নবাবগঞ্জের বক্সনগর ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটি

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর ইউনিয়নের যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে ৯ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। 

নতুন কমিটিতে মো. মাসুদ মোল্লা সভাপতি এবং মো. ফারুক খন্দকারকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়া মো. নওশাদ ও মো. সোহাগকে সহ-সভাপতি, শেখ স্বপন ও মো. রনিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মো. সাহেদ রাজ মোল্লা সাংগঠনিক সম্পাদক, মো. ইব্রাহীম দফতর সম্পাদক, রিপন রাজবংশীকে প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

বিল তোলা হলেও কবরস্থান প্রকল্পে হয় নি একটা ইটেরও গাঁথুনি

ঢাকা জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা কী, সেটা বোঝা যায় একটি উদাহরণ থেকে- ২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজেটে জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল কবরস্থান উন্নয়নের জন্য ২১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এই প্রকল্পের কাজ শেষ দেখিয়ে ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই বিলও উঠিয়ে নেয় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কবরস্থানের কোনো উন্নয়ন কাজই করেনি। অর্থাৎ দুর্নীতির আগ্রাসী তৎপরতা থেকে কবরস্থানের বরাদ্দ পর্যন্ত রেহাই পায়নি!

কাগজে-কলমে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সামাজিক-সাংস্কৃতিক খাতের ৫০ কোটি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন খাতের ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। মোট ১ হাজার ১৫৬টি প্রকল্পের মধ্যে ১ হাজার ৫০টি প্রকল্পই ভুয়া। এই ভুয়া প্রকল্পগুলোর নামে অভাবনীয় এই দুর্নীতির খবর প্রকাশ পেলে তদন্ত শুরু করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সরকারি অডিট বিভাগ। প্রবল প্রতাপশালী দুর্নীতিবাজরা তদন্তে নামা সংস্থার লোকজনকে পর্যন্ত বশীভূত করে ফেলেছে বলে ঢাকা জেলা পরিষদের কর্মকর্তা এবং ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা হতাশা ব্যক্ত করেছেন। ফলে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন না করে অফিসে বসে ফাইলপত্র দেখেই তদন্ত গুটিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। সরেজমিনে এই ভয়াবহ দুর্নীতির তদন্তকারীরাও দুর্নীতির ব্লাকহোলে শরিক হচ্ছে। অর্থাৎ ঢাকা জেলা পরিষদে চলছে দুর্নীতির মহোৎসব।

একটা সময় ছিল যখন সরকারি কাজে দুর্নীতির ধরন ছিল কমদামি দ্রব্য বেশি দামে ক্রয় কিংবা ১০টি দ্রব্য ক্রয়ে ২টি আত্মসাৎ করা। কিন্তু এমন পদ্ধতির কথা অকল্পনীয় যে, ৫০টি কম্পিউটার কেনার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে, কম্পিউটার ক্রয় ও সরবরাহের জন্য ৩৮ লাখ টাকা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে পরিশোধ করা হয়েছে; কিন্তু একটি কম্পিউটারেরও দেখা মেলেনি! কারণ কার্যত কম্পিউটার কেনাই হয়নি- সবই ঘটেছে কাগজে-কলমে, চেকে। অর্থাৎ কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই- ঢাকা জেলা পরিষদে এমন খোলা দুর্নীতিই চলছে। এক্ষেত্রে তাদের কোনো চক্ষুলজ্জা নেই, কেননা সবই এই দুর্নীতিবাজদের হাতের মুঠোয়। এই ভয়ংকর দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তি প্রদানের বিকল্প নেই।

সেতুমন্ত্রীর কাছে তথ্য গোপনের ফলে এলাকাবাসীর ক্ষোভ

ঢাকা-নবাবগঞ্জ-দোহার সড়কে সংস্কার কাজে অবহেলা ও যাত্রীরা দুর্ভোগে। ৫ মার্চ যুগান্তরে এমন সংবাদ ছাপা হলে হইচই পড়ে যায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের মাঝে। সংবাদটি পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টিগোচর হলে ৭ মার্চ তিনি ঝটিকা পরিদর্শনে যান এই সড়কে। কিন্তু সওজের কর্মকর্তারা মন্ত্রীকে দোহারের বাঁশতলা থেকে মৈনট ফেরি ঘাট পর্যন্ত ৭ কিমি. রাস্তার খারাপ অংশ না দেখিয়ে ঢাকা-দোহার সড়কের শ্রীনগরের যে অংশে সংস্কার কাজ চলছে সেখানে নিয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সওজের কর্মকর্তারা তাদের দায় এড়াতে মন্ত্রীর কাছে এসব তথ্য গোপন করেছেন।

এলাকাবাসী জানায়, সেতুমন্ত্রীর এ আকস্মিক পরিদর্শনে দোহার-নবাবগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীদের প্রতারণার কারণে মন্ত্রী রাস্তার সবচেয়ে খারাপ অংশটি দেখতে পারেননি। ফলে এলাকাবাসীকে সেই আগের দুর্ভোগেই রাস্তায় চলতে হচ্ছে।

দোহারের চরকুশাই এলাকার বাসিন্দা নাসির উদ্দিন পল্লব জানান, সড়ক বিভাগের অসৎ কর্মকর্তাদের কারণেই এ রাস্তাটি বছরের পর বছর সংস্কার হয়নি। তারা বিভিন্ন সময়ে জরুরিভিত্তিতে সংস্কার কাজ দেখানোর কথা বলে প্রকল্প বানিয়ে বিল তুলে নেয়। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। সেই সঙ্গে জনগণের ভোগান্তিও দীর্ঘস্থায়ী হয়। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। 

কার্তিকপুরের বাসিন্দা মো. হোসেন বলেন, মন্ত্রী তো আমাগো এ সড়ক দেখতে আসেনি। যা প্রায় ১০ বছরের জঞ্জালে পরিণত হয়েছে। এ সড়কটি মানুষের জন্য নরকযন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

দোহারের মৈনটঘাট থেকে বাঁশতলা পর্যন্ত ৭ কিমি. রাস্তার সংবাদ কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও টিভি চ্যানেলে প্রকাশ হলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের নজরে পড়ছে ন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের মুন্সিগঞ্জ রেঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী তারেক ইকবালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উপবিভাগীয় প্রকৌশলী খায়রুল ইসলামকেও তার মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।

শনিবার সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঝটিকা পরিদর্শনে এলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মুন্সিগঞ্জ রেঞ্জের কর্মকর্তাদের শাসিয়ে ১ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা বলেন। এরপর থেকে ওইসব কর্মকর্র্তারা কোনো সংবাদকর্মীর সঙ্গে কথা বলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

নবাবগঞ্জে প্রেমিক প্রেমিকার আত্মত্যার চেষ্টা

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল পূর্বপাড়া গ্রামে গত শনিবার সন্ধ্যায় পরকীয়া প্রেমের জেরে সলেমন (২৫) নামে এক প্রেমিক তার প্রেমিকা অনুর (২২) গলা অনেকাংশ কেটে দিয়েছে। এ সময় সলেমন নিজেও নিজের গলা ক্ষুর দিয়ে কেটে দেয়।

আহত প্রেমিকা অনু জানান, সে বিবাহিত তার স্বামীর নাম জাকির হোসেন। সে বিদেশে থাকেন। দীর্ঘদিন যাবত্ সলেমনের সাথে তার প্রেম চলে আসছে। এ ঘটনা শ্বশুর বাড়ির মানুষ জেনে গেলে  তাকে গালমন্দ করে। এ কারণে সে  ৫ মাস আগে সলেমনের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল মধুপুর চলে যায়। ২ মাস একত্রে থাকার পর দু’জনেই নবাবগঞ্জ চলে আসে। সলেমন অনুকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে অনু পরে বিয়ে করবে বলে জানায়। এতে সলেমন তাকে জোরপূর্বক নিতে চাইলে অনু পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সলেমন অনুর গলায় ক্ষুর দিয়ে আঘাত করে এবং সলেমন নিজেও তার গলায় ক্ষুর চালায়।

নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাজউদ্দিন জানান, আহত দু’জনেরই অবস্থা গুরুতর। তাদের অবস্থার অবনতি দেখে ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সহিংসতার কারণে সমঝোতার পথ সঙ্কুচিত- দোহারে ওবাইদুল কাদের

সহিংসতার কারণে সমঝোতার পথ সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মুন্সীগঞ্জের তিন দোকান এলাকায় আজ শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা-দোহার সড়ক সংস্কার কাজ পরিদর্শনে এসে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। 

বিএনপিকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, যেখানে সহিংসতা, সেখানে সমঝোতার পথ সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে ধ্বংস করার নীল নকশা চলছে। বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করতেই দেশ জুড়ে সহিংসতা চালানো হচ্ছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হবে কিনা- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে সেতু মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য কেমন পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে, আমার জানা নেই। 

এ সময় সেতুমন্ত্রী ঢাকার দোহার থেকে শ্রীনগর উপজেলা পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজ ঘুরে দেখেন। মন্ত্রীর সঙ্গে সড়ক ও জনপথ এবং তার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মালিকান্দায় কবি নজরুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ঢাকা জেলা প্রশাসক

ঢাকা জেলা প্রশাসক মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেছেন, প্রশিক্ষিত জাতি গড়তে পারে একটি দেশের গৌরব উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। সুশিক্ষা দ্বারা শিক্ষার্থীদের গঠন করুন। ওরা একদিন দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার দোহার উপজেলার কবি নজরুল উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান এতে সভাপতিত্ব করেন। জেলা প্রশাসক বলেন, যারা আমাদের ভবিষ্যৎ, তাদের অন্ধকারে ঠেলে দেবেন না। সহিংসতা পরিহার করুন। নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আপনারা সহযোগিতা করুন। এতে দেশ ও জাতির মঙ্গল হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল করিম ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন। উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক সুরুজ আলম, শিল্পপতি আব্দুস সালাম সিকদার, মহিলা নেত্রী শামীমা ইসলাম বিথি প্রমুখ।

নবাবগঞ্জে হরেকৃষ্ণ কুসুমকলির তিন শিক্ষককে বিদায়ী সংবর্ধনা

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার হরেকৃষ্ণ কুসুমকলি উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক খবির উদ্দিন মৃধা, সহকারী শিক্ষক অনিলচন্দ্র পাল ও আলো রানী সাহাকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে বিদ্যালয় সভাকক্ষে পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে এ সংবর্ধনা দেয়া হয়। 

পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ইব্রাহীম খলিল এতে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন দোহার-নবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ মানবেন্দ্র দত্ত। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহসিন রহমান আকবর, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল আওয়াল ও সাবেক সহ-সভাপতি দানিচ আলী। আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাকসুদ আলী দেওয়ান বাবু, শিক্ষানুরাগী খন্দকার আবুল আরিফ হিটু, পরিচালনা পরিষদের সদস্য সুব্রত সাহা প্রমুখ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বিদায়ীদের কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করেন।

দোহার-নবাবগঞ্জ সড়ক যেন সড়কের নামে মরন ফাঁদ

রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরেই অবস্থিত দোহার উপজেলা। জনসংখ্যা তিন লাখ। ঢাকা থেকে কেরানীগঞ্জ ও নবাবগঞ্জ হয়ে দোহার পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কই একমাত্র পথ। সামান্য এ পথ অতিক্রম করতে অসংখ্য খানাখন্দে চরম ঝাঁকুনি, ডোবায় কাদা মেখে আর ধুলি- মেঘে ভেসে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও দোহারের অধিবাসী এবং দক্ষিণাঞ্চলের বহু মানুষের এ দুর্ভোগ এখন নিত্যসঙ্গী।

রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু হয়ে আবার বন্ধ থাকার কারণে এ দুর্ভোগ আরও বেড়েছে এলাকাবাসীর। এ পথের নিত্য দুর্ভোগ আর ভোগান্তির কথা জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনে বহুবার বলেছেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়ও উঠে এসেছে দুর্বিষহ এ সড়কের চিত্র। কিন্তু যাদের তা দেখার কথা তারা দেখছেন না। উদ্যোগ নিচ্ছেন না এলাকাবাসী দুর্ভোগ লাঘবে।

সংস্কার কাজে ধীরগতি দেখে এলাকাবাসী মনে করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের ৮ কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ না করেই সটকে পড়ার চেষ্টা করছেন। এ পরিস্থিতিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যেন অতি দ্রুত সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে সে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।

বাবুবাজার হয়ে বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতু পার হলেই ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলা। সোজা রাস্তা গেছে ঢাকা- মাওয়া মহাসড়কে। আর ডানে মোড় নিলেই কেরানীগঞ্জ-নবাবগঞ্জ-দোহার আঞ্চলিক সড়ক। কেরানীগঞ্জের কদমতলী থেকে তুলসীখালী সেতু পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার পথের দায়িত্বে রয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। এর মধ্যে কদমতলী থেকে রোহিতপুর ঢাকা এবং রোহিতপুর থেকে নবাবগঞ্জ মুন্সীগঞ্জ সওজের আওতায়।

কদমতলী থেকে রোহিতপুর পথ তৈরি সড়ক বিভাগের ভাষায় সিঙ্গেল বিটুমিনে। আর সিঙ্গেল বিটুমিন মানেই কোনো ভারি যানবাহন, যেমন ট্রাক কিংবা বড় বাস চললেই দেবে গিয়ে তৈরি হয় খানাখন্দের। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে তা ভেঙে অল্প ক’দিনেই তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। শুরু হয় ভোগান্তি। কদাচিৎ কোনো মন্ত্রী, বিশেষ করে সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ পথে পা বাড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে সংস্কার করা হয়। কিন্তু সংস্কারের নামে টাকা নয়ছয়, তড়িঘড়ি ও নিুমানের কাজের পরিণতি দাঁড়ায় ক’দিন পরেই পুরনো চেহারায় ফিরে আসা।

মন্ত্রী চলে যায়, গর্ত তাই গর্তই রয়ে যায়। আর বৃষ্টি নামলেই তা পরিণত হয় ডোবায়। এলাকাবাসী জানান, যতদিন জোড়াতালি দিয়ে মেরামত বন্ধ না হবে, ডাবল বিটুমিন ও ভালো মানের কাজ না হবে এ ভোগান্তি থেকে বাঁচার পথ নেই। দোহার অংশের ১০ কিলোমিটার পথ মানে বছরের পর বছর ধরে খানাখন্দ আর ডোবা। যেন মরণফাঁদ।

পালামগঞ্জ থেকে পদ্মা তীরবর্তী মৈনটঘাট পর্যন্ত রাস্তাটিকে সড়ক বলাই মুশকিল। যদিও দোহার নবাবগঞ্জবাসী ছাড়াও অর্থ ও সময় সাশ্রয়ের আশায় ফরিদপুর, রাজবাড়ীসহ দক্ষিণাঞ্চলের অনেক মানুষ এ পথ ধরেন। কিন্তু শুধু ভোগান্তিই জোটে তাদের। এ সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় জনসাধারণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এলাকাবাসী দ্রুত এ সড়কের কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।

ফরিদপুরের ভাঙ্গার রেজাউল করিম বলেন, অল্প সময়ে ঢাকা যেতে এ রাস্তাই আমাদের কাছে খুব সহজ। কিন্তু রাস্তার কারণে এক ঘণ্টার পথ যেতে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। আর কষ্ট তো আছেই। 

একই অভিযোগ দোহারের কার্তিকপুরের বাসিন্দা সোহরাব হোসেনেরও। তিনি বলেন, ২০০৫ সালে রাস্তাটিতে সর্বশেষ কাজ হয়েছে। এরপর ১০ বছর চলে গেলেও সংস্কার হয়নি। ফলে আমাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, রাস্তায় কোথাও কোথাও না আছে খোয়া, না ইট না পাথর। স্থানে স্থানে খানাখন্দ ও ধুলোবালুর স্তূপ। বৃষ্টি নামলেই যা পরিণত হয় ডোবায়। পথের আশপাশের বাসিন্দাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও ঢেকে গেছে ধুলোবালুতে। পথচারীদের দুর্ভোগ বর্ণনাতীত।

যমুনা বাস সার্ভিসের চালক রুপম বলেন,  ছেলেমেয়েদের জীবিকার স্বার্থেই এ রাস্তায় গাড়ি চালাই। ধুলোবালুতে গাড়ির যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে পড়ে। গর্তে পড়ে গাড়ির ঝাঁকুনির কারণে যাত্রীদের গালিগালাজও শুনতে হয়। ৪০ কিমি. রাস্তা যেতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়। 

২০১০ সালে অগ্রাধিকার সংস্কার প্রকল্পের (পিএমপি) আওতায় নবাবগঞ্জ অংশে বর্ধনপাড়া থেকে দোহারের বাঁশতলা পর্যন্ত রাস্তার সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ৫ কিমি. রাস্তার কাজ বন্ধ থাকে। গত বছরের শেষের দিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এ কাজের দরপত্র আহ্বান করে। মেসার্স কামাল অ্যাসোসিয়েটস নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায়।

চলতি বছরে জানুয়ারির প্রথমদিকে কাজ শুরু করলেও তা থেমে যায়। তারপর কেটে গেছে ২ মাস। কাজ থেমে থাকার কারণ হিসেবে সওজের কর্মকর্তারা কিছু বলতে না চাইলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের একজন মো. মোর্শেদুল হক বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মালামাল আনার সমস্যার কারণেই কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে দ্রুত শেষ করা হবে। 

সড়ক ও জনপথ বিভাগের মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী তারেক ইকবাল বলেন, তিনি নতুন যোগদান করেছেন। এসব রাস্তার বিষয়ে তার ভালো তথ্য জানা নেই। তবে সব জেনে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন তিনি। এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী খায়রুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন ধরেননি।

দোহারে হাসপাতালে গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু

ঢাকার দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঙ্গলবার দুপুরে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গৃহবধূর নাম মুক্তা (২৭)। তিনি উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের দেওয়ান গ্রামের রমিজ উদ্দিনের মেয়ে। তার স্বামী নাম ইয়াসিন। মুক্তা দুই সন্তানের জননী।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুর ৩টার দিকে অজ্ঞাত ২ জন লোক মুক্তাকে অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। এ সময় রাজু নামে এক লোক রোগীর অভিভাবক পরিচয় দেয়। কিছুক্ষণ পর রোগীর মৃত্যু হলে ওই ব্যক্তি লাশ রেখে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে বিকাল ৪টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

দোহার-নবাবগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পালকি

আমি বধু সেজে থাকবো তুমি পালকি নিয়ে এসো এ গানটির কথা ও সুর বিভিন্ন সময় বেঁজে উঠলেও এখন আর কেউ বরযাত্রী ও বরের সাথে পায়ে হেঁটে নবাবগঞ্জ দোহারের কোন গ্রামে নববধূকে নিয়ে আসার জন্য যায় না । রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি এবং পরিবর্তনের ফলে মানুষ পালকির ব্যাবহার ছেড়ে দিয়েছে এর ফলে পালকি কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ।

বাঙ্গালির বহুদিনের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এ পালকি বাহন।এক সময় বিয়ে বাড়িতে বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে পালকিতে করে বর ও নববধূকে নিয়ে আসা হতো ছেলের বাড়িতে। পালকি ছিল গ্রামের ছেলে ও মেয়েদের বহুদিনের লালায়িত প্রেম, প্রীতি আর অমোঘ ভালবাসা বাস্তবায়নের চির সঙ্গি।গ্রামের মেয়েরা মনের অজান্তে গাইতো বধু সেজে থাকবো তুমি, পালকি নিয়ে এসো গান । পালকি বাহনের পেশাকে ঘিরে বেয়ারা সম্প্রদায় নামে আলাদা একটা সম্প্রদায়ও গড়ে উঠেছিল। হেলে-দুলে পালকি নিয়ে চলতে বেয়ারারা ‘হেইয়াহ হেইয়াহ’ রব তুলে পথিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতো। মাত্র কয়েক বছর পূর্বে গ্রামের বিয়ের বর-বধুকে বাহনের অন্যতম বাহন ছিল এই পালকি। পালকির সঙ্গে মিশে ছিল মধুময় এক স্বপ্ন। গায়ের পথে পালকি করে নববধুকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা রাস্তায় আর বৌ-ঝিয়ের বাড়ির ভিতর থেকে উঁকি-ঝুকি মারত। পালকির মধ্যে বসা বৌকে দেখে তারাও হারিয়ে যেত কল্পনার রাজ্যে।

বর্তমানে পালকি নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ছাড়া অন্য কোথাও এখন আর দেখা যায় না। বর্তমানে পালকির প্রচলন না থাকায় এ পেশার সাথে জড়িত বারুয়াখালীর মোঃ ফজল বলেন একসময় আমাদের কদর ছিল অর্থ ও ছিল আজ শুধু ইতিহাস তাই জীবন-জীবিকার তাগিদে অন্যান্য পেশা বেছে নিয়েছি আমরা।