ইতিহাসের এই দিনে: ১৬ জুলাই

0

ইতিহাসের এই দিনে: ১৬ জুলাই

৬২২: হিজরী সন গণনা শুরু হয়।

১৮৭২: প্রথমবার দক্ষিণ মেরুতে পৌছানো নরওয়েজিয়ান অভিযাত্রী রোল্ড আমুন্ডসেন জন্মগ্রহণ করেন।

১৯১৮: বলশেভিকদের হাতে রাশিয়ার শেষ সম্রাট জার নিকোলাই দ্বিতীয় তার পাঁচ সন্তান ও স্ত্রী সহ নিহত হন। এর ফলে রাশিয়ায় রাজতন্ত্রের পতন হয়।

Nicholas2

ছবি: জার নিকোলাস দ্বিতীয় ও তার পরিবার

১৯৪৫: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্র শক্তির নেতৃবৃন্দ উইন্সটন চার্চিল, হ্যারি ট্রুম্যান, জোসেফ স্ট্যালিন জার্মানীর পোস্টডাম শহড়ে সাক্ষাৎ করেন।

১৯৭৩: দক্ষিণ আফৃকার কৃকেটার শন পোলক জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৭৯: হাসান আল বকর পদত্যাগ করেন ও সাদ্দাম হোসেন ইরাকের রাষ্ট্রপতি হন।

১৯৮১: মাহথির মোহাম্মদ মালয়শিয়ার ৪র্থ প্রধানমন্ত্রী হন।

লিপির খুনি রাইপাড়ায় গ্রেফতার

সোহেল আহমেদ : গত মঙ্গলবার সৎ মেয়ের হাতে খুন হওয়া রাইপাড়া ইউনিয়নবাসী লিপির খুনি গ্রেফতার হয়েছে। খুন হবার পর দিন লিপির ভাই সাইদুল মোল্লা ফরিদপুর থেকে এসে সৎ মেয়ে সুফিয়া সাথীকে প্রধান আসামী ও স্বামী কিমন ফকির, আলা ডাক্তার, ডা. জাহান সহ আরও একজনকে আসামী করে দোহার থানায় মামলা করেন। বুধবার দুপুরে দোহার পুলিস সুফিয়া সাথীকে তার বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে।

মামলার বাদী সাইদুল মোল্লা, পিতা: মৃত মোয়াজ্জেম মোল্লা; মামলার ধারা ১৪২, ৩১৪, ৩০৪, ৩৪। দোহার থানা হতে জানানো হয়েছে আসামীর রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এখনো তদন্তের ফল পাওয়া যায় নি। আলা ডাক্তার ও ডা. জাহান পলাতক রয়েছেন।

নিহত’র মেয়ে আসামী সুফিয়া আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিউজ ৩৯ প্রতিনিধিকে বলেন, “তাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ, পিতা কাঠমিস্ত্রী। তার সৎ মা লিপি তিন মাসের গর্ভবতী ছিলেন। ঘটনার দুই দিন আগে থেকে তার পেট ব্যাথা ছিল। কিমন ফকির ভ্রুন নষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য তিনি আলা ডাক্টারের স্ত্রী ডা. জাহানের কাছ থেকে ওষুধ সংগ্রহ করেন। এই ওষুধ খাওয়ানোর পরদিন থেকে আবার লিপির পেট ব্যাথা শুরু হয়। এর পর ডা. জাহান কে ফোন করলে তিনি ফোন গ্রহন করেন নি। তারপর অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।“

ইতিহাসের এই দিনে: ১৪ জুলাই

0

ইতিহাসের এই দিনে: ১৪ জুলাই

১৯৬৯: এল সালভাদরের কাছে একটি ফুটবল ম্যাচে পারাজয়ের পর হন্ডুরাস ও হন্ডুরাসে এল সালাভাদরের অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে দাঙ্গা বাধে।

১৯০৩: আমেরিকান লেখক আর্ভিং স্টোন জন্মগ্রহণ করেন।

আজ ফ্রান্সে পালিত হচ্ছে বাস্তিল দিবস। ১৭৮৯ সালে ফরাশী বিপ্লবের সময় বাস্তিল দূর্গের পতন হয়, যার ফলে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রথম প্রজাতন্ত্র।

আজ ইরাকের প্রজাতন্ত্র দিবস। ১৯৫৮ সালের এইদিনে আব্দুল করিম কাশেমের নেতৃত্বে হাশেমী রাজতন্ত্রের পতন হয়, এবং প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

হাসনাবাদের রাস্তা: শত দূর্ভোগের পরও উন্নয়ন নেই

জাকির হোসেন♦ সোহেল আহমেদ : ঢাকা জেলার অন্যতম বৃহৎ উপজেলা নবাবগঞ্জ। ১৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলার অন্যতম একটি ইউনিয়ন বান্দুরা। বান্দুরা ইউনিয়ন দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার সীমানায় থাকায় দুইটি উপজেলার মানুষের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন কারণে প্রতিদিন বান্দুরায় ও আশেপাশের গ্রামে প্রচুর লোকজন যাতায়াত করে। এই দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াতের জন্য যতগুলো রাস্তা আছে তার মধ্যে ইকরাশি থেকে হাসনাবাদ হয়ে বান্দুরার রাস্তাটি অন্যতম। এই রাস্তাটির অবস্থা বর্তমানে খুবই করুণ। এই রাস্তাটির যায়গায় যায়গায় সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। আর সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তার মাঝেই সৃষ্টি হয় ডোবা।

ইকরাশি থেকে হাসনাবাদ হয়ে বান্দুরা যাওয়ার এই রাস্তাটি প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার মানুষ ব্যবহার করে। প্রতিদিন যাতায়াত করে নানা রকম যানবাহন। রাস্তার এই করুন অবস্থার কারনে মানুষকে পোহাতে হচ্ছে নানা রকম ঝক্কি ঝামেলা। প্রায়ই ঘটছে ছোট খাটো দূর্ঘটনা।

ঢাকার দক্ষিণের অন্যতম সুপরিচিত বিদ্যাপাঠকেন্দ্র বান্দুরা হলিক্রস উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ে পড়তে আসার জন্য প্রতিদিন কয়েকশ ছাত্রকে এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। এই রাস্তা ব্যবহারকারী মাঝে রয়েছে হাসনাবাদ, মৌলভিডাঙ্গী গ্রাম ছাড়াও দোহারের অন্যান্য গ্রামের ছাত্র-ছাত্রী। এই সব ছাত্রদের বেশীর ভাগই যাতায়াতের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করে রিক্সা। কিন্তু রাস্তার বেহাল দশার করনে প্রায়ই পাওয়া যায়না রিক্সা। আর পাওয়া গেলেও রিক্সাচালকরা যেতে চায় না ভাঙ্গা রাস্তার করনে। ফলে বেশির ভাগ সময় হেটেই বিদ্যালয়ে যেতে হয় ছাত্রদের।

বান্দুরা হলিক্রসের ছাত্র ছাড়াও এই রাস্তা ব্যবহার করে একটি বালিকা বিদ্যালয় , দুইটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেশ কয়েকটি কিন্ডারগার্টেনের কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীরা। ছাত্র ছাত্রীদের এই দূর্ভোগের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিভাবক মহল।

Hasnabad Road

ছবি: হাসনাবাদের রাস্তা

রাস্তার এই খারাপ অবস্থা সত্বেও প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানীয় এক তরুন তুষার ইসলাম আমাদের প্রতিনিধিকে জানান নির্বাচনের সময় বর্তমান এম.পি ও মন্ত্রী এ্যাড. আব্দুল মান্নান খান নবাবগঞ্জের উন্নয়নের অঙ্গিকার করলেও তিনি তার কথা রাখেন নি। মহাজোট সরকারের এই আড়াই বছরে নবাবগঞ্জের কোন উন্নয়নই হয় নি বলে তিনি মন্ত্যব্য করেন। ইমাম হাসান সাইফি নামে আরেক জন আমাদের জানান, দীর্ঘদিন এই রাস্তাটি ছিল অবহেলিত। গত চারদলীয় সরকারের সময় ইটের এই রাস্তাটি পিচ ঢালাই করা হয়। কিন্তু নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের কারনে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই রাস্তাটি নষ্ট হয়ে যায়। তারপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছর ও মহাজোটের আড়াই বছরেও লাগে নি এই রাস্তায় কোন উন্নয়নের ছোয়া। তিনি দুর্ভোগ লাঘবের জন্য  এবং দোহার নবাবগঞ্জের মানুষের যোগাযোগ সহজ করার জন্য অতিদ্রুত এই রাস্তার উন্নয়ন প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

Hasnabad Road

ছবি: হাসনাবাদের রাস্তা

ফোনে বান্দুরা ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান  মো: হিল্লোল মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাদের জানান রাস্তার উন্নয়নের জন্য সব পদক্ষেপ ‘গ্রহণ’ করা হয়েছে। এই রাস্তার ব্যাপারে স্থানীয় প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানকে অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। আলাপকালে তিনি আরো জানান যে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এই রাস্তার কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে।

Hasnabad Road

ছবি: হাসনাবাদের রাস্তা

ইতিহাসের এই দিনে: ১৩ জুলাই

0

ইতিহাসের এই দিনে: ১৩ জুলাই

৬৭৮: হযরত আয়শা (রা) মৃত্যূবরণ করেন।

১৫৮৫: স্যার রিচার্ড গ্রীনভিলের নেতৃত্বে ১০৮ জনের একটি ইংরেজ দল আমেরিকার নিউক্যালেডোনিয়ার রোয়ানোকে দ্বীপে উপনিবেশ স্থাপনের উদ্দেশ্যে পৌছায়।

১৭৯৩: ফরাশি সাংবাদিক ও বিপ্লবী জ্যা পল মারাত তার বাথটাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ চার্লট কর্ডের হাতে নিহত হন।

১৮৩২: হেনরী স্কুলক্র্যাফট মিনেসোটায় মিসিসিপ নদীর উৎস আবিষ্কার করেন।

মিসিসিপি নদী

১৯৩১: জার্মানীর একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডানাব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যায়। ফলে জার্মানীর সব ব্যাংক বন্ধ হয় যা আবার ৫ অগাস্ট খুলে।

১৯৩০: উরুগুয়েতে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ম্যাচে ফ্রান্স মেক্সিকোকে ৪-১ গোলে হারায়।

১৯৩৪: নোবেল বিজয়ী নাইজেরীয়ান লেখক ওল সোয়েন্কা জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৪২: অভিনেতা হ্যারিসন ফোর্ড জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৬০: জন এফ. কেনেডী লস এন্জেলসে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ডেমোক্রেট দলের নমিনেশন পান।

২০০২: তুর্কি বংশোদ্ভুত কানাডিয়ান ফটোগ্রাফার ইউসুফ কার্শ মৃত্যূবরণ করেন। তিনি গত শতাব্দীর একশতজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ৫০ জনেরই ছবি তুলেছিলেন।

ইতিহাসের এই দিনে: ১২ জুলাই

0

ইতিহাসের এই দিনে: ১২ জুলাই

খৃষ্টপূর্ব ১০০: রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের জন্ম।

সম্রাট জুলিয়াস সিজার

১০৯৬: পিটার দি হারমিট এর অধীনস্ত একদল ক্রুসেডার বুলগেরীয়ার সোফিয়ায় পৌছায়। তারা এখানে আর একটি দলের সাথে যোগ দিয়ে কন্সটান্টিনোপলের (ইস্তানবুল) দিকে রওনা দেয়।

১৮৫৪: ইস্টম্যান-কোডাকের প্রতিষ্ঠাতা জর্জ ইস্টম্যান আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করেন।

১৮৬৫: আফ্রো-আমেরিকান বিজ্ঞানী জর্জ ওয়াশিংটন কার্ভার জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে প্রভূত উন্নত সাধন করেন।

১৯০৪: ১৯৭১ সালের সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী চিলির কবি ও রাজনীতিবিদ পাবলো নেরুদা জন্মগ্রহণ করেন।

পাবলো নেরুদা

১৯১২: প্রথম কোন বিদেশী চলচিত্র আমেরিকায় প্রদর্শিত হয়, চলচিত্রটির নাম “Queen Elizabeth”

১৯৪১: মস্কোতে প্রথমবারের মতো জার্মান বাহিনী বোমা বর্ষণ করে।

১৯৯০: রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি বরিস ইয়েল্তসিন কম্যুনিস্ট পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন।

১৯৯৩: জাপানের উত্তরাঞ্চলের ৭.৮ মাত্রার এক ভূমিকম্পে ১৯৬ জন মারা যান।

১৯৯৮: ফ্রান্সের প্যারিসে ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়, সেই খেলায় ফ্রান্স ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে। ম্যাচটি সারা বিশ্বে ১.৭ বিলিয়ন লোক প্রত্যক্ষ করে।

২০০০: একটি গাড়ী বোমা হামলায় স্পেনের মাদৃদে নয় জন ব্যক্তি আহত হন। এজন্য বাস্ক বিচ্ছিন্নতাবাদী দল ETAকে দায়ী করা হয়।

বাংলাদেশ: রক্তের ঋণ (পর্ব-২)

0

পৃথিবীর বিখ্যাত সাংবাদিক এ্যান্থনি মাস্কারনহাসের বিখ্যাত বই “ Bangladesh : Legacy of blood” যার শাব্দিক অর্থ হতে পারে “বাংলাদেশঃ রক্তের ঋণ”। এ ব্যাপারে এ্যান্থনি মাস্কারনহাস বলেন- “এই বইটি বাংলাদেশের প্রথম দশ বছরের দুঃখজনক ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে লিখিত। ঘটনার প্রধান নায়কদের সাথে আমার ব্যাক্তিগত জানাশুনা, নাটকীয় ঘটনা প্রবাহের সাথে জড়িতদের সাথে ১২০টি সাক্ষাৎকার এবং সরকারি দলিল-নথিপত্র সাপেক্ষে এর ভিত রচিত হয়েছে।

নিউজ ৩৯ শুধুমাত্র বইটি অনুবাদের অংশ তুলে ধরেছে তার অগণিত পাঠকের সামনে। কোন মন্তব্য বা উক্তির সাথে নিউজ ৩৯ এর কোন সম্পর্ক বা দায় নেই। নিউজ ৩৯ ধারাবাহিক ভাবে বইটির অনুবাদ প্রকাশ করবে। অনুবাদ করেছেন তারেক রাজীব।

ঐ রাতে কেউই ভাবতে পারেনি, কি ছিল ফারুকের মনে। উৎসবে তিনি ছিলেন অস্বাভাবিক রকমের প্রাণখোলা। তিনি যে কাজে মনস্থির করে ফেলেছিলেন তাতে হয় তিনি ফায়ারিং স্কোয়াডে যাবেন না হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে তার নাম অমোচনীয়ভাবে অক্ষয় করে রাখবেন। তার ভাষায় ‘আমি অনুষ্ঠান উপভোগ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। ঐটিই হতে পারত আমার জীবনের শেষ অনুষ্ঠান।‘

অতিথিদের সবাই চলে গেলে পারিবারিক আলাপচারিতায় ফারুকের বাবা-মা, চট্টগ্রাম থেকে আগত ফরিদার মা,ফরিদার বড় বোন জোবাইদা, তার স্বামী মেজর খন্দকার আব্দুর রশিদ ঢাকায় অবস্থিত ২য় আর্টিলারির অধিনায়ক কফি ও সামান্য নাস্তা নিয়ে মগ্ন হন।

হটাৎই ফারুক তার ভায়রা মেজর রশিদকে একদিকে সরিয়ে আনেন। তিনি রশিদকে জানান, ‘আমি ১৫ই তারিখে তাই ঘটাতে যাচ্ছি, আমি শুক্রবার সকালে জীবনেরতরে মুজিবকে সরিয়ে দিচ্ছি।’

রশিদ চমকে উঠলেন। সচকিত রশিদ খুব দ্রুত চারিদিকে তাকিয়ে দেখলেন, কেউতো আবার ফারুকের কথা শুনে ফেলে নি! হটাৎ যেন গোপন ষড়যন্তের মাসগুলো শুরু হল বাংলাদেশে। কিন্তু রশিদ প্রস্তুত ছিলেন না। অনেকক্ষণ চুপ থেকে খুব আস্তে ফিসফিসিয়ে বলে উঠলেন, ‘তুমি পাগল হয়েছে?’ ‘আমাদের তো কোন সাথী অফিসার নেই, নেই অস্ত্রশস্ত্র, আমরা কিভাবে তাহলে সফল হব?’

তেজদ্দীপ্ত শানিত চোখে ফারুক অন্য মেজরের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘এটাই আমার সিদ্ধান্ত। পরিকল্পনা আমার তৈরিই আছে, কেউ না এলেউ আমি একাই এগিয়ে যাবো। তুমি ইচ্ছে করলে সরে দাড়াতে পারো। তবে জেনে রাখো, আমি ব্যর্থ হলে শাসক চক্র তোমাকেও ফাঁসিতে লটকাবে।

এবারো রশিদ অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন। মনে হচ্ছিল তিনি ফারুকের কথাগুলো হজম করছিলেন। অবশেষে হালকা পাতলা গড়নের দিরঘাদেহী আর্টিলারির অধিনায়ক সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বললেন, ঠিক আছে যদি করতে হয় তবে করো কিন্তু এ নিয়ে আমাদের আরও আলোচনার প্রয়োজন আছে।

শহরের অন্যপ্রান্তে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ীটি তখনো দেশবাসীর চিন্তা-ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু। এটিই শেখ মুজিবর রহমানের বাড়ি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার যিনি স্থপতি। এ বাড়ির কেউই জানে না মেজর ফারুকের পরিকল্পনা সম্পর্কে। শেখ মুজিবর রহমানের ছোট বোনের মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে ৩২নম্বরের বাড়িতে দুই দিন আগে থেকেই আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত হয়েছিলেন। বিয়ে শেষ হলে বেগম মুজিব ভদ্রভাবে সবাইকে বিদায় দেন। তবুও কিছু আত্মীয়-স্বজন রয়ে গিয়ে ছিলেন। তাদের মাঝে মুজিবের প্রিয় বোনের স্বামী আব্দুর রব সেরনিয়াবাত উপস্থিত ছিলেন। তিনি বন্যা নিয়ন্ত্রন,পানি সম্পদ,পশু সম্পদ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন মন্ত্রনালয়ের দ্বায়িত্তে ছিলেন। আরও একজন সেখানে ছিলেন, তিনি হলেন আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের ছেলে আবুল হাসানাৎ আব্দুল্লাহ। তিনি তিন দিন পরে অলৌকিকভাবে পারিবারিক ধ্বংসযজ্ঞ হতে বেচে গিয়েছিলেন।

ঐ রাতে পারিবারিক বিষয়াদির সাথে তিনি রাষ্ট্রীয় কাজ নিয়েও ভাবছিলেন। তিনি তার প্রানপ্রিয় বাংলাদেশ নিয়ে যে কোন কিছু ভাবার সময় পরিবারের সবাইকে কাছে ডেকে নিতেন। সেদিনের আলোচ্য বিষয় ছিল বন্যা নিয়ন্ত্রন।

আবুল হাসানাৎ আব্দুল্লাহ সেদিনের স্মৄতিচারন করতে গিয়ে বলেন, মামা সেদিন শরৎকালীন বন্যার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। তামাকের পাইপ থেকে আসা ধোঁয়ায় পুরো ঘর মুখরিত হয়ে উঠেছিল। তিনি বলতে লাগলেন, আমি তখন বেশ ছোট। ড্রেজার কোম্পানির বিদেশীদের সাথে নদীর পাড়ে ফুটবল খেলতাম। হটাতই এসব ড্রেজার বার্জ বানিয়ে বার্মায় সরিয়ে নেয়া হল। আর সেগুলো ফিরে এলো না। আমরা যেখানে খেলতাম সেখানে এখন আর কোন নদী নেই- এখন শুধু চর আর চর। আর এ কারণেই প্রতি বছর আমরা বন্যার শিকার।

পরিবারের সবাইকে উদ্দেশ্যে তিনি বলে উঠলেন, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত অর্থ নেই কিন্তু ড্রেজারগুলো আমরা হাতে পাচ্ছি। তোমরা দেখো আমি ঠিকই নদীগুলো আঁচড়িয়ে ঠিক করে দিবো। আমার বাকশাল ঠিকই তা পারবে।তারপর হঠাৎই এক অসাড় মানসিকতায় তিনি বলে উথলেন, দেশের জন্য আমি যা করেছি তা কেউই বুঝতে পারল না।

ঐটি ছিল শেখ মুজিবর রহমানের অমিয় বাণী। কিন্তু ততক্ষণে তিনি তার প্রিয় বাংলাদেশে জনপ্রিয়তার তলিনীতে চলে এসেছেন। এটা ছিল এক অতিমাত্রায় প্রেম-বিদ্বষ সম্পর্ক যা কেবল এক অতিমাত্রায় আবেগী ও উদ্বেলিত জাতির পক্ষেই সম্ভব। তারা তাকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দিয়ে দেবতার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। দেবতুল্য মানব শেখ মুজিব তার জাতির সাথে একাত্ম হতে গিয়েছিলেন। তিনি বলতেন, জনগণকে ভালবাসার মাঝেই আমার শক্তি নিহিত। আর দুর্বলতা হচ্ছে আমি তোমাদেরকে অতিমাত্রায় ভালবাসি।

সাড়ে তিন বছর আগেই বাংলাদেশের জন্ম থেকেই তিনি তদেরকে গুরুর মতো শাসন করতেন। তিনি অদম্য উৎসাহে কাজ শুরু করলেন আর মঙ্গল চিন্তায় সদিচ্ছায় তার সচিবালয় তৈরি করলেন। তিনি সত্যের সাথে রাজনীতিকে গুলিয়ে ফেললেন। তার সরলতার আশ্রয় নিয়ে চারিপাশে জমতে লাগলো চাটুকারদের তোষামোদ। অনিবার্য কারণেই জনগনের জাদুরমত আসক্তির ভালবাসা ম্লান হয়ে এলো আর তোষামোদ পরিনত হল ভীষণ তিক্ততায়। তবে এসব সত্ত্বেও, শেখ মুজিব সব ঠিক করতে পারবেন বলে আশাবাদ করেছিলেন। বাংলদেশিদের কাছে তার অক্ষমতা ধারণাতীত বিষয় ছিল। কিন্তু আগস্টের ১৫ সব অসম্ভবকে সম্ভবের ইতিহাস সৃষ্টি করলো। আর্মির সাঁজোয়া বাহিনীর গাড়ি সামনে অগ্রসর হতে শুরু করলো। মেজররা দিপ্তপদে এগিয়ে চললো।

নবাবগঞ্জের ইয়াবাসহ ১ যুবক গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম চুড়াইন গ্রাম হতে র‌্যাব১১ এর বিশেষদল অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ ১জন গ্রেফতার করেছে।

র‌্যাব১১ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,গত ৯ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব১১ এর বিশেষদল অভিযান চালিয়ে পশ্চিম চুড়াইন কবরস্থান এলাকা হতে সাব্বির হোসেন(২১)কে ইয়াবাসহ আটক করে। সাব্বিরের শরীরের বিভিন্নস্থান তল্লাসি করে ৮টি ইয়াবা উদ্ধার করে। র‌্যাব১১ আটককৃত সাব্বিরকে নবাবগঞ্জ থানায় সোর্পদ করে মামলা করেন। পুলিশ সাব্বিরকে আদালতে প্রেরণ করেন।

দোহারে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

ফারুক আহমেদ সজল ♦
ঢাকার দোহার উপজেলার দক্ষিণ জয়পাড়া গ্রামে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  এঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় জিডি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুলাই দক্ষিণ জয়পাড়া গ্রামে অরুন কান্তির লীজকৃত জমিতে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আলমাস উদ্দিন দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, তরুন কান্তি শিকদার ও অরুন কান্তি শিকদার গত ২০০৭ সালে ২০ শতাংশ জমি লীজ নিয়ে খাজনাদি পরিশোধ করেন। তারা অভিযোগ করেন ভুমি অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে গত ২০০৯ সালে যুগলীগ নেতা আলমাস উদ্দিনের নামে একই জায়গায় থেকে ৮ শতাংশ লীজ দেয়। সরকারী দেয়া লীজকৃত সম্পত্তি ওপর গত ৪ জুলাই আলমাস উদ্দিন পাকা ভবন নির্মাণ করতে গেলে অরুন কান্তি ও তরুন কান্তি বাঁধা সৃষ্টি করে। বাঁধা উপেক্ষা করে পাকা ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যায়। লীজসূত্রে উভয় পক্ষ জমির মালিকানা দাবি করে, আইনশৃংখলা বিঘিœত ঘটবে বলে দোহার থানায় পৃথক পৃথক দু’টি সাধারণ ডায়েরী করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পাকা ভবন নির্মাণ করতে বাঁধা দিলেও কাজ বন্ধ হয়নি।                                                     
এব্যাপারের অরুন কান্তি বলেন, আমার বাপ-দাদার সম্পত্তি ভুলবশত: অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে  রেকর্ড হয়েছে। বসতবাড়ি থাকায় সরকার আমাদের নামে লীজ দিয়েছে। যুবলীগ নেতা আলমাস উদ্দিন প্রভাব খাটিয়ে লীজকৃত সম্পত্তিতে পাকা ভবন নির্মাণের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
আলমাস উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তির একই দাগে অর্পিত সম্পত্তি থাকায় সরকার আমাকে ৮শতাংশ জমি লীজ দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টাও চলছে। কোন প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল করা হয়নি।

দোহার নবাবগঞ্জে হরতাল করবে না বিএনপি: নেই আওয়ামীলীগের কর্মসূচী

স্টাফ রিপোর্টার ♦ বিএনপি এর ডাকে দেশব্যাপী হরতাল কর্মসূচী থাকলেও দোহার নবাবগঞ্জে হরতাল করবেনা বিএনপি । হরতাল কর্মসূচীতে নবাবগঞ্জ ও দোহারে বিএনপি বা এর অঙ্গ সংগঠনের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। এক্ষেত্রে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নাজমুল হুদা এবং আঃ মান্নানের মধ্যকার দ্বন্দই প্রধান কারন।

দোহার থানা যুবদলের সেক্রেটারি ফরিদ আহমেদ নিউজ ৩৯কে জানান, কেন্দ্র থেকে আমাদের তেমন কোন নির্দেশ নাই। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, থানা থেকে তাদেরকে হরতাল না করতে অনুরধ করা হয়েছে। আর কথা না শুনলে পুলিশ বাড়ী পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবেন বলে জানিয়েছেন।

দোহার থানা ছাত্রদলের সভাপতি জহিরুল ইসলাম জানান, দোহার থানার পরিস্থিতি রাজনৈতিক ভাবে বর্তমানে উপযোগী না। এছাড়া তারা সংগঠিত আছেন বলে জানান, দলের প্রয়েজনে তারা যে  কোন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে হরতালে বিএনপি মাঠে থাকলে রাজনৈতিক ভাবে তারাও মাঠে থাকবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা, তারা সকল কিছুই রাজনৈতিক ভাবেই মোকাবেলা করবেন বলে জানান।   

উল্লেখ্য দোহার নবাবগঞ্জ বিএনপি বর্তমানে নাজমুল হুদা এবং আঃ মান্নান গ্রুপে বিভক্ত। অন্যদিকে দোহার নবাবগঞ্জে আওয়ামীলীগ অ্যাড আঃ মান্নান, সালমান এফ রাহমান, মাহাবুব চেয়ারম্যান ছাড়াও কয়েকটি উপগ্রুপে বিভক্ত। যদিও উভয় দলই বিষয়টি রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব না বলে ব্যাপারটি প্রতিযোগিতা বলে অভিহিত করেন।