দোহারে মাদক ব্যবসায়ীর কারাদন্ড

ঢাকার দোহারে ফরিদ হোসেন (৩৬) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ৬ মাসের কারাদন্ড দিয়েছে দোহার উপজেলা ভ্রাম্যমান আদালত।

জানা যায়, ঢাকার দোহার উপজেলার নয়াবাড়ী ইউনিয়নের আন্তা এলাকায় শক্রবার রাতে দোহার থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোঃ ফরিদ হোসেন কে তার নিজ বাড়ি থেকে ৩৩ পিস ইয়াবাসহ আটক করে।

এই ব্যাপারে দোহার থানার এসআই আল মামুন জানায়, শনিবার সকলে ফরিদ হোসেনকে ভ্রাম্যমান আদালে নিলে। উপজেলা আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট কেএম আল আমিন তাকে ছয় মাসের কারাদন্ডের নির্দেশ দিয়ে কারাগারে প্রেরন করে।

জয়পাড়া পূর্ব-বাজার নির্বাচন সম্পন্ন

নিউজ৩৯ঃ
শনিবার জয়পাড়া পূর্ব বাজার নির্বাচন অনিষ্ঠিত হয়েছে। তীব্র উত্তেজনা পূর্ণ এই নির্বাচন জাঁকজমক পূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ৩টা পর্যন্ত এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোটার ছিল ৩৮৪ । ভোট প্রয়োগ করেছেন ৩৮০ জন।
সভাপতি পদে বিগত কমিটির সভাপতি আব্দুল করিম ব্যাপারী ছাতা প্রতীকে ২৪৫ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী সাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৫৯ ।


সহ সভাপতি পদে হরিণ প্রতীকে আবুল হাশেম ২১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী তালা চাবি প্রতীকে সুকুমার বণিক পেয়েছেন ১৪৯ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ জুলহাস গোলাপ ফুল প্রতীকে ১৯৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী দোয়াত কলম প্রতীকে মোঃ মঈন হোসেন হোসেন পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
সাংগাঠনিক পদে মোঃ সোলায়মান হোসাইন গরুর গাড়ি প্রতীকে ২৫৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী পরিমল চন্দ্র শীল টেলিভিশন প্রতীকে পেয়েছেন ১১৬ ভোট।

যেমন আছেন আলেম মুক্তিযোদ্ধারা

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সমর ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণে কাজ করেছেন অনেক আলেম। জামায়াতে ইসলাম আর নেজামে ইসলাম পার্টি পাকিস্তানি সরকারের পক্ষে কাজ করলেও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও দারুল উলুম দেওবন্দের অনুসারী অনেক আলেমই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে ছিলেন। এদের মধ্যে জামিয়া হোসাইনিয়া আরজাবাদ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আল্লামা মোস্তফা আজাদ, মাওলানা উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী, মাওলানা আবদুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসঊদ, হাফেজ ক্বারী ইউসূফ অন্যতম। বর্তমানে তাদের কেউ কেউ গুরুতর অসুস্থ, কেউ বা প্রবাসী।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি মাওলানা মোস্তফা আজাদ মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি সশস্ত্রযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। তার বাবা ছিলেন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার মেজর। স্থানীয় যুবক, ছাত্রদের নিয়ে পাকিস্তানিদের প্রতিহত করতে গ্রামের মাঠে ট্রেনিং দিয়েছেন তিনি। গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানাধীন ধলগ্রাম ইউনিয়নের সাধুহাটি গ্রামের মাঠে ট্রেনিং সেন্টার খুলেছিলেন মোস্তফা আজাদের বাবা। মুক্তিযুদ্ধে তার যুদ্ধের এলাকা ছিল মেজর অব. জলিলের নেতৃত্বাধীন ৯ নং সেক্টর (বৃহত্তর খুলনা ও বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চল)।

মোস্তফা আজাদের ছেলে আরজাবাদ লালকুঠি বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা জুলকারনাইন বিন আজাদ বাবার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘একাত্তরে তিনি লালবাগ মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণও শুনেছিলেন। তিনি ও লালবাগ মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থী রেসকোর্স ময়দানের সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় হত্যা চলছিল, জুলুম নির্যান চলছিল। আমার আব্বা মাওলানা মোস্তফা আজাদ ২৫ মার্চ রাতেই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন।’

মোস্তফা আজাদ এখন ভীষণ অসুস্থ। বর্তমানে তিনি ভারতের চেন্নাইয়ে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মাওলানা জুলকারনাইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আব্বার দুটি কিডনিই ড্যামেজ হয়ে গেছে। বাংলাদেশের চিকিৎসকরা তাকে ভারতের নেওয়ার পরামর্শ দিলে তাকে সেখানেই নেওয়া হয়। তবে অনেক বেশি অর্থের কারণে ডায়ালাইসিস করা সম্ভব হয়নি। আব্বার সঙ্গে চেন্নাইতে আমার আম্মা, খালাত ভাই ও চাচা আছেন।’

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে মাজার জিয়ারতে মাওলানা জালালাবাদীআলেম মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে প্রথম কাজ করেন আলেম-সাংবাদিক মাওলানা শাকের হোসাইন শিবলী। তার ‘একাত্তরের চেপে রাখা ইতিহাস: আলেম মুক্তিযোদ্ধার খোঁজে’ শীর্ষক গ্রন্থে উল্লেখ করেন, মাওলানা মোস্তফা আজাদ রাগে-ক্ষোভে মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট ছিঁড়ে ফেলেছেন। গ্রন্থে মোস্তফা আজাদ বলেন, ‘আমি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। ৭১-এর নয় মাস পাকসেনাদের বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছি বহুবার। এটা আমার গর্ব। আমার অহঙ্কার। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ওসমানীর সার্টিফিকেট ছিল আমার কাছে। সেই প্রমাণপত্র আমি ছিঁড়ে ফেলেছি এ অফিসকক্ষে। টুকরো টুকরো করে ছিঁড়েছি। কখন ছিঁড়েছি? যখন দেশের হালচাল পাল্টে গেছে। অযোগ্যরা ক্ষমতার মসনদে বসতে শুরু করেছে। রাজাকাররা রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধের পদক নিচ্ছে।’

মাওলানা মোস্তফা আজাদ একসময় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বেশি সক্রিয় তার পরিচালনাধীন আরজাবাদ মাদ্রাসা নিয়েই। ঢাকার অন্যতম বড় এই মাদ্রাসাটি তিনি প্রায় ৩৫ বছর ধরে পরিচালনা করছেন।

আলেম মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত মাওলানা শাকের হোসাইন শিবলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একাত্তরে ইসলামী দল ছিল তিনটি- জামায়াতে ইসলামী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও নেজামে ইসলাম পার্টি। জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে। তবে একাত্তরে জামায়াতে ইসলামী মাঠে-ময়দানে যতটা সক্রিয় ছিল নেজামে ইসলামী ততটা নয়। সাংগঠনিকভাবে জামায়াতের চেয়ে নেজামে ইসলাম অনেক দুর্বল ছিল। ঢাকা ও চট্টগ্রামের হাতেগোনা চার-পাঁচটি শহরেই কেবল এর কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল। জমিয়ত ছিল স্বাধীনতার পক্ষে। তবে দলটির তৎকালীন পদত্যাগী সভাপতি পীর মুহসিন উদ্দিন দুদু মিয়া ছিলেন পশ্চিমাদের সহযোগী।’

একসঙ্গে দুই ভাই আবদুল্লাহ সাঈদ জালালাবাদী ও উবায়দুল্লাহ সাঈদ জালালাবাদীএকাত্তরে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে কাজ করেছেন মাওলানা আবদুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদি ও তার ছোটভাই মাওলানা উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী। ছোটভাই উবায়দুল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের সাময়িক সার্টিফিকেট পেলেও মাওলানা আবদুল্লাহ কোনও সার্টিফিকেট গ্রহণ করেননি। ছোটভাইয়ের ওপরে আবদুল্লাহর বেশ অভিমান। কিছুটা রসিকতার সুরে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘উবায়দুল্লাহ নিজের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছে। বড় ভাইয়ের কথা ভুলে গিয়ে..হাহাহা।’

আবদুল্লাহ সাঈদ জানান, বর্তমানে তিনি মিরপুরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কাজ করছেন নানা প্রকল্পে। এর মধ্যে বিশ্বকোষ, তাফসীরগ্রন্থ আছে।

মুক্তিযুদ্ধে সাংস্কৃতিক ফ্রন্টে কাজ করার কথা উল্লেখ করে আবদুল্লাহ সাঈদ বলেন, ‘আমরা কাজ করেছি সাংস্কৃতিক ফ্রন্টে। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই ভারতে যাই। সেখান থেকে ফিরে বাংলাদেশের আলেমদের স্বাধীনতার পক্ষে একত্রিত করার চেষ্টা করি।’

কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই আলেম মুক্তিযোদ্ধার ছেলে মারুফ বিন আব্দুল্লাহ। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আব্বার ডায়াবেটিস আছে। চোখের অবস্থাও বেশি ভালো না। তবে তার খোঁজখবর নিতে কেউ-ই আসেন না। এখন তো আবার লেখালেখির কারণে আওয়ামী লীগের লোকেরা তার উপর অসন্তুষ্ট। লেখালেখির কারণে তাকে অপছন্দ করে। চাচা মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট পাইছেন। আব্বার এখানে সমস্যা আছে।’ তবে এ নিয়ে আবদুল্লাহ সাঈদ কোনও মন্তব্য করতে নারাজ।

আবদুল্লাহ সাঈদের ছোটভাই মাওলানা উবায়দুল্লাহ সাঈদ। তিনি শব্দসৈনিক ছিলেন। তার সঙ্গে অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বড় ভাই আবদুল্লাহ সাঈদ জালালাবাদী জানান, উবায়দুল্লাহ জালালাবাদি শ্যামলীতে নিজের বাড়িতে থাকেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি আতাউল গণি ওসমানীকে সঙ্গ দিয়েছেন ঘনিষ্ঠভাবে।

মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগামী আলেম-মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম হাফেজ ক্বারী ইউসূফ এখন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। তার ছেলে ক্বারী আহমাদ বিন ইউসূফকে অনেকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। একাধিক আলেম জানান, ক্বারী ইউসূফ আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ এলাকায় বসবাস করতেন। বেশ কিছু বছর ধরেই তিনি আমেরিকায় বসবাস করছেন।

মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করেছেন মালিবাগ জামিয়া শরইয়্যাহ মাদ্রাসার প্রয়াত মহাপরিচালক মাওলানা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ। এছাড়া সারা দেশের অনেকে আলেমই মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে যুক্ত ছিলেন।

সরাসরি যুদ্ধ না করলেও স্বাধীনতার স্বপক্ষে যাদের ভূমিকা অগ্রগণ্য ছিল তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসঊদ। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের সময় আমি কিশোরগঞ্জের জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলাম। কোনও সশস্ত্রযুদ্ধে অংশ নিইনি। তবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করেছি। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছি। সাংগঠনিক কিছু কাজও করেছি। যুদ্ধের সময় আমি কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে ছিলাম।’

জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করতে তৃণমূলে ঐক্যের বিকল্প নেইঃ সালমা ইসলাম

 

জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করতে তৃণমূলে ঐক্যের বিকল্প নেই। মানুষের মাঝে থেকেই নেতাকর্মীদের জনপ্রিয়তা অর্জন করতে হবে। ১৯৭১ সালে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সুদৃঢ় ঐক্য হয়েছিল বলেই আমরা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজয় অর্জন করতে পেরেছি। পেয়েছি লাল-সবুজ একটি পতাকা। এখন সেই চেতনাকে ধারণ করে দেশ গড়ার কাজে নিজেদের আত্মনিয়োগ করতে হবে।

মহান বিজয় দিবস ও ১ জানুয়ারি ঢাকায় জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার নবাবগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টি আয়োজিত কর্মিসভায় সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম একথা বলেন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জের উন্নয়নে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। কিন্তু এজন্য প্রয়োজন দোহার-নবাবগঞ্জে পার্টিকে আরও বেশি শক্তিশালী করা। এ কাজটি করতে হলে নেতাকর্মীদের মিলেমিশে থাকতে হবে। একে অপরকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে। মানুষের দুঃখে পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে দলের প্রার্থীকে জেতাতে হলে এখন থেকেই মাঠ গোছাতে হবে। অন্য দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। সালমা ইসলাম আরও বলেন, সব শক্তি দিয়ে ১ জানুয়ারি পার্টির মহাসমাবেশ সফল করতে হবে। দোহার-নবাবগঞ্জ থেকে কমপক্ষে ৫ হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীকে মহাসমাবেশে যোগদানের ব্যবস্থা করতে হবে। কর্মিসভায় সালমা ইসলাম ধৈর্য সহকারে নেতাকর্মীদের কথা শোনেন এবং তাদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন কাজের তদারকিসহ উন্নয়নমূলক কাজ মানুষের সামনে তুলে ধরতে বলেন।

সভায় জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার নুরুল আনোয়ার বেলাল, নবাবগঞ্জ উপজেলা সদস্য সচিব শরফুদ্দিন শরীফ, যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েল আহমেদ, খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর চোকদার, মুরাদ মিয়া, মো. শাজাহান, কফিল উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দোহারে ইটের ভাটায় জ্বালানো হচ্ছে মধু বৃক্ষ গেঁজুরসহ ফলদ গাছ

 

ঢাকার দোহারে সদর আলী, সমির খালাসী ও জাহাঙ্গীর খালাসীর ইটের ভাটায় জ্বালানী হিসাবে ব্যাবহার করছে মধুবৃক্ষ গেঁজুর, আম,জাম,তেঁতুল ও নারিকেলের বৃক্ষ। এতে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্যতা ও দেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ফলদ বৃক্ষ।

জানা যায়, ঢাকার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের গোড়াবন এলাকায় সদর আলী ইট ভাটায় দিন রাত হরদমে পুড়িয়ে যাচ্ছে মধুবৃক্ষ গেঁজুরসহ ভিবিন্ন ফলদ বৃক্ষ। এবং ইট পোড়ানো ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ ও কৃষকের জমির ফসল।

স্থানীয় বাসিন্দা সফু বেপারী (৬৫) জানায়, আমিও আমার স্ত্রী মেয়ের বাড়িতে গিয়েছিলাম চার দিন পর এসে দেখি আমার দাদার হাতে লাগানো দুটি আম ও একটি গেঁজুর গাছ নেই ইট ভাটার মালিক, আমার ছেলের কাছ থেকে কিনে নিয়েছে।

সদর আলী ইট ভাটার পরিচালক রবিউল (৪০) জানায়, আমাদের পাথর কয়লা ব্যাবহার করা উচিৎ। গাছে করচ কম পরে তাই বর্তমান গাছই ব্যাবহার করছি।

দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগির হোসেন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল আমিন জানায়, আমরা জরুরি ভাবে বনবিভাগ কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিব।

দোহারে বিজয় দিবস পালিত

দোহার উপজেলায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। দোহারে বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১২টার পরে উপজেলা বিজয়স্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ঢাকা-১ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। এরপর পৃথকভাবে দোহার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র অঙ্গ সংগঠনসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দোহারে জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান করা হয়। সেখানে কুচকাওয়াজ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এই সময় প্রধান বক্তার বক্তব্যে এডভোকেট আব্দুল মান্নান খান বলেন, দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। এই সমৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

এছাড়া আইজিআর আব্দুল মান্নান মুক্তিযোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানান এবং দোহারের সাধারন মানুষ যাতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হয়রানী না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখার জন্য দোহার থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন।

তাছাড়া এ দুই উপজেলার বিভিন্ন সংগঠন বিজয় মেলা, বিভিন্ন ধরনের খেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

দোহারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এই সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, আইজিআর আব্দুল মান্নান, দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল আমিন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন আলী আহসান খোকন শিকদার।

অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দোহার উপজেলা প্রশাসন।

দোহারে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘর অযত্নে আর অবহেলায়

0

 

ঢাকার দোহারে ঐতিহাসিক পোদ্দার বাড়ি যাকে ৭১ সালে দোহার ও নবাবগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধাদের এই বাড়িতে ঘাটি ছিল। স্বাধীনতার ২ বছর পর সরকারী উদ্যোগে বাড়িটিকে মুক্তি যোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘর ঘোষনা করে সরকার। দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে পরে আছে অযত্নে আর অবহেলায়।

জানা যায়, উপজেলার জয়পাড়া এলাকায় হিন্দু জমিদার পোদ্দার ৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় সহপরিবারে ভারতে পালিয়ে গেলে দোহার ও নবাবগঞ্জের মুক্তি যোদ্ধারা পৌদ্দার বাড়িতে ঘাটি স্থাপন করে। দেশ স্বাধীন হলে জমিদার পৌদ্দার ফিরে না এলে ৭৩ সালে বাড়িটিকে মুক্তি যোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘর ঘোষনা করে সরকার। দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে সংস্কারে অভাবে ধষে পরছে বাড়িটির গায়ের সিমেটের আস্তর ইটা। হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহাসিক ৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ জমির উদ্দিন মুন্সি (৭০) জানায়, ৭১ এ আমরা দোহার নবাবগঞ্জের ৩৫ বা ৪০ জন মুক্তিযোদ্ধা এই পোদ্দার বাড়ির ঘাটিতে ছিলাম। এখন আমাদের নাম বাদ দিয়ে দুই উপজেলায় প্রায় ১২ শত মুক্তিযোদ্ধার নামের তালিকা আছে।

এই ব্যাপারে দোহার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সভাপতি রজ্জব আলী মোল্লা জানায়, জাদুঘরটির বিষয় নিয়ে আসলে কেউ ভাবেনা তবে সরকারের উচিত জাদুঘরটির দিকে নজর রাখা।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমিন জানায়, এই ব্যাপারে মুক্তি যোদ্ধারা কেউ আমার কাছে আসেনি।

 

 

পদ্মা কলেজে রোভার স্কাউটস এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত  

প্রথমবারের মত পদ্মা কলেজ রোভার স্কাউটস এর সদস্যরা তিনটি বিভাগে (সিনিয়র রোভার ম্যাট, রোভার ম্যাট,এসিস্ট্যান্ট রোভার ম্যাট) ভোটাভোটিরর মাধ্যমে বেছে নিল তাদের পছন্দের প্রার্থীকে। পরাজিত প্রার্থীরা পরাজয় মেনে নিয়ে ফুলের মালা দিয়ে বিজয়ীদেরকে বরণ করে নিয়ে যেকোনো নির্বাচনের ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো! ফলাফল ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অত্র কলেজের অধ্যক্ষ জনাব মুজিবল হায়দার বলেন- পরাজয় মেনে নিয়ে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করার নামই স্কাউটস। রোভার স্কাউটসরা শুধু পদ্মা কলেজই নয়, সারা বিশ্বে মানবতার কল্যানে কাজ করে যাচ্ছে। ভোটের উৎসব মুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়ায় অধ্যক্ষ প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক জনাব আলমগীর হোসেন এবং সহকারী নির্বাচন কমিশনার শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক ও সিনিয়র রোভার লিডার মোল্লা এমদাদুল হক চাঁনকে ধন্যবাদ জানান। সাথে সাথে বিজয়ীদেরকে তাদের পরবর্তি দায়িত্বগুলো স্মরন করিয়ে দেন। ফলাফল ঘোষনার সাথে সাথেই কলেজ ক্যাম্পাসে আনন্দে মেতে উঠে সকল রোভার স্কাউটস। তিনটি পদেই একাধিক প্রার্থী লড়াই করে, শেষ পর্যন্ত সিনিয়র রোভার ম্যাট হিসেবে নির্বাচিত হয় বিবিএ সম্মান শ্রেনীর গাজী নাদিম মাহমুদ, রোভার ম্যাট হিসেবে নির্বাচিত হয় শাকিল হোসেন এবং রিমন পাল ,এসিস্ট্যান্ট রোভার ম্যাট হিসেবে নির্বাচিত হয় রবিন।

দোহারে মহিলাসহ দুই গাঁজা ব্যবসায়ী আটক

 

ঢাকার দোহারে দেড় কেজি গাঁজাসহ জাহেদা (৪০) ও শাহিন (৩৮) নামে দুই গাঁজা ব্যবসায়ীকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ। জাহেদা উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের সাতভিটা এলাকায় ও মোঃ শাহিন উপজেলার জয়পাড়া এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানায়, শাহিন দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রি করে যুব সমাজকে দংশ করে যাচ্ছে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেনা। রবিবার সন্ধ্যা এস আই হাবিবুর ও পিএসআই নির্মল চন্দ্র সঙ্গী ফোর্সসহ ৫০০ গ্রাম গাঁজা নিজ বাড়ি থেকে শাহিনকে আটক করে।

অন্য দিকে উপজেলার নারিশা ইউনিয়নে সাতভিটা এলাকা থেকে রবিবার সন্ধ্যায় এস আই রিয়াজ মোর্শেদ ও সঙ্গী ফোর্সসহ ১ কেজি গাঁজাসহ নিজ বাড়ি থেকে জাহেদা নামে এক মহিলা মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। এই ব্যাপারে এস আই হাবিবুর ও রিয়াজ মোর্শেদ জানায়, তাদের নামে দোহার থানায় মাদক মামলা রজু করা হয়েছে।

 

দোহার নবাবগঞ্জে বাড়ছে শীতের প্রকোপ

দোহার নবাবগঞ্জে বাড়ছে শীতের প্রকোপ। ঘন কুয়াশা, কনকনে ঠান্ডা এবং হিমালয় থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। প্রচন্ড ঠান্ডায় কাজে যেতে পারছে না দোহার নবাবগঞ্জের কৃষক ও দিনমজুরেরা।

ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌছেছে ঢাকার দক্ষিনের এ দুই জনপদে । শীত বস্ত্রের অভাবে চরম কষ্টে দিন যাপন করছে দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করা দোহার নবাবগঞ্জের নিন্ম আয়ের অসহায় মানুষগুলো । দিনে যেমন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারপাশ তেমনি রাতে বাড়ছে ঠাণ্ডা । তীব্র শীত, কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল কমে গেছে। দিনের প্রায় মধ্যভাগ পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারপাশ। শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ।

এ দিকে বেচাবিক্রি বেড়েছে দোহার এবং নবাবগঞ্জের বিভিন্ন শীত বস্ত্রের দোকান গুলোতে।  বিক্রেতারা বলছেন শীতের শুরুতেই অনেক ক্রেতার সমাগম হচ্ছে তাদের বিপনী বিতানগুলোতে।  শীতবস্ত্রের বিক্রিও হচ্ছে খুব ভাল। তবে ক্রেতারা বরাবরের মতো অভিযোগ করছেন দাম নিয়ে তাদের অভিযোগ দাম একটু বেশী । এমনটাই জানা গেছে দোহারের জয়পাড়া বাজার এবং নবাবগঞ্জের বাগমারা বাজার ঘুরে।

আজকে দোহারের সবোর্চ তাপমাত্রা ছিল ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং নবাবগঞ্জের সবোর্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবওহাওয়া অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে সারাদেশের সঙ্গে পাল্লাদিয়ে আগামী কিছুদিনের মাঝে শীতের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে ঢাকার দক্ষিনের এ দুই জনপদে।