তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

0

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

অভিনন্দন বার্তায় তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। গণতান্ত্রিক উত্তরণের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় জনগণের এই সুস্পষ্ট রায় দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনার প্রজ্ঞা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনকল্যাণমুখী চেতনার আলোকে আপনি দেশকে একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন । আমি স্মরণ করছি আপনার পিতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আদর্শ ও রাষ্ট্রদর্শন এবং আপনার মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের কথা। তাদের আদর্শ ও মহান কর্ম আপনার আগামী দিনের চলার পথকে আলোকিত করবে বলে আমি একান্তভাবে আশা করি।

পরিশেষে, দেশের মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে আপনার সকল উদ্যোগ সফল হোক এই কামনা করি। মহান আল্লাহ আপনাকে দেশ ও জাতির সেবায় প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও দৃঢ়তা দান করুন, বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ঘোষণা জামায়াত আমিরের

0

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে যারা পরিশ্রম করেছেন এবং নানা ধরনের ভয়-ভীতি ও হয়রানির মুখেও গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা করেছেন, তাদের সাহস দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে।

নির্বাচনের ফল নিয়ে হতাশা থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৭৭টি আসন পেয়ে দলটি সংসদে উপস্থিতি প্রায় চারগুণ বাড়িয়েছে এবং আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী বিরোধী ব্লকে পরিণত হয়েছে। এটিকে তিনি নতুন ভিত্তি হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ২০০৮ সালে বিএনপি ৩০টি আসন পেয়েছিল। ১৮ বছর পর ২০২৬ সালে তারা সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথ দীর্ঘ। তাই জনগণের আস্থা অর্জন, ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় রাখা ও ভবিষ্যতের জন্য দায়িত্বের প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নির্বাচনের রায়কে সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের আন্দোলন কখনো একক নির্বাচনের জন্য ছিল না; বরং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করা, নাগরিক অধিকার রক্ষা ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিতে অটল থাকার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

দোহার-নবাবগঞ্জে বিএনপি’র খোন্দকার আবু আশফাক বিজয়ী

0

ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১ আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী খোন্দকার আবু আশফাক ৬৩,৪৯৩ ভোটের বড় ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

খোন্দকার আবু আশফাক পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৮১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম প্রার্থী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৬২২ ভোট।

ঢাকা-১ আসনে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৮৪ টি, এর মধ্যে দোহারে ৭৮ টি, নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১০৬টি। দুই উপজেলায় মোট ভোটার রয়েছেন ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৬১৭ জন। পোস্টাল ব্যালটে ভোট ৮ হাজার ৫ শত ১৮ জন।

বিজয়ী প্রার্থী খোন্দকার আবু আশফাকের বিজয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়ি-পাল্লার প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জনগণের রায়ে খোন্দকার আবু আশফাক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আমি তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য দল-মত নির্বিশেষে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিক ভূমিকা রাখবেন। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক সহনশীলতার স্বার্থে সকলের উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা।

খোন্দকার আবু আশফাক এ বিজয়কে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে উৎসর্গ করেছেন। তিনি বলেন, “এ বিজয়ে আমি মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানাচ্ছি। পাশাপাশি দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলার সকল জনগণের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তারা যদি পাশে না থাকতেন, না সহযোগীতা করতেন, তবে আমার পক্ষে কখনোই সম্ভব হতো না বিজয়ী হয়ে এ আসনটি জনাব তারেক রহমানকে উপহার দেওয়া।”

রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ এর ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এই তথ্য জানান। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে এসব কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হয়।

সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর সর্বশেষ ফলাফল

0

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে নির্বাচন হয়েছে, জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী মৃত্যুর কারণে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৯.৪৪%।

সামগ্রিক ফল: গেজেটে ঘোষিত ২৯৭ টি আসন সহ স্থগিত দুটি আসনের ফল অনুসারে

দল অবস্থান
বিজয়
বিএনপি ১ম ২১১
জামায়াতে ইসলামি ২য় ৬৮
এনসিপি ৩য়
স্বতন্ত্র
খেলাফত মজলিস (রিক্সা)
গণঅধিকার পরিষদ
ইসলামি আন্দোলন
খেলাফত মজলিস (ঘড়ি)
জাতীয় পার্টি (পার্থ)
গণসংহতি আন্দোলন
মোট ২৯৯

চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় নি, আসন দুটিতে বিএনপি প্রার্থী জিতেছে। এই দুটো আসন ধরে হিসাব করা হয়েছে।

বিএনপি জোট ২১৪
জামাত-এনসিপি জোট ৭৭
স্বতন্ত্র
জোট নিরপেক্ষ
মোট ২৯৯

মোট প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার:

বিএনপি জোট ৩,৭৩,৪০,৬৭২ ৫৪.৬%
জামাত-এনসিপি জোট ২,৬৫,৪০,৩৮৬ ৩৮.৮%
অন্যান্য
মোট ১০০%

গণভোটের ফল:

প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী ৬৮.০৫% ভোট ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষ পড়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে এই গেজেট প্রকাশ করা হয়।
“হ্যাঁ” ভোট ৪,৮২,০০,৬৬০
“না” ভোট ২২,০৭১,৭২৬
মোট বৈধ ভোট ৭,০২,৭২,৩৮৬
বাতিল ভোট ৭৪,২২,৬৩৭
মোট প্রদত্ত ভোট ৭,৭৬,৯৫,০২৩

ঢাকা বিভাগ:

ঢাকা-১: বিএনপি প্রার্থী খোন্দকার আবু আশফাক।

ঢাকা-২: বিএনপি প্রার্থী মো. আমানউল্লাহ আমান।

ঢাকা-৩: বিএনপি প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

ঢাকা-৪: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।

ঢাকা-৫: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন।

ঢাকা-৬: বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন।

ঢাকা-৭: বিএনপি প্রার্থী হামিদুর রহমান।

ঢাকা-৮: বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ।

ঢাকা-৯: বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ।

ঢাকা-১০: বিএনপি প্রার্থী শেখ রবিউল আলম।

ঢাকা-১১: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলাম।

ঢাকা-১২: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী সাইফুল আলম।

ঢাকা-১৩: বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ।

ঢাকা-১৪: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম।

ঢাকা-১৫: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মোঃ শফিকুর রহমান।

ঢাকা-১৬: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল বাতেন।

ঢাকা-১৭: বিএনপি প্রার্থী তারেক রহমান।

ঢাকা-১৮: বিএনপি প্রার্থী এস, এম, জাহাঙ্গীর হোসেন।

ঢাকা-১৯: বিএনপি প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

ঢাকা-২০: বিএনপি প্রার্থী মো. তমিজ উদ্দিন।

নারায়ণগঞ্জ-১: বিএনপি প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া।

নারায়ণগঞ্জ-২: বিএনপি প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম আজাদ।

নারায়ণগঞ্জ-৩: বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান।

নারায়ণগঞ্জ-৫: বিএনপি প্রার্থী আবুল কালাম।

কিশোরগঞ্জ-১: বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম।

কিশোরগঞ্জ-২: বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন।

কিশোরগঞ্জ-৩: বিএনপি প্রার্থী ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক।

কিশোরগঞ্জ-৪: বিএনপি প্রার্থী মো. ফজলুর রহমান।

কিশোরগঞ্জ-৫: স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল।

কিশোরগঞ্জ-৬: বিএনপি প্রার্থী মো. শরীফুল আলম।

মুন্সিগঞ্জ-১: বিএনপি প্রার্থী শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

মুন্সিগঞ্জ-২: বিএনপি প্রার্থী আব্দুস সালাম আজাদ।

মুন্সিগঞ্জ-৩: বিএনপি প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতন।

মানিকগঞ্জ-১: বিএনপি প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবীর।

মানিকগঞ্জ-২: বিএনপি প্রার্থী মঈনুল ইসলাম খান।

মানিকগঞ্জ-৩: বিএনপি প্রার্থী আফরোজা খানম।

শরীয়তপুর-১: বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলাম।

শরীয়তপুর-২: বিএনপি প্রার্থী শফিকুর রহমান কিরণ।

শরীয়তপুর-৩: বিএনপি প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।

মাদারীপুর-১: খেলাফত মজলিস প্রার্থী সাইদ উবিন আহমাদ হানজালা।

মাদারীপুর-২: বিএনপি প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া।

মাদারীপুর-৩: বিএনপি প্রার্থী আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার।

রাজবাড়ী-১: বিএনপি প্রার্থী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

রাজবাড়ী-২: বিএনপি প্রার্থী মো. হারুন-অর-রশিদ।

ফরিদপুর-১: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ড. ইলিয়াস মোল্যা।

ফরিদপুর-২: বিএনপি প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু।

ফরিদপুর-৩: বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ।

ফরিদপুর-৪: বিএনপি প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল।

গোপালগঞ্জ-২: বিএনপি প্রার্থী কে এম বাবর।

টাঙ্গাইল-১: বিএনপি প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম।

টাঙ্গাইল-২: বিএনপি প্রার্থী আব্দুস সালাম পিন্টু।

টাঙ্গাইল-৩: স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. লুৎফর রহমান খান আজাদ।

টাঙ্গাইল-৫: বিএনপি প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

টাঙ্গাইল-৬: বিএনপি প্রার্থী মো. রবিউল আওয়াল।

টাঙ্গাইল-৭: বিএনপি প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী।

টাঙ্গাইল-৮: বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।

গাজীপুর-১: বিএনপি প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান।

গাজীপুর-২: বিএনপি প্রার্থী এম মন্জুরুল করিম রনি।

গাজীপুর-৩: বিএনপি প্রার্থী এসএম রফিকুল ইসলাম।

গাজীপুর-৪: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী অধ্যক্ষ সালাহউদ্দিন আইউবী।

গাজীপুর-৫: বিএনপি প্রার্থী একেএম ফজলুল হক মিলন।

নরসিংদী-১: বিএনপি প্রার্থী খায়রুল কবির খোকন।

নরসিংদী-২: বিএনপি প্রার্থী ড. আব্দুল মঈন খান।

নরসিংদী-৩: বিএনপি প্রার্থী মনজুর এলাহী।

নরসিংদী-৪: বিএনপি প্রার্থী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

নরসিংদী-৫: বিএনপি প্রার্থী মো. আশরাফ উদ্দিন।

চট্টগ্রাম বিভাগ

চট্টগ্রাম-১: বিএনপি প্রার্থী

চট্টগ্রাম-২: বিএনপি প্রার্থী

চট্টগ্রাম-৩: বিএনপি প্রার্থী

চট্টগ্রাম-৪: বিএনপি প্রার্থী

চট্টগ্রাম-৫: বিএনপি প্রার্থী

চট্টগ্রাম-৬: বিএনপি প্রার্থী

চট্টগ্রাম-৭: বিএনপি প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরি

চট্টগ্রাম-৮:

চট্টগ্রাম-৯:

চট্টগ্রাম-১০:

চট্টগ্রাম-১১:

চট্টগ্রাম-১২:

চট্টগ্রাম-১৩:

চট্টগ্রাম-১৪:

চট্টগ্রাম-১৫: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরি

চট্টগ্রাম-১৬:

কক্সবাজার-১: বিএনপি প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ।

কক্সবাজার-২: বিএনপি প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ।

কক্সবাজার-৩: বিএনপি প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল।

কক্সবাজার-৪: বিএনপি প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী।

বান্দরবান: বিএনপি প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী।

সিলেট বিভাগ

সুনামগঞ্জ-২: বিএনপির প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী।

খুলনা বিভাগ

বাগেরহাট-১: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাওলানা মশিউর রহমান।

বাগেরহাট-২: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ।

বাগেরহাট-৩: বিএনপির শেখ ফরিদুল ইসলাম।

বাগেরহাট-৪: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী আব্দুল আলিম।

রাজশাহী বিভাগ

রাজশাহী-১: জামায়াত ইসলামী প্রার্থী মজিবুর রহমান।

রাজশাহী-২: বিএনপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু।

রাজশাহী-৩: বিএনপি প্রার্থী শফিকুল হক মিলন।

রাজশাহী-৪: জামায়াত ইসলাম প্রার্থী আবদুল বারী সরদার।

রাজশাহী-৫: বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম।

রাজশাহী-৬: বিএনপি প্রার্থী আবু সাইদ চাঁদ।

বগুড়া-২: বিএনপি প্রার্থী মীর শাহে আলম।

 

ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ)-এর সংসদ নির্বাচনের চুড়ান্ত ফল

0
ঢাকা-১, আসন নাম্বার: ১৭৪

দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা

মোট ভোটার: ৫,৪৫,১৪০ মোট কেন্দ্র: ১৮৪
পুরুষ ভোটার: ২,৭৬,০৫০ নারী ভোটার: ২,৬৯,০৮৫
হিজরা ভোটার: পোস্টাল ভোট: ৮,৫১৮

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ২,৯৯,৫২৩টি। বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা ৫,৬৯৯টি। সর্বমোট ৩,০৫,২২২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সে হিসেবে ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৫.৯৯%।

চুড়ান্ত ফল:

প্রার্থী   দল মোট ভোট
Abu Ashfaq আবু আশফাক বিএনপি ১,৭৩,৭৮১
Nazrul Islam নজরুল ইসলাম জামায়াতে
ইসলামী
১,১২,৬২২
Nurul Islam নুরল ইসলাম ইসলামী
আন্দোলন
৬,৬০৭
Antara Huda অন্তরা হুদা স্বতন্ত্র ৪,৮৮০
nasir molla নাসির উ. মোল্লা জাতীয়
পার্টি
১,৩৬২
Sheikh ali শেখ মো. আলী লেবার
পার্টি
২৭১
মোট বৈধ ভোট   ২,৯৯,৫২৩

শুধু দোহার উপজেলার কেন্দ্রগুলোর সম্মিলিত ফল:

প্রার্থী   দল প্রাপ্ত ভোট
Antara Huda অন্তরা হুদা স্বতন্ত্র ৩,৩৯৮
Abu Ashfaq আবু আশফাক বিএনপি ৬০,৪২১
Nurul Islam নুরল ইসলাম ইসলামী
আন্দোলন
৪,৫৯৮
Nazrul Islam নজরুল ইসলাম
জামায়াতে
ইসলামী
৪৮,৫৯১
nasir molla নাসির উ. মোল্লা জাতীয়
পার্টি
১,০৪৪
Sheikh ali শেখ মো. আলী লেবার
পার্টি
৯৪
মোট বৈধ ভোট ১,১৮,১৪৬

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের ফল:

কেন্দ্র: জয়পাড়া কলেজ

প্রার্থী দল প্রাপ্ত ভোট
অন্তরা সেলিমা হুদা স্বতন্ত্র ১৬
খোন্দকার আবু আশফাক বিএনপি ৭৪১
নুরল ইসলাম ইসলামী আন্দোলন ২৩
মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামী ৮২০
মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা জাতীয় পার্টি
শেখ মো. আলী লেবার পার্টি

 

কেন্দ্র: ৮১ শিকারীপাড়া টি.কে.এম. উচ্চ বিদ্যালয়

প্রার্থী দল প্রাপ্ত ভোট
অন্তরা সেলিমা হুদা স্বতন্ত্র
খোন্দকার আবু আশফাক বিএনপি ১০০৮
নুরল ইসলাম ইসলামী আন্দোলন ১২
মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামী ৮১৪
মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা জাতীয় পার্টি
শেখ মো. আলী লেবার পার্টি

 

কেন্দ্র: ৬১ পদ্মা সরকারী কলেজ, দোহার

প্রার্থী দল প্রাপ্ত ভোট
অন্তরা সেলিমা হুদা স্বতন্ত্র ৮৩
খোন্দকার আবু আশফাক বিএনপি ৭৮৯
নুরল ইসলাম ইসলামী আন্দোলন ৪৫
মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামী ৮৪৬
মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা জাতীয় পার্টি
শেখ মো. আলী লেবার পার্টি

 

কেন্দ্র: ১১১ শোল্লা হাই স্কুল এন্ড কলেজ, নবাবগঞ্জ

প্রার্থী দল প্রাপ্ত ভোট
অন্তরা সেলিমা হুদা স্বতন্ত্র ১২
খোন্দকার আবু আশফাক বিএনপি ১৩৬০
নুরল ইসলাম ইসলামী আন্দোলন ১২
মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামী ৩০০
মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা জাতীয় পার্টি ১১
শেখ মো. আলী লেবার পার্টি

কেন্দ্র: ১১৩ নতুন বান্দুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রার্থী দল প্রাপ্ত ভোট
অন্তরা সেলিমা হুদা স্বতন্ত্র ২৩
খোন্দকার আবু আশফাক বিএনপি ১৫০০
নুরল ইসলাম ইসলামী আন্দোলন ১৩
মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামী ৩৭৭
মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা জাতীয় পার্টি ১৬
শেখ মো. আলী লেবার পার্টি

 

কেন্দ্র: ১৪৪ বর্ধনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রার্থী দল প্রাপ্ত ভোট
অন্তরা সেলিমা হুদা স্বতন্ত্র ১৮
খোন্দকার আবু আশফাক বিএনপি ১১৮৬
নুরল ইসলাম ইসলামী আন্দোলন ২৬
মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামী ৪৬২
মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা জাতীয় পার্টি ১৮
শেখ মো. আলী লেবার পার্টি

 

শতবর্ষী মো. ইসমাইল: দুই ভোটে দেখালেন দায়িত্ব ও সচেতনতার উদাহরণ

0

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা দুটি পৃথক ব্যালট পেপারে ভোট দিচ্ছেন—সাদা ব্যালটে সংসদ সদস্য প্রার্থীদের জন্য এবং গোলাপি ব্যালটে গণভোটের জন্য। সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে—এটাই দেশের ইতিহাসে প্রথম।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাররা নতুন করে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। এর আগে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচন নিয়ে নানা বিতর্ক ছিল। ফলে এবারের নির্বাচন ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে লক্ষ্য করা গেছে বাড়তি উৎসাহ ও প্রত্যাশা।

এই উৎসাহেরই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ১০০ বছর বয়সী মো. ইসমাইল। তিনি ঢাকা–১ আসনের মুকসুদপুর ইউনিয়নের মইতপাড়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় কেন্দ্রে এসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেন এই প্রবীণ ভোটার।

ভোট প্রদান শেষে তিনি বলেন, “আমি এ বয়সে ভোট দিতে পেরে খুবই আনন্দিত। জীবনে এই প্রথম একসঙ্গে দুটি ভোট দিলাম—একটি ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং অন্যটি আমার পছন্দের প্রার্থীকে।”

কেন্দ্রে উপস্থিত অন্যান্য ভোটাররা তার এই আগ্রহ ও সচেতনতার প্রশংসা করেন। অনেকেই বলেন, শতবর্ষী এই ভোটারের অংশগ্রহণ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, বিএনপির খন্দকার আবু আশফাক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী অন্তরা হুদা। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৫ হাজার ১৪০ জন।

পিজাইডিং অফিসার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আমাদের ভোট কেন্দ্রে কোন সমস্যা নেই সবাই শান্তি পূর্ণ ভাবে ভোট দিচ্ছে।

ইনসাফ প্রতিষ্ঠাই ইসলামের রাষ্ট্রচিন্তার কেন্দ্রবিন্দু, যা মানুষের মর্যাদা ও সামাজিক ভারসাম্য নিশ্চিত করে

0

ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান কেবল একজন প্রশাসনিক শাসক নন; তিনি জাতির নৈতিক অভিভাবক এবং আমানতের ধারক। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন যে তোমরা যেন আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও। আর যখন মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়ের সঙ্গে বিচার করবে।’ (সুরা নিসা: ৫৮)

এখানে ‘আমানত’ শব্দটির পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকার—সবই রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আমানত। এই আমানতে সামান্য খিয়ানতও কেবল রাজনৈতিক ব্যর্থতা নয়, বরং একটি গুরুতর নৈতিক ও ধর্মীয় অপরাধ।

ন্যায়ের অবিচল মানদণ্ড

ইসলামি ন্যায়বোধ কোনো সুবিধাবাদী বা একপক্ষীয় ধারণা নয়। ন্যায়বিচার মানে কেবল নিজের অনুকূলে রায় পাওয়া নয়; বরং সত্যের পক্ষে অটল থাকাই হলো প্রকৃত ইনসাফ। কোরআন নির্দেশ দেয়, ‘হে মুমিনগণ, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদানে তোমরা অবিচল থাকবে। কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শক্ৰতা তোমাদের যেন সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে। তোমরা সুবিচার করবে, এটা তাকওয়ার অধিকতর নিকটবর্তী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় তোমরা যা করো, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।’ (সুরা মায়েদা: ৮)

আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জন্য এটি একটি কালজয়ী দিকনির্দেশনা। রাষ্ট্রপ্রধান যদি দলীয় আনুগত্য, রাজনৈতিক স্বার্থ কিংবা সংকীর্ণ বলয়ের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে ন্যায়ের প্রশ্নে আপস করেন, তবে সমাজে বৈষম্যের বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ে এবং রাষ্ট্রের ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুশাসন

রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন ন্যায়পরায়ণতার এক অতুলনীয় আদর্শ। তাঁর শাসনামলে আইন ছিল সবার জন্য সমান। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, ‘আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে আমি তার হাত কেটে দিতাম।’ (সহিহ বুখারি: ৬৭৮৮)। এই বলিষ্ঠ উচ্চারণের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে গেছেন যে ব্যক্তির বংশমর্যাদা, প্রভাব কিংবা রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে আত্মীয়তা ন্যায়বিচারের পথে কোনোভাবেই প্রতিবন্ধক হতে পারে না। এটিই ইসলামের রাজনৈতিক নৈতিকতার মেরুদণ্ড।

খোলাফায়ে রাশেদিন জনমুখী শাসন

ইসলাম ন্যায়পরায়ণ শাসককে কেবল পার্থিব কল্যাণের প্রতীক মনে করে না, বরং তাঁর সফলতাকে পরকালীন মুক্তির সর্বোচ্চ সোপান হিসেবে ঘোষণা করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সাত শ্রেণির মানুষ কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবেন; তাঁদের মধ্যে প্রথমজন হলেন ন্যায়পরায়ণ শাসক।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

ন্যায়বিচারের এই ধারা খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগে পূর্ণতা পেয়েছিল। বিশেষ করে হজরত ওমর (রা.)-এর শাসনকাল বিশ্ব ইতিহাসের এক বিস্ময়। তাঁর সেই কালজয়ী উক্তি—‘ফোরাত নদীর তীরে একটি কুকুরও যদি অনাহারে মারা যায়, তবে আমি আশঙ্কা করি আল্লাহর দরবারে আমাকে এ জন্য জবাবদিহি করতে হবে’—শাসককে জনগণের প্রকৃত সেবকে পরিণত করার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।

আজকের বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বৈষম্য ও অনিশ্চয়তার মূলে রয়েছে ন্যায়বিচারের সংকট। যখন রাষ্ট্রপ্রধান ন্যায়ের বদলে ক্ষমতার স্থায়িত্ব ও পক্ষপাতকে অগ্রাধিকার দেন, তখন রাষ্ট্রের অবক্ষয় অনিবার্য হয়ে ওঠে। ইসলাম এই বৈশ্বিক সংকটের একমাত্র সমাধান হিসেবে ‘ইনসাফ’ বা ‘ন্যায়বিচার’ প্রতিষ্ঠার কথা বলে।

জামায়াত ক্ষমতায় এলে বৈষম্যহীন সরকার গড়া হবে— ডা. শফিকুর রহমান

0

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি : নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে ঢাকার দোহারে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “মানুষ আর কোনো নতুন ফ্যাসিবাদকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সেটি কোনো দলীয় সরকার হবে না—১৮ কোটি মানুষের সরকার হবে।”

সোমবার রাতে দোহার উপজেলার জয়পাড়া পাইলট স্কুল মাঠে ঢাকা–১ আসনের ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলামের পক্ষে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, “মামলাবাজ মুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়তে ঢাকা–১ আসনটি জামায়াতকে উপহার দিন। একবার সুযোগ দিন—মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা হবে ইনশাআল্লাহ ।”

তিনি আরও বলেন, দোহার একটি কৃষিপ্রধান এলাকা। এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে। নজরুল ইসলামকে বিজয়ী করলে দোহার–নবাবগঞ্জের মানুষের সকল সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। “কোনো কালো চিল আর এখানে চাঁদাবাজি বা দস্যুতা করতে পারবে না,”—বলেন তিনি।

জামায়াতের আমির অভিযোগ করেন, মানুষ আজ সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষ সবার জন্য পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নারীদের কোনো ভয় বা শঙ্কা থাকবে না। তিনি বলেন, “ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন নয়—আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে সমাবেশস্থলে পৌঁছান জামায়াত আমির। রাত ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি বক্তব্য শুরু করেন। তার আগমনকে ঘিরে সভাস্থলের আশপাশে বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে।

বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে তরুণদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিয়ে “তারুণ্যের বাংলাদেশ” গড়ে তোলা হবে। কোনো মা-বোনের ইজ্জতহানি হবে না।

দোহার–নবাবগঞ্জের বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিদেশে প্রবাসীরা মারা গেলে যেন লাশ পড়ে না থাকে—সে ব্যবস্থাও রাষ্ট্রই নেবে।”

তিনি সকল ধর্মের মানুষের প্রতি ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে প্রার্থী নজরুল ইসলামের হাত ধরে তাকে জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন এবং আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে দাড়ি-পাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” স্লোগান দিলে উপস্থিত নেতাকর্মীরাও স্লোগানে স্লোগানে সভাস্থল মুখর করে তোলে। প্রায় ১৮ মিনিট বক্তব্য দেন জামায়াত আমির।

সমাবেশে যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আগামীর বাংলাদেশ তরুণদের বাংলাদেশ। দাড়ি-পাল্লার প্রার্থীকে তোমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেলাম—তোমরাই তাকে বিজয়ী করবে।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, নজরুল ইসলাম বিজয়ী হলে দোহার–নবাবগঞ্জের মানুষ একজন মন্ত্রী উপহার পাবে। রাজধানীর পাশের এ অঞ্চল আর অবহেলিত থাকবে না।

সন্ধ্যার আগ থেকেই জয়পাড়া পাইলট স্কুল মাঠে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জড়ো হতে থাকেন। রাত পৌণে ৯টার দিকে জামায়াত আমির সভায় যোগ দিলে উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান। সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নারী, পুরুষ, যুবক ও ছাত্রজনতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এবিএম কামাল হোসাইন। প্রধান বক্তা ছিলেন প্রার্থী নজরুল ইসলাম। সভা পরিচালনা করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির ইব্রাহিম খলিল। আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের ঢাকা জেলা আমির দেলোয়ার হোসেন, খেলাফত মজলিশের ফরহাদ হোসেন, এনসিপির রাসেল মোল্লা প্রমুখ।

ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ এলাকায় ক্যাম্প-প্রচার ও মোবাইল নিষিদ্ধ

0

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গণভোট উপলক্ষ্যে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) 

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই আদেশ জারি করে ইসি।

মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি পাবেন যারা

ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেন্দ্রের ভেতর কেবল তিন শ্রেণির ব্যক্তিরা মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন। ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী দুই জন আনসার সদস্য (অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার/ভিডিপি)।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রের ৪০০ গজ এলাকার মধ্যে সাধারণ ভোটার, প্রার্থী বা অন্য কোনো ব্যক্তি মোবাইল ফোন বহন বা ব্যবহার করতে পারবেন না। এই নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে কোনো প্রার্থী বা সমর্থক নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবেন না। এছাড়া পোস্টার, লিফলেট বা যেকোনো ধরনের প্রচারপত্র ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই সরিয়ে ফেলতে হবে। ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনার জন্য প্রার্থী বা তাদের পক্ষে কোনো যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না।

ইসির সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জানা গেছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্র থেকে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য বা ছবি আদান-প্রদান বন্ধ করতেই এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের মাঠে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করবেন বলে তাদের জন্য এই নিয়ম শিথিল করা হয়েছে।

বিভাগীয় এবং জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে ইসি।

আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানো মামলার রায় আজ

0

চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আজ রায় ঘোষণা করা হবে।

বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে এটি তৃতীয় রায়। গত ১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল-২। এ রায়ের মাধ্যমেই ১৬ আসামির ভাগ্য নির্ধারণ হবে।

এর আগে, ২০ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। ওই দিন প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিখণ্ডন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। আসামিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন, মিরাজুল আলম ও আবুল হাসান। এরও আগে আসামিদের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান।

এ মামলার ১৬ আসামির মধ্যে আটজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।

গত বছরের ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। সে সময় উপস্থিত আট আসামির সাতজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন এসআই শেখ আবজালুল হক। এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানসহ মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

একই বছরের ২ জুলাই প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত। অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা, সাক্ষী ৬২, দালিলিক প্রমাণাদি ১৬৮ পৃষ্ঠা ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করে প্রসিকিউশন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয় তরুণ। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের মরদেহ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পেট্রোল ঢেলে তাকেও পুড়িয়ে মারা হয়।

এছাড়া, সেখানে এর আগের দিন একজন শহীদ হয়েছিলেন। এ ঘটনায় একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়।