রানা প্লাজার আহতদের জন্য দোহারবাসীর রক্ত প্রদান

সাভার ট্র্যাজেডিতে মানবতার রক্তক্ষরণ হল দোহারে। সাভারে আহতদের জন্য রক্ত প্রয়োজন টিভি’তে এই স্ক্রল দেখে নিউজ৩৯ ও প্রতিভা কোচিং সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে সংগ্রহ করা হয় ২৫ ব্যাগ রক্ত। 

উদ্যোগের কথাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আল আমিনকে জানালে তিনি এম্বুলেন্স দিয়ে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় তা সাভার পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন। এই সময় জয়পাড়া ক্লিনিকের পরিচালক ও ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেনও সার্বিক সহযোগিতা করেন, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রক্ত সংগ্রহের ১০টি ব্যাগ বিনামূল্যে সরবরাহ করেন। এছাড়া তাৎক্ষনিকভাবে জাহিদ হাসান সুমন, নাসির আহমেদ ও মাহমুদুল হাসান সুমন অর্থ সহযোগিতা করেন রক্তের ব্যাগ ক্রয় করতে। আর সার্বিক সহযোগিতা করেন নিউজ৩৯ ও প্রতিভা কোচিং সেন্টার। রক্ত দাতাদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান নিউজ৩৯এর সম্পাদকরা-রিপোর্টাররা ও প্রতিভা কোচিং সেন্টারের চেয়ারম্যান।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং বিষয়টি তদারকি করেন। সেখানে উপস্থিত অর্ধশতাধিক মানুষ এই উদ্যয়গগকে ‘বিস্ময় ও অভিভূত‘ বলে মন্তব্য করেন।

রাত আটটায় উপজেলা প্রশাসন হতে দেয়া এম্বুলেন্সে করে নিউজ৩৯ এর ৪ সাংবাদিক টুটুল, বাবু, মোরাদ ও আসিফ ২৫ ব্যাগ রক্ত সাভারস্থ এনাম মেডিকেল কলেজে হস্তান্তর করেন।

এনাম কর্তৃপক্ষ বলেন, আমরা আনন্দিত। এখন পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর বাইরে থেকে এটিই আমাদের প্রথম রক্ত সরবরাহ পাওয়া।

এরপর রাত ২.৩০ টায় নিউজ৩৯ এর ৪ সাংবাদিক টুটুল,বাবু, মোরাদ ও আসিফ সাভার হতে জয়পাড়া পৌঁছান।

দোহারে যুবদল ও সেচ্ছাসেবক দলের নেতা আটক

দোহার উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাখাওয়াত হোসেন বিদ্যুৎকে সোমবার রাতে তার বাসা থেকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ। সাখাওয়াত হোসেন বিদ্যুৎ দোহার পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে দোহারেই অবস্থান করছিলেন। এই মূহূর্তে তাকে গ্রেফতার করে দোহার থানা পুলিশ।

তার গ্রেফতারের ব্যাপারে নিউজ৩৯ জয়পাড়া থানা ডিউটি অফিসারের সাথে কথা বললে তিনি তথ্য দিতে অপারগতা জানান।

এদিকে দোহার উপজেলা যুবদল সভাপতি উমাউয়ুল ইসলাম খালেককে মঙ্গলবার রাতে নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে দোহার থানা পুলিশ। কি অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে তা জানাতেও অপারগতা প্রকাশ করে দোহার থানা পুলিশ। 

জয়পাড়ায় অবৈধ মোটর সাইকেলের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান

জয়পাড়ায় মোবাইল কোর্টের অভিযান, দোহার উপজেলার জয়পাড়া বাজারে সোমবার ভ্রাম্যমান মোবাইল কোর্ট অবৈধ মোটর সাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। এসময় লাইসেন্সবিহীন মোটর সাইকেল ও ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন মোটর সাইকেল চালকদের জরিমানা করা হয়। 

প্রবাসী অধ্যুসিত এই উপজেলায় দেশের অন্য জায়গার তুলনায় ব্যক্তিগত মোটর সাইকেলের ব্যবহার অনেক বেশি। মোটর সাইকেল ব্যবহারের নিয়মকানুন থাকলেও তার তোয়াক্কা কেউ করে না। তাই দোহার উপজেলা মোবাইল কোর্ট সোমবার দোহার উপজেলা গেইটের সামনে বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় ৫০টি মটর সাইকেল আটক করে। এসময় অনেক কে জরিমানা করা হয়।

দোহার পৌরসভা নির্বাচন: আওয়ামী লীগের সমর্থন পেল নজরুল ইসলাম বাবুল

দীর্ঘ ১৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দোহার পৌরসভার নির্বাচনে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলামকে সমর্থন দিয়েছে দলের স্থানীয় কমিটি। সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের এক সভায় ওই সমর্থনের কথা জানানো হয়।

আওয়ামী লীগের এই সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোতালেব খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন, দোহার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনার কলি প্রমুখ।

সভা শেষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন শিকদার বলেন, ‘দোহার পৌরসভা নির্বাচনে নজরুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দল থেকে তাঁকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে।’ ২০০০ সালের ২৬ সেপ্টেস্বর দোহার পৌরসভার প্রথম নির্বাচন হয়।

নবাবগঞ্জে সাবেক স্ত্রীকে উক্ত্যাক্ত করায় কারাদন্ড

তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করার দায়ে গতকাল রবিবার নবাবগঞ্জ উপজেলায় মো. আলম (২৮) নামে এক যুবককে দুই মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে উপজেলায় আগলা ইউনিয়নের ছাতিয়া গ্রামের আলম তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে উপজেলার মোসলেমহাটি ২য় স্বামীর বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। পুলিশ সংবাদ পেয়ে সেখান থেকে আলমকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।

রবিবার দুপুরে আলমের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্টেট দেওয়ান মাহ্বুবুর রহমানের কাছে অভিযোগ করলে নির্বাহী ম্যাজিস্টেট আলমকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদ- প্রাদান করেন। এসআই ইশতিয়াক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সাজাপ্রাপ্ত আলম ওই গ্রামের আমির উদ্দিন খানের ছেলে।

দোহার পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

ঢাকার দোহার পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন গত বৃহস্পতিবার এ তফসিল ঘোষণা করে।

তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে ভোট গ্রহণ করা হবে। মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ২৫ এপ্রিল।
রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল ঘোষণার খবরে পৌরবাসী ও নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহামঞ্চদ আল-আমিন তফসিল ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০০০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দোহার পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নবাবগঞ্জে ছাত্রী উত্ত্যেক্তকারীর কারাদণ্ড

আসিফ শেখ♦ ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্ত্যেক্ত করার অপরাধে মো. আসলাম (২০) নামে এক বখাটের ৩ মাসের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। বৃহস্পতিবার তাকে এই কারাদন্ড প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়ান মাহবুবুর রহমান।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঐ ছাত্রী বাড়ি থেকে স্কুলে আসার পথে কুমারবাড়িল্যা এলাকায় উত্ত্যেক্ত করার সময়ে পুলিশ মো. আসলামকে আটক করে। পরে দুপুর ২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়ান মাহবুবুর রহমানের ভ্রাম্যমান আদালত মো. আসলামকে ৩ মাসের স্বশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। উল্ল্যেখ, মো. আসলাম ঐ স্কুলছাত্রী স্কুলে যাওয়া আসার সময়ে প্রায়ই উত্ত্যেক্ত করতো। এ নিয়ে এলাকায় কয়েক দফা গ্রাম সালিশ হয়। পরে ছাত্রীর অভিভাবক পুলিশকে জানালে পুলিশ উত্ত্যেক্ত করার সময়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সোহেল রানা জানান, স্কুল ছাত্রীর অভিভাবকের সুনিদিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে হাতে-নাতে আটক করা হয়।

আসন্ন দোহার পৌর নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী যারা

নিউজ৩৯ ♦ যতই দিন যাচ্ছে ততই গুঞ্জন বাড়ছে দোহার পৌর নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদেরকে নিয়ে। সম্প্রতি আইনি জটিলতা নিস্পত্তি শেষে এই নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়েছে। যদিও নির্বাচনী তফসিল এখনো ঘোষণা হয় নি, যেক কোনো দিন হতে পারে।

এরই মধ্যে রঙ্গিন পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছে রাস্তা ঘাট আর বিভিন্ন দেয়াল। কারা হচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থী তা নিয়েও চলছে বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ। প্রার্থীদের উৎসাহ-আগ্রহ প্রকাশ জনসংযোগ পর্যবেক্ষণ করে নিউজ৩৯ সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা করেছে।

সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা হচ্ছেন:

আলহাজ্ব আব্দুর রহিম মিয়া (বর্তমান পৌর মেয়র ও পৌর বিএনপি সভাপতি)

জহির চেয়ারম্যান (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান )

নজরুল ইসলাম বাবুল ( সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান সভাপতি, দোহার থানা আওয়ামিলীগ)

মো. নুরুল ইসলাম (সাবেক চেয়ারম্যান, সুতারপাড়া ইউনিয়ন ও বিএনপি সমর্থক),

আ. রহমান আকন্দ ( সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমানে গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর সহকারী ব্যাক্তিগত সচিব)

নাসির হোসেন ( জহির চেয়ারম্যানের পূত্র)

মো. আমির আলী ওরফে আমির কোম্পানী (আওয়ামিলীগ সমর্থক)

সুজাহার ব্যাপারী (আওয়ামিলীগ সমর্থক)

আ. হালিম (সাবেক চেয়ারম্যান, রায়পাড়া ইউনিয়ন ও বিএনপি নেতা)

মো আলমাস উদ্দিন (আহবায়ক, দোহার থানা যুবলীগ ও সর্বশেষ নির্বাচিত ভিপি-জয়পাড়া কলেজ)

মো. সাহাবুদ্দিন (বর্তমান সভাপতি, দোহার থানা বিএনপি)

মো. ফজলুর রহমান( যুগ্ম-সম্পাদক, ঢাকা জেলা আওয়ামিলীগ)

জিয়াউদ্দীন রাজু ভূঁইয়া ( সাধারণ সম্পাদক, পৌর বিএনপি)

জামাল হোসেন (পবন মঞ্জিল, আওয়ামিলীগ সমর্থক)

মাসুদ পারভেজ ( সাবেক সভাপতি, ঢাকা জেলা ছাত্রদল)

শফিকুল ইসলাম সেণ্টু ( সাবেক সহ-সভাপতি, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগ)।

এছাড়া আ. কুদ্দুস কমিশনার, আলমাস কমিশনারের নামও বিভিন্ন আলোচনায় শোনা যাচ্ছে।

দোহার-নবাবগঞ্জ থেকে গ্রাহকদের ৪০ কোটি টাকা আত্মসাৎ

ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা মাল্টিপারপাস কোম্পানিগুলো দোহার ও নবাবগঞ্জ থেকে গত চার মাসে গ্রাহকদের প্রায় ৪০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। বিনিয়োগকারীরা টাকা ফেরতে পাবার আশায় প্রতিদিন প্রতিষ্ঠানগুলোর বন্ধ কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমাচ্ছেন। সমাবেশ করছেন, স্বারকলিপি দিচ্ছেন কিন্তু ফিরে পাচ্ছেন না টাকা। আর টাকা ফেরত না পাওয়ায় অনেকের সংসারে দেখা দিয়েছে অশান্তি।

উল্লেখ্য সম্প্রতি দোহার-নবাবগঞ্জ এলাকা থেকে ডেসটিনি, আল-আকসা, ইসলামিক কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. এবং আইডিয়াল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. সান গ্রুপ ও দি ম্যাক্সিম গ্রুপ গ্রাহকদের বিনিয়োগকৃত প্রায় ৪০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়। আর কোম্পানি লাপাত্তা হওয়ায় চরম আতঙ্কে ও নিরাপত্তাহীনতায় আছেন স্থানীয় কর্মচারী ও কমিশনভোগী এজেন্টরা।

নিউজ৩৯ সূত্রে জানা গেছে, নবাবগঞ্জ উপজেলায় বাগমারা বাজারের পাশে মুন্নাফ বেপারীর আরিফ সুপার মার্কেটের তিনতলা বিল্ডিংয়ের দোতলায় অবস্থিত আইডিয়াল মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড ও গালিমপুর বাজারে আল-আকসা ইসলামী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড উপজেলা থেকে গ্রাহকদের প্রায় ২০ কোটি নিয়ে উধাও হয়েছে গেছে।

গত দুই মাসের ব্যবধানে চারটি মাল্টিপারপাস কোম্পানি এখানকার গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার ফলে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাকি সব মাল্টিপারপাস কোম্পানিতে বিনিয়োগকারী গ্রাহকরা। প্রতিদিনই এসব প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত টাকা উত্তোলনের জন্য একই সঙ্গে গ্রাহকরা ভিড় জমাচ্ছেন।

প্রতারণার শিকার বড়গাঁও খাদিজা (২৮) বলেন, ‘স্বামীকে না জানিয়ে আইডিয়াল কো-অপারেটিভ সোসাইটিতে ১১ লাখ টাকা জমা রেখেছি। জমাকৃত টাকা ফেরত না পাওয়ায় স্বামী আমাকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। এখন আমার সংসার ভাঙার উপক্রম।’

আরেক ভুক্তভোগী গালিমপুর এলাকার আবুল কালাম (৫০) মনে করেন, স্থানীয় সমবায় অফিস ঠিকমতো মনিটরিং না করায় অবৈধভাবে মাল্টিপারপাস কোম্পানিগুলো ব্যবসা পরিচালনা করার সুযোগ পাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সৌদি আরব থেকে ফেরার পর বাকি জীবন শান্তিতে দেশে কাটাব বলে সঞ্চয়ের সাড়ে ১৫ লাখ টাকা আইডিয়াল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের বাগমারা শাখায় জমা রেখেছি। কিন্তু টাকা নিয়ে এখন তারা লাপাত্তা।’

সান গ্রুপে পল্লী সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডে বিনিয়োগকারী দোহার শাখার প্রশিকা কর্মকর্তা আবদুস সালাম জানান, গত ২ মাস আগে ৪ লাখ ৩০,০০০ টাকা জমা রাখেন।

একইভাবে আইডিয়ালের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সব সঞ্চয় খুইয়েছেন আগলা গ্রামের ইদ্রিস মিয়া (৬ লাখ টাকা), ছাতিয়া গ্রামের খলিল (২ লাখ টাকা), বড়গাঁও গ্রামের নাজমা বেগম (৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা) ও দিঘিরপাড় গ্রামের হারুন-উর-রশীদের স্ত্রী বিউটি (৫ লাখ টাকা)।

এদিকে মার্চের শেষ ও এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে দোহার উপজেলার জয়পাড়া বাজারে মৃধা প্লাজায় অবস্থিত সান গ্রুপ অব কোম্পানিজ লিমিটেডের ‘পল্লী সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড’ এবং দ্য ম্যাক্সিম গ্রুপের ‘ম্যাক্সিম মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের প্রায় ৮ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গিয়েছে।

জয়পাড়া ডিগ্রি কলেজের কেমিস্ট্রির প্রভাষক কেরামত আলী জানান, ৫ মাস আগে তিনিও ৫ লাখ টাকা জমা রাখেন। অপরদিকে, দি ম্যাক্সিম গ্রুপের ম্যাক্সিম মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ লিমিটেডে বিনিয়োগকারী বানাঘাটা গ্রামের নুরুল হক জানান, ১ বছর আগে তিনি ৫ লাখ টাকা জমা রেখেছেন।

আরেকজন গ্রাহক নিলুফা আক্তার রেশমা জানান, ব্যাংকের চেয়ে বেশি লাভ পাওয়ার আশায় তিনি ৩ লাখ ৩৫,০০০ টাকা জমা রেখেছেন।

দোহার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা এসএম শহীদুজ্জামান বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে অবৈধ পন্থায় রাতারাতি গ্রাহকদের কাছ থেকে ডিপিএসের নামে সঞ্চয় করে।’

নবাবগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাজমা আক্তার বলেন, ‘ঢাকা জেলা হতে নিবন্ধন হওয়ার কারণে পূর্বে আমাদের মনিটরিং করার কোনো ক্ষমতা ছিল না। এ সুযোগে মাল্টিপারপাসগুলো ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে।’

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।’

নিউজ৩৯ অনুসন্ধানী প্রতিবেদক বিষয়টি আগেভাগেই প্রসাশনের নজরে আনতে জোর তাগিদ দিয়েছিল। গত ২০ তারিখে বিষয়টি দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনকে জানালে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে একটি জরুরি বৈঠকে আছেন বলে জানান এবং পরে ফোন দিবেন বললেও তিনি ব্যাস্ততার কারণে ভুলে যাওয়ায় তা দেননি।

বর্তমানে গ্রাহকর বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কার্যালয়ে। প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। তখন সেখানে গ্রাহকদের ভীড় দেখা গেছে। তাদের অনেককে হতাশায় ভোগছেন।

এ ব্যাপারে সান গ্রুপ অফ কোম্পানিজ লিমিটেড দোহার শাখা ব্যবস্থাপক ইয়াকুব আলীর মোবাইলে এবং দি ম্যাক্সিম গ্রুপের দোহার শাখা ব্যবস্থাপক আবদুর রাজ্জাকের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায় নি। আব্দুর রাজ্জাক বর্তমানে পলাতক আছেন বলে জানা গেছে।

তবে জানা গেছে দি ম্যাক্সিম গ্রুপের দোহার শাখা পরিচালককে কে বা কারা গোপনে অপহরণ করার পর তাকে দিয়ে সাদা কাগজ ও দলিলে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে কতিপয় গ্রাহক, এমন অভিযোগ করেন তার পারিবারিক লোকজন। তারা বলেন, কোম্পানির এম ডি পালিয়ে যাওয়ায় তারা এই বিপাকে পড়েছেন। না হলে কোম্পানির যে সম্পত্তি আছে তা দিয়ে গ্রাহককদের দায়-দেনা মেটানো সম্ভব। কিন্তু এমডি’র কোনো খোজ না থাকায় তারা তা বিক্রিও করতে পারছেন না। উপরন্তু পরিচালকেরা আছেন বিপাকে।

দোহার থানার ওসি (তদন্ত) কামরুল ইসলাম মিয়া জানান, অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল আমীন বলেন, বিষয়টির ব্যাপরি অবহিত আছি এবং কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে যেন আমানতকারিদের যেন ক্ষতি না হয়। তিনি যারা অসাধু ব্যবসায়ির মিথ্যা প্রলোভনে পড়ে অধিক লাভের আশায় টাকা জমা করেন, তাদের আরো সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।

৯ই মে দোহার-নবাবগঞ্জ সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ

আগামী ৯ই মে সংসদীয় আসন ১৭৮ ঢাকা-১ দোহার ও ১৭৫ ঢাকা-২ নবাবগঞ্জের সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃ নির্ধারণ সম্পর্কিত আপত্তি ও নিস্পত্তি হবে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সূত্র নং – ১৭.০০.০০০.০২৫.৩৩.০০৩.১২.৬৪ গেজেট নং – ১৭.০০.০০০.০২৫.৩৩.০০৩.১২-৪৭ এর দ্বারা এক তথ্য বিবরণীতে এই তথ্য জানানো হয়।

আগামী ৯ই মে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে (ব্লক নং- ০৬, ৩য় তলা) অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই ব্যাপারে কমিশন জানিয়েছে, শুধুমাত্র আপত্তিকারী ও তার পক্ষে কৌঁসুলি অংশগ্রহন করতে পারবেন।