দোহার-নবাবগঞ্জে হারানো ঐতিহ্য ও ভারসাম্য রক্ষায় ১০টি জলাশয় সংস্কার হচ্ছে

প্রকাশ:

শেয়ার করুন:

ঢাকার হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য ৪৪টি প্রাকৃতিক পুকুর-জলাধার সংরক্ষণে সংস্কারকাজের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। শনিবার কেরানীগঞ্জের দড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলা ও মহানগরীর ৪৪টি খাস পুকুর ও জলাশয় সংস্কার প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এর মধ্যে নবাবগঞ্জের ৬টি, দোহারের ৪টি, কেরানীগঞ্জের ৬টি, সাভারের ৪টি, আশুলিয়ার ১০টি, আমিনবাজারের ২টি, তেজগাঁওয়ের ১টি ও ধামরাইয়ের ১১টি পুকুর রয়েছে। তিনি প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট কাজের বিবরণ দিয়ে বলেন, এই ৪৪টি পুকুরে প্রায় দুই লাখ ঘনমিটার মাটি খনন করা হবে। এ ছাড়া ১৬টি ঘাট, ৯০টি বসার বেঞ্চ নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ ও ২৫টি পুকুরের পাড়ে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, জাতীয় সম্পদ হিসেবে খাস পুকুর ও জলাশয় রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ অপরিহার্য। তিনি জানান, সরকারি খতিয়ান অনুযায়ী ঢাকা জেলায় মোট ১১৩টি খাস পুকুর রয়েছে, যার মধ্যে প্রথম ধাপে ৪৪টি জলাশয় সংস্কারের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, সংস্কার কাজের আওতায় সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, পুনঃখনন, পাড় বাঁধাই, ঘাট নির্মাণ, ওয়াকওয়ে, বেঞ্চ স্থাপন ও বৃক্ষরোপণ করা হবে। এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও নগরবাসীর জন্য পরিবেশবান্ধব বিনোদনকেন্দ্র তৈরি হবে। তিনি পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি পলিথিন দূষণ রোধে জনসচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকার জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদ প্রকল্পের পটভূমি ও লক্ষ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঢাকা জেলার ১১৩টি খাস পুকুরের মধ্যে মাত্র ১৫টি ইজারা যোগ্য। বাকিগুলো কচুরিপানায় ভরা, পানিহীন ও ব্যবহারের অযোগ্য। মৎস্য চাষ তো দূরের কথা, এগুলো পুকুর হিসেবেও চেনা যায় না। এই ব্যবহার অনুপযোগী পুকুরগুলোকেই আমরা প্রথম পর্যায়ে সংস্কারের জন্য বেছে নিয়েছি। জেলা প্রশাসক এই প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন এবং সংস্কার পরবর্তী সময়ে পুকুরগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিনাত ফৌজিয়া। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার জলাধারগুলো তাদের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা ফিরে পাবে এবং এটি একটি জলবায়ু সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ সংবাদ

এই রকম আরও

বান্দুরা থেকে সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী আটক

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার পুরাতন বান্দুরা পিত্তিতলা এলাকা থেকে তৌকির নামে এক সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে স্থানীয় যুবসমাজ।...

জয়পাড়ায় দোকান থেকে কর্মচারীকে তুলে নিয়ে নির্যাতন, আটক ২

ঢাকার দোহারে এক দোকান কর্মচারীকে দোকান থেকে তুলে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগে দুই যুবককে আটক...

দোহার প্রেসক্লাব থেকে সাংবাদিক তানজিম ইসলামকে স্থায়ী বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার দোহার প্রেসক্লাবের সাধারণ সদস্যপদ থেকে সাংবাদিক তানজিম ইসলাম আহাদকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রেসক্লাবের...

মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শোল্লা ইউনিয়নের যুবসমাজের ‘রণহুঙ্কার’: ঐক্যবদ্ধ গ্রামবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, নবাবগঞ্জ: ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নে মাদকের নীল দংশন আর সন্ত্রাসের রাজত্বের বিরুদ্ধে এবার রুখে দাঁড়িয়েছে...