নবাবগঞ্জে নির্বাচনের পর প্রতিপক্ষের উপর হামলা: থানায় মামলা

ফারুক আহমেদ ♦ ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার চুড়াইন ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনের পর আব্দুল বাছেদ মিয়ার ছেলে প্রতিপক্ষ সমর্থক তারা মিয়াকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন সন্ধ্যায় চুড়াইন গোবিন্দপুর বাজার হতে মোঃ নুরুল ইসলাম হাজীর ছেলে তারা মিয়া বাড়ি যাবার পথে আব্দুল বাছেদ মিয়ার ছেলে বাবু ওরফে রাজিব তার গতিরোধ করে অর্তকিতভাবে হামলা চালায়। তারা মিয়াকে লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাথারীভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। আহত অবস্থায় নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন নবাবগঞ্জ চুড়াইন ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক পক্ষ অন্য পক্ষের নির্বাচনে সমর্থন করা নিয়ে এ ঘটনা ঘটে।

পদ্মার পানি বৃদ্ধি: ভাঙনের আতংকে পদ্মাপাড়ের মানুষ

ঢাকা জেলার সবচে’ ছোট উপজেলা দোহার, ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে এর গঠন। আর এর দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বাংলাদেশের অন্যতম বড় নদী পদ্মা। নয়াবাড়ী, কুসুমহাটি, বিলাসপুর, নারিশা সহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়েনর রয়েছে পদ্মার সাথে যোগ। প্রমত্তা পদ্মা এই ইউনিয়নগুলোর আকার আয়তন নিয়ন্ত্রণ করে ইচ্ছে মতো।ইতোমধ্যে পদ্মার করাল গ্রাসে নয়াবাড়ী ইউনিয়নের অরঙ্গবাদ, পানকুন্ডু, পশ্চিম ধোয়াইর ও বাহ্রার কিছু অংশ বিলিন হয়ে গেছে পদ্মার বুকে।

অরঙ্গবাদ থেকে পানকুন্ডু পর্যন্ত চর পড়ায় ওই এলাকার মানুষ পদ্মার ভাঙ্গনের ভয় কাটিয়ে উঠলেও, পানি বাড়ায় আতংকিত হয়ে পড়েছে  পানকুন্ডু, পশ্চিম ধোয়াইর ও বাহ্রা গ্রামের অধিকাংশ মানুষ। ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় শত বছরের পুরোনো ভিটে-মাটি হারানোর ভয়ে চোখে ঘুম নেই অনেকের। বিকেল হলেই বয়বৃদ্ধদের বিমর্ষ মুখে পদ্মার পাড়ে বসে থাকতে দেখা যায়।

পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ করতে করতে কাঁদতেও দেখা যায় কাউকে কাউকে, হাত তুলে প্রার্থনা করেন যেন এই পৈত্রিক মাটিতেই শায়িত হবার সুযোগ পান।কুসুমহাটি ইউনিয়নের দেওভোগ গ্রামের অনেক অংশই এখন পদ্মার বুকে। যেটুকো বাকি আছে সেটুকো রয়েছে আশংকাজনক আবস্থায়। ইতোমধ্যে চলে এসেছে বর্ষা ঋতু, এবং পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে ভাঙ্গনের মাত্রাও বেড়ে গেছে। পানির তোড়ে আলগা হয়ে যাচ্ছে মাটি। ফলে যখন তখনই নদী গর্ভে ভেঙ্গে পড়ছে জমি।

a

ছবি: বাহ্রাঘাটে নদীর পাড় ভাঙ্গছে 

(চলবে)

 

নবাবগঞ্জে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ: কেন্দ্রের পেছন হতে ব্যালট মুরি উদ্ধার

নিউজ ৩৯ ♦ ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ৫নং শোল্লা ইউনিয়নের ২টি ভোট কেন্দ্রের অনিয়মের অভিযোগে উপজেলা চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল হয়। ১টি কেন্দ্রে হতে ১শত ব্যালট মুরি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধারের পর পরাজিত প্রার্থীদের সমর্থকগণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাচন অফিসারের বরাবর ফলাফল বাতিলের আবেদন করেন। ভোটের পরদিন সকালে মুড়িগুলো কেন্দ্রের পেছনে পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেগুলোতে সিল দেয়া ছিল কিন্তু সাক্ষর করা ছিল না। শিশুরা খেলতে গিয়ে সেগুলো পায়। এলাকাবাসী শিশুদের হাতে লাল কাগজ দেখে কৌতুহলী হয়ে দেখেন যে সেগুলো ভোটের মুড়ি।

১৭ জুন বিকাল ৫টায় উপজেলা চত্বরে চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন খান ও মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকগণ বিক্ষোভ মিছিল করে। চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন খান ও নাসির আহসান পলাশ লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, প্রিজাইডিং অফিসার অজিত কুমার সাহা সুলতানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাবু অজিত কুমার চকোরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে লিখিত ফলাফল না দিয়ে মৌখিকভাবে ফলাফল ঘোষণা দিয়ে উপজেলায় নিয়ে আসে। ৮নং সুলতানপুর ভোট কেন্দ্র মৌখিকভাবে ৮৬৭ বলা হলেও উপজেলায় এসে ৬শত প্রকাশ করা হয় এবং চকোরিয়া কেন্দ্রে ৫৩৬ এর স্থলে ৪০৫ দেখানো হয়েছে, এবং পরদিন সকালেই সুলতানপুর কেন্দ্রে প্রিজাইটিং অফিসারের রুমের পিছনে ১শত ব্যালটের মুরি বইয়ের পাতা পাওয়া গেছে। এঘটনায় ২জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও মেম্বার প্রার্থীরা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

প্রিজাইটিং অফিসার অজিত কুমার সাহা বলেন, “আমার জানামতে কেন্দ্রে কোন মুরি বই নেই। ভুলবশত থাকতে পারে। তবে কোন অনিয়ম হয়নি।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আসলাম হোসেন বলেন, “অনিয়নের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গতকাল রাত নয়টার দিকে কেন্দ্রসমূহ থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে মোঃ দেলোয়ার হোসেন খান (আনারস) বিজয়ী হয়েছেন। কিন্তু ভোট গণনা শেষে গভীর রাতে ঘোষণা করা হয় যে মোঃ ফজলুল হক (দেওয়াল ঘড়ি) বিজয়ী হয়েছেন।

 

ছবি: বিকেলে তদন্তের ফলাফলের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অপেক্ষারত শোল্লা ইউনিয়নবাসী

নবাবগঞ্জে ১৪ ইউনিয়নে বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ

মাসুম পারভেজ রবিন ♦ শিকারীপাড়া ইউনিয়নে বিজয়ী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলীমুর রহমান খান পিয়ারা, তিনি কাপ পিরিচ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন।

জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে বিজয়ী হন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ মোতাহার হোসেন (আনারস) বিজয়ী হয়েছেন।

বারুয়াখালী ইউনিয়নে আব্দুল্লাহ আল মামুন খান (আনারস)বিজয়ী হয়েছেন।

নয়নশ্রী ইউনিয়ন মোঃ পলাশ চৌধুরী (দেওয়াল ঘড়ি) বিজয়ী হয়েছেন।

যন্ত্রাইল ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী নন্দলাল সিং (গরুর গাড়ি) বিজয়ী হয়েছেন।

বান্দুরা ইউ ইউনিয়নে বিএনপি  সমর্থিত বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ হিল্লাল মিয়া (আনারস) বিজয়ী হয়েছেন।

কলাকোপা ইউনিয়নে তৈয়ব আহমেদ (দেয়াল ঘড়ি) বিজয়ী হয়েছেন।

বক্সনগর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান এরশাদ আল মামুন (তালা) বিজয়ী হয়েছেন।

বাহ্রা ইউনিয়নে খোন্দকার আশফাক সমর্থিত প্রার্থী মোঃ সুবেদুজ্জামান সুবেদ (দেয়াল ঘড়ি) বিজয়ী হয়েছেন।

কৈইলাইল ইউনিয়ন বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ মোক্তার হোসেন (চশমা)বিজয়ী হয়েছেন।

আগলা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি’র একাংশের সভাপতি আবেদ হোসেন (দেয়াল ঘড়ি) বিজয়ী হয়েছেন।।

গালিমপুর ইউনিয়নে ছাত্রদল নেতা তপন মোল্লা (দোয়াত কলম) বিজয়ী হয়েছেন।

চুড়াইন ইউনিয়নে আবু সাইদ (আনারস) বিজয়ী হয়েছেন।

শোল্লা ইউনিয়নে মোঃ ফজলুল হক ফজল (দেওয়াল ঘড়ি) বিজয়ী হয়েছেন।

 

ছবি: বান্দুরা ইউনিয়নের সাদাপুর কেন্দ্রের বাইরে ভোটদানের সময়সীমা শেষ হবার পর ফলাফলের অপেক্ষায় ভোটারগণ

কলাকোপায় নাটকীয়তার পর তৈয়ব আহমেদের জয়

তৈয়ব আহমেদ দীর্ঘ ৩৪ বছর যাবৎ কলাকোপায় চেয়ারম্যনের দ্বায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। রাত পৌনে নয়টার দিকে কেন্দ্রগুলো হতে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে  খবর ছড়িয়ে পড়ে অঅল্প কিছু ভোটে উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ও নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ ইব্রাহিম খলিল (আনারস) বিজয়ী হয়েছেন। তার সমর্থকরা বিজয় মিছিল করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর তৈয়ব আহমেদের সমর্থকরাও স্লোগান করে। কিন্তু তখনো একটি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া যায় নি, যেটির ফল যুক্ত হবার পর পাল্টে যায় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদের ফলাফল। রাত এগারোটার দিকে ঘোষণা আসে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তৈয়ব আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।

বান্দুরায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ

নিউজ ৩৯

বান্দুরায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ বান্দুরায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হিল্লালের বিরুদ্ধে আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ এনেছেন,অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাদাত হোসেন। তিনি তার অভিযোগে বলেন, গত শনিবার রাত ৮টার দিকে চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাদাত হোসেন তার প্রচার অভিযানের অংশ হিসেবে দোহার নবাবগঞ্জ কলেজের শিক্ষক আঃ মালেক, স্থানীয় নিখিল গোমেজ সহ প্রায় ২০/২২ জন কর্মী-সমর্থক নিয়া ভোট চাইতে গেলে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান হিল্লাল মিয়ার সমর্থকেরা তাকে বাধা প্রদান করে; অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য তিনি নিখিল গোমেজের বাড়ীতে আশ্রয় নেন। কিন্তু হিল্লোলের সমর্থকেরা বাড়ীর বাইরে থেকে তাকে হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি নবাবগঞ্জ থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় জনাব হিল্লাল সেখানে এসে পৌঁছেলে তার মোটরবাইকটিতে ON TEST লেখা থাকায় তার মোটরবাইকটি আটক করে। তখন সেখানে হিল্লালসহ তার কর্মী-সমর্থক মৃণাল, রজ্জব,জসিম, রাজিব, উজ্জ্বল, সাহাদাত, অনন্ত হালদার আরও অনেকে উপস্থিত ছিল। বিষয়টি শাহাদাত হোসেন TNO, ASP, OC, Election Officer কে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান। তিনি নিউজ ৩৯ কে জানান, এর আগেও হিল্লালের সমর্থকেরা তাকে হিন্দু ও খ্রিস্টান পল্লীতে ঢুকতে বাধা প্রদান করে। এ ব্যাপারে নিউজ ৩৯ থেকে জনাব হিল্লালের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন কল কেটে দেন।

নবাবগঞ্জে ইউপি নির্বাচনে নতুন প্রার্থীদের ব্যাপক নির্বাচনী প্রচার

ফারুক আহমেদ সজল ♦ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চলছে নানা হিসাব নিকাশ। প্রার্থীরা যে যার মতো করে ভোটারের বাড়ী বাড়ী হেটে চলছেন। নানা কৌশলে ভোটারের মনের ভিতর জায়গা করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সকাল, দুপুর, গভীর রাত পর্যন্ত জনসংযোগে ব্যয় করে যাচ্ছেন। ভোট ভিক্ষায় বসে নাই প্রার্থী সমর্থক আত্মীয়-স্বজনরা। দেশের বাইরে থেকেও প্রার্থীর সমর্থনে ভোট ভিক্ষা করছেন অনেক প্রার্থীর আপনজন। প্রার্থীরা কেউ কেউ মহল্লায় মহল্লায় বিভিন্ন ইমেজের লোকদের নিয়ে নিজের পাল্লা ভারী করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নাওয়া খাওয়া ঘুম সব কিছু পিছন ফেলে চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মহিলা মেম্বার প্রার্থীরা মরিয়া হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশা, ধনী-গরীব সব ধরনের লোক প্রার্থী হয়েছেন। দিন মজুর থেকে কোটিপতিরা প্রার্থী হয়ে ভোটারের কাছে ভোট ভিক্ষায় এক কাতারে নেমে পড়েছেন। নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়নে ৮৫ জন চেয়ারম্যান, ৪৩০ জন মেম্বার, ১২০ জন মহিলা প্রার্থী নিজ নিজ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের আচরণ বিধি কঠোরতা থাকায় প্রার্থীদের শোডাউনের কোন মহড়া দেখতে পাওয়া যায় না। ফলে আইন শৃংখলা স্বাভাবিক থাকায় সাধারণ মানুষ অনেকটা স্বস্তির নিঃশাস ফেলছেন। শোডাউন, মহড়া, মাইকিং, জনসভা প্রকাশ্যে করতে না পারায় প্রার্থীরা নিজস্ব যোগ্যতা ভোটারের কাছে কাছে তুলে ধরতে –সুবিধা হচ্ছে। এর ফলে ভোটারদের পক্ষে প্রার্থীদের বিভিন্ন যোগ্যতার মাপ কাঠির মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে। দলীয় প্রভাব কিছুটা কাজে লাগলেও ব্যক্তি যোগ্যতা বিশেষভাবে মূল্য হয়ে পড়েছে। তবে দর্লীয় প্রার্থী একক থাকলে কিছুটা সুবিধা হলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিপর্যয় হওয়ার আশংকা থাকে। ইউনিয়ন নির্বাচনে এলাকা ও ব্যক্তি ইমেজের বিশেষ গুরুত্বের কারনে বিজয়ের পথ সহজ হয়। ১৪টি ইউনিয়নে ২ লক্ষ ২৯ হাজার ১৬ জন ভোটার, ১৩২টি কেন্দ্রে ৬ শত ৫২ কক্ষে অস্থায়ী ভোট কেন্দ্র ৪টি, অস্থায়ী বুথ ২৩টি রয়েছে।

১। শিকারীপাড়া ইউনিয়ন: ১১ হাজার ৬ শত ৭৫ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৩ শত ৬৩ জন, মহিলা ৬ হাজার ৩ শত ১২ জন। ভোটারের মধ্যে ৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করেছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান এম. এ. জব্বার (তালা) সহ অন্যান্যরা হলেন থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলীমুর রহমান খান পিয়ারা (কাপ পিরিচ), ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আঃ সালাম (গরুর গাড়ী) ও আঃ গফুর মোল্লা (আনারস)। আপন চাচা ভাতিজা বর্তমান চেয়ারম্যান এম. এ. জব্বার আর গফুর মোল্লা। চাচা ভাতিজার লড়াই নির্বাচনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী ২ জন হওয়ায় নির্বাচনী হাওয়া ভোটারের মাঝে বৈরী হওয়ার অশনি সংকেত দিচ্ছে। পুরুষ সদস্য ৯টি পদে ৩২ জন, মহিলা ৩টি পদে ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

২। জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন: পদ্মা নদীর কুল ঘেষে এক বিছিন্ন জনপদ; মোট ভোটার ১০ হাজার ৬ শত ১৮ জন, মহিলা ৫ হাজার ৬ শত ৩৭ ও পুরুষ ভোটার ৪ হাজার ৯ শত ৮১ জন। বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদ আহম্মেদ (দেওয়াল ঘড়ি) ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ মোতাহার হোসেন (আনারস), মোঃ মজনু দেওয়ান (গরুর গাড়ি), আব্দুল কাদের (তালা)। অবহেলিত জনপথ হিসেবে বিগত আমলে উন্নয়নের তেমন ছোয়া লাগেনি। পুরুষ সাধারণ সদস্য ৯টি পদে ২৯ জন ও মহিলা ৩টি পদে ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

৩। বারুয়াখালী ইউনিয়ন: ৯ হাজার ৮ শত ৩৪ ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৪ হাজার ৪ শত ৪৫ জন। বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ মোঃ রজ্জব মোল্লা (দেওয়াল ঘড়ি), ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী মোঃ রওমন আলী (দোয়াত কলম) সহ আব্দুল্লাহ আল মামুন খান (আনারস), পুরুষ সদস্য পদে ২৫ জন ও মহিলা ৩টি পদে ৯ জন প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

৪। নয়নশ্রী ইউনিয়ন: ১৭ হাজার ৩শত ৮৪ জন ভোটারের মধ্যে ৭ হাজার ৬ শত ৩৮ জন পুরুষ, ৯ হাজার ৭ শত ৪৭ জন মহিলা ভোটার রয়েছে। আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিতি থাকলেও ইউনিয়ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান খান পান্নু (দোয়াত কলম), সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজ উদ্দিন আহমেদ কাজল (জাহাজ), যুবদল নেতা জাহিদুল হক জুয়েল (গরুর গাড়ি), যুবলীগ নেতা ফারুক হোসেন (তালা), মোঃ মাসুদ মোল্লা (মাইক), মোঃ পলাশ চৌধুরী (দেওয়াল ঘড়ি), মোঃ হাবিবুর রহমান (আনারস)। সাধারণ সদস্য ৯টি পদে ৩৬ জন, মহিলা ৩টি পদে ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

৫। শোল্লা ইউনিয়ন: শোল্লা ইউনিয়ন উপজেলার সর্ববৃহৎ ইউনিয়ন জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে। যে কোন নির্বাচনে শোল্লা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ২৩ হাজার ৯ শত ৫৮ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ৪৯ জন, মহিলা ১২ হাজার ৯ শত ৯ জন ভোটার রয়েছে। আওয়ামী লীগের অন্যতম ঘাটি হিসেবে পরিচিত ইউনিয়ন থাকায় দলীয় প্রার্থীর সংখ্যাও বিগত নির্বাচনের চেয়ে কয়েকগুন বেশী। ২ বারে শ্রেষ্ঠ ও স্বর্ণপদক প্রাপ্ত বর্তমান চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধক্ষ্য মিজানুর রহমান ভূইয়া কিসমত (দোয়াত কলম) সহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন খান (আনারস), থানা কৃষক লীগের আহবায়ক দেওয়ান জামাল উদ্দিন আহমেদ (তালা), আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল আওয়াল দেওয়ান ( গরুর গাড়ি), বিএনপি নেতা নাসির আহসান পলাশ (জাহাজ), ও মোঃ ফজলুল হক (দেওয়াল ঘড়ি)। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারনে হয়তো ইউনিয়নটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হওয়ার আশংকা রয়েছে। সাধারণ সদস্য ৯টি পদে ৩৫ জন, মহিলা ওয়ার্ডের ৩টি পদে ১৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

৬। যন্ত্রাইল ইউনিয়ন: যন্ত্রাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অন্যতম ঘাটি হলেও ইউনিয়ন নির্বাচনে হিসাব নিকাশ উলোট পালট হয়ে যায়। বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মোঃ বারেকুর রহমান বারেক (কাপ পিরিচ), সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুজ্জামান (দেওয়াল ঘড়ি) সহ ৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। নন্দলাল সিং (গরুর গাড়ি), এডভোকেট আনন্দ চন্দ্র বিশ্বাস (পিপি) (আনারস) , দোহার নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুক্তার হোসেন (তালা)। মহিলা ৩টি ওয়ার্ডে ৮ জন ও পুরুষ ৯টি সদস্য পদে ২৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

৭। বান্দুরা ইউনিয়ন: বান্দুরা ইউনিয়ন হিন্দু, মুসলিম ও খৃষ্ঠান সম্প্রদায়ের আবাস ভূমি। ১৮ হাজার ৫ শত ১৩ জন ভোটারের মধ্যে ৮ হাজার ৬ শত ৯৯ জন পুরুষ, ৯ হাজার ৮ শত ১৪ জন মহিলা ভোটার রয়েছে। বিএনপি সমর্থিত বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ হিল্লাল মিয়া (আনারস) সহ ৬ জন প্রার্থী, তারা হলেন সাহাদাত হোসেন সিকদার (দোয়াত কলম), মোঃ আলম (গরুর গাড়ি), ঢাকা জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক দেওয়ান মোসলেম উদ্দিন (তালা), উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হুমায়ন কবির মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন অহমেদ পান্নু (দেয়াল ঘড়ি)। নাসির উদ্দিন আহমেদ ও মোসলেম উদ্দিন একই গ্রামের অধিবাসী। ভোটারদেরকে আকৃষ্ট করতে তারা এখন মরিয়া। পুরুষ ৯টি সদস্য পদে ৩৬ জন এবং মহিলা সদস্য ৩টি পদে ৯জন প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

৮। কলাকোপা ইউনিয়ন: কলাকোপা উপজেলা সদর ইউনিয়ন, এর গুরুত্ব সব সময় একটু ভিন্ন। প্রায় ১৪ হাজার ৩ শত ৪৯ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৬ হাজার ৬ শত ৯৩ জন, মহিলা ৭ হাজার ৬ শত ৫৬ জন। দীর্ঘ প্রায় ২৮ বৎসর একটানা চেয়ারম্যানের চেয়ারটি দখল করে রেখেছেন তৈয়ব আহমেদ (দেয়াল ঘড়ি)। অনেক ধণ্যাঢ্য ব্যক্তিরাও প্রতিদ্বন্দিতা করে তার সঙ্গে পেরে না উঠার ইতিহাস রয়েছে। তিনি সহ আরো ৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন, তারা হলেন থানা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ ইব্রাহিম খলিল (আনারস), সাবেক যুবদল নেতা গত নির্বাচনে অল্প ভোটে পরাজিত প্রার্থী তুষার আহমেদ (তালা), আঃ কায়সার হোসেন (গরুর গাড়ি), ও আসাদুজ্জামান ভূইয়া আজমীর (দোয়াত কলম)। গৃহস্থ ও তাঁতী পেশাজীবিদের উপর নির্ভর করে হিসাব নিকাশ। পুরুষ মেম্বারের ৩টি পদে ২৬ জন, মহিলা ৩টি আসনে ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

৯। বক্সনগর ইউনিয়ন: বক্সনগর ইউনিয়নে মোট ১৩ হাজার ২৪ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৯ শত ৮৮ জন ও মহিলা ৭ হাজার ৩৬ জন ভোটার। বর্তমান চেয়ারম্যান এরশাদ আল মামুন (তালা) সহ মোট ৬ জন প্রার্থী রয়েছেন ২ জন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আঃ ওয়াদুদ (আনারস), মোক্তার হোসেন বাদল (গরুর গাড়ি), মোঃ সাহাজাদা (দোয়াত কলম) ও মাহমুদুল হক রিক্তা (দেয়াল ঘড়ি)। পুরুষ সদস্য ৩০ জন ও মহিলা ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্ধন্দিতা করছেন।

১০। বাহ্রা ইউনিয়ন: ১৬ হাজার ৫ শত ২০ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৭ হাজার ৩ শত ৯ জন, মহিলা ভোটার ৮ হাজার ৮ শত ১৩ জন। বর্তমান চেয়ারম্যান এডভোকেট শাফিল উদ্দিন মিয়া (দোয়াত কলম) সহ ৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ৮৭জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ১ জন মহিলা প্রার্থী রয়েছেন তিনি হলো মায়া রাণী মন্ডল (তালা), অন্যরা হলেন উপজেলা বিএনপির একাংশের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হারুন অর রশিদ ওসমানী(আনারস), মোঃ সুবেদুজ্জামান সুবেদ (দেয়াল ঘড়ি), হাজী আব্দুস সালাম (জাহাজ), মোঃ নুরুল আলম চৌধুরী (গরুর গাড়ি), চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে মাঠে রয়েছেন। পুরুষ মেম্বার ৩৪ ও মহিলা ৬ জন প্রতিদ্ধন্দিতা করছেন।

১১। কৈইলাইল ইউনিয়ন: ইউনিয়ন পরিষদের ১৬ হাজার ৫ শত ২০ জন ভোটারের মধ্যে ৭ হাজার ৭শত ৭জন পুরুষ ও ৮ হাজার ৮শত ১৩জন মহিলা ভোটার রয়েছেন। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশী চেয়ারম্যান প্রার্থী। ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ মোক্তার হোসেন (চশমা) সহ অন্যরা হলেন মোঃ সেলিম শেখ (আনারস), আশরাফ উদ্দিন আহমেদ (জাহাজ), মোঃ দেলোয়ার হোসেন(কাপ পিরিচ) , সুচান চৌধুরী (দোয়াত কলম), মোঃ গিয়াস উদ্দিন খান(গরুর গাড়ি), শাহ আলম (তালা), আইয়ুব খান (দেয়াল ঘড়ি), মোঃ আইনুল চৌধুরী (টেলিফোন), মোঃ পান্নু মিয়া (মাইক)। পুরুষ মেম্বার প্রার্থী ২৭ জন মহিলা ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্ধন্ধিতা করছেন।

১২। আগলা ইউনিয়ন: আগলা ইউনিয়নেয় ১১ হাজার ৭শত ৮০জন ভোটারের মধ্যে ৫ হাজার ৪শত ৪৮জন পুরুষ ৬ হাজার ৩শত ৩২জন মহিলা ভোটার রয়েছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি’র একাংশের সভাপতি আবেদ হোসেন (দেয়াল ঘড়ি) মোক্তারুজ্জামান মিল্টন (গরুর গাড়ি), ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ সুরুজ খান (আনারস) ও মোঃ আবুল হোসেন (দোয়াত কলম) চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। পুরুষ সদস্য ৩১ ও মহিলা সদস্য ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

১৩ । গালিমপুর ইউনিয়ন: প্রতিদ্বন্দিতা গালিমপুর ইউনিয়নের মোট ভোটার ৮ হাজার ৫ শত ১৮ জন, এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ হাজার ৯ শত ৭৫ জন, মহিলা ভোটার ৪ হাজার ৫ শত ৪৩ জন। বর্তমান চেয়ারম্যান বি.এম. আতাউর রহমান (দেয়াল ঘড়ি), অন্যরা হলেন লুৎফর রহমান (মাইক), এস. এম আলমগীর (তালা), ছাত্রদল নেতা তপন মোল্লা (দোয়াত কলম), ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আঃ মান্নান (আনারস), এস. এম, লিয়াকত (কাপ পিরিচ), নুরুল ইসলাম (টেলিভিশন) ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউর রহমান রেজা (গরুর গাড়ি)। ৩১ জন পুরুষ সদস্য ও ৭ জন মহিলা সদস্য প্রার্থী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

১৪। চুড়াইন ইউনিয়ন: চুড়াইন ইউনিয়নে ১৫ হাজার ৬১ জন ভোটারের মধ্যে ৬ হাজার ৭ শত ৬০ জন পুরুষ, ৮ হাজার ৩ শত ১ জন মহিলা ভোটার রয়েছেন। নির্বাচনে আড়িয়াল বিলে বিমান বন্দর নির্মাণের আন্দোলনের পক্ষে বিপক্ষে আন্দোলনের নায়কদের নিয়ে হিসাব নিকাশ চলছে ভোটারদের মাঝে। ৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন: মোঃ বোরহান উদ্দিন (মাইক), মোঃ সোবহান (চসমা), সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ আব্দুল জব্বার ভূইয়া (তালা), শেখ মোঃ মীর হোসেন (দেওয়াল ঘড়ি), আব্দুল বাসেত (দোয়াত কলম), মোঃ নুরুল ইসলাম (গরুর গাড়ি), আবু সাইদ (আনারস) প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। মহিলা মেম্বার ৮ জন ও পুরুষ মেম্বার প্রার্থী ৩০ জন তারা দিন রাতে চষে বেড়াচ্ছেন নিজ নিজ ওয়ার্ডে ভোট ভিক্ষায়।

উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ৮৭ জন চেয়ারম্যান প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী, ১২৬ টি সধারণ মেম্বার পদের জন্য ৪ শত ৩০ জন, মহিলা সংরক্ষিত ৪২টি সদস্য পদে ১ শত ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে মহিলা ভোটারের সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশী থাকায় প্রার্থীরাও মহিলা ভোটারের দিকে বেশী সময় ব্যয় করছেন। যিনি বেশী মহিলা ভোটারের মন জয় করতে পারবেন বিজয়ের তরী তার দিকে আসবে। তারা দিন রাত্রি চষে বেড়াচ্ছেন নিজস্ব ভঙ্গিমায় নির্বাচনী মাঠে। দম ফেলার সময় নেই। তাই কোন ভাবেই সময় নষ্ট করতে চাইছেন না তারা। গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারের কাছে নিজের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। আগামী ১৬ জুন উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে এক সঙ্গে ভোট গ্রহণ চলবে। ১ শত ৩২ ভোট কেন্দ্রে ৬ শত ৫২ কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে। উপজেলা আওয়ামী লীগ কিংবা স্থানীয় সাংসদ প্রতিমন্ত্রী এড. আব্দুল মান্নান খানের সুনিদিষ্ট প্রার্থী বা একক প্রার্থী না দেওয়ায় উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যেই প্রত্যেক ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় আওয়ামী শিবিরে পরাজয়ের পরিমানের পাল্লাটা একটু ভারী হওয়ার আশংকা রয়েছে। বিগত নির্বাচনে ২টি ইউনিয়ন কেবল মাত্র আওয়ামী লীগের থাকলে এ বৎসর দলীয় ভাবে প্রার্থী না দেওয়ায় যে যার মতো করে প্রার্থী হওয়া দলীয় সরকারের আমলে কয়টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দখলে আসবে তা দেখার বিষয় হয়ে পড়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে পূর্ব পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বিশেষ ভূমিকা থাকবে। সেই দিকে মনে হয় তাদের কোন নজর নাই। অপর দিকে বিরোধী দলীয় প্রার্থীরা ধীর গতিতে এগিয়ে চলছেন।

জয়কৃষ্ণপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ

মো:আল আমিন ♦ ঢাকা জেলার নবাবগনঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে অবহেলিত ইউনিয়নগুলোর অন্যতম জয়কৃষ্ঞপুরে আগামী ১৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদের জন্য লড়ছেন ৪ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদ আহম্মেদ এর বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘনের অভিযোগ।

তার বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘনের প্রমান। নির্বাচনী আচরণ বিধিতে কোন দেওয়াল বা কোন বৈদুৎতিক খামে নির্বাচনী পোস্টার না লাগানোর কথা থাকলে ও এটা মানছেন না বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদ আহম্মেদ। তার পোস্টার শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন ঘরের দেওয়ালে; বৈদুৎতিক খাম সহ নানা জায়গায় দেখা গিয়েছে তার পোস্টার যা আচারণ বিধির স্পট লংঘন।

মনির, সাইফুলসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন নিউজ ৩৯ কে গত ৭ তারিখে ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডে প্রতি ঘরে ঘরে ৩০০ করে টাকা দেবার অভিযোগ জানান, এবং যারা তা নিতে অস্বীকার করে তিনি তাদের জোর করে টাকা দিয়ে যান। তাছাড়া এই ইউনিয়নের প্রত্যেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ।

a

ছবি: ঘড়ের বেড়ায়, বৈদ্যুতিক খুটিতে দেখা যাচ্ছে একাধিক প্রার্থীর পোস্টার

স্বেচ্ছাসেবক দলের দোহার উপজেলা কমিটি ঘোষণা

নিউজ ৩৯ ডেস্ক ♦ ঢাকা জিলা শাখা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুর রহমান বানী কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশক্রমে গত মাসের ১৮ তারিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের দোহার উপজেল শাখার কমিটি অনুমোদন করেন। পরবর্তীতে শাইনপুকুর হতে কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে মো. লুৎফর রহমান রতনকে আহ্বায়ক করে ৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে আছেন, শাখাওয়াত হোসেন খান বিদ্যুৎ, মো. ফারুক পত্তনদার, মো. জাকির হোসেন, মো. ইকবাল মাহমুদ, মো. কাজী রুবেল, মো. মশিউর রহমান খান মাখন, মো. ইকবাল হোসেন।

নবাবগঞ্জের শিকারীপাড়া ও বারুয়াখালীতে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা

মোঃ কাইয়ুম খান ♦ নাবাবগঞ্জ থানার শিকারীপাড়া ও বারুয়াখালী ইউনিয়নের নির্বাচনী প্রচারণা দারুণ ভাবে জমে উঠেছে। বারুয়াখালী ইউনিয়নে মোট তিনজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এরা হলেন গতবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রজ্জব মোল্লা, নবাবগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচনে নতুন মুখ মামুন খান ও গতবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া রওশন আলী।
রওশন আলীর প্রচারণা ইউনিয়নবাসীকে  খুব একটা জাগিয়ে তুলতে পারে নি, এলাবাসীর প্রচারণায় বুঝা যায় প্রতিদন্দ্বীতা শুরু হয়েছে রজ্জব মোল্লা এবং মামুন খানের মধ্যে। রজ্জব মোল্লা গতবারের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন তার প্রচারণা। অন্যদিকে মামুন খান বিনয়ী ব্যবহার, সুদর্শন চেহারা ও ছাত্র রাজনীতির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আনারস প্রতীক নিয়ে তার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন ।
অনেকের ধারণা মামুন খান নতুন এসে যে আলোড়ন তৈরী করেছেন তাতে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে অনেক, তিনি ইউনিয়নের তরুণ জনগোষ্ঠীকে জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। এদিকে রজ্জব মোল্লার জনপ্রিয়তাও কম নয়, তিনি অত্যন্ত সুন্দর ভাবে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই তিনজনের মধ্যে কে জয়ের মালা ছিনিয়ে নিতে পারবে  দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১৬মে পর্যন্ত।

পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন শিকারীপাড়াতেও চলছে ৪ প্রাথীর ব্যাপক প্রচারণা। এখানে দুই জন নবীন ও দুই জন প্রবীণ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদন্দ্বীতা করছেন। নবীনদের মধ্যে একজন হলেন সমাজসেবক গফুর মোল্লা, আরেক জন অত্র ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম। আর প্রবীণরা হলেন পরপর ২ বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলীমোর রহমান খান পিয়ারা ও তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জব্বার মোল্লা। নবীনদের মধ্যে আব্দুস সালাম গরুর গাড়ী ও গফুর মোল্লা আনারস প্রতীক এবং প্রবীনদের মধ্যে আলীমোর রহমান খান পিয়ারা কাপ পিরিচ ও জব্বার মোল্লা তালা প্রতীক নিয়ে তাদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকা বাসীর সাথে কথা বলে বুঝা গেল যে তারা প্রবীন দুজনকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন বেশি, নবীনদের কে এবার তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন না। প্রবীন দুজনের মধ্যে তুমূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়ে উঠেছে। কারণ অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে কেউই যে পিছিয়ে নেই। এখন দেখার বিষয় জয়ের নিশান কার হাতে উড়ে। আর সে জন্য অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র ২ সপ্তাহ।