মোবারক হো মাহে রমজান: জীবনযাপন বদলে দেয়ার মাস

“মোবারক হো মাহে রমজান”। এসেছে সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজান। সোমবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গে জনজীবনে এসেছে পরিবর্তন। সবখানেই চলছে সেহরি, ইফতার আর তারাবির প্রস্তুতি।

 সন্ধ্যার পর থেকেই কর্মব্যস্ত মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেন। উদ্দেশ্য তারাবির নামাজ। এ কারণে দোহার-নবাবগঞ্জ সহ দেশের অন্যান্য মফস্বল শহরেরও রাস্তাঘাট অনেকটা ফাঁকা হতে থাকে।

রমজানের দিনগুলো আর অন্য সময়ের চেয়ে একেবারেই আলাদা। সেহরি খাওয়ার পর ফজরের নামাজ পড়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। ওঠেনও একটু দেরিতে। আর রমজান উপলক্ষে অফিসের সময়সূচিতেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। স্কুল-কলেজ তো বন্ধ থাকবে বলে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে। অবশ্য পুরো রমজানে বন্ধের বিষয়টি অনেকদিন পর এবারই প্রথম। এর আগে ১৫ রমজান পর্যন্ত স্কুল-কলেজ খোলা ছিল। তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তের মূলে যানজট। রমজানে যানজট কমাতেই এ ধরনের উদ্যোগ।

অফিসের সময়সূচি এবার নয়টা থেকে সাড়ে তিনটা। নির্ধারিত সময়ের আগে অফিস ছুটি। কারণটাও স্পষ্ট, ইফতারি। সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন ঘরে ফিরতে। শুরু করেন ইফতারের প্রস্তুতি।

ইফতার ঘিরে ব্যবসাও জমজমাট। নানা রকমের পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। অদ্ভূত ব্যাপার হলো, ইফতারির এত বেশি আইটেম করার পরও সবগুলোই বিক্রি হয়, ‍উদ্বৃত্ত থাকে না। 

ইফতারের পর মসজিদে মসজিদে চলে তারাবির নামাজ। মসজিদে থাকে উপচে পড়া ভিড়। অবশ্য রমজানের শেষদিকে এ ভিড় আর থাকে না। এভাবেই রমজানের দিনগুলো কাটে অনেকটা রুটিনমাফিক। বদলে যায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রার নিয়মাবলি।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, রমজানে তুলনামূলক অপরাধ কমে আসে। মানুষের মাঝে আসে পরিবর্তন। তবে ঈদের আগে আগে হঠাৎ করেই অপরাধ বেড়ে যায়। এ মাসেই আবার অনেকের মেজাজটা যেন একটু চড়া থাকে। হালকা বাকযুদ্ধে নেমে পড়েন অনেকে।

যারা রোজা থাকেন, তারা তো সেহরি থেকে ইফাতর পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকেনই। তবে যারা রোজা থাকেন না, প্রকাশ্যে খাওয়া থেকে বিরত থাকেন তারাও। বেশিরভাগ হোটেল-রেস্তোরাঁই বন্ধ থাকে। তবে যেগুলো খোলা থাকে, সেগুলোতে প্রবেশের মুখে থাকে পর্দা টাঙানো।

সবাই কথায়, কাজে, চিন্তাভাবনায় ও আচার-আচরণে সংযমী থাকার চেষ্টা করেন।

শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকাকেই রোজা বলে না, প্রবৃত্তি ও রিপুকেও দমন করতে হয়। তা করে আত্মশুদ্ধি লাভের চেষ্টায় থাকেন সবাই। এরই মাধ্যমে মহান আল্লাহর কৃপা ও অনুকম্পা লাভের সৌভাগ্য ও সুযোগ গ্রহণে সচেষ্ট হন ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

পবিত্র কুরআনের উক্ত আয়াতে সেহরি ও ইফতারের সময় আল্লাহ পাক নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন।

তোমরা পানাহার করো, যে পর্যন্ত না তোমাদের কাছে ভোরের কালো রেখা থেকে সাদা রেখা প্রকাশ পায়। অতঃপর রাত পর্যন্ত সিয়াম বা রোজা পালন করো। (সুরা বাকারা: ১৮৭)

বুখারি ও মুসলিম হাদিসে হজরত উমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, ‘সূর্যাস্তের পর যখন পূর্বদিক থেকে অন্ধকার হয়ে আসে এবং দিনের আলো পশ্চিম দিক থেকে সম্পূর্ণ চলে যায় তখন রোজাদারদের জন্য ইফতারের সময়’ (আরো দেখুন তফসিরে ইবনে কাসীর, দ্বিতীয় খ-, পৃ. ৯৮ ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ)।

আল্লাহ পাক আমাদের বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করুন এবং পবিত্র কুরআনের আদেশ-নিষেধ মেনে চলার তৌফিক দান করুন। আমিন।

নয়াবাড়িতে যুবতীকে গণধর্ষণ

স্টাফ রিপোর্টার: দোহার থানার নয়াবাড়ি ইউনিয়নের আন্তা গ্রামে সোনিয়া(২২) নামে এক যুবতি গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। যুবতীর পিতার নাম মৃত আঃ মেছের। জানা যায়, গত ২৫শে জুলাই মৃত মোঃ হারুনের ছেলে মোঃ শাহীন(২৪) ও আঃ রহিমের নাতি মোঃ পিন্টুর(২০) নেতৃতে ৬/৭ জন যুবক রাত আনুমানিক ১টার দিকে সোনিয়াদের বাড়ীতে গিয়ে ফরিদপুর থেকে বেড়াতে আসা সোনিয়ার খালাত ভাইকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে অকারণেই মারধোর ও গালিগালাজ শুরু করে। ঘটনার আকস্মিকতায় বিমুড় সোনিয়ার খালাত ভাই ঘরে ঢুকে খিল দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা চালায়। এরপর ধর্ষণকারীর দল সোনিয়ার ঘরের সামনে গিয়ে তাকে দরজা খুলতে বাধ্য করে।এরপর তারা সোনিয়াকে একই সাথে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এদিন সোনিয়ার মা বাড়ীতে ছিল না। উপরন্তু সোনিয়াদের বাড়ী আন্তার চরের একেবারে শেষপ্রান্তে হওয়াতে কেউ সাহায্যে এগিয়া আসতে পারেনি। বিষয়টি পরেরদিন জানাজানি হলে ধর্ষকেরা বিষয়টি ধামাচাপার চেষ্টা চালায়। এখন তারা ভিক্টিমের পরিবারকে বাড়াবাড়ি না করতে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এছাড়া তারা রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়ার ও চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে জানা গেছে, এ ব্যাপারে দোহার থানায় একটি মামলা নথিভুক্তি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইভটিজিং হওয়া সহ মাদক দ্রব্যের সহজলভ্যতা এবং শিলাকোঠা ও বাহ্রা স্কুলে বখাটেদের দৌরাত্ম্য ও তাদের যথাযথ শাস্তি না হওয়া এসবের মুল কারণ বলে এলাকাবাসি মনে করেন।

জয়পাড়া কলেজের ছাত্রদের উপর বহিরাগতদের হামলা

স্টাফ রিপোর্টার ♦ শনিবার দোহারের জয়পাড়া কলেজে বহিরাগত কিছু ছেল কলেজের ছাত্রদের উপর হামলা করে। প্রতিদিন বহিরাগতরা কলেজে আড্ডা দেয়। তারা কলজের ছাত্রদের মধ্যে মিশে থাকে। বহিরাগতদের ব্যাপারে ছাত্রদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে আজতে বহিরাগত ও ছাত্রদে মধ্যে সংঘর্ষ হয়। কলেজ চলাকালীন সময় জয়পাড়া কলেজের ক্যাম্পাসের ভেতরে ছাত্রদের উপর হামলা চালায় বহিরাগত সন্ত্রাসীরা। বহিরাগতরা ইট নিয়ে ছাত্রদের মারতে উদ্যত হয়। ছাত্ররা বহিরাগতদের ধাওয়া করলে তারা কলেজ থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার একটু পরেই পুলিশ এসে ছাত্র-ছাত্রীদের আশ্বস্ত করেন যে, যারা কলেজের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করা হয়েছে।

কলেজ চলাকালীন সময় বহিরাগতদের আড্ডার কারনে ছাত্র-ছাত্রীদের অসুবিধা হলেও, শিক্ষক ও ছাত্র নেতাদের উদাসীনতার কারনে প্রতিনিয়তই বাড়ছে বহিরাগতদের আনাগোনা। এরকম ঘটনায়  কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকে দায়ী করে। এই ঘটনার পর তারা কলেজের অধ্যক্ষ মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করে।

এমন ঘটনা আজকেই প্রথম নয়। বহুদিন ধরেই এই সমস্যাটি চলে আসছে। কলেজের ছাত্রদের সনাক্তকরন কোন চিহ্ন না থাকায় বহিরাগতরা সহজেই ছাত্রদের সাথে মিশে থাকতে পারে। কলেজ গেটেও কোনো নজরদারী ব্যবস্থা নেই। কলেজে চলাকালীন সময়ে ছাত্রদের অবশ্যই আইডি কার্ড প্রদর্শন করা উচিৎ।

কার্তিকপুর-জয়পাড়া সড়ক: অভিভাবকহীন দূর্গম, দুস্তর

মো: জাকির হোসেন: দোহার থানার প্রানকেন্দ্র বলা হয় জয়পাড়াকে, দোহার থানার বিভিন্ন প্রান্তের এবং নবাবগঞ্জের মানুষ জয়পাড়া আসেন তাদের নিত্য প্রয়োজনে। কিন্তু জয়পাড়া আসতে যে কয়েকটি রাস্তা রয়েছে তার প্রায় সবগুলোর অবস্থাই করুণ। এর মাঝে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত রাস্তাগুলোর একটি হচ্ছে কার্তিকপুর থেকে বাশতলা হয়ে জয়পাড়া বাজার পর্যন্ত রাস্তাটি। প্রতিদিন দোহার থানার পশ্চিমাঞ্চল ও নবাবগঞ্জ থানার অনুমানিক পনের হাজার মানুষ এই রাস্তাটি ব্যবহার করেন। বৃহস্পতিবার হাটের দিন তা প্রায় পচিশ হাজারে পৌছায়।

এই রাস্তায় চলাচল করে দোহারের অন্যতম বাস সার্ভিস নগর পরিবহনের বাস সহ যমুনা ও জয়পাড়া পরিবহনের বাস চলাচল করে। তাছাড়া মোটরসাইকেল , রিক্সা , ভ্যানও চলাচল করে। রাস্তার অবস্থা খারাপ হবার জন্য যানবাহনের সকল যাত্রীকে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। কার্তিকপুর থেকে জয়পাড়ার রাস্তা পরিদর্শন করে দেখা গেছে পুরো রাস্তার বেহাল অবস্থা। সারা রাস্তা জুড়েই গর্তে ভরা, রাস্তার অধিকাংশ যায়গাতে পীচ উধাও হয়ে গেছে। বৃষ্টির ঢলে রাস্তার পাশে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। ফলে মাঝে মধ্যেই ঘটে ছোটখাটো দূর্ঘটনা, রয়েছে বড় দূর্ঘটনা ও প্রানহানির আশংকা। কয়েকদিন আগেও এই রাস্তায় মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় প্রান হারিয়েছে এক শিশু। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে এতে মোটরসাইকেল আর শিশুটির যতটা না ভুল তার থেকে বেশি দোষ রাস্তার অবস্থার। এসব সত্বেও প্রশাসন এখানে পালন করছে নিরব ভুমিকা। এই ব্যাপারে কুসুমহাটির চোয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব দোহারীর সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন “ এই রাস্তাটির সড়ক জনপদ বিভাগের। তাই ইউনিয়ন পরিষদের এখানে কিছু করার নেই।” ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে রাস্তার ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা এই ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন “ তাদের এই নিয়ে কোন উদ্দ্যোগ নেই। এই রাস্তার দায়িত্ব সম্পূর্ণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের।” তবে খুব শিঘ্রই এই রাস্তার কাজ শুরু হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে এ পর্যন্ত তিন থেকে চার বার দোহার থানার পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে এই রাস্তা সংস্কার করা হয়। যে সব স্থানে গর্ত ছিল সেসব স্থানে ইট ও বালু দিয়ে ভরাট করা হয়। কিন্তু এসবের ফলে হয়তো সাময়িক ভাল ফলাফল পাওয়া যায় এবং কয়েকদিন ভালো থাকার পর রাস্তার অবস্থা সেই আগের মতোই হয়ে যায়। পরিবহন মালিক সমিতি, পরিবহন শ্রমিক সমিতি সহ সকল স্তরের মানুষ রাস্তাটির দ্রুত সংস্কারের দাবি বার বার জানিয়েছেন। কিন্তু তারপরও কোন ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে না রাস্তাটি সংস্কারের জন্য।  এই এলাকার ইউনিয়ন পারিষদগুলোর জনপ্রতিনিধিরা সড়কটিকে অন্য দপ্তারের অধীন বলে নিজেদের দ্বায়িত্ব এড়াতে পারেন না, বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগের দৃষ্টিগোচরে আনার দ্বায়িত্ব জনপ্রতিনিধিদেরই।

Road

নবাবগঞ্জের কলেজগুলোর এইসএসসি পরীক্ষার ফলাফল

নিউজ ৩৯ ডেস্ক

নবাবগঞ্জে অবস্থিত দোহার নবাবগঞ্জ কলেজের এইসএসসি ২০১১ এর ফলাফল:

বিভাগ মোট পরীক্ষার্থী কৃতকার্য অকৃতকার্য জিপিএ-৫ পাশের হার
বিজ্ঞান ৮৯ ৫৮ ৩১ ৬৫.১৭%
মানবিক ১৩৮ ৭০ ৬৮ ৫০.৭২%
ব্যবসায় শিক্ষা ৪৮০ ৩০৫ ১৭৫ ৬৩.৫৪%
মোট ৭০৭ ৪৩৩ ২৭৪ ৬১.২৪

দোহার নবাবগঞ্জ কলেজ হতে একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে জিপিএ-৫ পেয়েছেন বিজ্ঞান বিভাগের রমা সাহা।

নবাবগঞ্জ গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ হতে ৯৯ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, এর মধ্যে ৭৩ জন পাশ করেছে ও ২৬ জন এফ গ্রেড পেয়েছে এবং তিন জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

শিকারীপাড়ায় অবস্থিত তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী কলেজের ফলাফল:

বিভাগ মোট পরীক্ষার্থী কৃতকার্য অকৃতকার্য জিপিএ-৫ পাশের হার
            
মানবিক ১২৯ ৯৯ ৩০ ৭৬.৭৪%
ব্যবসায় শিক্ষা ৭৪ ৫৪ ২০ ৭২.৯৭%
মোট ২০৩ ১৫৩ ৫০ ৭৫.৩৭

উল্লেখ্য, এই কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ নেই।

জয়পাড়ায় হলে আবার অশ্লীল সিনেমা প্রদর্শন

নিউজ ৩৯ ডেস্ক ♦ সিনেমা হল মানুষের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র। এক সময় পরিবারের সবাইকে নিয়ে মানুষ দল বেধে সিনেমা হলে ছায়াছবি দেখতে যেত। কিন্তু অশ্লীল সিনেমা প্রর্দশন ও পাইরেসির কারনে সিনেমা হলের সেই অবস্থা এখন আর নেই। মাঝে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেও কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হয়েছে অশ্লীল সিনেমা প্রদর্শন। কয়েক মাস বিরতি দিয়ে জয়পাড়ার কিছুক্ষন সিনেমা হলে আবার শুরু হয়েছে অশ্লীল সিনেমা প্রদর্শনী।

কয়েক মাস পূর্বে যখন এই অশ্লীল সিনেমা নিয়ে নিউজ ৩৯ থেকে রির্পোট করা হলে তা দোহার নবাবগঞ্জে সাড়া ফেলে। এর পর মনে করা হয়েছিল যে দোহারে অশ্লীল সিনেমা প্রদর্শন কিছুদিনের জন্য হলেও বন্ধ থাকবে। কিন্তু আবার শুরু হয়েছে প্রদর্শন। রাস্তা ঘাট ছেয়ে ফেলা হয়েছে এই অশ্লীল সিনেমার পোস্টার দিয়ে। ফলে রুচিশীল মানুষের পক্ষে রাস্তায় বেরোনো দায় হয়ে পড়েছে। সাধারন মানুষ এই ব্যাপারে যেমন প্রচন্ড বিরক্ত তেমনি এর কুফল নিয়েও রয়েছে আতঙ্কে। সমস্যায় পড়তে হচ্ছে স্কুল কলেজের ছাত্রীদেরও। তারপরও এ নিয়ে প্রশাসন নিশ্চুপ। তারা নিচ্ছে না কার্যকরী কোন ব্যাবস্থা। দোহারে কয়েক মাস ধরে আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে ইভটিজিং-এর ঘটনা। সাধারন মানুষের মতে এর জন্য অনেকটাই দায়ী এরকম সিনেমা প্রদর্শন। এসব সিনেমার মূল দর্শক মূলত উঠতি বয়সী ছেলে ও শ্রমিক শ্রেণীর জনগন। কয়েক দিন দোহার থানার এক স্বনামধন্য উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে জরিয়ে ধরে রাজ মিস্ত্রীর কাজ করা এক ছেলে। এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বললে ভুল হবে বলে মনে করেন বিশিসষ্টজনেরা। দোহারের বিভিন্ন স্থানে সাটিয়ে দেয়া হচ্ছে এসব পোস্টার। এর মধ্যে রয়েছে থানার মোড়ের বাস স্টেন্ডের সামনে, জয়পাড়া ব্রিজের মুখে। মুলত যেখানে সবার চোখ পড়ে সেখানেই লাগানো হয়েছে এসব পোস্টার। যার ফলে রাস্তা ঘাটে মানুষ হচ্ছে বিব্রত। কিন্তু এই নিয়ে প্রশাসনের কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই। এই নিয়ে মানসিক ডাক্তার ডা: ফরিদের কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন “এই সব সিনেমা মানুষের মানসিক অবস্থাকে প্রচন্ড রকমের আঘাত করে। যার ফলে তার মাঝে সৃস্টি হয় নান রকম মানুষিক অস্থিরতা যা তাকে বাধ্য করে ইভটিজিং এর মত নানা রকম অপরাধ করতে।” এত কিছুর পরও বন্ধ করা যাচ্ছে না সিনেমা হলে এসব অশ্লীল সিনেমা প্রদর্শন। এই অশ্লীল সিনেমার হাত থেকে কি মুক্তি নেই দোহারবাসীর?

দোহার-নবাবগঞ্জে ডাকাতি পরিস্থিতি: আতংকের রাতযাপন

মো: আল-আমিন ♦ “প্রায় ১ বছর দোহার নবাবগঞ্জবাসী স্বস্থিতে ছিলেন। শোনা যায়নি তেমন চুরি, ডাকাতির কোন ঘটনা। কিন্তু হটাৎ বেশ কিছু দিন যাবত দেখা যাচ্ছে ডাকাতির ঘটনা। আজ এ বাড়িতে কাল ও বাড়িতে। গত সপ্তাহে এ গ্রামে আবার অন্য সপ্তাহে অন্য গ্রামে।” এমনি বলছিলেন বারুয়াখালী ইউনিয়নের এক যুবক আহাদ বিশ্বাস। এলাকর জনগনের কাছ থেকে জানা গেল ডাকাতির অনেক ঘটনা, থানায়ও যার প্রমাণ মিলে। সাম্প্রতিক ডাকাতির ঘটনাগুলো বিশ্লেশন করে দেখা যায় নবাবগঞ্জের পশ্চিমাঞ্চল ও দোহারের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলে ডাকাতির পরিমান বেশী। এর কারণ বিশ্লেষন করেন ১নং রাজাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো: মোসলেম উদ্দিন। তিনি বলেন, নবাবগঞ্জের পশ্চিম অঞ্চল থানা থেকে বেশ দূরে। যোগাযোগের ব্যবস্থা ভালো নয়। থানা থেকে পুলিশ রওনা দেবার পর ঘটনাস্থলে পৌছুতে প্রায় ১ ঘন্টা সময় লাগে। আর ডাকাতি করতে বড় জোর সময় লাগে আধা থেকে পৌনে এক ঘন্টা। আর এসব অঞ্চলে পুলিশের টহল নেই বললেই চলে। এবং মাঝে মাঝে এমনও দেখা যায় যে বড় ধরনের কোন ঘটনা ঘটলেও পুলিশ আসতে চায় না। এজন্য ডাকাতরা বরাবরই সাহস একটু বেশি পায়। ঠিক একই কারনে দোহারের নদীরতীরবর্তী ইউনিয়ন গুলোতে ডাকাতি বেশি হয়। নয়াবাড়ী, মাহমুদপুর, বিলাশপুর, নারিশায় তাই ডাকাতির পরিমান বেশি এবং বর্ষার সময় বৃদ্ধি পায়। মাঝে মাঝেই নদীতে বেওয়ারিশ লাশ ভেসে আসা, ডাকাতি আর চুরির ঘটনা এখানে নিত্য নৈমতিক ঘটনা। এসব ঘটনার স্টেটমেন্ট থানা থেকে জানতে চাইলে থানা থেকে নানা অজুহাত দেখান এবং তা দিতে অসমত্তি জানান থানার দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা।

গত বেশ কয়েক মাস প্রায় প্রতি রাতেই ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। ডাকাতি একটি আতঙ্ক। এ থেকে মুক্তি মেলে না দোহার নবাবগঞ্জের শান্তিপ্রিয় জনগনের। কে বা কারা করছে এসব ঘটনা? পুলিশ কি পারবে এসব ডাকাত বা চোরদের নির্মূল করতে? নাকি বাংলাদেশের মানচিত্রে দোহার নবাবগঞ্জ ডাকাতিপ্রবণ এলাকা হিসাবে চিন্হিত হবে?

নবাবগঞ্জে সরকারী সম্পত্তি দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার♦ ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিকারীপাড়া বাজারে সরকারী সম্পত্তি আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী মহলের নেতৃত্বে জোরপূর্বক দখল করে ১১টি দোকান ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় মো: সিদ্দিক খানের নেতৃত্বে শিকারীপাড়া সরকারী সম্পত্তি ও গতিগাড়ির স্ট্যান্ডের জায়গাটি জোরপূর্বক দখল করে পাকা টিনসেট ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেয়ার অভিযোগ উঠে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ৭টি দোকান ঘর নির্মাণ, ৪ দোকান ঘর নির্মাণের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি দোকান ঘর ১ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া এবং জামানত বাবদ ৪০/৫০ হাজার টাকা করে নেয়া হবে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানায়। ঘটনার সংবাদ পেয়ে সহকারী কমিশনার ভুমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দোকান নির্মাণ বন্ধ করে দেয়। 

এলাকাবাসির সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় লোকজন মৌখিকভাবে জায়গাটি মাদ্রসার নামে ও সরকারীভাবে গতিগাড়ি স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার নির্দেশ দিয়েছে। বাস স্ট্যান্ড থেকে যে টাকা উঠানো হয় সেই টাকা মাদ্রাসার এতিমদের খাবার বাবদ দেয়া হয়। স্বার্থান্বেষী মহল জোরপূর্বক জায়গাটি দখল করে দোকান পাঠ নির্মাণ করে ভাড়ার প্রক্রিয়া করছে।

সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার ভুইয়া বলেন, সরকারী অর্থায়নে সরকারী জমিতে মাটি ভরাট করে গতি গাড়ির স্ট্যান্ড করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এতিমখানা হওয়ার সকলের সহযোগিতা স্ট্যান্ড থেকেয় টাকা উত্তোলন করে এতিমদের ভরনপোষণ করা হয়। জায়গাটি হাতছাড়া হয়ে গেলে এতিমরা অসহায় হয়ে পড়বে।

মো: সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, সরকারী সম্পত্তিতে দোকান নির্মাণ করা হয়নি।  আমাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। কুচক্রী মহল আমাকে হেয়পন্ন করার জন্য দখলের কথা বলছে।

এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভুমি) আজিজ হায়দার ভূইয়া বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে সরকারী জায়গাটি চিহিৃত করে দোকান নির্মাণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে সরকারী সম্পত্তি কারো নামে লীজ দেয়া হয়নি। বাজারটি ফেরী আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে স্থানীয় লোকজনদের মাঝে দোকান বরাদ্ধ দেয়া হবে।

ইতিহাসের এই দিনে: ১৮ জুলাই

0

ইতিহাসের এই দিনে: ১৮ জুলাই

৭১৫: সিরিয়ার উমাইয়া খিলাফতের জেনারেল মুহাম্মদ বিন কাসিম মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তার বাহিনী নিয়ে পান্জাব পর্যন্ত এসেছিলেন।

১১৭: ইংরেজ উপন্যাসিক জেন অস্টেন মৃত্যূবরণ করেন।

১৯২৫: এডলফ হিটলার তার আত্মজীবনী ‘মাইন ক্যাম্ফ’ বা ‘আমার সংগ্রাম’ প্রকাশ করেন।

১৯৫৫: প্রথম ডিজনীল্যান্ড থিম পার্ক জনগনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয় ক্যালিফোর্নিয়ার আনাহেইমে।

১৯৬৮: আমেরিকার সান্টা ক্লারায় ইন্টেল কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮৪৮: বৃটিশ কৃকেটার উইলিয়াম গিলবার্ট গ্রেস জন্মগ্রহণ করেন। তাকে আধুনিক কৃকেটের জনক বলা হয়।

ইলিয়াম গিলবার্ট গ্রেস

১৯৪৯: অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তী পেসার ডেনিস লিলি জন্মগ্রহণ করেন।

আজ:

উরুগুয়ের সংবিধান দিবস

নেলসন মেন্ডেলা দিবস

জয়পাড়া কলেজ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতে হচ্ছে বিভিন্ন মার্কেটের ফ্রেশরুম

আছিফুর রহমান ♦ দোহার থানার প্রানকেন্দ্র জয়পাড়ায় অবস্থিত জয়পাড়া কলেজ এই উপজেলার অন্যতম বিদ্যাপাঠ কেন্দ্র। এই উপজেলার প্রায় ১০০০ ছাত্র ছাত্রী এই কলেজে বর্তমানে অধ্যয়ন করছে। কিন্তু এত ছাত্র ছাত্রীকে জয়পাড়া কলেজ কতৃপক্ষ দিতে পাড়ছে না পর্যাপ্ত শিক্ষার সুব্যবস্থা। নানা অসুবিধায় বির্পযস্ত বর্তমানে এই কলেজ। ফলে বর্তমানে ব্যহত হচ্ছে এই কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম।
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত জয়পাড়া কলেজ বর্তমানে নানা অসুবিধায় বির্পযস্ত। কলেজে নেই তেমন কোন বিনোদনের ব্যবস্থা। নেই ছেলেদের জন্য কোন কমন রুম। সরজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে ছেলেদের  ফ্রেশরুমের অবস্থা খারাপ; মেয়েদের  ফ্রেশরুমও তেমনি। ফ্রেশরুমগুলো চুড়ান্ত রকমের নোংরা। দরকার না হলে কেউ ফ্রেশরুমমুখি হয় না। তাছাড়া ফ্রেশরুমে বেশির ভাগ সময় পানি থাকে না। আর নতুন ভবনের ছাদে পানির ট্যাংক থাকলেও সেখানে পানি বেশির ভাগ সময় থাকে না। আর পুরাতন ভবনের পানির ট্যাংক বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এই ভবনের বাথরুমে প্রত্যকদিন সকাল বেলা কলেজের আয়ার দ্বারা পানির ব্যবস্থা করা হয়। তাই এই ব্যাপার নিয়ে ছাত্র ছাত্রীরা অস্বস্থিকর পরিস্থিতিতে পড়ে। বেশির ভাগ সময় তারা ব্যবহার করছে বিভিন্ন ব্যাংক বা মার্কেটের ফ্রেশরুম। যার জন্য তারা মাঝে মাঝেই অনাকাঙ্খিত ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছে।
কলেজে নতুন ভবন হলেও এখানেও নেই ছেলেদের জন্য কোন কমন রুম। আর মেয়েদের নামমাত্র কমন রুম থাকলেও সেখানে নেই কমনরুমের কোন সুবিধা। কলেজে নেই ছাত্র ছাত্রীদের জন্য কোন পত্রিকা বা ম্যাগাজিনের ব্যবস্থা। ফলে ছাত্র ছাত্রীরা তাদের অবসর সময়টা অহেতুক আড্ডা বা ঘুরাঘুরি করে কাটায়। যার ফলে ছাত্র ছাত্রীরা বিচূত্য হয়ে যাচ্ছে বর্তমান তথ্যবিশ্ব থেকে। যা আধুনিক সমাজ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করছে।