শ্রীনগরে কষ্টি পাথরের মূর্তিসহ দোহারের যুবক আটক

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর থেকে ৫ কেজি ও জনের একটি কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার করেন সিআইড পুলিশ। সেই সাথে হামজা (৩০) নামক যুবককে গ্রেপ্তার করেন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫ টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বালাশুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শ্রীনগর থানার ওসি (তদন্ত) মুজিবুর রহমান জানান, দক্ষিণ বালাশুর এলাকার হামজা মার্কেটের মালিক হামজাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় ঢাকার সিআইডি পুলিশ। এসময় তার হেফাজতে থাকা আনুমানিক ৫ কেজি ওজনের একটি মূর্তি উদ্ধার করা হয়।

তবে, মূর্তিটি কষ্টি পাথরের কিনা তা উদ্ধারকারীরা যাচাই বাছাই করে দেখছেন। এর বেশি কিছু জানেন না বলে তিনি জানান। গ্রেপ্তারকৃত হামজাকে শ্রীনগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।

এদিকে, আটককৃত হামজা দোহার উপজেলার উপজেলার মৃত আমিনউদ্দিনের ছেলে। বালাশুর মামুন খোড়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া।

জাতীয় পার্টিকে আরও গতিশীল করতে হবে: সালমা ইসলাম

দেশের অপরাজনীতির খপ্পর থেকে মুক্ত হতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টিকে আরও গতিশীল করতে হবে। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার গালিমপুর ইউনিয়নের শংকরখালিতে জাতীয় পার্টির কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি এ কথা বলেন।

সালমা ইসলাম বলেন, দেশে আজ সুস্থ রাজনীতির পচন ধরেছে। বড় দুটি রাজনৈতিক দল শুধু ক্ষমতার লোভে হত্যা, জ্বালাও-পোড়াও এবং সহিংসতার মাধ্যমে আতংক সৃষ্টি করে জাতিকে জিম্মি করে রেখেছে। এ জিম্মিদশা থেকে দেশবাসীকে মুক্তি পেতে হলে ও উন্নয়ন অগ্রগতির সমন্বয় চাইলে জাতীয় পার্টির বিকল্প নেই।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, উন্নয়নের নামে লুটপাট, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে তোমাদের প্রতিবাদী হয়ে কাজ করতে হবে। যারা এসব করে তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এজন্য তৃণমূলে সংগঠনের শক্ত ভিত গড়তে সবাইকে দোহার-নবাবগঞ্জের প্রতিটি গ্রামে ও পাড়া-মহল্লায় কাজ করতে হবে। 

জাতীয় পার্টির নবাবগঞ্জ উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার নুরুল আনোয়ার বেলাল বলেন, দোহার- নবাবগঞ্জের মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে সালমা ইসলামকে ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করেছেন। তিনি গত এক বছরে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ অনেক কাজ করেছেন। যা বিগত সময়ের তুলনায় মানুষের কাছে অনেক প্রশংসনীয়। 

গালিমপুর ইউনিয়নের সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ কবির হোসেন, উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান, মো. শাজাহান, যুবসংহতির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান হোসেন ছাত্র সমাজের উপজেলা সভাপতি এমএ সেলিম, দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজের সভাপতি মো. শাহিন, ছাত্র সমাজের নেত্রী সানজিদা আফরিন, সিমা আক্তার প্রমুখ।

এর আগে সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম মিয়াহাটি জামে মসজিদ ও মাহবুবীয়া কাদেরিয়া মাদ্রাসার গেটের সীমানা প্রাচীর উদ্বোধন ও শুরগাঁ রকেট ক্লাবের মাঠে একটি পথসভা করেন।

রাত হলেই দোহার আঞ্চলিক মহাসড়ক ডাকাতের দখলে

রাত নামলেই ডাকাত আতঙ্কে দিশাহারা ঢাকা-কেরানীগঞ্জ-নবাবগঞ্জ-দোহার আঞ্চলিক মহাসড়কের তুলসীখালি,মরিচা,খারশুর টিকরপুর,মাঝিরকান্দা,চালনাই ও নিকড়া-গালিমপুর সড়কে চলাচলকারী মানুষ।

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চলাচল কিছুটা কম থাকায় ডাকাতদের রাজত্ব আরও বেড়েছে। প্রতিনিয়তই ঘটছে ডাকাতির ঘটনা। যাত্রীদের অভিযোগ,পুলিশ সব জেনেও গা-ছাড়া মনোভাব দেখাচ্ছে। একমাত্র পুলিশের সীমান্ত জটিলতার অজুহাতে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা ডাকাতি বন্ধ না হওয়ায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে ডাকাত সদস্যরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়,রাতে নবাবগঞ্জ-কেরানীগঞ্জ-ঢাকা-নবাবগঞ্জের চালনাই ও দোহার-নবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী নিকড়া-গালিমপুর সড়কে তিন থানার পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দোহার থানা পুলিশের অবস্থান থাকে জয়পাড়া-গালিমপুর সড়কের নিকড়া রশিদ বেপারির বাড়ির এক কিলোমিটার অদূরে দোহারের শেষ অংশে কালভার্টের উপর। ওই কালভার্টের পর থেকে গালিমপুর পর্যন্ত নবাবগঞ্জের অংশ হলেও সেখানে নবাবগঞ্জ থানার কোন টহল পুলিশ না থাকায় পুরো রাস্তাটি থাকে অরক্ষিত। পুলিশের সীমান্ত জটিলতার এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ডাকাতরাও বেশ নির্বিঘ্নে লুটে নিচ্ছে যাত্রীদের মালামাল। এ কারণে বিকালের পর থেকে এ রুটে যানচলাচল অনেকটা কমে যায়।

একই চিত্র নবাবগঞ্জ-কেরানীগঞ্জ-ঢাকা সড়কের। এ রুটে নবাবগঞ্জ,সিরাজদিখান ও কেরানীগঞ্জথানা পুলিশের অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু কোন থানার পুলিশ তাদের স্ব স্ব এলাকা ছাড়া সামনে যায় না। এ কারণে টিকরপুর থেকে খারশুর ব্রিজের পশ্চিম পার পর্যন্ত,ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার আওতাধীন,খারশুর বাজার থেকে তুলশীখালী সেতু পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানার আওতাধীন,সৈয়দপুর ও রুহিতপুর থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত সড়কটি থাকে একেবারে অরক্ষিত। এখানেও পুলিশের সীমান্ত জটিলতার সুযোগ নিয়ে এসব রাস্তার মাঝে গাছ ফেলে বা ব্যারিকেড দিয়ে নির্বিঘ্নে ডাকাতি করে পালিয়ে যাচ্ছে ডাকাতরা।

সম্প্রতি ডাকাতির প্রবণতা এতটাই বেড়েছে যে রাতে তুলসীখালী সেতুর টোলঘর থেকে ২০/২৫টি গাড়ি একসঙ্গে সিরাজদিখান থানার পুলিশ প্রহরায় খারশুর বাজার পর্যন্ত পৌঁছে। সেখানেও গাড়ি প্রতি পুলিশকে দিতে হচ্ছে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা। খারশুরের পর থেকে আবার শুরু হয় ডাকাত আতঙ্ক। খারশুর থেকে টিকরপুর পর্যন্ত মাঝের একটি কালভার্টে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের অবস্থান থাকে। সীমান্ত জটিলতার অজুহাতে ওই অবস্থানে তারা অনড়। এরই ফাঁকে ঘটে যায় ডাকাতির ঘটনা।
দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার মধ্যবর্তী সীমানা চালনাই সড়ক। চালনাই সড়কের ডাকাতির ঘটনা এখন আর কারও অজানা নয়। চালনাই সড়কের নাম শুনলে আঁতকে উঠেন সবাই। রাত নামার পরপরই চালনাই সড়ক চলে যায় ডাকাতদের দখলে। এ রুটে দোহার-নবাবগঞ্জের বহু মানুষ ডাকাতির শিকার হয়ে তাদের সর্বস্ব খুইয়েছেন। বিশেষ করে বিদেশগামী অথবা বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সময় এই চালনাই সড়কে ডাকাতির শিকার হয়ে মালামাল ও এমনকি ভিসা পাসপোর্ট খুইয়েছেন অনেকেই। এ ছাড়া বাসযাত্রীথেকে শুরু করে প্রাইভেটকার,ট্রাক,পিকআপ,রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স,ইজিবাইক,মোটরসাইকেলসহ পথচারীদেরকে মারধর করে ফিল্মি স্টাইলে ডাকাতি করে আসছে ডাকাতরা।

এসব রুটে চলাচলকারীর যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন,রাত হলেই ডাকাতের ভয় চেপে বসে মনে। একটাই আতঙ্ক এই বুঝি ডাকাত এলো। জানা যায়,ডাকাতের কবলে পড়ে লাখ লাখ টাকা ও মালামাল খুইয়েছেন অনেকে। রোগী ও লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সও ডাকাতদের হাত থেকে রক্ষা পায় না বলে ভুক্তভোগীরা জানায়। বর্তমানে পুলিশের গাড়ি দিয়েযাত্রীবাহী বাসসহ মালবাহী যানবাহন পারাপার করে দিলেও নিরাপদ মনে না করায় বেশির ভাগ পণ্যবাহী যানবাহন সারারাত তুলসীখালী ব্রিজে অবস্থান নিয়ে সকালে যাত্রা শুরু করেন।

এ দুই উপজেলার যাত্রীরা মনে করেন, পুলিশের সীমান্ত জটিলতা নিরসন করা না গেলে ডাকাতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনে পুলিশ ডাকাতির স্থানটি শনাক্ত করে সেখানে অবস্থান নিলে বা একটি স্থানে দাঁড়িয়ে না থেকে থানাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো রাস্তায় টহল ব্যবস্থা চালু করতে পারলে ডাকাতদের প্রতিহত করা সম্ভব। আর এখানে যারা প্রতিদিন একই কায়দায় ডাকাতি করছে তারা আশপাশের এলাকার নেশাখোর ও বখাটে যুবক।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একটু নজর দিলেই ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা সম্ভব।

এই ব্যাপারে দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল হক বলেন, “দোহার অংশে ডাকাতির ঘটনা নাই। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তবে সীমানা জটিলতার কারণে কিছু সমস্যা হচ্ছে। নবাবগঞ্জ থানার সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশি টহল জোরদার করা হচ্ছে যাতে আর ডাকাতি না হয়।”

নবাবগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত)খন্দকার এখলাসুর রহমান বলেন, “সড়কে টহল পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি ও জোরদার করা হয়েছে। আমরা দোহার,সিরাজদিখান,কেরানীগঞ্জ থানার সঙ্গে সমন্বয় করে টহল দিচ্ছি। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা অনেকাংশ ভাল।”

দোহারে পরোয়ানাভুক্ত ৫ আসামি গ্রেফতার

ঢাকার দোহার উপজেলায় পরোয়ানাভুক্ত ৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে দোহার থানা পুলিশ। শুক্রবার রাতে উপজেলার জামালচর গ্রাম তাঁদের নিজ বাসা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয় ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন দোহার উপজেলার জামালচর গ্রামের ফনুর ছেলে মো. আক্তার হোসেন ,  মো. মোক্তার হোসেন ও মো. সোহাগ। একই গ্রামের সেলামতের ছেলে ফনু এবং বটিয়া গ্রামের জালালের ছেলে সালে আহম্মেদ।

দোহার থানার ওসি মো. মাহমুদুল হক জানান, শুক্রবার গভীর রাতে ওই ৫ জনকে তাদের নিজ বাসা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। শনিবার সকালে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। দোহার থানার ডিউটি অফিসার রফিকুল ইসলাম লিটন জানান, তারা সকলেই সি.আর মামলার পরোয়ানাভূক্ত আসামি।

নবাবগঞ্জে কাজী আবদুর রইসের স্মরণ সভা

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মরহুম কাজী আবদুর রইস স্মরণে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার বলমন্তচর গ্রামে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। ইছামতি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর আয়োজন করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন, জাতীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস হায়দার। 

প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান খান সোহেল, নবাবগঞ্জ থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা ইদ্রিস হায়দার, সভাপতি এরশাদ আল মামুন, সৈয়দ মাসুদ, মনির উদ্দিন আহমেদ, হোসেন খান। 

এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী প্রচারলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ আহমেদ পান্না, কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক সুরুজ আলম সুরুজ, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইকরামুল নবী ইমু, উপজেলা সভাপতি এসএম সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রনি, কলেজ শাখা সভাপতি শুভন সিকদার, সম্পাদক নাহিদুল আলম নাদিম প্রমুখ।

মুকসেদপুরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক ৩

ঢাকার দোহার উপজেলায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে উপজেলার মুকসেদপুর ইউনিয়নের পল্লী বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার তিনারখোলা গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে সোহেল, দোহার উপজেলার মৈইতপাড়া গ্রামের মদন হাওলাদারের ছেলে ইদ্রিস হাওলাদার এবং একই এলাকার মৃত সিদ্দিক আকনের ছেলে আইয়ুব আলী।

দোহার থানার ওসি মাহমুদুল হক জানান, সোমবার মধ্যরাতে পল্লী বাজার এলাকায় ১০/১২ জনের একটি দল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল এমন খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এদের মধ্যে বাকিরা পালিয়ে গেলেও পুলিশ তিনজনকে আটক করে।

তিনি জানায়, এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি রামদা, দু’টি চাপাতি, দু’টি ছুড়ি, দু’টি শাবল ও একটি কাটার উদ্ধার করা হয়।

ওসি বলেন, এ বিষয়ে একটি ডাকাতি মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে আটককৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সিটি নির্বাচনে অংশ না নিলে রাজনৈতিকভাবে হারিয়ে যাবেন: নবাবগঞ্জে শাহজাহান খান

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিলে রাজনৈতিকভাবে বাঁচতে পারবেন- নইলে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে আপনি ও বিএনপি হারিয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার ঢাকার নবাবগঞ্জে উপজেলা প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালোদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে এসব কথা বলেন নৌপরিবহণমন্ত্রী শাহজাহান খান।

মন্ত্রী বলেন, “বিএনপি-জামায়াত পেট্রলবোমা মেরে যেভাবে দেশের নারী-পুরুষ এমনকি শিশুদের নির্বিচারে হত্যা করছে, তাতে ওরা এ পাপ থেকে রেহাই পাবে না। আর তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার বিচারও এ দেশের মাটিতে হবে।”

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন ঝিলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আব্দুল বাতেন মিয়া, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে স্বাধীনতা দিবসের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন মন্ত্রী।

এদিকে, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দোহার উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনের জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কুচকাওয়াজ, শরীরিক কসরত প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এ মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ধলেশ্বরী থেকে মাটি কাটায় হুমকির মুখে তুলশিখালী সেতু

নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী রুহিতপুর ইউনিয়নের লাকিরচর এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। নদীর তীর থেকে মাটি কাটায় হুমকির মুখে পড়েছে ঢাকা-নবাবগঞ্জ সড়কের তুলশিখালী সেতু। ফলে যে কোনো সময় সেতুর পিলার ধসে পড়ার আশংকা রয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা-নবাবগঞ্জ সড়কের পাশে লাকিরচর এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর তীরে তুলশিখালী সেতুর প্রায় একশত গজ দূরে এক্সক্লেভেটর বা ভ্যেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে তোলা হচ্ছে। এই মাটি বিক্রি হচ্ছে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে। 

সেখানে কর্মরত একাধিক শ্রমিক জানায়, রুহিতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোলায়মান ওরফে সলেমান ও অহিদুল হকের নির্দেশে তারা মাটি কেটে নিচ্ছে। 

লাকিরচর এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন জানান, কয়েকদিন ধরে দেখছি নদীর তীর থেকে কিছু লোক মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। তারা নদীর তীরে মাটি কেটে নিয়ে সেখানে বড় বড় গর্ত করে রাখছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অবৈধভাবে সেতুর কাছ থেকে মাটি কাটা হলে এক সময় সেতুটি হুমকির মুখে পড়বে। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। 

গুচ্ছগ্রাম এলাকার বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতারা অর্থের লোভে অবৈধভাবে নদীর তীরের মাটি কেটে বিক্রি করছে। এতে আমাদের গ্রাম ও তুলশিখালী সেতু হুমকির মুখে পড়ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লাকিরচর ও তুলশিখালী এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোলায়মান ওরফে সলেমান ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। 

তবে এ ব্যাপারে রুহিতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. অহিদুল হক মাটি কাটার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মাটি কাটার সঙ্গে আমি জড়িত নই। দলের নেতাকর্মীরা মাটি কাটছে। 

রুহিতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সোলায়মান বলেন, নেতাকর্মীরা লাকিরচর থেকে মাটি কাটছে। তবে এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। 

সড়ক ও জনপথ মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী তারেক ইকবাল বলেন, সেতুর উভয় পাশে ৩শ মিটারের মধ্যে মাটি কাটা বা খনন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন ভঙ্গ করে যারা এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, এ ব্যাপারে আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দোহারে ইউএনও কর্তৃক ১২ জুয়াড়ির সাজা

দোহার উপজেলায় জুয়া খেলার অপরাধে ১২ জুয়াড়িকে ৭দিন করে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার সন্ধ্যায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও নুরুল করিম ভূঁইয়ার ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের এ সাজা দেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, দোহার উপজেলার আন্তা গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, মুক্তার হোসেন, বাতেন, মনির হোসেন, সালাম, পূর্ব ধোয়াইর গ্রামের সুজন হোসেন, বাহ্রাঘাটের লিটন হোসেন, মুকসেদপুর ফুলতলা গ্রামের আবুল হোসেন, নবাবগঞ্জের বক্তারনগর গ্রামের হারুন বিশ্বাস, কেরানীগঞ্জের ফটিক চাঁন, শ্রীনগরের ফিরোজ, ওয়াহিদ।

দোহারে সাজাপ্রাপ্ত আসামি মেছের আলী খান গ্রেফতার

ঢাকার দোহার উপজেলায় ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মেছের আলী খানকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। শুক্রবার রাতে কার্তিকপুর এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। 

মেছের আলী কার্ত্তিকপুরের হোসেন খানের ছেলে। মোহাম্মদপুর ফাঁড়ি ইনচার্জ আনিস জানান, দুই বছর আগে স্থানীয় আবদুর হালিমের সঙ্গে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে বিবাদ হলে আদালতে মামলা হয়। সে মামলায় মেছের খানের ২ বছরের জেল হয়।