ইসলামে এতিমের হক

0

এতিমের সংজ্ঞা: এতিম শব্দের আভিধানিক অর্থ একক, অদ্বিতীয়, অতুলনীয়, অনুপম, বিস্ময়। মূলত অচেতন থেকে এতিমের উৎপত্তি হয়েছে। কেননা এতিম তার হক থেকে অচেতন থাকে। এতিম সম্পর্কে আরো বলা হয়; এতিম অর্থ মন্থর , দূর্বল। আর এতিম শব্দটি একক, দূর্বল, মন্থর, প্রয়োজন ইত্যাদি অর্থে ব্যবহৃত হয়।

পরিভাষায় ভাষায় এতিম বলা হয়; বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্বেই পিতার মৃত্যু হওয়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন; স্বপ্নদোষ তথা বালেগ হয়ে গেলে আর কেউ এতিম থাকে না। বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্বে মাতার মৃত্যু হলে আরবদের পরিভাষায় তাকে লতীম বলে, আর মাতা-পিতা উভয় মৃত্যুবরণ করলে তাকে কাতী’ বলে। আর কন্যা সন্তানকে এতিম (এতীমাহ) বলা হবে যতদিন তার বিয়ে না হবে। বিয়ে হয়ে গেলে তাকে আর এতিম বলা যাবে না।

ইসলামে এতিমের তত্ত্বাবধানের ফযীলত:

ইসলাম এতিমের হক আদায়ের ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছে। বিশেষ করে বয়সপূর্ণ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ১০টি হকের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে;

১. এতিমের মাল অন্যদের জন্য স্পর্শ করা নিষিদ্ধ:

আল্লাহ তা‘আলা বলেন; যারা অন্যায়ভাবে এতিমের ধন-সম্পত্তি গ্রাস করে, নিশ্চয় তারা স্বীয় উদরে অগ্নি ব্যতীত কিছুই ভক্ষণ করে না এবং সত্বরই তারা অগ্নি শিখায় উপনীত হবে। (সূরা নিসা: ১০)

২. কঠোরতা বা জোরকরা নিষিদ্ধ:

পাওনা আদায়ে অধিকার না থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক নিজের আয়ত্বে আনাকে আরবী ভাষায় ক্বাহ্র বলা হয়। মহান আল্লাহ তা‘আলা এতিমের সাথে এই ক্বাহ্র বাক্যটি ব্যয় করতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন; অতএব, তুমি এতিমের প্রতি কঠোর হয়ো না। (সূরা দুহা: ৯)

৩. মর্যাদার অধিকার:

করম বলা হয় কোন প্রকার বিনিময় ছাড়া কাউকে কিছু দেয়া। আল্লাহ তা‘আলা তা‘আলা বলেন; না কখনই নয়। তোমরা এতিমদেরকে করম তথা সম্মান করা না। (সূরা ফাজর: ১৭)

৪. রূঢ়তা ও দুর্ব্যবহার নিষিদ্ধ:

আল্লাহ তা‘আলা বলেন; সে তো ঐ ব্যক্তি, যে পিতৃহীনকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয়। (সূরা মাউন: ২)

৫. খাদ্যের অধিকার:

আল্লাহ তা‘আলা বলেন; আহার্যের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা অভাবগ্রস্ত ও এতিম ও বন্দীকে আহার্য দান করে না। (সূরা দাহর: ৮)

৬. আশ্রয়দানের অধিকার:

আল্লাহ তা‘আলা বলেন; তিনি কি তোমাকে পিতৃহীন অবস্থায় পাননি, অতঃপর তোমাকে আশ্রয় দান করেন নি? ( সূরা জুহা: ৬)

৭. বয়ঃপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত উত্তরাধিকার সংরক্ষণ:

এই মর্মে আল্লাহ তা‘আলা বলেন; আর ঐ প্রাচীরটি- ওটা ছিল নগরবাসী দুই পিতৃহীন কিশোরের, এর তলদেশে আছে তাদের গুপ্তধন এবং পিতা ছিল সৎ-কর্মপরায়ণ। সুতরাং তোমার প্রতিপালক দয়াপরবশ হয়ে ইচ্ছা করলেন যে, তারা বয়ঃপ্রাপ্ত হোক এবং তারা তাদের ধন ভা-ার উদ্ধার করুক। (সূরা কাহ্ফ: ৮২)

৮. ইহসানের অধিকার:

ইহসান অর্থ ভাল কাজ করাকে বুঝায়, যা ইন’আম তথা পুরস্কার অপেক্ষা ব্যাপক। আর ইহসান আদল তথা ইনসাফের উপরও অগ্রাধিকার রাখে। বলা হয় ইনসাফ হলো যে পরিমাণ গ্রহণ করা হয়, সে পরিমাণ ফিরেয়ে দেয়া। পক্ষান্তরে ইহসান হচ্ছে বেশি দিয়ে কম গ্রহণ করা। তাই বলা হয় ইনসাফ করা ওয়াজিব। আর ইহসান নফল হলেও এতে সাওয়াব রয়েছে বেশি।

৯. ইনসাফের অধিকার:

এই মর্মে আল্লাহ তা‘আলা বলেন; এবং পিতৃহীনদের প্রতি সুবিচার প্রতিষ্ঠা কর। (সূরা নিসা: ১২৭)

১০. ফাই’র অধিকার:

ফাই শব্দের আভিধানিক অর্থ প্রত্যাবর্তন করা। ফুক্বাহাদের নিকট ফাই হলো কাফেরদের যে মাল যুদ্ধ ছাড়া হস্তগত হয়। যেমন খেরাজ, জেযিয়া। এই মালে সকল মুসলমানের অধিকার থাকে। আর এর থেকে এক পঞ্চমাংশ বের করা হয়। আর যে মাল যুদ্ধের পরে অর্জিত হয় তাকে মালে গনীমত বলে। আবার কেউ কেউ ইমামের (খলীফার) ভাগকে মালে ফাই বলেছেন। মোট কথা হলো মুসলমানদের ঘর হতে সংগৃহীত মালই মালে ফাই। এই মর্মে আল্লাহ তা‘আলা বলেন; আল্লাহ এই জনপদবাসীদের নিকট হতে তাঁর রাসূল (সাঃ)-কে যা কিছু দিয়েছেন, তা আল্লাহ তা‘আলার, তাঁর রাসূল (সাঃ)’র এবং রাসূলের স্বজনগণের এবং এতিমদের, অভাবগ্রস্ত ও পথচারীদের, (সূরা হাশর: ৭)

তাছাড়া পবিত্র কুরআনে এতিম নিয়ে ২২ স্থানে আলোচনা করা হয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে ইসলামে এতিমের সাথে সৎ ব্যবহার উত্তম প্রশিক্ষণসহ যাবতীয় দিকে খেয়াল রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। যাতে এতিম শিশুটি বড় হয়ে সমাজের একজন কর্ণধার হতে পারে। এতিমের সাথে কোন প্রকারের রূঢ় আচরণ করা যাবে না।

আসুন এবার এতিমের ব্যাপারে যে নবী এতিম হয়েই জন্ম নিলেন, তিনি তাদের সম্পর্কে কি বলেন;

১. নিশ্চয় রাসূল (সাঃ) এতিমদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন। তিনি বলেন আমি এবং এতিমের জিম্মাদার বা অভিভাবক জান্নাতে এভাবে থাকবো। তখন তিনি তর্জনী এবং মধ্যমা আঙ্গুল সামান্য ফাঁক করে দেখান।

২. রাসূল (সাঃ) এতিমের মাল ব্যবসার মাধ্যমে বৃদ্ধি করণে উৎসাহ দিয়েছেন; তিনি বলেন; সাবধান! যদি এতিমের সম্পদ হস্তগত হয় তাহলে ঐ সম্পদ ব্যবসার মাধ্যমে বৃদ্ধি করবে। এমন যেন না হয় যে যাকাত দিতে দিতে তার সম্পত্তি শেষ হয়ে যায়। এই মর্মে হযরত উমার (রাঃ) থেকেও একটি উদ্ধৃতি বর্ণিত রয়েছে; তিনি বলেন: তোমরা এতিমের মাল ব্যবসার মাধ্যমে বৃদ্ধি করবে, যেন যাকাত তার সম্পদ নিঃশেষ করতে না পারে।

একদা জনৈক ব্যক্তি রাসূল (সাঃ)’র নিকট অভিযোগ করলো হে আল্লাহর রাসূল! আমার হৃদয় অত্যন্ত পাষাণ হয়ে গেছে। তখন রাসূল (সা.) বললেন; এতিমের মাথায় হাত রাখ, মিসকীনদের আহার করাও। এতে অনেক পূণ্য রয়েছে। প্রতিটি চুলের বিনিময় নেকী দেয়া হবে। আবু উমামাহতে বর্ণিত; রাসূল (সাঃ) বলেন; যে ব্যক্তি এতিমের মাথায় হাত রাখবে আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টের উদ্দেশ্যে, তার বিনিময় আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি চুলের বদলায় নেকী দান করবেন।

রাসূলের এসব বর্ণনার কারণে দেখা যায় সাহাবাগণ, তাবেঈন, তাবে’ তাবেঈনগণ তাঁরা প্রত্যেকে প্রতিযোগিতা করতেন, এতিম লালন পালন করার জন্য।

তা ছাড়া আমি আরব রাষ্ট্রগুলো প্রত্যক্ষ করেছি যে এসব দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে এতিমদের লালন পালনের ব্যবস্থা রয়েছে, এতে দেশের ধনী লোকেরাও অংশগ্রহণ করছে।

ইসলাম কেন এতিমের প্রতি এতো গুরুত্বারোপ করলো?

১. মানুষ উৎকৃষ্ট সৃষ্টিজীব, এবং তার অবস্থান ইসলামে আশরাফুল মাখলুকাত দেওয়া হয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা ইনসানের মর্যাদার জন্য ফেরেশ্তাকুলকে সেজদাহ করার নির্দেশ দিয়ে ছিলেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন; স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদেরকে বলে ছিলেন: আমি মানুষ সৃষ্টি করছি কর্দম হতে। যখন আমি ওকে সুষম করবো এবং ওতে আমার রূহ সঞ্চার করবো, তখন তোমরা ওর প্রতি সিজদাবনত হয়ো। তখন ফেরেশতারা সবাই সিজদাহবনত হলো- শুধু ইবলীস ব্যতীত, সে অহংকার করলো এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো। (সূরা সোয়াদ: ৭১-৭৪)

আর এতিমও একজন মানুষ, সুতরাং তাকেও মর্যাদা ও সম্মান দেয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

২. ইসলামী সমাজ এমন একটি সমাজ যে সমাজে পরস্পর সহানুভূতিশীল ও বন্ধুভাবাপন্ন সম্প্রীতি বর্তমান থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন; মুহাম্মদ আল্লাহ তা‘আলার রাসূল; তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; (সূরা ফাত্হ: ২৯)

আল্লাহ তা‘আলার রাসূল মুমিনদের গুণ বর্ণনা করেন এভাবে যে, সমস্ত মুমিনগণ একটি শরীরের মত। রাসূল (সাঃ) বলেন; মুমিনগণ পরস্পর দয়া ও পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং ভালবাসার দিক হতে একটি শরীরের মত। যদি শরীরের কোন অঙ্গে আঘাত লাগে সমস্ত শরীর ব্যথায় কাতরায়। এই হাদীস স্পষ্ট প্রমাণ করে যে এতিমদেরকে দয়া মায়া মমতা ভালবাসা দিয়ে তাদেরকে আপন করে নিতে হবে।

৩. অবশ্য উত্তম কাজের জন্য উত্তম পুরস্কার (জান্নাত) ব্যতীত আর কি হতে পারে?

এই মর্মে আল্লাহ তা‘আলা বলেন; উত্তম কাজের জন্য প্রতিদান উত্তম পুরস্কার হবে। (সূরা আর রাহমান: ৬০) অর্থাৎ যে ব্যক্তি কারো সাথে উত্তম আচরণ করলে এর প্রতিদান আল্লাহ তা‘আলা উত্তম দিয়ে দিবেন।

সুতরাং এতিমের লালন পালন করা যেন নিজের সন্তানের লালন পালন করার মত। কেননা আল্লাহ তা‘আলা না করুন নিজের সন্তান এতিম হলে তখন অন্যরা এই এতিম সন্তানটি লালন পালন করবে। পক্ষান্তরে নিজে অন্য সন্তানের খুঁজ না নিলে, কেউ নিজের সন্তানের খুঁজ-খবর নিবে না, এটাই রীতি। প্রবাদ রয়েছে; যেমন কর্ম তেমন ফল।

ইসলামী সমাজ পরস্পর সহযোগিতার শিক্ষা দেয়।

ইসলাম উৎসাহ প্রদান করেছে, একে অন্যের সুখে-দুঃখে শামিল হওয়ার জন্য। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন রাসূল (সাঃ)’কে কেউ জিজ্ঞাস করলো যে, উত্তম আমল কোনটি? রাসূল (সাঃ) বললেন; তোমার মুসলিম ভাইয়ের আনন্দে শরীক হও, তার ঋণ পরিশোধ কর, তাকে খানা খাওয়াও। রাসূল (সাঃ) আরো বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্যের প্রয়োজনে এগিয়ে আসবে, আল্লাহ তা‘আলা ও তার প্রয়োজনের সময় এগিয়ে আসবেন। রাসূল (সাঃ) আরো বলেন; আল্লাহ তা‘আলার নিকট ঐ ব্যক্তি প্রিয়, যে মানুষের উপকার করে।

উপরোক্ত হাদীস থেকে স্পষ্ট বুঝা গেল যে, এতিমের লালন-পালন এটি একটি মহত কাজ। আসুন আমরা সবাই এতিমের হক আদায় করি।

নবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় এক বৃদ্ধ নিহত

স্টাফ রিপোর্টার: বৃহস্পতিবার নবাবগঞ্জের শুরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। আমাদের প্রতিনিধি নাসির আহমেদ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণে জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল আনুমানিক সাড়ে চারটায় (৪.৩০) এক বৃদ্ধ শুরগঞ্জ বাজারে আসেন বাড়ীর জন্য কেনাকাটা করতে। কেনাকাটা শেষে রাস্তা পারাপারের সময় এ দুর্ঘটনায় ঘটে।

বৃদ্ধের আনুমানিক বয়স ৬৫ বছর। তবে তাৎক্ষনিকভাবে তার নাম জানা যায় নি। জানা যায়, এ সময় ঢাকা থেকে নবাবগঞ্জগামী বাংলালিঙ্ক পরিবহন বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালিয়ে আসার কারণে এ দুর্ঘটনায় ঘটে। গাড়ীটি ব্রেক কষে থামার চেষ্টা করলেও বেপরোয়া গতির জন্য তা সম্ভব হয়নি। জনসাধারণ গাড়ীটিকে আটক করেছে।

জয়পাড়া বাজার সড়ক : খানা-খন্দে ভরপুর

সোহেল আহমেদ ♦ দোহারের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা জয়পাড়া বাজারের পশ্চিম অংশের রাস্তার অবস্থা খুব করুণ। বর্তমানে টানা বৃষ্টিতে রাস্তার যে অবস্থা দাড়িয়েছে তাকে আর রাস্তা বলে চেনার উপায় নেই। বৃজ থেকে এবি ব্যাংক পর্যন্ত কিছুদিন আগে সংস্কার হলেও তার পরের অংশ সর্বশেষ ৭ বছর সংষ্কারের পর আর কোন উন্নয়ন কাজ হয় নি। যার ফলে রাস্তার এই দুরবস্থা হয়েছে। দিনে দিনে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ছে এই রাস্তা। ডাচবাংলা ব্যাংকের সামনে থেকে শুরু করে লটাখোলা বাজার পর্যন্ত এই  রাস্তার মাঝখানে বিভিন্ন যায়গায় তৈরী হয়েছে গভীর খানা-খন্দ, কোথাও কোথাও পিচের চিহ্নও নেই।

দোহারের প্রানকেন্দ্র জয়পাড়া বাজার এই উপজেলার অন্যতম বানিজ্যিক কেন্দ্রও। দোহারের বেশির ভাগ বড় বড় ব্যবসায় কেন্দ্র জয়পাড়া বাজারে অবস্থিত। এই বাজারের যাবতীয় মালামাল বহন করার জন্য ব্যবহার করা হয় বাজারের মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া এই রাস্তটি। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে সৃস্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। আর একটু বৃষ্টি হলে পানিতে সয়লাব হয়ে যায় পুড়ো রাস্তা। তখন আর গর্তের অবস্থান বোঝার সুযোগ থাকে না, ফলে রিক্সা, অটো-রিক্সা, মোটরসাইকেল, জিপ ইত্যাদী সে সব গর্তে পড়ে অহরহ ঘটছে বিভিন্ন ছোট খাট দূর্ঘটনা। যা যেকোন সময় বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বৃস্টির সময় পানি রাস্তা ছাপিয়ে বাজারের বিভিন্ন দোকান ঢুকে পড়ে। যার ফলে রাস্তার পাশের দোকানদাররাও ভোগছে এই র্দূভোগে।  বিগত ৭ বছরে কোন উন্নয়ন কাজ হওয়ার কারনে আজ এই বেহাল দশা এই রাস্তার বলে মনে করেন জয়পাড়া বাজারের দোকানদাররা। বর্তমান সরকারের আড়াই বছর পার হয়ে গেলেও হয় নি কোন উন্নয়ন কাজ। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া এই রাস্তার দিকে দৃস্টি দিচ্ছেন না এই এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও।

জয়পাড়া বাজারের সাধারণ দোকান মালিকরা অবিলম্বে এই রাস্তার উন্নয়নের দাবী জানিয়েছেন। তারা এই রাস্তার উন্নয়ন কাজে  গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানের হস্তক্ষেপও  কামনা করেছেন।

জীবন নাটকের আসল নায়ক-নায়িকা হচ্ছেন বাবা মা

হামিদুর রহমান ♦ মহান শ্রষ্টার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হলো মানুষ। এ শাশ্বত সত্যের সাথে সকল ধর্মগ্রন্থই একমত। কেন না মানুষের কল্যাণের জন্যই ধর্ম! আর প্রত্যেক ধর্মের মূলবাণী সর্বপ্রকার শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সমাজ, সংস্কৃতি, ইত্যাদির সাথে সম্পৃক্ত। ধর্ম মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে না, মানুষই ধর্মকে নিয়ন্ত্রণ করে, লালন করে সকলের মঙ্গল ও কল্যাণের জন্য। আর এ শিক্ষার প্রাথমিক ও মূল স্তর হলো পরিবার। পরিবারের শিক্ষাই একজন মানুষকে আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে উঠতে সহয়তা করে। প্রাপ্তির অতিরিক্ত লোভ লালসার কাছে নিজের আদর্শ ও জীবনবোধ বিসর্জন না দিয়ে সব জানালা খুলে রেখে সত্যিকার আত্মউপলব্ধি, সত্যিকার চেতনার বিকাশ ও মাথা উঁচু রেখে, মেরুদণ্ড সোজা রেখে গ্রহণ-বর্জনের মূল শিক্ষা দিতে পারে পরিবার, পরিবার এবং পরিবার। Basic learning ground হচ্ছে এই পরিবার। তাই পরিবারের শিক্ষক-শিক্ষিকা বাবা মাকে কোন ক্রমেই প্রশ্নবিদ্ধ হলে চলবে না। জীবন নাটকের আসল নায়ক-নায়িকা হচ্ছেন বাবা মা। যে কোন শিক্ষা, যে কোন শিক্ষায়াতনের শিক্ষার চেয়ে এই পারিবারিক শিক্ষাই বোধ করি বড় শিক্ষা যে জন্য আমাদের পরিবারের বাবা-মাকে শুধু ডিগ্রীধারী শিক্ষায় শিক্ষিত নয়, সত্যিকার শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে সবার আগে। জানি বর্তমান বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে বিশেষ করে একজন মাকে শুধু ঘর সংসার নয়, বাইরেরও জীবিকা অর্জনের কাজে তাকে ব্যাস্ত থাকতে হয় তবু বলছি স্পষ্ট করে বলছি একজন সত্যিকার স্নেহময়ী, কল্যাণময়ী, মেধা ও মনন সম্পন্ন শিক্ষিতা মা-ই হচ্ছেন জীবন গড়ার শ্রেষ্ঠ কারিগর। আর এই কারিগর মাকে দিতে হবে শ্রেষ্ঠ মর্যাদা। তাকে প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সুবিধা যোগান দিতে হবে সমাজ ও রাষ্ট্রকে।

স্কুলে পড়ার সময় একজন গুণীজনের লেখায় পড়েছিলাম “মানুষ শৈশবে তার মাতৃদুগ্ধের সঙ্গে যে শিক্ষা লাভ করে সে শিক্ষাই হইতেছে সব শিক্ষায়াতনের চেয়ে বড় শিক্ষা।” তাই মা-বাবাকে মর্যাদার সর্ব্বোচ্চ আসনে আসিন করতে হবে।

পৃথিবীতে সবচেয়ে উত্তম কথা হল মহান আল্লাহ তা’আলার এবং সবচেয়ে সুন্দর উপদেশ হল প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (স.)-এর। মা যে কেমন এবং তার গুরুত্ব ও মর্যাদা যে কতখানি এর বিশেষ বর্ণনা আল্লাহ তা’আলা এবং তাঁর রাসূল (স.) বিশেষভাবে দুনিয়াবাসীর জন্য ১৪ শত বছর পূর্বে পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ করে এর মাধ্যমেই বর্ণনা করে মানুষকে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

এ সম্পর্কে প্রিয় নবী (স.) বলেছেন যে,কোন পুণ্যবান সন্তান যদি তার পিতা-মাতার দিকে দয়ার (ভালোবাসার) দৃষ্টি দান করে আল্লাহ তা’আলা তার প্রতিটি দৃষ্টির পরিবর্তে তার আমলনামায় একটি কবুল হজ্বের সওয়াব লিখে দেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন- হুজুর (স.), যদি (কোন ব্যক্তি) প্রতিদিন এইরূপ একশতবার দৃষ্টি করে? উত্তরে তিনি বললেন, হাঁ একশতবার দৃষ্টি দিলে একশতটি হজ্বের সওয়াব লিখিত হবে। কেননা, আল্লাহ তা’আলা মহান ও পবিত্র। (মেশকাত শরীফ)।

মহান আল্লাহ তা’আলা সন্তানদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আর তোমার প্রতিপালক এ আদেশ করেছেন যে, তোমরা তাঁকে (আল্লাহকে) ভিন্ন অপর কারো ইবাদত করো না। আর পিতামাতার প্রতি উত্তম আচরণ করো। যদি তাদের একজন কিংবা উভয়ে তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের উদ্দেশ্যে কখনও ‘উহ্’ (শব্দটি) পর্যন্ত বলবে না। তাদেরকে ধমক দিওনা, বরং তাঁদের সাথে মার্জিত ভাষায় কথা বলো। আর তাদের উদ্দেশ্যে অনুগ্রহে বিনয়ের বাহু অবনমিত কর। আর বল, হে আমার প্রতিপালক! তাদের উভয়কে অনুগ্রহ কর, যেমন তাঁরা আমাকে শৈশবে প্রতিপালন করেছেন।” (বনী ইসরাইল ২৩-২৪)

মা যে সার্বক্ষণিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার পাত্র এ সম্পর্কে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল হে আল্লাহর রাসূল (স.)! আমার সর্বোত্তম ব্যবহারের হকদার কে? হুজুর (স.) বললেন, তোমার মা। লোকটি পুনরায় প্রশ্ন করল, অতঃপর কে? হুজুর (স.) বললেন, তোমার মা। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করল, অতঃপর কে? হুজুর (স.) এবারও জবাব দিলেন, তোমার মা। লোকটি পুনরায় জিজ্ঞেস করল, অতঃপর কে? এবারে নবী করীম (স.) জওয়াব দিলেন যে, তোমার বাবা। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

বর্তমানে বিশ্বায়নের যুগে নারীরা সর্বত্র অবহেলিত ও নির্যাতিত। অথচ মহান আল্লাহ তা’আলা এবং তাঁর রাসূল (স.) নারীদেরকে সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী করে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন।এ সম্পর্কে প্রিয় নবী (স.) বলেছেন, মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত। হযরত আবু তোফায়েল (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূল (স.) কে জারয়ানা নামক স্থানে গোশ্ত বন্টন করতে দেখলাম। এমন সময় জনৈকা মহিলা এসে তাঁর নিকটবর্তী হলে রাসূলুল্লাহ (স.) নিজের চাদর বিছিয়ে দিলে তার উপর তিনি বসলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, উনি কে? লোকেরা বললো, ইনি তাঁর মা যিনি তাঁকে দুধ পান করিয়েছিলেন। (সহীহ আবু দাউদ)

তাই আমারও মহান আল্লাহ পাকের কাছে প্রার্থনা হে আল্লাহ ! আপনি আমার মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের তাওফীক দান করুন।

ছোট হয়ে আসছে নয়াবাড়ী ইউনিয়ন

আবু নাইম ♦
প্রতি বর্ষায়ই পদ্মা ফিরে পায় তার বিধ্বংসী রুপ। দোহারের দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদী তার ভয়ানক ক্রোধে ভেঙ্গে চলেছে গ্রামের পর গ্রাম। এর ফলে আকারে ছোট হয়ে যাচ্ছে পশ্চিমের ইউনিয়ন নয়াবাড়ী।
অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে হুমকির মধ্যে রয়েছে মসজিদ, মন্দির সহ বিভিন্ন ধর্ম-উপাসনালয়, বাজার, বিদ্যালয় ইত্যাদী; এর মধ্যে রয়েছে অরঙ্গবাদ বাজার, কালি মন্দির, বাহ্রাঘাট বাস স্ট্যান্ড। গত কয়েক বছরের ভাঙ্গনের ফলে এই ইউনিয়ন নিশ্চিহ্ন হওয়ার হুমকির মধ্যে রয়েছে। আতংক ছড়িয়ে পড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

স্কুল, নয়াবাড়ী ছবি: বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বিদ্যালয়
কিছু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও ইতোমধ্যে অনেক পরিবার উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছে। তারা কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন।
ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ হান্নান জানিয়েছেন এরই মধ্যে ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি ভাঙ্গন কবলিত অসহায় পরিবারগুলোকে সাহায্য করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
ভাঙ্গনে ঘড়-বাড়ী হারানো বেশ কিছু পরিবার বিভিন্ন রাস্তার পাশে অস্থায়ী ঘর তুলে বাস করছেন। তারা বিত্তবানদের কাছে সহযোগীতা আশা করছেন।

নয়াবাড়ী

ছবি: পদ্মায় ঘর হারিয়ে মানুষ আশ্রয় নিয়েছে সড়কের উপর

নয়াবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরও জানান, সরকারীভাবে দূর্গতদের জন্য ১লক্ষ টাকা অনুদান পাওয়া গেলেও খরচ হয়েছে ২,৩০,০০০ টাকা। এলাকাবাসী প্রায় ১৭০০টি বাশ দিয়ে বাধ দিতে সহায়তা করে।  ইউনিয়ন রক্ষার জন্য স্থানীয় প্রতিমন্ত্রী সরকারের কাছে সহায়তার জন্য আবেদন করেছেন।

নবাবগঞ্জে তারাবী নামাযের সময়ে ডাকাতি

স্টাফ রিপোর্টার ♦

বৃহস্পতিবার নবাবগঞ্জের কাশিমপুরে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পাশে তারাবী নামাযের সময়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

নবাবগঞ্জ সদর প্রতিনিধি শিশির আহমেদ জানান, তারাবীর নামায পড়তে মুসল্লিরা মসজিদে গেলে রাত আনুমানিক পৌনে নয়টায় আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা ডাকাত দল  কাশিমপুরে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পাশের বাড়ীতে হানা দিলে বাড়ীর গৃহকর্তীর চিৎকারে পাড়া-প্রতিবেশীরা দৌড়ে আসে। তৎক্ষণাৎ ডাকাতদল গৃহ কত্রীকে(৪০) দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নবাবগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তির পর সুচিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায় নি।

জয়পাড়া বাজারে ১৮ লক্ষ টাকার চোরাই খাদ্যদ্রব্য উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার ♦ দোহার থানা পুলিশ ও নারায়ণগঞ্জ আড়াইহাজার থানা পুলিশ জয়পাড়া বাজার থেকে তাদের যৌথ অভিযানে ১৮ লক্ষ টাকার চোরাই খাদ্যদ্রব্য  উদ্ধার করেছে। গত বুধবার এক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জয়পাড়ায় এক যৌথ অভিযান চালায়।

জানা যায় যে, নারায়ণগেঞ্জর আড়াইহাজার থেকে এক ব্যাবসায়ী ঈদ উপলক্ষ্যে ৩২ ড্রাম পাম ওয়েল ও  চিনি সহ ১৮ লক্ষ টাকার খাদ্য দ্রব্য ক্রয় করে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছোনোর জন্য একটি ট্রাক ভাড়া করে। কিন্তু ট্রাকটি ছিনতাই হওয়ার অভিযোগ তুলে মালামাল জয়পাড়া বাজারে নিয়ে আসে। উক্ত মালামাল মেসার্স গোবিন্দ ট্রেডার্সের মালিক গোপাল পাল মাত্র ৪ লক্ষ টাকায় কিনে মজুদ করে রাখে। পরবর্তীতে দোহার থানা পুলিশ ও নারায়ণগঞ্জ আড়াইহাজার থানা পুলিশ এই পণ্যগুলো উদ্ধার করে। এতে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।

দোহারে নকল ঔষুধ জব্দ; লক্ষাধিক টাকা জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার ♦ গতকাল দোহার থানার প্রানকেন্দ্র জয়পাড়া বাজারে নকল ঔষুধ বিরোধী এক অভিযান চালানো হয়। মোট ১৫টি দোকানে এ অভিযান চালানো হয় এবং ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।

এসময় জয়পাড়া উপজেলা সংলগ্ন ঔষুধের ফার্মেসীগুলোতেও অভিযান চালানো হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা  রথীন্দ্রনাথ দত্ত সহ স্যাটালাইট চ্যানেল একুশে টিভি। এই সময় নকল ঔষুধ রাখার দায়ে হাবিব ফার্মেসীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ফলের দোকানদার হালিমকে ফলে ভেজাল মেশানোর দায়ে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় আরো কয়েক দোকানে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু জয়পাড়ার সবচেয়ে বড় ঔষুধের দোকান বিশ্বাম্বর ফার্মেসি, মুক্তি ফার্মেসি সহ মনোয়ার ফার্মেসিতে কোন অভিযান না চালানোয় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নবাবগঞ্জে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, আহত ৩

মোঃ কাইয়ুম খান ♦ ঢাকা জেলোর নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামে মাহাবুব হোসেন শাহীন নামের এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাত দেড়টার দিকে ২০/২৫ জনের একটি ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রহাতে উক্ত প্রবাসীর বাড়িতে হামলা চালায়।

কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙ্গে ১৫/২০ জন ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ১২ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও নগদ ১০ হাজার টাকা সহ প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল লুঠ করে নিযে যায়। এ সময় বাড়ীর লোকজন বাধা দিতে গেলে ডাকাতরা রাম দা দিয়ে শাহীনের ভাই সুমন ও ছেলে রুপকের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে, ছেলেকে রক্ষা করতে এলে রুপকের মা গুরুতর আহত হন। আহতদের চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এলে ডাকাতরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে, এতে গ্রামবাসীরা ভয় পেয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।

আহতদের বান্দুরা মুক্তি ক্লিনিকে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা পাঠানো হয়। ডাকাত দলের মধ্যে ৪/৫ জন মুখোশ পরিহিত অবস্থায় ছিল। এলাকাবাসীর ধারণা মুখোশধারীরা এলাকার পরিচিত কেউ হবে। এ ব্যাপারে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। উক্ত ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নবীর দেশে রমজান

নবীর দেশে রমজান। রমজান এমন একটি পূণ্যময় মহিমাময় ও বরকতময় মাস যাকে আল্লাহ তাআলা অন্য এগারটি মাসের উপর শ্রেষ্ঠত্য দান করেছেন বিভিন্ন ভাবে।

কুরআনে কারিমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-شهر رمضان الذي أنزل فيه القرآن هدى للناس وبينات من الهدى والفرقان রমজান মাস, যার মধ্যে বিশ্ব মানবের জন্য পথ প্রদর্শক এবং সু-পথের উজ্জ্বল নিদর্শন ও(হক্ব ও বাতিলের) প্রভেদকারী কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে(বাক্বারা-১৮৫)

হাদিসে পাকে ইরশাদ হয়েছে, আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণীত রাসুল সাঃ বলেন যখন রমজান আসে তখন জান্নাতের দরোজাগুলো খুলে দেয়া হয়, এবং জাহান্নামের দরোজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে বন্দি করে রাখা হয়।(বুখারী-১৮৯৯+৩২৭৭, মুসলিম-১০৭৯)

রমজানের শ্রেষ্ঠত্বের আরো কিছু দিকঃ-

*এ মাসে রোজাদারদের জন্য ফেরেস্তারা ইফতার করা পর্যন্ত গুনাহ মাফ চাইতে থাকে।

*রোজাদারের মুখে উপাস থাকার কারণে যে গন্ধের সৃষ্টি হয় তা আল্লাহর নিকট মেসকে আম্বরের চেয়েও প্রিয়।

*এ মাসে আল্লাহ তাআলা জান্নাতকে প্রতিদিন নতুন করে সাজান।

*এ মাসে রয়েছে এমন একটি রজনি(লাইলাতুল ক্বদর)যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।

*এ মাসের শেষ রাত্রিতে আল্লাহ তাআলা রোজাদারদের সবাইকে ক্ষমা প্রদর্শন করে থাকেন।

*এ মাসে আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে তার বান্দাদের মুক্তি দিয়ে থাকেন যা রমজানের প্রতি রাতেই হয়ে থাকে।

নবীর দেশে রমজানের প্রস্তুতি

রমজান আসার এক পক্ষ কাল আগে থেকেই এখানে বেশ সাজ সাজ রব পড়ে যায় রমজানকে ঘিরে।একে অপরকে রমজানের অভিবাধন জানানো শুরু হয়।সময় যত ঘনিয়ে আসে তত এটা বৃদ্ধি পেতে থাকে।একে অপরের সাথে দেখা হলে সালামের পর شهر عليك مبارك(রমজান মাস তোমার জন্য বরকতময় হোক)বলে সম্ভাষণ বিনিময় করে।

আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণীত রাসুল সাঃ বলেছেন যেব্যক্তি দয়া করেনা সে দয়া প্রাপ্ত হয়না(বুখারি+মুসলিম)

অন্য এক হাদিসে এসেছেঃ-তোমরা জমিনে(আশ পাশে) যারা আছে তাদের উপর দয়া কর,আকাশে যিনি আছেন(আল্লাহ)তিনি তোমাদের উপর রহম ও দয়া করবেন।

আরেক হাদিসের বর্ণনা মতে আল্লাহ বান্দাকে ততক্ষণ সাহায্য করবেন, যতক্ষণ বান্দা তার মুসলিম ভাইকে সাহায্য করবে।

এই হাদিস গুলোর উপর আমল এখানে রমজান আসলে যথেষ্ট চোখে পড়ে।

এই দেশে বিভিন্ন কোম্পানী তাদের ভোজ্যপণ্যের উপর রমজানকে উপলক্ষ্য করে বিভিন্ন ছাড় দিয়ে থাকে।কেউবা দামে ছাড় কেউ পরিমাণে বৃদ্ধি করে ভোক্তাদের এই সুবিধা দিয়ে থাকে। অথচ আমাদের দেশে দেখা যায় তার উলটো।পণ্যের মানের উৎকৃষ্টতা যেন বজায় থাকে সে দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া হয়।যাতে রোজা রেখে মানুষ কষ্ট না পায়।বাদশাহর পক্ষ থেকে বিভিন্ন ভোজ্য সামগ্রী সম্বলিত গিফট বক্স(যাতে চাল তৈল চিনি চাপাতা দুধ ইত্যাদী থাকে)পুরো দেশের সর্বত্র যারা মুহতাজ তাদের মাঝে বন্টন করা হয়।

এছাড়া বিভিন্ন এনজিও গুলো ও বড় বড় ব্যবসায়ী রমজান কে সামনে রেখে তাদের বিশেষ কার্যক্রম হাতে নিয়ে থাকে।যাতে মানুষ সুন্দরভাবে রমজানের এই মহান মাসটিতে নির্বিঘ্নে সিয়াম সাধনা করতে পারে।

রমজানকে ঘিরে দাওয়াতি কাজ

রমজান শুরুর কয়েক দিন আগে থেকেই বিভিন্ন ভাবে অনেকে নিজেদেরকে দাওয়াতি কাজে নিয়োজিত করে।বিভিন্ন রকমের হ্যান্ডবিল,লিফলেট,ছোট পুস্তিকা,সহী হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত সকাল সন্ধ্যার দোয়ার ছোট কার্ড ইত্যাদী ছাপিয়ে মসজিদে মসজিদে বিতরণ, লোকালয়ে বা ব্যক্তি পর্যায়ে বিতরণ করে থাকে।আর এ ধারা পুরো রমজান চলতে থাকে।বিভিন্ন বিষয় বস্তু নিয়ে এসব ছাপানো হয়।যেমন রমজানের শুরুতে রমজানের ফজীলত,রোজার ফজীলত,রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ নিয়ে।এর পর রোজাদারগণ সাধারণত কি কি ভূল করে থাকেন,রমজানে কি করা উচিত কি না করা উচিত।ছোট পুস্তিকাগুলো রমজান ছাড়াও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ছাপানো হয়।এর পর অর্ধ রমজান অতিক্রান্ত হলে লাইলাতুল ক্বদরের ফজীলত নিয়ে।আবার যখন ঈদ ঘনিয়ে আসবে তখন জাকাতুল ফিতর এর আহকাম সম্পর্কে,রমজান শেষ হলে কি করণীয় ইত্যাদী বিষয় নিয়ে পুরো রমজানজুড়ে থাকে এই দাওয়াতি কাজ।এই কাজ যে, কোন বড় ব্যবসায়ী করে থাকেন তা নয়।বরং একেবারে সাধারণ মানুষ এ কাজগুলো করে থাকেন।আর প্রেস কতৃপক্ষও রমজানকে ঘিরে এসব দাওয়াতি ছাপার কাজের উপর বিশেষ ছাড় দিয়ে থাকে।আফসোসের বিষয় হলো একাজটা আমাদের দেশে একেবারেই নাই।ধনি গরিব সবাই অনুপস্থিত এ কাজে।অথচ দ্বীনি মাসআলা ও আহকামের ব্যপারে আমাদের দেশের মানুষ এখানকার চেয়ে অনেক পিছিয়ে।আমাদের দেশেই অধিক প্রয়োজন এমন দাওয়াতি কাজের।

হাদিসে পাকে এসেছেঃ-ভাল কাজের দিকে পথ প্রদর্শনকারী আমলকারীর ন্যয় সাওয়াব পাবে।

নবীর দেশে ইফতার করানোর প্রতিযোগিতা

হাদিসে পাকে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল সাঃ বলেছেন যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করালো সে ততটুকু সাওয়াব পাবে যতটুকু রোজাদার রোজা রেখে পেয়েছে, অথচ রোজাদারের সাওয়াব থেকে একটুও কমানো হবেনা।(তিরমিযি,আহমাদ,নাসাঈ)

অন্য এক হাদিসে এসেছে সালমান রাঃ থেকে বর্ণীত রাসুল সাঃ বলেছেন যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে তা দ্বারা তার গুনাহ মাফ হবে, এবং এটা তার জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে, এবং সে রোজাদারের পরিমান সাওয়াব পাবে অথচ রোজাদারের সাওয়াব ও কম হবেনা।তখন সাহাবাগন প্রশ্ন করলেন ইয়া রাসুলাল্লাহ আমাদের অনেকের কাছেই রোজাদারকে পর্যাপ্তভাবে ইফতার করানোর জিনিষ থাকেনা তাহলে আমরা কি করি?তখন রাসুল সাঃ উত্তরে বললেন, আল্লাহ তাআলা এই সাওয়াব তাকেও দান করবেন যে একটুখানি মাঠা বা একটা খেজুর বা একগ্লাস পানি দিয়েও কাউকে ইফতার করালো।যে ব্যক্তি কোন রোজাদারের পিপাসা নিবারণ করল, আল্লাহ তাকে আমার হাউজে কাউসার থেকে এমন পানীয় পান করাবেন যা পান করে সে কখনো পিপাসিত হবেনা জান্নাতে যাওয়া পর্যন্ত।

রমজান শুরু হওয়ার সপ্তাহ দশদিন আগে থেকেই এই দেশে রাস্তার পাশে কিংবা বাজারে মার্কেটে শোভা পায় সারি সারি তাবু।অনেকগুলো আবার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।এগুলো হল রোজাদারদের ইফতার করানোর জন্য তৈরী করা।এসব তাবুতে ব্যবস্থা করা হয় সর্বোৎকৃষ্টতম ইফতারের।খেজুর, বোতলজাত পানি,জুস, মাঠা,ফল,কফি,চিকেন বিরিয়ানী,এলাকা ভিত্তিক ঘরোয়া খাবার ইত্যাদী।একেক তাবুতে শ থেকে শুরু করে হাজারো রোজাদার ইফতার করে থাকেন।বিভিন্ন তাবুতে আবার কিছু ইসলামী প্রশ্ন নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়।যেখানে পুরুস্কারের ব্যবস্থা হিসেবে ওমরায় যাওয়ার টিকেট ইত্যাদী থাকে।এছাড়া মসজিদ গুলোতে তো ব্যবস্থা থাকেই।সংখ্যায় গুটিকয়েক মসজিদ পাওয়া যাবে যেখানে ইফতারের ব্যবস্থা থাকেনা।বা যেখানে মানুষজন খুঁজে পাওয়া যায়না।

অনেকে মানুষকে দাওয়াত দিয়ে থাকে নিজ এলাকায় ইফতার করার জন্য।ভীনদেশী শ্রমিক ভায়েরা ইফতার বা রাতের খাবার কখনো কিনতে হয়না পুরো রমজান মাসে।

আর এসব কাজ পুরোপুরি নিজস্ব উদ্দ্যোগে।এখানে সরকারের কোন হাত নেই।

সবচেয়ে আশ্চয্যের কথা হলো যারা এ কাজগুলোর অর্থ যোগানদাতা তাদের কেউ চেনেনা, কেউ জানেনা কে তাদের ইফতার করাচ্ছে!তারা কোন বাহবা পেতে বা নামের জন্য এ কাজ করছেনা।শুধুমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতেই তাদের এই প্রচেষ্টা।যা আমাদের দেশে খুবই বিরল।কাজের চেয়ে প্রচার বেশি আমাদের দেশে।আল্লাহ তাদের এই নেক কাজকে ক্ববুল

করুন।আমীন।

হারামাইনের ইফতার

একই অবস্থা মক্কা ও মদীনায় হারামাইনের ভেতরে।মক্কাবাসি ও মদীনাবাসি ইফতারের পূর্বে তাদের নিজস্ব লোকজন নিয়ে বাসা ও বাইরে থেকে ইফতার সামগ্রী নিয়ে হারামাইনে অবস্থানরত রোজাদারদের ইফতার করাতে আসে।একেকজন একেক দিক দিয়ে এই খেদমত করে যায়।প্রতি দিন হাজার হাজার রোজাদার এভাবে ইফতার করছেন হারামাইনে।কেউ কেউ যে নিজের ইফতার নিজে নিয়ে আসছেননা তা কিন্তু না।ইফতারের কিছুক্ষণ পূর্বে শুরু হয়ে যায় খেজুর বন্টন।তবে হারামাইনের ভেতরে ভারি ইফতার নিয়ে কতৃপক্ষ প্রবেশ করতে দেননা।আবার বড় বড় কোম্পানীগুলো থেকে ছোট ছোট খাবারের গিফট বক্স বিতরণ হয় ইফতারের আগে পরে।মক্কা মদীনা দু জায়গায়ই দেখা যায় এই দৃশ্য।ভাল লাগে ওদের এ আপ্যায়ন দেখে আল্লাহর মেহমানদের।

মিসকীনদের আহারের ব্যবস্থা

কুরআনে কারিমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-ويطعمون الطعام على حبه مسكينا ويتيما وأسيرا.إنما نطعمكم لوجه الله لا نريد منكم جزاء ولا شكورا.إنا نخاف من ربنايوما عبوسا قمطريرا.فوقاهم الله شر ذلك اليوم ولقاهم نضرة وسرورا.وجزاهم بما صبروا جنة وحريرا.এবং তারা খাদ্যের প্রতি আসক্তি সত্ত্বেও অভাবগ্রস্ত,ইয়াতিম ও বন্দীকে আহার্য দান করে,(এবং বলেঃ)শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমরা তোমাদেরকে খাদ্য দান করি, আমরা তোমাদের নিকট হতে কোন প্রতিদান চাইনা,কৃতজ্ঞতাও নয়।আমরা আশঙ্কা করি আমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে এক ভীতিপ্রদ ভয়ঙ্কর দিনের।পরিণামে আল্লাহ তাদেরকে রক্ষা করবেন সে দিবসের অনিষ্ট হতে এবং তাদেরকে উৎফুল্লতা ও আনন্দ দান করবেন।আর তাদের ধৈর্যশীলতার পুরস্কার স্বরূপ তাদেরকে জান্নাত ও রেশমী পোষাক দান করা হবে।(সুরা ইনসান-৮-১২)

আমাদের সালফে সালেহীন অন্য অনেক ইবাদতের উপর মানুষকে আহার করানোকে প্রাধান্য দিতেন।চাই সেটা মিসকীনকে খাওয়ানো হোক কিংবা কোন নেককার আল্লাহর বান্দাকে।কারণ কাউকে খাওয়ানোর ব্যপারে সে মিসকীন বা মুহতাজ হওয়া জরুরী নয়।এ ব্যপারে রাসুল সাঃ ইরশাদ করেছেন-হে মানুষ সকল, তোমরা সালামের প্রচার কর, এবং অপরকে খানা খাওয়াও, আত্মীয়তা রক্ষা কর, নিশী রজনিতে নামাজ আদায় কর যখন মানুষ নিদ্রায় বিভোর, অতঃপর নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ কর।(আহমাদ, তিরমিযী)

সালাফের মধ্যে এক মনিষী বলেন আমার নিকট আমার সাথীদের দশজনকে ডেকে তাদের চাহিদানুসারে খানা খাওয়ানো ইসমাঈল আঃ এর বংশোদ্ভুত দশ জন দাসকে আজাদ করার চেয়ে উত্তম।

নবীর দেশে এই ব্যপারটি চোখে পড়ার মত।বিশেষ করে রমজানে এর আমল খুব বেড়ে যায়।আবার এরা আহার্য বস্তু পাঠিয়ে নিজেকে জাহির করাটাও পছন্দ করেনা।এর কারণ দুটো।এক-নিজেকে প্রকাশ না করা।দুই-যার জন্য পাঠালো তাকে লজ্জায় না ফেলা।কারণ অনেকে আছে যারা মুহতাজ ঠিকই কিন্তু মানুষের কাছ থেকে নেয়াকে বিশেষ করে পরিচিত জনদের কাছ থেকে নিতে লজ্জাবোধ করে।আমার অফিস বস একবার কাউকে না পেয়ে গাড়ী দিয়ে এক ইন্ডিয়ান কে সাথে দিয়ে আমার দ্বারা এক পরিবারের জন্য চাল আঁটা সহ বেশ অনেক কিছু পাঠালেন এবং বলে দিলেন কে পাঠিয়েছে তা বলার দরকার নেই।অনেকে মনে করে থাকে যে এই দেশে গরিব মিসকীন নাই।বাস্তবতা আসলে ভিন্ন।এখানে অনেকে আছে যাদের আমরাও সাহায্য করে থাকি।

দান খয়রাত

কুরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছেঃ-وما تقد موا لأنفسكم من خير تجدوه عند الله তোমরা স্ব-স্ব জীবনের জন্য যে সৎকর্ম অগ্রে প্রেরণ করেছো; তা আল্লাহর নিকট প্রাপ্ত হবে(বাক্বারা-১১০) হাদিসে পাকে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ বর্ণনা করেন রাসুল সাঃ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দানশীল ছিলেন।আর রমজানে যখন জিব্রীল আঃ উনার সাথে সাক্ষাতে আসতেন তখন তিনি আরো অধিক দানশীল হতেন।রাসুল সাঃ বহমান বাতাসের চেয়েও বেশী দানশীল ছিলেন।(বুখারী,মুসলিম)

অন্য এক হাদিসে এসেছে প্রত্যেক মানুষ বিচার দিবসে তার দান খয়রাতের ছায়ার নীচে থাকবে বিচার কাজ সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত।(ইবনে হেব্বান, হাকেম।হাদিসটি সহী)

সুবহানাল্লাহ!যে দিন কোন ছায়া থাকবেনা আল্লাহর আরশের ছায়া ব্যতিত, সেদিন আল্লাহর ইচ্ছায় দান সাদক্বাকারীদের জন্য তাদের দান ছায়ারূপে অবতীর্ণ হবে।

এসব হাদিসের দিকে এবং রমজানে একে সত্তরের সাওয়াবের দিকে দৃষ্টি রেখে আল্লাহর নেক বান্দারা তাদের দুহাত খুলে দান খয়রাত করে থাকেন রমজান মাসে।আমাদের দেশেও আল্লাহর নেক বান্দারা দান খয়রাতে মনোযোগি হন।কিন্তু পার্থক্য হলো আমাদের দেশে দানের চেয়ে ডাকঢোল পিটানো হয় বেশী।অথচ হাদিসে দিক নির্দেশনা এসেছে যে এমন ভাবে দান কর যেন ডান হাতে দান করলে বাম হাত টের না পায়।কুরআনে কারিমে সুরা বাক্বারায় ২৬৪নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-হে মুমিনগণ কৃপা প্রকাশ ও কষ্ট দিয়ে নিজেদের দানগুলো ব্যর্থ করে ফেলো না,সে ব্যক্তির ন্যায় যে নিজের ধন ব্যয় করে লোক দেখানোর জন্য।

এ দেশের মানুষ ব্যক্তিগত ভাবে এবং বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে এত বেশী পরিমান দান করেন কিন্তু দানের সময় শর্ত জুড়ে দেন যেন তার নাম প্রকাশ না হয়।এবংকি রশিদ নেয়ার সময় রশিদে নাম পর্যন্ত লিখান না।লিখান(فاعل الخير (একজন দাতা।আমাদের দেশে কি এরকম কল্পনা করতে পারি আমরা!আমাকে একবার এক মহিলা বেশ কিছু সৌদী রিয়াল দিয়ে বললো তুমি সাওয়াব পাবে আমার এই টাকাগুলি বন্টন করে দাও।এবং সে কিছু পরিবারের নাম দিল।সাথে বলে দিল, দেখ তাদেরকে আমার পরিচয় জানাবেনা।এবং তোমার জানা কোন দুঃস্থ পরিবার থাকলে তাদেরও দিতে পার।দেখুন নেক আমলের ক্ষেত্রে ওদের মহিলারাও কত সতর্ক!

নবীর দেশে রমজানের শেষ দশ রাত

আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণীত তিনি বলেন রমজানের শেষ দশদিন আসলে রাসুল সাঃ রাতকে জীবিত করতেন(পুরো রাত জ্বেগে ইবাদত করতেন)এবং পরিবারের সবাইকে জ্বাগিয়ে রাখতেন এবং বিছানাপত্র গুটিয়ে রাখতেন।(বুখারি,মুসলিম)অর্থাৎ ইবাদতে খুব বেশী মনোনিবেশ করতেন নিজে এবং নিজের পরিবারকেও অধিক মনোনিবেশ করাতেন।

রাসুল সাঃ সাহাবাদের শেষ দশ রাতের মধ্যে লাইলাতুল ক্বদর খুঁজে নিতে বলেছেন।এব্যপারে উলামায়ে কিরাম ও হাদিস বিশারদগণের মতভেদ রয়েছে যে লাইলাতুল ক্বদর কবে।তবে শেষ দশ রজনীতে হওয়া নিশ্চিত।তার মধ্যে রাসুল সাঃ বেজোড় রাতগুলোর মধ্যেও তালাস করতে বলেছেন।

কুরআনে কারিমে সুরায়ে ক্বদরে ইরশাদ হয়েছে-ليلة القدر خير من ألف شهر (ক্বদর রজনি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম)

এছাড়া হাদিসে পাকে এসেছে যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় লাইলাতুল ক্বদরে ইবাদত করবে আল্লাহ তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।(বুখারি,মুসলিম) এক রাত ইবাদত করে হাজার রাতের বিনিময় কে না নিতে চাইবে।

তাই নবীর দেশে রমজানের শেষ দশ রাতে কেউই ঘুমায়না।খুব কম মানুষ পাওয়া যাবে যারা হয়তো এক থেকে দেড় ঘন্টা ঘুমিয়ে নেয়।তারাবির নামাজ শেষ হতে প্রায় সাড়ে নয়টা বা দশটা বেজে যায়।হারামাইনে আরো বেশী দেরি হয়। কারণ এখানে তারাবির নামাজে ক্বিরাত পড়া হয় ধীরে ধীরে তারতিলের সাথে।এর পর কেউ কেউ মসজিদে বসে কুরআন তিলাওয়াত করে।রমজান মাস হল কুরানের মাস।(এরা প্রতিটি নামাজ জামাতের সাথে আদায় করে প্রায় অনেকেই মসজিদে কুরআন তিলাওয়াতে বসে যায়,একমাত্র মাগরিব ছাড়া।কারণ মাগরিবে ইফতারের পর সবাই একটু ক্লান্তি অনুভব করে।)এর পর ঘরে এসে কিছু খেয়ে কিছুক্ষণ আরাম করতেই ক্বিয়ামুল্লাইলের সময় হয়ে যায়।কোন মসজিদে রাত একটা থেকে কোথাও দুটা কোথাও আড়াইটায় কিয়ামুল্লাইল শুরু হয়।হারামাইনে শুরু হয় রাত একটায়।এক থেকে দেড় ঘন্টা লাগে তা শেষ হতে।তার পর সাহরী খাওয়ার প্রস্তুতি।তাই কেউ ঘুমানোর সুযোগই পায়না।সাহরী খেয়ে ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করে তার পর সবাই ঘুমাতে যায়।এভাবেই কাটে এ দেশে রমজানের শেষ দশ রাত।

পরিশেষে

রমজান একটি মাস যার জন্য আল্লাহর নেক বান্দারা পুরো এগার মাস উম্মুখ হয়ে অপেক্ষা করেন।আবার রমজান শেষ হয়ে গেলে তারা এর বিয়োগে দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে কাঁদতে থাকেন। পুরুস্কার পেয়ে আমরা সবাই আনন্দিত হই।কিন্তু পুরুস্কারটা যদি খোদ প্রধানমন্ত্রির হাতে পাওয়া হয় তাইলে কেমন সৌভাগ্যবান মনে হবে নিজেকে!!!রোজা এমন একটি আমল যার বিনিময় বা পুরস্কার স্বয়ং আল্লাহ তাআলা নিজ হাতে দিবেন বলে হাদিসে পাকে রাসুল সাঃ ইরশাদ করেছেন। এর চেয়ে উত্তম প্রতিদান আর কি হতে পারে!!!

আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণীত রাসুল সাঃ বলেছেনঃ-আল্লাহ তাআলা বলেন আদম সন্তানের প্রত্যেকটি আমল তার জন্য একমাত্র রোজা ছাড়া।রোজা শুধুই আমার জন্য এবং এর বিনিময় আমি স্বয়ং দেবো।(বুখারি,মুসলিম)অর্থাৎ নামাজ, জাকাত, হজ্ব ইত্যাদী যদি না আদায় করে তবে সবাই জানবে।কিন্তু রোজা এমন যে বান্দা তা আদায় করছে কিনা তা একমাত্র আল্লাহই জানতে পারেন।

অন্য এক হাদিসে এসেছে-দূর্ভাগা সে, যে রমজান পেয়েও গুনাহ মাফ করে নিতে পারলোনা।

আল্লাহ তাআলা আমদের সবাইকে মহান এই মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে মাগফেরাত ও নাজাতের ভাগি হয়ে জান্নাত হাসিল করার তৌফীক্ব দান করুন।আমীন।

و صلى الله و سلم على نبينا محمد وعلى آله و صحبه أجمعين.