নবাবগঞ্জে ডাকাতি: আহত ৩

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার চকোরিয়া গ্রামের সুরুজ মিয়ার বাড়িতে মঙ্গলবার ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতরা ওই বাড়ি থেকে অন্তত ৩৫ লাখ টাকার মালমাল লুট করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিনগত রাত ১টার দিকে উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের চকোরিয়া গ্রামের সুরুজ মিয়ার বাড়ির দরজা ভেঙে ১৫/২০ জনের ডাকাত দল ঘরে ঢোকে। তারা গৃহবধূ রেহানাকে শাবল দিয়ে আঘাত করে। পরে বাড়ির লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাড়ির ৯টি কক্ষে ঢুকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে।

এ সময় বাড়ির লোকজন চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করলে ডাকাত দল ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে সুরুজ মিয়া,রেহানা,জামেলা খাতুনকে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
ডাকাতের অস্ত্রের আঘাতে নারীসহ আহত হয়েছেন তিনজন। এরা হলেন, সুরুজ মিয়া (৬৫), রেহানা (৩৫) ও জামেলা খাতুন (৫৫)। তাদের নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাড়ির মালিক সুরুজ মিয়া নিউজ৩৯কে জানান, ডাকাত দল তার বাড়ি হতে ৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৬ লাখ টাকাসহ ৩৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

নবাবগঞ্জ থানার এসআই নুরুল আলম নিউজ৩৯কে বলেন, ডাকাতদের আটক করতে ও মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দোহারের লক্ষ্মীপ্রসাদে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যু

মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে দোহার উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ এলাকায় পিকআপ ভ্যানের নিচে চাপা পড়ে নাহিদ (১০) নামে কিশোর নিহত হয়েছে। রুনি (৯) নামে অপর শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।

নিহত নাহিদ লক্ষ্মীপ্রসাদ এলাকার নাসুর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টার দিকে দোহার-ঢাকা ভায়া নবাবগঞ্জ সড়কের লক্ষ্মীপ্রসাদ এলাকায় ঢাকাগামী নভেলটা বিস্কুট কোম্পানির পিকআপ ভ্যান স্কুল ছাত্র পরিবহনকারী ভ্যানকে সামনে থেকে ধাক্কা দিলে তা উলটে ঘটনাস্থলেই নাহিদ মারা যায় ও রুনি গুরুতর আহত হয়। এ সময় স্কুল পরিবহনে প্রায় ৭/৮ জন ছাত্র ছিলো ।

স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় রুনিকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়।উত্তেজিত জনতা পিকআপের চালক ও হেলপারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

দোহার থানার তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পিকআপসহ চালক নুরুল আলম ও হেলপারকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।

কৈলাইলে শ্বশুর বাড়িতে জামাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু

মঙ্গলবার নবাবগঞ্জ উপজেলার উত্তর কৈলাইল গ্রামে রায়হান ইসমাইল রানা (২৩) নামে যুবকের লাশ তার শ্বশুর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে। রানা একই এলাকার ফতু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিনগত রাতে রানা তার শ্বশুর নুরুল আমিনের বাড়িতে স্ত্রী তানজিদা আক্তার মুক্তার (১৫) সঙ্গে রাতযাপন করেন। সকালে মুক্তা ঘুম থেকে উঠে তার স্বামীকে ঘরের মেঝেতে মরে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করে। আত্মীয়রা মুক্তার কান্না শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে রানাকে মৃত অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দেয়।

রানার বাবা ফতু মিয়ার অভিযোগ, তার ছেলের বউ মুক্তার সঙ্গে অন্য ছেলের প্রেমজ সম্পর্ক রয়েছে। বউয়ের প্রেমিক ও তার বন্ধুরা মিলে রানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

মুক্তা নিউজ৩৯কে জানায়, সে তার স্বামীর সঙ্গে রাতে ঘুমিয়ে ছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখতে পায় তার স্বামী ঘরের মেঝেতে মরে পড়ে আছে।

নবাবগঞ্জ থানার এসআই নুরুল আলম নিউজ৩৯কে জানান, নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়না তদন্তে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।আর সন্দেহের ভিত্তিতে নিহতের স্ত্রী, তার শ্বাশুড়ী মমতাজ বেগম ও মামী শ্বাশুড়ী কানিজ ফাতেমা কে আটক করা হয়েছে। এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

বিলীন হয়ে যাচ্ছে পানকুন্ডু

ধীরে ধীরে ছোটো হয়ে যাচ্ছে দোহার থানা। প্রতি বছরের ভাংগনে আজ হুমকির মুখে দোহার থানার মানচিত্র। ভাঙ্গন শুরু হলেই দেখা যায় প্রশাসনের কর্তা ব্যাক্তিদের ত্রাণ নিয়ে দৌড়ঝাপ। কিন্তু ভাঙ্গন রোধে নেই তেমন কোনো কার্যক্রম বা স্থায়ী ব্যাবস্থা।আর এভাবেই এবার বিলীন হতে যাচ্ছে নয়াবাড়ি ইউনিয়নের পাঙ্কুন্ডু গ্রাম। ক্ষতির শিকার হয়ে উদ্বাস্তু হয়ে খোলা আকাশের নীচে জীবন যাপন করছে প্রায় শতাধিক প্রতিবার।

গতকাল সোমবার ঢাকা জেলা প্রশাসকের পক্ষে জেলা প্রশাসক মোঃ মহিবুল হক ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে নগদ টাকা ও ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন। এ সময় দোহার উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোঃ আল আমিন, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা সহ স্থানীয় চেয়ারম্যান মোঃ হান্নান উপস্থিত ছিলেন।

হুমায়ূন আহমেদের শেষ দেশে ফেরা: একই বিমানে তিন ভূবনের তিনজন

ফ্লাইট নম্বর ২০৩, এমিরেটস এয়ারলাইন্স; হুমায়ূন কার্গো হোলে, সিটে গুলতেকিন ও শাওন, স্থান জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর, দেশ যুক্তরাষ্ট্র, রাজ্য নিউ ইয়র্ক। সময় বাংলাদেশ সময় রোববার সকাল ৯টা, একটা লাশ তুলে দেয়া হলো। কফিন চলে গেল বিমানের কার্গো হোলে। এই হল বাংলাদেশের কিংবদন্তি লেখক হুমায়ূন আহমেদের শেষ দেশে ফেরা। আর ওদিকে বিমানের ভেতরে ঘটে গেল অপ্রত্যাশিত ঘটনা। 

হুমায়ূনের সাবেক ও বর্তমান স্ত্রী এই একই ফ্লাইট, একই পথের যাত্রী। জীবদ্দশায় এক সাথে তিনজন না হলেও আজ স্রষ্টার ইচ্ছ্বায় একই বিমানে তিনজন। তিনজন এখন তিন ভূবনের বাসিন্দা।

টমাস হার্ডি তার “টেস অফ ডারবারভিলে” নায়িকা টেসের মৃত্যুতে লেখক বলেছিলেন – অতঃপর স্রষ্টা তার খেলা শেষ করলেন। হুমায়ুনের জীবনের খেলা শেষ হলো ট্রাজেডী দিয়ে। শেক্সপিয়ারও জীবনে এতো বড় ট্রাজেডী দেখেন নি। আর এই ট্রাজেডীর মূল চরিত্র হুমায়ুন হলেও তাকে ছাপিয়ে গেলেন গুলতেকিন। 

২০০৩ সালে তাদের ছাড়াছাড়ি, নাম গুলতেকিন খান, খ্যাতনাম লেখক ইব্রাহিম খাঁ’র নাতনি। ১৯৭৩ সালে তার সাথে হুমায়ূন আহমেদের প্রথম সংসারজীবন শুরু। তখন থেকে তার নাম হয়েছিল গুলতেকিন আহমেদ।

২০০৫ সালে সংসার শুরু করা মেহের আফরোজ শাওন একই ফ্লাইট। আছেন শাওনের মা এমপি তহুর আলী, বোন সেঁজুতি, হুমায়ূনের দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিত। আজ সোমবার সকাল ১০টা ২২ মিনিটে তারা হজরত শাহজালাল রহ: আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশের মাটি স্পর্শ করে।

হুমায়ূনের লাশ নিয়ে ফিরলেন শাওন। গুলতেকিনের আগে থেকেই এ ফ্লাইট দেশে ফেরার কথাছিলো। সে জন্য অগ্রিম টিকিট কাটা ছিল। জীবনের শেষ দিনে এসে এভাবে তারা দু’জন একই ফ্লাইট দেশে ফিরছেন।

দীর্ঘ তিন দশকের সংসার জীবনের কথা মনে গুলতেকিনের। হুমায়ূনকে হুমায়ূন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে নিভৃতে যে নারীর অবদান সবচেয়ে বেশি তিনি গুলতেকিন। হুমায়ূন যাকে তার লেখায় জীবনের শ্রেষ্ঠ নারী বলে উল্লেখ করেছেন।

হুমায়ূন তার স্মৃতিকথায় লিখেছেন, সিনেমা বানানোর গল্প। তাতে তিনি বলেন, একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি বলি, গুলতেকিন, আমি সিনেমা বানাবো। সিনেমার নাম হবে আগুনের পরশমণি। সেই সিনেমা জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। সরকারের আর্থিক সহায়তায় এটি নির্মিত হয়েছিল।

অনেক স্মৃতি ভর করছে গুলতেকিনের। সাবেক স্বামীর মৃত্যুর খবর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই পেয়েছিলেন। ঢাকায় থাকেন তিনি। মেয়ে বিপাশার কাছে গিয়েছিলেন। সেখানে থাকার সময় তিনি হুমায়ূনকে দেখতে যাননি। খবর নেননি ফোনেও।

তার কাছের একজন বলেন, প্রচণ্ড আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন নারী গুলতেকিন। অভিমানও যথেষ্ট। হুমায়ূনের সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর তার আর কোনো খবর রাখেননি। তবে হুমায়ূনের পরিবারের অন্যদের সাথে তার যোগাযোগ ছিল। হুমায়ূনের ভাই ও তাদের স্ত্রীদের সাথে তার ভালো সম্পর্ক। হুমায়ূনমাতা আয়েশা ফয়েজকে তিনি দেখতে যেতেন। তার খবর নিতেন। সবার কাছেই তিনি ছিলেন অনন্য।

সাবেক স্বামীর সাথে একই ফ্লাইট এলেও তার লাশ দেখতে যান নি। তবে হুমায়ূনের মৃত্যুর খবর শুনে কেঁদেছেন গুলতেকিন, ঝরঝর করে কেঁদেছেন। অনেকদিন হয়তো এভাবে কাঁদা হয়নি। এত কষ্ট হয়তো ছাড়াছাড়ির পর আর পাননি। ছাড়াছাড়ি হয়েছে ঠিকই কিন্তু এত দ্রুত হুমায়ূন পৃথিবী ছেড়ে যান তা চাননি গুলতেকিন। দূরে থেকেও তার সুখ ও শুভ কামনা করেছেন বলে ঘনিষ্ঠজনেরা বলেছেন।

হুমায়ূন আহমেদের ভাই আহসান হাবীব বলেছেন, তাদের সাথে গুলতেকিনের এখনও যোগাযোগ হয়নি। হয়তো আসতে পারেন। শেষ পর্যন্ত যদি আসেন সে প্রত্যাশায় রয়েছেন সবাই।

তবে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রমতে, শেষ মুহূর্তের কথা বলা মুশকিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে আসার আগ পর্যন্ত তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। বলেছেন, যাবেন না। কেন যাবেন? সে প্রশ্নও করেছেন। যাওয়ার তো কোনো কারণ নেই। শত সহস্র স্মৃতি ধরে রেখে বেঁচে থাকা কষ্ট নিয়ে। তাই তিনি যেতে চান না এমনটা তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের। হুমায়ূন আহমেদের শেষ দেশে ফেরা।

জয়কৃষ্ণপুরে ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন নয়াবাড়ী একাদশ

নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর উদয়ন সংঘ আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০১২ ফাইনাল খেলা ২০ই জুলাই বিকাল ৫:৩০ মিনিটে জয়কৃষ্ণপুর-সোনাবাজু ফাতেমা রাণীর গীর্জা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনাল খেলাই অংশগ্রহণ করে নয়াবাড়ী একাদশ দোহার বনাম তাশুল্লা-বাংলাবাজার সোনালী সংঘ।

প্রথমার্ধের বেশ কয়েকবার আক্রমন করে গোল আদায় করে নেয় নয়াবাড়ী একাদশ। খেলার ২ মিনিটে দলের জন্য প্রথম গোল করেন ১০ নাম্বার জার্সি পরিহিত বিদেশি খেলোয়া  কাদিফ। প্রথম গোলের ১ মিনিট পর নিজেদের ভুলের কারনে দ্বিতীয় গোল করে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় নয়াবাড়ী। প্রথমার্ধের তেমন ভাল কোন আক্রমন করতে পারেনি তাশুল্লা-বাংলাবাজার সোনালী সংঘ। খেলার ১৩ মিনিটে দলের জন্য তৃতীয় গোল করেন সেই ১০ নাম্বার জার্সি পরিহিত বিদেশি খেলোয়া কাদিফ।
দ্বিতীয়র্ধের ১১ মিনিটে চতুর্থ গেলটি করেন নয়াবাড়ী একাশের ক্যাপিটিন ১১ নাম্বার জার্সি পরিহিত খেলোয়ার রাজন। তাশুল্লা-বাংলাবাজার ২৩ মিনেটে মাথায় একটি সুন্দর শট বর্তমান জাতীয় দলের গোলরক্ষক বিল্পব বলটি পাঞ্চ করে বাইরে পাঠিয়ে দেন। খেলা শেষের ১ মিনিট আগে পঞ্চম গোল করে তাশুল্লা-বাংলাবাজার সোনালী সংঘকে  ৫-০ গোলো পরাজিত করে নয়াবাড়ী একাদশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ২ গোল করে শ্রেষ্ঠ খেলোয়ারের ট্রফি পান বিদেশি খেলোয়াড় কাদিফ।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল খন্দার রুহুল আমিন, চেয়ারম্যান খন্দার গ্রুপ ও পরিচালক বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইনডাসট্রিজ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মোঃ মোজাম্মেল হক টিপু, মোতাহার হোসেন, চেয়ারম্যান জয়কৃষ্ণপুর ইউ,পি, ফরিদ আহমেদ, সাবেক চেয়ারম্যান জয়কৃষ্ণপুর ইউ,পি, আব্দুল কাদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়কৃষ্ণপুর ইউ,পি, ,ডা:বাবুল মিয়া,ফাদার জেভিয়ার ফ্রান্সিস পিউরিফিকেশন,আবুল কাশেম, এ.কে. বুলবুল খাঁন, সাইদুর রহমান, কামাল হোসেন, মিলন মোল্লা,মেস্তাফা শহীদ, জোয়াকিম ডিকস্তা প্রমূখ।
খেলার ধারা বিবরণ করেন ফ্রান্সিস মিলন গমেজ এবং মোঃ লুৎফর রহমান ভূঁইয়া। 
চ্যাম্পিয়ন দলকে একটি ১০ সিএফটি ওয়ালটন ফ্রিজ  এবং রানার্স আপ দলকে একাট ২১” কালার টেলিভিশন প্রদান করা হয়।

দিনে দুপুরে জয়পাড়া বাজারে চুরি

লাভলু মোল্লা, নিউজ ৩৯ ♦ শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে জয়পাড়া বাজারে মাছের বাজার সংলগ্ন বরফকলের পাশে গরুর ভুষিমালের দোকান থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকা চুরি হয়েছে। জানা যায়, জুম্মার নামাজের সময় দোকানের মালিক রমজান আলী নামাজ পড়তে গেলে তার অনুপস্থিথিতে দোকানের তালা ভেঙ্গে এই চুরি সংগঠিত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী জয়পাড়া বাজার মসজিদের এক মুসুল্লি বলেন, মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হবার সময় তিন অপরিচিত লোককে রমজান আলীর দোকান থেকে বের হয়ে আসতে দেখেন; এর আগে তাদের জয়পাড়া বাজারে দেখা যায় নি। ধারনা করা হচ্ছে দোকানে চুরির সাথে এরা জড়িত।

এদিকে রমজান আলীর সাথে নিউজ ৩৯ এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান; তার দোকান থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকা চুরি হয়েছে।

জয়পাড়া পাইলটে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে সহকারি প্রধান শিক্ষককে প্রহার

জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে (মডেল স্কুল) বুধবার প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ পাল এর কক্ষে লাঞ্ছিত হয়েছেন সহকারি প্রধান শিক্ষক মোশতাক আহমেদ। তাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে ম্যানেজিং কমিটির একজন সদস্য ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক আ. সালাম, মিজানুর রহমান মল্লিক, প্রকাশ নাগ সহ আরো ২/৩ জন শিক্ষক লাথি, চড় ও গলা ধাক্কা দেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক সহ আরো কয়েকজন শিক্ষকের সাথে বিরোধের জের এই ঘটনা ঘটেছে। 

মূলত প্রধান শিক্ষক হিসাবে ইন্দ্রজিৎ পাল নিয়োগ পেলেও তিনি সরকারি এমপিও ভূক্ত নন। পক্ষান্তরে সহকারি প্রধান শিক্ষক মোশতাক আহমেদ এমপিও ভূক্ত। আর মডেল স্কুলের বিধি মোতাবেক প্রধান শিক্ষক এবং সহকারি প্রধান শিক্ষকের যে কোনো একজন সরকারি এমপিও ভূক্ত হবেন এবং টাকা পাবেন। সহকারি প্রধান শিক্ষক মোশতাক আহমেদ স্কুলের এই সব সদস্যদের আনুকূল্যে নিয়োগ পেলেও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ চলে আসছিলো।

এরই ধারাবাহিকতায়, মোশতাক আহমেদকে স্কুলের পরিক্ষায় গার্ড দিতে বলা হলে তিনি গার্ড দিতে অস্বীকৃতি জানান বরং পরিদর্শক হতে চাইলে প্রধান শিক্ষকের সাথে তার প্রচন্ড বাকবিতন্ডতা ও রাগারাগি হয়। আর এই বাকবিতন্ডতার পুরো কথা মিজানুর রহমান মল্লিক তার মোবাইলে রেকর্ড করেন। এ সময় মোশতাক আহমেদ স্কুল কমিটি ও প্রধান শিক্ষককে উদ্দ্যেশে করে বাজে মন্তব্য করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত থেকে জানা যায়, বুধবার সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরুর আগে প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ পাল দপ্তরী মারফত তাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ডেকে নেন। এরপর ম্যানেজিং কমিটির উপস্থিত এক সদস্য বর্তমানে সরকারি দলের অংগ সংগঠনের এক নেতা তাকে উক্ত বাজে কথার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি চেয়ার উচু করেন।

এরপর উপস্থিত বিদ্যালয়ের শিক্ষক আ. সালাম, মিজানুর রহমান মল্লিক ও প্রকাশ নাগ তাকে গালিগালাজ করেন এবং আ. সালাম, মিজানুর রহমান মল্লিক, প্রকাশ নাগ তাকে লাথি মারেন ও গলা ধাক্কা দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেন বলে উপস্থিত ছাত্র/ছাত্রী ও অভিবাবকেরা নিউজ৩৯ কে জানান।

তবে এ ব্যাপারে মোশতাক আহমেদের সাথে কথা বললে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন ও নিরাপত্তাহীনতার কথা জানান।

বিশয়টি সবার কাছে অনভিপ্রেত; একই সাথে বিদ্যালয়ে সবার সামনে এমন ঘটনা থেকে ছাত্র/ছাত্রীরা কি শিখবে? সেটাও সবার প্রশ্ন।

প্রতিমন্ত্রীর ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন

ঢাকার দোহার উপজলোয় নয়াবাড়ী ইউনিয়নরে অরঙ্গবাদ এলাকায় পদ্মা নদী ভাঙ্গণে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে নগদ টাকা ও চাউল বিতরণ করেন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় গৃহায়ন ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী  এ্যাড. আব্দূল মান্নান খান।

গত ১৮ জুলাই দুপুর ২ টায় ঢাকা জলোর দোহার উপজলোয় নয়াবাড়ী ইউনিয়নের অরঙ্গবাদ এলাকায় পদ্মা নদী ভাঙ্গণে ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিটি পরিবারের মাঝে নগদ ৩ হাজার টাকা এবং ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ করেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় গৃহায়ন ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী  এ্যাড. আব্দূল মান্নান খান  মোট ১৫৬ টি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে এ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

প্রতিমন্ত্রী এসময় বলেন আমি আপনাদের ছেলে এবং আপনাদের পাশে সবসময় থাকব। আমি নির্বাচনের সময় কথা দিয়েছিলাম, আপনাদের আপদে বিপদে দঃসময় আপনাদের পাসে থাকব। 

মন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ার সময় একলোক বলেন, আমাদের কি ভাবে পুনর্বাসন করবেন এর একটা ব্যাবস্থা চাই আপনার কাছে। আমাদের এই ১০ সের চাউলে কিছুই উপকারে আসবেনা। আপনি আমদেরকে নির্বাচনের সময় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নদী ভাঙ্গন থেকে নয়াবাড়ীকে রক্ষা করবেন তার বাস্তবায়ন চাই। আমাদের হাট গেছে, বাড়ী গেছে, জীবন গেছে, সব গেছে রাস্তার ফকির আমরা।

এসময় প্রতিমন্ত্রী  আপনাদের বিপদ মানে আমার বিপদ, শেখ হাসিনার বিপদ আমাদের সবার বিপদ। আপনাদের জন্য খাস জমি যদি না পাই, তাহলে সাবাই মিলে ফান্ড করে জমি কিনে আপনাদের পুনর্বাসন করা হবে ইনসাআল্লাহ।

এ সময়ে আরো উপস্থতি ছিলেন  দোহার উপজলো নির্বাহী র্কমর্কতা মোহাম্মদ আল-আমনি, কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি বাবু নির্মল রঞ্জন গুহ, দোহার উপজলো ভাইস চেয়ারম্যান আলী আহসান খোকন শিকদার,  দোহার উপজলো আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত র্কমর্কতা আলমগীর হোসেন, প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মীনি জনাবা হাসিনা মান্নান, নয়াবাড়ী ইউনয়িনরে চয়োরম্যান শামীম আহাম্মদে হান্নান এবং দোহার প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ।

বান্দুরা-শিকারীপাড়ার রাস্তা অকেজো হয়ে পড়ছে

নবাবগঞ্জ থানার বান্দুরা থেকে দাউদপুর হয়ে শিকারীপাড়া যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি আজ থেকে প্রায় ৭ থেকে ৮ বছর আগে পিচ ঢালাই করা হয়,ফলে এলাকাবাসীর  একটি স্বপ্ন পূরণ হয়। স্কুল,কলেজ ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার একমাত্র সুবিধাজনক পথ এটি।তাই প্রতিদিন ছোট,বড় ও মাঝারি ধরনের বিভিন্ন প্রকার যানবাহন এ রাস্তার উপর দিয়ে যাতায়াত করে।

নবাবগঞ্জের সাথে সরাসরি যোগাযোগ হওয়ায় মালামাল আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক সুবিধা ভোগ করে এলাকাবাসী,আর এ কারণেইএলাকায় গড়ে উঠে ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কিছুদিন ধরে এ রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানের পিচ উঠে যাওয়ায় ও বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে যাওয়ায় এলাকার মানষের ব্যাপক ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। মালবাহী ভারী ট্রাক ও  অন্যান্য যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ এবং বৃষ্টিজনিত মাটিক্ষয়ই এই ক্ষতির প্রধান কারণ । এদিকে অত্র ইউনিয়নের আরো অনেক স্থানের রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে আছে । আর এ কারণেই প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে বিভিন্ন  ধরনের দূর্ঘটনা,মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এলাকাবাসী। কর্তৃপক্ষ এগুলো দেখেও যেন না দেখার ভান করে বসে আছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও মেম্বার চেয়ারম্যানের কাছে এলাকাবাসীর দাবী তারা যেন অতিদ্রুত এ সব রাস্তাঘাট মেরামত করার ব্যবস্থা গ্রহন করে এলাকার জনগনকে বিভিন্ন দূর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করে।