জয়পাড়া-লটাখোলা রাস্তার করুন দশা : সংস্কারের আভাস

তানিজম ইসলাম, নিউজ৩৯.নেট ♦ লটাখোলা করম আলীর মোড় থেকে জয়পাড়া বাজার পর্যন্ত রাস্তার বেহাল দশা গত কয়েক বছর ধরে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে।

গত বিএনপি সরকারের সময়ে রাস্তা নির্মানের পর থেকে এখন পর্যন্ত আর কোনো সংস্কার করা হয় নি। রাস্তাটি খানা-খন্দে ভরপুর, প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। আর এইটুকো পথ আসতে যানবাহনগুলোকে পোহাতে হয় বাড়তি ঝাক্কি, যাত্রীদের দুর্গতির শেষ থাকে না। এই পথেই রয়েছে একটি ক্লিনিক, যার কারনে রোগীদের সমস্যা হচ্ছে।

নিউজ৩৯.নেট-এ এর আগেও কয়েকবার প্রতিবেদন করা হয়েছে এই বিষয়ে। এবার পৌরসভার মেয়র আব্দুল রহিম মিয়া বলেন, ‘পনের দিনের মধ্যে এই রাস্তাটি সহ আরও কয়েকটি রাস্তার টেন্ডার হবে, তারপর কাজ শুরু হবে। এর পাশে ড্রেন তৈরী করা হবে, রাস্তাটি খুবই উন্নত মানের হবে।“

ভাঙন আতঙ্কে পদ্মাপাড়ের হাজারো মানুষ

গত কয়েক দিনে পদ্মা নদীর পানি বেড়ে তীব্র স্রোত সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ভাঙন। ফলে দোহার-নবাবগঞ্জের নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দারা ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম সময় পার করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়ার কারণে নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বাহ্রাঘাট, নয়াডাঙ্গী, অরঙ্গাবাদ, পানকুণ্ড ও ধোয়াইর এলাকার পরিবারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারগুলো। পাঁচ-ছয়টি পরিবারকে বেড়িবাঁধে ঘর তুলে আশ্রয় নিতে দেখা যায়।

এদিকে দোহার-নবাবগঞ্জ-মানিকগঞ্জ (কাশিয়াখালী বাঁধ) বেড়িবাঁধের ধোয়াইর বাজারসংলগ্ন দেওয়ান বাড়ির মোড়ে প্রায় ১৫০ মিটার বাঁধ ভেঙে গেছে। গত দুই বছরে বাঁধের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কোনো ধরনের সংস্কারকাজ হয় নি। এতে দোহার-নবাবগঞ্জের লক্ষাধিক মানুষ বন্যার হুমকিতে রয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, যে কোনো সময় উত্তাল পদ্মার পানির চাপে এ বেড়িবাঁধের বেশির ভাগ অংশ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে।বাহ্রা গ্রামের এক তাঁতি পরিবারের সদস্য বলেন, “বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম ওয়াদা করেছিলেন নির্বাচিত হলে পদ্মার ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখি নি।”

এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম বলেন, “পদ্মা ভাঙন প্রতিরোধে দোহারবাসীকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে। কাগজপত্রে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন। নতুন অর্থবছরের অর্থ ছাড় পেলেই কাজ শুরু হবে।”

ধোয়াইর গ্রামের আ. মজিদ (৬০) বলেন, “সরকার অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও আমরা কিছুই পাইনি। ওনারা শুধু আশ্বাস দিয়ে যান। ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন আমরা অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।”

নবাবগঞ্জে ইমাম লাঞ্চিত

নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের চরশেল্লা গ্রামের তারা জামে মসজিদের ইমামকে অজ্ঞাতনাম ২০/৩০ জনের একটি দল মসজিদে এসে ইমামকে লাঞ্চিত করেছে।

গতশুক্রবার জুম্মা নামাজ শেষে ইমাম সাইফুল ইসলাম মসজিদে অবস্থান করছিলেন। অপরিচিত কিছু লোক তাকে ডেকে মসজিদের বাইরে নিয়ে যায়। তাকে জিজ্ঞাস করে “তুই কি আহেলে হাদিস কিনা? “ তিনি অস্বীকার করেন। তারপর তাকে তারা চড় মারে এব বলে “তুই কি এখান হতে যাবি নাকি তোরে মারবো?”  তিনি উত্তর দেন,  “যদি কমিটি বলে তবে চলে যাব।“ লোকটি বলে, “তুই কিন্তু মাইর খাবি।“ এরপর তারা চলে যায়।

ইমাম সাইফুল ইসলাম জানান তিনি কাউকে চিনেন নি। তবে সেখানে উপস্থিত ইব্রাহীম নামের স্থানীয় একটি ছেলে জানায়, “আমি সেয়দ আলী বাবুর্চি’র ছেলে মাসুদকে চিনেছি।“

মসজিদ কমিটি এটার নিন্দা জানিয়েছে। কারা কেন ইমাম সাহেবকে লাঞ্চিত করল সে প্রশ্নের উত্তর কেউ জানে না।

ইছামতীর তীর দখল করে মার্কেট নির্মাণ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কুমারবাড়িল্যা এলাকায় ইছামতীর তীরসহ নদীর অংশবিশেষ দখল করে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি মার্কেট নির্মাণ করছেন। ইতিমধ্যে প্রশাসন মার্কেট নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করেই কাজ চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কুমারবাড়িল্যা মৌজার কুমারবাড়িল্যা-দাউদপুর বাজার সেতুর দক্ষিণ পারে ইছামতীর তীর এবং নদী ও কুমারবাড়িল্যা খালের অংশ দখল করা হয়েছে। তাতে বহুতলবিশিষ্ট মার্কেট নির্মাণ করছেন স্থানীয় মো. শাহজাহান ওরফে সারু নামের এক  প্রভাবশালী ব্যক্তি।
স্থানীয় বাসিন্দা সালাহউদ্দিন বলেন, এভাবে নদীর তীর দখল হতে থাকলে একসময় পুরো ইছামতীই দখলদারের পেটে চলে যাবে। তাই এ বিষয়ে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ওই স্থানে ভবন নির্মাণ করা হলে একদিকে নদী দখল হবে, অন্যদিকে খালের স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হবে। এভাবে খালটি বন্ধ হলে দখল আর দূষণে জর্জরিত হবে গোটা এলাকা। তাঁরা এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের কুমারবাড়িল্যা-দাউদপুর সেতু ঘেঁষে ইছামতী নদী ও খালের অংশে গাইডওয়াল নির্মাণ করে তাতে মাটি ভরাট করা হয়েছে। এখন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। বহুতল ভবনের নিচতলার কাজ শেষে দ্বিতীয় তলার স্তম্ভ (কলাম) নির্মাণের কাজ চলছে।
দাউদপুর বাজারের এক  ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘শাহজাহান খুব ভয়ংকর লোক। ভয়ে এলাকার মানুষ তাঁর এসব জবরদখলের বিষয়ে মুখ খুলছে না। তিনি সব সময়ই দলবল নিয়ে চলাফেরা করেন। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
উপজেলা প্রকৌশলী ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ বলেন, এভাবে সেতুর পাশে স্থাপনা নির্মিত হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সেতুর বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মো. শাহজাহান ওরফে সারু বলেন, এটি তাঁর কেনা সম্পত্তি। আর  তাঁর বিরুদ্ধে পত্রিকায় লেখা হলে তিনি দেখে নেবেন বলে হুমকি দিয়ে মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন।
নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ বলেন, ঘটনাস্থলে সার্ভেয়ার (জরিপকারী) পাঠানো হয়েছে। কাজও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এর পরও নির্দেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নবাবগঞ্জের গাজীখালী ঋষিপাড়া সড়কের বেহাল অবস্থা

ফারুক আহমেদ♦ নবাবগঞ্জ থেকে ঢাকার গুলিস্তানের দূরত্ব ৩৩ কিলোমিটার। খানাখন্দ আর গর্তে ভরা এ সড়ক দিয়ে অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে যান চালাতে হয় চালকদের। যাত্রীরাও থাকেন দুর্ঘটনা ঝুঁকিতে। যাত্রীবাহী বাস এ পথ পাড়ি দিতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। দীর্ঘ আট বছরেও এ সড়কের প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তায় কোনো সংস্কার হয়নি। ফলে একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে নতুন নতুন গর্ত সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং সড়ক ও জনপথ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-বান্দুরা আঞ্চলিক মহাসড়কটির কিছু অংশ তিন বছর আগে সংস্কার করা হয়। তবে নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর থেকে খারশুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার রাস্তায় কোনো সংস্কার হয়নি। ফলে রাস্তার এ অংশের বেশির ভাগ জায়গায় পিচ ও খোয়া উঠে খানাখন্দে ভরে গেছে। বর্ধনপাড়া, পাঠানকান্দা, কোমরগঞ্জ বাজার, ঋষিপাড়া, গাজীখালী, জয়নগর, আগলা বাজার, আগলা পোস্টঅফিস থেকে খারশুর এলাকার আট কিলোমিটার রাস্তার প্রায় ২০টি পয়েন্টে বেহাল অবস্থা।
এদিকে কেরানীগঞ্জ অংশের রুহিতপুর বাজার থেকে জিনজিরা বেলতলা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার রাস্তায় ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করে। খানাখন্দ আর গর্তে ভরা এসব রাস্তায় দীর্ঘ দিন সংস্কার কাজ হয়নি। প্রায় ১০-১২টি স্থানে গর্ত। অল্প বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
দিঘির পাড়ের বাসিন্দা রাজিব আহমেদ বলেন, বক্সনগর ঋষিপাড়া সংলগ্ন স্থানে রাস্তার কিছু অংশ ইছামতি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখান দিয়ে যান চলাচল করাটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। যেকোনো সময় যাত্রী নিয়ে গাড়ি নদীতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক অমলেশ সরকার বলেন, শুধু এ এলাকার জনসাধারণ নয়, পার্শ্ববর্তী দোহার উপজেলা ও ফরিদপুর জেলার হাজার হাজার মানুষ নবাবগঞ্জ দিয়ে ঢাকায় যাতায়াত করেন। তা ছাড়া নবাবগঞ্জ থেকে ঢাকার সরকারি-বেসরকারি অফিসে গিয়ে চাকরি, ব্যবসার কাজে যাওয়া-আসা করেন এমন লোকও কম নয়। নিয়মিত যাত্রী নবাবগঞ্জের ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, রাস্তায় গর্তের কারণে চালককে ধীরগতিতে বাস চালাতে হয়। এতে রাতে চলাচলকারী যাত্রীদের ডাকাতের কবলে পড়ে সর্বস্ব খোয়াতে হয়।
গাড়িচালক রমজান জানান, তিনি দীর্ঘ দিন যাবত এ রাস্তায় গাড়ি চালান। গর্তে পড়ে গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে চাকা পাংচার হয়ে যায়। তাই দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানো যায় না। ফলে এক ঘণ্টার রাস্তা যেতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা লেগে যায়। এতে যাত্রীদের গালিগালাজও শুনতে হয়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের মুন্সীগঞ্জ রেঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল হোসেন জানান, এ রাস্তার জন্য টেন্ডার হয়েছিল। ঠিকাদার নির্দিষ্ট সময় কাজ না করায় তার কার্যাদেশ বাতিল করে পুনঃদরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। শিগগির কাজ শুরু হবে।

কোমরগঞ্জে ইছামতী নদী থেকে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ইছামতী নদীতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাতনামা (২৫) এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইছামতী নদীর কোমরগঞ্জ-বাহ্রা সেতুর নিচ থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯টার দিকে কোমরগঞ্জ-বাহ্রা সেতুর নিচে ইছামতী নদীতে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে জানায়। পরে সংবাদ পেয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মোশফিকুর রহমান জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ইছামতি নদীতে কচুরিপানার রাজত্ব

আসিফ শেখ, নিউজ৩৯.নেট ♦ নবাবগঞ্জে পশ্চিম অঞ্চলে ইছামতী নদীর কচুরিপানা মানুষের চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। জনগণের ভোগান্তি চরমে উঠলেও যেন দেখার কেউ নেই। নদীর স্বাভাবিক স্রোতধারা বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় এই বিরূপ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে নদী তীরে বসবাস করা লোকজন জানিয়েছেন।

পরিকল্পিতভাবে নদীর পানিপ্রবাহে বাধার সৃষ্টি করায় নদী ঢেকে যাচ্ছে কচুরিপানায়। ফলে নদীতে ভেসে আসা বিভিন্ন জীবজন্তুর মৃতদেহ ও নোংরা পদার্থ শ্যাওলা-পানায় আটকে যেয়ে দেখা দিচ্ছে পচন ও দুর্গন্ধ। নদীর বুকে ঘন কচুরিপানা জন্মানোয় গৃহস্থলি কাজে এর পানি আগের মতো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া নৌ-চলাচলেও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। 

কচুরিপানা সাফ না করায় অনেক এলাকাতেই সেগুলো পচে পরিবেশ দুষণ করছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কিছু কিছু এলাকায় কচুরিপানা পচে যাওয়ায় পানি কালো বর্ণ ধারণ করেছে এবং সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। অথচ এমন অবস্থাতেও এলাকার লোকজন সেই পানিতেই গোসলসহ অন্যান্য গৃহস্থলির কাজ সারছে। 

নবাবগঞ্জের বুকের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতি নদীটি দেখলে যেন চেনাই যায় না। কচুরী পানায় ছেয়ে গেছে পুরা নদীটি। এর উপর দিয়েই অনেক লতাপাতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ছড়িয়ে পড়েছে সারা নদীতে। দেখে মনে হয় বহু পুরোনো কোন পচা ডোবা নালা।

 এটা সেই ঐতিহ্যবাহী ইছামতি নদী, যে নদীতে প্রতি বছর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা হয়। ভারী ও জমাট শ্যাওলা-কচুরিপানা জমে স্বাভাবিক স্রোতধারা ব্যাহত হওয়ায় নোংরা সবকিছু পানিতে পচে ছড়াচ্ছে ভীষণ দুর্গন্ধ। দূর থেকে দেখলে মনে হবে এই কচুরপানায় ঢাকা নদীর ওপর দিয়ে অনায়াসে হেঁটে চলা যাবে। এই অবস্থায় পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন নদী তীরে বসবাস করা ২০ গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ। 

পানিতে নদীপারের লোকজন গোছল, কাপড়-চোপড় ধোওয়া ও রান্নার কাজ সারেন। অন্যদিকে নদীতে কচুরিপানার ফলে বেশী দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে খানেপুর প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শির্ক্ষাথীদের প্রতিদিন তাদের কচুরিপানার উপরদিয়ে নৌকা চালিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। আর বই-খাতা নিয়ে পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা তো নিত্য দিনের।

কবে কচুরিপানা অপসারণ হবে সেটাই এখন এলাকাবাসীর প্রশ্ন? অপরদিকে ১৯৯৬ সালে নূর আলীর প্রচেষ্টায় কাশিয়াখালী বেড়িবাধ নির্মান করা হয় যা নবাবগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করে। কিন্তু বাঁধ দিতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ যে ভুলটি করেছিল তা হলো, তখন তারা শুধু পানির গতিই বন্ধ করার চিন্তা করেছিল। কিন্তু সেই গতি বন্ধ হলে একসময় আবার যে অন্য একটি বড় সমস্যা হতে পারে সেই সুদূর প্রসারী চিন্তা তখন বাঁধ কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে গিয়েছিল।

এই বাঁধে কোন সুইচ গেট স্থাপন করা হয় নি। নদীতে স্রোত না থাকায় কচুরি পানা স্থির রয়েছে। এ এলাকার মানুষের প্রাণের দাবী ইছামতি নদীর স্রোতধারা ফিরিয়ে আনতে প্রযোজনীয় পদক্ষেপ নেবে কর্তৃপক্ষ।

নবাবগঞ্জে সীমানা বিরোধের জেরে গাছ কর্তন

আসিফ শেখ, নিউজ৩৯.নেট ♦ ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় জমির সীমানা বিরোধের জের ধরে ২৬টি গাছ কেটে ফেলেছে প্রতিপক্ষ।শুক্রবার দুপুরে উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের ময়মন্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়মন্দি গ্রামের আ. আজিজের বসত বাড়ির সীমানা নিয়ে  প্রতিবেশী নুরুল ইসলামের সাথে সীমানা বিরোধ চলছিল। এবিষয়ে আদালতে একটি মামলা রয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের একটি দল আ. আজিজের বসত বাড়ির সীমানার ২৬টি বনজ ও ফলজ গাছ কেটে ফেলে এবং রাস্তার মাটি কেটে ফেলে।

নবাবগঞ্জ থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আরিফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মিমাংসার কথা রয়েছে। না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাবে দোহার ?

এক সময় যাদের গোয়াল ভরা গরু, শস্যে ভরা ক্ষেত আর পুকুর ভরা মাছ ছিলো। তারাই এখন নদী ভাঙ্গনে স্বর্বশান্ত হয়ে ঠাঁই নিয়েছেন রাজধানী ঢাকা শহর অথবা  শহরের বস্তিতে। নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে প্রতি বছর এ অঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন হচ্ছে, প্রাণহানী ও নিখোঁজের ঘটনাও রয়েছে অসংখ্য। ভূমিহীন এসব পরিবারগুলো বেড়িবাঁধের ওপর আশ্রয় নেয়া ছাড়াও জীবন-জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছে ঢাকা কিংবা  উপজেলা সদরে বা গ্রামে। তাদের কাছে নদীকূলে বসবাস করা মানেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে জীবনযুদ্ধে সামিল হওয়া। নদী ভাঙ্গনে মানুষ কত অসহায় তা ছবিতে এক সময়ের স্বচ্ছল ঐ মহিলার রান্না করার দৃশ্যই বলে দিচ্ছে। 

আর এভাবেই প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে একরের পর এক বসত ভিটা – জমি। আর শুকনো মৌসুমে বাড়ছে ভাঙ্গনের তীব্রতা। আর এতে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে দোহার ।

বর্তমানে ভাঙ্গন এতোটাই প্রকট যে, ভেঙ্গে যেতে পারে বাহ্রা বাস স্ট্যান্ড। এতে প্লাবিত হবে কয়েক হাজার পরিবার। সম্পূর্ণ হমকীর মুখে পড়বে বাহ্রা, কার্তিকপুর, কুসুমহাটি ইউনিয়ন সহ রায়পাড়া ইউনিয়ন।

এছাড়া নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করেছে জয়পাড়া বিলাশপুর ইউনিয়নে। দিন যায় দিন আসে কিন্তু দোহার উপজেলার নদী ভাঙ্গন রোধে কিছু হয় না। নেতা যায়, নেতা আসে; শুধু উদ্বাস্তু হয়, নিঃস্ব হয়, স্বচ্ছল মানুষ। ২/১ দিন পত্রিকার খবরে নেতাদের টনক নড়ে, তখন তারা লোক দেখানো কিছু সাহায্য নিয়ে দূর্গত এলাকায় যান ফটোসেশনে।

এবার নয়াবাড়ী ইউনিয়নের পদ্মাতীরের মানুষের ভাগ্য বিপর্যস্ত। শুরু থেকেই নদী ভাংছে ভয়ংকর ভাবে। কাছে থেকে না দেখলে কোনভাবেই তা বোঝানো যাবে না। কখন ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয় সেই আতঙ্কে রয়েছেন ইউনিয়নের পাঁচ এলাকার মানুষ।

দোহার-নবাবগঞ্জ রক্ষায় দোহার-মানিকগঞ্জ (কাশিয়াখালী বাঁধ) বেড়িবাঁধে গত দুই বছরে কিছু অংশে ভাঙন দেখা দিলেও তা সংস্কার না করায় এবার দোহার-নবাবগঞ্জের লক্ষাধিক মানুষ হুমকিতে।

সোমবার দেখা যায়, গত কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়ায় পদ্মায় পানি বাড়ায় বাহ্রাঘাট, নয়াডাঙ্গী, অরঙ্গাবাদ, দেওয়ানবাড়ী মোড়, পানকুন্ড ও ধোয়াইর এলাকার মানুষ ভাঙনের ভয়ে রাস্তায় আছেন। এলাকাটি ঘুরে দেখা গেছে, ধোয়াইরে ২৫০মিটার, দেওয়ানবাড়ী মোড়ে ১০০ থেকে ১৫০ ও নয়াডাঙ্গীতে ২০০ মিটারের মতো এলাকায় ভাঙন।

পদ্মার ভাঙনের শিকার নয়াডাঙ্গী গ্রামের তানিয়া আক্তার নিউজ৩৯-কে বলেন, ‘আমরা কয়টা বছর ধইরা গাঙ্গের ভাঙনের ভয় লইয়া আছি। কেউ কিছু করে না। আমাগো খোলা আকাশের তলে তাকুন ছাড়া আর কিছু নাই।’

ধোয়াইর গ্রামের আ. হালিম (৫৫) বলেন, ‘সরকার তো কম প্রতিশ্রুতি দেয় নাই। কিন্তু আমরা কী পাইলাম?’ গতকাল স্রোত বাড়ায় ইউনিয়নের সাংসদ সালমা ইসলাম বলেন, পদ্মার ভাঙন প্রতিরোধে দোহারবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে। কাগজপত্রের সবকিছুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন। নতুন অর্থবছরের টাকা ছাড় পেলেই কাজ শুরু হবে।

নবাবগঞ্জ এতিমখানায় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে ইফতার মাহফিল

আজ পবিত্র রমজান নবাবগঞ্জ এতিমখানা মাদ্রাসায় নবাবগঞ্জ বিএনপি অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসিবে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের  উপদেষ্টা, ঢাকা জেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, দোহার নবাবগঞ্জে এখন বিএনপি ঐক্যবদ্ধ । এখন আর কোন ভেদাভেদ নেই। যারা ভুল করেছেন তারা ভুল বুঝে ঘরে এসেছেন। সামনে হবে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন, মানুষ বাঁচাও, দেশ বাঁচাও আন্দোলন। আমরা সবাই মাহে রমজানের শিক্ষা নিয়ে এক হয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়বো ইনশাল্লাহ । 

উক্ত ইফতার মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য, নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক, নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবেদ হোসেন, উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ উসমানী, বিএনপি সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান পান্নু, এরশাদ আল মামুন চেয়ারম্যান বক্সনগর, ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, চেয়ানম্যান গালিমপুর ইউনিয়ন তপন মোল্লা, উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান মহসিন রহমান আকবর, নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি মহসিন উদ্দিন পলাশ, নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক আব্দুর রশীদ, নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুস সালাম, আব্দুল বাতেন, মহসিন উদ্দিন তুষার, নবাবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. শাহিন, দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজের ছাত্রদল সভাপতি মঈন আহমেদ তুষার, ইছামতি কলেজের ছাত্রদল সভাপতি জসিম মোল্লা, আরো উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও সকল অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা জেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল মান্নান। তিনি দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলা বাসীকে পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানান এবং সকলের সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।