ভাবিকে ধর্ষণের দায়ে দেবরের ফাঁশি: ২ জনের যাবজ্জীবন

দোহার থানার জয়পাড়ায় ভাবীকে অপহরণ ও ধর্ষণ করে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ১ জনকে মৃত্যুদন্ড ও ২ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ দেয়া হয়েছে। গতকাল ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর বিচারক তানজীনা ইসমাঈল এক জনাকীর্ণ আদালতে এই দন্ডাদেশ দেন।

রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া আসামি হলো দোহার থানার ওমর আলী বেপারীর ছেলে মো: আলমগীর। এ ছাড়া যাবজ্জীবন প্রাপ্তরা হলো: রিপন ও মিলন। এদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো ১ বছরের কারাভোগের আদেশ দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি আলী আসগর স্বপন।

মামলার বিবরণে প্রকাশ, ২০০৬ সালের ১৪ জুলাই দোহার থানার জয়পাড়া গ্রামের গৃহবধূর স্বামী বিদেশে থাকায় রিকশায় ডাক্তারের কাছে যাচ্ছিলেন। উল্লিখিত আসামীরা পথে জোরপূর্বক তাকে রিকশা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং গণধর্ষণ করে তাকে হত্যা করে। এ ঘটনায় দোহার থানায় মামলা করা হয়।

দোহারে দুই মাদক ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড

ঢাকার দোহার উপজেলায় সাজু (২৪) ও আসাদ (২১) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া এ সাজা দেন।

সাজু নবাবগঞ্জ উপজেলার মৌলভীডাঙ্গী গ্রামের মুনসুর আলীর ছেলে ও আসাদ একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।

দোহার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদ জানান, সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ইকরাশী উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছন থেকে সাজু ও আসাদকে মাদক বিক্রয়ের সময় তাদের আটক করে পুলিশ। পরে তাদের তল্লাশি করে গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তাদের প্রত্যেককে ২ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মান্নান খানের বিরুদ্ধে ‘বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি পদদলিত’ মামলার প্রতিবেদন দাখিল ৮ মার্চ

প্রাক্তন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খানের বিরুদ্ধে ‘বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি পদদলিত’ করার অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৮ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত। নির্ধারিত দিনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা জেলার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট(সিজেএম) শিরিন আক্তার সোমবার নতুন এ দিন ধার্য করেন।

১৬ ডিসেম্বর ঢাকার দোহার উপজেলার জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিজয় দিবস উপলক্ষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে আব্দুল মান্নান খানের নাম ঘোষণা না করায় তার নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন বেআইনিভাবে সমাবেশে লাঠিসোটা, হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অনুষ্ঠানে অতর্কিত হামলা করে এবং মঞ্চে থাকা বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত ব্যানার ছিড়ে পদদলিত করে। এ সময় বাধা দিলে আসামিরা বাদীকে মারধর করে এবং হাতঘড়ি ও চেইন ছিনিয়ে নেয়।

আব্দুল মান্নান খানের সন্ত্রাসী বাহিনী বাদী কে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে কিন্তু তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এরপর ওই সন্ত্রাসী বাহিনী বাদীকে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মেরে বিভিন্ন স্থানে জখম করে।

পরে ঘটনাস্থলে আসামিরা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে এবং বোমা ও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করে।

মান্নান খানসহ অন্য আসামিরা সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের উপস্থিতিতে দোহার থানার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূরুল কবির ভূঁইয়াকে অপমান ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তাকে প্রাণনাশেরও হুমকি দেয়।

বাদীসহ সাক্ষীরা এ সময় বাধা দিতে গেলে আব্দুল মান্নান খান তাদের হত্যার হুমকি দেয় এবং এ বিষয়ে কোনো প্রকার মামলা করতে গেলে বাদীকে মেরে ফেলবে। 

এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী বাদী হয়ে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন নাহার নিপুর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

এ মামলায় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামসহ ১০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

রাইপাড়ায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি

ঢাকার দোহার উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির হয়েছে। ডাকাতদল বাসার লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকারসহ নগদ টাকা লুট করে ।

পরিবার ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলা রাইপাড়া ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের ব্যবসায়ী মো.জসিম উদ্দিনের বাড়িতে ২০/২৫ জনের মুখোশ পরিহিত সংঘবদ্ধ একটি ডাকাতদল বাড়ির সামনের কলাপসিবল গেটের তালা কেটে ও ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে ঘরের লোকজনকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। পরে সবার হাত পা বেঁধে এবং আলমারি ভেঙ্গে ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার নগদ ২ দু লাখ টাকা প্রায় ১৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। 

দোহার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

মানিকগঞ্জে স্বামীর হাতে দোহারের যুবতী খুন

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্বামী রেজাউল মৃধা কনককে গ্রেফতার করেছে। 

গৃহবধূর মামা আসলাম হোসেন জানান, দোহার উপজেলার নয়াবাড়ির উত্তর বাহ্রা গ্রামের মোহাম্মদ কাশেমের মেয়ে তার ভাগি্ন রাবেয়া সুলতানার সঙ্গে হরিরামপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের লোকমান মৃধার ছেলে রেজাউল মৃধা কনকের দেড় বছর আগে বিয়ে হয়। 

শুক্রবার বিকেলে কনক তার ভাগি্নকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালায়।

রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেই তবু উদ্বোধনের অপেক্ষায় মৈনট-চরভদ্রাসন ফেরিঘাট

ঢাকা-নবাবগঞ্জ-দোহার-শ্রীনগর সড়ককে ইতোমধ্যে পদ্মা বাইপাস সড়ক ঘোষণা করেছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। এরই অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে ঢাকার দোহারের মৈনটঘাট থেকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন ফেরি ঘাট। যা উদ্বোধনের অপেক্ষায়। কিন্তু দোহার অংশে কার্তিকপুর থেকে মৈনটঘাট পর্যন্ত প্রায় ৩ কিমি. রাস্তা যানচলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এটি সংস্কারের।

সরজমিনে মৈনটঘাট এলাকায় দেখা যায়, ঘাটে প্লাটফর্ম স্থাপন করা হয়েছে। তাতে একটি ফেরি ভিড়ে আছে। কিন্তু পদ্মা পার থেকে মুল রাস্তার সংযোগ সড়কের বেহাল অবস্থা। রাস্তার ইট-খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ধুলোবালুর স্তূপ মাড়িয়েই চলতে হচ্ছে পথচারীদের।

গাড়ি চলাচলের সময় ইঞ্জিনে ধুলো গিয়ে বিকল হয়ে যায়। আর সর্বক্ষণই ধুলোর কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের নাকাল অবস্থায় পড়তে হচ্ছে।

মৈনট এলাকার বাসিন্দা আ. মজিদ বলেন, হুনছি খুব তাড়াতাড়ি এখানে ফেরিঘাট অইবো। কিন্তু রাস্তা ঠিক না অইলে গাড়ি কেমনে চলবো। রাস্তাডা মেরামত করা দরকার। 

ঢাকা-দোহার-নবাবগঞ্জ সড়কের যমুনা বাস সার্ভিসের চালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, পেটের দায়ে এ রাস্তায় গাড়ি চালাই। ধুলোবালুতে গাড়ির যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে পড়ে। যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে চলাচল করতে হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পদ্মার মৈনট চরভদ্রাসন ফেরিঘাটে ফেরি চালু হবে খুব শিগগির। তবে তার আগে রাস্তাঘাট সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে।

দোহার উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা নুরুল করিম ভূইয়া বলেন, ফেরি চালুর বিষয়টি শুনেছি। তবে কবে নাগাদ হবে তা জানি না। রাস্তার কাজের বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে। এবিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মুন্সিগঞ্জ অঞ্চলের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী খায়রুল ইসলামের মুঠো ফোনে কয়েকদিন যোগাযোগের চেষ্টা করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

পদ্মার পাড় এখন ধু ধু বালুচর

0

একসময়ে মাছে – ভাতে বাঙ্গালীর পরিচয় নিয়ে বেড়ে উঠা পদ্মার পাড়ের মানুষ , আজ যেন তা ইতিহাসেই পরিণত হয়েছে । দোহার – নবাবগঞ্জের মধ্য আয়ের মানুষেরা চড়া দামে মাছের স্বাদ পেলেও নিম্ন-মধ্যবিত্তরা তাও পায় না । ভারতের ইচ্ছামতো পানি প্রত্যাহার, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব আর প্রভাবশালীদের অবৈধ দখল ও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসবের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে পদ্মা। এক সময়ের খরস্রোতা পদ্মা ছিল মানুষের জীবিকার বাহন। পদ্মার পাড়ের জেলেরা মাছ ধরে জিবিকা নির্বাহ করত ।

গত কয়েক বছরে পদ্মার পাড় ভাঙ্গনের ফলে অনেকেই হয়েছে নিঃস্ব। বর্ষার মৌসুমে অতিমাত্রায় পানি আর শুকনা মৌসুমে হয়ে যায় ধু ধু বালুর মাঠ । ফারাক্কার হিংস্র ছোবলে পদ্মাসহ দেশের বড় বড় নদী গুলো তাঁর নাব্য হারিয়ে ধু ধু বালুচরে পরিণত হয়েছে। এখন এই নদীগুলো শুধুই ইতিহাস। পদ্মা নদীতে এক সময় ইলিশের ছড়াছড়ি থাকলেও এখন পানি শূন্যতার কারণে ইলিশ তো দূরে থাক স্বাদু পানির মাছও কমে গেছে। বর্ষা মৌসুমে মাছের দেখা মিললেও শুকনো মৌসুমে মাছের আকাল পড়ে যায়। দোহার-নবাবগঞ্জের কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া প্রায় অধিকাংশ পদ্মা এখন শীর্ণকায় খালে পরিণত হয়েছে। ছোট ছোট ট্রলার ছাড়া বড় লঞ্চ বা কার্গো এখন চলে না। এ নদী এখন বালু খেকোদের দখলে চলে যাওয়ায় বিরান ভূমিতে পরিণত হয়েছে। উন্মুক্ত নদীতে মাছ শিকার করতে না পেরে হাজার হাজার জেলে ও মৎস্য শিকারি বেকার হয়ে তাদের পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে।

নদী আছে, পানি নেই। শুধু পদ্মাই নয় । দেশের বড় বড় নদীগুলোরও একই অবস্থা । ফলে এ অঞ্চলের পরিবেশ এবং কৃষক ও জেলেদের জীবন-জীবিকায় নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। বালিয়াকান্দির এ নদীগুলোর উৎসমুখ পদ্মা নদীতে হওয়ায় আজ বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে পদ্মার সঙ্গে সঙ্গে এর শাখা নদী গড়াই, চন্দনা, হড়াই, চত্রা নদী হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। বর্ষাকালে এসব নদীতে কিছুদিনের জন্য পানি থাকলেও প্রায় সারা বছরই থাকে পানিশূন্য। আর এসব নদী মরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দু’পাশ দখল করে নিয়েছে একশ্রেণীর দখলবাজরা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে,অনেক জায়গায় নদীগুলোর বুক দিয়ে বয়ে চলছে বালু বোঝাই ট্রাক ও ট্রাক্টর। অনেক কৃষক আবার জেগে ওঠা চরে ইরি-বোরো ধান রোপণ করছে। শুধু দেখা মেলেনি নদীতে মাছ ধরার সারিসারি নৌকা ও জেলেদের জাল। নদীগুলো মরে যাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষি, বাণিজ্য, মৎস্য সম্পদও পরিবেশ হয়েছে পড়েছে বিপন্ন। হারিয়ে গেছে দেশীয় প্রজাতির অর্ধশতাধিক মাছ। এসব নদীর বুকে জেগে ওঠা চরের কারণ হিসেবে এলাকাবাসী আন্তর্জাতিক নদীগুলোর সুষ্ঠু পানিবণ্টন ব্যবস্থাপনা না থাকা এবং ফারাক্কা বাঁধের নেতিবাচক প্রভাবকেই দায়ী করছেন।

নবাবগঞ্জে খালের মাটি যাচ্ছে অবৈধ ইটভাটায়

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের মাধবপুর মৌজায় গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা। সেই ভাটার ইট তৈরিতেও ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারি খালের মাটি। মাটি কাটার কোনো অনুমতি নেই। সেই সঙ্গে বেশ কয়েকটি ইটভাটার নেই পরিবেশ অধিদফতরের কোনো ছাড়পত্র। কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই নিত্য ইট তৈরির কাজ চলছে। ভাটার কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ ধূষণ হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই বলে জানান স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ইটভাটা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দোহারের পদ্মা নদী থেকে বইছে সাহেবখালী খাল। এক সময়ে বর্ষা মৌসুমে এই খালে নৌকা চলতো। এখন যেন তা পরিত্যক্ত ডোবায় পরিণত হয়েছে। এ খালের পানি প্রবাহের কারণে পলিমাটিতে বড়রাজপাড়া, আরিয়াল বিল এলাকাসহ শত শত একর ফসলি জমি উর্বরা শক্তি যোগান পেতো। খালটির কিছু স্থানে মাটি আটকে ভরাট করা হয়েছে। খাল জুড়েই ক্ষতবিক্ষত করে মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। এই মাটি যাচ্ছে দোহার-নবাবগঞ্জের ইটভাটাগুলোতে। চিত্র দেখে মনে হয়েছে প্রশাসন যেন এসবের খবরই রাখছে না। তবে কিছু নির্ভরশীল সূত্র দাবি করেছে, পার্শ্ববর্তী এলাকা দোহারের ইটভাটাগুলো থেকে উপজেলা প্রশাসন মোটা অংকের মাসোয়ারা পাচ্ছে। তাই বৈধ-অবৈধতার দিকে নজর নেই। এদিকে এসব ভাটার ইট বহনে নসিমন-করিমন যত্রতত্র রাস্তায় চলছে। ধুলিবালু আর কালো ধোয়ায় কয়েকটি গ্রামের সবুজ গাছপালার যেন রং বদলে গেছে। সবুজ পাতায় ধুলিকনার সাদা প্রলেপ পড়েছে। কোথাও পুড়ে গেছে বলেও মনে হয়। আর ধুলিবালির কারণে রাস্তায় হাঁটার জো নেই। নাক-মুখ চেপে হাঁটতে হয়। কিন্তু এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কোনো খবরই রাখছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ভাটাগুলোর মধ্যে জেবিসি ইটভাটার নেই কোনো বৈধ কাগজপত্র। সরকারি মাটি দিয়েই কাজ চলছে। ইটভাটা মালিকদের কাছে এসব অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। সাহেবখালী এলাকার আবদুল কুদ্দুস ক্ষোভের সঙ্গে জানান, ক্ষমতার জোরে ভাটার মালিকরা সবাইকেই ম্যানেজ করে অবৈধ পন্থায় ব্যবসা করে যাচ্ছে। নিষিদ্ধ নসিমন-করিমনের ধোয়া ও বিকট শব্দে পরিবেশে দূষণ ঘটছে। এতে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনে কষ্ট হচ্ছে।

জনতা ব্রিক কনস্ট্রাকশনের (জেবিসি) অংশীদার নয়ন শিকদার এ বিষয়ে বলেন, তারা পরিবেশের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছেন। কয়েক বছর ধরে ইট পোড়ালেও কোনো ছাড়পত্র প্রয়োজন হয়নি কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের ভুল হয়েছে। আর মাটি অন্যরা কাটছে। আমরা তাদের কাছ থেকে কিনে নিচ্ছি।

ভাটার আরেক মালিক জালাল উদ্দিন দাবি করেন, সাহেবখালী কোনো খাল নয়। তাদের নিজস্ব জমি। উল্লেখ্য, এই খালটি কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের অর্থায়নে ২০১২-১৩ অর্থবছরে কিছু অংশ খননও করা হয়। যাতে বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবেশের সুযোগ পায়।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

দোহারে গাঁজাসহ আটক ২জন

0

নিকড়া এলাকা থেকে জুলহাস এবং আমু মিয়া নামে দুই মাদকসেবীকে গাঁজাসহ আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ। গত বুধবার দুপুরে তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে আদালত তাদেরকে সাজা প্রদান করেন। আটককৃত জুলহাস উপজেলার নিকড়া গ্রামের শেখ মুন্নার ছেলে এবং আমু মিয়া একই গ্রামের প্রয়াত হাশেমের ছেলে।

দোহারে ‘বাবা’র রমরমা বাণিজ্য

0

ঢাকার দোহার উপজেলায় ‘বাবা’ ও ইয়াবা ট্যাবলেটের রমরমা বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার তরুণ ছিঁচকে নেতারা উপজেলার একাধিক গ্রামে প্রকাশ্য এ ‘বাবা’র ব্যবসা করছে।

সম্প্রতি দোহার থানা পুলিশ বেশ কিছু খুচরা মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করলেও এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মূলহোতারা থেকে যাচ্ছেন আড়ালে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরণ নেশা ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করে ভাল লাভ হওয়ায় স্থানীয় অনেকেই এখন এর মুদি ব্যবসায়ী বনে গেছে। আর পাইকারি ব্যবসায়ীরা নিজেদের আড়াল করতে বেছে নিচ্ছে অভিনব কৌশল। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিতে প্রতিনিয়ত এ মাদক ব্যবসায়ীরা বেছে নিচ্ছে নিত্য নতুন পন্থা। এ পন্থার মধ্যে রয়েছে কম বয়সী ছেলেদের ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কাস্টমারদের কাছে বিক্রি ও এর চালান সরবরাহ করা।

জানা যায়, উপজেলার জয়পাড়া পৌরসভার জয়পাড়া, লটাখোলা, ইউসুফপুর, বানাঘাটা, রাইপাড়া ইউনিয়নের রাইপাড়া, নয়াবাড়ী ইউনিয়নের নয়াবাড়ী, বাহ্রাঘাট, কুসুমহাটি ইউনিয়নের বাস্তা, কার্তিকপুর, মাহমুদপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর, হরিচন্ডি, মৈনটঘাট, বিলাশপুর ইউনিয়নের বিলাশপুর, বটিয়া, রাধানগর, সুতারপাড়া ইউনিয়নের হলের বাজার, মধুরচর, নারিশা ইউনিয়নের নারিশা, পশ্চিম চর, মেঘুলা, মুকসেদপুর ইউনিয়নের মুকসেদপুর, শাইনপুকুরসহ বেশ কিছু এলাকায় রয়েছে এ মাদকের জমজমাট ব্যবসা। ক্রেতা সংখ্যা দিন দিন

বেড়ে যাওয়ায় এ মাদক বিক্রেতার সংখ্যাও বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে।

‘বাবা’ অর্থাৎ ইয়াবা ক্রেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, বখাটে যুবকসহ কম বয়সী স্কুলপড়ুয়া কিশোর। এ শ্রেণীর কিশোরদের মধ্যে অনেকে এ ট্যাবলেট বিক্রি করে যে লাভ হয়, তার সমান মূল্যের কয়েক পিস ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে যায় নিজের জন্য। আবার অনেকেই নিজের হাত খরচ ও নির্দিষ্ট লাভের আশায় প্রতিদিন বিক্রি করছে কয়েক ডজন ইয়াবা। আবার অনেকটা লোভে পড়েও এ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে অনেকে। তার মধ্যে ১০-১২ বছরের কিশোরও রয়েছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জয়পাড়া এলাকার এক বাসিন্দা। তিনি আরও জানান, এলাকার তরুণ যবুকদের মধ্যে কয়েকজন এ ব্যবসা করছে। আর তাদের সহজ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে অল্প বয়সী কিশোর। দিন দিন এ মাদকের করাল গ্রাসে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এলাকার তরুণ যুবসমাজ।

মধ্য রাইপাড়ার আবদুস সালাম অভিযোগ করে বলেন, ‘স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু নেতাদের কারণে এ এলাকায় মাদকের বিস্তার ভয়াবহ হারে বেড়েই চলছে।’ সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের উদাসীনতাই কেউ কেউ এ অঞ্চলে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক বিস্তারে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

দোহার থানার ওসি মাহমুদুল হক বলেন, ‘মাদকের সঙ্গে কোন আপস নেই। ইয়াবা বা মাদক ব্যবসায়ীদের কোন ছাড় দেয়া হবে না। মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ এলাকাবাসীর দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন দ্রুত এসব স্থানীয় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে তরুণ সমাজকে মাদকের থাবা থেকে রক্ষার্থে যথাযথ ভূমিকা পালন করে।