দোহারে গাছ পড়ে বিদ্যালয় ছাত্র গুরুত্বর আহত

দোহার উপজেলায় ঘাটা-২ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ কাটার সময় শিক্ষকের অবহেলায় দরুন দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মো. হাসান (৭) গুরুত্বর আহত। আহত মো. হাসানকে ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে আইসিউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। হাসান উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের বানাঘাটা গ্রামের জানে আলমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার ঘাটা-২ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিতে পুরাতন একাধিক মেহগিনি গাছ কাটার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর বেপারী শ্রমিক নিয়োগ করেন।

বিদ্যালয় টিফিন বিরতী চলাকালে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মো. হাসান সহ তার বন্ধুরা খেলতে খেলতে আকস্মিকভাবে একটি বড় মেহগিনি গাছ তার উপরে পড়ে। এতে গাছের নিচে সাইকেল সহ শিক্ষার্থী হাসান পড়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নূর ইসলাম ও ডা. ইয়াহিয়া মাহমুদ অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থীর পিতা জানে আলম জানান বিদ্যালয় চলাকালে প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা না ভেবে গাছ কাটলেন তা আমার বোধগম্য নয়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের দপ্তরি/গাছ ক্রেতা আক্তার হোসেন জানান, বিষয়টি একটি দুর্ঘটনা মাত্র। আমি প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের সভাপতির সাথে কথা বলে গাছ ক্রয় করেছি।

কার্তিকপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সমপনী পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান

ঢাকার দোহার উপজেলার কর্তিকপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমপনী-২০১৫-এর পরীক্ষার্থীদের বিদায় দিয়েছে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ। ১৮নভেম্বর বুধবার দুপুর ২টায় বিদ্যালয়ের নিজ মাঠে সমাপনী ছাত্রছাত্রীদের আয়োজনে এই বিদায় অনুষ্ঠান হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সাবেক দোহার উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ আনার কলি পুতুল।

সভায় বক্তারা ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়ার আহবান জানান। এ সময় বিদ্যালয়ের ১৫৬ জন শিক্ষার্থীর মাঝে পরীক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার। আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক সুরুজ আলম, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি এজাজ আহমেদ মন্টু, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা সেলিনা বেগম, মোশারফ হোসেন মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ হোসেন আজাদ, আবু সাঈদ মিয়া, ফরহাদ হোসেন, আব্দুল মালেক দোহারী, কাউছার মোল্লা প্রমূখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম মিয়া।

দোহার-নবাবগঞ্জে এসএসসি ফরম পূরণে অতিউচ্চ ফি আদায়ের অভিযোগ

ঢাকা জেলার দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতি উচ্চহারে ফি আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অমান্য করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ফি’র তিন থেকে চারগুণ বেশি টাকা আদায় করছে।

এতে করে ফরম পূরণে হিমশিম খাচ্ছে নিম্নধ্যবিত্ত ও গরিব ঘরের শিক্ষার্থীরা। অথচ হাইকোর্ট গতবছরও বোর্ড নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় না করতে সুয়োমোটো রুল জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি কয়েকটি বিদ্যালয় প্রধানকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করেছিলেন।

তখন অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধ হলেও এ বছর এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও সেই পুরনো অভিযোগ উঠেছে। দুই উপজেলার বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে খবর নিয়ে বোর্ড নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার খবর পাওয়া গেছে। এমন অভিযোগ করে কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবার এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে বোর্ড নির্ধারিত ফি ধরা হয়েছে বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ৪৪৫ টাকা আর মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ৩৫৫ টাকা। কিন্তু দুই উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে ফি আদায় করা হচ্ছে নির্ধারিত ফির কয়েকগুণ বেশি। সরেজমিনে ঘুড়েও এমন সত্যতা পাওয়া গেছে। দেখা গেছে উপজেলার প্রায় সকল বিদ্যালয়ে ৪ হাজার থেকে শুরু করে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করতে।

স্মৃতিতে উজ্জ্বল আজও তাহার মুখ (প্রয়াত সৈয়দ স্যার)

0

১৮ ই নভেম্বর ২০১৫। নয় বছর আগে ২০০৬ সালের এই দিন দোহার থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলী মিয়া (সৈয়দ মাস্টার) এ পৃথিবীর সব মায়া ছেড়ে হাজারও মানুষকে কাঁদিয়ে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে স্থায়ী বসবাসের জন চলে গেছে। স্যারের চলে যাওয়া আমার মনোজগতে সারা জীবনের পোস্টার হয়ে সেঁটে আছে। আমার সামনে এ পৃথিবীর সব কোলাহল অর্থহীন, সব আলো নিভে গিয়েছিল তখন। নিজের অজান্তেই চোখ ভিজে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল। ফোন করলে স্যার আগে জিজ্ঞেস করতেন কবে বাড়ী আসবি? আমি বলতাম কিছু দিনের মধ্যেই আসব। বাড়ী ঠিকই গিয়েছিলাম কিন্তু স্যারের মুখের বানী শোনতে পাই নাই। শুধু তার কবরের পানে তাকিয়ে থেকে দু’চোখের প্রান্ত থেকে ক’ফোঁটা অশ্রু ঝরাতে পেরেছি এ টুকুই শান্তনা।

স্যারের মৃত্যুতে আমি একজন নির্ভরযোগ্য অবিভাবক হারিয়েছি, একজন হিতাকাঙ্খী হারিয়েছি, সুখ-দুঃখের সান্তনা হারিয়েছি। যার কাছ থেকে নিজকে সংশোধনের অনেক উপকরণ পেয়েছি। তার হঠাৎ চলে যাওয়া তাই সহজেই মেনে নিতে পারি নি । কিন্তু বিধাতার বিধানের উপর তো কারো কিছু করার নেই। স্যারের চলে যাওয়ায় এমন কোনো সাধারণ মানুষ নেই, যিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন নি। কেউ কেঁদেছেন, কেউ কষ্ট বুকে বয়ে বেড়াচ্ছেন। অনেকেই মানসিক বিপর্যয়ের চূড়ান্ত সীমায় পৌছে গেছেন। মর্মান্তিক, দুঃখজনক, হতাশাব্যঞ্জক পরিবেশ চারপাশকে গুমোট করে রেখেছে দীর্ঘদিন।

যতদিন দেশে ছিলাম তাঁর কাছে এলে পাওয়া যেত বৃক্ষের ছায়া, পুষ্পের ছোঁয়া, অপত্য স্নেহমাখা হাসির ঝিলিকে প্রাণ হতো চঞ্চল, কথার জাদুমালা নিবিষ্ট শ্রোতায় পরিণত করত, জীবনের নানা বিষয়ে পাওয়া যেত সুপরামর্শ, বন্ধুর মতো হাত বাড়িয়ে পাড়ি দেওয়া যেত সাঁকো কিংবা মিলত অভিভাবকত্বের অসীম স্নেহাবিষ্ট মুখ। তিনি ছিলেন আত্মার আত্মীয়। আলোকের ঝর্ণা ধারায় ধুইয়ে দিতে চাইতেন সব অন্ধকার, কুসংস্কার আর অজ্ঞতা। সুদর্শন, সুশোভন সৈয়দ স্যারকে যতবারই দেখেছি, ততবারই নতুন করে প্রাণ পেয়েছি। স্বপ্ন দেখার সিঁড়ি শুধু খোঁজা নয়, তা সত্যি করার নিরলস প্রয়াস রেখেছেন সান্নিধ্যজনের জন্যও। তাঁর সান্নিধ্য জ্ঞানের পরিধি বাড়াত।

রাজনীতিতেও ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় অংশ গ্রহন করেছেন। সংগঠন করেছেন শান্তির জন্য। আড্ডা বা আলোচনায় নানা বিষয় এসে জড়ো হতো। বিশ্বপাঠশালার ছাত্রের মতো কত অজানাকে যে তুলে ধরতেন, কত অচেনাকে চেনাতেন, অভিজ্ঞতালব্ধ জীবনের বাঁকে বাঁকে রয়েছে নানা ঘটনার সারি। শিক্ষক সুলভতায় নয়, বন্ধুবৎসলতায় রেখেছেন নৈকট্যে; উদ্দীপ্ত করেছেন সৃষ্টিশীলতায় নিমগ্ন হতে। বয়স কখনো বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় নি বলেই সান্নিধ্যে, নৈকট্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংকোচ বা জড়তা এসে ধরা দিত না। বন্ধুর মতো, স্বজনের মতো দ্রবীভূত করে দিতেন তরুণ, অতি তরুণকেও। তারুণ্যের আবেগকে কখনো দমাতে চান নি, বরং তাদের সান্নিধ্য পেতে কখনো বেগ পেতে হতো না। ব্যক্তিজীবনের সমস্যা অকপটে বলা যেত, মিলে যেত সমাধানও। সব ধর্ম বর্ণ ও পেশার মানুষের সাথে মিশত অবলীলায়। মুক্তবুদ্ধির মানুষ বলেই মানুষ তাঁর কাছে পেত মর্যাদা। কর্মের মধ্যে যে মানুষের মুক্তি নিহিত আছে, সেই উপলব্ধিটুকুও তাঁরই সহজাত।

নির্ভীক শিক্ষক সৈয়দ স্যার আমাদের প্রাণাধিক প্রিয় সৈয়দ কাকা কখনো অমরত্বের সাধনা করেন নি। তাই তাঁর অনুপস্থিতি বড় বেশি বেদনার, বিষাদের। এমনই মানুষ ছিলেন তিনি, যাঁর সান্নিধ্য কখনো পরিণত হয়নি অভিমান, ভারবাহী কিংবা বিষাদে। বরং ব্যস্ত মানবের সান্নিধ্যের সময়টুকু কেড়ে নেওয়াও কম দুষ্কর ছিল না। তাঁর সান্নিধ্য, নৈকট্য এক গৌরবময় অধ্যায়, জীবনের পরমতম প্রাপ্তি। অভিভূত করে রেখেছিলেন আমাকে, যত দিন কাছে ও দূরে ছিলাম। আজ তিনি নেই কিন্তু তার উপস্থিতি যেন আমার সারা দেহ মন জুড়ে। দেশে থাকতে, যখন তিনি জীবিত ছিলেন কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হলে আমার ডাক পড়ত, কারণ আমার মোটর সাইকেলের পিছনে বসতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। তাকে নিয়ে রাজনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক প্রয়োজনে দোহার নবাবগঞ্জ থানার আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছি। বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রয়োজনে ফরিদপুরের সদরপুর ও চরভদ্রাসনে ছিল অবাধ বিচরণ।

একজন আদর্শবান, নির্লোভ, নির্মোহ ও নিরহংকার মানব ছিলেন সৈয়দ স্যার। ৯৬-এ দল ক্ষমতায় থাকতেও সভাপতি ছিলেন তিনি। তার পরিবারে কোথাও বিত্ত-বৈভব বিলাসিতার চিহ্ন নেই। তিনি সাধারণ আসবাবপত্রে অতি সাদামাঠা জীবনযাপন করতেন। তার আশে পাশে যারা ছিল তাদের বিরোদ্ধেও হাটবাজার দখল, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, অন্যের জমি দখল, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ছিল না। তাঁর জীবন ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজনীতিতেও পেয়েছিলেন ত্যাগী মানুষদের সংস্পর্শ।

বাঙালির জীবনযাপনের যে আবহ, সৈয়দ স্যার তাতেও ছিলেন একনিষ্ঠ। অতি নাগরিকতা তাঁকে টানে নি বলেই চিরায়ত বাংলার রূপটুকু ধরে রাখতে চেয়েছেন সব সময়। পদ্মার চরে নতুন পলি জমে উর্বর ধানি জমি তৈরী হলে সকল প্রভাবশালীদেরই নজর থাকে সেই চরের প্রতি কিন্তু তিনি প্রভাবশালী হওয়া সত্বেও কখনো প্রভাব বিস্তার করেন নি। নিজে উপস্থিত থেকে যার যার প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতেন। গ্রামীণ জীবন, সমাজ ও মানুষের প্রতি মমত্ববোধের তীব্রতা ধরা পড়ত তাঁর কথা ও কর্মে। সব মতামতকেই গুরুত্ব দিতেন। নিজস্ব মতামত কখনো চাপিয়ে দিতেন না। তবে তাঁর যুক্তি এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়াত যে তাঁর মতামতটিই হতো সঠিক। আধুনিক, রুচিমান ও বিশুদ্ধ মানবের প্রতিকৃতি মিলত তাঁরই মধ্যে।

নিষ্ঠা তাঁকে শিখরে পৌঁছিয়েছে। নানা বিষয়ে আগ্রহ, দূরদর্শিতা এসবই অনুপ্রাণিত করত সান্নিধ্যজনকে। মুক্তবুদ্ধি, মুক্তচিন্তা, মানবকল্যাণ ধারণ করে সম্পন্ন মানবে পরিণত সৈয়দ স্যার যে আলোকবর্তিকা জ্বালিয়ে গেছেন, তাঁর অবর্তমানে তা প্রজ্বালিত রাখার দুরূহ দায়িত্ব অবলীলায় বর্তে গেছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। যতদিন বেঁচেছিলেন নিজ বিদ্যালয় জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস এবং নিজ বাড়ীর আঙ্গিনা আম তলায় বসে কাটাতেন অবসরের সময়টুকু। এই আমতলায় বসেই দোহার থানার জনসাধারনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতেন।

তিনি ছিলেন একরোখা যা বলতেন তা করতে কখনো পিছ পা হতেন না। তার দৃঢ়তা যত দেখছি ততবারই মুগ্ধ হয়েছি। আমার রাজনৈতিক জীবনের অধিকাংশ সময়ই কেটেছে সৈয়দ স্যারের স্নেহের সানিধ্যে। তাই তার স্নেহ মাখা হাতের ষ্পর্শ এখনও অনুভব করি এই প্রবাসে। অনেক সময় আমার কাছে প্রশ্ন করে বিভিন্ন ব্যাপারে মতামতও জানতে চাইতেন। স্যারের সাথে ভ্রমণকালে সফরসঙ্গী হিসেবে দেখেছি মোহমুগ্ধতায় তাঁকে প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে। সবাইকে আপন করে নেবার একটা অসসম্ভব শক্তি ছিল তার ভিতর।

১৯৪৫ সালের ১ লা জুলাই জন্ম নেওয়া অকুতোভয় সৈয়দ স্যার অপত্যস্নেহ আর ভালোবাসায় সিক্ত করে গেছেন স্বজন, অনুরাগী ও গুণমুগ্ধদের। সাধারন মানুষের প্রতি ছিল তাঁর তীব্র টান। তার সাথে বিভিন্ন সময় ভ্রমণের সঙ্গী হিসেবে দেখেছি, যেখানেই যেতেন সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির খোজ খবরের পাশাপাশি সাধারন মানুষের খোঁজও নিতেন। আধুনিকতায় এবং বাঙালিয়ানায় সমৃদ্ধ মানুষটি আমাদের অন্তরাত্মায় গভীরভাবে ঠাঁই করে নিয়েছেন। ২০০৬ সালের ১৮ নভেম্বর তিনি নশ্বর পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও আমাদের নিত্যদিনের জীবনে পাথেয় হয়েই থাকবেন।

সীমার মাঝে অসীম হয়ে সৈয়দ স্যার বেঁচে থাকবেন তাঁর শ্রম ও কর্মের ফসলে। মৃত্যুও কখনও কখনও পরাজিত হয় বিশেষ করে যখন মানুষ মৃত্যুর পরও উজ্জ্বল থাকে, দীপ্যমান থাকে। তিনি মৃত্যুকে হারিয়েছেন। তার কর্মময় জীবন, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, অতুলনীয় জীবনবোধ মৃত্যুকে পরাজিত করে আজো জ্বলজ্বল করছে দোহারের মানুষের কাছে। তিনি ছিলেন এবং থাকবেন। তাই তো তার মৃত্যু একটা শারীরিক বিচ্ছেদ মাত্র, তার ভালোবাসার উত্তরাধিকারদের কাছে এর চেয়ে আর কিছুই নয়। আগামী দিনগুলোয় আরও বেশি অনুভূত হবে তার শূন্যতা। তার শূন্যতা পূরণের দায়িত্ব এখন তারই যোগ্য উত্তরসুরী তারই মতো সৎ আদর্শের প্রতীক সাজ্জাদ হোসেন সুরুজের উপর। তার অসমাপ্ত কাজ তাকেই পুরন করতে হবে। তাই আসছে দোহার পৌরসভা নিবাচনে প্রাথী হবার মনস্থির করেছেন। সৈয়দ স্যারের চলে যাওয়া যেন একটি ইতিহাসের চলে যাওয়া। একজন চিরউদ্যমী, সৎসাহসী, গণমানুষের বন্ধু, যুক্তিবাদী, মানবপ্রেমী ও মেধাবী সৃজনশীল চেতনাবোধের স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে সৈয়দ স্যার ছিলেন একজন বড়মাপের মানবতাবাদী, উদাররাজনৈতিক ও প্রগতিবাদী দেশপ্রেমিক মানুষ। তিনি যেমন ছিলেন রাজনৈতিক সচেতন তেমনি ছিলেন দোহারের মাটি ও মানুষের প্রতি যত্মশীল দায়িত্বসম্পন্ন। দোহারের জনগনকে ভালোবাসতেন অকৃত্রিম আত্মত্যাগী আদর্শিক নিষ্ঠায়। তিনি চলে গেলেও তাকে দোহারের জনগন মনে রেখেছে আপন মহিমায়। তিনি আমার তথা দোহারের গনমানুষের হৃদয়ের পটভূমির লাল সূর্যটির মতো জ্বলজ্বলে সূর্য হয়ে জেগে থাকবেন দোহারের পথে-প্রান্তরে আর আমার মনোমন্দিরের বিশাল ক্যানভাস জুড়ে। আজ দোহারের রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার বড় বেশি প্রয়োজন ছিল।

লেখক:
হামিদুর রহমান পলাশ
সাবেক ছাত্রনেতা
যুগ্ন আহ্ববায়হ, দোহার পৌরসভা কৃষকলীগ।

নবাবগঞ্জে ৫ জন গ্রেফতার

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের শাহাজাতপুরে অভিযান চালিয়ে পাঁচজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হল—শাহাজাতপুর গ্রামের বলাই সন্ন্যাসীর স্ত্রী ঊষা সন্ন্যাসী, তার ছেলে সুজন সন্ন্যাসী, মেয়ে রিনা সন্ন্যাসী, মেঘলাল বেপারীর পুত্র সুশান্ত বেপারী এবং ফালান সন্ন্যাসীর পুত্র নিতাই সন্ন্যাসী।

জানা যায়, একটি মারামারি মামলায় পলাতক ছিল আসামিরা। ফলে তাদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়। গত রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। সোমবার দুপুরে আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয় বলে জানান নবাবগঞ্জ থানার ওসি সায়েদুর রহমান।

নবাবগঞ্জে আওয়ামী লীগের হরতাল বিরোধী মিছিল

নবাবগঞ্জ উপজেলায় হরতালবিরোধী মিছিল ও পথসভা করেছে নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অংঙ্গ সংগঠন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিল বের করে থানা ফটক ঘুরে বাগমারা কোর্ট বিল্ডিং পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে। পরে ফিরে এসে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পথসভা করে।

এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিন। এ সময় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আলহাজ্ব মো. ইব্রাহীম খলিল, আওয়ামীলীগ নেতা শাহিন খান, জালাল উদ্দিন রুমি, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক পত্তনদার মো. রাকিব, ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রনি প্রমুখ।

দোহারে ওলামা লীগের আনন্দ মিছিল ও মিস্টি বিতরন

জামায়াতের শীর্ষ নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপি. নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর যুদ্ধাপরাধ মামলায় ফাঁসির রায় বহালের ঘোষণার পর জয়পাড়ায় আনন্দ মিছিল এবং মিস্টি বিতরন করেছে দোহার উপজেলা আওয়ামী ওলামা লীগ। বুধবার বিকাল ৪:৩০ ঘটিকায় মিছিলটি থানার মোর থেকে শুরু হয়ে রতন স্বাধীনতা চত্তরে এক সংক্ষিপ্ত  সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সেখানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা আওয়ামী ওলামালীগের সভাপতি আতিকুর রহমান ফনু,দোহার থানা আওয়ামী ওলামালীগের সভাপতি মো:হারুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা ওলামালীগের অন্যান্য নেত্বীবৃন্দ। পরে মিস্টি বিতরনের মাধ্যমে মিছিলটি শেষ হয়।

দোহারে জাতীয় কৃষক সমিতির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

ঢাকা দোহার উপজেলায় জাতীয় কৃষক সমিতির আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয় কৃষক সমিতির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। কৃষক সমিতির মূল উদ্দেশ্য হলো এই কমিটিকে সাংগঠনিক দিক থেকে দলকে শক্তিশালী করা। এবং আগামী ২০১৬ সালের জানুয়ারী ৩০,৩১ তারিখে ৬ষ্ঠ সম্মেলনকে সার্থক  করাই মূল লক্ষ্য।এর জন্য দলটি অবিরাম কাজ করে চলছে। শুধু দোহার উপজেলায় শেষ নয় নবাবগঞ্জ-কেরানীগঞ্জ-মানিকগঞ্জের একাংশ এবং ঢাকা বিভাগীয় ভাবে চলছে এর প্রস্তুতি সভা।

গত ১৭ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকালে  উপজেলা মাহামুদপুর  ইউনিয়নের মাহামুদপুর গ্রামের শেখ হাকিমের বাড়ির নিজ পালানে  এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এই সময়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড করম আলির সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন  ঢাকা জেলা ওয়ার্কার্স পাটির আহ্বায়ক কমরেড সাইদ।

এ সময় সাধারন সম্পাদক আজাহাররুল হক তিনি দলের কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, স্বাধীনতা সময়কাল থেকে আজ পর্যন্ত কৃষকের উৎপাদন বাড়ছে ০৩ গুন কিন্তু সে হারে বাড়ছে না কৃষকের জমি এই দিকে যেন কারও দৃষ্টি নেই তবে আমাদের এই অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না।এইদিকে কৃষক ধান,গম,চা, ভুট্টা, তামাক,পাট,ও সবজি চাষে যার বাৎসরিক আয় করে ১৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমে মাথায় ঘাম পায়ে ফেলে এই যে অর্থ বয়ে আনে দেশের জন্য তার খবর কি কেউ রাখে কিন্তু দু:খ জনক হলেও সত্যি তারা সমাজের কাছে আজ অবহেলিত এমনকি খোদ সরকারের সু-নজর থেকে বঞ্চিত তারা অথচ তাদের জন্যই এই চির সবুজ বাংলাদেশ।তাই তিনি সকল নেতাকর্মীকে এই দেশ এবং দেশের অবহেলিত মানুষের পাশে সবত্র থাকার আহ্বান জানান।

এ সময়ে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা জেলার ওয়ার্কাস পাটির সভাপতি আব্দুল বারেক কৃষক সমিতির প্রস্তুতি কমিটির  আহ্বায়ক আসলাম উদ্দিন খান, নবাবগজ উপজেলার সাধারন সম্পাদক জলিল মিয়া,পীর শাহ মো:আসাদুল্লা,নাশির উদ্দিন পল্লব এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের বিভিন্ন অংগসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

জিএস সেন্টু গ্রেফতার

দোহার উপজেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক জিএস সেন্টু ভুঁইয়াকে গ্রেফতার করেছে দোহার থানা পুলিশ। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে জয়পাড়া থেকে গ্রেফতার করে দোহার থানা পুলিশ।

যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে এই বিএনপি নেতা আটক হন। তাকে পুরাতন নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে দোহার থানা পুলিশ।

বাহ্রা-অরঙ্গাবাদ বাঁধে ২১৭ দশমিক ৬২ কোটি টাকার প্রকল্প

পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, পদ্মার ভাঙন থেকে দোহার উপজেলা রক্ষায় ২১৭ দশমিক ৬২ কোটি টাকা ব্যয়সংবলিত একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। ১০ নভেম্বর দোহারের আওরঙ্গাবাদ থেকে বাহ্রা বাজারঘাট পর্যন্ত পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণমূলক কাজ- শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের সংস্থান রয়েছে। এর বাস্তবায়ন মেয়াদকাল নভেম্বর ২০১৫ থেকে জুন ২০১৮। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ জিওবির অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।

পানিসম্পদমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দোহার উপজেলার আওরঙ্গাবাদ, দোয়াইর, ব্রাহা বাজারঘাট ও ঢাকা দক্ষিণ-পশ্চিম বাঁধ কাম রাস্তাসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে ১৬ দশমিক ৬৯ কোটি টাকা ব্যয়সংবলিত নবাবগঞ্জ উপজেলাধীন তুলসীখালী, মালিকান্দা, মেলেং ও পাতিলঝাঁপ বাজার এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ- শীর্ষক একটি প্রকল্প ২০১৪ সালের জুনে শেষ হয়েছে। এ প্রকল্পের অধীনে ১ দশমিক ৩৯৯ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে ওই এলাকা নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।