংজ্ঞা

নাল, বিলান, ধানি জমি, চর ভূমি, বাগান, পতিত, ঘাসবন, বাঁশঝাড়, পশুচারণভূমি, বাইদ, মাঠ, বেগুন/মরিচ টিলা, ভিটি, ডাঙ্গাসহ বিভিন্ন ধরনের জমিকে কৃষিজমি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রয়োজনে সরকার আরও নতুন শ্রেণি যুক্ত করতে পারবে।

দুই থেকে চার ফসলি জমিতে মাছচাষকেও কৃষি হিসেবে গণ্য করা হবে। বিশেষ কৃষি অঞ্চলের জমি কোনোভাবেই অকৃষি কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

জেলা প্রশাসকদের দায়িত্বে থাকবে—

  • কৃষিজমির তালিকা প্রস্তুত ও সুরক্ষা
  • জলাধার, পাহাড়, বনভূমির সীমানা নির্ধারণ
  • ইটভাটার লাইসেন্স দেওয়ার সময় মাটির উৎস যাচাই
  • গোচারণভূমি সংরক্ষণ
  • অনুমতি ব্যতীত স্থাপনা নির্মাণ রোধ

নিজের কৃষিজমিতে বসতবাড়ি, কুটির শিল্প, উপাসনালয় বা কবরস্থান নির্মাণের ক্ষেত্রেও স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেন,“বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। কৃষিজমি কমে গেলে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। তাই কৃষিজমি ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জমির সুরক্ষায় এই অধ্যাদেশ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”

যে অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড হলো হাসিনার

0

গত বছরের জুলাই-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ‘হত্যা করে নির্মূলের নির্দেশ’ দেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করে। এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

রায় ঘোষণার সময় জনাকীর্ণ আদালতে আইনজীবীরা ছাড়াও জুলাই অগাস্টে নিহতদের কয়েকজনের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রায়ে আদালত বলেছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মামলার শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ বারবারই অভিযোগ করেছিলো যে, “শেখ হাসিনা ছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী সব ধরনের অপরাধের মাস্টারমাইন্ড অর্থাৎ পরিকল্পনাকারী, হুকুমদাতা ও সুপিরিয়র কমান্ডার বা সর্বোচ্চ নির্দেশদাতা”।

মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে যে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো হলো:

  • উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া
  • হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ‘হত্যা করে নির্মূলের নির্দেশ’ দেওয়া
  • রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাইদ হত্যার ঘটনায় প্ররোচনা, উসকানি, ষড়যন্ত্র, সহায়তা, সম্পৃক্ততার অভিযোগ
  • গত বছরের পাঁচই অগাস্ট রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা ছয়জনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ
  • আশুলিয়ায় জীবিত একজনকেসহ মোট ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে

এই মামলায় আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী, আহত ব্যক্তি ও প্রতক্ষ্যদর্শী, আহতদের চিকিৎসা দানকারী চিকিৎসকসহ মোট ৫৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

0

মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার। ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তিনি মারা যান। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাঁর কবরে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধা জানাবে। এ ছাড়া মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন ও খোদা-ই-খেদমতগার প্রতিবছরের মতো দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ, ওরস, স্মরণসভা, গণভোজসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

শোষণ ও বঞ্চনাহীন, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের জন্য মওলানা ভাসানী আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তাঁর জন্ম ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে। তিনি জীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে। কৈশোর থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন মওলানা ভাসানী। দীর্ঘদিন তৎকালীন বাংলা আসাম প্রদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট গঠনকারী প্রধান নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে গঠিত প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতিও ছিলেন ভাসানী। তাঁর উদ্যোগে কৃষকদের নিয়ে ১৯৫৭ সালের ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ১৯৭৬ সালের ১৬ মে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে ঐতিহাসিক লংমার্চে নেতৃত্ব দেন তিনি।

স্কুল-কলেজের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন ইউএনও-ডিসি, পরিপত্র জারি

0

দেশের যেসব বেসরকারি স্কুল কলেজে এডহক কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা তার প্রতিনিধি কর্তৃক সভাপতির দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ রবিবার (১৬ নভেম্বর) সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।  ‌

 মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকাসহ অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড (নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা, ২০২৪এর অনুচ্ছেদ ৬৯ অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক শাখা থেকে এটি জারি করা হয়েছে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়, মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশন এর রিট পিটিশন নং১৬৭৫৭/২০১৫ মামলায় মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষাবিভাগ কর্তৃক গত সেপ্টেম্বর তারিখে জারিকৃতমাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকাসহ অন্যান্য বোর্ডের (নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা, ২০২৪ (সংশোধনীসহ) অনুযায়ী এডহক কমিটি নিয়মিত কমিটি গঠন সংক্রান্ত পরিপত্রটি তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে পরিপত্রে বলা হয়।

দোহার-নবাবগঞ্জে হারানো ঐতিহ্য ও ভারসাম্য রক্ষায় ১০টি জলাশয় সংস্কার হচ্ছে

0

ঢাকার হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য ৪৪টি প্রাকৃতিক পুকুর-জলাধার সংরক্ষণে সংস্কারকাজের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। শনিবার কেরানীগঞ্জের দড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলা ও মহানগরীর ৪৪টি খাস পুকুর ও জলাশয় সংস্কার প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এর মধ্যে নবাবগঞ্জের ৬টি, দোহারের ৪টি, কেরানীগঞ্জের ৬টি, সাভারের ৪টি, আশুলিয়ার ১০টি, আমিনবাজারের ২টি, তেজগাঁওয়ের ১টি ও ধামরাইয়ের ১১টি পুকুর রয়েছে। তিনি প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট কাজের বিবরণ দিয়ে বলেন, এই ৪৪টি পুকুরে প্রায় দুই লাখ ঘনমিটার মাটি খনন করা হবে। এ ছাড়া ১৬টি ঘাট, ৯০টি বসার বেঞ্চ নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ ও ২৫টি পুকুরের পাড়ে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, জাতীয় সম্পদ হিসেবে খাস পুকুর ও জলাশয় রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ অপরিহার্য। তিনি জানান, সরকারি খতিয়ান অনুযায়ী ঢাকা জেলায় মোট ১১৩টি খাস পুকুর রয়েছে, যার মধ্যে প্রথম ধাপে ৪৪টি জলাশয় সংস্কারের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, সংস্কার কাজের আওতায় সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, পুনঃখনন, পাড় বাঁধাই, ঘাট নির্মাণ, ওয়াকওয়ে, বেঞ্চ স্থাপন ও বৃক্ষরোপণ করা হবে। এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও নগরবাসীর জন্য পরিবেশবান্ধব বিনোদনকেন্দ্র তৈরি হবে। তিনি পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি পলিথিন দূষণ রোধে জনসচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকার জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদ প্রকল্পের পটভূমি ও লক্ষ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঢাকা জেলার ১১৩টি খাস পুকুরের মধ্যে মাত্র ১৫টি ইজারা যোগ্য। বাকিগুলো কচুরিপানায় ভরা, পানিহীন ও ব্যবহারের অযোগ্য। মৎস্য চাষ তো দূরের কথা, এগুলো পুকুর হিসেবেও চেনা যায় না। এই ব্যবহার অনুপযোগী পুকুরগুলোকেই আমরা প্রথম পর্যায়ে সংস্কারের জন্য বেছে নিয়েছি। জেলা প্রশাসক এই প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন এবং সংস্কার পরবর্তী সময়ে পুকুরগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিনাত ফৌজিয়া। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার জলাধারগুলো তাদের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা ফিরে পাবে এবং এটি একটি জলবায়ু সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি নিয়ে নৌকাডুবি, ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার

লিবিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আল-খুমস উপকূলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দুইটি নৌকা ডুবে চার বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নৌযান দুটি ডুবে যাওয়ার ঘটনার সত্যতা শনিবার নিশ্চিত করেছে লিবিয়ান রেড ক্রিসেন্ট।

সংস্থাটি জানায়, খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথম নৌকা থেকে চার বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করে। ওই নৌকাটিতে মোট ২৬ জন বাংলাদেশি ছিলেন। নিহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

দ্বিতীয় নৌকাটিতে ছিলেন ৬৯ জন অভিবাসী—এর মধ্যে দুজন মিসরীয়, বাকি ৬৭ জন সুদানি, তাদের মধ্যে আটজন শিশু।

রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার দল বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের সহায়তা, নিহতদের মরদেহ সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানে কাজ করছে।

ত্রিপোলির উপকূল বহু বছর ধরে ইউরোপমুখী অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রধান রুট। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে নিয়মিতই নৌডুবির ঘটনা ঘটছে।

চিকিৎসা ও পুষ্টি সচেতনতায় দোহারে গুড নেইবার্সের ব্যতিক্রমী স্বাস্থ্য ক্যাম্প

0

মাকসুমুল মুকিম : ঢাকার দোহারে কুসুমহাটি ইউনিয়ন পরিষদের   চরকুশাই এলাকায় অবস্থিত  গুড নেইবার্স বাংলাদেশ ও দোহার কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আয়োজনে আজ ১৩ ই নভেম্বর বিকেলে  বিশেষ স্বাস্থ্য ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সচেতনতা মূলক আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিডিপির প্রকল্প ব্যবস্থাপক বিমল গোলদার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রবিউল ইসলাম। এছাড়া, সিডিপির এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (প্রোগ্রাম)  উৎসব বৈরাগী, ডাঃ রেজাউনুল হাসান, এবং এসিস্ট্যান্ট অফিসার (প্রোগ্রাম) ম্যাথিউ সুজন মন্ডলসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা  মোঃ রাশেদুল ইসলাম।

বক্তাগণ স্বাস্থ্য ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন। দিনব্যাপী এই ক্যাম্পেইনে ১৫০ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে স্বল্পমূল্যে পুষ্টিকর খাবার ও স্বাস্থ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়া, চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মাধ্যমে ১৫০ জন রোগীর চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এমন উদ্যোগে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ গুড নেইবার্সকে ধন্যবাদ জানান।

মানিকগঞ্জে ইয়াবাসহ নবাবগঞ্জ ছাত্রদলের দুই নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জ সদর থানার পুলিশ ইয়াবাসহ নবাবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের আটক করে। পরদিন আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— নবাবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম (২৮) এবং শিকারীপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন (৩৬)।
হারিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ খায়রুজ্জামান মিয়া স্বাক্ষরিত প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মানিকগঞ্জ সদর এলাকায় একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি করে তাদের কাছ থেকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তারা রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় এক প্রভাবশালী নেতার আশ্রয় – প্রশ্রয়ে মাদক সরবরাহ করতেন।
এ ঘটনায় হারিরামপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর— ৩১৮/১১/২৫।
ওসি মোঃ খায়রুজ্জামান মিয়া জানান, “আমরা তদন্ত করছি, এদের মাধ্যমে বড় কোনো মাদক চক্রের যোগসূত্র উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।”

অন্ধকারে গাজা: যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও বিদ্যুৎবিহীন বাসিন্দারা

‘সূর্য ডুবে যাওয়ার পর মাগরিবের নামাজ পড়ি। তারপর সারারাত আমরা অন্ধকারে থাকি। টর্চের আলো পেলে রাতের খাবার খাই। যদি না থাকে, রাতের খাবার বা আলো ছাড়াই দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমাতে যাই।’– এভাবেই নিজেদের অবস্থা বর্ণনা করছিলেন ৩১ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি মা হানান আল-জুজু।

তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তার পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। ফিলিস্তিনি ছিটমহলের দক্ষিণে রাফাহ শহরে প্রথম বাস্তুচ্যুত হওয়ার সময় মোমবাতির ওপর তাদের নির্ভর করতে হতো।

কিন্তু তাঁবুতে আগুন লাগার শঙ্কায়, তারা তাও ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। জুজু বলেন, আমরা একটি এলইডি লাইট সংগ্রহ করেছিলাম, কিন্তু এটি ভেঙে গেছে। মেরামত করার জন্যও আমাদের কাছে টাকা নেই। একটি ব্যাটারি কেনারও চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাদের পক্ষে ব্যাটারির দাম মেটানো সম্ভব নয়।

গাজার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের আগে গাজার বিদ্যুতের সবচেয়ে বেশি অংশ আমদানি করা হতো ইসরায়েল থেকে। দেশটি থেকে আসতো ১২০ মেগাওয়াট এবং ছিটমহলের একমাত্র বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে আসতো আরও ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

২০২৩ সালের ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েল গাজাকে সম্পূর্ণ অবরোধ করে। কয়েকদিনের মধ্যেই বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ হয়ে যায়।

গাজার বিদ্যুৎ কোম্পানির মিডিয়া ডিরেক্টর মোহাম্মদ থাবেত জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে ছিটমহলের ৮০ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে, অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতির ক্ষতির হয়েছে ৭২৮ মিলিয়ন ডলার।

গত দুই বছর ধরে গাজা উপত্যকায় কোনও বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু ছিল না। মোহাম্মদ থাবেত বলেন, যুদ্ধের আগে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৬০০ মেগাওয়াট।

চলতি বছরের মার্চ মাসে, ইসরায়েলি মন্ত্রী এলি কোহেন জানান, হামাসের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে গাজায় বিদ্যুৎ না পাঠাতে ইলেকট্রিক কর্পোরেশনকে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু যুদ্ধবিরতির পরে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে ব্যাপক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন।