লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডার নিহত

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার হাইথাম আলি তাবাতাবাই নিহত হয়েছেন।

আল জাজিরা সূত্রে খবর, রোববার বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত দাহিয়েহ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে তাবাতাবাইসহ কমপক্ষে পাঁচজন নিহত হন। তাবাতাবাই ছিলেন সংগঠনটির সশস্ত্র শাখার চিফ অব স্টাফ।

এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তারা জানিয়েছে, মহান কমান্ডার তাবাতাবাই বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরের হারেত হরেইক এলাকায় একটি বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন।

তবে তিনি সংগঠনের কোন পদে ছিলেন, তা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

২০২৪ সালে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে তাবাতাবাই ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়া হিজবুল্লাহর সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কমান্ডার।

দোহার-নবাবগঞ্জে বর্ণমালা বিদ্যালয়ের ৯ম সিজনের শুভ উদ্বোধন

দোহার-নবাবগঞ্জের তরুণ প্রজন্মের মানবিক উদ্যোগে পরিচালিত বর্ণমালা বিদ্যালয়ের ৯ম সিজনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। ২০১৭ সালে সূচনা হওয়া এ বিদ্যালয়টি বর্তমানে এলাকার বিভিন্ন ইটভাটায় কর্মরত শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে বিনামূল্যে পাঠদান করে আসছে।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন বিদ্যালয়ের অন্যতম সদস্য আব্দুল হান্নান সোহাগ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, স্বেচ্ছাসেবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জনাব জসিম উদ্দিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক কামাল মোড়ল, দোহার ব্লাড ব্যাংকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তৌহিদ রাসেল, সমাজসেবক মোঃ রুবেল তালুকদার, ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান, সমাজসেবক হাবিবুর রহমান ঠান্ডু, কলিন মাহমুদ, মিজানুর রহমান সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন জুলাই যোদ্ধা মাসুদুর রহমান আদনান, শহিদুল ইসলাম, সোহেল বেপারী ও সাংবাদিক আসিফ সজল সহ অনেক তরুণ স্বেচ্ছাসেবী।

বর্ণমালা বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্যানেলের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মুন্না, মেহিরিমা সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সক্রিয় সদস্য মুয়াজ আহমেদ, নাজমুল হোসেন, কামরুল হাসান জনি, এম এইচ ইমরান, এন এইচ আব্দুল্লাহ, মোঃ ফয়সাল, রাতুল মোল্লা, অরিন মোড়ল, সাজ্জাদ শাকিল, বর্ষন, রাব্বি হোসেন প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আব্দুল হান্নান সোহাগ বলেন, “শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। আমরা চাই—দোহার-নবাবগঞ্জের কোনো শিশুই যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়।” তিনি আরও জানান, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষাও দেওয়া হচ্ছে এবং আগামীতে আরও বৃহৎ পরিসরে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি সমাজের সকল শ্রেণিপেশার মানুষকে এই মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

দোহার মেঘুলা বাজারে ‘আভা ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল কেয়ার’-এর শুভ উদ্বোধন

0

ঢাকার দোহার উপজেলার মেঘুলা বাজারে ‘আভা ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল কেয়ার’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে দোয়া-মোনাজাত ও ফিতা কেটে নতুন এই ডেন্টাল চেম্বারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ও মডেল আন্নামা ফাহিম।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রেজাউর রহমান ফাহিম, দোহার উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুল আলম জীবন বেপারী, নারিশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি গাজী মহিউদ্দিন, বিএনপি নেতা শাহিন মাঝি, শাহ আলম মোড়ল, নারিশা পশ্চিম চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিদাতা ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদ মঞ্জুরুল আলম শামিম বেপারী, মেঘুলা বাজার কমিটির সভাপতি ইকবাল হোসেন, দোহার উপজেলা যুবদল নেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা কামাল মোড়ল, দোহার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সানি ও সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান টিপু।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন—
দোহার উপজেলা যুবদল নেতা শাহাদাত বেপারি, নাজমুল শোয়েব, শেখ দেলোয়ার হোসেন, নারিশা ইউনিয়ন যুবদল নেতা মাসুদ লাল, মোহাম্মদ আলী, মাহফুজ কলিন, ব্যবসায়ী বেনজির হোসেন বিল্লাল, ব্যবসায়ী মামুন বেপারি, পদ্মা সরকারি কলেজের প্রভাষক মাসুদ রানা ও আলমগীর হোসেন, নারিশা পশ্চিম চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সায়েদুর রহমান হিরা, শামসুন্নাহার শান্ত, কবি নজরুল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক রবিউল ইসলাম মাখনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

ডেন্টাল চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দেবেন—
ডা. ইশতি জাহান আভা
বি.ডি.এস (ডেন্টাল ইউনিট), রাজশাহী মেডিকেল কলেজ
পি.জি.টি (ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি), ঢাকা ডেন্টাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল
লেজার ও রুট ক্যানেলে অ্যাডভান্সড ট্রেইনিংপ্রাপ্ত
মুখ ও দন্ত রোগ বিশেষজ্ঞ
বি.এম.ডি.সি – ৬৭০৪

চেম্বারের ঠিকানা:
কাজী অফিস মার্কেট (২য় তলা), মেঘুলা বাজার, দোহার, ঢাকা-১৩৩০

চিকিৎসা সময়:
শুক্রবার: সকাল ১০টা – রাত ৮টা
শনিবার: সকাল ১০টা – বিকেল ৫টা

নতুন এই ডেন্টাল কেয়ার সেন্টার উদ্বোধনের মাধ্যমে এলাকাবাসীর মানসম্মত মুখ ও দন্ত চিকিৎসার সুযোগ আরও সহজতর হলো।

দোহারের সুতারপাড়ায় এমপি প্রার্থী নজরুল ইসলামের উঠান বৈঠক

0

দোহার (ঢাকা): দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের আবুল কালাম মুন্সীর বাড়িতে জামায়াতের এমপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের এক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা এলাকার ন্যায়বিচার, সততা ও যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। অংশগ্রহণকারীদের সবাই ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের প্রতি সমর্থন জানান এবং স্থানীয় উন্নয়নসহ সামাজিক সমস্যা সমাধানে তাঁর উদ্যোগের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন।

ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করতে চান এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বালু সিন্ডিকেট প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে উপস্থিত স্থানীয়রা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দাবি–দাওয়া উপস্থাপন করেন এবং শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ গ্রাম গড়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

যুদ্ধবিরতির আড়ালে হামলা: গাজায় রক্তপাত নিহত ২৮, লেবাননে ধ্বংস

চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েল ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা এবং প্রতিবেশী লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। দুই ফ্রন্টে এই আগ্রাসন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও ঘনীভূত করেছে।

গাজায় গতকাল হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ২৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৭৭ জন। আল-মাওয়াসি, শুজাইয়া ও জয়তুন এলাকায় পাঁচটি লক্ষ্যবস্তুতে বোমাবর্ষণ করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আলজাজিরার প্রতিনিধি হানি মাহমুদ জানান, আল-মাওয়াসির একটি ভবনে একই পরিবারের বাবা, মা ও তিন সন্তানসহ পুরো পরিবারই ধ্বংসস্তূপে প্রাণ হারিয়েছে। তিনি বলেন, “যুদ্ধবিরতি চললেও বাস্তবে প্রতিদিনই গাজায় মৃত্যু ঝরছে আইডিএফের হামলায়।”

অপরদিকে আইডিএফ দাবি করেছে, সব হামলাই যুদ্ধবিরতির শর্তের আওতায় পরিচালিত হয়েছে এবং লক্ষ্যবস্তু ছিল হামাসের সামরিক অবকাঠামো। তবে হামাস এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, “এটি স্পষ্টভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং নেতানিয়াহুর নতুন গণহত্যা শুরু করার চেষ্টা।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর। আলজাজিরার হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মাত্র ৪০ দিনে ৩৯৩ বার যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

এদিকে একই দিনে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের দেঈর কিফা ও চেহোর গ্রামে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। হামলার আগেই হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হবে বলে সতর্কতা দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে হিজবুল্লাহর কোনো স্থাপনা সেখানে ছিল কি না—সে নিয়ে প্রশ্ন তুলছে স্থানীয় সূত্রগুলো।

এর আগে রোববার লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের ওপর গুলি চালায় ইসরায়েলি সেনারা। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে। যদিও ২০২৩ সালের শেষ দিকে ইসরায়েল–হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তবুও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা থামছে না।

গাজা ও লেবানন—দুই ফ্রন্টে ইসরায়েলের এই তৎপরতায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন এমন হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে এবং বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।

শিলাকোঠা উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা: উদ্ভাবনী প্রজেক্টে শিক্ষার্থীদের ঝলক

ঢাকার দোহার উপজেলার শিলাকোঠা উচ্চ বিদ্যালয়ে গুড নেইবার্স বাংলাদেশ দোহার সিডিপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই মেলায় দোহার উপজেলার চারটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় অংশ নিয়ে উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রজেক্ট উপস্থাপন করে।

সকাল ১১টায় মেলার উদ্বোধন করেন গুড নেইবার্স বাংলাদেশ দোহার সিডিপির প্রকল্প ব্যবস্থাপক বিমল গোলদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী ব্যবস্থাপক উৎসব বৈরাগী এবং সহকারী অফিসার ম্যাথিউ সুজন মণ্ডল। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন শিলাকোঠা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বিমল গোলদার শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পরে উৎসব বৈরাগী ও অতিথিরা বিভিন্ন স্টল ঘুরে প্রজেক্টগুলো পর্যবেক্ষণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের প্রকল্প উন্নয়নে দিকনির্দেশনা দেন।

মেলায় প্রতিবেশী যুব সংস্থার সভাপতি মুক্তার খান ও সহ-সভাপতি হামিম খানও উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও গবেষণামুখী মনোভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চারটি বিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মেলায় তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল প্রজেক্টগুলো মূল্যায়নের পর সেরা উদ্ভাবন নির্বাচন করেন। অংশগ্রহণকারী খুদে বিজ্ঞানীরা জানায়, ভবিষ্যতে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিজ্ঞানচর্চায় অবদান রাখতে চায়।

বিকেলে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে বিজ্ঞান মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন বিমল গোলদার ও প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী। সংশ্লিষ্টদের দাবি—এ ধরনের বিজ্ঞানমুখী আয়োজন আগামী দিনে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

নবাবগঞ্জে আগুনে পুড়ল ৩ বসতঘর

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাশাপাশি থাকা তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।

ঘটনাটি ঘটে যন্ত্রাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থান সংলগ্ন পূর্বপাড়া এলাকার শাহীন আহমেদের বাড়িতে।

স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ শাহীনের ঘরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা দিলে মুহূর্তেই আগুন পাশের আরও দুইটি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। তীব্রতার কারণে এলাকাবাসীর চেষ্টা সত্ত্বেও কোনো ঘরই রক্ষা করা যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডে শাহীনের ঘরের টিভি, ফ্রিজ, খাট, আলমারি, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, নগদ টাকা এবং প্রয়োজনীয় সব আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত শাহীন আহমেদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমার আর কিছুই রইল না। পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই বের করতে পারিনি। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা ইসলাম বলেন,
“ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।”

বর্তমানে পরিবারটি সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তারা।

ঢাকার নবাবগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ ‘জোড়া ব্রিজ’ : প্রতিদিন ৩-৪ হাজার মানুষের যাতায়াত হুমকির মুখে

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর ইউনিয়নে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু দীর্ঘদিন ধরে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীঘিরপার-নিকড়া সড়কে থাকা এই সেতুটি স্থানীয়দের কাছে ‘জোড়া ব্রিজ’ নামে পরিচিত।

ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থী, গৃহবধূসহ নিত্যদিনের পথচারীরা। শুধু বক্সনগর ইউনিয়ন নয়, পার্শ্ববর্তী দোহার উপজেলার বহু মানুষও যাতায়াতের জন্য এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল।

সেতুটির ওপর দিয়ে মোটরবাইক, সিএনজি, ইজি-বাইক, রিকশা চলাচলের পাশাপাশি কৃষকরাও তাঁদের উৎপাদিত বিভিন্ন ফসল বাজারে আনা-নেওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহার করছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুটি বহুদিন ধরে বিপজ্জনক থাকলেও এখনো কোনো ধরনের সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।

অবিলম্বে এই ‘জোড়া ব্রিজ’ সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করে হাজারো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা ইসলাম বলেন, “সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকার বিষয়টি আমরা জেনেছি। খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নবাবগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা

ঢাকার নবাবগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের দীঘিরপাড় এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ বছর বয়সী এক মোটরসাইকেল আরোহী। আজ বুধবার (১৯ নভেম্বর ২০২৫) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে দীঘিরপাড় কল্যাণ পরিষদের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মো. মোহিন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মেট্রো-২৩-৭৬০৪ নম্বরের একটি প্রাইভেট কারের সাথে মোহিন চালিত মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং মোহিন ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মোহিন নবাবগঞ্জ উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা। তাদের বসতবাড়ি স্থানীয় কবরস্থানের ঠিক সামনেই। তার পিতা মো. টিটু একজন প্রবাসী এবং তিনি পরিবারটির একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য। কিশোর মোহিনের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। এলাকাজুড়েও বিরাজ করছে শোক ও বিষাদের আবহ।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারে হস্তান্তর করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে। তবে প্রাথমিকভাবে বেপরোয়া গতিকে এই দুর্ঘটনার কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কৃষিজমি রক্ষায় ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’ চূড়ান্ত

0

অপরিকল্পিত নগরায়ন, এলোমেলো উন্নয়ন প্রকল্প ও দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপে বাংলাদেশে কৃষিজমি উদ্বেগজনক হারে কমছে। কৃষিনির্ভর দেশের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার প্রণয়ন করেছে ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’। ভূমি মন্ত্রণালয় খসড়া চূড়ান্ত করেছে; উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের পর এটি কার্যকর হবে।

এই অধ্যাদেশ বলবৎ হলে অনুমতি ছাড়া কোনো কৃষিজমিতে আবাসন, বাণিজ্যিক স্থাপনা, রিসোর্ট বা কারখানা নির্মাণ করা যাবে না। কৃষিজমি ভরাট, বিশেষ কৃষি অঞ্চল নষ্ট করা, পাহাড়–টিলা কাটা, জলাধার বা জলাভূমি ভরাট এবং ইটভাটায় উর্বর মাটি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

এসব অপরাধে সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা, পাশাপাশি স্থাপনা অপসারণ ও ক্ষতিপূরণের বিধান রাখা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা শাস্তি

  • অনুমতি ছাড়া জোনিং পরিবর্তন—৬ মাস কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা
  • কৃষিজমি অকৃষিকাজে ব্যবহার—১ বছর কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা
  • কৃষিজমিতে আবাসন/রিসোর্ট/কারখানা—২ বছর কারাদণ্ড বা ৪ লাখ টাকা জরিমানা
  • ইটভাটায় কৃষিজমি বা পাহাড়-টিলার মাটি ব্যবহার—২ বছর কারাদণ্ড বা ৪ লাখ টাকা জরিমানা
  • বিশেষ কৃষি অঞ্চল ক্ষতি—৩ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা
  • জলাধার–পাহাড়–বন ধ্বংস—প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তি + পুনঃস্থাপন আদেশ,

অপরাধে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামও জব্দ করা হবে।

১৮ শ্রেণিতে ভূমি ভাগ, তৈরি হবে জোনিং ম্যাপ

আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি অঞ্চলের ভূমির বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে ‘ভূমি ব্যবহার জোনিং ম্যাপ’ তৈরি করা হবে।

জমিকে মোট ১৮ ধরনের জোনে শ্রেণিবদ্ধ করা হবে—যেমন কৃষি অঞ্চল, বিশেষ কৃষি অঞ্চল, কৃষি–মৎস্য চাষ অঞ্চল, নদী–খাল, জলাশয়, বাণিজ্যিক এলাকা, শহুরে আবাসিক, গ্রামীণ বসতি, শিল্প এলাকা, বন, পাহাড়–টিলা, পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন অঞ্চল ইত্যাদি।

প্রয়োজনে সরকার নতুন জোন তৈরি বা পুরোনো জোন বাতিল করতে পারবে।

কৃষিজমির বিস্তৃত সংজ্ঞা

নাল, বিলান, ধানি জমি, চর ভূমি, বাগান, পতিত, ঘাসবন, বাঁশঝাড়, পশুচারণভূমি, বাইদ, মাঠ, বেগুন/মরিচ টিলা, ভিটি, ডাঙ্গাসহ বিভিন্ন ধরনের জমিকে কৃষিজমি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রয়োজনে সরকার আরও নতুন শ্রেণি যুক্ত করতে পারবে।

দুই থেকে চার ফসলি জমিতে মাছচাষকেও কৃষি হিসেবে গণ্য করা হবে। বিশেষ কৃষি অঞ্চলের জমি কোনোভাবেই অকৃষি কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

জেলা প্রশাসকদের দায়িত্বে থাকবে—

  • কৃষিজমির তালিকা প্রস্তুত ও সুরক্ষা
  • জলাধার, পাহাড়, বনভূমির সীমানা নির্ধারণ
  • ইটভাটার লাইসেন্স দেওয়ার সময় মাটির উৎস যাচাই
  • গোচারণভূমি সংরক্ষণ
  • অনুমতি ব্যতীত স্থাপনা নির্মাণ রোধ

নিজের কৃষিজমিতে বসতবাড়ি, কুটির শিল্প, উপাসনালয় বা কবরস্থান নির্মাণের ক্ষেত্রেও স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেন,“বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। কৃষিজমি কমে গেলে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। তাই কৃষিজমি ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জমির সুরক্ষায় এই অধ্যাদেশ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”