ইব্রাহীম খলিলের পক্ষে ভোট চাইলেন পনিরুজ্জামান তরুন

আসন্ন কলাকোপা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইব্রাহীম খলিলের জন্য ভোট চাইলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক পনীরুজ্জামান তরুন। ইব্রাহিম খলিলের সমর্থনে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অলিউর রহমানের সভাপতিত্বে এক নির্বাচনী সভায় তিনি এই ভোট চান।

উক্ত সভায় প্রধান অতিথির আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটি সহ-সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন ইব্রাহীম খলিলের জন্য সর্বস্তরের সকলের নিকট ভোট প্রার্থনা করলেন। তিনি আরো বললেন বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার সাড়া দেশে উন্নায়নের নজির সৃষ্টি করেছেন। তাই কলাকোপা ইউনিয়নের সন্মানিত ভোটারদের কাছে আমার ভোট প্রার্থনা আমাদের প্রার্থীকে নির্বাচিত করলে উন্নয়নের ধারাবাহীকতা বজায় থাকবে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিলু, সাধারন সম্পাদক অধ্যাক্ষ সাইদুর রহমান সহ আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সকল ইউনিট প্রধানেরা ইব্রাহীম খলিলকে ‌আগামী ৭ ই মের নির্বাচনে জয় যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে সকল শ্রেনী পেশার মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন।

নবাবগঞ্জ থানায় জিডি করায় সংখ্যালঘুর বাড়ি লুটপাট

নবাবগঞ্জে থানায় জিডি করার জের ধরে নয়নশ্রীর এক হিন্দু পরিবারের বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকালে নয়নশ্রী ইউনিয়নের বড় তাসুল্ল্যা গ্রামের রঞ্জিত কর্মকারের স্ত্রী মালতী কর্মকার অভিযোগ করে বলেন, সোমবার দুপুরে উপজেলার চরখলসী গ্রামের সোহেল নামে এক যুবকের নেতৃত্বে লুটপাট ও হামলার ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

মালতী কর্মকার   বলেন, বড় তাসুল্ল্য্যা গ্রামের সন্তুষ কর্মকারের পুত্র আমার স্বামী রঞ্জিত কর্মকার বাংলাবাজার ’ মা জুয়েলার্স” এর কর্ণধার। পরিবারিক বিবাদের কারনে প্রায় ১ মাস ১০দিন আগে তিনি বাড়ী থেকে চলে গিয়ে নিখোঁজ হন। এখনো আমরা তার কোন সন্ধান পায়নি।

দশদিন আগে চরখলসী গ্রামের সোহেল নামে এক যুবক হঠাত বাড়িতে এসে দাবি করে রঞ্জিত তার কাছ থেকে সুদে ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়েছে। রঞ্জিত নিখোঁজ এই কথা শুনার পর সোহেল তার বাড়ী লুট করার হুমকি দেয়। সংবাদ পেয়ে স্থানীয় বর্তমান চেয়ারম্যান পলাশ চৌধুরী এসে আগামী ৭ই মে ইউপি নির্বাচনের পর ঘটনাটি মিমাংসার আশ্বাস দেন।

ভয়ে গত শুক্রবার সোহেলের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন মালতী। থানায় ডায়েরী করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার দুপুরে সোহেল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ প্রায় ২০/২৫ জন সাঙ্গপ্রাঙ্গ নিয়ে এসে তার বাড়ীতে হামলা করেন। এই সময় প্রাণ ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান তিনি।

তার ও পরিবারের সকলের অনুপস্থিতে হামলাকারীরা ঘরে তান্ডব চালিয়ে কিস্তির নগদ ৮১ হাজার টাকা, ৪০ ভরি রূপা, ৪ ভরি স্বর্ণ, প্রায় ১ কেজি ওজনের পিতলের একটি গণেশের মূর্তি, ফ্রিজ, টিভি, মোবাইলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্রসহ প্রায় ৭/৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাড়িঘরেও ভাংচুর চালায় হামলাকারীরা। তাদের হুমকির কারনে প্রতিবেশীরাও সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে সাহস পায়নি বলে অভিযোগ করেন মালতী কর্মকার।

স্থানীয় ও প্রতিবেশীরা বলেন, মালতী কর্মকারের স্বামী রঞ্জিত কর্মকার বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধারে ও সুদে টাকা এনে জুয়েলার্সের ব্যবসা করতো। সোহেলের কাছ থেকেও সে কিছু টাকা এনেছিল বলে শুনেছি। তাই বলে রঞ্জিত ও তার পরিবারের কারো উপস্থিতি ছাড়া হামলা করে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যাবে। এটা কোনভাবেই কাম্য হতে পারেনা।

নবাবগঞ্জ থানার এএসআই জয়নাল আবেদিন বলেন, ভোক্তাভোগী মহিলা ভয় পেয়ে শুক্রবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছিল। সোমবার হামলা ও লুটের ঘটনার পর সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।

এঘটনায় জড়িত সন্দেহে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমানিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

ফরিদপুরের এমপি নিক্সন চৌধুরীর হঠাৎ দোহার সফর

ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরীর (নিক্সন চৌধুরী) ২৭ এপ্রিল বুধবার হঠাৎ দোহার সফর করেন। তার সফরের কারণ স্পষ্ট নয়, তবে তার সাথে দোহারের যেসব নেতাদের দেখা গেছে তাতে ধারণা করা হচ্ছে তিনি চরাঞ্চলের নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সফর করছেন।

এই সময় তার সাথে ছিলেন বিলাসপুরের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা, নারিশার চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন দরানী, দোহার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আলমাস উদ্দিন, যুবলীগ নেতা হুমায়ুন আহমেদ, ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদস্য প্রতিনিধি আওলাদ হোসেন।

তারা জয়পাড়ার রেস্টুরেন্ট ক্যাপসিকামে রাতে একসাথে খাবার খান।

উল্লেখ্য নিক্সন স্থানীয় সংসদ সদস্য কিন্তু তার সমর্থিত বেশিরভাগ প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে  বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। আগামী ৪ মে সেখানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে।

দোহার উপজেলা যুবদল, পর্ব-১: ব্যর্থতার দায়ভার কতটুকু নিবেন সাবেক সভাপতি আবুল হাশেম?

একের পর এক আন্দোলন ব্যর্থতা ও কমিটি গঠনে টাকা আদায় ও টাকার বিনিময়ে পদ লাভ সহ বিভিন্ন কারণে বিতর্কিত ছিল দোহার উপজেলা ও পৌরসভা যুবদল। সম্পূর্ণরুপে স্থবির, নিস্ক্রিয় ও সংগঠনে গতি আনতে না পারার কারণে ঢাকা জেলা যুবদল সভাপতি ভিপি নাজিম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দোহার উপজেলা যুবদল কমিটি ভেঙে দেন। এখন অভিযোগ উঠেছে এই নিস্ক্রিয়তার কারণ ছিল বিগত কমিটির সভাপতি আবুল হাশেমের নিষ্ক্রিয়তার, স্বজনপ্রীতি, অযোগ্যতা ও ব্যবসায়ী হওয়ার কারণে তিনি পদ পেয়েছেন সেই কারণটির।

এখন আবার এই বিতর্কিত কমিটিকে ভেঙে নতুন কমিটিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে পুরোনো নেতা কর্মীদের দৌড় ঝাপ। অনেকটা হটাৎ করেই দোহার উপজেলা যুবদলের কমিটি ঘোষণা হয়েছিল ২০১৪ সালের শেষের দিকে। দোহার উপজেলার তখনকার মৃতপ্রায় ছাত্রদলের সভাপতি পদ থেকে আবুল হাশেমকে রহস্যজনকভাবে  সরাসরি যুবদল সভাপতি করা হয়। যুবদলের অনেক সিনিয়র নেতার অভিযোগ, ছাত্রদলে যেমন আবুল হাশেম ব্যার্থ ছিলেন একই ধারাবাহিকতায় তিনি ব্যার্থ হন যুবদলের নেতৃত্ব দিতেও। যদিও যুবদলের সভাপতি হওয়ার পূর্বে তিনি গ্রহণ করেন নি যুবদলের সদস্য পদ পর্যন্ত।

এ ব্যাপারে নিউজ৩৯ কে আবুল হাশেম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের সভাপতি ছিলাম। অনেক আগেই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল ; কিন্তু জেলা বা কেন্দ্রেকে বার বার নতুন কমিটি গঠন করার কথা বলা হলেও তারা সে উদ্যোগ গ্রহণ না করায় অনেকে ছাত্রদল ছেড়ে চলে যান। তারা বিভিন্ন দিকে মনোনিবেশ করেণ জীবন জীবিকার তাগিদে। কিন্তু আমি দলের হাল ধরে একা এগিয়ে ছিলাম। সেক্ষেত্রে ছাত্রদল থাকাকালীন সংগঠনকে স্লো মনে হয়েছে কিন্তু নিস্ক্রিয় নয়।

তিনি আরও বলেন, আমি যুবদলের সভাপতি হওয়ার পূর্বে ছাত্রদল থেকে পদত্যাগ করি, যুবদলের সদস্যপদ গ্রহণ করি এবং পরে সংগঠনের ইচ্ছ্বায় সভাপতির পদও গ্রহণ করি।

তবে তার এই কথার সাথে ভিন্ন মত প্রোষণ করেন আবুল হাশেমের পূর্বের যুবদল সভাপতি উমায়ুন ইসলাম খালেক। তিনি নিউজ৩৯কে বলেন, বাংলাদেশে অনেক কিছুই সম্ভব যদি আপনি ক্ষমতায় থাকেন। আবুল হাশেম এক রহস্যজনক কারণে রহস্যজনকভাবে সকল সিনিয়রিটি ভেঙে ছাত্রদল থেকে যুবদলের সভাপতি হন। পরে হয়তো তিনি কাগজপত্র, সদস্যপদ তৈরি করে থাকতে পারেন।

বর্তমানে যুবদলের সভাপতি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হিটু মোল্লা বলেন, আমরা জানতাম কমিটি ঘোষণা হচ্ছে। দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করে সমগ্র দোহার উপজেলাব্যাপী আমরা সবাই-ই যুবদলকে সক্রিয় করেছিলাম। কমিটি যেদিন ঘোষণা হবে আমরা সেদিনও জানতাম যে কে কে সভাপতি, সেক্রেটারি হচ্ছে। হটাৎ জানতে পারি বিএনপি’র শীর্ষ মহলের ফোনে কমিটি স্থগিত করা হয়েছে । পরে একদিন জানতে পারলাম আবুল হাশেমকে ছাত্রদল থেকে যুবদল সভাপতি করা হয়েছে। তাই ত্যাগী নেতারা সংগঠনের প্রতি হতাশ হয়ে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েন; যাদেরকে আবুল হাশেম ডাকেন নি বা চেষ্টাও করেন নি।

এছাড়া দোহার উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি থাকা অবস্থায় তিনি কিভাবে দোহার উপজেলা যুবদল সভাপতি হলেন এই ব্যাপারে আবুল হাশেম নিউজ৩৯কে বলেন, দোহার উপজেলা যুবদলের সভাপতি তাকে বানিয়েছে ঢাকা জেলা যুবদল। তাই এ প্রশ্নের উত্তর ঢাকা জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ভিপি নাজিমই ভালো দিতে পারবেন। এছাড়া তিনি যুবদল সভাপতি হওয়ার আগে দোহার উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। ফলে যুবদলের নিয়মের মাধ্যমেই তিনি দোহার উপজেলা যুবদলের সভাপতি হয়েছেন। এর মাঝে অন্য কোন কারন নেই। আর দোহার উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি না হওয়ার ব্যর্থতার দায়ভার ঢাকা জেলা ছাত্রদলকেই নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ ব্যাপারে উমায়ুন ইসলাম বলেন, তিনিতো একই সাথে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি, দোহার উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও যুবদলের সভাপতি ছিলেন।

যদিও অনেকে বলে বিএনপি’র শীর্ষস্থানীয় এক নেতাকে খুশী করার বিনিময়ে তিনি হস্তগত করেছেন দোহার উপজেলা যুবদলের পদ। অনেকের ভাষায় সেটা পাজেরো আবার অনেকের ভাষায় সেটা ত্রিশ লক্ষ টাকা । আর সেই কমিটিতেই দোহার উপজেলা যুবদল মূলত বানাঘাটা যুবদলে রূপ পায় একই গ্রাম থেকে দোহার উপজেলা যুবদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায়।

এ ব্যাপারে আবুল হাশেম নিউজ৩৯-কে বলেন, সেরকম হলেতো বর্তমান কমিটি ভেঙে দেয়ার কথা নয়। এসব গুজব ও ভিত্তিহীন। আর সংগঠনে সক্রিয় যারা তাদেরকেই তো পদে বসিয়েছে জেলা কমিটি, তাই তারাই ভালো বলতে পারবে শুধু বানাঘাটা থেক কেন কমিটি হলো অন্য কোথাও থেকে কেন নয়।

এ ব্যাপারে উমায়ুন ইসলাম বলেন, আমরাও শুনেছি সে কথা। আর ঘুষ যখন লেন-দেন হয় তার কি কোন প্রমাণ থাকে? অবৈধ জিনিস গোপনে ঘটে;  তবে তা থেকে কিছুটা রটে। আর যা রটে তার কিছুটা সত্য হয় বটে।

এ ব্যাপারে তৎকালীন যুবদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন হিটু মোল্লা বলেন, আমাদের জানা মতে সমগ্র দোহারে জাতীয়তাবাদী ও এর বাইরের সবাই ই এরকম শুনেছে যে উপজেলা কমিটিতে বড় রকমের লেনদেন ঘটেছে। কিন্তু আসলে কারো কাছেইতো তার প্রমাণ নেই। রাজপথের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের নিয়ে দোহার উপজেলা যুবদলের কমিটি যখন করা হয় ঠিক তখন কোন এক অদৃশ্য কারনে ঐ কমিটির নাম ঘোষণা করা হয় নি। সেই কমিটি তখন জেলা সভাপতির সাক্ষর নিয়ে ঘোষনা করা বাকি। সেই সময় ঢাকা জেলা বিএনপির এক নেতার ফোন পেয়ে কমিটি ঘোষনা বন্ধ করা হয় এবং এর এক মাস পর এই সদ্য সাবেক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ফলে দোহারের ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের হাত থেকে কমিটি চলে যায় সেই অযোগ্য কমিটির হাতে। দোহার উপজেলা যুবদলের নামের পরিবর্তে যুবদল হয়ে পড়ে বানাঘাটা গ্রাম কমিটি। ফলে যা হয়েছে তা এখন দিনের মতোই পরিস্কার। ফলে আন্দোলন আর নেতৃত্বে কাউকেই পাওয়া যায় নি। যার ফলে ব্যর্থ হয়ে নেতৃত্ব থেকেই বাদ পরতে হয়েছে এই কমিটির অধিকাংশ নেতা কর্মীর।

নবাবগঞ্জে ইউপি নির্বাচন : ভোটারদের মধ্যে আতংক

আগামী ৭ মে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে অস্ত্রবাজ সন্ত্রাসীদের মহড়া শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে অস্ত্র নিয়ে নির্বাচনী সভায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করায় ভোটারদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাছাড়া প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে বিভিন্ন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে ভাড়াটে মাস্তান, সন্ত্রাসী ও অস্ত্রবাজরা ভোটারদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ভোটাররা।

সরেজমিন ঘুরে কয়েকটি ইউনিয়নের প্রার্থী, ভোটার, সুধী সমাজ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনে জয়ী হতে বিভিন্ন গুজব ছড়াচ্ছে। এতে ভোটার ও সাধারণ মানুষের মাঝে শংকা এবং আতংক বিরাজ করছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, কৈলাইল, শোল্লা, বাহ্রা, গালিমপুর, নয়নশ্রী ও শিকারিপাড়া ইউনিয়নের কেন্দ্র দখলের প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে এক শ্রেণীর চেয়ারম্যান প্রার্ধীর সমর্থকরা। ফলে সাধারন ভোটাররা আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।

নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাস্তান, মাদক ব্যবসায়ী, ও বখাটেদের আনাগোনা ততই বাড়ছে। অভিযোগ আছে, উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নে এক প্রার্থীর গণসংযোগে হত্যা মামলার আসামি, কুখ্যাত এক সন্ত্রাসী, ডাকাতি মামলার আসামি প্রকাশ্যে ভোট চাইছে। প্রচারণার সময় অস্ত্র নিয়ে ঘুরতেও দেখা গেছে। শনিবার কান্দামাত্রায় এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী সভায় প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করেছে মুন্সীগঞ্জের চিহ্নিত সন্ত্রাসী মো. লিটন। এ সময় তার সঙ্গে আরও কয়েকজন সন্ত্রাসী ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

বাহ্রা ইউনিয়নের আরেক প্রার্থী সুবেদুজ্জামান আওয়ামী লীগের প্রার্থীর দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলে বলেন, র‌্যাব-পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সফরসঙ্গী হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে। প্রশাসন জেনেও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

এদিকে শিকারিপাড়ায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর হয়ে কাজ করছে মনিকান্দা এলাকার মাসুদ বাহিনী। অপরদিকে ভূমি ও বালুদস্যু হিসেবে খ্যাত বাদল ওরফে ল্যাংড়া বাদল সাভার থেকে অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনী এনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে প্রভাব খাটাচ্ছে।

শিকারিপাড়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোজাম্মেল হক টিপু অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের সোনাতলা, মনিকান্দা, বিষমপুর, ভদ্রকান্দা, হাগ্রাদিসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় তার পোস্টার, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আলিমোর রহমান খান পিয়ারার লোকজন। পিয়ারারের একটি বখাটে গ্রুপ নির্বাচনী প্রচারণায় গেলে জানে মেরে ফেলার হুমকিও দিচ্ছে। বখাটেরা এলাকার সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে না যেতে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে তিনি জানান।

এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলিমোর রহমান খান পিয়ারা বলেন, তার কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী নেই। একটি গ্রুপ মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে অহেতুক ঝামেলা করার চেষ্টা করছে।

কৈলাইলে পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জের হজরতপুর, কলাতিয়া, ঢালীকান্দা, আঁটিপাড়া ও লাকির চরের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা প্রতিদিনই এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। তারা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে কৈলাইল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোক্তার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শংকায় আছি। এলাকায় অচেনা চেহারা তরুণ যুবকদের দেখা যাচ্ছে। এতে করে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ইতিমধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ছে।’

এদিকে রোববার সকালে চুড়াইন ইউনিয়নের মুসলিমহাটি গ্রামে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা (বিএনপির বিদ্রোহী) স্বতন্ত্র প্রার্থীর আনারস প্রতীকের আবু সাঈদের সমর্থক রইস উদ্দিন মোল্লা ও বোরহান উদ্দিন মোল্লাকে পিটিয়ে আহত করে। এ সময় আনারস প্রতীকের পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং তাদের প্রাণে মারার হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন আবু সাঈদ।

নবাবগঞ্জ থানার ওসি সায়েদুর রহমান এ ব্যাপারে বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার সংবাদ পেয়েছি। তবে দলীয় ও সেই দলের বিদ্রোহীরাই বেশি সমস্যা করছে। নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এ ছাড়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সব পর্যবেক্ষণ করছেন।

নবাবগঞ্জে ইউপি প্রার্থীদের সাথে প্রশাসনের মতবিনিময়

ঢাকার নবাবগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছে আইনশৃখলা বাহিনী। সোমবার দুপুরে নবাবগঞ্জের দোহার নবাবগঞ্জ কলেজ হল রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট কাজী এমদাদুল ইসলাম।সভায় নির্বাচনী বিধিমালাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রার্থীদের প্রশ্নের জবাবে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম আজাদ খান, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহ্ আলম, আনসার বাহিনীর জেলা কমান্ডার সাইফুলাহ রাসেল, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল কাদির মিয়া, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মো. হাবীবুর রহমান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগ জাতীয় কমিটির সদস্য আব্দুল বাতেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিন, আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক অসীম সরকার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহসীন রহমান আকবর প্রমূখ।

প্রিয় বাংলায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

গত ১৩ এপ্রিল দোহার থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক প্রিয় বাংলায় প্রকাশিত “ইব্রাহীম খলিলকে আ’লীগের প্রার্থী করায় তৃণমূলে ক্ষোভ” ও একই পত্রিকার ২৪ এপ্রিল “ভুল প্রার্থীতে ডুববে নৌকা” শিরোনামে সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক, কলাকোপা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব মো. ইব্রাহীম খলিল।

প্রতিবাদ লিপিতে তিনি উল্লেখ করেন, “বিগত কমিটিতে ১৩ বছর উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। দলের সভা-সমাবেশ, সম্মেলন, গুরুত্বপূর্ণ পদযাত্রা, শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন দলের ক্রান্তিকালেও আমার অনুপস্থিতি ছিলাম বলে আমার মনে পড়ে না। উপজেলা সদরে আমার বসবাস হওয়ায় দলের বড়ো ধরণের চাপও আমাকে সয্য করতে হয়েছে।

এরপরও দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি জাতীয় দৈনিকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করছি। সংবাদ সংশ্লিষ্ঠ বিষয়ের সাথে জড়িত থাকায় এলাকার সাধারণ মানুষের নানান অসংগতি চোখে পড়ে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে একজন প্রতিবাদী মানুষ হিসেবে সাধারণ মানুষের পাশে দাড়াই। তাদের দুঃখ দুঃদশায় ন্যায় বিচার পেতে সহায়তা করি। তাছাড়া শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক প্রতিষ্ঠানে এলাকাবাসী আমাকে জড়িয়ে দিয়েছে। এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ইতিমধ্যে শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মানবৃদ্ধিতে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগীতায় এলাকাবাসী আমাকে সর্বাত্মক ভাবে পাশে পেয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। কিন্তু সম্প্রতি ইউপি নির্বাচন নিয়ে একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ’’

প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে ইব্রাহীম খলিল উল্লেখ করেন,”আমাকে জড়িয়ে যে সব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তা অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, জঘণ্য প্রকৃতির লোক না হলে এভাবে কোন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে লেখা সম্ভব হয়নি। সংবাদে এটিই সুস্পষ্ট হয়েছে যে, সংবাদটি কোন ব্যাক্তির স্বার্থ হাসিল করতে অর্থের বিনিময় করা হয়েছে। যা সুস্পষ্ট হলুদ সাংবাদিকতার সামিল। এতে বুঝা যাচ্ছে কিছু জঘণ্য রুচির লোকের স্বার্থ হাসিলে পত্রিকা সংশ্লিষ্ঠ কর্মীরা উঠে পড়ে লেগেছে। সংবাদে, আমাকে সামাজিক ভাবে হেয় করতে সাংবাদিক তার অপসাংবাদিকতার ভাষা ব্যবহার করেছে।

ঘটনার বিবরণ, “কলাকোপা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রার্থী বাছাই হয় হরেকৃষ্ণ কুসুম কলি উচ্চ বিদ্যালয়ে। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে দলের আরো ২ প্রার্থী উপস্থিত ছিলো। দলের কেন্দ্রের নির্দেশে বাছাই প্রক্রিয়া হয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে। নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে অপর এক প্রার্থী নেতাকর্মীদের অবজ্ঞা করে সভা বয়কট করে। সভা স্থল থেকে কিছু বহিরাগত বখাটে পার্টির নিবন্ধনী খাতা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। পরে প্রার্থী প্রক্রিয়া অনুযায়ী তৃণমূলের সর্ব সম্মতিক্রমে আমাকে প্রার্থী মনোনিত করে কেন্দ্রে নাম পাঠায়। এ প্রক্রিয়ায় কোন অসংগতি ছিল কিনা উপস্থিত নেতাকর্মীরাই তা ভালো বলতে পারবে।

তিনি সংবাদ সম্পর্কে বলেন, “আমার সাথে যদি কারো অর্থনৈতিক লেনদেন থাকে সেটা আমার এবং পাওনাদারের বিষয়। সেটাতো সংবাদের তথ্য হতে পারে না। সংবাদে তথ্য উপাত্তে রং লাগিয়ে লবন-পানি মিশিয়ে মানুষের হাততালি কুড়িয়েছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনকে বিচলিত করতে পারবেন না। কলাকোপাবাসী আমাকে চেনে এবং জানে। তাদের ভালোবাসা নিয়ে আমি এগিয়ে যেতে চাই।পরিশেষে আমি প্রকাশিত সংবাদ গুলোর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

আলহাজ্ব মো. ইব্রাহীম খলিল

দলীয় প্রার্থীর পক্ষে বক্সনগরে যুবলীগের কর্মী সভা

নবাবগঞ্জের বক্সনগর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াদুদ মিয়ার পক্ষে কর্মী সভা করেছে যুবলীগের নেতাকর্মীরা।সোমবার সন্ধ্যায় বক্সনগর খালপার-দিঘিরপাড় এলাকায় এ সভা করা হয়।

ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাসুদ মোল্লার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, ব্যারিস্টার এনায়েত বাতেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন খান, নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সারোয়ার হোসেন খান, যুবলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস, সারোয়ার হোসেন বুলু, ছাত্রলীগ নেতা শেখ তানজিল হোসেন অপু, কামরুজ্জামান সবুজ, শোভন সিকদার প্রমূখ।

গরমে পায়ের যত্ন

গ্রীষ্মের অতিরিক্ত রোদ পায়ের ত্বকও পুড়িয়ে দেয়। তাই যতটা সম্ভব পা ঢেকে রাখতে হবে। এ বিষয়ে কথা বলেন ফারজানা শাকিল মেইকওভার স্যালনের কর্ণধান ফারজানা শাকিল। গরমকালে পায়ের বিশেষ যত্নের ব্যাপারে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

“গ্রীষ্মে যতটা সম্ভব পা ঢাকা পোশাক পরতে হবে। তবে পায়ের পাতা রোদ থেকে বাঁচাতে অবশ্যই বেশি এসপিএফ সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। তাছাড়া চাইলে পাতলা মোজাও পরা যেতে পারে।” বললেন তিনি।

তিনি আরও পরামর্শ দেন, এই সময়ে অবশ্যই পা ঢাকা জুতা পরতে হবে। এতে পায়ে রোদের তাপ সরাসরি লাগবে না এবং পায়ের ত্বক পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ থাকবে।

গরমে তুলনামুলকভাবে বেশি যত্ন নেওয়া উচিত পায়ের। এছাড়া অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

“গরমের সময় পায়ের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হতে হয়। নিয়মিত পা পরিষ্কার করা এবং নিয়ম করে পেডিকিওর করিয়ে নিলে পায়ের ত্বক পরিষ্কার থাকে। আর রোদপোড়া-ভাবও কমে যায়।” এমনটাই বলেন ফারজানা শাকিল।

রোদপোড়া দাগ দূর করতে একটি ঘরোয়া প্যাক তৈরির প্রক্রিয়া জানান তিনি।

চন্দন, মুলতানি মাটি, দুধ ও পাকাকলা চটকে মিশ্রণ তৈরি করে তা পায়ে লাগালে পায়ের ত্বক কোমল হবে এবং রোগেপোড়া দাগ কমবে। তাছাড়া নিয়মিত লেবুর রসে তুলা ভিজিয়ে পায়ে লাগাতে হবে। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে। লেবুর রস ত্বকের রং উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। তাই রোদপোড়া দাগ দূর করতে এটি খুবই কার্যকর উপায়।

তিনি আরও বলেন, “সপ্তাহে একদিন কুসুম গরম পানিতে ভিনিগার বা লেবুর রস ও শ্যাম্পু মিশিয়ে পা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে পায়ের মৃতকোষ উঠে আসবে এবং ত্বক নরম হবে। কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখার পর ‘পা মাজনি’ বা ‘ঝামা’ দিয়ে পা ঘষে নিতে হবে। এতে পায়ের ময়লা ও শুষ্ক চামড়া পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

গরমে পায়ের নিয়মিত যত্নের ক্ষেত্রে আরও কিছু সাধারণ ধাপ খেয়াল রাখতে হবে।

– রোদ থেকে ঘরে ফিরে প্রথমেই পা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর পা মুছে হালকা ভেজা পায়েই বেশি করে ঘন ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিতে হবে। এতে রোদে ও তাপের কারণে পা যে আর্দ্রতা হারাবে তা আবার ফিরে পাবে।

– অতিরিক্ত রোদের তাপ, ধুলাবালি এবং অযত্ন পা ফাটার মূল কারণ। তাই যাদের পা শুষ্ক হয়ে যায় এবং পা ফাটার সমস্যা আছে তাদের উচিত রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পায়ে নারিশিং জেল ব্যবহার করা।

–  পা ফাটা, পায়ের চামড়ায় পোড়া দাগ ইত্যাদি দূর করতে প্রতি দুই সপ্তাহ পর পর পেডিকিওর করানো উচিত। গরমে পায়ে আর্দ্রতা ধরে রাখবে এমন পেডিকিউর করানো উচিত। অ্যালোভেরা অথবা চকলেট পেডিকিওর এই মৌসুমের জন্য উপকারী।

– পায়ের ত্বকে যেন ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ না হয় এবং মৃত কোষ দূর করতে নারিশিং ফিট বাম বা লোশন ব্যবহার করতে হবে। আর ঘর থেকে বের হওয়ার ২০ মিনিট আগে বেশি মাত্রার এসপিএফযুক্ত সানস্ক্রিন লোশন মেখে নিতে হবে।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

0

নিউজ৩৯.নেট-এ প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন যুবদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন হিটু। তিনি নিউজ৩৯.নেট কে বলেছেন, তিনি বিএনপি থেকে কোন সুবিধা নেন নি। বরং দলের জন্য তিনি খরচ করেছেন। বিএনপি যখন সরকারী দল থেকে বিরোধী দলে এলো তখন তিনি যুবদলে যোগ দেন আর সেক্ষেত্রে তাকে প্রেরণা জুগিয়েছেন সাবেক সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও তার বোন জুবিলী আক্তার। তিনি আরো বলেন, ব্যা. নাজমুল হুদা যখন বিএনপি তে ছিলেন তখন তিনি ব্যা. হুদার সাথে রাজনীতি করেছেন। যখন বিএনপি তে তার ফিরে আসার সম্ভাবনা আর নেই তখন তিনি তার রাজনৈতিক সাহচার্য পরিত্যাগ করেছেন। আর যুবদলের পূর্বের কমিটি থানা ভিত্তিক না হয়ে শুধু একটি গ্রাম ভিত্তিক হওয়ায় অন্য কোন যুবদল নেতা-কর্মী সক্রিয় হন নি।

প্রতিবেদকের বক্তব্য: নিউজ৩৯ এর প্রতিবেদকের ভাষ্য সাক্ষাৎকার ভিত্তিক তথ্য অনুসন্ধানী সংবাদের মাধ্যমে সংবাদটি করা হয়েছে। বিগত কমিটি নিস্ক্রিয়তার অভিযোগেই কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। আর জনাব সাজ্জাদ হোসেন হিটু এর ব্যাপারে অনেকের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে।