শরিফ হাসান: ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে এলাকাবাসী ৩ আটক করে। পরে গণপিটুনিতে আটককৃত ডাকাতের মধ্যে ১ জন নিহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের রাহুতহাটি গ্রামে এঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে দোহার সার্কেলের এএসপি আরিফুল ইসলাম জানান, নয়নশ্রীতে রাতে ডাকাতির সময় এলাকাবাসী তিন ডাকাতকে আটক করে। গণপিটুনিতে ঘটনা স্থলেই এক ডাকাত মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহত ডাকাতের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আহত দুই ডাকাতকে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
স্থানীয়দের বরাতে জানাযায়, শুক্রবার রাত সাড়ে বারোটার দিকে রাহতহাটি গ্রামে জালালের ভীটার পাশে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে কুরবান আলী নামে এক ডাকাতকে আটক করে এলাকাবাসী।
পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা হতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আরও দুজন ডাকাত মোঃ হাসান (২৬) ও রেজাউল (৩০) কে আটক করে এলাকাবাসী। পরে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে রেজাউল নামের এক ডাকাত নিহত হয়।
পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিদর্শন করে এবং নিহতের লাশ ও আটককৃতদের থানায় নিয়ে যায়। জানাযায়, আটককৃত ডাকাতরা ফরিদপুর জেলার চর ভদ্রসন এলাকার বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করেন। এবং মৃত রেজাউলের নামে নবাবগঞ্জ থানা চারটি ডাকাতি মামলা ছিলো বলেও জানা যায়।
ঢাকার দোহার উপজেলার দোহার বাজারে মা-মনি জুয়েলার্সে দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।
মা-মনি জুয়েলার্সের মালিক জয় পাল জানান, পাশের একটি ফার্মেসীর দোকানের ভেন্টিলেটার দিয়ে চোরেরা প্রবেশ করে, তার দোকানের সিন্দুক ভেঙ্গে প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এঘটনায় দোহার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত নয়টার দিকে দোকান বন্ধ করে দোকান মালিক জয় পাল বাড়িতে চলে যায়। শনিবার সকালে পাশের ব্যবসায়ীরা দোকানের অবস্থা এলোমেলো দেখে, বাজার কমিটিকে খবর দেয়। পরে বিষয়টি দোহার থানা পুলিশকে জানালে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছায় পুলিশ ও দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.মোস্তফা কামাল।
খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দোহার সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.আশরাফুল আলম।
দোহার সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম জানান, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনার সাথে জরিতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
শরিফ হাসান : দোহারে ট্রাক চাপায় থামছে না যেন মৃত্যু মিছিল। মংগলবার দোহারে বালুর ট্রাকের চাপায় মানিক খাঁ (২৬) নামের এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহত মানিক খাঁ উপজেলার জামালচর গ্রামের জামাল খাঁর ছেলে। নিয়মিতই বালুর ট্রাক চাপায় এমন ঘটনা ঘটলেও নেই কার্যকর কোন পদক্ষেপ। অপ্রশিক্ষিত ড্রাইভার ও অনুমোদনহীন এসব মাহেন্দ্র বা বালুর ট্রাকে নিয়মিতই ঘটছে এসব। প্রভাবশালীদের চাপে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারছে না ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারেরা।
স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, লটাখোলা গ্রামের নোয়াব আলীর জমিতে মাটি ভরাটের কাজ চলছিলো। মঙ্গলবার দুপুরে একটি ট্রাক বালু ফেলতে আসলে করম আলী মোড়ে চালক ট্রাকটি পেছনের দিকে নেয়ার সময় ট্রাকের শ্রমিক জামাল ট্রাকটির নিচে চাপা পড়ে। এসময় দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে দোহার থানার এসআই কুদ্দুস বলেন, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করলে, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট: আবারও গ্রেফতার হয়েছেন দোহারের খ্যাতিমান আলম বাবুর্চি। মঙ্গলবার নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ ১০ কেজি গাজাসহ শেখ আলম ওরফে আলম বাবুর্চি (৪৭) ও মো: জামাল হোসেন (৩৩)কে গ্রেফতার। ইত:পূর্বেও তিনি আলম বাবুর্চি কয়েকবার গ্রেফতার হয়েছেন।
১৮ জুলাই মঙ্গলবার, নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ সিরাজুল ইসলাম লিটুর নেতৃত্বে এএসআই (নি:) শিমুল শাহ সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সদের সহায়তায় বিশেষ অভিযানে বান্দুরা ইউনিয়নের হাসনাবাদ এলাকা হইতে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী শেখ আলম ওরফে আলম বাবুর্চি (৪৭) ও মো: জামাল হোসেন (৩৩) কে ১০কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হইয়াছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে। আসামীদ্বয়কে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হইয়াছে।
নবাবগঞ্জ থানা সূত্রে বলা হয়, মাদক বিরোধী অভিযান চলমান থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
রোববার (১৬ জুলাই) রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অনুমোদনের পর এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ওবায়দুল কাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন।
পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আগের কমিটি থেকে তেমন বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কমিটির আকারও রয়েছে গত কমিটির মতোই। কয়েকটি পদ শূন্য রেখে ১৭১ সদস্যের এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ২৪ জন সহ-সভাপতি, ৮ জন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং ৮ জন সাংগঠনিক সম্পাদক রয়েছেন। এছাড়া ২৩ জন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এবং ১০৬ জন সদস্যও রয়েছেন। উপদেষ্টা কমিটির ১৭ জনের মধ্যে ১৪ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আগামী একমাস ১০০ টাকার পরিবর্তে ৫০ টাকায় ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো যাবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে বলে আজ বুধবার সরকারি এক তথ্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পরিবেশ পরিচ্ছন্নতার ওপর নজর দিতে হবে। জ্বর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে সতর্কবার্তায়।
তথ্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, জ্বর হলে বেশি বেশি তরল খাবার খাবেন। যেমন-স্যালাইন, ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের রস, স্যুপ ইত্যাদি।
ডেঙ্গুপ্রতিরোধেযাকরতেহবে :
ঘরের বা অফিসের বা কর্মস্থলের জানালা সব সময় বন্ধ রাখতে হবে।
মশার কামড় থেকে বাঁচতে যতটা সম্ভব শরীর ঢেকে রাখতে পারে এমন পোশাক পরিধান করতে হবে।
দিনে অথবা রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে।
পরিবার, প্রতিবেশী ও কমিউনিটির মধ্যে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সবাইকে সরাসরি যুক্ত হওয়ার জন্য সচেষ্ট হতে হবে।
বাংলাদেশকে পাখির দেশ বলা যায়, ছোট এই দেশ পাখিতে সমৃদ্ধ। ছোট এই দেশে আছে প্রায় সাতশ’ প্রজাতির পাখি যেখানে বহুগুণ বড় ভারতে আছে বারো শতের মত পাখির প্রজাতি। যদিও দেশের বেশ কিছু পাখি দুর্লভ এবং পরিযায়ী তারপরও এখানে বৈচিত্র আছে। একই সাথে আছে অনেক শত্রু, তাই দিনে দিনে পাখির সংখ্যা কমছে। তবু মাঠ-ঘাট, বন-জঙ্গল এমনকি শহরেও পাখি বাস করে। আকারে, বর্ণে, সৌন্দর্যে বিচিত্র এই পাখিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর দশটি পাখির তালিকা করা কঠিন, কারণ সুন্দর পাখির সংখ্যা প্রচুর। আসলে পাখি মাত্রই সুন্দর।
বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ১০ পাখি:
১০. হুদহুদ
লেখক বনফুল হুদহুদের (Hoopoe) নাম রেখেছিলেন মোহনচূড়া। পাখিটির শরীর বাদামি এবং ডানা ও লেজে সাদা-কালো দাগ রয়েছে। মাথায় সুন্দর একটি ঝুঁটি। সেই ঝুঁটির হলদে বাদামি পালকের মাথাটা কালো রঙের। উত্তোজিত হলে ঝুটি মেলে দেয়, তখন মুকুটের মত লাগে। বাদামি পালকের মাথাটা কালো। এটি মেঠো পাখি, গ্রামে ঘরবাড়ির আঙ্গিনায় দেখতে পাওয়া যায়। বাসা করে গাছের কোটরে, পুরনো দেয়ালের ফাঁক-ফোঁকরে। প্রায় সারা দেশই বাস করে।
হুদহুদ, ফটোগ্রাফার: রাসেল দেওয়ান, সিলেট
পবিত্র কুরআনে এই সোলায়মান (আ.) এর ঘটনায় এই পাখির উল্লেখ আছে, তাই একে সোলায়মান পাখিও ডাকা হয়।
৯. মথুরা
নীলচে কালো রঙেরর শরীর আর মাথায় একটু লাল, এবং তার উপর ঝুটি, দেখতে কিছুটা মোরগের মত, এই হল- মথুরা। ইংরেজি নাম Kalij Pheasant. এর মধ্যে একটা রাজকীয় ভাব আছে। বিলুপ্তপ্রায় মথুরা সিলেট বিভাগ ও চট্টগ্রাম বিভাগের বনে দেখা যায়। ফটোগ্রাফাররা এই বহু আকঙ্খিত পাখির ছবি তুলতে ছুটে যান সাতছড়ি বা চট্টগ্রামের বনে।
মথুরা, ফটোগ্রাফার: মাশুক আহমেদ, হবিগঞ্জ
৮. টিয়া
টিয়া মাত্রই সুন্দর। বাংলাদেশে ৭ প্রজাতির টিয়া আছে। টিয়া নামে আমরা যেটিকে ডাকি সেটি হল Rose-ringed parakeet বা সবুজ টিয়া। এটি আমাদের সবচেয়ে পরিচিত টিয়া, দোহার-নবাবগঞ্জে একসময় প্রচুর দেখা যেত, এখন অনেক কমে গেলেও টিকে আছে। সবচেয়ে সুন্দর টিয়া বলা যায় হীরামন টিয়াকে, মাথা পাকা আলুবোখারার মত গোলাপি-লাল। বাসন্তি লটকন টিয়া বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট ও সবচে’ দুর্লভ টিয়া, এর পুরোটাই সবুজ, পিঠে একটু লাল, লেজ ছোট। ধূসর-মাথা টিয়াও বেশ দুলর্ভ, শুধু পাহাড়ি বনে দেখা যায়। সবচেয়ে বড় টিয়ার নাম চন্দনা টিয়া, এটি বেশ দুলর্ভ। এছড়া আছে ফুলমাথা টিয়া ও মদনা টিয়া।
টিয়া
1 of 3
হীরামন টিয়া, ফটোগ্রাফার: Shakhawat Bhuiyan
সবুজ টিয়া, ফটোগ্রাফার: সাইফুল আলম
বাসন্তী লটকন টিয়া, ফটোগ্রাফার: সোফিয়া জামান
৭. মৌটুসি
দেশে ৬ প্রজাতির মৌটুসি (Sunbird) দেখা যায়, আরও ৩ প্রজাতি বিলুপ্ত বা খুবই বিরল। এই ছয় প্রজাতির মধ্যে সবগুলোই সুন্দর। বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট পাখিগুলোর অন্যতম মৌটুসির বেশিরভাগ দেখা যায় সিলেট বিভাগের বনে। আমাদের আশেপাশে বাস করে বেগুনি মৌটুসি, এটি পুরো শরীর কালচে বেগুনি, তার উপর যখন রোদ পড়ে ঝকমক করে উঠে। ভ্যান হ্যাসল্টের মৌটুসিকে শুধু মৌটুসি ডাকা হয়, এর মাথায় পান্না রং, গায়ে বেগুনি, কালো, নীল ও লাল রং রয়েছে। সিঁদুরে মৌটুসির মাথা থেকে পিঠ পর্যন্ত সিঁদুরের মত লাল টকটকে রং। সিঁদুরে-হলুদ মৌটুসি সিঁদুরে মৌটুসির মত লাল, তবে পেট পুরো হলুদ, তাই এই নাম। একে বলা যেতে পারে সবচেয়ে সুন্দর মৌটুসি। আর চুনি-মুখি মৌটুসির পেট হলুদ ও পিঠ পান্না ও কলচে। মৌটুসির স্ত্রী পাখি পুরুষ পাখির মত অতটা বর্ণিল ও আকর্ষণীয় হয় না।
মৌটুসি ফুলের ভেতরে চিকন লম্বা ঠোটটি ঢুকিয়ে মধু খায়, এজন্য এই নাম। মাধু ছাড়াও ছোট পোকা মৌটুসির নিয়মিত খাবার।
৬. বামনরাঙা মাছরাঙা
বাংলাদেশে ১২ প্রজাতির মাছরাঙা আছে বলে ধারণা করা হয়, প্রতিটি মাছরাঙাই অসাধারণ সুন্দর। এর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর বামনরাঙা মাছরাঙা (Oriental Dwarf Kingfisher)। পাখিটি গাছে বসে থাকলে মনে হয় যেন বহুরঙা এটা ফুল ফুটে আছে। দেশের সবচে’ ছোট এই মাছরাঙা পাওয়া যায় সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি বনে। এবং পাখিটি বেশ বিরল, এর দেখা পাওয়া পাখিপ্রেমীদের সৌভাগ্য বলে বিবেচিত।
বামনরাঙা, ফটোগ্রাফার: Abu Sayed Mohammad Sarwar, মৌলভিবাজার
৫. জল ময়ূর (Pheasant tailed jacana)
নামই বলে দিচ্ছে জলাশয়ের পাখি, নেউপিপি, পদ্মপিপি বা মেওয়া নামেও পরিচিত। প্রজননকালে রং পাল্টায়, সাদার উপর কালো, খয়েরি ও সোনালির রাজকীয় রং ফুটে উঠে।
জল ময়ূর, ফটোগ্রাফার: রাশেদ খান, রাজশাহী, এপ্রিল ২০২৩
৪. কালেম
জলাশয়ের সুন্দরতম পাখি। সিলেট বিভাগ ও রাজশাহী বিভাগের জলাশয়ের পরিচিত পাখি। এনকি কেরানিগঞ্জেও এই পাখি দেখা গিয়েছে। নীলের চোখ ধাঁধানো রঙ। ইদানিং খাচায় পোষা হচ্ছে, যা পাখিটিকে বিপন্ন করবে। বাসায় পোষার চাহিদা পূরণ করতে প্রকৃতি থেকে ধরে আনতে আনতে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
কালেম, পেক্সেলস
প্রাপ্তবয়স্ক কালেমের (Western Swamphen) দেহের দৈর্ঘ্য ১৫-২০ ইঞ্চি এবং ওজন ৭০০-৮৫০ গ্রাম। দেহের পালক চকচকে নীলচে-বেগুনি, মাথার রং হালকা। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম হলেও কপালের ওপরের লাল বর্মটি স্ত্রীর ক্ষেত্রে ছোট।
৩. সাহেব বুলবুলি
এক অদ্ভুত সুন্দর পাখি এই সাহেব বুলবুলি, একে দুধরাজ, শাহ বুলবুলি নামেও ডাকা হয়। এর লেজ অতি দীর্ঘ, ফিতার মত। এই দীর্ঘ লেজ নিয়ে বসা, উড়া প্রতিটি মুভমেন্টই দর্শনীয়। তার উপর মাথায় আছে ঝুটি। পাখিটি প্রথমে থাকে কমলা রঙে, পরে রাং পাল্টে সম্পূর্ণ সাদা হয়ে যায়। কাথা কালো। নারী পাখির অবশ্য লেজ বড় হয় না। ময়মনসিংহ ও বগুড়া জেলায় পাখিটি বেশ দেখা যায়, ঢাকায় বিরল। এর ইংরেজি নাম Indian Paradise Flycatcher. ব্লাইদের ফ্লাইক্যাচারের সাথে বেশ মিল আছে, তবে ব্লাইদের ফ্লাইক্যাচার অধিক বিরল।
সাহেব বুলবুলি, ফটোগ্রাফার: সৈয়দ আবু আবেদ সাহের, রাজশাহী
২. ধনেশ
দেশে তিন প্রজাতির ধনেশ (Hornbill) রয়েছে, এর মধ্যে পাতাঠুঁটি ধনেশের বিলুপ্ত, বাকি তিন প্রজাতিই দুর্লভ ও বিপন্ন। এর মধ্যে দুটি প্রজাতি কাও ধনেশ ও রাজ ধনেশকে আমাদের তালিকায় রেখেছি। দুটো পাখিই দেখতে প্রায় কাছাকাছি, রাজ ধনেশ আকারে একটু বড়। বাস করে পাহাড়ি বনের গহিনে, উচু গাছে। শিকার ও পাচারে দেশের রাজকীয় এই পাখি বিলুপ্তির মুখে। ধনেশের ঠোঠ অনেক বড় হলেও হালকা, ভেতরটা ফাপা।
কাও ধনেশ, ফটোগ্রাফার: মাহমুদুল বারি, হবিগঞ্জ, মার্চ ২০২৩
১. দেশী ময়ুর
কোনো কোনো তালিকায় ময়ুরকে বিলুপ্ত পাখি হিসেবে দেখানো হয়েছে,কারণ দীর্ঘ দিন এটি দেশের প্রকৃতিতে দেখা যায় নি। তবে সম্প্রতি প্রকৃতিতে ময়ুর দেখা গিয়েছে যদিও খুবই বিরল, যেমন পঞ্চগড়ে ২০২২ সালে দেশী ময়ুর (Indian Peafowl) এর ছবি তোলা হয়েছে। এ কারণেই পাখিটিকে এই তালিকায় আনতে পেরেছি। ময়ুরকে অস্তিত্ব থাকলে কখনও সুন্দর পাখির তালিকা থেকে বাদ দেয়া যাবে না, এমনকি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর পাখির তালিকায় উপরে থাকবে।
নীল ময়ূর
একশ বছর আগে ঢাকার আশেপাশের বনেও ময়ুর ছিল প্রচুর। ময়ুরের একাধিক প্রজাতি বাংলাদেশে ছিল, সবুজ ময়ুর দেশ থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত। দেশী ময়ূরের আরেক নাম নীল ময়ূর, বাংলাদেশে সংরক্ষিত ও ভারতে জাতীয় পাখি।
এই তালিকা করতে গিয়ে যাদের উপর অন্যায় করা হয়েছে: কাঠ ময়ুর, বন মোরগ, লাল মুনিয়া, বড় ভীমরাজ, চাঁদি বুক মোটাঠুটি, সিঁদুরে সাহেলি, লালপেট নীলমনি, সাদা মুকুট পেঙ্গা, লালমাথা কুচকুচি, সবুজ হাঁড়িচাঁচা, দেশি শুমচা, পানগির্দি, ঝুটিয়াল চটক, চিত্রা শালিক।
বিবেচ্য কিছু সুন্দর পাখি
1 of 15
সবুজ হাঁড়িচাচা, ফটোগ্রাফার: নিসর্গ অমি, হবিগঞ্জ
সাদা মুকুট পেঙ্গা, ফটোগ্রাফার: আসিফ ইশতিয়াক, বান্দরবান, ২০২৩
বাংলাদেশের পাখি-প্রেমী ফটোগ্রাফাররা পাখির ছবি তুলতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, এমনকি দুর্গম এলাকায় ছুটে যান। তাদের কৃতিত্বে পাওয়া কিছু ছবি এখানে প্রদর্শন করা হয়েছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
গতকাল শনিবার দোহার উপজেলার মৈনটঘাটে নৌকায় পিকনিকের নামে মাদক সেবন করে অশ্লীলতা, কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি ও সাধারণ পর্যটকদের উত্যক্ত করার সময় দোহার থানার চর মাহমুদপুর পুলিশ ফাড়ি ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে। এসময় তাদের কাছে থাকা মদের বিভিন্ন খালি বোতল, ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জামাদি ইত্যাদি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এদের অধিকাংশই কিশোর বা বিশ বছর এর নিচে। এছাড়াও, বিভিন্ন অপরাধ কাজে জড়িত থাকার অপরাধে ৫ জনকে শিশু আইন-২০১৩ মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিনোদনের নামে মাদকসেবন করে এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ আচরণ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খুবই ভয়ংকর।
এবিষয়ে দোহার সার্কেলের এ এসপি আশরাফুল আলম বলেন, অভিভাবকদের নিকট অনুরোধ, আপনাদের সন্তান কোথায় যায়, কি করে, কাদের সাথে মিশে খোঁজ নিন, বন্ধু হয়ে ভালোমন্দ বিষয়গুলি বুঝান, প্রয়োজনে শাসন করুন। নৌকার মালিকদের নিকট অনুরোধ, আপনার নৌকাটি ভাড়া দেয়ার আগে কাদের ভাড়া দিচ্ছেন, তাদের বয়স, পেশা উদ্দেশ্য দেখে নিন, কোন ঝুকি আছে কিনা যাচাই করুন অন্যথা আপনার নৌকা জব্দ করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, তাদেরকে আজকে মাদক দ্রব্য নিয়ন্তন আইনে নিয়মিত মামলা করে কোটে পাঠানো হয়েছে।
পুরোদমে চালু হয়েছে প্রবাসীদের নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের আবেদন প্রক্রিয়া। সংযুক্ত আরব আমিরাতে থেকেই নিজের ভোটার আইডি কার্ড পাবার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে প্রবাসীদের।
দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫০০ প্রবাসী স্মার্টকার্ডের জন্য আবেদন করেছেন। কনস্যুলেটে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত স্মার্টকার্ড সংক্রান্ত নিরবিচ্ছিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারছেন প্রবাসীরা।
এদিকে, যারা অনলাইনে আবেদন করেছেন তারা আবেদন শেষে বাংলাদেশ কনস্যুলেট এসে দিতে হচ্ছে বায়োমেট্রিকের মাধ্যমে ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও চোখের আইরিস স্ক্যান। শুধু নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র নয়, যে সকল প্রবাসীর পেপার লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে তারাও চাইলে স্মার্ট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই সুযোগও রেখেছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট।
কনস্যুলেট সুত্র জানা যায়, আগামী ১৩ জুলাই দুবাইয়ে ইস্যুকৃত প্রায় একশ প্রবাসীর স্মার্টকার্ড প্রদান করা হবে। সেদিন নির্বাচন কমিশনের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এদিকে প্রতিদিন বাড়ছে আবেদনের সংখ্যা। এই সেবা পেয়ে প্রবাসীরাও সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছে কনস্যুলেট কর্মকর্তাগণ।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন স্মার্ট কার্ডের পরীক্ষামূলক কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাই কনস্যুলেট। এরপর চলতি মাসের শুরু থেকে প্রশিক্ষিত লোকবল দিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করে এই দুই মিশন।