নবাবগঞ্জে ১৫ জনের প্রার্থীতা প্রত্যাহার

নবাবগঞ্জের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এই ১৫ জন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তাদের নির্বাচনী প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। নিজ দলের প্রতি সমর্থন ও রাজনৈতিক কারনে এই প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

যারা চেয়ারম্যান নির্বাচন থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করেছেন তারা হলো কলাকোপার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ওয়াহিদুজ্জামান রনি, বান্দুরা ইউনিয়নের সতন্ত্র প্রার্থী শাহাদাত হোসেন, নয়নশ্রী ইউনিয়সেন সতন্ত্র প্রার্থী শ্যামল সরকার, জয়কৃঞ্চপুর ইউনিয়নের সতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ আকমল হোসেন, বক্সনগর ইউনিয়নের সতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ মিয়া ও মো: শের আলী, যন্ত্রাইল ইউনিয়নের সতন্ত্র প্রার্থী মনিরুজ্জামান উজ্জল, রতন হালদার, শোল্লার সতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান ভুইয়া কিসমত, আগলার সতন্ত্র প্রাথী আব্দুল বাতেন, জিয়াউর রহমান, চুড়াইন ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল জব্বার ও সতন্ত্র প্রার্থী কাউছারুল আলম নিজেদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

কৈলাইল ও বাহ্রায় বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর

নবাবগঞ্জের কৈলাইলে  ইউনিয়নে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা এবং নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

শুক্রবার দুপুরে নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের কাটাখালী ও মাশাইল গ্রামে গিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ সেলিম, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আইনুল চৌধুরী ও বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী মোক্তার হোসেনের নির্বাচনী প্রচারণার ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তবে এসব এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সব পোস্টার-ব্যানার দিব্যি দৃশ্যমান আছে।

কৈলাইল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোক্তার হোসেনে অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাতে তার নির্বাচনী প্রচারণার ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী পান্নু মাদবরের লোকজন ছিঁড়ে ফেলেছে। শুধু আমার ব্যানার-পোস্টার নয় বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর ব্যানার ও পোস্টার ঠিকই রয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী পান্নু মাদবর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নিজেরা নিজেদের পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

এছাড়া বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বাহ্রা ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুস সালামের নির্বাচনী কার্যালয়টি কে বা কারা ভাংচুর করেছে।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান বলেন, গুরুতর কোনো অভিযোগ নেই। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার সংবাদ পেয়েছি। যেসব স্থানে এ ধরনের খবর আছে সেখানেই পুলিশ কঠোর হয়ে কাজ করছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

আগলায় প্রতিবেশীর ঘুষিতে চটপটি বিক্রেতা নিহত

নবাবগঞ্জের আগলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর কিল-ঘুষিতে মো. আনোয়ার হোসেন (৫৫) নামে এক চটপটি বিক্রেতার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রোজিনা নামে এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (২৪ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার আগলা ইউনিয়নের কালুহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. আনোয়ার হোসেন উপজেলার দক্ষিণ চৌকিঘাটা গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে আনোয়ার হোসেনের বাক-প্রতিবন্ধী দুই বোন বেগম ও নেহারুন পার্শ্ববর্তী কালুয়াহাটি গ্রামের একটি বাড়ির সামনের উঠানে পাতা কুড়াতে যান। ঝাড়ু দিয়ে পাতা কুড়ানোর সময় ধূলো-বালু উড়ে পার্শ্ববর্তী আমিনুল ইসলাম পাখির বাড়িতে যায়। এসময় সেই বাড়ির লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের মারধর করেন।

বাক-প্রতিবন্ধী বোনদের মারতে দেখে আনোয়ার তা ঠেকাতে যান। একপর্যায়ে ওই বাড়ির লোকদের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডা শুরু হলে তারা আনোয়ার হোসেনকে এলোপাথারি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এতে  ঘটনাস্থলেই আনোয়ারের মৃত্যু হয়। সংবাদ পেয়ে  পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান নিউজ৩৯কে জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে মামলার পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রোজিনা নামে এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

নিজেকে জানো

0

১৯৮৮ সালের জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন আ স ম আব্দুর রব আর সরকার তথা জাতীয় পার্টির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মরহুম কাজী জাফর। সংসদে আ স ম আব্দুর রবের অভিযোগ ছিল, কি আজব দেশে আমরা বাস করছি। স্বাধীন জাতি হিসাবে যা আমাদের জন্য লজ্জ্বার। কারন হিসাবে তিনি উল্ল্যেখ করেন যে তিনি নিম্ন মাধ্যমিকের এক বইয়ে এক ছাত্রকে পড়তে দেখেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নাম রাজীব গান্ধী। কারণ বইটি কলকাতা প্রকাশনীর। অথচ সে ছাত্র তা মুখস্থ করছে কিন্তু সে একবারও ভেবে পড়েনি যে, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক।

জবাবে কাজী জাফর বলেছিলেন, জনাব আ স ম রব আপনার উৎকণ্ঠাকে আমরা স্বাগত জানাই; হয়তো আসলেই আমরা সারাজীবন প্রধানমন্ত্রী থাকবো না কিন্তু আমরা আশা করি আপনি আজীবন বিরোধী দলের নেতা থাকুন।

জাতি হিসাবে আমাদের দূর্ভাগ্য, আমরা বুঝি না অনেক সময় আমরা কি বলছি আর কি বিষয়ে আমাদের উদ্বেগের কারণ কি। আজ এ লেখার কারণ , বাংলাদেশ আজ তথ্য প্রযুক্তিতে এগিয়েছে কিন্তু শিক্ষার্থীদের গুণগত মান কমেছে। আজ পুরো তরুণ সমাজ ফেসবুক আর সামাজিক মাধ্যমে আসক্ত। এক সময়ে আমরা তরুণেরা বই পরতাম – হুমায়ুন আহমেদ, তিন গোয়েন্দা, কাজী আনোয়ার হোসেনের মাসুদ রানা অথবা শীর্শেন্দু, সমরেশ বা সুনীলের বইতো ছিলই।

কিশোর বেলায় ফেলুদা বা বিল্লু, নন্টে-ফন্টে, ফ্যান্টম বা চাচা চৌধুরি বিকশিত করেছিল আমাদের সৃজনশীলতাকে। সারা বিশ্বে প্রিণ্ট পত্রিকার সার্কুলেশন নিন্মমুখী হলেও এশিয়া বা দক্ষিণ এশিয়ায় প্রিণ্ট পত্রিকার সার্কুলেশনের হার উচ্চগামী। আপনাদের মনে আছে খেলার পাতা বা বিনোদনের পাতা ছিল কতোটা আমাদের জন্য আকাংখিত বিষয়। আমরা নিয়মিত টেলিভিশন বিতর্ক দেখেছি, এছাড়া খবর আর টক শো ও মানসম্মত নাটক ও ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান এদেশকে একটা সোনালি প্রজন্ম উপহার দিয়েছিল। বাংলাদেশকে দিয়েছে একটা প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক চর্চা ও বিকাশের মাধ্যম।

কিন্তু আজ খুব হতবাক হলাম, একটি কলেজ পরিদর্শনে আমি ৪০০ ছাত্র-ছাত্রীকে বললাম, কতজন গল্পের বই পড়ে – হাত উঠলো গোটা ২০। যখন বললাম নিউজ দেখে কতজন হাত উঠলো ১০ জনের মতো। অথচ ফেসবুক ব্যবহার করে কতজন শতকরা ৯০ জন উঠালো। কিন্তু ফেসবুকে কতজন নিউজ দেখে সে হার ১% ও না। তারা জানে না, গত ১ মাসে দেশে ৮৬টি খুন হয়েছে, ২৮টি শিশুকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে, তারা জানে না কেরাণিগঞ্জে চাচাতো  নানা ৫লক্ষ টাকার জন্য নাতীকে হত্যা করেছে, তারা জানে না পরকীয়ার কারণে মিরপুরে মা সন্তানকে ৫তলা থেকে ছুড়ে ফেলে হত্যা করেছে। এখন তারা জানে না নোয়াখালীর পুলিশ সুপার শাসমশুন্নাহার প্রধান মন্ত্রীর প্যারেড পরিচালনা করেছে। তারা জানে না, সাবিরুল ইসলাম নামক একজন বাংলাদেশি যুবক পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ তরুণ উদ্যোক্তা অথবা জাহিদ হাসান নামক পদার্থ বিজ্ঞানী আগামীতে পদার্থ বিজ্ঞানে আমাদের নোবেল বিজয় করে আনবে, তারা জানে না জাভেদ করিম ইউটিউবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা।

তাহলে কিভাবে আমরা এগোবো, যে প্রজন্ম ফেসবুক, ভাইবার বা ইমু ব্যবহার করে অথচ নিজেকে অজানা রেখে। তারা জানে না, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর নাম কি।

মনে পড়ে যায়, সক্রেটিসের সেই বিখ্যাত উক্তি –  Know thyself (নিজেকে জানো) .  আসলে কতটুকু আমরা নিজেদের চিনেছি, আমরা অপরের আবিস্কারে তথ্য প্রযুক্তি কু-ব্যবহারের নেশায় বুদ হয়ে আছি, কিশোর কুমারের ভাষায়- এ নেশা কেমন নেশা, দাদা? এ নেশা মরণ নেশা , দাদা। আজ পুরো যুব সমাজ হারিয়ে যাচ্ছে সৃজনশীলতা, মননশীলতা, রাজনৈতিক চেতনাবোধ বা দেশ গঠনের মতো অনুভূতিবোধ থেকে।

গুরু সক্রেটিসের সাথে তর্কে প্লুটো বলেছিল তার ‘ রিপাব্লিক ‘ গ্রন্থে, দেশপ্রেম তাই- সেটা হলো যার যার অবস্থান থেকে নিজ নিজ দায়িত্বটুকু পালন করা। আমরা দেশপ্রেমিক হই, নিজ নিজ দায়িত্বটুকু পালন করি, অন্তত তরুণ প্রজন্ম প্রতিদিন সংবাদপত্র পড়ুক, নিউজ দেখুক। গণ মাধ্যম বিশেষত টেলিভিশনগুলো আরও বেশি যুবাদের জন্য প্রোগ্রাম তৈরি করুক, দেশটাকে একটু এগিয়ে দিক। আসুন সবাই তরুণদেরকে একটু সচেতন করি তার পূর্বে নিজে সচেতন হই।

আজ উইলিয়াম শেক্সপিয়রের জন্মদিন

আজ উইলিয়াম শেক্সপিয়রের জন্মদিন। ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক এবং বিশ্বের একজন অগ্রণী নাট্যকার মনে করা হয়। তাকে ইংল্যান্ডের জাতীয় কবি এবং ‘বার্ড অফ অ্যাভন’ নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। তার যে রচনাগুলি পাওয়া গিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ৩৮টি নাটক, ১৫৪টি সনেট, দুটি দীর্ঘ আখ্যান কবিতা এবং আরও কয়েকটি কবিতা। কয়েকটি লেখা শেক্সপিয়র অন্যান্য লেখকদের সঙ্গে যৌথভাবেও লিখেছিলেন। অন্য যে কোনো নাট্যকারের রচনার তুলনায় অধিকবার মঞ্চস্থ হয়েছে তার নাটক।

উইলিয়াম শেক্সপিয়রের পিতা জন শেক্সপিয়র ছিলেন একজন সফল গ্লোভার ও অল্ড্যারম্যান। তার আদি নিবাস ছিলো স্নিটারফিল্ডে। শেক্সপিয়রের মা মেরি আরডেন ছিলেন এক ধনী কৃষক পরিবারের সন্তান। তার জন্মের সঠিক তারিখটি জানা যায় না। তবে ২৩ এপ্রিল সেন্ট জর্জ’স ডে’র দিনে তার জন্মদিন পালন করার প্রথা রয়েছে। শেক্সপিয়র তার পিতামাতার আট সন্তানের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন।

সে যুগের কোনো লিখিত প্রমাণ না পাওয়া গেলেও, অধিকাংশ জীবনীকার মোটামুটি একমত যে, শেক্সপিয়র সম্ভবত স্ট্র্যাটফোর্ডের কিংস নিউ স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন। ১৫৫৩ সালে এই মুক্ত বিদ্যালয়টি সনদ পায়। স্কুলটি শেক্সপিয়রের বাড়ি থেকে পৌনে এক মাইল দূরে ছিল। এলিজাবেথীয় যুগে গ্রামার স্কুলগুলির মান সর্বত্র সমান ছিল না। তবে স্কুলগুলির পাঠ্যক্রম সারা ইংল্যান্ডেই আইন দ্বারা নির্দিষ্ট করা ছিল। এই কারণে মনে করা হয়, স্কুলে লাতিন ব্যাকরণ ও ধ্রুপদি সাহিত্যের বিস্তারিত পাঠ দেয়া হতো।

শেক্সপিয়রের জন্ম ও বেড়ে ওঠা স্ট্যাটফোর্ড অন-অ্যাভনে। মাত্র আঠারো বছর বয়সে তিনি অ্যানি হ্যাথাওয়েকে বিয়ে করেন। অ্যানির গর্ভে সুসান এবং হ্যামনেট ও জুডিথ নামে  শেক্সপিয়রের তিনটি সন্তান জন্মেছিলো। এদের মধ্যে আবার হ্যামনেট ও জুডিথ ছিলো যমজ।

১৫৮৫ থেকে ১৫৯২ সালের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি অভিনেতা ও নাট্যকার হিসেবে লন্ডনে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। লর্ড চেম্বারলেইনস ম্যান নামে একটি নাট্যকোম্পানির তিনি ছিলেন সহ-সত্ত্বাধিকারী। এই কোম্পানিটিই পরবর্তীকালে কিংস মেন নামে পরিচিত হয়। ১৬১৩ সালে তিনি নাট্যজগত থেকে সরে আসেন এবং স্ট্র্যাটফোর্ডে ফিরে যান। তিন বছর বাদে সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছিলো। শেক্সপিয়রের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে নথিভুক্ত তথ্য বিশেষ পাওয়া যায় না। তার চেহারা, যৌনপ্রবৃত্তি, ধর্মবিশ্বাস, এমনকি তার নামে প্রচলিত নাটকগুলি তারই লেখা, নাকি অন্যের রচনা তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে।

শেক্সপিয়রের পরিচিত রচনাগুলির অধিকাংশই মঞ্চস্থ হয়েছিল ১৫৮৯ থেকে ১৬১৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ে। তার প্রথম দিকের রচনাগুলি ছিলো মূলত মিলনান্তক ও ঐতিহাসিক নাটক। ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে তার দক্ষতায় এই দুটি ধারা শিল্পসৌকর্য ও আভিজাত্যের মধ্যগগনে উঠেছিলো। এরপর ১৬০৮ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানত কয়েকটি বিয়োগান্ত নাটক রচনা করেন। এই ধারায় রচিত তার হ্যামলেট, কিং লিয়ার ও ম্যাকবেথ ইংরেজি ভাষার কয়েকটি শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি। জীবনের শেষ পর্বে তিনি ট্র্যাজিকমেডি রচনায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন। এই রচনাগুলি রোম্যান্স নামেও পরিচিত। এই সময় অন্যান্য নাট্যকারদের সঙ্গে যৌথভাবেও কয়েকটি নাটকে কাজ করেন তিনি।

শেক্সপিয়রের জীবদ্দশায় প্রকাশিত নাটকগুলির প্রকাশনার মান ও প্রামাণ্যতা সর্বত্র সমান ছিল না। ১৬২৩ সালে তার দুই প্রাক্তন নাট্যসহকর্মী দুটি নাটক বাদে শেক্সপিয়রের সমগ্র নাট্যসাহিত্যের ফার্স্ট ফোলিও প্রকাশ করেন।

তার সমকালে শেক্সপিয়র ছিলেন একজন সম্মানিত কবি ও নাট্যকার। কিন্তু মৃত্যুর পর তার খ্যাতি হ্রাস পেয়েছিলো। অবশেষে ঊনবিংশ শতাব্দীতে খ্যাতির শীর্ষে ওঠেন। রোম্যান্টিকরা তার রচনার গুণগ্রাহী ছিলেন। ভিক্টোরিয়ানরা রীতিমতো তাকে পূজা করতেন। জর্জ বার্নার্ড শ’র ভাষায় যা ছিল চারণপূজা। বিংশ শতাব্দীতেও গবেষণা ও নাট্য উপস্থাপনার বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তার রচনাকে পুনরাবিষ্কার করার চেষ্টা করা হয়। আজও তার নাটক অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বহুচর্চিত। সারা বিশ্বের নানা স্থানের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নানা আঙ্গিকে এই নাটকগুলি মঞ্চস্থ হয়ে থাকে।

অষ্টাদশ শতাব্দীতে এক গবেষক ভুল করে এই তারিখটিকে শেক্সপিয়রের জন্মদিন বলে উল্লেখ করেছিলেন। পরে তারিখটি জীবনীকারদের কাছে বিশেষ আবেদন সৃষ্টি করে। উইলিয়াম শেক্সপিয়র ১৬১৬ সালের ২৩ এপ্রিল মারা যান।

গোল্লায় সড়ক সংস্কার কাজের উদ্বোধন

নবাবগঞ্জের নয়নশ্রীতে সড়ক সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। গোল্লায় এই সড়ক সংস্কার কাজ উদ্বোধন করেছেন নয়নশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পলাশ চৌধুরী। যদিও তার এই সড়ক সংস্কার কাজের উদ্ভোদন নিয়ে উঠেছে নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঙ্ঘনের অভিযোগ।

ঢাকার নবাবগঞ্জে সড়ক সংস্কার কাজের উদ্বোধন করাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে অন্য প্রার্থীরা। বর্তমান চেয়ারম্যা্ন পলাশ চৌধুরী নয়নশ্রী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন তার কারনেই তার বিরুদ্ধে উথাপিত হয়েছে এই অভিযোগ। নয়নশ্রী ইউনিয়নের কুমার গোল্লা গ্রামের মূল সড়ক পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। এতে পলাশ চৌধুরীর উপস্থিতি ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবি দেখে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার বিকালে কুমার গোল্লা গ্রামের মূল সড়কের ইট উঠিয়ে পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন করেন নয়নশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী পলাশ চৌধুরী। ওই এলাকার ভোটারদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে সড়কের সংস্কার কাজের উদ্বোধন করা হয় বলে জানা গেছে। এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে হতভম্ব হয়ে পড়ে এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে পলাশ চৌধুরীর সঙ্গে যোগযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ঠিক তা নয়। নেতাকর্মীরা উদ্বোধন করছিলেন। আমি ওখানে গিয়েছিলাম।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ হাবিবুর রহমান বলেন, এটি সুস্পষ্ট আচরণবিধি লংঘন করা হয়েছে। বিষয়টির খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

শিগগিরই বৃষ্টির সম্ভাবনা

দাবদাহ শুরু হয়েছিল চুয়াডাঙ্গা দিয়ে, ৬ এপ্রিল। সেই দিন ওই জেলায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পেরিয়েছিল। এর পর দাবদাহের দাপট সিলেট ছাড়া ঘুরে প্রায় সারা দেশের মানুষকে কষ্ট দিয়েছে। ১৫ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আজও উত্তাপের ভোগান্তি থেকে রেহাই মিলছে না। বরং গতকাল বৃহস্পতিবারের দাবদাহ আজও দেশের অর্ধেকেরও বেশি এলাকা দিয়ে বয়ে যাবে। তবে দুই-তিন দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়ে তাপমাত্রা কমে আসতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে, বাংলাদেশের তাপপ্রবাহগুলো সাধারণত তিন থেকে সাত দিন স্থায়ী হয়ে থাকে। বিশেষ করে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে দাবদাহ শুরু হয়। তবে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে অর্থাৎ বৈশাখের শুরুতে কালবৈশাখী ঝড় হয়। সঙ্গে আসে স্বস্তির বৃষ্টি। ফলে দাবদাহের দাপট কমে আসে। এপ্রিল ও মে মাসে বড়জোর তিন থেকে সাত দিন ওই দাবদাহের দাপট থাকে। কিন্তু চলতি বছর মার্চে দুটি কালবৈশাখী ঝড় হলেও এপ্রিলে এখনো কালবৈশাখীর দেখা মেলেনি। অর্থাৎ কালবৈশাখী আগে-ভাগে এসে হানা দিয়ে গেলেও তার যে সময়ে আসার কথা অর্থাৎ বৈশাখে তার দেখা মিলছে না। ফলে দাবদাহের দাপটও এবার গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। টানা ১৫ দিনের দাবদাহের দাপটে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।

এ ব্যাপারে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ  বলেন, দাবদাহটি মাঝখানে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। গত দুই দিন ধরে এটি আবার শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তবে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়ে তাপমাত্রা কমে আসতে পারে।

নৌকায় পক্ষে ভোট চেয়ে নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেন কলাকোপার রনি

কলাকোপা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ইব্রাহিম খলিলের সমর্থনে নির্বাচনের ময়দান ছাড়লেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ও দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজের সাবেক ভিপি ওয়াহেজ্জামান রনি। নিজের ফেসবুক পেজে তিনি আওয়ামী লীগ মনোনিত ইব্রাহিম খলিলকে সমর্থন দেয়ার কথা জানান।

নিজের ফেসবুক পেজে রনি লিখেন, আমি কেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামীলীগ ও নৌকার সমর্থক! বাংলাদেশে আওয়ামীলীগই একমাত্র পার্টি বা দল যার ব্যানারে জন্ম হয়েছে অসাধারন কিছু দেশপ্রেমিক নেতার। যাদের মধ্যে অন্যতম সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন আহামেদ, মুনসুর আলী, এ এইস এম কামরুজ্জান, সদ্য প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহামেদসহ আর অনেকেই। যা অন্য কোন দল বা পার্টি এমন দেশপ্রেমিক নেতা উপহার দিতে পারেনি এই দেশ ও জাতি কে। আমি এ কারণেই আওয়ামী লীগকে ভালবাসি ১০০ ভাগ।

প্রিয় কলাকোপা ইউনিয়নবাসী আমি রাজনীতি করতে গিয়ে আপনাদের শতভাগ ভালবাসা পেয়েছি সব সময়। যার যোগ্য আমি নই, নবাবগঞ্জের আওয়ামীলীগের চলমান রাজনীতির ধারার সাথে যুক্ত কিছু বেক্তিদের সাথে কিছু ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ছিল আমার কিন্তু বঙ্গবন্ধু আওয়ামীলীগ ও নৌকার সমর্থক প্রাণপ্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার একজন ক্ষুদ্র কর্মি হিসেবে সব ভুলে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়েছি।

আপনারা খুব ভাল করেই জানেন আমি আওয়ামী পরিবারের লোক এক সময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি ও দোহার নবাবগঞ্জ কলেজ এন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি, জিএস ছিলাম আপনাদের কাছে আমি অনুরোধ করছি আসুন আমরা আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কলাকোপা ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী ইব্রাহিম খলিলকে আমরা সবাই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয় যুক্ত করি। জয় আমাদের হবেই। খোদা হাফেজ জয়বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু।

গ্রাম্য মেলা বাঙালির সংস্কৃতির ধারক বাহক: সালমা ইসলাম

ঐতিহ্যবাহী গ্রাম্য মেলা বাঙালির সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। তাই এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার একমত পোষণ করা উচিত। বুধবার বিকালে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর দিঘীরপাড় ফ্রেন্ডস ক্লাবের উদ্যোগে ৪ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি এ কথা বলেন।

ক্লাবের সভাপতি মুফিদ খানের সভাপতিত্বে সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম বলেন, বাঙালি জাতির ধারক ও বাহক গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি। কোনো জাতির উন্নয়নের শিখরে পৌঁছতে তার নিজস্ব সংস্কৃতিকে লালন করতে হবে। বাঙালির শত বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য গ্রাম বাংলার মানুষ আঁকড়ে আছে। তিনি সুষ্ঠু সংস্কৃতির চর্চা করতে নতুন প্রজন্মকে উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সালমা ইসলাম ক্লাবের উন্নয়নে ১ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন। এছাড়া বক্সনগর বাজার সড়ক থেকে বক্সনগর বিডিএফসি মাঠ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেন।

সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম আরও বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষকে ভালোবেসে সার্বিক উন্নয়ন করতে চাই। সে জন্য আপনাদের সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রয়োজন। এ অঞ্চলের প্রতিটি গ্রামের রাস্তাঘাট ও স্কুল-কলেজের উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি তরুণ প্রজন্মকে সমাজের ইতিবাচক কাজ করে আগামী দিনের নেতৃত্ব গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, বক্সনগর ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ মিয়া ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিল্লাত হোসেন, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইকরামুন্নবী ইমু, নবাবগঞ্জ উপজেলা সভাপতি এসএম সাইফুল ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম নাহিদ প্রমুখ।

মুরাদ বাহিনীর তাণ্ডবে অতিষ্ঠ নয়নশ্রীবাসী

নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়ন এক শান্তির জনপদ। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তরে ইছামতি নদী ও মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে গড়ে উঠেছে এ এলাকা। মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে এ জনপদ।

সরেজমিন এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুরাদ বাহিনীর অত্যাচার ও তাণ্ডবে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। মুরাদ বাহিনীর মহড়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ, ভোটার ও বিভিন্ন রাজনৈতক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের আতংকে দিন কাটছে। মুরাদের নেতৃত্বে একজন প্রার্থীর পক্ষে প্রতিনিয়তই মোটরসাইকেল মহড়া, প্রতিপক্ষের ওপর হামলা ও নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। শনিবার দুপুরে দুটি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।

বেলা ২টায় নয়নশ্রী ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় ১৫-২০ জনের একটি বাহিনী নিয়ে মহড়ায় দেখা যায় মুরাদকে। মুরাদের নামে নবাবগঞ্জ থানা ও আদালতে একাধিক মামলা এবং প্রায় ১০-১২টি সাধারণ ডায়েরি রয়েছে। মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, জমি দখল থেকে এমন কোনো অপকর্ম নেইÑ যা এই বাহিনী করছে না।

উল্লেখ্য, গত জোট সরকারের আমলের শেষ দিকে নয়নশ্রী ইউনিয়নের তাশুল্যা বাংলাবাজার এলাকায় মোশারফ হোসেন ওরফে মুশা ও সেলিম নামে দুই সন্ত্রাসী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। প্রকাশ্যে গুলিসহ হত্যা, ধর্ষণ করত এ বাহিনীর সদস্যরা। সংবাদ মাধ্যমে তাদের এসব অপকর্মের কাহিনী প্রকাশ পেলে প্রশাসনের টনক নড়ে। পরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় মুশা। নিখোঁজ হয় সেলিম। ফলে স্বস্তি ফিরে পায় এলাকাবাসী। কয়েক বছর ওই এলাকার মানুষের মধ্যে শান্তি বিরাজ করে। কিন্তু বিধিবাম, তাদের সেই সুখের দিন বেশি সময় স্থায়ী হা না। ২ বছর ধরে ঠিক একই কায়দায় শান্ত জনপদকে আবার অস্থির করে তুলছে এই মুরাদ বাহিনী। ভয়ে মুখ খুলছে না এলাকাবাসী।

মুরাদ বাহিনীর কর্মকাণ্ড : ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে বিলপল্লী এলাকার বেবী হোসেনের একটি জমি দখল করে গাছ-পালা কেটে নেয় মুরাদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয়। এ বিষয়ে আদালতে মামলা করেন বেবী। মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। তিনি নবাবগঞ্জ থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরিও করেছেন। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় তিনি পুলিশের গ্রেফতার থেকে বারবারই রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন।

মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি : ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে প্রভাব বিস্তারে বাধা দেয়ার কারণে আজাদ মোল্লাকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের সাহায্য নিলে সপরিবারে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। নিরাপত্তা চেয়ে ওই ব্যক্তি নবাবগঞ্জ থানায় জিডি করেন।

এরকম শত শত অভিযোগ আছে মুরাদের বিরুদ্ধে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মাদক ব্যবসায় সহযোগিতা না করায় সোলায়মান নামক এক ব্যবসায়ীর দোকান বন্ধ করে দিয়ে খুন করার হুমকি দেয়। তিনিও থানায় ডায়েরি করেন। পুলিশ তাকে যতবারই আটক করতে যায় প্রভাবশালী ওই নেতার আশীর্বাদে রক্ষা পেয়ে যায়। সম্প্রতি পুলিশ তাকে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগে আটক করে থানায় আনলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয়।

বাংলাবাজার, তাশুল্যা, বিলপল্লী, খেজুরবাগ, ঘোষপাড়া, চর তুইতাল, বিপ্রতাশুল্যাসহ প্রায় ৮-১০টি গ্রামের মানুষের কাছে আতংকের নাম মুরাদ। নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মুরাদকে গ্রেফতার করতে গেলে নানামুখী তদবির আসে। এ নিয়ে আমরাও বেকায়দায় আছি। নবাবগঞ্জ থানার ওসি সায়েদুর রহমান বলেন, মুরাদের বিষয়ে কিছু অভিযোগ আমরাও পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।