নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর ‘হ্যাঁ ভোট’ প্রচারণাকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর এক সক্রিয় কর্মী।
মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) রাতে নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত কর্মীর নাম আমির হোসেন।
তিনি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ‘হ্যাঁ ভোট’ প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, যুব দলের স্থানীয় নেতা কামাল হোসেনের নেতৃত্বে প্রায় ৩০–৪০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল আমির হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। হামলার একপর্যায়ে মাথায় গুরুতর আঘাত করা হলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার মাথায় ছয়টি সেলাই দিতে হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,“রাজনৈতিক মত প্রকাশ ও গণতান্ত্রিক প্রচারণাকে স্তব্ধ করতেই পরিকল্পিতভাবে এই বর্বর হামলা চালানো হয়েছে। বিরোধী কণ্ঠ দমন করতে একটি মহল প্রকাশ্য সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ হুমকি।”
তিনি আরও বলেন,“এই হামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনগণের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম আহত আমির হোসেনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ ও সাংগঠনিকভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, অভিযুক্ত যুব দল নেতা কামাল হোসেন বা তার পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা–০১ সংসদীয় আসনের দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগে চরম অনিয়ম, আইন লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন এই আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম।
মঙ্গলবার রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে ই-মেইলযোগে পাঠানো অভিযোগপত্রে তিনি বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২, নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা এবং সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রিত ও একতরফা নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চলছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ, অভিজ্ঞ ও পেশাগতভাবে যোগ্য বহু স্কুল, কলেজ এবং ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষককে পরিকল্পিতভাবে প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিপরীতে, পূর্ববর্তী নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী এবং প্রকাশ্যভাবে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন শিক্ষককে পুনরায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—যা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার দাবির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
অভিযোগে আরোও বলা হয়, অতীতের নির্বাচনে সততা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী কিছু প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়াই এবারের নির্বাচনে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে অবনমিত করা হয়েছে। এটি প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রকাশ্য অপব্যবহার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বৈষম্যমূলক আচরণের স্পষ্ট উদাহরণ।
লিখিত অভিযোগে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের একতরফা ও পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া চলতে থাকলে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়বে এবং ভোটারদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার চরমভাবে হুমকির মুখে পড়বে।
তিনি অবিলম্বে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নিয়োগ বাতিল ও পুনর্বিন্যাসের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের উচ্চপর্যায় ছাড়াও সংশ্লিষ্ট আইনগত ফোরামে উপস্থাপন করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ) জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে নতুন করে বিপুল পরিমাণ নথি, ছবি ও আইনি দলিল প্রকাশ করেছে যা এপস্টাইন ফাইল নামে বহুল পরিচিত। ২০১৯ সালে কারাগারে মৃত্যুর আগে এপস্টেইন যৌন পাচার ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। নতুন আইনি বাধ্যবাধকতার আওতায় এই নথিগুলো জনসমক্ষে আনা হয়েছে।
জেফরি এপস্টাইন মামলার তদন্ত সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লক্ষ নতুন নথির পাশাপাশি হাজার হাজার ছবি ও ভিডিও রয়েছে যা এই কলঙ্কিত অর্থদাতা ও যৌন অপরাধীর অন্ধকার জগত এবং আমেরিকার নারী ও শিশুদের অধিকারের ভয়াবহ লঙ্ঘনের আরও বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরছে। মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ ঘোষণা করেছেন যে, তারা ৩০ লক্ষ পৃষ্ঠারও বেশি নথি, ২,০০০টি ভিডিও এবং ১,৮০,০০০টি ছবি প্রকাশ করেছেন। এটি এখন পর্যন্ত এপস্টাইন সংক্রান্ত নথির একক বৃহত্তম প্রকাশ।
যদিও শুক্রবার প্রকাশিত এই নথিগুলোর অনেক অংশই কালো কালিতে মুছে দেওয়া হয়েছে (redacted), তবুও সেখানে বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ও ছবি শনাক্ত করা গেছে। DOJ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা রক্ষা ও চলমান তদন্তের স্বার্থে এই রেড্যাকশন করা হয়েছে।
প্রকাশিত নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে এপস্টাইনের সম্পর্কের হাজার হাজার উল্লেখ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে এপস্টাইনের পাঠানো প্রচুর ইমেল, যেখানে ট্রাম্পের রাজনীতি ও তার পরিবার নিয়ে আলোচনা ও গসিপ ছিল। এছাড়া ট্রাম্পের প্রাক্তন হোয়াইট হাউস কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননের সাথে এপস্টাইনের রাজনৈতিক আলাপচারিতা এবং বিমান ব্যবহারের অনুরোধ সংক্রান্ত তথ্যও এতে রয়েছে।
যাদের ছবি পাওয়া গেছে: নতুন প্রকাশিত ছবিতে বিখ্যাত সংগীতশিল্পী মিক জ্যাগার, মাইকেল জ্যাকসন এবং ডায়ানা রস-কে এপস্টাইনের সাথে দেখা গেছে। একটি ছবিতে মিক জ্যাগারকে এপস্টাইন এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের মাঝে বসে থাকতে দেখা গেছে।
বিল গেটস ও রাশিয়ার নারী সংক্রান্ত অভিযোগ: প্রকাশিত একটি খসড়া ইমেল অনুযায়ী, এপস্টাইন দাবি করেছিলেন যে বিল গেটসের সাথে তার সম্পর্ক ছিল গেটসকে নির্দিষ্ট কিছু কাজে সহায়তা করা কেন্দ্রিক। ইমেলটিতে এপস্টাইন অভিযোগ করেন যে, তিনি বিল গেটসকে রুশ তরুণীদের সঙ্গে সম্পর্কের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ড্রাগ বা ওষুধের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। এছাড়া বিবাহিত নারীদের সাথে গেটসের গোপন সাক্ষাৎ সহজতর করার ক্ষেত্রেও নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন এপস্টাইন। যদিও বিল গেটস আগে থেকেই এপস্টাইনের সাথে তার সম্পর্কের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং কোনো অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
ইলন মাস্ক ও প্রাইভেট দ্বীপের আমন্ত্রণ: নথিতে টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক এবং এপস্টাইনের মধ্যে একাধিক ইমেল আদান-প্রদান পাওয়া গেছে। ২০১২ সালের নভেম্বরের একটি ইমেলে এপস্টাইন মাস্ককে তার ব্যক্তিগত দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমস’-এ আসার আমন্ত্রণ জানান। মাস্ক সেই ইমেলের উত্তরে জানতে চেয়েছিলেন, দ্বীপে কোন দিন বা রাতে সবচেয়ে বড় পার্টি হবে। তবে মাস্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তিনি কখনোই সেই দ্বীপে যাননি এবং এপস্টাইনের সাথে তার পরিচয় ছিল সামান্য।
হাওয়ার্ড লাটনিক ও মাসাজ টেবিল বিতর্ক: বর্তমান মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লাটনিকের নামও এই নথিতে এসেছে। ইমেলে দেখা যায়, ২০০৫ সালের দিকে লাটনিক এবং তার স্ত্রী এপস্টাইনের আমন্ত্রণে তার বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি মাসাজ টেবিল দেখে এপস্টাইন যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। লাটনিক জানান, সেই ঘটনার পর তিনি শপথ করেছিলেন যে তিনি আর কখনো এপস্টাইনের সাথে একই রুমে থাকবেন না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, লাটনিকের সাথে এপস্টাইনের যোগাযোগ ছিল খুবই সীমিত এবং তা সবসময় তার স্ত্রীর উপস্থিতিতেই হয়েছে।
অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তি: নথিগুলোতে আরও উল্লেখ আছে ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স অ্যান্ড্রু (যাকে বর্তমানে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর বলা হচ্ছে)-এর কথা। একটি ইমেলে দেখা যায়, এপস্টাইন অ্যান্ড্রুর কাছে ব্যক্তিগতভাবে সময় কাটানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং অ্যান্ড্রু তাকে বাকিংহাম প্যালেসে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এছাড়া ধনকুবের রিচার্ড ব্র্যানসনের সাথেও এপস্টাইনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উল্লেখ পাওয়া গেছে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট: ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ‘এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ কার্যকর হওয়ার পর এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার জনসমক্ষে আনা হয়েছে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানিয়েছেন, সরকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার স্বার্থে কিছু তথ্য এখনও গোপন রাখা হয়েছে।
প্রকাশিত এপস্টাইন ফাইল-এর কয়েক হাজার পৃষ্ঠার মধ্যে অন্তত ৫৫০ পৃষ্ঠা সম্পূর্ণভাবে কালো কালিতে মুছে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১৯ পৃষ্ঠার একটি নথিসহ আরও ২৫৫ পৃষ্ঠার তিনটি নথি রয়েছে যা পুরোপুরি পড়া যাচ্ছে না। ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান উভয় পক্ষের নেতারাই এই অতিরিক্ত গোপনীয়তার সমালোচনা করেছেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, নথিগুলো অনলাইনে আপলোড করার কিছু সময় পর বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে অন্তত ১৬টি ফাইল সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ছবি ছিল যেখানে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প, জেফরি এপস্টাইন এবং তার সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল-কে একসাথে দেখা গিয়েছিল। তবে বিচার বিভাগ জানিয়েছে, আইনি কারণে আরও পর্যালোচনার জন্য কিছু উপাদান সাময়িকভাবে সরানো হতে পারে।
জেফরি এপস্টাইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের কারাগারে থাকাকালীন আত্মহত্যা করেন। তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচার এবং যৌন শোষণের গুরুতর অভিযোগ ছিল। এই নতুন নথিপত্রগুলো তার ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সাথে মেলামেশার পরিধি কতটুকু ছিল, তা আরও স্পষ্ট করছে।
দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: ইলম, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে আদর্শ মানুষ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ঢাকার দোহার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তানশীরুল ইসলাম মাদ্রাসায় বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান–২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণিতে উপস্থিত ও কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ পরিণত হয় আনন্দঘন উৎসবের মিলনমেলায়।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ. বি. এম. কামাল হোসাইন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান মাদানী সাবেক অধ্যক্ষ, মেছবাহুল উলুম কামিল মাদ্রাসা, ঢাকা এবং সভাপতি, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা পরিষদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,“শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইলম অর্জনের পাশাপাশি আমল, চরিত্র গঠনে এ ধরনের পুরস্কারভিত্তিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের সাফল্যে অভিভাবকদের মুখে ছিল তৃপ্তি ও আনন্দের হাসি।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং লেখা-পড়ায় মনোযোগ বৃদ্ধি করতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের সার্বিক মানোন্নয়নে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ড. মাওলানা খলিলুর রহমান (সভাপতি, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ, ঢাকা), মাওলানা মুফতি শায়েখ সাইফুল্লাহ (চেয়ারম্যান, তানশীরুল ইসলাম ফাউন্ডেশন)সহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
বিজিবি ঢাকা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আবুল এহসান বলেছেন, ‘নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রেখেই নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করা হবে।’
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর মিরপুর জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে এলাকায় তিনি এ কথা বলেন।
বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখে সারাদেশে ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় বিজিবি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবে।
কর্নেল আবুল এহসান আরও জানান, নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (RAT), হেলিকপ্টারসহ কুইক রেস্পন্স ফোর্স (QRF) সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। প্রয়োজনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে এসব ইউনিট। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষায়িত কেএন-৯ (K-9) ডগ স্কোয়াড ইউনিটও মোতায়েন থাকবে।
প্রথমবার বান্দরবান যাবার আগে মনে কোনো উত্তোজনা কাজ করছিল কিনা মনে নেই। যদিও প্রথম পহাড় দেখা নয় তবু দেশের ভেতরে প্রথম, এর আগে যা দেখেছি শ্রীমঙ্গলের টিলা! তবে এটা মনে আছে গিয়ে কোথায় কোথায় ঘুরব, কী দেখব এসব নিয়ে কোনো পরিকল্পনা বা প্রত্যাশা ছিল না। তার তেমন সুযোগও ছিল না। কারণ এটি ডিজাইন করা একটা সফর।
বান্দরবান থেকে ফিরে ভ্রমণের নাম দিয়েছিলাম “আলকাৎরার ভ্রমণ”! এক যুগ পরে যখন পরিবার সমেত ঘুরে এলাম তখনও আলকাৎরা। অথচ দ্বিতীয় ভ্রমণ নিয়ে অনেক আশা ছিল, প্রথমটি নিয়ে ছিল না। বান্দরবানের অপরুপ সৌন্দর্য মনে হয় আমার ভাগ্য সইতে পারে না। তবে দুই সফরের তুলনা করলে প্রথমটিকে এখন আর অতটা আলকাৎরা মনে হয় না। অল্প সময়ে তখন বেশ ঘোরা হয়েছিল, শুধু যাওয়া, আসা, থাকার ব্যাপারটি বেদনা দিয়েছিল।
এই সফরেরও অনেক আগে আমি খুব হতাশ হয়েছিলাম যখন জানলাম জেলাটির নাম “বান্দরবন” নয়, “বান্দরবান”। সুন্দরবনের সাথে মিলে একটা দ্যোতনা ছিল, সুন্দরী গাছের বন সুন্দরবন, বান্দরের বন বান্দরবন; সেখানে হয়ত অনেক বান্দর আছে তাই এই নাম। বান্দরের সাথে সম্পর্ক আছে বটে তবে বনের সাথে না, বান বা বাঁধের সাথে।
একটা গল্প প্রচলিত আছে: একসময় নাকি এই এলাকায় প্রচুর বানর ছিল। আর এই বানরগুলো শহরের ঠিক বাইরে একটা পাহাড়ি ছড়ার ধারে এসে লবণ খেতো। সেখানে লবন পেত কীভাবে, নাকি মিনারেল লবন তা গল্পে বলা নেই। কোনো এক সময় টানা বৃষ্টির কারণে ছড়ার পানি অনেক বেড়ে গেল। বানরগুলো ছড়া পেরিয়ে পাহাড়ে যেতে পারছিল না। তখন তারা একে অপরের হাত ধরে সারিবদ্ধভাবে ছড়াটা পার হলো। দেখতে মনে হচ্ছিল বানরে-বানের একটা বাঁধ তৈরি হয়েছে। এই অভাবনীয় দৃশ্যটা এখানকার মানুষ দেখেছিল। সেই থেকে জায়গাটা পরিচিতি পেল ‘ম্যাঅকছি ছড়া’ নামে। মারমা ভাষায় ‘ম্যাঅক’ মানে বানর আর ‘ছি’ মানে বাঁধ।
সময় গড়ানোর সাথে সাথে বাংলাভাষীরা বাংলায় অনুবাদ করে ফেলল ‘বান্দরবান’। তবে, মারমা ভাষায় বান্দরবানের নাম হলো ‘রদ ক্যওচি ম্রো’। আর ম্যাঅকছি ছড়া-টি এখনও আছে, নাম “ম্যাক্সি ছড়া”। এই ইতিহাস না জানলে লোকজন হয়ত ম্যাক্সি ছড়ার সাথে নারীদের পোশাক ম্যাক্সির সাথে সম্পর্ক খুঁজত। এজন্যই অতীতকে দেখতে হয় অতীতের আয়নায়, বর্তমানের আয়না দিয়ে দেখলে ভুল হয়।
এই এক যুগে বান্দরবান অনেক পাল্টেছে। দুই দেখার একটা তুলনামূলক ছবি আঁকতে চাই এই লেখায়। প্রথমবার ২০১৩ সালে গিয়েছিলাম পিআইবি’র ব্যবস্থায়। পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন জর্নালিজম এর ছাত্রদের ট্যুরে নিয়ে যাবার নিয়ম ছিল, এখনও আছে কিনা জানি না। পিআইবির বাজেটের সাথে ছাত্রদেরও কিছু যোগ করতে হত। আর দ্বিতীয়বার ২০২৬ সালের শুরুতে গিয়েছিলাম আমার কর্মস্থল বিডিজবসের বার্ষিক পিকনিকে।
আলকাৎরার ভ্রমণ
শরতের শুরুতে এক সন্ধ্যায় একটা ব্যাকপ্যাক নিয়ে হাজির হলাম সার্কুলার রোডে পিআইবির উঠানে। সহপাঠী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা মিলিয়ে আমাদের চল্লিশ জনের মত কাফেলা। পরে আবিষ্কার করেছি এর মধ্যে বাইরের কয়েকজন আছে, তারা ভিডিও কন্টেন্ট তৈরির জন্য যাচ্ছে। তারা কীভাবে ঢুকলে অনেকে বুঝে উঠতে পারি নি!
আমি হতাশ হয়েছিলাম বাস দেখে। ঢাকা থেকে স্বল্প দূরত্বে বা পাশের শহরগুলোতে যেসব বাস লোকাল সার্ভিস দেয় তেমন একটা বাস। সিট ফিক্সড, সোয়া তিনশত কিলোমিটারের রাতযাত্রায় ফিক্সিড সিটে যাওয়া কষ্টদায়ক। তার উপর সামনে যায়গা না থাকায় পা মেলা যায় না। লোকাল বাসে পা গুটিয়ে পাঁচ-দশ কিলোমিটার যাওয়া যায়। কিন্তু এই দীর্ঘযাত্রায় আমাদের কষ্ট দিয়ে টাকা বাচানো হল, তার উপর চালকরা কখনও পাহাড়ি রাস্তায় বাস চালায় নি!
বাসে আমার পাশের সিটে রক রোনাল্ড রোজারিও, পিআইবি’র ছাত্রজীবনে আমার সবচে’ ঘনিষ্ট সহপাঠী। নিরানন্দ ভ্রমণে গল্প করে সময় কাটানো গেল। আমি দূরযাত্রায় নন-এসি বাস পছন্দ করি, এসি বাসের ভেতরের গুমট ভারী বাতাসে কষ্ট হয়। এটা নন-এসি বাসই, তবে ঘুম ভাল হয় নি। কারণ এসি ছাড়া বাসেরও একটা বাজে দিক আছে- রাস্তার হর্ন তীব্র শব্দে কানে লাগে, আর ঘুম ভেঙে যায়। আর সামনের দিকে বসলে অপর দিক থেকে আসা বাসের হেডলাইটের আলো এসে লাগে চোখে! তার উপর পা মেলার কষ্ট, সব মিলিয়ে আধো ঘুমে রাত পার। সকাল হতে হতে আমরা চট্টগ্রাম পেরিয়ে গিয়েছি। বান্দরবান শহরের আগে পাহাড়ি পথে বাসটিকে সংগ্রাম করতে হচ্ছিল। রাস্তার দুই পাশে গাছের সারি ও প্রকৃতি বান্দরবানের সৌন্দর্যের নমুনা দেখাচ্ছিল। আমি প্রথম পাহাড় দেখেছি দার্জিলিঙের পথে, শিলিগুড়ি পেরিয়ে, সমতল থেকে হুট করে পাহাড় ঢালু হয়ে উঠে গিয়েছে।
বান্দরবান শহর ২০১৩
আমরা সকাল পৌনে দশটায় বান্দরবান শহরের বাস স্ট্যান্ডে নামলাম। বান্দরবান শহরেকে সেই প্রথমবার দেখা। নীল আকাশ আর সাদা মেঘের নিচে ঝকঝকে রোদে আলোকিকত, বৃষ্টিস্নাত ধুলোহীন শহর, তখনও প্রাকৃতিক, রাস্তার পাশে গাছগাছালি, গ্রামের মত টিনের ঘর। মূল সড়ক থেকে ডানে চিম্বুক রোডের একটু ভেতরের দিকে হোটেল গ্রিনল্যান্ডে আমাদের আপাত আশ্রয় হল। টিলামত পাহাড়ের ঢাল কেটে রাস্তা করা হয়েছে বোঝা যায়, আর সেই ঢালে পাহাড়ের বিপরীতে রাস্তার লাগোয়া হোটেলটি। আর পাহাড়- সবুজে ঢাকা।
বিশ্রাম নেবার সুযোগ নেই, যেহেতু রুম পাই নি। তবে তল্পিতল্পা রাখার সুযোগ আছে। সেখানে ব্যাগ রেখে ফ্রেস হয়ে বের হলাম সময়কে কাজে লাগাতে। সফরসঙ্গী কয়েকজন আগে বান্দরবানে এসেছে অথবা আসে নি কিন্তু বান্দরবানের ঠিকুজিঁ কিছু জানে। তারাই ঠিক করল আমরা নীলাচল যাব, জাহাঙ্গীর, জয়ন্ত, রক আরও কয়েকজন। দুটো সিএনজিতে করে রওনা দিলাম, পাহাড় সারির মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া আঁকাবাকা পথে।
নীলাচলের পথে
এক যুগ পরে
সেদিনের এক যুগ তিন মাস পর আমি পরিবার নিয়ে হাজির হয়েছি কমলাপুর রেল স্টেশনে। টার্মিনালের পাকা টুলে বসে আছে স্ত্রী ও মেয়েরা। ট্রেনের লাইট তখনও জ্বালানো হয় নি, রাত এগারোটা পনেরতে ছাড়ার শিডিওল, তখনও বেশ বাকি। তখনই দেখা হয়ে গেল আমার তিন কলিগের সাথে। আমাদের এ বছরের অফিসিয়াল পিকনিক বান্দরবানে। অফিসিয়াল ডিনারের পর অন্য কোথাও চলে যাবার সুযোগ আছে। তবে পরিবারকে আরাম করে বান্দরবান দেখাব বলে অন্য কোথাও যাবার পরিকল্পনা করি নি। আমার ঘনিষ্ট কলিগরা সবাই যাচ্ছে বাসে। শুধু আমিই যাচ্ছি ট্রেনে। ট্রেন থেকে বাস স্ট্যান্ড, তারপর বাস ধরা, এসবের একটু হুজ্জত হবে। তাই কলিগরা সব বাসে যাচ্ছে, আমাকেও নিরুৎসাহিত করেছিল। আমি যথাসম্ভব বাস এড়াতে চাই, মেয়েরা বমি করে। একঘেয়েমি কাটাতে হাটাহাটি করা যায়, জরুরী প্রয়োজনে ফ্রেশরুমের ব্যবস্থা আছে। এসব মিলিয়ে ট্রেনের বিকল্প এড়িয়ে গিয়েছি।
পরিবার নিয়ে একা যাবার মানসিক প্রস্ততি ছিল। কলিগদের সাথে দেখা হয়ে যাওয়াতে ভাল লাগল। কাকতালীয়ভাবে আমরা একই কোচে। ট্রেনে সমস্যা হবে না, তারপরও সাথে পরিচিত মুখ আছে বলে স্বস্তি পেলাম। ট্রেনে উঠার একটু পর দেখি তপন ডাক দিল, আরেক কলিগ, যাচ্ছে বৌ নিয়ে, সেও একই কোচে! ট্রেনের টিকিট কাটার সময় দ্বিধা করছিলাম কোন কোচে টিকিট কাটব! সবই খালি, সিট কম খালি থাকলে মানুষ এসব চিন্তা করে না। কিন্তু যখন সিট অনেক খালি থাকে তখন সমস্যায় পড়ে যায় কোনটা রেখে কোনটায় বসবে। ভাগ্যিস এই কোচটাই বাছাই করেছিলাম নইলে এদের সাথে দেখা হত না।
মাত্র আঠারো মিনিট দেরীতে ট্রেন ছাড়ল! এই ট্রেইন আধা ঘন্টা থেক দেড় ঘন্টা পর্যন্ত দেরিতে ছাড়ে। ভাগ্য ভালই।
বিমানবন্দর স্টেশনে এসে হুড়মুড় করে শত শত লোক উঠল ট্রেনে। যাদের টিকিট ছিল তাদের সিটগুলো ভরে গেল। আর অনেকে দাড়িয়েই যাবে। ভৈরব ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যাত্রীরা এভাবে চলাচল করে অভ্যস্ত। আমি যতবার এই পথে যাতায়াত করেছি ততবারই দেখেছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পেরিয়ে গেলে দাড়ানো যাত্রী তেমন থাকে না।
শীতের রাত, তাই কেও জানালা খুলে নি। তাই অতিরিক্ত যাত্রী হওয়ায় পরিবেশ গুমোট হয়ে গিয়েছে, দাড়ানো যাত্রীদেরই কারো কারো সাফোকেশন হচ্ছে। দাড়ানো যাত্রীদের বেশিরভাগ নারী। যেসব আসনে নারী যাত্রী ছিল তারা সেসব আসন ঘেষে দাড়ালেন, কাউকে কাউকে নিরুপায় হয়ে পুরষ যাত্রীদের পাশে দাড়াতে হল।
আমি তিন সিট নিয়েছি, কারণ দীর্ঘ যাত্রায় দুইজনে দুটো বাচ্চা কোলে নিয়ে যাওয়া যায় না। বড় মেয়েকে বসিয়েছিলাম আইলের ধারে। ওকে ঘিরে তিনজন মহিলা যাত্রী দাড়াল। একজন বসল হ্যান্ডেলে, একজন ভেতরে ঢুকে গেল, আরেকজন গা লাগিয়ে দাড়িয়ে রইল। একটা ঘেরাটোপের মধ্যে পড়ে গেলে স্ত্রী আর বাচ্চারা।
টিকিট চেকার এল। হ্যান্ডেলে বসা নারী দুটো টিকিট বের করে দেখাল। টিকিট দুটো চট্টগ্রাম মেইল ট্রেইনের। চেকার বলল এটা তো এই ট্রেনের টিকিট না, এই ট্রেইনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার টিকিটের দাম আরও বেশি। তিনি বললেন, “ভুল করে উঠে গেছি, ট্রেইন চিনতে পারি নাই।” টিকিট চেকারের দরাজ দিল, ছেড়ে দিল, বলল- আর কখনও এমন করবেন না।
মেয়ের সিটের সামনে ঢুকে যাওয়া নারীটি সম্ভবত অসুস্থ ছিল। প্রথমে সিটে বসার অনুমতি চেয়েছিল, সেটা আমি দেই নি। কিছুক্ষণ পর সে বসে যায়, আমরা আর কিছু বলি নি। তার কারণে মেয়েকে বেকায়দাভাবে শুতে হয়েছিল। তিনি ভৈরবে নেমে গেলে হ্যান্ডলযাত্রী বসার চেষ্টা করেছিল। তবে তারও স্টেশন দূরে না। এর পর থেকে ট্রেইনে উঠলে ডাইরেক্ট ট্রেইন বা এসি কোচে যাবার চেষ্টা করব।
ফজরের সালাতেরও আগে আমরা পৌঁছে গেলাম চট্টগ্রাম স্টেশনে। স্টেশনে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়েই সিএনজি নিলাম নতুন ব্রিজের উদ্দেশ্যে। রাস্তাটা কর্ণফুলির তীর ধরে। তীব্র কুয়াশায় ঢাকা ভোর। কুয়াশায় প্রায় সাদা হয়ে যাওয়া নদীর উপর ভুতুড়ে অবয়ব নিয়ে ভেসে আছে জাহাজেরা। আর সামনে পথেও বেশি দূর দেখা যাচ্ছে না। পথ আর কর্ণফুলি মিলিয়ে মনে হচ্ছিল সাদা-ধূসর ক্যানভাসের ভেতর দিয়ে চলেছি। এই সফরে এটা একটা বাড়তি পাওনা।
এই ধূসর সৌন্দর্যের একটা “অন্ধকার” দিক আছে। তীব্র কুয়াশামাখা বাতাস বাচ্চাদের অসুস্থ করে দেবার মত যথেষ্ট। তাই বাচ্চাদের চাদর দিয়ে ঢেকে দিলাম, নিজেরাও ঢুকলাম যেন বাতাস না লাগে। নীল চাদর; এই চাদরটা বান্দরবানের বার্মিজ মার্কেট থেকে আগের সফরে কিনেছিলাম।
আগেই ঠিক করে রেখেছিলাম পূরবী বাসে বান্দরবান যাব, এটাই নাকি ভাল বাস, রাফ চালায় না। কিন্তু পূরবীর কাউন্টারের লোক আমাদের তুলে দিল পূর্বানী বাসে। সেটা কিছুক্ষণ পরে বুঝতে পেরেছি। তবে ড্রাইভার ভাল চালিয়েছিলেন। বান্দরবান শহরের আগে পাহাড়ে উঠতে উঠতে কুয়াশা কেটে গেল। আর্মির চেকপোস্টের আগে বাস ভরে গেল আরামদায়ক রোদে। কিন্তু শহরে ঢুকতে ঢুকতে আবার সূর্য ঢাকা পড়ে গেল। শহরের আগে বেশ খানিকটা রাস্তার দুই পাশে দেয়াল উঠানো হয়েছে, আগেরবার ছিল না। সম্ভবত নিরাপত্তার জন্য। তখন ঠায় দাড়ানো গাছেরা নিরাপত্তার কাজ করত।
এই এলাকার পাহাড়গুলো সবুজে ঢাকা, পাথুরে পাহাড়ের মত উষর না। সেই বনছায়া পাহাড়ে কত রকমে গাছ, কতক তার ফলের, কতকে শুধু কাঠ হয়, মাঝে মাঝে বাশ আর কলা গাছ। আমি যতবারই পাহাড়ি এলাকায় গিয়েছি ততবারই সেগুলোর দিকে চেয়ে চেয়ে ভেবেছি যদি আশৈসব ওইসব পাহাড়ি বনে ঘুরে বেড়াতে পারতাম।
রাস্তার পাশে কাটা পাহাড়ের চুড়ায় বা গায়ে পুঁই গোটার মত ছোট ছোট ঘড় বাড়ি গেথে আছে। সেখানে কষ্ট আছে, সমস্যা আছে। তবু যদি একবার ওখানকার জীবনযাপন অনুভব করা যেত, রিসোর্ট থেকে সেটা সম্ভব না।
আগেরবার আমাদের বাস থেকে মূল সড়কেই নামিয়ে দিয়েছিল। একটা পেট্রোল পাম্প ছিল, সেখানেই বাস পার্ক করা ছিল, আলাদা করে বাস স্ট্যান্ড চোখে পড়ে নি। এবার শহরে ঢুকার আগেই উচু নিচু ঢাল পেরিয়ে এগুচ্ছি তখনই দেখতে পাচ্ছিলাম ধুলোর আভাস। বাস স্ট্যান্ড যেন বালি আর ইটের মরুভূমি। মূল সড়কটি আগের চেয়ে অন্তত দ্বিগুন প্রশস্ত হয়েছে। গাছপালা কম। বোঝা গেল বান্দরবানে বাণিজ্যের বসতি হয়েছে। এই বাংলায় বাণিজ্য আর প্রকৃতি একসাথে থাকার নিয়ম নেই।
আমাদের হোটেল আগেই ঠিক করা ছিল। বাস থেকে নেমেই একটা অটোরিক্সায় উঠলাম। আমাদের এবারের হোটেলটাও সেই আগের চিম্বুক রোডে, আগের বারের হোটেল থেকে একটু আগে, পোস্ট অফিসের মুখোমুখি। মূল সড়ক থেকে আধা কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে। এক সময় যেখানে এসেছিলাম ব্যাচেলর, আজ পরিবার নিয়ে।
ঢাকা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট অন্তরা হুদার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। কম্বল বিতরণকে কেন্দ্র করে এ অভিযোগ সামনে আসে।
রোববার সকালে ঢাকার দোহার উপজেলার আউলিয়াবাদ এলাকায় বিএনপি নেতা ফারুক মোল্লার বাড়ি থেকে প্রার্থীর দেওয়া শতাধিক কম্বল আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটের আগে এসব কম্বল বিতরণের উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনী প্রভাব বিস্তার।
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ সময় বিতরণের জন্য কম্বল গ্রহণ করার বিষয়টি স্বীকার করে ক্ষমা চান স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ফারুক মোল্লা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসফিক সিবগাত উল্লাহ। তিনি জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি স্পষ্টভাবে লঙ্ঘনের দায়ে ফারুক মোল্লাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট অন্তরা হুদার বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
লক্ষ্মীপুরে নিখোঁজের ৬ দিন পর একজনের মরদেহ উদ্ধালক্ষ্মীপুরে নিখোঁজের ৬ দিন পর ফজলে রাব্বি নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।শনিবার বিকেলে সদর উপজেলার চন্দ্র প্রবাহ বাগ গ্রামের শেখের বাড়ি এলাকার প্রবাসী কিরণের বাড়ির টাংকি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাব্বি সদর উপজেলার পূর্ব আলাদাদপুর গ্রামের সৈয়দ মিয়া পাটোয়ারি বাড়ির বিল্লাল হোসেনের ছেলে। তিনি চন্দ্রগঞ্জ কফিল উদ্দিন কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে নিহত রাব্বি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের একজন কর্মী ছিলেন।
শনিবার বিকেলে স্থানীয়রা চন্দ্র পবাহ বাগ গ্রামের শেখের বাড়ির একটি টাংকির উপর রাব্বির মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ রেজাউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকা-১ আসন (দোহার ও নবাবগঞ্জ) থেকে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাকের ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে গণপ্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ করেছেন বিভিন্ন পর্যায়ের আইনজীবীরা।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে নবাবগঞ্জ উপজেলার বাগমারা এলাকায় এই প্রচারণা কার্যক্রম শুরু হয়। পরে দুপুর থেকে দোহার উপজেলার জয়পাড়া ও আশপাশের বিভিন্ন হাট-বাজারে সারাদিনব্যাপী ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচারণা চালান তারা।
প্রচারণাকালে আইনজীবীরা বিভিন্ন বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান। এসময় তারা বলেন, জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করা জরুরি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান সোহান, অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ মোল্লা (ট্রেজারার, ঢাকা আইনজীবী সমিতি), অ্যাডভোকেট শহীদ গাজী (সাবেক অফিস সেক্রেটারি, ঢাকা আইনজীবী সমিতি), অ্যাডভোকেট মনির হোসেন রানা (সাবেক দপ্তর সম্পাদক, ঢাকা জেলা বিএনপি), বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবু তালেব শিকদার এবং সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী আখতারুজ্জামান।
এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান খলিল, অ্যাডভোকেট ইউনুস আলী রানা, অ্যাডভোকেট ওয়াশিম, অ্যাডভোকেট জাফর আলী দেওয়ান, অ্যাডভোকেট আবু সাঈম, অ্যাডভোকেট সায়েদ হোসেন সিরাজ ও অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন মোল্লাসহ বিএনপিপন্থী অন্যান্য আইনজীবীরা।
প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী আইনজীবীরা জানান, দোহার ও নবাবগঞ্জের জনগণ পরিবর্তন চায় এবং ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচনে খন্দকার আবু আশফাক বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।
দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বেগম আয়শা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী-২০২৬ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়।
বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তার-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও বেগম আয়শা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের সভাপতি মোঃ মাঈদুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ তাসফিক সিবগাত উল্লাহ এবং দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুবকর সিদ্দিক।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে সহশিক্ষা কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
আলোচনা সভা শেষে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে কৃতি শিক্ষার্থী, খেলাধুলা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নৃত্য, গান, আবৃত্তিসহ মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আনন্দের সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।