সংস্কারের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করতে দোহারে আপ বাংলাদেশের গণসংযোগ

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি : আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার লক্ষ্যে দোহার উপজেলায় গণসংযোগ কর্মসূচি পরিচালনা করেছে আপ বাংলাদেশ ঢাকা জেলা দক্ষিণ।

আজ বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী দোহার উপজেলার জয়পাড়া, মেঘুলা ও ফুলতলা বাজারে এই গণসংযোগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় সাধারণ মানুষের মাঝে সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয় এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।

গণসংযোগ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১ (দোহার–নবাবগঞ্জ) আসনের কৃতি সন্তান, আপ বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সংগ্রামী আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোঃ জসিম উদ্দিন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আপ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় যুগ্ম প্রধান সংগঠক আবরার হামীম ও মোঃ আহছান উল্লাহ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং নারী উদ্যোক্তা উইং ‘শী হাব বাংলাদেশ’-এর প্রধান সমন্বয়কারী মাসুমা বিল্লাহ (সাবিহা তানজিম), ঢাকা জেলা দক্ষিণের সদস্য সচিব আছিফুর রহমান (সজল), যুগ্ম সদস্য সচিব আবিদ হযরত, মোঃ বেলাল হোসাইনসহ দোহার উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ গণসংযোগকালে বলেন, টেকসই গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রীয় সংস্কার অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে আসন্ন গণভোটে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে রায় নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

দোহারে অক্সফোর্ড মডেল স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার দোহার উপজেলায় অবস্থিত অক্সফোর্ড মডেল স্কুলে উৎসবমুখর পরিবেশে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী–২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২শে জানুয়ারি) সকাল থেকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ আয়োজন শুরু হয় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে। পরে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্প, বল নিক্ষেপসহ নানা ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে অক্সফোর্ড মডেল স্কুলের পরিচালক মোঃ এমারত হোসেন এমরান-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসফিক সিবগাত উল্লাহ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজমুশ শিহার, দোহার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার জিয়া উদ্দীব ভূইয়া, দোহার উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একলাল উদ্দীন আহমেদ এবং দোহার প্রেসক্লাবের সভাপতি তারেক রাজিব।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বক্তব্যে বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বগুণ ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করে।

অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ দখলের আগে ভারতের ৬টি শহর মাটির সাথে মিশিয়ে দেব!: এক অকুতোভয় রাষ্ট্রনায়কের গল্প

0

১৯৭৭ সালের ২০ ডিসেম্বর। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবন তখন এক টানটান উত্তেজনার সাক্ষী। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সেখানে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। মাত্র ৪১ বছর বয়সী এক তেজস্বী রাষ্ট্রনায়ককে বরণ করে নিতে ভারতের তৎকালীন প্রবীণ নেতারা যে নজিরবিহীন প্রটোকল দিয়েছিলেন, তা দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে অনেকেরই সহ্য হচ্ছিল না।

প্রেক্ষাপট: কূটনৈতিক বিজয় ও ভারতের অস্বস্তি

তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ৮১ বছর বয়সী মোরারজী দেশাই এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর উপস্থিতিতে জিয়ার জন্য যে সম্মান প্রদর্শন করা হচ্ছিল, তার পেছনে ছিল জিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। বিশেষ করে ১৯৭৭ সালের নভেম্বরে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিতে বাংলাদেশ যে অভাবনীয় কূটনৈতিক জয় পেয়েছিল, তা ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের এক বড় অংশের কাছে ছিল পরাজয়ের মতো।

জগজীবন রাম বনাম জিয়াউর রহমান: সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত

ভারতের দীর্ঘকালীন ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ৭০ বছর বয়সী জগজীবন রাম ছিলেন দাপুটে নেতা। তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়ার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসে হঠাৎ সব শিষ্টাচার ও প্রটোকল ভেঙে ঔদ্ধত্যের সাথে প্রশ্ন করেন:

“Did you ever compare the population and military power of Bangladesh and India?” (আপনি কি কখনো বাংলাদেশ ও ভারতের জনসংখ্যা ও সামরিক শক্তির তুলনা করেছেন?)

প্রেসিডেন্ট জিয়া ধীরস্থির কণ্ঠে উত্তর দিলেন, “Yes, I do!”

জগজীবন রাম তাচ্ছিল্যের সুরে আবার জিজ্ঞেস করলেন,

“Then have you calculated how much time is needed by India to grab your whole country?” (তাহলে বাংলাদেশ দখল করতে ভারতের কত সময় লাগবে সেটা কি হিসাব করে দেখেছেন?)

জিয়ার সেই অকুতোভয় জবাব:

এই অবমাননাকর প্রশ্নের মুখেও বিচলিত হননি রণক্ষেত্রের সেই বীর। সানগ্লাসের ফাঁক দিয়ে তীর্যক দৃষ্টিতে তাকিয়ে মাথা উঁচু করে জিয়া উত্তর দিলেন:

“But you must be careful, because before seizure our boys will destroy 6 main cities of India into ruins. And also don’t forget we defeated India in 1965!” > (সাবধান থাকবেন, কারণ বাংলাদেশ দখল করার আগেই আমাদের ছেলেরা আপনাদের ৬টি বড় শহর মাটির সাথে গুঁড়িয়ে দেবে। আর ভুলে যাবেন না, ১৯৬৫ সালে আমরা ভারতকে পরাজিত করেছি!)

অপমানে লাল হয়ে জগজীবন রাম সোফা ছেড়ে উঠে চলে যেতে ধরলে জিয়া পেছন থেকে বজ্রকণ্ঠে যোগ করেন, “Won’t you ask which six cities we’d destroy?” (কোন ৬টি শহর আমরা ধ্বংস করব, সেটা জানতে চাইলেন না?)

কূটনৈতিক মহলে তোলপাড়:

এই ঘটনায় উপস্থিত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক শামসুল হক, উপদেষ্টা বি.এম. আব্বাস এবং পররাষ্ট্র সচিব তবারক হোসেন স্তব্ধ হয়ে যান। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী মোরারজী দেশাই ও অটল বিহারী বাজপেয়ী ছুটে আসেন। অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে জিয়া তাঁদের বলেন, “তেমন কিছু হয়নি, মিস্টার রাম আমার সাথে একটু ফান (কৌতুক) করেছেন, আমিও পাল্টা ফান করলাম— এই যা!”

কেন শহীদ জিয়া আজও প্রাসঙ্গিক?

১. জাতীয়তাবাদ: তিনি আমাদের শিখিয়েছেন মাথা নত না করার রাজনীতি।

২. দূরদর্শী প্রতিরক্ষা: জিয়ার এই দৃঢ় অবস্থান ভারতকে বুঝিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ কোনো ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ নয়।

৩. আধুনিকায়ন: তাঁর আমলেই সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার ভিত্তি স্থাপিত হয়।

আজ ১৯ জানুয়ারি, মহান এই নেতার ৯০তম জন্মবার্ষিকী। যাকে নিয়ে প্রতিটি বাংলাদেশী গর্ব করতে পারে। তিনি ছিলেন একজন যোগ্য, সৎ এবং অকুতোভয় দেশপ্রেমিক।

শুভ জন্মদিন, প্রিয় নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন।

বাংলা চ্যানেল জয় করলেন দোহারের হাবিবুর রহমান

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ ৩৯: বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ আর দিগন্তজোড়া জলরাশি জয় করে সফলভাবে ‘বাংলা চ্যানেল’ পাড়ি দিলেন ঢাকার দোহার উপজেলার কৃতি সন্তান ও অকুতোভয় সাঁতারু হাবিবুর রহমান হাবিব। গত ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া দেশের এই অন্যতম চ্যালেঞ্জিং ও রোমাঞ্চকর দীর্ঘ দূরত্বের সাঁতার প্রতিযোগিতায় তিনি সফলতার স্বাক্ষর রাখেন।

টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত ১৬.১ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রপথের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দক্ষ সাঁতারুরা। ৫৫ বছর বয়সেও তরুণদের মতো উদ্যম নিয়ে হাবিবুর রহমান অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে সপ্তম স্থান অধিকার করেন।

জানা যায়, এই দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ জলপথ পাড়ি দেওয়ার জন্য হাবিব দীর্ঘদিন ধরে কঠোর অনুশীলন করে আসছিলেন। নিয়মিত মাঝারি ও বৃহৎ পরিসরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন তিনি। তার এই দীর্ঘ পরিশ্রম ও অনুশীলনের ফলেই এ বছর তিনি বাংলা চ্যানেল সুইমিং প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হন এবং সফলভাবে লক্ষ্যভেদ করেন।

হাবিবের এই সাফল্যে দোহারের ক্রীড়াঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। স্থানীয় ক্রীড়ামোদীরা বলছেন, বয়সের বাধা জয় করে হাবিবুর রহমান যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা দোহারের তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।

সাফল্য অর্জনের পর উচ্ছ্বসিত হাবিবুর রহমান জানান, সমুদ্রের কঠিন স্রোত আর প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলা করে গন্তব্যে পৌঁছানো ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। এই গৌরবময় অর্জনে তিনি দোহারবাসী, তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

একে একে দোহারে আরও তিন আওয়ামী নেতার পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, দোহার উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের খাজার বাজারের রোদে দাঁড়িয়ে করা সংবাদ সম্মেলনটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বিকেলের মরা আলো আসার আগেই আওয়ামীলীগের  তিন নেতা সাধারণ মানুষে পরিণত হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে গেলেন। উপস্থিত একজন মন্তব্য করেন, রাজনীতি বড় অদ্ভুত জিনিস। এখানে আসাটা যতটা উৎসবের, যাওয়াটা ঠিক ততটাই নিঃশব্দ এবং একাকীত্বের।

রবিবার দোহার ও নবাবগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের তিন জন পদস্থ নেতা দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করেছেন। রাজনীতিতে  বিলাসপুর ইউনিয়নের খাজার বাজার এলাকায় আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তারা বার্ধক্য ও শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

পদত্যাগকারীরা হলেন:

  • মো. আবুল কাসেম মেম্বার: সদস্য, দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ।
  • আক্কাস শিকদার: সদস্য, দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ।
  • ডা. আজাহার মিয়া: সাধারণ সম্পাদক, ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, বিলাসপুর।

তারা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, অতীতে কোনো অপরাধের প্রমাণ পেলে যেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে নিরপরাধ অবস্থায় যেন তারা হয়রানির শিকার না হন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ

0

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি)। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সেনাপ্রধান।

১৯৩৬ সালের এইদিনে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাঘমারা গ্রামে জিয়াউর রহমান জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মনসুর রহমান। বগুড়া ও কলকাতায় শৈশব ও কৈশোর অতিবাহিত করেন জিয়াউর রহমান। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৫৫ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সমাদৃত।

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোসের্র প্রধান হিসেবে জিয়াউর রহমান এদেশের মানুষের কাছে প্রথম পরিচিত হলেও পরে তিনি বাংলাদেশের একজন বরেণ্য রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন। তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদশের্র ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠনের মধ্য দিয়ে দেশে উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতির সূচনা করেন।

শহীদ জিয়াউর রহমান ১৯ দফা কমর্সূচি দিয়ে দেশে উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে যান। তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি দেশের মানুষের প্রিয় দল হিসেবে ‘৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ, ‘৯১ সালের পঞ্চম সংসদ, ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নিবার্চনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অধীনে অনুষ্ঠিত ‘৮৬ সালের তৃতীয় ও ‘৮৮ সালের চতুর্থ এবং মহাজোট সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালে দশম সংসদ নিবার্চন বিএনপি বর্জন করে। আর সপ্তম ও নবম সংসদ নিবার্চনে সংসদে বিরোধী দলে ছিল বিএনপি। সর্বশেষ একাদশ সংসদ নির্বাচনে চরম ভরাডুবি হয় দলটির।

১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা যেমন এ দেশের মুক্তিকামী মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছিল, তেমনি ‘৭৫ সালে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যখন হুমকির মুখে, তখন সিপাহি-জনতার অভু্যত্থান হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসীন হন। পরে দেশে বহু দলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনে জিয়াউর রহমান চীনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পকের্র সূচনা করেন। দক্ষিণ-পূবর্ এশিয়ার সাতটি দেশকে নিয়ে ‘সার্ক’ গঠনের উদ্যোগ তারই। ওআইসিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর সংহতি জোরদার করার জন্য তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধে সাহসী অবদানের জন্য স্বাধীনতার পর তৎকালীন সরকার তাকে বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত করে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে নিহত হন।

চাকরি খুঁজবেন কোথায়? চাকরি খোঁজার সহজ উপায়

আশির দশকের বাংলা সিনেমায় নায়ককে দেখা যেত ফাইল বগলে নিয়ে শহরের এক অফিস থেকে আরেক অফিসে ছুটছে। রিসেপশনে ঢুকেই চোখ পড়ত সেই অমোঘ সাইনবোর্ডে— “কর্ম খালি নেই”। কোথাও কোথাও গেইট থেকে ফিরিয়ে দিত, ভেতরে ঢুকতেই দিত না। ইলিয়াস কাঞ্চন বা জসিমের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে না? দিন শেষে জুতা পুরোনো হতো, মুখে ক্লান্তির ছাপ পড়ত, কিন্তু চাকরিটা আর ধরা দিত না।

বাস্তব জীবনও খুব আলাদা ছিল না। চাকরির খবর মানেই ছিল পত্রিকার ভেতরের পাতায় ছোট ছোট বিজ্ঞাপন, কিন্তু কয়টা পত্রিকা একজন বেকার কিনতে পারে? এক প্রতিষ্ঠান সব পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে পারত না। কিংবা পরিচিত কোনো বড় ভাইয়ের অস্পষ্ট আশ্বাস— “দেখি কিছু করা যায় কি না”। তথ্যের অভাবে অনেকেই জানতেই পারতেন না কোথায় কোন সুযোগ আছে।

কিন্তু সময় বদলেছে। আজকের বাংলাদেশে চাকরি খোঁজার জন্য আর অফিসে অফিসে ঘুরে বেড়াতে হয় না, দেয়ালে ঝোলানো “কর্ম খালি নেই” সাইনবোর্ডও আর খুব একটা চোখে পড়ে না। এখন স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের স্ক্রিনেই মিলছে হাজারো চাকরির তথ্য—সরকারি থেকে বেসরকারি, দেশি থেকে বিদেশি, ফ্রেশার থেকে অভিজ্ঞ—সব এক জায়গায়। সমস্যা এখন তথ্যের অভাব নয়, বরং সঠিক পথে খোঁজ না করা।

এই বাস্তবতায় প্রশ্ন হলো—আজকের দিনে বাংলাদেশে চাকরি খোঁজার সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলো কী? কোন পথে গেলে সময় বাঁচে, সুযোগ বাড়ে? সেসব নিয়েই এই লেখা।

১. বিডিজবস: অনলাইন চাকরি পোর্টাল

বর্তমান সময়ে বেসরকারি চাকরি খোঁজার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো অনলাইন জব পোর্টাল। এখানে প্রতিদিন হাজারো নতুন চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। প্রার্থীরা প্রোফাইল খুলে সিভি আপলোড করে সহজেই আবেদন করতে পারেন এবং ই-মেইলের মাধ্যমে আপডেট পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশের বৃহত্তম জব সাইট হল Bdjobs.com. এখানে আপনার সিভি তৈরি করে খুব সহজেই আবেদন করতে পারবেন। সবচে জনপ্রিয় সাইট হিসেবে দেশের প্রায় সব বৃহৎ ও মাঝারি বেসরকারী কোম্পানি এখানে চাকুরির বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। এমনকি ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান ও বিদেশী প্রতিষ্ঠানও এখানে চাকুরির বিজ্ঞাপন প্রকার করে। বিডিজবস ছাড়াও আরও কয়েকটি দেশী জব পোর্টাল আছে, তবে সেগুলো স্বল্পআয়ু হওয়ায় এখানে উল্লেখ করা হল না।

২. কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ক্যারিয়ার পেজ

অনেক বড় প্রতিষ্ঠান তাদের চাকরির বিজ্ঞপ্তি জব পোর্টালে দেওয়ার আগেই নিজস্ব Career বা Jobs সেকশনে প্রকাশ করে। নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার আগ্রহ থাকলে তাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখা কার্যকর উপায়। তবে এটা একটু কঠিন পদ্ধতি, ওই অনেকটা বাংলা সিনেমার নায়কদের মত করে কোম্পনিদের ওয়েবসাইট ঘুরে দেখা। খুব অল্প প্রতিষ্ঠান আছে যারা বিডিজবসে বিজ্ঞাপন দেয় না, দিলেও সব দেয় না, তাদের ওয়েব সাইট দেখা যেতে পারে।

৩. লিংকডইন ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

বর্তমানে ফেসবুক ও লিংকডইন চাকরি খোঁজার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে লিংকডইন। অনেক প্রতিষ্ঠান ও রিক্রুটার সরাসরি লিংকডইনে চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেন। লিংকডইনে প্রোফাইল হালনাগাদ রাখা এবং প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক তৈরি করলে চাকরির সুযোগ বাড়ে।

ফেসবুকের যদিও ট্রাস্ট ইস্যু আছে এবং সুনির্দিষ্ট কোনো জব পোর্টাল নেই তবু এখানেও চাকরির খবর পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ফেসবুক পেজে চাকরির বিজ্ঞাপন বা বিজ্ঞাপনের লিংক শেয়ার করে। বেশ কিছু গ্রুপ আছে যেখানে নিয়মিত চাকরির সন্ধান পাওয়া যায়।

৪. নেটওয়ার্কিং ও রেফারেন্স

বাংলাদেশের চাকরি বাজারে নেটওয়ার্কিং এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিচিত সিনিয়র, সহকর্মী বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের মাধ্যমে অনেক সময় অঘোষিত চাকরির খবর পাওয়া যায়। তবে রেফারেন্সের পাশাপাশি নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

৫. জব ফেয়ার

বাংলাদেশে এখন অনেক প্রতিষ্ঠান ক্যারিয়ার নিয়ে কাজ করে। তারা দেশের বিভিন্ন শহরে নিয়মতি জব ফেয়ার করে। জব ফেয়ারগুলো সাধারণ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়, সেখানে ওই সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আবেদন করার সুযোগ পায়। বিভিন্ন কনভেনশন সেন্টারেও জব ফেয়ার হয়, এগুলো উন্মুক্ত থাকে, যে কেও গিয়ে আবেদন করতে পারে। জব ফেয়ারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের স্টলে জব অফার করে। সেখানে সরাসরি আবেদন করে সেখানেই ইন্টারভিউ’র ব্যবস্থা থাকে। জব ফেয়ারে পড়া লেখা শেষ হবার আগেই চাকরি পাবারও সুযোগ থাকে।

৫. ইন্টার্নশিপ ও ট্রেইনি প্রোগ্রাম

ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের জন্য বেসরকারি চাকরিতে ঢোকার সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো ইন্টার্নশিপ ও ট্রেইনি প্রোগ্রাম। অনেক প্রতিষ্ঠান এখান থেকেই স্থায়ী কর্মী নিয়োগ করে।

৬. মধ্যপ্রাচ্যে চাকরি

বাংলাদেশী চাকরিপ্রার্থীদের বিদেশেও চাকরি খোঁজা উচিৎ, সেখানেও দারুণ সব সুযোগ রয়ে গেছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে। মধ্যপ্রাচ্যের সবচে’ বড় ও জনপ্রিয় জব সাইট হল bayt.com.
বায়ৎ.কম মধ্যপ্রাচ্যের সবগুলো দেশের চাকরির বিজ্ঞাপন দেয়, এজন্য এটা একটা সুবিধা যে এক যায়গায় সব অনেকগুলো দেশের চাকরি সুযোগ দেখা যায়। বায়ৎ.কমে আবেদন মধ্যপ্রাচ্যে চাকরির সুযোগ বাংলাদেশীদের নেয়া উচিৎ।

সরকারি চাকরি খোঁজার উপায়

১. সরকারি গেজেট ও অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখা

বাংলাদেশে সরকারি চাকরির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য আসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)–এর ওয়েবসাইটে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সাইটেও আলাদা করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

২. জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন সংস্করণ

এখনও অনেক সরকারি দপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রথমে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করে। পত্রিকার চাকরি পাতার অনলাইন সংস্করণ নিয়মিত দেখলে একাধিক সরকারি নিয়োগ একসঙ্গে পাওয়া যায়।

৩. সরকারি চাকরির জন্য নির্দিষ্ট ওয়েব পোর্টাল

বর্তমানে সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি সংগ্রহ করে এমন বেশ কিছু ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ রয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগ তথ্য এক জায়গায় প্রকাশ করে। এসব পোর্টাল সময় বাঁচাতে সাহায্য করে, তবে আবেদন করার আগে মূল বিজ্ঞপ্তি অফিসিয়াল উৎস থেকে যাচাই করা জরুরি।

৪. প্রস্তুতি ও পরীক্ষার সময়সূচি নজরে রাখা

সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে শুধু বিজ্ঞপ্তি জানলেই যথেষ্ট নয়। লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা ও ফলাফলের সময়সূচি নিয়মিত খেয়াল রাখা দরকার। অনেক প্রার্থী সময়মতো তথ্য না জানার কারণে সুযোগ হারান।

– পারভেজ রবিন

ভূমিকম্পে অপ্রস্তুত বাংলাদেশ, ৭.৫ মাত্রার কম্পনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

0

ভূমিকম্প প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতি মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে মানুষের অব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ দুর্নীতি। 

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ঢাকায় ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ১০ লক্ষাধিক ভবন ধসে পড়তে পারে এবং প্রাণহানি হতে পারে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের। এমন ভয়াবহ বাস্তবতায় ভূমিকম্প মোকাবিলায় জাতীয় প্রস্তুতির ঘাটতি তুলে ধরেন বক্তারা।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ভূমিকম্পে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় করণীয় বিষয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। এডাব (এসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিজ ইন বাংলাদেশ) এবং বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) যৌথভাবে এই সেমিনার আয়োজন করে।

এডাবের চেয়ারপারসন আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং পরিচালক একেএম জসীম উদ্দিনের সঞ্চালনায় সেমিনারে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ক্যাপস-এর সভাপতি অধ্যাপক ড. আহমাদ কামরুজ্জামান মজুমদার। ভূমিকম্পের কারিগরি বিষয় নিয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স বাংলাদেশের সাবেক পরিচালক (অপারেশন) মেজর (অব.) শাকিল নেওয়াজ।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ভৌগোলিকভাবে ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া- এটি হবেই, তবে কখন হবে তা কেউ জানে না। অনেক দেশ বাংলাদেশের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও প্রস্তুতির অভাবে বাংলাদেশ ভয়াবহ বিপদের মুখে।

বক্তারা জানান, ভবন নির্মাণ বিধিমালা না মেনে বহুতল ভবন নির্মাণ, নরম পলিমাটিতে ভবন ও রাস্তা তৈরি, গ্লাস বিল্ডিং, অতিরিক্ত জনঘনত্ব, পানির স্তর নেমে যাওয়া, ভবনে বিকল্প বহির্গমন পথ না থাকা, দুর্নীতি, ভূমিকম্প বিষয়ে মানুষের অজ্ঞতা ও কুসংস্কার- এসব কারণে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ঢাকায় ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ১০ লক্ষের বেশি ভবন ধসে পড়তে পারে। এতে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের প্রাণহানি হতে পারে। তখন মরদেহ সরানো, আহতদের হাসপাতালে নেওয়া বা উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর মতো জরুরি সক্ষমতা রাষ্ট্রের নেই। হাসপাতালগুলোতেও বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হবে, যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়বে, রাস্তাঘাট ভেঙে পড়বে এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিস বা উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারবে না।

এই অবস্থায় ভূমিকম্পের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে সচেতনতা ও সমন্বিত প্রস্তুতি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে জানান তারা।

ভূমিকম্প মোকাবিলায় করণীয় হিসেবে বক্তারা ব্যক্তিগত, পারিবারিক, কমিউনিটি, আঞ্চলিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জরুরি পরিকল্পনা তৈরির ওপর জোর দেন। তারা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে সংস্কার, সিভিল ডিফেন্স শক্তিশালী করা, কমিউনিটি ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন,

 স্থানীয় সরকারকে কার্যকর ভূমিকা দেওয়া, কমিশনার ও পৌর কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল করা, কমিউনিটি তথ্য হাব তৈরি এবং ভবন নির্মাণ বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান।

এছাড়া ভূমিকম্প বিষয়ে স্কুল-কলেজ, পাড়া-মহল্লা পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচার, মিডিয়া ও এনজিওদের সক্রিয় ভূমিকা, হাসপাতালের সঙ্গে মানসিক ও সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম, পানি ও রাস্তা ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, জিওলজিক্যাল সার্ভে বিভাগকে ক্ষমতায়ন ও পর্যাপ্ত রিসোর্স দেওয়ার কথাও তুলে ধরা হয়। কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানভিত্তিক জনসচেতনতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন বক্তারা।

বক্তারা আরও বলেন, ভূমিকম্প প্রাকৃতিক হলেও প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ মূলত মনুষ্যসৃষ্ট। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার। জনগণই সব ক্ষমতার উৎস উল্লেখ করে তারা রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল করতে সম্মিলিত চাপ তৈরির আহ্বান জানান। তারা বলেন, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

সেমিনারে অন্যান্য আলোচকদের মধ্যে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, ওয়াহিদা বানু, গওহর নাঈম ওয়ারা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান।

প্রাণীর প্রতি দয়া আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম

0

বর্তমানে প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতার খবর যখন ডাল-ভাতের মতো শোনা যায়, তখন ইসলাম আমাদের মনে করিয়ে দেয় এক অনন্য নৈতিকতার পাঠ। ইসলাম একদিকে যেমন প্রয়োজনে প্রাণী থেকে বৈধ উপকারের অনুমতি দিয়েছে, অন্যদিকে তাদের অধিকার ও কষ্টের বিষয়েও করেছে সচেতন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সৃষ্টিকুলের জন্য রহমতস্বরূপ। তিনি যদি দেখতেন, কেউ কোনো প্রাণীকে কষ্ট দিচ্ছে, তিনি কঠোরভাবে সতর্ক করতেন। হজরত আবদুল্লাহ বিন জাফর (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) এক আনসারি সাহাবির বাগানে প্রবেশ করলেন। সেখানে একটি উট নবীজিকে (সা.) দেখে করুণভাবে কাঁদতে শুরু করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্নেহের পরশে উটটির ঘাড় ও পিঠে হাত বুলিয়ে তাকে শান্ত করেন। এরপর তিনি উটের মালিককে ডেকে বললেন, ‘আল্লাহ তোমাকে এই নির্বাক প্রাণীর মালিক বানিয়েছেন; এর ব্যাপারে তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না? এই উটটি আমার কাছে অভিযোগ করেছে যে তুমি তাকে ক্ষুধার্ত রাখো এবং সাধ্যের অতিরিক্ত পরিশ্রম করাও।’ (সুনানে আবু দাউদ: ২৫৪৯)

ইসলামি ফিকহের প্রখ্যাত গ্রন্থ ‘আদ-দুররুল মুখতার’-এ উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো প্রাণীকে দিয়ে কাজ করানোর ক্ষেত্রে তাকে প্রহার করা বা অতিরিক্ত কষ্ট দেওয়া হারাম। এমনকি বলা হয়েছে, প্রাণীর ওপর জুলুম করা গুরুতর অপরাধ। কারণ নির্বাক প্রাণী মানুষের কাছে তার কষ্টের কথা বলতে পারে না। (রদ্দুল মুহতার: ৯ / ৪৯১)

প্রাণীকে কষ্ট দেওয়ার প্রতিটি রূপ ইসলামে নিষিদ্ধ। ক্ষুধার্ত রাখা, কষ্ট দেওয়া, জীবন্ত অবস্থায় অঙ্গহানি করা, অযথা হত্যা করা, নিশানা বানিয়ে পাথর বা তির ছোড়া কিংবা প্রাণীদের মধ্যে লড়াই লাগানো—সবই কবিরা গুনাহ। হাদিসে প্রাণীকে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলার জন্য এক নারীকে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করানো হয়েছে মর্মে বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘এক নারীকে একটি বিড়ালের কারণে আজাব দেওয়া হয়েছিল। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল। সে অবস্থায় বিড়ালটি মরে যায়। মহিলাটি ওই কারণে জাহান্নামে গেল। কেননা সে বিড়ালটিকে খানাপিনা কিছুই করায়নি এবং ছেড়েও দেয়নি, যাতে সে জমিনের পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে।’ (সহিহ মুসলিম: ২২৪২)

প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা যেমন আল্লাহর ক্রোধকে অনিবার্য করে তোলে, তেমনি তাদের প্রতি সামান্য মমতাও হতে পারে আমাদের পরকালীন মুক্তির অসিলা।

২০২৬-এ দোহারে কলেজ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক মো. জসীম উদ্দীন

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ে কলেজ ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মালিকান্দা মেঘুলা স্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ জসীম উদ্দীন।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চতর গণিত বিষয়ে সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে পাঠদান করে আসছেন। পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে মাস্টার ট্রেইনার ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

শিক্ষকতা জীবনে এর আগে তিনি জয়পাড়া কলেজে খণ্ডকালীন আইসিটি শিক্ষক এবং পদ্মা সরকারি কলেজে পার্টটাইম গণিত শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমানে মোঃ জসীম উদ্দীন মালিকান্দা মেঘুলা স্কুল ও কলেজের রোভার স্কাউট লিডার এবং নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর উক্ত প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন।

তার এ অর্জনে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।