দোহারে নৌকায় পার্টির নামে অশ্লীলতা: মাদকসহ গ্রেফতার ২০, মামলা রুজু

গতকাল শনিবার দোহার উপজেলার মৈনটঘাটে নৌকায় পিকনিকের নামে মাদক সেবন করে অশ্লীলতা, কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি ও সাধারণ পর্যটকদের উত্যক্ত করার সময় দোহার থানার চর মাহমুদপুর পুলিশ ফাড়ি ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে। এসময় তাদের কাছে থাকা মদের বিভিন্ন খালি বোতল, ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জামাদি ইত্যাদি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এদের অধিকাংশই কিশোর বা বিশ বছর এর নিচে। এছাড়াও, বিভিন্ন অপরাধ কাজে জড়িত থাকার অপরাধে ৫ জনকে শিশু আইন-২০১৩ মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিনোদনের নামে মাদকসেবন করে এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ আচরণ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খুবই ভয়ংকর।

এবিষয়ে দোহার সার্কেলের এ এসপি আশরাফুল আলম বলেন, অভিভাবকদের নিকট অনুরোধ, আপনাদের সন্তান কোথায় যায়, কি করে, কাদের সাথে মিশে খোঁজ নিন, বন্ধু হয়ে ভালোমন্দ বিষয়গুলি বুঝান, প্রয়োজনে শাসন করুন। নৌকার মালিকদের নিকট অনুরোধ, আপনার নৌকাটি ভাড়া দেয়ার আগে কাদের ভাড়া দিচ্ছেন, তাদের বয়স, পেশা উদ্দেশ্য দেখে নিন, কোন ঝুকি আছে কিনা যাচাই করুন অন্যথা আপনার নৌকা জব্দ করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, তাদেরকে আজকে মাদক দ্রব্য নিয়ন্তন আইনে নিয়মিত মামলা করে কোটে পাঠানো হয়েছে।

আরব আমিরাতে স্মার্টকার্ড পাচ্ছেন প্রবাসীরা

পুরোদমে চালু হয়েছে প্রবাসীদের নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের আবেদন প্রক্রিয়া। সংযুক্ত আরব আমিরাতে থেকেই নিজের ভোটার আইডি কার্ড পাবার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে প্রবাসীদের।

দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫০০ প্রবাসী স্মার্টকার্ডের জন্য আবেদন করেছেন। কনস্যুলেটে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত স্মার্টকার্ড সংক্রান্ত নিরবিচ্ছিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারছেন প্রবাসীরা।

এদিকে, যারা অনলাইনে আবেদন করেছেন তারা আবেদন শেষে বাংলাদেশ কনস্যুলেট এসে দিতে হচ্ছে বায়োমেট্রিকের মাধ্যমে ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও চোখের আইরিস স্ক্যান। শুধু নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র নয়, যে সকল প্রবাসীর পেপার লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে তারাও চাইলে স্মার্ট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই সুযোগও রেখেছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

কনস্যুলেট সুত্র জানা যায়, আগামী ১৩ জুলাই দুবাইয়ে ইস্যুকৃত প্রায় একশ প্রবাসীর স্মার্টকার্ড প্রদান করা হবে। সেদিন নির্বাচন কমিশনের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এদিকে প্রতিদিন বাড়ছে আবেদনের সংখ্যা। এই সেবা পেয়ে প্রবাসীরাও সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছে কনস্যুলেট কর্মকর্তাগণ।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন স্মার্ট কার্ডের পরীক্ষামূলক কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাই কনস্যুলেট। এরপর চলতি মাসের শুরু থেকে প্রশিক্ষিত লোকবল দিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করে এই দুই মিশন।

 

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ সমাধিতে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রলীগের শ্রদ্ধা নিবেদন

আজ ৬-০৭-২৩ বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ সমাধিতে শ্রদ্ধা জানায় ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রলীগ।

শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে নির্মল রঞ্জন গুহর  পরিবারের সাথে কুশল বিনিময় করেন ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন সোহাগ। পরে তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে  নির্মল রঞ্জন গুহ  প্রতি একমিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন সোহাগ।  কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক উপ- আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক  অনুপম গুহ নয়ন। ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রলীগের  সহ-সভাপতি: মিথুন হোসেন জয়, ইমরান খান, মনির হোসেন,যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহতাব নির্ঝর সহ আরো অনেকে।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুসুমহাটি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাগর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স মন্ডল। মাহমুদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ওমর ফারুক। নয়াবাড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিক। আরো উপস্থিত ছিলেন  তার বর্তমান বসতবাড়ি  বাস্তা এলাকার রিয়াজুল, মুন্না কাজী, তুহিন মাহমুদ ও বিধান।

দোহার উপজেলায় ওলামা পরিষদ ও চরমোনাইয়ের প্রতিবাদ মিছিল

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে তুর্কি দূতাবাসের সামনে কোরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে ঢাকার দোহার উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে থানা উলামা পরিষদ ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ।

শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ শেষে জয়পাড়া বাজার মসজিদ থেকে দুটি খন্ড বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে মিছিল দুটি শেষ হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা জানান, তারা শুধু পবিত্র কোরআন পোড়াননি বরং সমস্ত মুসলিমের হৃদয় পুড়িয়েছে। তারা এর কোনো ছাড় দিবেন না বলেও জানান।

বক্তারা আরও জানান, সারাবিশ্বের মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় প্রতীক ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন অবমাননাকারীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এসময় উপস্থিত দোহার সার্কেল উপজেলার এএসপি আশরাফুল আলম বলেন, দোহার ও নবাবগঞ্জ এর মানুষ অত্যান্ত ভাল। আপনারা মিছিল করবেন কিন্তু বিশৃঙ্খলা বা নাশকতা সৃষ্টি করলে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দোহার থানা শাখা এবং দোহার থানা উলামা পরিষদের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন।

বিশৃঙ্খলা এড়াতে দোহার থানা পুলিশ সতর্ক অবস্থায় ছিলো।

দোহারে স্কুলের জমি দখলের চেষ্টা

ঢাকার দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের বাস্তা এলাকায় “বাস্তা তুজমল খান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের” নাম ভাঙিয়ে ২৭ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে ঐ এলাকার আনোয়ার হোসেন খান মাষ্টার গংদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় দোহার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বাস্তা গ্রামের মৃত জহুর উদ্দিন শিকদার এর ছেলে হারুন অর রশিদ শিকদার।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের বাস্তা এলাকার মৃত জহুর উদ্দিন শিকদার গং ঐ জমিটি স্কুল স্থাপন করতে দায়িত্ব দেন মাস্টার আনোয়ার হোসেন খানকে। যাহার তফসিল বড় বাস্তা মৌজার এস. এ ৪৯৩ আর.এস ১৯৩৬/ ১০৫০ নং দাগে ২৭ শতাংশ জমি। আনোয়ার মাস্টার তার মৃত পিতা তুজমল খান এর নামে ‘বাস্তা তুজমল খান প্রাথমিক বিদ্যালয়’ স্থাপন করেন। ৩/৪ বছর সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা নিয়ে স্কুলটি পরিচালনা করে হঠাৎ স্কুল পরিচালনা করা সম্ভব না বলে যায়গাটি তিন ভাগ করে তিন ভাই জোর করে দখল করে ঘর নির্মাণ করার চেষ্টা করে।

অভিযোগের ভিত্তিতে বাড়ি-ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয় দোহার থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন খান, আফছার খান ও ইউনুস খান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জোর পূর্বক জমি দখলের ঘটনাটি অস্বীকার করে বলেন, তারা তাদের কাগজ পত্রের ভিত্তিতে ঘর তৈরি করেছে। স্কুলের কথা জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন খান মাষ্টার বলেন স্কুল ছিলো এখন নেই, এখানে স্কুল পরিচালনা করা সম্ভব না।

দোহার থানাধীন চর মাহমুদপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. ইদ্রিস আলী জানান, স্কুলের সাইনবোর্ড সহ স্কুল পরিচালনার প্রমাণ পেয়েছি, জমি দখলের ঘটনার একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অ্যান্ড্রু কিশোর না থাকার ৩ বছর আজ

 

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক সম্রাট হিসেবে খ্যাত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী অ্যান্ড্রু কিশোর চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সুরের জাদুতে মাতিয়ে রেখেছিলেন সংগীতপ্রেমীদের। ২০২০ সালের ৬ জুলাই কোটি কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান দেশের সঙ্গীত জগতের উজ্জ্বল এ নক্ষত্র। আজ তার ৩য় মৃত্যু বার্ষিকী।

১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্ম অ্যান্ড্রু কিশোরের। বাংলা গানের কিংবদন্তি এ সঙ্গীতশিল্পী ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ নামেও পরিচিত। বাংলা চলচ্চিত্রের গানে তাকে বলা যেতে পারে এক মহাসমুদ্র। যেখানে তিনি সাঁতার কেটেছেন কয়েক দশক। ছয় বছর বয়স থেকে সঙ্গীতের তালিম নিতে শুরু করেন অ্যান্ড্রু। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, আধুনিক, লোক ও দেশাত্মবোধকসহ প্রায় সব ধারার গানে রাজশাহী বেতারে তালিকাভূক্ত হন তিনি। প্লেব্যাকে তার যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৭ সালে আলম খান সুরে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের ‘অচিনপুরের রাজকুমারী’ গানের মাধ্যমে।

তার রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় গান ছিল বাদল রহমানের ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ চলচ্চিত্রে। তবে এ জে মিন্টু পরিচালিত ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রতীজ্ঞা চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গানটি বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। সুখ-দুঃখ, হাসি-আনন্দ, প্রেম-বিরহ সব অনুভূতির গানই তার কণ্ঠে পেয়েছে এক অনন্য মাত্রা। তার শত শত গান এখনও শোনা যায় মানুষের মুখে মুখে। এর মধ্যে, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘কারে দেখাবো মনের দুঃখ’, ‘, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর’, ‘তুমি আমার জীবন’-সহ অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান আজও তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

সংগীত ক্যারিয়ারে শ্রেষ্ঠ গায়ক বিভাগে আটটি ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ জিতেছেন প্রয়াত এ গায়ক। এছাড়া দুটি ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার’ ও তিনটি ‘বাচসাস’ পুরস্কারসহ অ্যান্ড্রুর ঝুঁলিতে আছে অসংখ্য সম্মাননা।

শারীরিক অসুস্থতার জন্য ২০১৯ সালে এন্ড্রু কিশোরকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানেই ধরা পড়ে ক্যান্সার। কয়েকমাস পর চিকিৎসকরা হাল ছেড়ে দিলে ২০২০ সালে রাজশাহীতে নেয়া হয় তাকে। সে বছরই ৬ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন অ্যান্ড্রু কিশোর। আজ তিন বছর হয়ে গেল তিনি আর নেই। তবে ১৫ হাজারেরও বেশি গান গেয়ে আগের মতোই শ্রোতাদের মণিকোঠায় জীবন্ত হয়ে আছেন, থাকবেন চিরকাল।

 

অবৈধ মজুত রুখতে নতুন আইন পাস, না মানলে যাবজ্জীবন

অবৈধ মজুতদারির সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রেখে পাশ হয়েছে নতুন আইন। বুধবার (৫ জুন) খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) বিল ২০২৩ এর অনুমোদন দেয় জাতীয় সংসদ। ‘কাল্পনিক নামে’ খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করলে দুই বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন এই আইন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে কমবে জনদুর্ভোগ।

খাদ্য নিয়ে কারসাজি, মজুতসহ নানা অপরাধ দমনে বুধবারের সংসদ অধিবেশনে নতুন আইন অনুমোদনের প্রস্তাব দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন মজুমদার।

১৯৫৬ সালের ফুড অ্যাক্ট এবং ১৯৭৯ সালের ফুডগ্রেইনস সাপ্লাই অর্ডিন্যান্সকে প্রতিস্থাপন করবে নতুন এই আইন। আইনে আছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি প্রমাণ করতে পারেন যে, লাভের উদ্দেশ্য ছাড়া খাদ্য মজুদ করেছিলেন, তাহলেও তিনি অনূর্ধ্ব তিন মাস কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ বিষয়ে বিষদ আলোচনা করেন সংসদ সদস্যরা।

সংশোধনী নিয়ে সংসদ সদস্যদের মতামত জানতে চান জাতীয় সংসদের স্পিকার। আইনটির পক্ষে ভোট দেন অধিকাংশ সংসদ সদস্য।

বুধবারের সংসদ অধিবেশনে এর আগে সরকারি বেসরকারি অংশিদারিত্ব সংশোধন বিল ২০২৩ ও এজেন্সি টু ইনোভেট (এ টু আই) বিল ২০২৩ এর অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব পঠিত বলে গণ্য হয়।

 

 

ফেসবুকে পোস্ট দিলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

 

সম্প্রতি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এই প্রণোদনার টাকা বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা পাবেন কি না তা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন দেশের বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা। কেউ কেউ সরকার ও বিভিন্ন দপ্তর প্রধানকে কটাক্ষ করে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। বিষয়টি শিক্ষা প্রশাসনের নজরে আসার পর এবার কঠোর সর্তকবার্তা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। কোনো শিক্ষক এ ধরনের স্ট্যাটাস দিলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে মাউশি।

বুধবার (৫ জুলাই) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ  সই করা চিঠিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

এছাড়া চিঠিতে যেসব নির্দেশনা মানতে বলা হয়েছে-

১. সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

২. জাতীয় ঐক্য ও চেতনার পরিপন্থি কোনো রকম তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

৩. কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন বা ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি পরিপন্থি কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা যাবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে এরূপ কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

৪. জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সার্ভিস/পেশাকে হেয় প্রতিপন্ন করে এমন কোনো পোস্ট দেওয়া হতে বিরত থাকতে হবে।

৫. লিঙ্গ বৈষম্য বা এ সংক্রান্ত বিতর্কমূলক কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা যাবে না।

৬. জনমনে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো বিষয় লেখা, অডিও বা ভিডিও ইত্যাদি প্রকাশ বা শেয়ার করা যাবে না।

৭. ভিত্তিহীন, অসত্য ও অশ্লীল তথ্য প্রচার হতে বিরত থাকতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ‌‘কন্টেন্ট’ ও ‘ফ্রেন্ড’ সিলেকশনে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন এবং অপ্রয়োজনীয় ট্যাগ, রেফারেন্স বা শেয়ার করা পরিহার করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার বা নিজ
অ্যাকাউন্টের ক্ষতিকারক কন্টেন্টের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন এবং সেজন্য প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি/বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত যেসব শিক্ষক-কর্মচারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তথা ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ খুলেছে, সেসব গ্রুপের সব গ্রুপ অ্যাডমিনকে গ্রুপে কন্টেন্ট/পোস্ট অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকারি আইন/বিধি প্রতিপালনের নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

অন্য কোনো রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য সম্বলিত কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

এ নির্দেশনাটি মাধ্যমিক পর্যায়ে সরকারি/বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিয়মিত মনিটরিং করবেন। মাধ্যমিক পর্যায়ে সরকারি/বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী বা কোনো ব্যক্তি কারো কন্টেন্ট/পোস্ট-এ সংক্ষুব্ধ হলে সেই কন্টেন্ট/পোস্ট আপলোডকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রমাণসহ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর আবেদন করবেন।

এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীন অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সব স্তরের পরিপন্থি।

 

 

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিমান হামলা

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। উপত্যকা থেকে রকেট ছোড়ার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল আজ বুধবার এই বিমান হামলা চালায়।

দখলকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন থেকে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে। এর আগে এলাকাটিতে দুই দিন বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায় ইসরায়েল।

গত সোমবার দিনের শুরুতে জেনিনে অভিযান শুরু করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী। জেনিন শরণার্থীশিবিরে অভিযানকালে ১২ ফিলিস্তিনি ও এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি অভিযানের মুখে হাজারো ফিলিস্তিনি জেনিন শরণার্থীশিবির ছেড়েছেন।

আজ ভোরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে রকেট ছোড়া হয়। তারা এমন পাঁচটি রকেট আকাশেই ভূপাতিত করেছে। এ ঘটনার পর গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

 

৬০ বছর পর ‘বন্ধুর’ সাথে দেখা: পাকিস্তানি প্রেসিডেন্টকে ক্ষমা চাইতে বললেন সালমান এফ রহমান

মো সোহেল / শরিফ হাসান, নিউজ৩৯: তাদের যখন শেষ দেখা হয় তখন ছিলো বয়স ১২। মাঝে সময় চলে গিয়েছে অনেক। হয়েছে দেশ স্বাধীন। তাই, বাল্যবন্ধু পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টকে ১৯৭১ সালের ঘটনার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা চাইতে বললেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প এবং বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

সৌদি আরবে হজপালনে গিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ড. আরিফ আলভির। তবে এসময় রাষ্ট্রপতির পাশে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে দেখে অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন ড. আলভি। কারণ, তারা ছোটবেলার বন্ধু এবং দীর্ঘ ৬০ বছর পর দেখা হলো দুজনের। সেই উচ্ছ্বাসের কথা টুইটারে নিজেই জানিয়েছেন পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট।

আরিফ আলভি গত সোমবার (৩ জুলাই) টুইটারে দুটি ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিতে মহানবি (সা.)-এর রওজার সামনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পাশে দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানি প্রেসিডেন্টকে।

Good meetings with Bangladesh President Mr Shahabuddin in Mecca, Mina & Madina. Below at Roza-e-Rasool. In white is my childhood friend Mr Salman Rehman, now Member Parliament, Minister & Advisor in BD. We met after 60 yrs. Blessings of Allah will do wonders for our relationship. pic.twitter.com/9QyDCLHixj

— Dr. Arif Alvi (@ArifAlvi) July 3, 2023
টুইটে তিনি বলেন, মক্কা, মিনা ও মদিনায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জনাব সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে দারুণ সাক্ষাৎ হয়েছে। রওজা-ই-রসুলের নিচে সাদা পোশাকে আমার ছোটবেলার বন্ধু সালমান এফ রহমান। ৬০ বছর পরে আমাদের দেখা হলো। আল্লাহর আশীর্বাদ আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিস্ময়কর কাজ করবে।

হজ করতে গিয়ে ‘বাল্যবন্ধু’ আরিফ আলভির সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা জানিয়েছেন সালমান এফ রহমানও। এক টুইটে তিনজনের (রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, আরিফ আলভি ও সালমান এফ রহমান) ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, মসজিদে নববিতে আরিফ আলভির সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগলো। আমাদের যখন শেষবার দেখা হয়েছিল, তখন আমার বয়স ছিল ১২ বছর। (এই সাক্ষাৎ) শৈশবের অনেক স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।

Pleasure meeting @ArifAlvi President of Pakistan in Masjid Nabawi. I was 12 years old when we last met. Brought back lots of fond childhood memories. I said to him we need an apology for 1971 in order to improve relations. We prayed for the welfare of the Ummah in the holy site. pic.twitter.com/VTSVw1v87m

— Salman F Rahman (@SalmanFRahmanMP) July 3, 2023

সাক্ষাতে কী কথা হয়েছিল তা উল্লেখ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, আমি তাকে (পাকিস্তানি প্রেসিডেন্টকে) বলেছি, সম্পর্ক উন্নয়নের স্বার্থে একাত্তরের জন্য আমাদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আমরা উম্মাহর কল্যাণের জন্য দোয়া করেছি।

উল্লেখ্য, সালমান এফ রহমানের টুইটার হ্যান্ডেলটি ভেরিফায়েড নয়। তবে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে হ্যান্ডেলটির লিংক সংযুক্ত রয়েছে।