বিলাশপুরে খালের কচুরিপানা অপসারণে জামায়াতের জনসেবামূলক অভিযান

ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) সংসদীয় আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এমপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের নির্দেশনায় দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নে খালের কচুরিপানা অপসারণ করেছে জামায়াতে ইসলামী দোহার উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা। দীর্ঘদিন ধরে খালটি কচুরিপানায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল, ফলে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং কৃষিকাজসহ স্থানীয় পরিবেশে নানা সমস্যা দেখা দেয়। বিষয়টি স্থানীয় জনগণের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ অবস্থায় জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত পদক্ষেপ নেন ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম। তার  নির্দেশনায় ও তত্ত্বাবধানে জামায়াতের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খাল থেকে কচুরিপানা অপসারণে অংশগ্রহণ করেন।

এই উদ্যোগকে স্থানীয় বাসিন্দারা অত্যন্ত প্রশংসার চোখে দেখছেন। তারা জানান, খালের পানি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় কৃষিকাজে সুবিধা হবে এবং মশা ও দুর্গন্ধজনিত সমস্যা থেকেও মুক্তি মিলবে। জামায়াত নেতৃবৃন্দ জানান, “এই কার্যক্রম কেবল খাল পরিষ্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি এলাকার জনস্বার্থে এবং পরিবেশ রক্ষায় একটি প্রতীকী পদক্ষেপ। ভবিষ্যতেও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।”

বিলাশপুরে খালের কচুরিপানা

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম বলেন, “জনগণের সমস্যা মানেই আমাদের দায়িত্ব। আমরা রাজনীতি করি জনগণের কল্যাণের জন্য। জনগণের পাশে থেকেই আমরা পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চাই।” অনেকেই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতের জন্য এমন আরও উদ্যোগ কামনা করেছেন।

রাত পোহালেই এইচএসসি পরীক্ষা: দোহারে যানজটসহ নানা দুর্ভোগে পরীক্ষার্থীরা

আগামীকাল শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। তবে ঢাকার দোহার উপজেলায় পরীক্ষার্থীদের জন্য তৈরি হয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ—যানজট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ভারী যানবাহনের চলাচল ও শব্দদূষণ, যা পরীক্ষার্থীদের মনোযোগ ও প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

এই পরিস্থিতি নিরসনে দোহার উপজেলা প্রশাসন, দোহার পৌরসভা, দোহার থানা কর্তৃপক্ষের কাছে “সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের” পক্ষ থেকে ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেছে দোহার উপজেলা সাধারণ ছাত্র পরিষদ। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১. পরীক্ষাকেন্দ্র এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা
২. পরীক্ষাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা
৩. ভারী যানবাহনের চলাচল বন্ধ রাখা
৪. পরীক্ষাকেন্দ্র এলাকায় শব্দদূষণ রোধ করা
৫. পরীক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা
৬. যানজটপ্রবণ এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন
৭. পরীক্ষাকেন্দ্র সংলগ্ন দোকানপাট নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বন্ধ রাখা
৮. জরুরি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা

এই দাবিসমূহের অনুলিপি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। স্মারক লিপি প্রদান করেন, মাসুদুর রহমান আদনান, সোহেল বেপারি,শেখ রাকিব, দেলোয়ার হোসাইন তারিফ, আসিফ সজল, শান মাহমুদ শান্ত, রাকিব দেওয়ান,রাসেল হোসেন,সজীব বাদশা, আমির হোসাইন শাফিন,আব্দুর রহমান, আব্দুল্লাহ, মোঃ সাউথ, রিমন ,আবির হযরত, রিশাত মাহমুদ, জিসান আহমেদ, মোঃ ইউসুফ, নুসরাত পায়েল, বিল্লাল হোসেন, তপু গাজী, সাঈদ আহমেদ।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা দিতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা থাকবে।

বৃহস্পতিবার শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে ১২ লাখ ৫১ হাজার শিক্ষার্থী

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২৬ জুন)। সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে শুরু হবে লিখিত পরীক্ষা, যা চলবে ১০ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর শুরু হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা।

এবার সারা দেশে মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি, আলিম পরীক্ষার্থী ৮৬ হাজারের বেশি এবং কারিগরি বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৯ হাজারের বেশি। দেশের ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৮১ হাজার ৮৮২ জন। ২০২৪ সালে মোট ১৩ লাখ ৩২ হাজার ৯৯৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবারও পরীক্ষা সুষ্ঠু, নিরাপদ ও নকলমুক্ত রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের গুজব প্রতিরোধ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গুজব থেকে পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিতে দেশের সব কোচিং সেন্টার আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা মঙ্গলবার (২৪ জুন) জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

এ বছর পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। এর মধ্যে রয়েছে- পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকা, ওএমআর শিটে সঠিকভাবে তথ্য লেখা ও বৃত্ত ভরাট, উত্তরপত্র ভাঁজ না করা, শুধু সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা এবং বহুনির্বাচনি ও সৃজনশীল পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি না থাকা, পরীক্ষার কেন্দ্রে কোনো অবস্থাতেই মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না, তত্ত্বীয়, এমসিকিউ এবং ব্যবহারিক পরীক্ষায় পৃথকভাবে পাস করতে হবে। এ ছাড়া পরীক্ষার্থী শুধু প্রবেশপত্রে উল্লিখিত বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে এবং স্থানান্তরের মাধ্যমে আসনবিন্যাস করা হয়েছে, অর্থাৎ নিজ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা নেওয়া হবে না। প্রতিটি অংশের উপস্থিতি পত্রে পরীক্ষার্থীদের স্বাক্ষর দেওয়া বাধ্যতামূলক।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক খন্দকার এহসানুল কবির জানিয়েছেন, এবারের এইচএসসি পরীক্ষার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।

স্বাস্থ্যবিধির দিকটিও উপেক্ষিত হয়নি। শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, কেন্দ্রে প্রবেশের সময় পরীক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে।

দোহারে ৬ দফা দাবিতে স্বাস্থ্য সহকারীদের অবস্থান কর্মসূচি পালন

ডেস্ক রিপোর্টঃ ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় স্বাস্থ্য সহকারীরা ৬ দফা দাবির বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন, দোহার উপজেলা শাখার আয়োজনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত মাঠ পর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারীদের নিয়োগবিধি সংশোধন করে স্নাতক বা সমমান সংযুক্ত করে ১৪তম গ্রেড প্রদান, ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ, টেকনিক্যাল পদমর্যাদা, ধারাবাহিক পদোন্নতির মাধ্যমে উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিত করাসহ মোট ৬ দফা দাবির দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য সহকারীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে করোনাকালীন সময়সহ প্রতিটি স্বাস্থ্য সংকটে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ তাদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

এই অবস্থান কর্মসূচিতে দোহার উপজেলার সকল স্বাস্থ্য সহকারী একত্রিত হয়ে দাবি আদায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানান।

দোহারে পুলিশের বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দোহার ঢাকার দোহার উপজেলার সুতারপাড়া এলাকায় পুলিশের পরিচয়ে এক যুবককে আটকের পর ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী লিমন হোসেন ও তার পরিবারের অভিযোগ, দোহার থানার দুই এএসআই আরিফ ও মনির এই ঘটনায় জড়িত। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থানা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৩ মে দুপুরে সুতারপাড়া হলের বাজার থেকে ব্যক্তিগত কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন লিমনের ছোট ভাই ইমন। বাড়ির মাত্র ১০০ গজ দূরে পৌঁছালে, হঠাৎ দুই ব্যক্তি তার গতিরোধ করে নিজেদের দোহার থানার এএসআই আরিফ ও মনির পরিচয় দেন। তারা লিমনকে নানা প্রশ্ন করে এবং সার্চ করার নামে তার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন। পরে একজন মাস্ক পরা ব্যক্তি এসে পুলিশের কাছে কিছু হস্তান্তর করেন।

পুলিশ সদস্যরা এরপর লিমনকে জানায়, তার পকেটে ইয়াবা পাওয়া গেছে এবং তাকে আদালতে চালান দেওয়া হবে। তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে মোবাইল বিকাশে থাকা ১৪,৮০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। সেই টাকা বিকেল ৪:৩৩ মিনিটে ‘মোবাইল হসপিটাল’ নামক একটি বিকাশ এজেন্ট পয়েন্ট থেকে ক্যাশআউট করা হয়। এরপর পকেটে থাকা আরও ৮,৬০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর দুই এএসআই বলেন, মোবাইল ফেরত পেতে হলে আরও ৪০,০০০ টাকা দিতে হবে, নতুবা লিমনকে ইয়াবা মামলায় ফাঁসানো হবে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত লিমন তার ভাই ইমনকে ফোন দেন। ইমন কর্মস্থল থেকে অগ্রিম বেতনের ২০,০০০ টাকা নিয়ে আসেন এবং কাজীরচরের বড় ব্রিজের উপর রাত ৭:৩০ মিনিটে দুই পুলিশ সদস্যের হাতে সেই টাকা তুলে দেন। বিনিময়ে মোবাইলটি ফেরত দেওয়া হয়। এভাবে তিন ধাপে মোট ৪৩,৪০০ টাকা আদায় করেন দুই অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা।

অভিযোগের বিষয়ে এএসআই মনিরকে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথমে ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করেন। পরে জানান, “একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। ভাইয়ের সাথে মিটমাট হয়ে গেছে।” তিনি আরও বলেন, “ভাই, আপনি চাইলে আমার ক্ষতি করতে পারেন। আমার চাকরি নিয়ে সমস্যা হবে। বিকেলে দেখা করেন, কথা বলি, তারপর প্রয়োজন হলে নিউজ করেন।”

ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, ইতোমধ্যে পুলিশের হেডকোয়ার্টার ও রেঞ্জ ডিআইজি বরাবর অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে। একই সাথে তারা নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে আছেন। লিমন বলেন, “ভাই, বিভিন্ন দিক থেকে ফোন ও চাপ আসছে। পরিবার নিয়ে আতঙ্কে আছি।”

স্থানীয় এক ব্যক্তি (নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক) বলেন, “পুলিশ যদি ভয় দেখিয়ে টাকা তোলে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? আমরা তো পুলিশের কাছেই নিরাপত্তা চাই। অথচ এখন পুলিশকেই ভয় পাই।”

এই বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ বলেন, “এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত। যদি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য হয়, তবে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভুক্তভোগী আইনি সহায়তা চাইলে, তা নিশ্চিত করা হবে।”

দোহার সার্কেল এএসপি আশরাফুল আলম বলেন, “আমাদের কাছে সরাসরি কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিন শোল্লা থেকে গ্রেপ্তার

ঢাকা উত্তরের যুব মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। তাঁকে রবিবার (২২ জুন) গভীর রাতে নবাবগঞ্জের আওনা এলাকায় তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ ।

গত ৫ আগষ্টের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় তাঁর নামে রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

সে নবাবগঞ্জে উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের আওনা গ্রামের হাবিবুর রহমান ভ‚ইয়ার মেয়ে।

পুলিশ সূত্রে জানায়, সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিন ৫ আগষ্টের পর নবাবগঞ্জে বাবার বাড়িতে পালিয়ে থাকে। এ সংবাদ পেয়ে ঢাকার গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় রবিবার গভীর রাতে অভিযান চালায় নবাবগঞ্জের আওনা এলাকায় । পরে শোল্লার আওনা গ্রামে তাঁর নিজ বাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা যায়, তুহিনকে ধরতে এলে তিনি ফেসবুক লাইভে গিয়ে পুলিশ তাঁর বাড়ীঘর ঘেরাও করে ভাংচুর করছে বলে চিৎকার করেন। পরে নবাবগঞ্জ থানার ওসি মমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের এক নেতা জানান, তুহিন এমপি থাকা অবস্থায় শুধু ঢাকার মিরপুরেই নয় নবাবগঞ্জেও ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে। তুহিনের এক বোন হালিমা আক্তার লাবন্য ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ঢাকায় বসবাস করলে তৎকালীন ঢাকা- আসনের এমপি সালমান এফ রহমানের সাথে সখ্যতা গড়ে জেলার এ পদ বাগিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আরেক বোন মামনী ভূইয়া ঢাকা জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন। এ সময় তাঁরা তদবির বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। হাতিয়ে নেন বিপুল অর্থ। রাজধানীর গুলশানে ওয়েষ্টিন হোটেলে বির্তকিত যুবলীগ নেত্রী পাপিয়া কান্ডের ঘটনায়ও জড়িয়ে পড়েন এ সাবেক এমপি তুহিন।

এ বিষয়ে ডিবির পরিদর্শক নজরুল ইসলাম বলেন, সাবেক এমপি তুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর নামে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

শাপলা-কলম-মোবাইল প্রতীক চায় এনসিপি

রাজনৈতিক দল হিসেবে শাপলা, কলম ও মোবাইল প্রতীক পাওয়ার দাবি জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধন আবেদন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

রবিবার নির্বাচন ভবনে আবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানান দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী।

তিনি বলেন, আমাদের দাবি শাপলা প্রতীক। তবে আমরা কলম ও মোবাইলও প্রতীক হিসেবে আবেদনে উল্লেখ করেছি।

এসময় এসময় দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনসহ দলটির অন্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

দক্ষিণ জয়পাড়ায় যৌথ অভিযানে বিদেশি মুদ্রাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী আটক

মাহমুদুল হাসান সুমন : ঢাকার দোহার উপজেলায় দক্ষিণ জয়পাড়া এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (২২ জুন) রাত আনুমানিক ২টায় উপজেলার দক্ষিণ জয়পাড়া এলাকার কুটি মুন্সীর হল সংলগ্ন মাদক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শহীদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে ও তার দুই সহযোগী ইলিয়াস (৩৮) ও সজীব (৩৩) কে আটক করে যৌথ বাহিনী।

অভিযানে ২,০০০ পিস ইয়াবা, ১৬টি দেশীয় অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকাসহ কিছু বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দোহার সেনাবাহিনী ক্যাম্পের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়, যেখানে দোহার থানা পুলিশের একটি দল সহায়তা করে।

সেনাবাহিনী আটককৃত ব্যক্তিদের এবং জব্দকৃত মালামাল দোহার থানায় হস্তান্তর করেছে। দোহার থানার ওসি (তদন্ত) মো. নূর-উন- নবী ইসলাম জানিয়েছেন, শহীদ ও তার ভাইদের নামে পূর্বেও একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে। আটককৃতদের রবিবার আদালতে প্রেরণ করা হবে।

পদ্মা কলেজে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প: সেবা নিলেন সহস্রাধিক

ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকার দোহার উপজেলার পদ্মা সরকারি কলেজে দারিদ্র্য দূরীকরণ সংস্থা (দাদূস) বন্ধু কল্যাণ সোসাইটি ৯৩ এসএসসি ব্যাচের যৌথ আয়োজনে একদিনব্যাপীফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অ্যান্ড হেলথ অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রামঅনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলা এই স্বাস্থ্যসেবায় প্রায় এক হাজার রোগী বিভিন্ন রোগের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ পরামর্শ গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) প্রফেসর . আর খান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) প্রফেসর লিজা চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিএমএইচএর প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) কেএম ওমর হাসান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রুকিয়া পারভীন জুঁই, মহিলা শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নাঈমুল আজম খান, পিজি হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ডা. মো. ফেরদৌসুর রহমান বিদ্যুৎ, বাংলাদেশ ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট কে এম আজিজুর রহমান বাবুল শিকদার, এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের সিএফও আবুল বশির খান প্রমুখ।

দাদূসএর সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান খান এবং বন্ধু কল্যাণ সোসাইটি ৯৩ ব্যাচের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন জানান, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই আয়োজন, যাতে দোহার এলাকার সাধারণ মানুষ সহজে বিনামূল্যে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পান।

ক্যাম্পে উপস্থিত দেশবরেণ্য চিকিৎসক সেবাদানকারীরা আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

নবাবগঞ্জ হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

মো সোহেলঃ মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানা পুলিশের অভিযানে গাজীপুর থেকে মো. মনির হোসেন (২৮) নামে এক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় মনির হোসেন এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের ৩০ মে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ৮ম আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৯ জুন রাতে গাজীপুরের বাসন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মনির হোসেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ চারিগ্রাম এলাকার সোনা মিয়ার ছেলে।

রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। অবশেষে সিংগাইর থানার এএসআই আব্দুল জলিল ও এএসআই ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ দল তাকে গ্রেপ্তার করে।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেওএম তৌফিক আজম জানান, “আসামি মনির হোসেনকে শুক্রবার (২০ জুন) বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”