কৈলাইলে অগ্নিকাণ্ডে ৩ ঘর পুড়ে ছাই

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় বসত বাড়িতে আগুন লেগে ৩টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের কাটাখালী-মাতাবপুর গ্রামের মো. আসরুদ্দিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বাড়ির রান্না ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে পুলিশ জানায়। 

জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে রান্না ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তে আগুন পার্শ্ববর্তী ৩টি বসত ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আসরুদ্দিনের পরিবারের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। ততক্ষণে রান্নাঘরসহ বসত ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। 

খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিবারের দাবি প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক কায়সার আহমেদ জানান, ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। স্থানীয়দের সঙ্গে আমরাও সহযোগিতা করেছি। রান্না ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দোহার-নবাবগঞ্জে আর্সেনিক আক্রান্ত ১৪২ রোগী শনাক্ত

ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার নলকূপগুলোয় মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক থাকায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। বেসরকারি একটি এনজিও সংস্থা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব মতে ১৪২ আর্সেনিক আক্রান্ত রোগী চিহ্নিত করা হয়েছে। গভীর নলকূপের সংখ্যা কম থাকায় সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করে আসছে। 

এ দুই উপজেলায় পানি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপে জানা গেছে, মাটির তলদেশে আর্সেনিকের মাত্রা কম। তবে ৪’শ থেকে ৫’শ ফুটের মধ্যে প্রচুর আর্সেনিক রয়েছে। নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ৩০৫টি গ্রামের প্রায় ৬০ ভাগ এলাকায়ই আর্সেনিকের আধিক্যতা বেশি।

অন্যদিকে দোহার উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় গভীর নলকূপের সংকট রয়েছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জরিপে জানা গেছে, বর্তমানে পানির স্তর ২২ ফুট গভীরতায় রয়েছে। আর ৩ ফুট গভীরে স্তর নেমে গেলে সাধারণ নলকূপে পানি উঠবে না। এতে হয় গভীর নলকূপ অথবা আশপাশের জলাশয়ের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। আক্রান্ত হবে নানা পানিবাহিত রোগে।

দিঘিরপাড় গ্রামের নাসির শিকদার বলেন, তার এলাকার বিল অঞ্চলের মানুষগুলো বেশি আর্সেনিক আতঙ্কের শিকার। তিনি বলেন, সরকারি বেসরকারিভাবে গভীর নলকূপ স্থাপন হলেও সাধারণ পরিবারগুলো এ থেকে বঞ্চিত। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

দোহারের হরিচন্ডী গ্রামের সালাহউদ্দিন রশিদ বলেন, পদ্মা নদী ভাঙনের শিকার কিংবা চরাঞ্চলের গরিব পরিবারের সংখ্যা বেশি। তাই তাদের নিরাপদ পানির অভাবও বেশি। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে এ অঞ্চলের মানুষ নিজেদের অর্থে গভীর নলকূপ স্থাপন করতে পারে না। ফলে অগভীর নলকূপ অথবা নদীর পানিই প্রয়োজনীয় কাজে বেশি ব্যবহার করে থাকে। 

এনজিও সংস্থা কারিতাসের মাঠ কর্মকর্তা প্রতাপ ক্রুশ বলেন, এ অঞ্চলের পানিতে অনেক বেশি মাত্রায় আর্সেনিক রয়েছে। ২০১৪ সালে তারা আর্সেনিক নিয়ে কাজ করছেন। তাদের হিসাব মতে ৩৮ জনকে চিহ্নিত করা হয়। যারা সবাই আর্সেনিক রোগে আক্রান্ত।

নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তপন কান্তি সরকার বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবমতে ৮৮ জন আর্সেনিক রোগী রয়েছে। তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন, মাঠ কর্মকর্তারা খোঁজ রাখছেন। 

দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টাডিশিয়ান শর্মিলি রাণী মল জানান, দোহার উপজেলায় ৫৪ জন আর্সেনিক আক্রান্ত রোগী রয়েছে। ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মীরা নিয়মিত খোঁজ রাখেন। 

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে সরকারি সংস্থার পাশাপশি এনজিও সংস্থার সম্পৃক্ততা যাচাই করা হবে। জনস্বার্থে কাজ করার বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

দোহারে দুই ডাকাত গ্রেফতার

ঢাকার দোহার উপজেলায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আহমেদ ও আফসার নামে চিহ্নিত ২ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার ও বুধবার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা দোহার থানার একটি ডাকাতি মামলার আসামি। গ্রেফতারকৃত আহমেদ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের রহিমের ছেলে। আফসার চরকুসুমহাটি গ্রামের মৃত হোসেন দেওয়ানের ছেলে।

দোহার থানার উপপরিদর্শক মো. হারুন জানান, মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাহমুদপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রাম থেকে আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বুধবার রাত ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চরকুসুমহাটি গ্রামের ফজলের বাড়ি থেকে আফসারকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

নবাবগঞ্জে ৩ মাদক বিক্রেতা আটক

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের পৃথক অভিযানে মাজেদ (৩২), সোহাগ (৩৮) ও রিয়াজুল (২৫) নামে ৩ মাদক বিক্রেতা আটক করেছে থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতের বিভিন্ন সময়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। 

নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক কায়সার আহমেদ জানান, মঙ্গলবার রাতে ৮টার দিকে বান্দুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ রিয়াজুল ওরফে ডিস রিয়াজুলকে আটক করা হয়। সে উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নের বলমন্তচর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। 

অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাগমারা ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাজেদ ওরফে ডিবি মাজেদ ওরফে ফর্মা মাজেদ ও সোহাগ ওরফে রাডার সোহাগকে ৫টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়। আটককৃত মাজেদ উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়নের বারদুয়ারী গ্রামের মো. বোরহানের ছেলে এবং সোহাগ বলমন্তচর গ্রামের মৃত ইসলাম মিয়ার ছেলে। 

কায়সার আহমেদ আরো জানান, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হয়েছে। বুধবার প্রত্যেককে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

দোহারে ১০০ পিস ইয়াবা সহ মাদক ব্যবসায়ী কামরুল আটক

ঢাকার দোহারে ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার পল্লীবাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

দোহার থানার ওসি মাহমুদুল হক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে পুলিশের একটি দল উপজেলার পল্লীবাজারে অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে কামরুল ইসলাম নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। এ সময় তার শরীর তল্লাশি করে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটক কামরুল দোহারের মধুরখোলা গ্রামের হযরত আলীর ছেলে। মাদক আইনে মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

দোহার-নবাবগঞ্জের নলকূপে আর্সেনিকের মাত্রা বেশি

ঢাকার দোহার নবাবগঞ্জের নলকূপগুলোতে আর্সেনিকের মাত্রা অধিক থাকায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। গভীর নলকূপের সংখ্যা কম থাকায় বেশির ভাগ সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করে ক্রমেই রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন এনজিও ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের জরিপে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, মাটির তলদেশে আর্সেনিকের মাত্রা কম। তবে ৪০০ থেকে ৫০০ ফুটের মধ্যে প্রচুর আর্সেনিক প্রলেপ রয়েছে। নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ৩০৫টি গ্রামের প্রায় ৬০ ভাগ এলাকায়ই আর্সেনিকের মাত্রা বেশি বলে ধারণা করছেন নবাবগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এএইচএম গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ।

দোহারের পশ্চিম ধোয়াইর গ্রামের আমির পত্তনদার বলেন, তার এলাকার বিল অঞ্চলের মানুষগুলো বেশি আর্সেনিক আতংকের শিকার। তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারিভাবে গভীর নলকূপ স্থাপন হলেও সাধারণ পরিবারগুলো এ থেকে বঞ্চিত। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

দোহারের বিলাশপুরের রফিক কাজী বলেন, এসব অঞ্চলে গরিব মানুষের সংখ্যা বেশি। তাই তাদের নিরাপদ পানির অভাবও বেশি। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে এ গ্রামের মানুষ নিজেদের অর্থে গভীর নলকূপ স্থাপন করতে পারে না। ফলে অগভীর নলকূপ অথবা নদীর পানিই বেশি ব্যবহার করে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজের এক শিক্ষক বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত জনসংখ্যা অধিক। তাদের আর্থিক সক্ষমতাও কম। তাই তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশুদ্ধ পানি অতীব জরুরি। 

কারিতাসের কর্মকর্তা প্রতাপ ঘোষ বলেন, এক সময় তারা আর্সেনিক নিয়ে কাজ করলেও এখন করছেন না। 

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, এনজিওগুলো যেন জনস্বার্থে কাজ করে এ বিষয়ে তাগিদ দেয়া হচ্ছে।

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ইঞ্জিনিয়ার অভিষেক পালের উপর হামলা

নিউজ৩৯ঃ জমি-জমার বিরোধ সংক্রান্ত জেরে দোহার – নবাবগঞ্জের অতি পরিচিত অনলাইন এক্টিভিস্ট ইঞ্জিনিয়ার অভিষেক চাচাতো ভাইয়ের কাছে লাঞ্চিত ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এতে দোহার সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে ভর্তি করা হলে, প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ইঞ্জিনিয়ার অভিষেকের চাচাতো ভাই অমিতাভ পালের মাঝে দীর্ঘদিন ধরেই জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত রবিবার সকাল ১০টার দিকে অমিতাভ পাল কিছু সঙ্গী-সাথী নিয়ে অভিষেকের জয়পাড়াস্থ পুরাতন জয়পাড়া ক্লিনিকের পাশের বাড়িতে যান। সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে প্রকাশ্যে কিছু দুর্বত্ত তাকে প্রচন্ড শারিরিকভাবে লাঞ্চিত করে। এতে তার নাক মুখ ফেটে রক্ত বের হয়। পরে তাকে সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

উভয়পক্ষই দোহার থানায় পাল্টা-পাল্টি জিডি করেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে আপষ মীমাংসা করা হবে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। অভিষেক পাল জানান, প্রায় ২০ বছর আগেই ব্যাপারটি তার চাচার সাথে তাদের মীমাংসা হয়ে গেছে। অথচ সে (অমিতাভ) কাকাকে না নিয়ে কিছু দুর্বৃত্ত নিয়ে আমাদের বাড়ীতে আসে। এরপর জোর করে বাড়ীতে ঢুকতে চায় এবং আমার বাবাকে অপমান করতে চেষ্টা করে। এরই এক পর্যায়ে সে আমাকে প্রহার করে নাক মুখ ফাটিয়ে দেয়। আমি এর প্রতিকার চাই। এছাড়া এখনো সে ভয় দেখিয়ে যাচ্ছে। অমিতাভ পাল জানান, বিষয়টি নিতান্তই পারিবারিক। আমি আমার বাবার ঘর দেখতে চাইলে তারা বাধা দেয় ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে; তেড়ে আসে। এরই এক পর্যায়ে তাদের বাধায় আমি বের হয়ে আসার সময় কথাকাটি ও মৃদু ধাক্কাধাক্কি হয় বৈ কিছু নয়। তাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ব্যাপারটি নিয়ে উভয় পরিবারের মুরুব্বীরা বসায় সচেষ্ট রয়েছেন। উল্লেখ্য ইঞ্জিনিয়ার অভিষেক পাল দোহার-নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্টের প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং অমিতাভ পাল দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্টের মিডিয়া পার্টনার, সাপ্তাহিক প্রিয়বাংলার সম্পাদক।

সিংগাইরে সন্তানসহ গৃহবধু উধাও

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বাগলী গ্রাম থেকে নিজের সন্তানসহ স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও হয়েছেন এক গৃহবধূ। এ ব্যাপারে শুক্রবার নবাবগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন গৃহবধূর শ্বশুর খলিল মৃধা।

জিডির বিবরণে জানা গেছে, প্রায় ৬ বছর আগে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বাগলী (শান্তিবাজার) গ্রামের হাবিবুর রহমান হবির মেয়ে সাগরিকা আক্তার এনির সঙ্গে নবাবগঞ্জের দিঘীরপাড় গ্রামের রবিনের বিয়ে হয়। তাদের দুই বছরের ছেলেসন্তান রয়েছে। স্বামী বিদেশে থাকায় তিনি (সাগরিকা) বাবার বাড়ি অবস্থান করছিলেন। দেশে ফিরে বৃহস্পতিবার দুপুরে রবিন ও তার পরিবারের লোকজন সিংগাইরে স্ত্রী-সন্তানকে আনতে যান। তবে সেখানে গিয়ে তারা বাড়িতে তালা ঝুলানো দেখতে পান। প্রতিবেশীরা জানান, কয়েকদিন আগে সাগরিকা এখান থেকে চলে গেছেন। গৃহবধূর শ্বশুর খলিল মৃধা অভিযোগ করেন, সাগরিকার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে গালিগালাজ করে সংযোগ বন্ধ করে দেয়।

খলিল মৃধা আরও বলেন, আমাদের দেয়া ২০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫ লাখ টাকা নিয়ে সাগরিকা বাগলী এলাকার অ্যাডভোকেট গফুর শিকদার নামের ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়া করে চলে গেছে। তার চলে যাওয়ার তথ্য আমরা এলাকাবাসীর মাধ্যমে জানতে পারি। এলাকাবাসী জানান, গফুর শিকদারের বিরুদ্ধে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এ ব্যাপারে গফুর শিকদার ও সাগরিকা আক্তার এনির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

নবাবগঞ্জ থানার ওসি সায়েদুর রহমান জানান, বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সামছুদ্দিন সিকদারে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

ঢাকার দোহার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ মুকসুদপুর সামছুদ্দিন সিকদার উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষের অভাবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রখর  রোধে খোলা আকাশের নিচে বসে ক্লাস করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এতে করে উক্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১০৬০ জন শিক্ষার্থী ও ২৯জন শিক্ষক কর্মচারী রয়েছে। স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৬ সালে মরহুম সামছুদ্দিন সিকদার তার নিজের ঘরের টিন দিয়ে একটি অফিস রুম ও ৫টি শ্রেণি কক্ষে দিয়ে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত করে। বর্তমানে ১৩টি শ্রেণীকক্ষ থাকলো শ্রেণি কক্ষের  অভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঠাসাঠাসি করে বসিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিনিয়ত শ্রেণি কক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নিচে প্রখর রোধে বসে পাঠদান করছে। এখন কোন রকমভাবে ক্লাস চললেও বৃষ্টির সময় চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে শিক্ষার্থীদের। এতে করে প্রতিনিয়ত শিক্ষাকার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  মো.আহসান হাবিব জানান, স্কুলটি জাতীয় পর্যায়ে ২৮টি স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত হলে কিন্তু পর্যাপ্ত শ্রেণী কক্ষ না তাকায় খোলা আকাশের নিচে ক্লাশ নিতে হচ্ছে। শ্রেণী কক্ষে প্রতিটি ব্যাঞ্চে ছাত্র ছাত্রী বসার কথা ৫ জন করে, সেখানে আমরা ছাত্র ছাত্রী বসাই ৭ জন করে তার পরেও ছাত্র ছাত্রীদের বাইরে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে। আমাদের স্কুলে একটি একতলা ভবন রয়েছে, আর টিনশেট কাচা ভবন রয়েছে কাচা ভবন তিনটি। অনেক কষ্ট করে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে। সামনের বর্ষা মৌসুমে ঝড়-বৃষ্টিতে কিভাবে ক্লাস নিবো চিন্তা করছি।

৮ম শ্রেণীর ছাত্রী সুমি আক্তার জানায়,অনেক কষ্ঠে মাঠে বসে ক্লাস করছি। একদিকে রোদ আর অন্যদিকে ছোট ছোট পোকা আমাদের শরিরে এসে বসে। কিন্তু দিনের বেলা প্রচন্ড রোদ থাকে। বেশি সময় রোদে বসে থাকলে মাথা ঘোরায় ক্লাস করা যায় না। অনেক কষ্ট শিকার করে আমরা মাঠের ভিতর প্রচন্ড রোদকে উপেক্ষা করে পড়ালেখা করছি আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নাই আমরা আর কত দিন বাইরে ক্লাস করবো।

৬ষ্ঠ শ্রেণীর রাসেল বলেন, স্বনামধন্য স্কুল বলে অনেক আশা নিয়ে এখানে ভর্তি হয়েছিলাম। এখন দেখছি ভুল করেছি। কারণ শিক্ষক, বেঞ্চ, কক্ষ সঙ্কটের পড়ালেখা নিয়ে দুশচিন্তায় আছি।

অষ্টম শ্রেণীর নাসির, রাহাত জানায়, শিক্ষকদের ভালোবাসার কারণে বিদ্যালয় ছেড়ে  যেতে পারছি না। এ অবস্থা চলমান থাকলে আগামীতে আর কেউ এখানে ভর্তি হবে না। শিক্ষার্থীরা জানান বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে নজর দেবেন বলে আমাদেও বিশ্বাস।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল করিম ভুঁইয়া ও শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন ফেরদৌস সুলতানা বলেন আমি বিষটি আমাদের জানা ছিল না।

নবাবগঞ্জে ফেন্সিডিলসহ স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আটক

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১০ বোতল ফেনসিডিলসহ নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা স্বপনকুমার সরকার ওরফে বল্টু স্বপন(৪৫) নামে একজনকে আটক করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকার তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা থেকে  তাকে আটক করা হয়।

উল্লেখ্য স্বপন কুমার সরকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের বর্তমান সদস্য। 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে স্বপনের শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে ১০ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করা হয়। এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কায়সার আহমেদ বলেন, তাকে মাদক আইনে মামলা দিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।