পহেলা বৈশাখ: দোহার-মুন্সিগঞ্জে জেলেরা জাটকা নিধনে বেপরোয়া

পদ্মা নদীতে অবাধে দিনে দুপুরে জাটকা নিধন চলছে। তাই জাটকা সংরক্ষণের সফলতা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে জেলেরা বেপরোয়া হয়ে ওঠায় ধরা পড়ছে ওই সমস্ত পোনা মাছ। পদ্মা তীরবর্তী হাট বাজারগুলোতে অবাধে জাটকা বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

জেলেরা অভিযোগ করেছেন, জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উপলক্ষে কোনো প্রচারণা বা কর্মসূচি না থাকায় নদী জুড়ে জাটকা নিধন চলছে। 

একাধিক সূত্র জানায়, দেশে মাছের চাহিদা পূরণে সরকার প্রতিবছর পহেলা নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করে। এ লক্ষ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য পহেলা এপ্রিল থেকে ৭ এপ্রিল জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ পালন করে। কিন্তু শিবচরসহ সংলগ্ন পদ্মা নদীতে কোনো অভিযান না থাকায় এসব জায়গাজুড়ে চলছে জাটকা নিধনের মহোৎসব। 

সূত্র জানায়, পদ্মা নদীর মাওয়া অংশ, চরজানাজাত, কাঠালবাড়ি, লৌহজং, জাজিরাসহ সর্বত্রই জাটকা ধরা হচ্ছে। মাছ ধরা জালগুলোর ফাঁসগুলো ছোট হওয়ায় ২ ইঞ্চি থেকে ১০ ইঞ্চির সকল জাটকাই ধরা পড়ছে। 

পদ্মা নদীর ভাটি (নামায়) চাদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় কোস্টগার্ডসহ আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে জেলেরা মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মুন্সীগঞ্জ, দোহার অংশে আশ্রয় নিয়ে এ নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছে। 

স্থানীয় জেলে করিম মিয়া বলেন, “জাটকা ধরার ক্ষেত্রে মাওয়ার অংশে সোনারগাঁর একশ নৌকা বেশি বেপরোয়া। নদীর পাড়ে ডাঙ্গায় কর্মসূচি থাকলেও নদীতে অভিযান না থাকায় নির্বিচারে জাটকা ধরা পড়ছে।”

শিবচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সরদার গোলাম মোস্তফা বলেন, “এ বছর জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উপলক্ষে ৭ দিনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। অভিযানও চলছে।”

নদীতে জাটকা ধরার ব্যাপারে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব বলে আশ্বাসের কথা বললেও পদক্ষেপের কথা জানাতে পারেননি তিনি।

দোহার-নবাবগঞ্জের এলজিইডির প্রকৌশলীকে দুদকে তলব

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নবাবগঞ্জ শাখার কার্য-সহকারী শিউলী আক্তার, দোহার শাখার কার্য-সহকারী মাহমুদা আক্তার নিশাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।  তাদের বিরুদ্ধে ১০ জন বদলি বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের তলব করে দুদক। এছাড়া সারা বাংলাদেশের আরপ ৮ প্রকৌশলীকে তলব করেছে দুদক। এদের মাঝে আছেন এলজিইডি’র সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান। তাদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে তাদের তলব করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার বিকালে দুদকের উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী তাদের তলব করে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীকে চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তাদেরকে আগামী ১৯ ও ২০ এপ্রিল দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের হাজির থাকতে বলা হয়েছে। 

ওই চিঠিতে আগামী ১৯ এপ্রিল যাদের দুদকে হাজির হতে তলব করা হয়েছে তারা হলেন, এলজিইডি সদর দফতরের তত্ত্বাবধায় প্রকৌশলী মোল্লা আজিজুল হক, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পিইডিডি-৩) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী সালেহ হাসান প্রামাণিক, কিরিট সেবাস্তি গমেজ ও ফিরোজা করিম নেলী। এছাড়া আগামী ২০ এপ্রিল তলবকৃতরা হলেন, এলজিইডির নবাবগঞ্জ শাখার কার্য-সহকারী শিউলী আক্তার, দোহার শাখার কার্য-সহকারী মাহমুদা আক্তার নিশা, সাভার শাখার কার্য-সহকারী মরিয়ম সাদিয়া সিথি, লক্ষ্মীপুর রামগতি শাখার কার্য-সহকারী মো. আমিনুল ইসলাম ও এলজিইডি-৩ এর উচ্চমান সহকারী মো. আব্দুল মজিদ।

শিকারিপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মুসুল্লি নিহত

উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়নের বিষমপুর এলাকায় মসজিদের সামনে শিকারীপাড়া থেকে একটি যাত্রীবাহী হিউম্যান হলার বান্দুরা যাওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মসজিদের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা মো. জাফর ও বাবুলকে চাপা দেয়। তারা মসজিদ থেকে নামাজ পরে মসজিদের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। 

এসময় ঘটনাস্থলেই জাফর মারা যান। স্থানীয়রা আহত বাবুলকে নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করে। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠান। নিহত মো. জাফর মানিকগঞ্জ জেলার পালোরা গ্রামের সোনাই বেপারীর ছেলে। 

নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জাফর নামে একজন ঘটনাস্থলে নিহত এবং বাবুল নামে একজন আহত হয়েছে।

নবাবগঞ্জে ফেন্সিডিলসহ যুবক আটক

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১৬ বোতল ফেন্সিডিলসহ রাশেদ ভূঁইয়া (২৪) নামে এক যুবককে আটক করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার চালনাই চক এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে মাদক আইনে মামলা হয়েছে। আটককৃত রাশেদ ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার চরাইল গ্রামের জামাল ভূইয়ার ছেলে। উপজেলা জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কুঠরী গ্রামের তাদের বাড়ি রয়েছে বলে সে জানায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার চালনাই চক এলাকায় মাদক বেচাকেনার খবর পেয়ে থানা পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ১৬ বোতল ফেন্সিডিলসহ রাশেদ ভূইয়াকে পুলিশ ধরতে সমর্থ হয়। বাকিরা পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে। 

নবাবগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক আবদুল লতিফ জানান, ১০দিনের রিমান্ড চেয়ে বুধবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

নবাবগঞ্জে গাঁজা ব্যবসায়ীর ১ বছরের কারাদণ্ড

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় মো. শরীফ (২৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদ উল্লাহ’র তাকে এ কারাদণ্ড প্রদান করেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা ছাতিয়া মোহনপুর এলাকা থেকে প্রায় ১ কেজি গাঁজাসহ এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। 

শরীফ ব্রা¤œনবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর থানার নলগোড়িয়া গ্রামের আবদুল মোতালেবের ছেলে। সে উপজেলার আগলা ইউনিয়নের ছাতিয়া মোহনপুর গ্রামের মাজেদাকে পাইকারীতে গাঁজা দিতে আসছিল বলে জানায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ছাতিয়া মোহনপুর এলাকার মাদক ব্যবসায়ী মাজেদার বাড়িতে গাঁজা নিয়ে আসে মো. শরীফ। এ সময় স্থানীয় জনতা গাঁজাসহ তাকে আটক করে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে বুধবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে ১ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

ইছামতি নদীতে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ চাষ

ঢাকার নবাবগঞ্জে ইছামতি নদীর প্রায় চার কিলোমিটার এলাকা দখল, বাঁশের বেড়া ও জাল দিয়ে ঘিরে মাছ চাষ করা হচ্ছে। সব ধরনের নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কৃষিকাজে সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী দুর্ভোগে পড়েছেন। তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে কোনো ফলাফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

নদীপাড়ে বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার শিকারিপাড়া ইউনিয়নের ইছামতি নদীর কাশিয়াখালী বেড়িবাঁধ থেকে শিকারিপাড়া বাজার হয়ে বারুয়াখালী বাজার বাহেচর-বক্তারনগর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার জায়াগা দখল করে নেয়া হয়েছে। এখানে অন্তত আটটি অংশে বাঁশ ও জালের আড়াআড়ি বেড়া দিয়ে মূল নদি আটকে দেয়া হয়েছে। গত তিন বছর নদী আটকে মাছ চাষ করছেন উপজেলার শিকারিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলিমুর রহমান খান পিয়ারা ও তার সহযোগীরা। এতে নদীতে সব ধরনের নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিকারিপাড়া, বক্তারনগর, দাউদপুর, খানেরপুর, বান্দুরা গ্রামের পেশাদার মত্স্যজীবী ও সাধারণ মানুষ। ওইসব এলাকায় ইছামতি নদীর ওপর নির্ভরশীল শাখা খালে পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কৃষি উৎপাদনে সেচের পানি পাওয়া যাচ্ছে না। তারা আরো জানান, গত ডিসেম্বরে বিআইডব্লিউটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত নদী থেকে বাঁশের বেড়া ও জাল উচ্ছেদ করেছিলেন। কিন্তু নদী ঘিরে আবারো মাছ চাষ করা হচ্ছে। চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিকারিপাড়া ইউনিয়নের কাশিয়াখালী বেড়িবাঁধ এলাকায় প্রায় ৩০০ মিটার চওড়া এ নদীতে অসংখ্য মোটা বাঁশ পুঁতে ও জাল দিয়ে দখল করে নেয়া হয়েছে।

শিকরিপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জানান, আমরা নৌপথে পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্য করি। নদী আটকে (দখল করে) মাছ চাষ শুরু করায় আমাদের ভোগান্তি বেড়েছে।

ভুক্তভোগী গ্রামবাসী জানান, নদী দখল করে মাছ চাষ করায় তারা এখন পানিতে নামতে বাধা দেয়। ফলে আমাদের দৈনন্দিন কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ নদীর বিভিন্ন অংশে নৌ-চলাচল প্রতিবন্ধক অপসারণ করলেও আবারো জাল ও বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। নদী দখলমুক্ত করতে গ্রামবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী, জেলা মত্স্য কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক বরাবর দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো ফল হয়নি।

শিকারিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলিমুর রহমান খান পিয়ারা জানান, নদীর মুখে বাঁধ থাকায় এখন নদীটি মৃত। বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। মত্স্যসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে ইজারা নিয়েই এখন মাছ চাষ করা হচ্ছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল আহসান জানান, আমি নতুন যোগদান করেছি। নদীতে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ চাষের অনুমতি দেয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দোহারে কালবৈশাখী ঝড়ে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

ঢাকার দোহারে কালবৈশাখী ঝড়ে অন্তত ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে গেছে গাছপালা, বিচ্ছিন্ন রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দোহারের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। প্রায় আধা ঘন্টার তীব্র বাতাসে উপজেলার জয়পাড়া, বিলাসপুর, চর বিলাসপুর, বাহ্রা, ধোয়াইর, লটাখোলা, নিকড়া, ইউসুফপুর, বাস্তা, আউলিয়াবাদ, মাহমুদপুরসহ কয়েকটি এলাকার কাঁচা ও আধাপাকা অনেক ঘর বিধ্বস্ত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে,  সন্ধ্যায় বয়ে যায় কালবৈশাখী ঝড়ে এসব এলাকার অন্ততঃ ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ উপড়ে পড়ে আছে। ঝড়ের সময় থেকে পুরো উপজেলায় বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তীব্র এ ঝড়ে হাজার হাজার গাছপালা ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পদ্মা ভাঙন কবলিত নয়াবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ক্ষেতের ফসল।

নয়বাড়ি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. সামছুদ্দিন জানান, ঝড়ে নদীরপারে ভাঙনকবলিত অনেক মানুষের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ে আছে। 

ঝড়ের কবলে পড়ে দোহারের তরুণীর মৃত্যু

ঢাকার দোহার উপজেলায় ঝড়ের মধ্যে আম কুড়াতে গিয়ে গাছের নিচে চাপা পড়ে রুম্পা দাস (১৮) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে।  মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুসুমহাটি ইউনিয়নের আউলিয়াবাদ গ্রামের জেলেপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।  রুম্পা দাস আউলিয়াবাগ জেলেপাড়ার বাসিন্দা গুরুদাসের মেয়ে। 

স্থানীয়রা জানায়, সন্ধ্যায় ঝড় শুরু হলে রুম্পা দাস বাড়ির পাশে আম কুড়াতে যান। এ সময় একটি নারকেল গাছ ভেঙে পড়লে তিনি চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। 

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হক জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন তিনি। 

লটাখোলা নতুন বাজারে এক রাতে ৩ দোকানে চুরি

তানজিম ইসলাম ♦ দোহারের লটাখোলা নতুন বাজারে এক রাতে তিন দোকানে চুরি হয়েছে। শনিবার  রাত আনুমানিক ২:৩০ এ চুরির ঘটনা ঘটে। সকালবেলা দোকানদারা দোকান খুলতে এলে দেখে শাটারের তালা ভাগা,ভিতরে গিয়ে দেখতে পায় তাদের দোকানে চুরি হয়ছে।

তারা আবিস্কার করে তাদের দোকানের মালামাল এলোমেলো, ক্যাশের টাকা নেই। যাদের দোকানে চুরি হয়েছে তারা হলেন বাদশা,মাসুম ও মিলন। এদের মাঝে বাদশার দোকান থেকে  ৫ হাজার নগদ টাকা, মাসুমের দোকান থেকে ২টা  মোবাইল ফোন  এবং ৭ হাজার টাকা ও মিলনের দোকান থেকে ১টা হরলিকক্স ও নগদ  ৬ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় কোন মামলা হয়নি।

দোহারে অটোরিকশাচালক হত্যা ২ সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

দোহার উপজেলার নিকড়া তালতলা এলাকায় গত ৩০শে জানুয়ারি আবদুল আজিজের পরিত্যক্ত ভিটায় গলাকেটে নৃশংসভাবে খুন হওয়া গোকুল চন্দ্র রায়কে (৩৬) হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সন্দেহভাজন দুই খুনি ও ছিনতাইকৃত অটোরিকশা ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি ও ছিনতাইকৃত মোটরচালিত রিকশা উদ্ধার করেছে দোহার থানা পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার ইউসুফপুর খানবাড়ির সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার ও অন্য জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয় বলে দোহার থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। 

মামলার আয়ু দোহার থানা পুলিশের এসআই নুরুল আলম জানান, ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধার করার মাধ্যমেই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের শনাক্ত করে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। এরা হলো রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার চরসামিলপুর গ্রামের জয়নাল মিয়ার ছেলে তারেক (২৫) ও হাবাসপুর গ্রামের আরশাদ আলীর ছেলে মনজু (২৩)। অটোরিকশা ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত অপর চারজন হলো ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার চরশালীপুর গ্রামের মৃত শেখ ছন্দ মিয়ার ছেলে শেখ সাহেব আলী (৩৪), নগরকান্দার পাউচা মিয়ার ছেলে বাচ্চু (২২), দোহার উপজেলার চরকুশাই গ্রামের মৃত ছকিল উদ্দিনের ছেলে জুয়েল (৩৮) ও লটাখোলা গ্রামের আবদুর রহমান মোল্লার ছেলে সাইদুল ইসলাম (৩০)। গতকাল দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল হক বলেন, ‘ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি চার ধাপে ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে সম্পৃৃক্তদের গ্রেপ্তার করার পর মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। আসামিদের গতকাল আদালতে পাঠানো হয়েছে।’