কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে নবাবগঞ্জে বিক্ষোভ

0

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাগণ মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বুধবার বেলা ১১টায় নবাবগঞ্জ উপজেলা সদর মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় থেকে যুদ্ধাকালীন কমান্ডার বদিউজ্জামান বদির নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে থানা চত্বর ঘুরে শহীদ মিনারে এসে পথসভা করেন।

এসময় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোশারফ হোসেন দিলু বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন রায় অপ্রত্যাশিত। বাংলার জনগণ এ রায় প্রত্যাখানকরেছে।”

বিচার প্রক্রিয়া আবার শুরু করে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির রায় ঘোষণা করে তা কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ডেপুটি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোশারফ হোসেন খানসহ সহকারী কমান্ডার ও উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সদস্যরা।

দোহার থানা জামায়াত আমির গ্রেফতার

0

দোহার থানার জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোহাম্মদ সাইফুল্লাহকে (৪০) গ্রেফতার করেছে দোহার থানা পুলিশ। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের পশ্চিমচর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ওই গ্রামের মো. আজহার আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে দোহার থানায় পুলিশ দ্রুত বিচার আইন ২০০২ ৪(১) ধারা মোতাবেক মামলা করে। এ মামলার আরো ৭ আসামি জামিনে থাকলেও মাওলানা মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ হজে থাকায় আদালতে উপস্থিত হতে পারেন নি।

আদালত তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করলে থানা পুলিশ তাকে গতকাল সোমবার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের পশ্চিমচর এলাকার নিজ বসতবাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

দোহার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অজয় কুমার চক্রবর্তী জানান, তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।

নতুন প্রজন্ম আধুনিক বাংলার নির্মাতা : নবাবগঞ্জে শিক্ষামন্ত্রী

0

আসিফ শেখ, নিউজ৩৯ ♦ ফেব্রুয়ারী শনিবার দুপুর ১টায় নবাবগঞ্জ উপজেলা নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

এদিন শিক্ষামন্ত্রী নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়কে মডেল স্কুল ও কলেজে উন্নীতকরণ করে নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন। তিনি ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মডেল প্রকল্পের একটি নতুন ভবন নির্মান, ১০টি কম্পিউটার, লাইব্রেরী ও উন্নত গবেষণাগার স্থাপনের ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, যারা স্কুল,কলেজ, মাদ্রাসা,বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে আথবা লেখাপড়া করার সুযোগ যার নাই এই নতুন প্রজন্ম কে গড়ে তুলতে হবে। তারা হবে আধুনিক বাংলার নির্মাতা তারা দেশকে নের্তৃত্ব দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এটি আমোদের শিক্ষার লক্ষ্য। আমাদের দেশের প্রচলিত শিক্ষা দিয়ে, গতানুগতিক শিক্ষা দিয়ে এই নতুন প্রজন্মকে আধুনিক মানবের নির্মাতা হিসেবে তৈরী করা যাবে না। তাই আমরা চাই এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আরো মৌলিক পরিবর্তন এবং সেই লক্ষ্যেই আমরা এগিয়ে চলছি।

মন্ত্রী আরও বলেন, “এই দেশে ১৯৬২ সাল থেকে আমরা আন্দলন করে আসছি শিক্ষানীতির জন্য। বাস্তবায়ন তো দূরের কথা পাকিস্থান গেল বাংলাদেরশর ৪২ বছর গেল এখনও এদেশের কার্যকরী শিক্ষানীতি তৈরী হয় নি। এই শক্তিহীন শিক্ষা দিয়ে আমাদের জনগনের আশা আকাঙ্খা পূরণ হতে পারে না। তাই আমাদের একটা শিক্ষানীতি তৈরি করে সেটাকে বাস্তবায়ন করে এগিয়ে যেতে হবে। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই আমরা একটা শিক্ষানীতি তৈরি করবো, তবে কোন দলীয় শিক্ষা নীতি হবে না এটা হবে জাতীয় শিক্ষানীতি; এমন একটা শিক্ষানীতি করতে হবে যা সকলের কাছে গ্রহনযোগ্য হবে।

তিনি আরো বলেন, “আমরা যারা রাজনীতি করি তারা হয়তোবা মানুষের কাছে সব কথা খুলে বলি না। এই দেশের মালিক এই দেশের জনগন, এই কথা আমাদের সংবিধানের ৭ম অংশে লেখা আছে। এ দেশের জনগন যত গরিবই হোক এ দেশ চলবে জনগনের ইচ্ছায়। আমাদের জনগন চায় এ দেশের পরিবর্তন এবং এমন একটা দেশ গড়ে তুলতে  যে দেশ জনগনের আশা পূরণ করতে পারে। ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুরের নেতৃতে স্বাধীন হয়েছিল। এই দেশ স্বাধীন করার জন্য আমাদের ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছে লক্ষ লক্ষ পরিবার ধ্বংস হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ পঙ্গু হয়েছিল। আমরা এ দেশ স্বাধীন করেছি একটা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলার জন্য।”

Nawabgonj

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সৈয়দা হাসিনা মান্নানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদ গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মাহবুবুর রহমান, বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রেজাউল করিম, আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটিরসদস্য আব্দুল বাতেন মিয়া, নাসির উদ্দিন ঝিলু, এ্যাড. জামাল উদ্দিন আহম্মেদ, আ. জব্বার ভূইয়া, নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. ইব্রাহীম খলিল, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ-সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, ফিনল্যান্ড আ’লীগ সভাপতি মো. রমজান আলী প্রমুখ।

দোহার নবাবগঞ্জে বাড়ছে মোটর সাইকেল চুরি

0

দোহার নবাবগঞ্জে আশংকাজনক হারে বাড়ছে মটর সাইকেল চুরির ঘটনা। প্রতিদিনই এই দুই উপজেলার কোথাও না কোথাও চুরি হচ্ছে মোটরসাইকেল। মোটর সাইকেল চুরির ঘটনায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চোরের দলকে একটি নির্দিষ্ট পরিমান টাকা দিয়ে নিয়ে আসতে হচ্ছে মোটর সাইকেল। অনেক ক্ষেত্রে টাকা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না মোটর সাইকেল।

প্রবাসী অধ্যুষিত এই দুই উপজেলায় মোট কতটি মোটর সাইকেল চলে তার প্রকৃত হিসাব নেই পুলিশের কাছে। বেশির ভাগ সময়ই দেখা যায় বিদেশ থেকে ফিরে প্রথমেই মোটর সাইকেল কিনে প্রবাসীরা। স্থানীয় ভাবে চালানোর জন্য কেনার ফলে এই সব মোটর সাইকেল গুলোর রেজিস্ট্রেশনও করা হয় না। ফলে মটর সাইকেল চোরের জন্য লোভনীয় হয়ে থাকে এই সব মটর সাইকেল। রেজিস্ট্রেশন করা থাকে না বিধায় চুরির পর অভিযোগ জানাতে থানাতেও যেতে পারছে না ভুক্তভোগীরা।

কয়েক দিন আগে দিনে দুপুরে নবাবগঞ্জ বাজারের ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের বুথের সামনে থেকে মটর সাইকেল নিয়ে যায়। কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই মটর সাইকেল নিয়ে চম্পট দেয় চোরের দল। ডাচ-বাংলা এটিএম বুথের দারোয়ান নিউজ ৩৯-কে বলেন, নবাবগঞ্জ বাজারে মটর সাইকেল চুরির ঘটনা এখন নিয়মিত হয়ে উঠেছে। দিনকে দিন পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে তার পরও এর কোন উন্নতি নেই।

নবাবগঞ্জ পুরিশের ডিউটি অফিসার মুস্তাফিজুর রহমান নিউজ ৩৯ কে মটর সাইকেল চুরির ব্যাপারে বলেন, “র্দীঘ দিন ধরেই এই এলাকাতে মটর সাইকেল চোরের একটা সংঘবদ্ধ দল কাজ করছে। আমরা মাঝে মাঝে এদের বিরুদ্ধ অভিযান চালাই। কিন্তু তারা ঠিকই আইনের ফাক ফোকর দিয়ে বের হয়ে আসে। আমরা এদের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলে এই মটর সাইকেল চুরির হার কমাতে না পারলে পরবর্তীতে সরকার একটি বিরাট অংশের রাজস্ব হারাবে বলে মনে করছেন বিশিষ্ট জনেরা।

দোহারে বাস ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

0

অতিরিক্ত বাস ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। গত রবিবার ২৭ই জানুয়ারি বেলা ১২টায় ‘আলোকিত দোহার’ -এর উদ্যোগে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারক লিপি প্রদান এবং বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের সভাপতি খন্দকার কামাল সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মো. বাবুল হোসেন, আতিকুল ইসলাম টিটু, কাজল, নিপু খন্দকার, সোলাইমান, নজরুল মাস্টার, আউয়াল ও অন্যান্য নেতা। বক্তারা বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর না হলে দোহার থানার জনগনকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন এর মাধ্যমে নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করা হবে।

সম্প্রতি সরকার তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিলে ‘বিশেষ মহল’ যোগাযোগ মন্ত্রী তথা সরকারী নির্দেশ অমান্য করে জোরপূর্বক নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।

তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণার ফলে দূরপাল্লার বাস কিলোমিটার প্রতি ০.১০ টাকা বৃদ্ধি অর্থাৎ বর্তমানে প্রতি কিলোমিটার ১.৪৫ টাকা হারে নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা থেকে দোহারের দুরত্ব ৫৮ কিলোমিটার, হিসাব অনুযায়ী (১.৪৫×৫৮)=৮৪.১০ টাকা নির্ধারিত হলেও ঢাকা হতে দোহারের ভাড়া জোরপূর্বক ৯৫ টাকা আদায় করছে আরাম-ভাগ্যকুল পরিবহন লি.।

দোহারের সর্বস্তরের জনগণ পরিবহন কর্তৃপক্ষের এই কর্মকান্ডের প্রতি গনস্বাক্ষর দিয়ে ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানায় এবং তারা বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ২৫০ জন ব্যক্তির সাক্ষর গ্রহন করেন। তারা সরকারের কাছে নিবেদন করেছেন যে অসহায় জনগণের কথা বিবেচনা করে সরকার যেন নির্ধারিত ভাড়া প্রতি কিলোমিটার ১.৪৫ টাকা হারে নেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেন।

আরাম – ভাগ্যকুল পরিবহন লি. এর নির্ধারিত বর্তমান ভাড়ার তালিকা-

১. জয়পাড়া/দোহার – ঢাকা ৯৫টাকা

২. সুতারপাড়া/মেঘুলা – ঢাকা ৮৫টাকা

৩. নারিশা/ফুলতলা – ঢাকা ৮০ টাকা

৪. আল-আমিন বাজার – ঢাকা ৭০ টাকা

৫. বালাশুর – ঢাকা ৬৫ টাকা

৬. তিন দোকান – ঢাকা ৬০ টাকা

৭. শ্রীনগর – ঢাকা ৫০ টাকা

৮. জয়পাড়া – শ্রীনগর ৫০ টাকা

৯. ফুলতলা – শ্রীনগর ৩০ টাকা

জয়পাড়া পরিবহনের সুপারভাইজার নিউজ৩৯-কে জানায় যে তারা এখনো ভাড়া বাড়ায় নি। তাদের ভাড়া আগে যেমন ছিল এখনও ঠিক একইরকম আছে। তবে ভাড়া বাড়াবে কিনা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন ‘এ বিষয়ে এখন ঠিক করে কিছুই বলা যাচ্ছে না।‘

নবাবগঞ্জে পিস্তলসহ এক যুবক আটক

0

গত ২৪ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সাদাপুর এলাকা থেকে মো. আব্দুল আল মামুন (২২) নামে এক যুবককে একটি বিদেশী পিস্তলসহ আটক করেছে র‌্যাব-১১।

অস্ত্রসহ আটককৃত মামুন সাদাপুর গ্রামের আব্দুল কাসেমের ছেলে। র‌্যাব-১১ জানায়, গত ২৪ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাদাপুর বাজার থেকে ধাপারী যাওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মো. আব্দুল আল মামুন (২২) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে প্যান্টের পকেট থেকে একটি ৬ রাউন্ডের বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

তাকে অস্ত্র আইনে মামলা দিয়ে নবাবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক ইশতিয়াক রাশেদ জানান, শুক্রবার সকালে তাকে আদালেতে হাজির করে ৫ দিনের চাওয়া হলে আদালত ৩দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় আসলে আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর হবে: মান্নান খান

0

“আগামী নির্বাচনে যদি আমি এমপি এবং শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়, তাহলে আমি কথা দিচ্ছি যে  আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর হবে’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান। শনিবার তিনি দোহার উপজেলার কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি এমদাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়, ইসলামাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়, আবদুল হামেদ উচ্চ বিদ্যালয়, কার্তিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “দোহার ও নবাবগঞ্জ দুই উপজেলার অধিকাংশ স্কুলে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দোহার উপজেলার ৬০টির উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৫টির কাজ শেষ হয়েছে। বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন। আমাদের উপজেলার কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাজেট বঞ্চিত থাকবে না।” শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা, খেলাধুলা, সঙ্গীত, সমাজসেবা, সাহিত্যসহ যে কোনো সেক্টরে ভালো করলে তাদেরকে পুরস্কৃত করার কথাও বলেন তিনি।

তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনে আমি এমপি হলে ও শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হলে আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর হবে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এই বিমানবন্দরের কাজ বাধাগ্রস্ত করেছে। অথচ আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর হলে দোহার নবাবগঞ্জ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হতো। এমনকি আমাদের প্রবাসী সন্তানেরা বিদেশ থেকে সরাসরি গ্রামে আসতো। এতে পৃথিবীর মানুষ এ এলাকায় আসা যাওয়া করতো। বিশ্বব্যাপী এলাকার নাম ছড়িয়ে পড়তো।”

মান্নান খান বলেন, “শান্তিতে বসবাসের জন্য আমরা সব করেছি। সারাদেশে আমাদের সরকার কাজ করছে। খরা, অভাব, মঙ্গা, সন্ত্রাসের দেশকে বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে তুলে ধরেছে সরকার। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ প্রশংসিত হয়েছে। সরকার বিভিন্ন সেক্টরে উন্নয়ন করে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। তাই আবার আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হবে।”

দেশের কৃষকদের ব্যাপারে তিনি বলেন, “গুলশান, বনানী বারিধারা ও শহরের ধনীদের জন্য বিদ্যুৎ কমিয়ে সারারাত গ্রামে কৃষকদের জন্য বিদুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এখন সারের জন্য জীবন দিতে হয় না। সব জায়গায় বাম্পার ফলন হয়। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে অনেক কাজ করছে সরকার।”

তিনি বলেন, “৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশে এখন কোনো খাদ্য ঘাটতি নেই। আগে না খেয়ে মানুষ মারা যেত। এখন আমরা খাদ্যে উদ্বৃত্ত উৎপাদনকারী দেশ। এটা বর্তমান সরকারের অবদান।”

দোহারবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা বাস্তবায়ন করেছি। আমি বলেছিলাম, আপনারা শেখ হাসিনা ও নৌকাকে ভোট দিন আমি আপনাদের সম্মান ও মর্যাদা দেবো। আমি আমার কথা রাখতে কাজ করছি।”

প্রতিমন্ত্রী মান্নান খানের সহধর্মিনী হাসিনা মান্নান বলেন, “শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক হিসেবে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ও সোনার বাংলা বাস্তবায়নে আগামীর নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।”

মান্নান খানের সঙ্গে এসময় উপস্থিত ছিলেন ইডেন কলেজের সাবেক ভিপি ও শিক্ষানুরাগী সৈয়দা হাসিনা মান্নান, দোহার উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ আনারকলি পুতুল, দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল আমীন, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষাবিদ এম এ কাশেম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুন্নি হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা মোতালেব হোসেন খান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান দীপু প্রমুখ।

বারুয়াখালী-বক্তারনগর সেতু: নিউজ৩৯ এ সংবাদ প্রকাশের পর টনক নরেছে প্রশাসনের

0

গত ২০ জনুয়ারী “ব্রিজের কাছে এলে মনে হয় পাহাড়ে উঠুম” এ সংবাদটি নিউজ৩৯ এ  সংবাদ টি প্রকাশিত হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের টনক নরেছে। বারুয়াখালী-বক্তারনগর ইছামতি নদীর উপর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এল,জি,ই,ডি) এর আর্থায়ানে ২ কোটি ৩২ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা ব্যায় ৮৪.০মি দীর্ঘ পিসি গর্ডার আইসিসি ব্রিজটি নির্মিত করা হয়। গত ২৬ আগষ্ট পরদা টেনে ব্রিজের শুভ উদ্বোধন করেন গৃহায়ন ও গণর্পূত প্রতিন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান।

ব্রিজ উদ্বোধনের প্রায় ৬ মাসেও ব্রিজের এপ্রোচ সড়ক করা হয়ে হয়েছিল না। গত ১৬ জানুয়ারী আমাদের এই প্রতিবেদক বারুয়াখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মামুন খানের সাথে ফোনে কথা বললে তিনি জানায় খুব শিঘ্রই বারুয়খালী ইউনিয়ন ব্রিজের অংশে মাটি ফেলে ঠিক করে দিবেন। সংবাদ প্রকাশের পর ব্রিজের গোড়ায় মাটি ফালানোর হয়েছে এর ফলে যানবাহন ও পথচারিদের চলাচলে আগের মত র্দূভোগ পোহাতে হবে না।

এ ব্যাপারে ইজিবাইক চালক অপু বলেন নিউজ৩৯কে ও আমাদের এ প্রতিবেদককে  আমার পক্ষ থেকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। এ প্রতিবেদন টি যদি প্রকাশিত না হতো তা হলে হয় তো ১ বছরের মধ্যেও এ কাজটি হতোনা। তিনি আরো জানায় এখন আগের মত গাড়ি ঠেলা দেবার জন্য ৪/৫ জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবেনা। এ টানে ব্রিজে উঠটে পারুম।

অন্যদিকে পথচারি হামজা জানায় ব্রিজের গোড়ায় মাটি আরো অনেক আগেই দেওয়া দরকার ছিল কিন্তু নিউজ৩৯ এ সংবাদ প্রকাশের পর এ রাস্তা ঠিক করা হলো এ জন্য নিউজ৩৯ ও আমাদের এ প্রতিবেদক কে আমান আন্তরের  আন্তরস্থর থেকে অভিন্দন জানায়।

এ ব্যাপারে পাঞ্জিপহরী গ্রামের মীর লিয়াকত আলী নিউজ৩৯ কে জানায়, বাপ দাদার আমল থেকেই শুনতাছি এ নদীর উপর ব্রিজ হবে অবশেষে এই সরকারের আমলেই আশা পূরণ হলো। এতো দিন ব্রিজের গোড়ায় বালি থাকায় চলাচলে কষ্ট হতো মাটি ফালিয়ে ভরাটের কারনে আর চলাচলে কষ্ট হবে না।

অমর সাহিত্য ড্রাকুলা

0

পৃথিবীর ইতুহাসে যে কয়টি সাহিত্য কর্ম মানুষের মনে চির জীবনের জন্য স্থান করে নিয়েছে তার মধ্যে বিখ্যাত আইরিস সাহিত্যিক ব্রাম স্টোকারের ড্রাকুলা অন্যতম। ১৮৯৭ সালের মে মাসে প্রকাশিত এই উপন্যাসের প্রধান খলচরিত্র ভ্যাম্পায়ার কাউন্ট ড্রাকুলা। আর্চিবল্ড কনস্টেবল অ্যান্ড কোম্পানি এই উপন্যাসের প্রথম প্রকাশক। সর্বকালের সেরা এই ভয়াল উপন্যাসের পরিচিতি থাকছে আজ আপনাদের জন্য।
ড্রাকুলা উপন্যাসটি সাহিত্যের একাধিক বর্গের অন্তর্ভুক্ত। এগুলি হল ভ্যাম্পায়ার সাহিত্য, ভৌতিক সাহিত্য, গথিক উপন্যাস ও আক্রমণ সাহিত্য। গঠনগতভাবে এটি একটি পত্রোপন্যাস যা একাধিক চিঠি, দিনলিপি, জাহাজের নথি ইত্যাদির আকারে রচিত। সাহিত্য সমালোচকেরা এই উপন্যাসে ভিক্টোরিয়ান সংস্কৃতিতে নারীর স্থান, প্রথাগত ও রক্ষণশীল যৌনতা, অভিনিবেশ, সাম্রাজ্যবাদ, উত্তরসাম্রাজ্যবাদ ও লোককথা ইত্যাদি নানা উপাদান পরীক্ষা করে দেখেছেন। স্টোকার ভ্যাম্পায়ারের আবিষ্কর্তা না হলেও, বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীর একাধিক নাট্য, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সংস্করণে ভ্যাম্পায়ারের যে জনপ্রিয়তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার জন্য এই উপন্যাসখানিই এককভাবে দায়ী।

কাহিনি-সারাংশ

উপন্যাসের চরিত্র সম্পর্কে স্টোকারের স্বহস্তলিখিত নোট।

এই উপন্যাসখানি প্রধানত বিভিন্ন বর্ণনাকারীর দিনলিপি ও চিঠিপত্রের আকারে লিখিত। এই বর্ণনাকারীরা উপন্যাসের প্রধান চরিত্রও বটে। যে ঘটনাগুলি উপন্যাসের কোনো চরিত্রই সরাসরি প্রত্যক্ষ করেনি, সেগুলি স্টোকার বর্ণনা করেছেন সংবাদপত্র প্রতিবেদনের আকারে। কাহিনির শুরুতেই সদ্য পাস করা ইংরেজ আইনজীবী জোনাথান জার্কার প্রথমে ট্রেন ও পরে ঘোড়ার গাড়িতে চেপে ট্রানসিলভ্যানিয়া, বুকোভ্যানিও ও মলডাভিয়ার সীমান্তপ্রদেশে অবস্থিত ক্যাপারথিয়ান পর্বতমালায় কাউন্ট ড্রাকুলার নির্জন পোড়ো দুর্গের পথে যাত্রা করছেন। তাঁর এই যাত্রার উদ্দেশ্য হার্কারের নিয়োগকর্তা ইংল্যান্ডের এক্সেটরের পিটার হকিনসের একটি রিয়্যাল এস্টেট চুক্তি বিষয়ে ড্রাকুলাকে আইনি সহায়তা প্রদান। প্রথমে ড্রাকুলার রাজকীয় চালচলনে বিমোহিত হলেও ক্রমে হার্কার বুঝতে পারেন যে তিনি আসলে এই দুর্গে বন্দী হয়ে পড়েছেন। ড্রাকুলার নৈশজীবনের বিভিন্ন বীভৎস দৃশ্যও তাঁর নজরে আসে। ড্রাকুলা তাঁকে রাত্রে তাঁর কক্ষের বাইরে যেতে নিষেধ করেছিলেন। তা সত্ত্বেও এক রাত্রে তিনি কক্ষের বাইরে বেরিয়ে তিন লাস্যময়ী স্ত্রী ভ্যাম্পায়ারের খপ্পরে পড়েন। এরা ছিল ড্রাকুলার বউ। শেষ মুহুর্তে কাউন্ট তাঁকে রক্ষা করেন। প্রয়োজনীয় আইনি সাহায্য ও ইংল্যান্ড ও লন্ডন সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞানলাভ করার পূর্বে কাউন্ট তাঁকে হত্যা করতে চাইছিলেন না। তাঁর পরিকল্পনা ছিল লন্ডনের লক্ষ মানুষের মধ্যে গিয়ে উপস্থিত হওয়া। হার্কার কোনো মতে প্রাণ হাতে করে দুর্গ থেকে পালিয়ে আসেন।

এর কিছুকাল পরেই ডিমিটার নামে একটি রাশিয়ান জাহাজ ভারনা থেকে নোঙর তুলে ইংল্যান্ডের হুইটবির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে এক ভয়ানক ঝড়ের কবলে পড়ে। জাহাজের নাবিকেরা সকলেই নিখোঁজ হয়ে যায়। ধরে নেওয়া হয় যে তারা সকলেই মারা পড়েছে। কেবলমাত্র জাহাজের হালের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় ক্যাপ্টেনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। ক্যাপ্টেনের নথি থেকে জানা যায় যে যাত্রাকালে জাহাজে কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিল। তারপর থেকেই জাহাজের মাঝিমাল্লারা একে একে নিখোঁজ হয়ে যেতে থাকে। মনে করা হতে থাকে জাহাজে কোনো অশুভ শক্তির আবির্ভাব ঘটেছে। জাহাজ থেকে একটি বিরাট কুকুরের আকৃতিবিশিষ্ট জানোয়ারকে লাফিয়ে সমুদ্রতীরে নেমে যেতেও দেখা গিয়েছিল। জাহাজের মালের তালিকায় ছিল ট্রানসিলভ্যানিয়া থেকে আসা রুপালি বালি ও “মৌলড” (“mould”) বা গুঁড়ো মাটি।

এরপরই ড্রাকুলা হার্কারের প্রণয়ী উইলহেমিনা “মিনা” মুরে ও তাঁর বান্ধবী লুসি ওয়েস্টেনরার সন্ধান পান। একই দিনে লুসি ড. জন সিউয়ার্ড, কুয়েন্সি মরিস ও মাননীয় আর্থার হোমউডের কাছ থেকে বিবাহের প্রস্তাব পান। লুসি সিউয়ার্ড ও মরিসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে হোমউডের প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন। এতে অবশ্য কোনো বন্ধুবিচ্ছেদ ঘটে না। সকলের মধ্যেই বন্ধুত্বসম্পর্ক বজায় থাকে। ইতিমধ্যে ড্রাকুলা ও সিউয়ার্ডের রোগী রেনফিল্ডের সাক্ষাৎ ঘটে। রেনফিল্ড লোকটা ছিল পাগল। সে ছোটো থেকে বড়ো আকারের নানারকম পোকামাকড়, মাকড়সা, পাখি আর অন্যান্য জন্তু খেয়ে বেড়াতো তাদের “জীবনীশক্তি” শুষে নেওয়ার জন্য। রেনফিল্ড গতিবিধি অনুধাবনকারীর কাজ করে। সে ড্রাকুলার নৈকট্য অনুধাবন করে সেই অনুযায়ী সূত্র যোগাতো।

http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/3/34/Bram_Stoker_1906.jpg/200px-Bram_Stoker_1906.jpg

ব্রাম স্টোকার

হঠাৎ করে লুসি সন্দেহজনকভাবে শুকিয়ে যেতে শুরু করে। তাঁর সকল পাণিপ্রার্থীরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। সিউয়ার্ড আমস্টারডামে তাঁর বৃদ্ধ শিক্ষক অধ্যাপক আব্রাহাম ভ্যান হেলসিংকে ডেকে আনান। ভ্যান হেলসিং দেখামাত্র লুসির এই অবস্থার কারণটি বুঝতে পারেন। কিন্তু তিনি কাউকে কিছু বলতে অস্বীকার করেন। কারণ তিনি জানতেন, ভ্যাম্পায়ারের কথা বললে তাঁর প্রতি সিউয়ার্ডের যে আস্থা আছে তা নষ্ট হয়ে যাবে। ভ্যান হেলসিং বিভিন্ন রকম ভাবে ব্লাড ট্রান্সফিউসন করে তাকে সারাবার চেষ্টা করেন। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। সিউয়ার্ডকে একটি চিঠিতে লুসির উপর নজর রাখার নির্দেশ দিয়ে ভ্যান হেলসিং এক রাত্রিতে আমস্টারডামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। চিঠিটি ভুল ঠিকানায় গিয়ে পড়ে। সেই রাতেই লুসি আর তাঁর মা-কে একটি নেকড়ে আক্রমণ করে। দুর্বল হৃদয়ের মিসেস ওয়েস্টেনরা ভয়েই মারা যান এবং লুসিও তার অনতিবিলম্বে মারা যান। উল্লেখ্য, ওই নেকড়েটিকে লন্ডনের চিড়িয়াখানা থেকে ড্রাকুলাই ছেড়ে দিয়েছিলেন কিছু কাজ হাসিলের জন্য।

লুসিকে কবর দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরই সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে জানা যেতে থাকে যে রাতে একটি “ব্লুফার লেডি” (ছোটোদের বর্ণনা অনুযায়ী, অর্থাৎ “সুন্দরী নারী”) ছোটো ছেলেমেয়েদের পিছু নিচ্ছে।[৩] ভ্যান হেলসিং বুঝতে পারেন যে লুসি একটি ভ্যাম্পায়ারে পরিণত হয়েছে। তিনি সকল বৃত্তান্ত সিউয়ার্ড, লর্ড গডামিং ও মরিসের কাছে প্রকাশ করেন। তাঁদের সাহায্যে ভ্যান হেলসিং লুসিকে খুঁজে বার করেন এবং লুসির ভ্যাম্পায়ার সত্ত্বা ও আর্থারের মধ্যে একটি বিশ্রী বিবাদের পর তাঁরা লুসির হৃদপিণ্ডে শূল বিদ্ধ করেন, তার মুণ্ডচ্ছেদ করেন ও মুখে গার্লিক ঢেলে দেন।

প্রায় একই সময় বুদাপেস্ট থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন জোনাথান হার্কার। বুদাপেস্টেই মিনা তাঁর সঙ্গে যোগ দেন ও দুর্গ থেকে পালিয়ে এসে তাঁরা বিবাহ করেন। এরপর জোনাথান ও মিনা দলের সঙ্গে যোগ দেন এবং ড্রাকুলার সঙ্গে মোকাবিলার কথা ভাবতে থাকেন।

ড্রাকুলা যখন জানতে পারেন যে ভ্যান হেলসিং ও অন্যান্য তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, তখন তিনি তাঁদের সঙ্গে দেখা করে এবং মিনাকে তিন বার দংশন করে প্রতিশোধ নেন। ড্রাকুলা মিনাকে তাঁর রক্ত পান করান। এর পরে দুজনের মধ্যে একটি অতিলৌকিক বন্ধন সৃষ্টি হয়। এর ফলে ড্রাকুলা মিনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন। এর থেকে উদ্ধার পাওয়ার একমাত্র রাস্তা ছিল প্রথমেই ড্রাকুলাকে হত্যা করা। মিনার শিরায় ড্রাকুলার রক্ত বইতে শুরু করলে মিনা ড্রাকুলার নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়ে। সজ্ঞান অবস্থা থেকে সে মাঝে মাঝেই অর্ধ-চৈতন্য অবস্থায় চলে যেতে থাকে, যে অবস্থায় তার সঙ্গে ড্রাকুলার টেলিপ্যাথিক যোগাযোগ স্থাপিত থাকে। কিন্তু এই সংযোগটি তাঁরা ব্যবহার করতে থাকেন ড্রাকুলার গতিবিধি অনুধাবনের জন্য। ভ্যান হেলসিং মিনাকে সম্মোহন করে ড্রাকুলা কোথায় আছে তা জেনে নিতে থাকেন। কিন্তু ড্রাকুলার দুর্গের কাছাকাছি আসার পর থেকে এই সংযোগটি দুর্বল হয়ে যেতে থাকে।

http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/a/af/Vlad_Tepes_002.jpg/200px-Vlad_Tepes_002.jpg

ইতিহানে ইনিই ড্রাকুলা নামে পরিচিত। তিনি ছিলেন হাঙ্গেরীর ওয়ালচিয়া প্রদেশের রাজা।

ড্রাকুলা ট্রানসিলভ্যানিয়ায় তাঁর দুর্গে ফিরে আসেন। ভ্যান হেলসিং-এর দল তাঁর পিছু নেন। শেষে তাঁরা সূর্যাস্তের পূর্বেই তাঁর সন্ধান খুঁজে বের করে ছুরি দিয়ে তাঁর গলা কেটে ও হৃদপিণ্ডে শূলবিদ্ধ করে তাঁকে ধ্বংস করেন। ড্রাকুলার দেহ মাটির গুঁড়োয় পরিণত হয়। মিনার উপর থেকে তাঁর প্রভাব নষ্ট হয়ে যায় এবং মিনা মুক্ত হয়। শেষ যুদ্ধে জিপসিরা কুইন্সি মরিসকে ড্রাকুলাকে দুর্গে ফিরিয়ে আনার অভিযোগে ছুরি মেরে হত্যা করেন। অন্যরা জীবিত অবস্থায় ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন।

বইয়ের শেষে একটি নোটে জোনাথান ও মিনার বিবাহিত জীবন ও তাঁদের প্রথম পুত্রসন্তানের সম্পর্কে জানানো হয়। ছেলেটির নাম দলের সকল চার সদস্যের নামানুসারে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তাকে তাঁদের আমেরিকান বন্ধু কুইন্সির নামানুসারে কুইন্সি বলেই ডাকা হত।

নবাবগঞ্জে বিএনপির ১০ নেতা জামিনে মুক্তি

0

আসিফ শেখ ♦ গত ২৩ জানুয়ারী সন্ধায় নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আটক ১০ নেতা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় নবাবগঞ্জ উপজেলার বিএনপি সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মটরসাইকেল বহর নিয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে এসে জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত বিএনপির নেতাদের পুস্পমাল্য দিয়ে বরণ করে নেন।
গত ১৩ ডিসেম্বর বৃহষ্পতিবার ১৮ দলীয় জোটের অর্ধদিবস হরতাল পালনকালে বিএনপির  চেয়ারর্পাসনের উপদেষ্টা সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান সমর্থিত নেতাকর্মীরা বেলা ১২টায়  শুরগঞ্জ দলীয় কার্যালয় থেকে  বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এক সময় তারা অগ্নিসংযোগ রাস্তা অবরোধ গাড়ী ভাংচুর করে ও পুলিশের সাথে নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায় পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে কিছু নেতাকর্মীরা দৌড়ে পালায়। বাকিরা সুরগঞ্জ দলীয় কার্যালয়ের গেটে তালাবদ্ধ করে ভেতরে অবস্থান করে। পুলিশের উপর হামলার জের হিসাবে পুলিশ দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে পালিয়ে থাকা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশিদ ওসমানী, ঢাকা জেলা কৃষক দলের সভাপতি আঃ রশিদ, উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সামসুল ইসলাম শিশু , যুবদল সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ শাহিন, উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ন সম্পাদক মো. মামুন, উপজেলা বিএনপির  প্রকাশনা সম্পাদক  আ. সালাম, গালিমপুর  ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মহি উদ্দিন মহি, বিএনপি নেতা সাহের মেম্বার সহ ১০ নেতাকর্র্মী আটক করে দ্রুত বিচারসহ ২ টি মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।