বান্দরবান ভ্রমণ – এক যুগের এপাড় ওপাড় (সূচনা পর্ব)

প্রকাশ:

শেয়ার করুন:

প্রথমবার বান্দরবান যাবার আগে মনে কোনো উত্তোজনা কাজ করছিল কিনা মনে নেই। যদিও প্রথম পহাড় দেখা নয় তবু দেশের ভেতরে প্রথম, এর আগে যা দেখেছি শ্রীমঙ্গলের টিলা! তবে এটা মনে আছে গিয়ে কোথায় কোথায় ঘুরব, কী দেখব এসব নিয়ে কোনো পরিকল্পনা বা প্রত্যাশা ছিল না। তার তেমন সুযোগও ছিল না। কারণ এটি ডিজাইন করা একটা সফর।

বান্দরবান থেকে ফিরে ভ্রমণের নাম দিয়েছিলাম “আলকাৎরার ভ্রমণ”! এক যুগ পরে যখন পরিবার সমেত ঘুরে এলাম তখনও আলকাৎরা। অথচ দ্বিতীয় ভ্রমণ নিয়ে অনেক আশা ছিল, প্রথমটি নিয়ে ছিল না। বান্দরবানের অপরুপ সৌন্দর্য মনে হয় আমার ভাগ্য সইতে পারে না। তবে দুই সফরের তুলনা করলে প্রথমটিকে এখন আর অতটা আলকাৎরা মনে হয় না। অল্প সময়ে তখন বেশ ঘোরা হয়েছিল, শুধু যাওয়া, আসা, থাকার ব্যাপারটি বেদনা দিয়েছিল।

এই সফরেরও অনেক আগে আমি খুব হতাশ হয়েছিলাম যখন জানলাম জেলাটির নাম “বান্দরবন” নয়, “বান্দরবান”। সুন্দরবনের সাথে মিলে একটা দ্যোতনা ছিল, সুন্দরী গাছের বন সুন্দরবন, বান্দরের বন বান্দরবন; সেখানে হয়ত অনেক বান্দর আছে তাই এই নাম। বান্দরের সাথে সম্পর্ক আছে বটে তবে বনের সাথে না, বান বা বাঁধের সাথে।

একটা গল্প প্রচলিত আছে: একসময় নাকি এই এলাকায় প্রচুর বানর ছিল। আর এই বানরগুলো শহরের ঠিক বাইরে একটা পাহাড়ি ছড়ার ধারে এসে লবণ খেতো। সেখানে লবন পেত কীভাবে, নাকি মিনারেল লবন তা গল্পে বলা নেই। কোনো এক সময় টানা বৃষ্টির কারণে ছড়ার পানি অনেক বেড়ে গেল। বানরগুলো ছড়া পেরিয়ে পাহাড়ে যেতে পারছিল না। তখন তারা একে অপরের হাত ধরে সারিবদ্ধভাবে ছড়াটা পার হলো। দেখতে মনে হচ্ছিল বানরে-বানের একটা বাঁধ তৈরি হয়েছে। এই অভাবনীয় দৃশ্যটা এখানকার মানুষ দেখেছিল। সেই থেকে জায়গাটা পরিচিতি পেল ‘ম্যাঅকছি ছড়া’ নামে। মারমা ভাষায় ‘ম্যাঅক’ মানে বানর আর ‘ছি’ মানে বাঁধ।

সময় গড়ানোর সাথে সাথে বাংলাভাষীরা বাংলায় অনুবাদ করে ফেলল ‘বান্দরবান’। তবে, মারমা ভাষায় বান্দরবানের নাম হলো ‘রদ ক্যওচি ম্রো’। আর ম্যাঅকছি ছড়া-টি এখনও আছে, নাম “ম্যাক্সি ছড়া”। এই ইতিহাস না জানলে লোকজন হয়ত ম্যাক্সি ছড়ার সাথে নারীদের পোশাক ম্যাক্সির সাথে সম্পর্ক খুঁজত। এজন্যই অতীতকে দেখতে হয় অতীতের আয়নায়, বর্তমানের আয়না দিয়ে দেখলে ভুল হয়।

এই এক যুগে বান্দরবান অনেক পাল্টেছে। দুই দেখার একটা তুলনামূলক ছবি আঁকতে চাই এই লেখায়। প্রথমবার ২০১৩ সালে গিয়েছিলাম পিআইবি’র ব্যবস্থায়। পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন জর্নালিজম এর ছাত্রদের ট্যুরে নিয়ে যাবার নিয়ম ছিল, এখনও আছে কিনা জানি না। পিআইবির বাজেটের সাথে ছাত্রদেরও কিছু যোগ করতে হত। আর দ্বিতীয়বার ২০২৬ সালের শুরুতে গিয়েছিলাম আমার কর্মস্থল বিডিজবসের বার্ষিক পিকনিকে।

আলকাৎরার ভ্রমণ

শরতের শুরুতে এক সন্ধ্যায় একটা ব্যাকপ্যাক নিয়ে হাজির হলাম সার্কুলার রোডে পিআইবির উঠানে। সহপাঠী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা মিলিয়ে আমাদের চল্লিশ জনের মত কাফেলা। পরে আবিষ্কার করেছি এর মধ্যে বাইরের কয়েকজন আছে, তারা ভিডিও কন্টেন্ট তৈরির জন্য যাচ্ছে। তারা কীভাবে ঢুকলে অনেকে বুঝে উঠতে পারি নি!

আমি হতাশ হয়েছিলাম বাস দেখে। ঢাকা থেকে স্বল্প দূরত্বে বা পাশের শহরগুলোতে যেসব বাস লোকাল সার্ভিস দেয় তেমন একটা বাস। সিট ফিক্সড, সোয়া তিনশত কিলোমিটারের রাতযাত্রায় ফিক্সিড সিটে যাওয়া কষ্টদায়ক। তার উপর সামনে যায়গা না থাকায় পা মেলা যায় না। লোকাল বাসে পা গুটিয়ে পাঁচ-দশ কিলোমিটার যাওয়া যায়। কিন্তু এই দীর্ঘযাত্রায় আমাদের কষ্ট দিয়ে টাকা বাচানো হল, তার উপর চালকরা কখনও পাহাড়ি রাস্তায় বাস চালায় নি!

বাসে আমার পাশের সিটে রক রোনাল্ড রোজারিও, পিআইবি’র ছাত্রজীবনে আমার সবচে’ ঘনিষ্ট সহপাঠী। নিরানন্দ ভ্রমণে গল্প করে সময় কাটানো গেল। আমি দূরযাত্রায় নন-এসি বাস পছন্দ করি, এসি বাসের ভেতরের গুমট ভারী বাতাসে কষ্ট হয়। এটা নন-এসি বাসই, তবে ঘুম ভাল হয় নি। কারণ এসি ছাড়া বাসেরও একটা বাজে দিক আছে- রাস্তার হর্ন তীব্র শব্দে কানে লাগে, আর ঘুম ভেঙে যায়। আর সামনের দিকে বসলে অপর দিক থেকে আসা বাসের হেডলাইটের আলো এসে লাগে চোখে! তার উপর পা মেলার কষ্ট, সব মিলিয়ে আধো ঘুমে রাত পার। সকাল হতে হতে আমরা চট্টগ্রাম পেরিয়ে গিয়েছি। বান্দরবান শহরের আগে পাহাড়ি পথে বাসটিকে সংগ্রাম করতে হচ্ছিল। রাস্তার দুই পাশে গাছের সারি ও প্রকৃতি বান্দরবানের সৌন্দর্যের নমুনা দেখাচ্ছিল। আমি প্রথম পাহাড় দেখেছি দার্জিলিঙের পথে, শিলিগুড়ি পেরিয়ে, সমতল থেকে হুট করে পাহাড় ঢালু হয়ে উঠে গিয়েছে।

বান্দরবান শহর
বান্দরবান শহর ২০১৩

আমরা সকাল পৌনে দশটায় বান্দরবান শহরের বাস স্ট্যান্ডে নামলাম। বান্দরবান শহরেকে সেই প্রথমবার দেখা। নীল আকাশ আর সাদা মেঘের নিচে ঝকঝকে রোদে আলোকিকত, বৃষ্টিস্নাত ধুলোহীন শহর, তখনও প্রাকৃতিক, রাস্তার পাশে গাছগাছালি, গ্রামের মত টিনের ঘর। মূল সড়ক থেকে ডানে চিম্বুক রোডের একটু ভেতরের দিকে হোটেল গ্রিনল্যান্ডে আমাদের আপাত আশ্রয় হল। টিলামত পাহাড়ের ঢাল কেটে রাস্তা করা হয়েছে বোঝা যায়, আর সেই ঢালে পাহাড়ের বিপরীতে রাস্তার লাগোয়া হোটেলটি। আর পাহাড়- সবুজে ঢাকা।

বিশ্রাম নেবার সুযোগ নেই, যেহেতু রুম পাই নি। তবে তল্পিতল্পা রাখার সুযোগ আছে। সেখানে ব্যাগ রেখে ফ্রেস হয়ে বের হলাম সময়কে কাজে লাগাতে। সফরসঙ্গী কয়েকজন আগে বান্দরবানে এসেছে অথবা আসে নি কিন্তু বান্দরবানের ঠিকুজিঁ কিছু জানে। তারাই ঠিক করল আমরা নীলাচল যাব, জাহাঙ্গীর, জয়ন্ত, রক আরও কয়েকজন। দুটো সিএনজিতে করে রওনা দিলাম, পাহাড় সারির মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া আঁকাবাকা পথে।

নীলাচলের পথে
নীলাচলের পথে

এক যুগ পরে

সেদিনের এক যুগ তিন মাস পর আমি পরিবার নিয়ে হাজির হয়েছি কমলাপুর রেল স্টেশনে। টার্মিনালের পাকা টুলে বসে আছে স্ত্রী ও মেয়েরা। ট্রেনের লাইট তখনও জ্বালানো হয় নি, রাত এগারোটা পনেরতে ছাড়ার শিডিওল, তখনও বেশ বাকি। তখনই দেখা হয়ে গেল আমার তিন কলিগের সাথে। আমাদের এ বছরের অফিসিয়াল পিকনিক বান্দরবানে। অফিসিয়াল ডিনারের পর অন্য কোথাও চলে যাবার সুযোগ আছে। তবে পরিবারকে আরাম করে বান্দরবান দেখাব বলে অন্য কোথাও যাবার পরিকল্পনা করি নি। আমার ঘনিষ্ট কলিগরা সবাই যাচ্ছে বাসে। শুধু আমিই যাচ্ছি ট্রেনে। ট্রেন থেকে বাস স্ট্যান্ড, তারপর বাস ধরা, এসবের একটু হুজ্জত হবে। তাই কলিগরা সব বাসে যাচ্ছে, আমাকেও নিরুৎসাহিত করেছিল। আমি যথাসম্ভব বাস এড়াতে চাই, মেয়েরা বমি করে। একঘেয়েমি কাটাতে হাটাহাটি করা যায়, জরুরী প্রয়োজনে ফ্রেশরুমের ব্যবস্থা আছে। এসব মিলিয়ে ট্রেনের বিকল্প এড়িয়ে গিয়েছি।

পরিবার নিয়ে একা যাবার মানসিক প্রস্ততি ছিল। কলিগদের সাথে দেখা হয়ে যাওয়াতে ভাল লাগল। কাকতালীয়ভাবে আমরা একই কোচে। ট্রেনে সমস্যা হবে না, তারপরও সাথে পরিচিত মুখ আছে বলে স্বস্তি পেলাম। ট্রেনে উঠার একটু পর দেখি তপন ডাক দিল, আরেক কলিগ, যাচ্ছে বৌ নিয়ে, সেও একই কোচে! ট্রেনের টিকিট কাটার সময় দ্বিধা করছিলাম কোন কোচে টিকিট কাটব! সবই খালি, সিট কম খালি থাকলে মানুষ এসব চিন্তা করে না। কিন্তু যখন সিট অনেক খালি থাকে তখন সমস্যায় পড়ে যায় কোনটা রেখে কোনটায় বসবে। ভাগ্যিস এই কোচটাই বাছাই করেছিলাম নইলে এদের সাথে দেখা হত না।

মাত্র আঠারো মিনিট দেরীতে ট্রেন ছাড়ল! এই ট্রেইন আধা ঘন্টা থেক দেড় ঘন্টা পর্যন্ত দেরিতে ছাড়ে। ভাগ্য ভালই।

বিমানবন্দর স্টেশনে এসে হুড়মুড় করে শত শত লোক উঠল ট্রেনে। যাদের টিকিট ছিল তাদের সিটগুলো ভরে গেল। আর অনেকে দাড়িয়েই যাবে। ভৈরব ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যাত্রীরা এভাবে চলাচল করে অভ্যস্ত। আমি যতবার এই পথে যাতায়াত করেছি ততবারই দেখেছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পেরিয়ে গেলে দাড়ানো যাত্রী তেমন থাকে না।

শীতের রাত, তাই কেও জানালা খুলে নি। তাই অতিরিক্ত যাত্রী হওয়ায় পরিবেশ গুমোট হয়ে গিয়েছে, দাড়ানো যাত্রীদেরই কারো কারো সাফোকেশন হচ্ছে। দাড়ানো যাত্রীদের বেশিরভাগ নারী। যেসব আসনে নারী যাত্রী ছিল তারা সেসব আসন ঘেষে দাড়ালেন, কাউকে কাউকে নিরুপায় হয়ে পুরষ যাত্রীদের পাশে দাড়াতে হল।

আমি তিন সিট নিয়েছি, কারণ দীর্ঘ যাত্রায় দুইজনে দুটো বাচ্চা কোলে নিয়ে যাওয়া যায় না। বড় মেয়েকে বসিয়েছিলাম আইলের ধারে। ওকে ঘিরে তিনজন মহিলা যাত্রী দাড়াল। একজন বসল হ্যান্ডেলে, একজন ভেতরে ঢুকে গেল, আরেকজন গা লাগিয়ে দাড়িয়ে রইল। একটা ঘেরাটোপের মধ্যে পড়ে গেলে স্ত্রী আর বাচ্চারা।

টিকিট চেকার এল। হ্যান্ডেলে বসা নারী দুটো টিকিট বের করে দেখাল। টিকিট দুটো চট্টগ্রাম মেইল ট্রেইনের। চেকার বলল এটা তো এই ট্রেনের টিকিট না, এই ট্রেইনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার টিকিটের দাম আরও বেশি। তিনি বললেন, “ভুল করে উঠে গেছি, ট্রেইন চিনতে পারি নাই।” টিকিট চেকারের দরাজ দিল, ছেড়ে দিল, বলল- আর কখনও এমন করবেন না।

মেয়ের সিটের সামনে ঢুকে যাওয়া নারীটি সম্ভবত অসুস্থ ছিল। প্রথমে সিটে বসার অনুমতি চেয়েছিল, সেটা আমি দেই নি। কিছুক্ষণ পর সে বসে যায়, আমরা আর কিছু বলি নি। তার কারণে মেয়েকে বেকায়দাভাবে শুতে হয়েছিল। তিনি ভৈরবে নেমে গেলে হ্যান্ডলযাত্রী বসার চেষ্টা করেছিল। তবে তারও স্টেশন দূরে না। এর পর থেকে ট্রেইনে উঠলে ডাইরেক্ট ট্রেইন বা এসি কোচে যাবার চেষ্টা করব।

ফজরের সালাতেরও আগে আমরা পৌঁছে গেলাম চট্টগ্রাম স্টেশনে। স্টেশনে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়েই সিএনজি নিলাম নতুন ব্রিজের উদ্দেশ্যে। রাস্তাটা কর্ণফুলির তীর ধরে। তীব্র কুয়াশায় ঢাকা ভোর। কুয়াশায় প্রায় সাদা হয়ে যাওয়া নদীর উপর ভুতুড়ে অবয়ব নিয়ে ভেসে আছে জাহাজেরা। আর সামনে পথেও বেশি দূর দেখা যাচ্ছে না। পথ আর কর্ণফুলি মিলিয়ে মনে হচ্ছিল সাদা-ধূসর ক্যানভাসের ভেতর দিয়ে চলেছি। এই সফরে এটা একটা বাড়তি পাওনা।

এই ধূসর সৌন্দর্যের একটা “অন্ধকার” দিক আছে। তীব্র কুয়াশামাখা বাতাস বাচ্চাদের অসুস্থ করে দেবার মত যথেষ্ট। তাই বাচ্চাদের চাদর দিয়ে ঢেকে দিলাম, নিজেরাও ঢুকলাম যেন বাতাস না লাগে। নীল চাদর; এই চাদরটা বান্দরবানের বার্মিজ মার্কেট থেকে আগের সফরে কিনেছিলাম।

আগেই ঠিক করে রেখেছিলাম পূরবী বাসে বান্দরবান যাব, এটাই নাকি ভাল বাস, রাফ চালায় না। কিন্তু পূরবীর কাউন্টারের লোক আমাদের তুলে দিল পূর্বানী বাসে। সেটা কিছুক্ষণ পরে বুঝতে পেরেছি। তবে ড্রাইভার ভাল চালিয়েছিলেন। বান্দরবান শহরের আগে পাহাড়ে উঠতে উঠতে কুয়াশা কেটে গেল। আর্মির চেকপোস্টের আগে বাস ভরে গেল আরামদায়ক রোদে। কিন্তু শহরে ঢুকতে ঢুকতে আবার সূর্য ঢাকা পড়ে গেল। শহরের আগে বেশ খানিকটা রাস্তার দুই পাশে দেয়াল উঠানো হয়েছে, আগেরবার ছিল না। সম্ভবত নিরাপত্তার জন্য। তখন ঠায় দাড়ানো গাছেরা নিরাপত্তার কাজ করত।

এই এলাকার পাহাড়গুলো সবুজে ঢাকা, পাথুরে পাহাড়ের মত উষর না। সেই বনছায়া পাহাড়ে কত রকমে গাছ, কতক তার ফলের, কতকে শুধু কাঠ হয়, মাঝে মাঝে বাশ আর কলা গাছ। আমি যতবারই পাহাড়ি এলাকায় গিয়েছি ততবারই সেগুলোর দিকে চেয়ে চেয়ে ভেবেছি যদি আশৈসব ওইসব পাহাড়ি বনে ঘুরে বেড়াতে পারতাম।

রাস্তার পাশে কাটা পাহাড়ের চুড়ায় বা গায়ে পুঁই গোটার মত ছোট ছোট ঘড় বাড়ি গেথে আছে। সেখানে কষ্ট আছে, সমস্যা আছে। তবু যদি একবার ওখানকার জীবনযাপন অনুভব করা যেত, রিসোর্ট থেকে সেটা সম্ভব না।

আগেরবার আমাদের বাস থেকে মূল সড়কেই নামিয়ে দিয়েছিল। একটা পেট্রোল পাম্প ছিল, সেখানেই বাস পার্ক করা ছিল, আলাদা করে বাস স্ট্যান্ড চোখে পড়ে নি। এবার শহরে ঢুকার আগেই উচু নিচু ঢাল পেরিয়ে এগুচ্ছি তখনই দেখতে পাচ্ছিলাম ধুলোর আভাস। বাস স্ট্যান্ড যেন বালি আর ইটের মরুভূমি। মূল সড়কটি আগের চেয়ে অন্তত দ্বিগুন প্রশস্ত হয়েছে। গাছপালা কম। বোঝা গেল বান্দরবানে বাণিজ্যের বসতি হয়েছে। এই বাংলায় বাণিজ্য আর প্রকৃতি একসাথে থাকার নিয়ম নেই।

আমাদের হোটেল আগেই ঠিক করা ছিল। বাস থেকে নেমেই একটা অটোরিক্সায় উঠলাম। আমাদের এবারের হোটেলটাও সেই আগের চিম্বুক রোডে, আগের বারের হোটেল থেকে একটু আগে, পোস্ট অফিসের মুখোমুখি। মূল সড়ক থেকে আধা কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে। এক সময় যেখানে এসেছিলাম ব্যাচেলর, আজ পরিবার নিয়ে।

– পারভেজ রবিন
theuglyasian.wordpress.com

দ্বিতীয় পর্ব

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ সংবাদ

এই রকম আরও

বান্দরবান ভ্রমণ – নীলাচল ও মেঘলায় (দ্বিতীয় পর্ব)

সবুজে নীলে আঁচলে বান্দরবান শহর ছাড়িয়ে নীলাচলের পথে উঠতে শুরু করলেই মনে হয়, আপনি আর স্রেফ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন...

বাংলাদেশের সব ঝর্ণার তালিকা ও অবস্থান | প্রকৃতি ভ্রমণ

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে ঝর্ণাগুলো এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা ঝর্ণার জলরাশি...

আড়িয়াল বিল শুধু বর্ষায় নয়; শুষ্ক মৌসুমেও মন কাড়ে

ধারণা করা হয়, অতি প্রাচীন কালে এ স্থানে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গমস্থল ছিল। পরবর্তিতে উভয় নদীর প্রবাহ পরিবর্তনের...

ঘুরে আসলাম কিশোরগঞ্জের শহীদি মসজিদ

আমি যখনই কিশোরগঞ্জ শহরে কোন কাজে আসি তখনই প্রথম মনে হয় শহীদি মসজিদের কথা। যতবার এখানে এসেছি এই...