দোহারে আওয়ামী লীগের আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরন

গত ২২শে নভেম্বর রোববার বিকালে দোহার উপজেলার রতন স্বাধীনতা চত্তরে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় বিএনপি শীর্ষ নেতা সালাউদ্দিন কাদের(সাঁকা)চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাসিঁর দন্ড কার্যকারী হওয়াতে উপজেলা আওয়ামীলীগ আনন্দ মিছিলের আয়োজন করে।

বিকালে একটি মিছিল বের হয় মিছিলটি থানার মোড় হয়ে রতন চত্বরে এসে শেষ হয় ।এসময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মো.আলমগীর হোসেন এর সভাপতিত্বে তিনি বলেন দেশ এখন কলংক মুক্ত হয়েছে। কেননা জাতি এরকম একটি বিচারে অপেকখায় ছিল দীর্ঘদিন তা এখন বাস্তবে পরিনত হওয়া সবাই আনন্দিত।

এই সময়ে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারন-সম্পাদক ফজলুল হক,দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল,সাধারন সম্পাদক আলী আহসান খোকন,ঢাকা জেলা মহিলা লীগের সহ-সভাপতি আনার কলি পুতুল,দোহার উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলমাছ উদ্দিন প্রমুখ।পরে মিষ্টি বিতরনের মাধ্যমে মিছিলটি শেষ হয়।

স্মৃতির আড়ালে নবাবগঞ্জের সন্তান অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক

0

কেউ তাকে বলেন বাংলার সক্রেটিস, কেউবা বলেন চলমান বিশ্বকোষ। তিনি হলেন অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক । তিনি শিক্ষকের শিক্ষক, দার্শনিকদের দার্শনিক। অর্থনীতি, রাজনীতি, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস, বিজ্ঞান, ধর্ম সব বিষয়েই তার অগাধ পান্ডিত্য ছিল। পল্লীবাংলার আলোছায়ায় বেড়ে ওঠা একটি বিদগ্ধ প-িত খুবই সাদাসিধে জীবনযাপন করেছেন, বাঙালিয়ানা ছেড়ে কখনও সাহেব হওয়ার প্রবণতা তার মধ্যে ছিল না।

অসংখ্য মানুষ তার সানি্নধ্যে এসে আলোকিত হয়েছেন, তার কাছে লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। কিন্তু নিজে কিছুই লিখে যাননি। কিন্তু তাকে নিয়ে লেখা হয়েছে অনেক। কিংবদন্তিতুল্য এ মনীষীর আজ মৃত্যুদিবস। ১৯৯৯ সালের ২৮ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক ১৯১৪ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার পারাগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আবদুল আলি একজন পুলিশ অফিসার ছিলেন। তিনি ঢাকার মুসলিম সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন।

১৯৩১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৩৬ সালে তিনি প্রথম শ্রেণীতে স্নাতকোত্তর পাস করেন এবং সেই বছর একজন প্রভাষক হিসেবে ওই বিভাগে যোগদান করেন। পরবর্তী সময় বিভাগটি ভেঙে গেলে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে যোগদান করেন। তিনি অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগেও পড়াতেন।

তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স এঅধ্যাপক হ্যারল্ড লাস্কির অধীনে পিএইচডি করতে লন্ডন গমন করেন। কয়েক বছর কাজ করার পর লাস্কি পরলোকগমন করায় তার থিসিস মূল্যায়ন করার মতো কেউ নেই এ বিবেচনায় তিনি থিসিস জমা না দিয়েই অর্থাৎ কোনো ডিগ্রি ছাড়াই দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি একজন সিনিয়র প্রভাষক হিসেবে এ বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

ব্যক্তি জীবনে আবদুর রাজ্জাক একজন অকৃতদার মানুষ ছিলেন। তিনি সবাইকে জ্ঞানের কথা বলে আকৃষ্ট করতেন। এটা ছিল তার একটা বিশেষ গুণ। খুব ভালো রান্না করতে পারতেন। নিজেই বাজার করতেন। ছিলেন তুখোড় দাবারু।

বেশিরভাগ সময়ই পড়াশোনায় নিমগ্ন থাকতেন। তার বইয়ের অভাব ছিল না। কারণ বিপুল বইয়ের এক সংগ্রহ তিনি গড়ে তুলেছিলেন। অন্যদের পড়ার জন্য নিজের লাইব্রেরি থেকে বই বের করে দিতেন। লাইব্রেরিটার কোনো ক্যাটালগ হয়নি। তবু কোন বই কোনখানে আছে, সেটা তিনি জানতেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ছিল তার গভীর উচ্চাশা। তাই ভালো শিক্ষক সংগ্রহ করা হয়ে উঠেছিল তার কাজের অন্যতম অংশ। তিনি খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন। বাসায় তিনি লুঙ্গির সঙ্গে শার্ট পরতেন। গামছা ব্যবহার করতেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাজামা-পাঞ্জাবি পরে আসতেন।

অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক অল্প কিছু প্রবন্ধ ছাড়া কিছুই রচনা না করলেও তার অসাধারণ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার কারণে কিংবদন্তির খ্যাতি অর্জন করেন। আহমদ ছফা তাকে নিয়ে ‘যদ্যপি আমার গুরু’ নামে একটি বই রচনা করেছেন। এছাড়া সরদার ফজলুল করিম তার সঙ্গে আলাপচারিতার ওপর ভিত্তি করে একটি বই লিখেছেন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ববঙ্গীয় সমাজ : অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের আলাপচারিতা।’ সলিমুল্লাহ খান তার বক্তৃতা নিয়ে সমালোচনামূলক একটি বই লিখেছেন। তার ‘বাংলাদেশ : জাতির অবস্থা’ বক্তৃতাটি বাঙালি জাতির সত্তার আত্মানুসন্ধানীর অনন্য পাঠ হিসেবে বিবেচনাযোগ্য।

সম্প্রতি তার পিএইচডি থিসিস “Political Parties in India” নামে প্রকাশিত হয়েছে।

১৯৭৩ সালের প্রথমদিকে ভারতের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে পিএইচডি প্রদান করে। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে মনোনীত করে।

নবাবগঞ্জে সাকা-মুজাহিদের ফাঁসি হওয়ায় মিষ্টি বিতরণ

নবাবগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদ কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী সালাহউদ্দিন কাদের(সাকা) চৌধুরী ও আলবদর নেতা জামায়েত ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় মিষ্টি বিতরণ করেছে।

আজ রোববার দুপুরে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদের নবাবগঞ্জ কার্যালয়ে দেশের দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধারা আনন্দ উল্লাসের মাধ্যমে একে অপরকে মিষ্টি খাওয়ায় ও আনন্দ প্রকাশ করে জনসাধারণের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোশারফ হোসেন (দিলু), শাজাহান চুন্নু, আবুল হোসেন মোড়ল, আব্দুল বাছেত, আলা উদ্দিন, জিন্নত আলী, সামসুল হক, রজ্জব খান বাদল, ইফতেখার হোসেন প্রমূখ।

নবাবগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় হামলায় আহত

নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘঠনাকে কেন্দ্র করে হরিস্কুল গ্রামের মৃত-রশিক কির্তনীয়া ছেলে শ্রী সুকুমার কির্তনীয়ার উপর হামলা চালিয়েছে স্থানীয় রনজিত কির্তনীয়া, নিমাই কির্তনীয়া, প্রসেনজিত কির্তনীয়া, মহারাজ কির্তনীয়াসহ বেশ কয়েক জন।

এলাকাবাসী জানায়, গত ১৭ ই নবেম্বর দুপুরে সুকুমার কির্তনীয়া হরিস্কুল বাজার থেকে তার বাড়িতে যাওয়ার সময় সুবর্না মেম্বারের বাড়ির কাছে রাস্তায় সে কিছু বুঝে উঠার আগেই হঠাৎ পেছন থেকে কিছু লোকজন তার উপর হামলা করে এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার চিৎকার শুনে এসময় স্থানীয় অধিবাসীরা এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। পরে সুকুমারের স্বজনরা তাকে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে স্বজনরা জানান।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানা একটি অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান সুকুমারের স্বজনরা।

নবাবগঞ্জে সুগন্ধি কালিজিরা ধানের বাম্পার ফলন

নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়নে ৪২টি কৃষি ব্লকে আমন মৌসুমে সুগন্ধি কালিজিরা, ব্রি-ধান ৪৯ ও বি-আর ১১ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৪৫ হেক্টর জমি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪০ হেক্টর বেশি ২৮৫ হেক্টর ধানের আবাদ হয়।

শোল্লা ইউনিয়নের সিংহড়া গ্রামে চাষী আবদুস সালাম জানান, এবছর বি-আর ১১ ধান রোপন করে বিঘা প্রতি ১৭ মণ করে ধান পেয়েছেন।

কান্দামাত্রা গ্রামের চাষী স্বপন কুমার মজুমদার জানান, ‘এবার সুগন্ধি কালিজিরা ধান রোপন করি। বেশ ভাল ফলন হয়েছে। আশাকরি প্রতি বিঘায় ৮ মণ করে উৎপাদন হবে।’

বাহ্রা ইউনিয়নের চাষী ইমান আলী বলেন, এবছর তার প্রতি বিঘা জমিতে ১৪ মন করে ব্রি-ধান ৪৯ উৎপাদন হয়েছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কাজী মো. ইসমাইল বলেন, বর্তমান সরকার কৃষক ও কৃষির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন এগিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল আমীন বলেন, উপজেলার ৪২টি কৃষি ব্লকে কর্মরত ৩৭ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ এবং কৃষকের পরিশ্রমের ফলে এ সাফল্য এসেছে।

দোহারের রাজনীতি: অনেক নেতারই রাজনৈতিক দিক্ষা গুরু সাজ্জাদ সুরুজ

রাজনীতি এক রহস্যময় অভিযাত্রা। রাজনীতির দাড়িপাল্লায় কে কখন বড় হয়, হারিয়ে যায়, ফিরে আসে বলা কঠিন। রাজনীতিতে উত্থান-পতন, ভাঙা-গড়া আছেই। এতে ধৈর্য হারালে চলবে না। যারা ধৈর্য হারায় তারা হেরে যায়। যারা টিকে থাকে তাদের আদর্শের পরিবর্তন হয় না। সে আদর্শ হলো মাটি ও মানুষের কাছে থাকা।নতুনরা দলে আসবে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে এতে দোষের কিছু নেই এটা স্বাভাবিক। তারুণ্যের শক্তি আর প্রবীণদের অভিজ্ঞতা মিলে দল এগিয়ে যাবে। কারণ তারুণ্য হলো অফুরন্ত শক্তি। দল থেকে কাউকে বাদ দেয়া নয়। শুধু দায়িত্বের পরিবর্তন। রাজনীতি মানে দেশকে ভালবাসা, দেশের মানুষকে ভালবাসা, সমাজকে ভালবাসা,সমাজের উন্নয়নে সর্বদা নিজকে নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করা, রাজনীতি মানে দেশের উন্নয়ন’। সব ধরনের প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করা। সম্ভাবনাময় তরুন প্রজন্মকে রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ করানোর লক্ষ্যে তাদের সাথে মতবিনিময় করা। মানুষকে সম্মান করা, অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেওয়া, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা।সমাজ জীবনের প্রতিটি স্তরেই আসলে মানুষের নেতৃত্বের প্রয়োজন। ব্যক্তিগত জীবনে নিজেকে পরিচালনার ক্ষেত্রে সুচিন্তা ও সুপরিকল্পনা এবং আত্মবিশ্বাস ও নিয়ম-শৃংখলা মেনে চলাটা জরুরি। এসব অনুশীলনের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি যত কৃতকার্য সে ব্যক্তি জীবনে তত সফল। অর্থাৎ, এসব গুণাবলী অর্জনের মধ্যদিয়ে ব্যক্তিচিত্তে নেতৃত্বেরই দক্ষতা সঞ্চারিত হয়। যা তাকে পারিবারিক জীবনেও সফলভাবে পরিবার পরিচালনার ক্ষমতা জোগায়। এ যুগে নেতৃত্বের প্রধান সংকট হচ্ছে এর গুণগত মানের মধ্যে। অর্থাৎ, বর্তমান যুগে গুণগত মানসম্পন্ন নেতৃত্বই খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কেমন যেন মধ্যমানের নেতৃত্বেরই সরব পদচারণা সব ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে দোহার থানাও পিছিযে নেই।বর্তমানে দোহারের নেতৃত্ব বা নেতাদের কাছ থেকে এসময় জনগন পরিপূর্ণভাবে যা দাবি করে এ সকল নেতা-নেত্রী তা খুব কমই পূরণ করতে সক্ষম। এই মধ্যমানতা আসলে বুদ্ধিবৃত্তিক দীনতাকেই অনেকটা প্রকট করে মেলে ধরে। আমরা আমাদের নেতাদের সম্পর্কে যত বেশি জানি বা ওয়াকিবহাল থাকি তার চেয়ে অনেক অনেক কম বুঝি বা জানি তার নেতৃত্বের দক্ষতার বিষয়ে। সত্যি বলতে, আজকের এই আধুনিক যুগের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ যে নেতৃত্ব সেই বিষয়ক মৌলিক ধারণাটাই আমাদের নেই। তাই কাকে বলে যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব কিংবা কি ধরনের নেতৃত্বকে প্রতিষ্ঠিত করা উচিত বা প্রত্যাখ্যান করা উচিত এ বিষয়ে কোন নির্দিষ্ট মান আমাদের জানা নেই।

কামরুল হুদার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া দোহার উপজেলার উপনির্বাচনের প্রার্থী নিয়ে কথা হল সুরুজ ভাইয়ের সৃষ্টি দোহার উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আবদুর রহমান আকন্দ এর সাথে। তার মতে দুর্ভাগ্য আমাদের নেতারা অনেক সময় নিশ্চিত পরাজিত প্রার্থীর সন্ধান করে। তারা চায় প্রার্থীর পরাজয়ের গ্যারান্টি আছে নাকি। ৩০ বছর রাজনীতি করবো আমরা আর হঠাৎ নতুন একজন আসবে,এটা রাজনীতির জন্য শুভ নয়। গত উপজেলা নির্বাচনে নেতাদের কেন্দ্রের ফলাফল দেখলেই বিষয়টি পরিস্কার। দোহারে নতুন প্রজন্মের একটি বিদ্রোহ দরকার। নেতা তৈরির কারিগর খ্যাত দোহার থানা ছাত্রলীগর সাবেক সভাপতি তরুন আওয়ামীলিক নেতা দোহারের রাজনীতিতে সাজ্জাদ হোসেন সুরুজকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। তিনি দোহার থানার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। দোহার থানার এক গর্বিত সন্তান। একজন সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে অনেক নেতা সৃষ্টি করেছেন। রাজনীতির মাঠ যার ধ্যান জ্ঞান ও জীবন-মরণ। আমরণ যিনি রাজপথে থেকেই জীবনের সমাপ্তি ঘটাতে চান। নিঃসন্দেহে দোহারের রাজনীতির আকাশে তিনি একজন উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। শক্তি আর মেধার সমন্বয়ে তিনি সব সময় নেতা তৈরী করতেন। বাস্তব প্রমান আলমাছ – রহমান জুটি, সালাউদ্দিন -সেন্টু জুটি, হারুন – পলাশ জুটি হাবিব – আবুল জুটি সহ আরো অনেক। জয়পাড়া কলেজের সাবেক ভিপি আলমাছ। পদ্মার কুলঘেষা বিলাশপুর ইউনিয়ন (সাবেক মোহাম্মদপুর) এর হাজার বিঘার মধ্যভিত্ত পরিবারের মধ্যম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। এক সঙ্গে বিলাশপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তাম। যে ছিল আমার এক বছরের সিনিয়র। পরবর্তীকালে আমার ক্লাশমেট। বি.এন.পি পরিবারের সন্তান হওয়ার পরও তাকে নিজ হাতে রাজনীতির পাঠ শিখিয়ে সফল ছাত্রনেতা থেকে বি.এন.পি শাসনামলে অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে ভিপি নির্বাচিত করেছিল। তাকে ভিপি বানাতে তৎকালীন ছাত্রদল নেতা জি.এস মনোনয়ন চেয়ে না পেয়ে দোহার থানার জয়পাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বর্তমান দোহার পৌরসভার চেয়ারম্যান আবদুর রহিম মিয়ার নির্দেশে বর্তমান পৌর কমিশনার আদিল উদ্দিন শিকদার, দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর যাকে পরবর্তীতে ক্রোশ জাহাঙ্গীর বলা হতো তাদের কৌশলে আলমাছে – রহমান – বুলেট পরিষদের পক্ষে ব্যবহার করে আলমাছ সহ জি.এস রহমান আল-আমিন বাজারের বুলেট কে এ.জি.এস নির্বাচিত করা হয়। এদের নির্বাচিত করতে সহায়তা করার কারনে জাহাঙ্গীরকে তৎকালীন ছাত্রদলের পরাজিত ভি.পি’র সমর্থক সাবেক ভি.পি নওয়াবের ছোট ভাই বি.এন.পি সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহাম্মদের মেয়ের জামাই সানু পিছনে ঘুর দিয়ে ক্রোশ চিহ্ন মারে। সেই আলমাছ ভিপি নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পরই জয়পাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন এর ইন্দনে স্রষ্টাকে ভুলে যায়। রহমানকে বলা হয়েছিল আলমাছকে ছেড়ে না যাবার জন্য জি.এস রহমান নিজের সন্মান রক্ষার জন্য ইটালী চলে যায়। কিন্তু এখনও আলমাছকে ছেড়ে যায়নি। এ.জি.এস বুলেট আপন খালাত ভাই বাদল, হাবিব এর সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে সেও ইটালী প্রবাসী হয়। আলমাছ এর বিরোধীতার কারনে নতুন করে ভাবতে হয় সাজ্জাদ হোসেন সুরুজকে আলমাছ রহমানের শূন্যস্থান পূরন করতে আমাদের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। আলমাছের বিভিন্ন বির্তকিত কর্মকান্ড প্রতিহত করতে আমাদের ছোট একটি নিজস্ববলয় গঠন করে ধীরে ধীরে আমাদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত থাকে। কারন আলমাছ ঐ সময় দোহারে পরিচিত ছিল সুরুজের ভাতিজা হিসাবে। তার অপকর্মের দায়ভার সুরুজের উপর এসে পড়ত। আমাদের এই ছোট নিজস্ব বলয়ের সদস্য ছিল এগারজন হারুন, পলাশ, জুলহাস, আনোয়ার, সালাউদ্দিন, সেন্টু, মাইনুদ্দিন, কুদ্দছ, সোরহাব, হাকিম ও নবী হোসেন। আমাদের বলা হতো ওরা এগারজন। আজ এরাও বিভিন্ন ভাবে যার যার অবস্থানে আছে। সৃষ্টি যদি স্রষ্টাকে স্বীকার করে তাহলেই শ্রষ্টার সৃষ্টির সার্থকতা।আলমাছ তার রাজনৈতিক শ্রষ্টাকে মনে রেখেছেন কিনা জানিনা তবে রহমান তার রাজনৈতিক শ্রষ্টাকে ভুলে যায়নি। রহমান তার নিজের প্রয়োজনে এখনও মনে রেখেছে। তাইতো গর্বভরে বলতে পারে “অবশ্যই তাকে এখনও অনেক শ্রদ্ধা করি।এই পর্যন্ত এসেছি তার শিক্ষা থেকে”। শুনে আমার মনটা ভরে গেল।

সাজ্জাদ হোসেন সুরুজ কোন পদে না থাকলেও তার আর দুঃখ থাকার কথা নয় কারন তার রাজনৈতিক কারখানা থেকে সৃষ্টিরা এখন বড় বড় পদে আছে। কেউ কেউ পৌর নির্বাচনে প্রার্থী হতে মাঠে যোগ্যতার পরীক্ষায় প্রচার চালাচ্ছে। আগামী পৌরসভা নিবাচনে দলীয় প্রার্থীর ব্যাপারটা রহমান কৌশুলে এড়িয়ে গেলেও রাজনৈতিক গুরুর প্রয়োজনে পাশে থাকবে। আসছে দোহার পৌরসভা নিবাচনে সুরুজ ভাই দলীয় প্রাথীর দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে । তবে সমযই নির্ধারন করবে আগামী দিনের দোহারের নেতৃত্ব।

দুঃসময়ে টিকে থাকাটাই হচ্ছে বিজয়, টিকে থাকতে হলে মনের বল থাকতে হয় আর সেই মনের বলটি আসে যখন সবাই জানতে পারে তারা একা নয়, তাদের পাশে অনেকে আছে।যুদ্ধের আসল অস্ত্র রাইফেল নয়, যুদ্ধের আসল অস্ত্র হচ্ছে মনোবল তাই কখনও মনোবল হারাতে হয় না।নতুন প্রজন্মের কাঙ্খিত বিজয় আসবেই ………

লেখক:
হামিদুর রহমান পলাশ
সাবেক ছাত্রনেতা
যুগ্ন আহ্ববায়ক, দোহার পৌরসভা কৃষকলীগ।

স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু পুরষ্কার পেলেন এ্যাডভোকেট মনির হোসেন রানা

স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু সম্মাননা পদক ২০১৫ লাভ করলেন দোহারের নয়াবাড়ি ইউনিয়নের বিশিষ্ট আইনজীবি ও আইন অঙ্গনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এ্যাডভোকেট মনির হোসেন রানা। রাইজিং বাংলাদেশ আয়োজিত আধুনিক সমাজ গঠনে শ্রমের গুরুত্ব শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে তাকে এই পুরষ্কার প্রদান করেন সাবেক বিচারপতি আমিরুল কবির চৌধুরী।

গত ১৮ নভেম্বর নিউ এ্যালিফেন্ট রোডের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি ও বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক বিচারপতি আমিরুল কবির চৌধুরী। এই সময় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তথ্য সচিব সৈয়দ মারগুব মোরশেদ, সাবেক জেলা জজ রফিকুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রনালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব পীরজাদা শহিদুল হারুন।

কৈলাইলে মসজিদ কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ; র‌্যাবের অভিযানে টেঁটা জুতি রামদা উদ্ধার

নবাবগঞ্জ উপজেলার মাশাইল বড় জামে মসজিদের কমিটি গঠন নিয়ে লতিফ ডিলার ও নুর রহমান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। শুক্রবার সকালে দুপক্ষের এ সংঘর্ষের পর র‌্যাব পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। আইনশৃংখলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে তারা অস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের ফেলে যাওয়া টেঁটা জুতিসহ ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে র‌্যাব। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের মাশাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

র‌্যাব-১১ জানায়, ২৬ অক্টোবর মাশাইল বড় জামে মসজিদের কমিটি নিয়ে স্থানীয় নূর রহমানের সঙ্গে লতিফ ডিলারের কথা কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে ২ নভেম্বর দুপুরে লতিফ ডিলারের নেতৃত্বে তার লোকজন নিয়ে নূর রহমান ও তার ভাই জাকির হোসেনকে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। তাদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হয়। এর প্রতিবাদ করায় নূর রহমানের ভাতিজা স্বপন বেপারিকে টেঁটাবিদ্ধ করা হয়। এসব ঘটনায় লতিফ ডিলার,সবুজ খান ও দীন ইসলামসহ ১৭ জনের নামে নবাবগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়।

কৈলাইলে মসজিদের কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ

নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের মাশাইল গ্রামে মসজিদের কমিটি নিয়ে গ্রুপের  মধ্যে সংঘর্ষে বসত বাড়িতে হামলা ভাংচুর এবং মালামাল লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে উপজেলার মাশাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লতিফ ডিলার দীর্ঘ ১০ বছর যাবত মাশাইল বড় মসজিদের সভাপতি থেকে প্রায় ১০/১২ লাখ টাকার হিসাব দিতে পারেননি এবং মসজিদের ১৩ শতাংশ জমি জবর দখল করে রেখেছেন। পরে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে লতিফ ডিলার কে সভাপতি পদ থেকে বাদ দিয়ে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা খন্দকার শামিরুল কে সভাপতি করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে ।

এ ঘটনার লতিফ ডিলার এবং তার ৬ ছেলে ক্ষিপ্ত হয়ে গ্রামের ৭ বাড়িতে হামলা চালায় এবং বসত ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে মহিলা ও শিশুসহ ৫ জনকে মেরে আহত করে।

মাশাইল গ্রামের গৃহবধু মমতাজ বেগম বলেন, লতিফ ডিলারে ৬ ছেলে মজিবর,লিপু, জাফর, সালেম, জাকির, শাবালী, লুতফরসহ আরো ২৫/৩০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে আলমারিতে থাকা নগদ ১ লাখ টাকা লুটে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে আমার শিশু সন্তান সুমন (১০) কে তারা মেরে আহত করে। এরা গ্রামের সন্ত্রাসী আমি ওদের বিচার চাই।

সালেহা বেগম, রুসুল খা, হোসেন খান,আয়ুব খানসহ আরো ৫/৬টি পরিবারের একই অভিযোগ করেন। লতিফ ডিলারের বড় ছেলে মজিবর রহমান ঘটনাটি অস্বীকার করেন।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সায়েদুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি তবে আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খেলায় মাধ্যমে দেশকে বিশ্বে তুলে ধরতে হবে: নুরুল ইসলাম বাবুল

খেলাধুলা মাধ্যমে দেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে হবে, সুনাম অর্জন করতে হবে। তাহলে অর্থনৈতিক উন্নয়নও সম্ভব। শনিবার বিকালে নবাবগঞ্জের বান্দুরা নবীন সেতু সংঘ মাঠে আয়োজিত গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল এ কথা বলেন।

এসময় দেশ বরেণ্য ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বাবুল বলেন, সমাজের উন্নয়ন ঘটাতে ছেলেমেয়েদের সুশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি খেলাধুলার চর্চা করতে হবে। যাতে দেহ ও মন প্রফুল্ল থাকে।

যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান আরো বলেন, শুধু রাজনৈতিক অভিলাষ নয়, দোহার নবাবগঞ্জের জনগণের কল্যাণে কিছু করতে পারলে আত্মতৃপ্তি পাব। সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ আমাদের এগিয়ে চলার পথে প্রেরণা জোগাবে।

দুপুরে যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নবাবগঞ্জের টিকরপুর পৌঁছলে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা তাকে মোটরসাইকেল নিয়ে শোভাযাত্রার মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানান। খেলার মাঠে শত শত দর্শক ও আয়োজক কমিটি প্রধান অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করেন। ফাইনাল খেলায় কামারখোলা উজ্বালা সংঘ ও নাবিল একাদশ সাভার অংশগ্রহণ করে। দ্বিতীয়ার্ধে ১-০ গোলে নাবিল একাদশ সাভারকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জিতে নেয় কামারখোলা উজ্বালা সংঘ।

নবীন সেতু সংঘের সভাপতি দেওয়ান আমজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ হারুন উর রশিদ, রয়েল গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ মো. সোহরাব উদ্দিন, নাট্যব্যক্তিত্ব ইদ্রিস হায়দার, নবাবগঞ্জ উপজেলা মহিলা ভাইস চেমারম্যান মরিয়ম জালাল, এন মল্লিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নার্গিস মল্লিক, ফারিস রেস্টুরেন্টের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন আক্তার।

খেলা শেষে প্রধান অতিথি যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ও অন্য অতিথিরা প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের হাতে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ ট্রফি তুলে দেন।