নবাবগঞ্জে বখাটেদের ভয়ে স্কুল ছেড়েছে এক ছাত্রী

বখাটেদের ভয়ে নির্বাচনী পরীক্ষা দিতে পারছে না এক ছাত্রী।  সে নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা হাই স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। গত ৬ মাস আগে ঐ ছাত্রী বখাটেদের নির্যাতনের শিকার হয়। এ বিষয়ে এলাকাবাসী অভিযোগ করলেও বখাটেদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেন নি অধ্যক্ষ।

জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল বিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় বখাটে অলক রাজবংশী সাগর ও অনিক মন্ডল ওই ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করে। এ বিষয়ে ছাত্রীর বাবা অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করে। পরে এ ঘটনায়  নবাবগঞ্জ থানায় একটি  মামলা করা হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের অভিভাবক, শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীরা একত্রিত হয়ে বখাটেদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করে। পরে স্কুল কমিটির সিদ্ধান্তে দুই বখাটেকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। এতে ওই ছাত্রী আতঙ্কিত হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না এবং পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না।

এ ব্যাপারে শোল্লা হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তে ওই ছাত্রদের স্কুলে লেখাপড়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে।

তবে এবিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান তারামিয়া ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, এসব কিছু তার জানা নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিবুল আহসান বলেন, এ রকম কোন বিষয় তার জানা নেই । তবে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

দোহার-নবাবগঞ্জ রক্ষায় পদ্মাতীরে বাঁধের দাবীতে নির্মিত ভিডিওচিত্র

পদ্মার ভাঙ্গনের কবল থেকে ঢাকা জেলার দোহার নবাবগঞ্জ থানা রক্ষার জন্য স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছিল স্থানীয় তরুণদের সংগঠন “দোহারের তরুণ প্রজন্ম” যা পরবর্তীতে ‘দোহার-নবাবগঞ্জ সোশ্যাল ম্যুভমেন্ট’ নামে সংগঠিত হয়। তারা পদ্মার ভাঙ্গন কবলিত মানুষের গণজমায়েত এবং মানববন্ধন কর্মসূচীতে স্থানীয় তরুণরা এ দাবি জানায়।

স্থানীয়রা ত্রাণ-সাহায্য প্রত্যাখান করে স্থায়ী বাধঁ নির্মানের জন্য রাজপথে নেমে এসেছিল। গত বছর সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন কর্মসূচী নেয় তারা। তাদের সাথে যুক্ত হয়েছিল স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-ছাত্র-ছাত্রীরা।

তারা পুরো পরিস্থিতি তুলে ধরে একটি ভিডিও চিত্র তৈরী করে। এই ভিডিওচিত্রটি দোহার বিভিন্ন যায়গা যেমন জয়পাড়া, মালিকান্দা, নারিশা, বাংলাবাজার সহ আরও কয়েকটি বাজারে গিয়ে স্থানীয় জনগনকে দেখায়। ওই সব এলাকার মানুষ খুব আগ্রহ নিয়ে তা দেখে।

২০১৫ সালের মত না হলেও ২০১৬ সালেও ভাঙ্গন শুরু হয়, আগের বছর যা ভাঙ্গেনি তা এবার ভেঙ্গেছে। পদ্মা নদী মালিকান্দা বাজারে এসে পৌঁছেছে।

তরুণদের এই আন্দোলনে একটা অর্জন অন্তত হয়েছে, স্থানীয় রাজনীতিতে এটি প্রথম ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি দোহার উপজেলা উপ-নির্বাচনে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখা গেছে নদী ভাঙন রোধ।

ভালো থেকো আড়িয়াল বিল

0

“ভালো থেকো ঘাস, ভোরের বাতাস, ভালো থেকো।
ভালো থেকো রোদ, মাঘের কোকিল
ভালো থেকো বক, আড়িয়াল বিল
ভালো থেকো নাও, মধুমাখা গাঁও, ভালো থেকো।
ভালো থেকো মেলা, লাল ছেলেবেলা, ভালো থেকো।”

কিন্তু কতদিন ভাল থাকবে, কবির এই আকুতি শুকিয়ে যাবে চৈত্রের আড়িয়াল বিলের মত। চারদিক থেকে চেপে আসা জনবসতি হয়তো বেশ সময় নেবে পুরো বিলকে খেয়ে নিতে, রিয়েল এস্টেট দানবরা সময় নেবে কিছুটা কম। কিন্তু যদি এখানে বিমানবন্দর হয় তবে বিল নিশ্চিহ্ন হতে সময় নেবে না। বিমানবন্দরের অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তা সোজা চোখে দেখা যায় কিন্তু এই বিশাল জল মাহালের গুরুত্ব বুঝতে হলে প্রয়োজন গভীর দৃষ্টি আর শিক্ষার। প্রতি বছর যে বিশাল পরিমাণ জল ধারণ করে এই বিল তা এর চারপাশের বিস্তীর্ণ অববাহিকার পরিবেশ, জলস্তরকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই অঞ্চলের এমনকি ঢাকা শহরের মানুষের চাল, সব্জি, মাছের চাহিদা পূরণ করে আড়িয়াল বিল। এটি হারিয়ে গেলে মানুষেরই ক্ষতি হবে বেশি।

১৩৬ বর্গ কিলোমিটারের এই বিশাল সবুজ বিল ছড়িয়ে আছে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ ও দোহার, মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগরে। অতীতে এর নাম ছিল চুড়াইন বিল। পুরো বিলে আছে অসংখ্য পুকুর আর খাল। পুকুরগুলো ঘীরে থাকে নানা রকম গাছ, বর্ষায় যখন বিলের পানিতে সব সমান হয়ে যায় তখন গাছগুলো পুকুরের অস্তিত্ব ঘোষণা করে দাড়িয়ে থাকে। সারা বছরই এখানে দেখা মিলে বকের।

মানব বসতি থেকে পাখিরা দিনে দিনে বিদায় নিয়ে শেষ আশ্রয় হিসেবে বনগুলোতে টিকে আছে, তেমনি এই অঞ্চলে অনেক পরিচিত পাখি আর দেখা যায় না, কিন্তু আড়িয়াল বিলে গেলে তাদের কারো কারো দেখা মিলতে পারে।

উপরে নীল আকাশ, চারপাশে সবুজের দেয়াল, টলটলে জলে সাদা মেঘের প্রতিবিম্ব, তার মাঝ দিয়ে কখনো যদি নৌকায় করে ঘোরার সুযোগ হলে দেখবেন অনন্যসাধারণ দৃশ্য আর দিন শেষে সূর্যাস্ত। এখানে সেখানে জেলেরা পেতে রেখেছে মাছ ধরার ‘বেহাল’ (ভেসাল)। কেউ কেউ জাল দিয়ে মাছ ধরছে।

আর যখন পানি থাকে না, পুরো বিলেই হয় ধান চাষ। হেমন্তে ধান কাটা, কৃষকের মাথায় করে ধান নিয়ে যাওয়া, ধান মাড়াই, শুকানো এই দৃশ্য যেন এখন সময়ের ফসিল।

তুইতালের চৈত্রসংক্রান্তি মেলা

0

শীতের মওসুমে পুরো বাংলাদেশ জুড়ে নানা উপলক্ষ্যে ঐতিহ্যাবাহী গ্রাম্য মেলা হয়। কিন্তু বৈশাখী মেলা বিষয়টির প্রচলন থাকলেও তেমন একটা দেখা যায় না। পুরো দোহার ও নবাবগঞ্জের মধ্যে এই একটি মেলার খোজ পাওয়া যায়, নবাবগঞ্জের তুইতাল গ্রামে। কিন্তু এটি আসলে চৈত্রসংক্রান্তি মেলা। চৈত্র মাসের শেষ দিনকে কেন্দ্র করে এই মেলা বসে, অর্থাৎ বর্ষকে বরণ করতে নয়, পুরোনো বছরকে বিদায় দিতেই এই মেলা।

তুইতাল দূরবর্তী কিন্তু সুপরিচিত একটি গ্রাম। ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নে ইছামতির পাড় ঘেষে এর অবস্থান। শান্ত, মাঠ আর ছায়াঘেরা গ্রাম। এই গ্রামে নদীর পশ্চিম পাশে বেশ যায়গা নিয়ে চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহে বসে মেল, থাকে সপ্তাহ খানেক। পূর্বে তিন বা চারদিন হলেও এখন চাহিদার কারণে বেড়েছে ব্যপ্তি।

লেখা ও ছবি: পারভেজ রবিন

দোহারে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

ঢাকার দোহার উপজেলায় পদ্মা নদীতে ভাঙ্গন কবলিত ৮ শত ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে কুয়েত জয়েন্ট রিলিফ কমিটি বাংলাদেশ এর ব্যাবস্থাপনায়, জাকাত হাউজ কুয়েত এর অর্থায়নে এবং সোসাইটি ফর ইসলামিক ট্রেনিং সেন্টার বাংলাদেশ এর তত্বাবধানে ৩৫ কেজি করে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এছাড়া ২৫টি রিক্সা, ২৫টি ভ্যান গাড়ী ও ৫০ বান্ডেল ঢেউটিন বিতরণ করা হয়। বুধবার দুপুর ২টায় উপজেরলার মুকসদপুর ইউনিয়নের ধীতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এই ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) এ.আর খান। আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল করিম ভূইয়া, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, দোহার উপজেলার চেয়াম্যান মো. আলমগীর হোসেন, দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম প্রমূখ।

দোহারে উন্নয়ন মেলা ও ইন্টারনেট সপ্তাহ-২০১৫

ঢাকার দোহার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উন্নয়ন মেলা ও ইন্টারনেট সপ্তাহ-২০১৫ বুধবার দুপুর ১২ টায় উদ্ধোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল করিম ভূইয়া। আরো উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, দোহার উপজেলার নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন, দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম প্রমূখ। এ সময় অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। ইন্টারনেট মেলা দেখতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শত শত শিক্ষার্থী উপস্থিত হন।

এ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের লেখাপাড়া পাশা পাশি ইন্টানেটের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যত।

তিনি ভাঙ্গন কবলিত পরিবারদের উদ্দেশ্য করে বলেন, বর্তমান সকরারের আরেকটি সফল প্রকল্প হচ্ছে আশ্রয়ন প্রকল্প, এর মাধ্যমে বাস্তহারা মানুষ মাথা গোজার ঠাই পেয়েছে এবং নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। এ সময় বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড তুলে ধরেন।

ঢাকার দক্ষিণের বেশিরভাগ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী

অতি বৃষ্টি আর সংস্কারের অভাবে কেরানীগঞ্জ-নবাবগঞ্জ-দোহার সড়কের বেশিরভাগ অংশেরই বেহাল অবস্থা। প্রধান প্রধান সড়কগুলো গর্ত ও খানাখন্দে ভরা। ফলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। কয়েকটি সড়কে সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে যায়। এতে দুর্ভোগে এলাকাবাসী।

সরেজমিন দেখা গেছে, কেরানীগঞ্জ-নবাবগঞ্জ-দোহার সড়কের কার্তিকপুর, বাঁশতলা, চরকুশাই, নবাবগঞ্জ, বাগমারা, দীঘিরপার, বক্সনগর, কালিন্দির বামনকির্তা, রোহিতপুর বেড়িবাঁধ, রামেরকান্দা-কলাতিয়া, আটিবাজার-মালঞ্চ অংশে বড় বড় গর্ত। জিঞ্জিরা-নবাবগঞ্জ সড়কের লাকিরচর এলাকার অবস্থা খুবই নাজুক। খানাখন্দ থাকায় মাঝেমধ্যেই উল্টে যায় গাড়ি-রিকশা। বোরহানীবাগ খাল অবৈধভাবে ভরাটের কারণে পানি সরতে না পারায় মনু বেপারীর ঢাল থেকে বোরহানীবাগ পর্যন্ত রাস্তার বেহাল অবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর ফলে রাস্তাটি নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া গদাবাগ থেকে মইশাশুর কাঁচা রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে গেছে। ভাঙাচোরা ও ডুবে যাওয়া রাস্তায় ধীর গতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রায়ই অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

রামেরকান্দা থেকে কলাতিয়া সড়কে গত পাঁচ বছরে কমপক্ষে তিনবার কাজ হয়েও অবস্থার উন্নতি হয়নি। রাস্তাটির অন্তত শতাধিক স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার উন্নয়ন কাজে যে টাকা বরাদ্দ হয়েছে তার তিন ভাগের এক ভাগও ব্যবহার হয়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

বাসচালক সাইদুর রহমান বলেন, ঢাকা-দোহার-নবাবগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার ইট সরে যাওয়ায় সিএনজি, রিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ভাঙাচোরা রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রায়ই অকেজো হয়ে যাচ্ছে। এই রাস্তা দিয়ে আগের তুলনায় কম গাড়ি চলাচল করছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ের অতি বৃষ্টি, ড্রেনেজ লাইন না থাকা, সংস্কারের অভাব, অব্যবস্থাপনা ও ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তাগুলোর এমন অবস্থা হয়েছে। ড্রেনেজ লাইন না থাকায় বৃষ্টির পানি সরতে না পারায় সড়কে জমে থাকছে। এতে সহজেই রাস্তাগুলোতে ভাঙন ও গর্তের সৃষ্টি হয়। নিয়মিত তদারকি ও সংস্কারের অভাবে সামান্য ভাঙাচোরা রাস্তার অবস্থা পরে আরও খারাপ হচ্ছে। এ ছাড়াও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভারি মাল বহনকারী ট্রাক, অনুমোদনবিহীন বাস, লরি চলাচলে অনেক রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন খোদ কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জে রাস্তা রয়েছে ৬১৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ২৮৭ কিলোমিটার রাস্তা তদারকি করা হয়। বাকি রাস্তাগুলো দেখভাল করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং এলজিইডি।

উপজেলা প্রকৌশলী শাজাহান আলী বলেন, কেরানীগঞ্জে নতুন বেশ কিছু রাস্তা তৈরি হয়েছে। রাস্তাগুলোর উন্নয়নও হয়েছে বেশ। তবে সম্প্রতি অতি বৃষ্টি, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভারি যানবাহন চলাচলসহ বেশকিছু কারণে অনেক রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাৎসরিক মেইনটেন্যান্স ফান্ডের মাধ্যমে এগুলো মেরামতের ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

নবাবগঞ্জের একজন রাজনৈতিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সড়ক বিভাগের কাজগুলো করার সময় কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা হয় না। তার দাবি, এসব রাস্তা নির্মাণের সময় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও কাজের মান যাচাই করা উচিত। এটা করা হলে সরকারি খাতের অর্থও সাশ্রয় হবে।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী তারেক ইকবাল বলেন, জরুরি সংস্কারের আওতায় দ্রুত কাজ করার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কিছু রাস্তার কাজ বাকি রয়েছে। অনেক রাস্তার টেন্ডার হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।

কৃষকের ওপর হামলা, ৪ দিনেও মামলা নেয় নি পুলিশ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে মারবেল খেলায় ব্যাঘাত ঘটানোর জের ধরে কিছু দুর্বৃত্তের হামলায় হেলাল উদ্দিন (৫৫) নামে এক কৃষক গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলেও গত ৪ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত এক আসামিকে ধরে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার গেছে।

অভিযোগে জানা যায়, বাড়ির পার্শ্ববর্তী রাস্তায় মারবেল দিয়ে খেলছিল কিছু যুবক। পাশ দিয়ে কৃষক হেলাল উদ্দিন গরু নিয়ে পাশের পুকুরে গোসল করাতে যাচ্ছিলেন। এতে তাদের খেলায় ব্যাঘাত ঘটে বলে অভিযোগ করে। এসময় হেলাল উদ্দিনের সাথে যুবকদের কথা কাটাকাটি হয়। ক্ষুদ্ধ হয়ে ওই যুবকরা হেলাল উদ্দিনের বাড়িতে হামলা করে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী পারভিন বেগম ও মেয়ে হেলেনা আক্তারকে মারধর করে।

এ ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে স্থানীয়ভাবে মিমাংসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরো জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকালে টিকরপুর বাজারে দুধ বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলেন হেলাল উদ্দিন। এসময় আগলা পূর্বপাড়া গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা সিদ্দিক, ইদ্রিস, নয়ন, জাকির তার উপর হামলা চালায়। তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হেলাল উদ্দিনের মাথা, পিঠ, পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এবিষয়ে নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে পুলিশ জাকির হোসেন নামে একজনকে আটক করে পরে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কৃষক হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী পারভিন বেগম অভিযোগ করেন, মামলা দিতে থানায় গেলেও তারা বিভিন্ন তাল বাহানা করছেন। ঘটনার সাথে জড়িত জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হলেও আমাকে না জানিয়ে অজ্ঞাত কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা গরিব বলে কি বিচার পাব না?

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. সোহেল রানা বলেন, স্থানীয়ভাবে মিমাংসার মুচলেকায় বাদিকে জানিয়ে আসামি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

লক্ষীপ্রসাদে স্কুলছাত্রীর বিয়ের চেষ্টা: বাবা সহ আটক ২

ঢাকার দোহার উপজেলায় ৮ম শ্রেণীর স্কুলছাত্রীর বিয়ের প্রস্তুতিকালে কণের বাবা ও তার সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ। ভ্রাম্যমান আদালতে প্রত্যেককে ১০ দিনের কারাদন্ড।

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল করিম ভূইয়ার ভ্রাম্যমান আদালত এ কারাদন্ড প্রদান করেন।

ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার লক্ষিপ্রসাদ গ্রামের মুক্তার হোসেনের স্কুল পড়ুয়া মেয়ের (১৪) গায়ে হলুদের প্রস্তুতি চলছিল। সংবাদ পেয়ে দোহার থানা পুলিশ কণের বাবা ও তার সহযোগী নবাবগঞ্জের যন্ত্রাইল গ্রামের মো. ইয়াসিনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

বিকালে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে আদালত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের ৬ ধারায় প্রত্যেককে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

দোহার থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক মো. মোজাম্মেল জানান, শুক্রবার সকালে তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।

নবাবগঞ্জে মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশে দিলেন মা

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় নয়ন মিয়া (২৩) নামে মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন মা জোসনা বেগম। মাদকদ্রব্য আইনে ভ্রাম্যমান আদালত তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে।

নবাবগঞ্জ থানার এসআই কায়সার আহমেদ জানান, মঙ্গলবার বিকালে উপজেলা বক্সনগর ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামের জোসনা বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে পুত্র নয়নকে ২ পিস ই্য়াবাসহ আটক  করা হয়। পরে  ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্টেট আব্দুল কাদের মিয়া তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জোসনা বেগম  জানান, দীর্ঘদিন যাবত্ ছেলে নয়ন মাদকে আসক্ত। অনেক শাসন করার পরও ছেলেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। ইদানিং সে বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। মাদক কেনার জন্য টাকা না দিলে তাকে মারধর করে। মঙ্গলবার বিকালে মাদক কেনার টাকা চাইলে সে অপরাগতা জানালে নয়ন তার গলা চেপে ধরে। সে কোন রকম ছুটে থানা পুলিশকে জানায়। তাৎক্ষণিক পুলিশ নয়নকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

অপরদিকে উপজেলার পুরাতন বান্দুরা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে নুরুল ইসলাম নামে আরেক মাদকসেবীকে আটক করে পুলিশ। তাকেও একই আদালতে হাজির করে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়।