বর্ণিল আয়োজনে নবাবগঞ্জ এসোসিয়েশনের বনভোজন

প্রবাসের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন নবাবগঞ্জ এসোসিয়েশন অব ইউএসএ এর বনভোজন গত ৬ আগষ্ট রবিবার বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্ক লং আইল্যান্ডের হ্যাকশেয়ার স্টেট পার্কে। বনভোজনে জ্যাকসন হাইটস থেকে সকাল ১০টায় বাস ছেড়ে যায় পার্কের উদ্দেশ্যে। স্পর্টে পৌঁছার পরপরই নবাবগঞ্জবাসীর সবর উপস্থিতি বনভোজন মিলনমেলায় পরিনত হয়। এ সমেয় আমন্ত্রিত অতিথি ও প্রবাসী নবাবগঞ্জবাসী তাদের স্বাগত জানান সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মিলন মোল্লা, বনভোজন উপ-কমিটির আহবায়ক মনসুর আলম ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ উজ্জ্বল বিপুলসহ কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ ও বিশেষ অতিথি ঢাকা জেলা এসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা ডা: তাজুল ইসলাম, ঢাকা কলেজের সাবেক অধ্যাপক প্রফেসর আনোয়ার হোসেন, কুমিল্লা মহানগর সোসাইটির সভাপতি ইশতিয়াক রুমিসহ সংগঠনের কর্মকর্তাবৃন্দ সম্মিলিতভাবে বেলা ১২টায় বেলুন উড়িয়ে বনভোজনের উদ্বোধন করেন। এরপর শুরু হয় বিভিন্ন ইভেন্টে খেলাধুলা।

এতে ফুটবল প্রীতিম্যাচ, শিশু-কিশোর, বড়দের দৌড় প্রতিযোগিতা, যেমন খুশী তেমন সাজো, রশিটানাটানি, মহিলাদের বালিশ খেলাসহ বিভিন্ন ইভেন্টে সাজানো অনুষ্ঠান গুলো ছিল প্রানবন্দ্বকর।

সকালে নাশতা, দুপুরে খাবার, বিকেলে জ্বাল-মুড়ি, হটডগ, তরমুজ, তৃপ্তিসহকারে ভোগ করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। বনভোজনে আয়োজকদের চেষ্টা ছিল সবার কাছে উপভোগ্য এবং স্বতঃস্ফূর্ত করে তোলা। এতে খাবার পরিবেশন করেন নিউইয়র্কে জনপ্রিয় নীরব রেষ্টুরেন্টে। বিকেলে সেলিম ইব্রাহিমের পরিচালনায় সাংষ্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন রুবিনা শিল্পী, আয়শা আখতার, শাওন, সোমা রহমান, আইরিন গমেজ, সেলিম ইব্রাহিম।

বনভোজনে আকর্ষণীয় ইভেন্ট ছিল র‌্যাফেল ড্র। র‌্যাফেল ড্রতে প্রথম পুরস্কার স্বর্নালংকার, দ্বিতীয় পুরস্কার নিউইয়র্ক-ঢাকা- নিউইয়র্ক টিকিট, তৃতীয় পুরস্কার আইপ্যাড, চতুর্থ পুরস্কার ল্যাপটপ, পঞ্চম পুরস্কার ৩২ ইঞ্চি টেলিভিশন, ষষ্ঠ পুরস্কার ডিজিটাল ক্যামেরাসহ ১২টি আকর্ষণীয় পুরস্কার ছিল। র‌্যাফেল ড্রতে প্রথম পুরস্কার ইশরাত ইব্রাহিম, দ্বিতীয় পুরস্কার মিঠু, তৃতীয় ও চতুর্থ পুরস্কার পেয়েছেন ওয়াজেদ মিয়া। বিকেলে সংক্ষিপ্ত সভা সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো: মিলন মোল্লার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সাবির্ক তত্বাবধানে ছিলেন বদরুল ইসলাম খান বাদল, মীর রেজাউল হক রেজা, এস মিয়া তৌহিদ, রোকেয়া আক্তার, বখতিয়ার রহমান খোকন।

সহযোগিতায় ছিলেন, উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক তানভীর এ মিলন, মাহমুদ সিদ্দিক, মোহাম্মদ আলী, যুগ্ম সদস্য সচিব শেখ আব্দুল মালেক, গনেশ কীর্ত্তনিয়া, মজিবুর রহমান বাবু, রুবেল চৌধুরী। প্রধান সম্বয়কারী আমিন মেহেদী বাবু, সমন্বয়কারী মোহাম্মদ বাবুল দেওয়ান, এম, রহমান সাচ্চু, আপ্যায়নে ওয়াজেদ মিয়া, প্রচারে, আসাদ জামান, অর্থ সংগ্রহে শফিকুর রহমান সফিক, মোহাম্মদ উজ্জ্বল, ত্রুীড়া ছিলেন, মানিক মিয়া ওয়াদুদ, শামীম আহমেদ, শহিদুজ্জ্বামান বাবু, মো: পলাশ। ওয়াজেদ মিয়ার আপ্যায়নে উপস্থিত সকলে মুগ্ধ ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনায় সহযোগিতায় ছিলেন গণেষ কীর্ত্তনিয়া।

সমাপনি বক্তব্যে আমন্ত্রিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে সভাপতি মো: গিয়াস উদ্দিন বলেন, দেশ ও প্রবাসে নবাবগঞ্জবাসীর কল্যাণে আমরা এক ও অভিন্ন। আমরা চাই সকলের মধ্যে ঐক্য। আর আজকের আয়োজনে তার উজ্জ্বল প্রমাণ। তিনি বনভোজন সংগঠনের বর্তমান সাবেক কর্মকর্তা, র‌্যাফেল ড্র স্পন্সরসহ উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং সংগঠনের কল্যাণে দল ও মতের উর্ধে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

নবাবগঞ্জে পীরের আস্তানায় এলাকাবাসীর ভাংচুর

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুরে মহিনউদ্দিন ওরফে মহিন নামে এক ভণ্ড পীরের আস্তানায় ভাংচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। বুধবার দুপুরে স্থানীয় প্রায় শতাধিক মানুষ ওই ভণ্ড পীরের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ফকিরের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে তারা।

স্থানীয়রা জানান, এক সময় মহিন দিনমজুরের কাজ করা মহিন হঠাৎ করেই পীর সেজে বসেন এলাকায়। ২০/২২ বছর আগে তিনি ঝাড়ফুঁকের কাজ শুরু করেন। ক্রমেই এলাকায় পরিচিতি লাভ করেন মহিন ফকির হিসেবে। দিনে দিনে তার ভক্ত ও শিষ্যের সংখ্যা বাড়তে থাকে।  তবে বেশিরভাগ ভক্তই মহিলা। প্রতি বৃহস্পতিবার মহিলা ভক্তদের নিয়ে তার দরবার শরীফে বসানো হতো জলসা। সেই জলসায় চলতো অসামাজিক কর্মকাণ্ড। এভাবে চলছিলো তার ভণ্ডামি।

কিন্তু বিপত্তিবাধে ভণ্ড মহিন যখন তার এক ভক্তের বোনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করেন। এই ঘটনা নিয়ে মহিন ফকিরের সাথে ওই ভক্তের একাধিকবার কথা হয়। মহিন ফকিরের সাথে ওই ভক্তের একাধিক ফোনালাপের রেকর্ড এলাকায় ছড়িয়ে গেলে ফাঁস হয়ে যায় সকল ভণ্ডামি। রেকর্ডে ইসলাম ধর্ম বিরোধী কিছু কথা রয়েছে। রেকর্ড শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এছাড়া তার অনেক কুকীর্তির কথা ফাঁস হয়ে যায় ওই রেকর্ডের মাধ্যমে।

জানা যায়, এলাকাবাসীর হামলার সময় কৌশলে গা ঢাকা দেয় ভণ্ডপীর মহিন ও তার পরিবারের সদস্যরা। সে ওই এলাকারই হামিজ উদ্দিন মস্তানের ছেলে।

স্থানীয় খলিলুর রহমান বলেন, যে বাড়িটি ভাংচুর করা হয়েছে তা ৫/৬ বছর আগে মহিন ফকির তৈরি করেছেন। এখানে শুধু রোগিদের চিকিৎসা করতেন তিনি। কিন্ত এখন তো অনেক কিছু শুনতাছি। কিছু বিক্ষুব্ধ জনতা আজ বাড়িটি ভাংচুর করেছে।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য মহিন ফকিরের সাথে যোগাযাগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল বলেন, এখনো আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোহারে দাঁতের চিকিৎসায় দুর্দশা: চিকিৎসার নামে প্রতারণা

রাজধানী ঢাকা থেকে দোহার উপজেলায় আসতে সময় লাগে মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘন্টা। এখানকার বেশিরভাগ মানুষ প্রবাসী। বিধায় প্রায় প্রতিটি পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা মোটামুটি সচ্ছল। দোহার পৌরসভার জয়পাড়ায় আধুনিক বিপণি বিতান আর সরকারি-বেসরকারি অফিসের গমগমে ভীড়। বেসরকারি চিকিৎসা সেবার বাজারটি বেশ বড় এখানে। জয়পাড়া ব্রিজের ঢাল থেকে শুরু করে থানার মোড় পর্যন্ত একটু পরপরই চোখে পড়ে নানা রকম নামের বেসরকারি দাঁতের চিকিৎসালয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তাদের বেশির ভাগেরই সেবার মান নিম্মমানের। অনিয়মও আছে অনেক। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাব বলছে, দোহারে দাঁতের চিকিৎসালয় আছে মোট ১৫টি, এর ১০টিই আবার দোহার পৌর এলাকায় অবস্থিত। দাঁতের চিকিৎসালয়গুলো আকারে ছোট, দেখতে অনেকটা চিকিৎসকদের চেম্বারের মতো। একজন নিবন্ধিত দন্ত চিকিৎসক স্থানীয় সরকারের কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চিকিৎসালয় খুলতে পারেন।

সারা বিশ্বের নানান দেশে,মানুষের পছন্দের তালিকায় প্রথমে থাকা এই পেশায় ব্যাচেলর ডিগ্রীর নাম হল, বিডিএস বা BDS (Bachelor of Dental Surgery)। এছাড়াও বিশ্বে, ডক্টর অব ডেন্টাল সার্জারী,ডক্টর অব মেডিসিন (ডেন্টাল) ইত্যাদি নামে স্বীকৃত ডিগ্রী রয়েছে। বিডিএস পাশের পর এই ডাক্তারদের সাধারনত “Dentist” বলা হয়। যেমনভাবে, হার্টের চিকিৎসকদের Cardiologist, কিডনি,মূত্রাশয় চিকিৎসকদের Urologist,চোখের চিকিৎসকদের Opthlmologist ইত্যাদি বলা হয়।

দেশের একমাত্র ডেন্টাল কলেজ “ঢাকা ডেন্টাল কলেজ” আর বাকী আটটি সরকারী মেডিকেল কলেজে “ডেন্টাল ইউনিট” এর মাধ্যমে সরকারীভাবে এটি পড়ানো হয়। এছাড়াও বেসরকারী আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ডেন্টাল কলেজ রয়েছে এবং কিছু বেসরকারী মেডিকেলের সাথে ডেন্টাল ইউনিট রয়েছে। মেডিকেলের বেসিক সব সাব্জেক্টে এর সাথে ডেন্টাল এর কিছু বেসিক সাবজেক্ট মিলিয়ে এই বিদ্যা পড়ানো হয়। চার বছরের কোর্সের সাথে এক বছরের ইন্টার্নশীপ রয়েছে। এসব বিদ্যা শেষ করেই অর্জন করতে হয় ডাক্তারি সার্টিফিকেট। “এমবিবিএস” অথবা “বিডিএস’’ সার্টিফিকেট অর্জনের পরই তিনি নিজেকে চিকিৎসক বা ডাক্তার বলে পরিচয় দিতে পারেন না।

এবার দোহারে আসা যাক, পৌরসভার কর কার্যালয়ের তালিকার তথ্য মিলিয়ে দেখা যায়, পৌর এলাকায় অন্তত তিনটি চেম্বার ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই চলছে। গত ৩ দিনের অনুসন্ধান শেষে জয়পাড়ার আটটি দন্ত চিকিৎসালয় ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ চেম্বারে সেবা দিচ্ছেন ডেন্টাল টেকনোলজিষ্টরা। চিকিৎসালয় গুলোতে দেখা মেলেনি ‘বিডিএস’ ডিগ্রীধারী কোন চিকিৎসকের। অনেক চেম্বার ঘুপচি, সাজ সরঞ্জাম ও ঘরদোরও তাদের নোংরা। এমনই চিত্র ধরা পড়ল নিউজ ৩৯ এর ক্যামেরায় জয়পাড়া রতন স্বাধীনতা ভাস্কর্যের পাশে অবস্থিত “ঢাকা ডেন্টাল কেয়ার-২” নামে একটি চিকিৎসালয়ে। সেখানে গিয়ে দেখা মিলল “খালিদ হোসেন” নামে একলোকের এসময় তিনি এক শিশুর দাঁতের চিকিৎসা করছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে ছবি তোলায় তেরে আসেন সাংবাদিকদের দিকে। পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তিনি নিজেকে ‘ডাক্তার’ বলেই পরিচয় দিলেন। কিন্তু তিনি বিডিএস ডিগ্রীধারী কিনা তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার বিডিএস সার্টিফিকেট নেই। আমি ডিপ্লোমা কোর্স করেছি। তাই আমরা কিছু কিছু কাজ করতে পারি”। তিনি আরো বলেন, তাদের ১ম শাখা অর্থাৎ ‘ঢাকা ডেন্টাল কেয়ার-১’ এ বিডিএস ডাক্তার আছেন। তার কথা মতো জয়পাড়া হাই স্কুলের বিপরীতে অবস্থিত “ঢাকা ডেন্টাল কেয়ার-১” এ গিয়ে দেখা গেল নাহিদ উদ্দিন এবং মো. মাহফুজ নামে দুইজন লোকের। তারা সেখানে বসে আছেন। বিডিএস ডাক্তার আছেন কি না? জানতে চাইলে মাহফুজ সাহেব নাহিদকে দেখিয়ে বলেন, উনি বিডিএস ডাক্তার। কিন্তু নাহিদকে প্রশ্ন করা হলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, “আমি বিডিএস ডাক্তার নই, সপ্তাহে দুদিন ঢাকা থেকে বিডিএস ডাক্তার আসেন। তারাই রোগী দেখেন। আমরা শুধু হালকা কিছু কাজ করি। যেমন দাঁত তোলা, স্কেলিং করা ইত্যাদি”।

অপরদিকে জয়পাড়া মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের নিচ তলায় অবস্থিত “সবুজ ডেন্টাল কেয়ার” নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানে গিয়েও দেখা মিলল, সেখানে নেই কোন চিকিৎসক। বসে আছেন অনুপ দাস নামে এক ব্যক্তি। আপনাদের এখানে বিডিএস ডিগ্রীর চিকিৎসক সেবা দেন কিনা? জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, “আমাদের এই শাখায় কোন বিডিএস ডাক্তার নেই। কিন্ত অন্য শাখায় আছেন। আর এসব জেনে আপনি কি করবেন? লেখালেখি করেও কোন লাভ নেই। এতে আমাদের কিছুই হবে না”। তার কথামতো তাদের অন্য শাখা উপজেলা মার্কেটের দো’তলায় গেলে সেখানেও পাওয়া যায়নি কোন বিডিএস ডিগ্রীধারী চিকিৎসক। সেখানকার দায়িত্বে থাকা শেখর রায় নামে একজন জানালেন “তিনি একজন ডেন্টিষ্ট, ডিপ্লোমা কোর্স করেছেন। কিন্তু তিনি বিডিএস ডিগ্রীর নন”। তিনি আরো জানান, সপ্তাহে দুদিন ঢাকা থেকে বিডিএস চিকিৎসক আসেন তারাই রোগীদের চিকিৎসা করেন। আর তিনি শুধু দাঁত স্কেলিং করেন”।

জয়পাড়া মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের পাশেই দেখা মিলল আরেকটি চিকিৎসালয় নাম “মুক্তা ডেন্টাল কেয়ার-২”। দেখা গেল সেখান থেকে সেবা নিয়ে বেড়িয়ে যাচ্ছেন ৩ জন মধ্য বয়সী রোগী। সেখানে ঢুকে পাওয়া গেল নেপাল রায় নামে একজনকে। বিডিএস চিকিৎসক আছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি তাদের ১ম শাখায় যেতে বলেন। তার কথা মতো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রোডে অবস্থিত “মুক্তা ডেন্টাল কেয়ার-১” এ গিয়ে দেখা যায় ঘুপচি একটি ঘরে দাঁতের চিকিৎসার দুটি চেয়ার বসানো। রোগী চেয়ারে বসার পর শুধু চিকিৎসকের দাঁড়ানোর জায়গাটুকু থাকে। চেম্বারটির মালিক গোপাল চন্দ্র রায় নিজে দাঁতের চিকিৎসক নন। বিডিএস চিকিৎসক আছেন কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ‘দাঁতের সার্জন’ রফিক উদ্দিন এখানে রোগী দেখেন”। তার দেখাদেখি গোপাল নিজেও এখন দাঁত তোলেন এবং দাঁত ও মাড়ির ময়লা পরিষ্কার (স্কেলিং) করেন।

জয়পাড়া ব্রিজের ঢালে অবস্থিত আরেকটি প্রতিষ্ঠান নাম “জয়পাড়া দন্ত চিকিৎসালয়” সাইন বোর্ডে লেখা আছে “ভিতরে ডাক্তার বসেন। মুখের যাবতীয় চিকিৎসা অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা করা হয়”। কিন্তু ভিতরে গিয়ে পাওয়া গেল না কোন ডাক্তারের। দেখা গেল মো. বরকত আলী (রিমন) নামে একজন লোক বসে আছেন। ডাক্তার আছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ডাক্তার বলে পরিচয় দেন। বিডিএস ডিগ্রীর চিকিৎসক কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি বিডিএস ডাক্তার না। কিন্তু ডিপ্লোমা কোর্স করেছি। বিডিএস ডাক্তার প্রতি মঙ্গলবার বসেন। আর বাকি ৬ দিন আমিই রোগী দেখি”। ডাক্তার না হয়েও কিভাবে সপ্তাহে ছয় দিন তিনি রোগী দেখেন? এ প্রশ্ন করা হলে এর কোন সদোউত্তর দিতে পারেননি তিনি।

বাকী চেম্বারগুলোর মধ্যে মাত্র একটির মালিক ও চিকিৎসক যথাযথভাবে নিবন্ধিত। তিনটি চেম্বারের স্থায়ী কোন চিকিৎসক নেই তাদের ওখানে ঢাকা থেকে চিকিৎসক আসেন। বাকিগুলোতে চিকিৎসকের কাজ করছেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট বা চিকিৎসা সহায়তাকর্মীরা। চারটিতে চিকিৎসক মালিকেরা নিজেরাই চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। লাইসেন্স না থাকার দায়ে গত বছরের ২৯ আগস্ট উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত আলিফ ডেন্টালকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অননুমোদিত চিকিৎসকের হাতে খারাপ সেবার প্রদানের দায়ে একই দিন সবুজ ডেন্টাল কেয়ারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। দাঁতের চিকিৎসালয়গুলোতে প্রায়ই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

এ বিষয়ে নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল সার্জন ডা. যুবরাজ আহমেদ শামীম বলেন, ‘এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রী ছাড়া কেউ নিজেকে ডাক্তার বলে পরিচয় দিতে পারবেন না। যদি তা করে থাকেন তাহলে তারা রোগীদের সাথে প্রতারণা করছেন।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন নিউজ ৩৯ কে বলেন, যাচাই-বাছাই করে অতিশিঘ্রই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে.এম. আল-আমীন নিউজ ৩৯ কে বলেন, এর আগে ভূয়া ডেন্টালের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়েছিল। শিঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে আবারও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোহারে বৃদ্ধা হত্যায় ৪ জনের ফাঁসির রায়

ঢাকার দোহারের ৭০ বছর বয়সী আয়েশা বেগম হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নয় বছর আগের এই মামলায় সোমবার দুপুরে ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আহসান তারিক এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো রাজন খাঁ, শাহনাজ বেগম, সুমন বয়াতি ও মোহাম্মদ ফজল। প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

মামলার এজহার থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর দোহারের সুতারপাড়া গ্রামের আয়েশা বেগমকে আসামিরা ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তার গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে দুই-তিন কিলোমিটার দূরে লাশ ফেলে দেয়। হত্যার আগে আসামিরা ওই বৃদ্ধার গয়নাগাঁটি ও টাকা-পয়সা নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় বৃদ্ধার ছেলে আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে দোহার থানায় ওই দিনই হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে দোহার থানার এসআই মজিবুর রহমান ২০০৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। মামলা চলাকালে ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

রায়ে বলা হয়েছে, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তারা একজন বৃদ্ধাকে হত্যা করে তাঁর গয়না ও টাকা-পয়সা লুট করে নেয়। অপরাধের গভীরতা বিবেচনা করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়াই সমীচীন বলে আদালত মনে করেন। ’

রায় ঘোষণার জন্য পূর্বনির্ধারিত এই দিনে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানাসহ তাদের কারাগারে নেওয়া হয়। আদালত রায়ে বলেছেন, আসামিদের এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হবে। এ জন্য মামলার নথি দ্রুত হাইকোর্টে পাঠানোরও নির্দেশ দেন আদালত।

তবে আসামিরা ইচ্ছা করলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও করতে পারবে বলে রায়ে বলা হয়েছে।

মানবসৃষ্ট কারণে হুমকীর মুখে দোহারের নির্মাণাধীন বাহ্রা বাঁধ

পদ্মার ভয়াল আগ্রাসী থাবায় গ্রামের পর গ্রাম বিলীন হয়ে দোহারের অস্তিত্ব যখন সংকটের মুখে সেই তখন থেকে দোহারবাসীর দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল আজকের এই বাহ্রা বাঁধ। বর্তমানে, নগরজীবন থেকে খুব কাছাকাছি প্রাণ খুলে শ্বাস ও প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য একসাথে উপভোগের জন্য মিনি কক্সবাজার তথা মৈনটের পাশাপাশি বাহ্রা বাঁধও পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ঘুরতে আসা পর্যটকদের আকর্ষণ করতে বাঁধের পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ছোট বড় খাবারের দোকান।

কিন্তু এই হাজারো পর্যটক ও নদী পাড়ের কর্ম ব্যস্ততার ভিড়ে নির্মাণাধীন বাঁধটি কেমন আছে? সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই মাঠে নেমেছিল নিউজ ৩৯ এর প্রতিনিধি দল।

# বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায় বেশ কয়েকটি বালুবাহী ও যাত্রীবাহী ইঞ্জিন চালিত নৌকা বাঁধের জিও ব্যাগের উপর দিয়েই ভেড়ানো অবস্থায় রয়েছে। এতে চাপের মুখে পড়ছে জিও ব্যাগ।

# ইঞ্জিনচালিত এসব নৌকাগুলোর নোঙর জিও ব্যাগের সাথে লাগানো এবং অনেক স্থানে জিও ব্যাগের উপর দিয়েই নোঙর ফেলা হয়েছে। যেসব স্থানে নোঙর ফেলা হয়েছে সেসব স্থানে জিও ব্যাগ ফুটো হয়ে গিয়েছে।

# ইঞ্জিনচালিত নৌকার প্রান্তদেশের আঘাতে ফুটো হচ্ছে জিও ব্যাগ। যতবার একটি করে নৌকা ভিড়ছে ততবার নতুন করে একটি জিও ব্যাগ ফুটো হচ্ছে।

# নির্মাণাধীন বাঁধের জিও ব্যাগের উপর দিয়েই জনগণ বসছে। কেউ সিগারেটের শেষাংশ ফেলছে ব্যাগের উপর আবার কেউবা কাঠি দিয়ে জিও ব্যাগ ঘষছে। ছবিটি বাঁধের উপরের অংশ থেকে তোলা এবং খেয়াল করলেই বোঝা যায় কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে ধারালো কিছু দিয়ে জিও ব্যাগটি কেটেছে।

# বাঁধের বিভিন্ন স্থানে জিও ব্যাগের উপর মোটরবাইক পার্কিং করতে দেখা গিয়েছে। যে স্থানে পার্কিং করা হয়েছে সে স্থানেও জিও ব্যাগ ফুটো হয়ে গিয়েছে।

# বাঁধের নিচের দিকে পাড়ে আছড়ে পড়া পানির ধাক্কায় জিও ব্যাগ ভিজে যাচ্ছে এবং ব্যাগটি না শুকাতেই জনসাধারণ ব্যাগের উপর দিয়ে চলাচল করছে। বারংবার পায়ের চাপ পড়ায় জিও ব্যাগের ভেজা অংশটি এক পর্যায়ে ছিঁড়ে যাচ্ছে। বাঁধের বিভিন্ন যায়গা ঘুরে এরকম শতাধিক ফুটো দেখা গিয়েছে।

# ফুটো হওয়া স্থান দিয়ে জিও ব্যাগের অভ্যন্তরস্থ বালি বের হয়ে যাওয়ায় ব্যাগগুলো হালকা হয়ে যাচ্ছে। স্রোতের টানে একপর্যায়ে ব্যাগগুলোকে খুঁজেই পাওয়া যাবেনা।

# পর্যটকদের ফেলে যাওয়া ময়লা বিভিন্ন স্থানে জমে দুষিত করছে নির্মাণাধীন বাঁধের চারপাশ।

# নির্মাণাধীন বাঁধের জিওব্যাগগুলো সারিবদ্ধভাবে সাজানো থাকায় নিচের সারির একটি জিওব্যাগ ক্ষতিগ্রস্থ হলে তার প্রভাব উপরের সারির প্রত্যেকটি জিও ব্যাগের উপরেই পড়বে। পানি বেড়ে স্রোতের টানে ক্ষতিগ্রস্থ জিওব্যাগগুলো ভাসিয়ে নিলে পুরো বাঁধই ভাঙ্গনের হুমকীর মুখে পড়বে।

দোহারবাসীর দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল ও সরকারের শতশত কোটি টাকা ব্যায়ে পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষন প্রকল্প মানবসৃষ্ট কারনে ও ব্যবসায়ীক স্বার্থে হুমকীর মুখে পড়লে এই দায়ভার কখনোই দোহারবাসী এড়িয়ে যেতে পারবেনা। বর্তমানে হাজারো পর্যটকের মাঝে কতিপয় অসাধু ব্যক্তিদের থেকে নির্মাণাধীন বাঁধটি রক্ষা সম্ভব নয়। তাই নির্মানকাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাঁধ রক্ষায় এলাকাবাসীকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জ্ঞানীজনেরা।

অধিকাংশ খাল ভরাট, সামান্য বৃষ্টিতে দোহার পৌরসভায় জলাবদ্ধতা

দোহার উপজেলার বেশিরভাগ খাল ভরাটের কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয় বিভিন্ন এলাকায়। উপজেলার ৬৬টি খালের সবগুলোই ভরাট। অন্যদিকে উপজেলা ও পৌর এলাকার মধ্যে নেই পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এখন চলছে বর্ষা মৌসুম। বৃষ্টি ফসলের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এলেও এটিই এখন চলাচলের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দোহার উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার সাধারণ জনগণের কাছে।

সরেজমিন ঘুরে দোহার উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার এমন চিত্র দেখা গেছে। প্রায় প্রতিটি রাস্তাতেই এখন দেখা যাচ্ছে জলাবদ্ধতা। সাধারণ জনগণ, কর্মজীবী মানুষ ও স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দোহারের নারিশা ও সুতারপাড়া ইউনিয়ন এবং পৌরসভার ১, ২, ৩, ৬, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা সবচেয়ে বেশি। নারিশার চৈতাবাতর, পশ্চিমচর, লঞ্চঘাট, শিমুলিয়া, ঝনকি ও মালিকান্দা এলাকার ১৪-১৫টি খাল ভরাট করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

সুতারপাড়া ইউনিয়নে সব খাল প্রভাবশালীরা দখল করে ভরাট করার কারণে বর্তমানে খালের অস্তিত্ব চোখে পড়ে না। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে বাড়ি, দোকানপাট, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, টয়লেটসহ পাকা স্থাপনা। প্রভাবশালীরা দোহার পৌর এলাকায় ডোবা-নালা সব ভরাট করে ফেলেছেন। পৌরসভায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে মসজিদগামী মুসলি্ল, কর্মজীবী ও স্কুলগামী হাজারো ছাত্রছাত্রীকে। রাস্তায় জমে থাকা ময়লাপানিতে চলাচলের জন্য নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। দোহার থানার সামনের রাস্তায়ও বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে হাজারো পথচারীকে। উপজেলার কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পানি।

নারিশা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, নিয়মিত কর পরিশোধ করছে নারিশাবাসী। অথচ সামান্য বৃষ্টিতেই ঘর থেকে বের হতে পারি না রাস্তায়। জমে থাকে ময়লাপানি। স্থানীয় চেয়ারম্যান নিশ্চুপ! এ সমস্যার দ্রুত সমাধান চান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী (ভূমি) কমিশনার মো. ইমরুল হাসান জানান, তিনি এখানে নতুন যোগদান করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মুশফিকুর রহমান জানান, মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ বরাদ্দ না পেলে জলাবদ্ধতার নিরসন দ্রুত সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দোহার পৌরসভার চেয়ারম্যান আবদুর রহীম মিয়া বলেন, ‘জলাবদ্ধতার সমস্যা নতুন কিছু নয়। প্রতিবারই বর্ষা মৌসুমে এ সমস্যা দেখা দেয়। জমির দাম বৃদ্ধির ফলে মানুষ ডোবা-নালা সব ভরাট করে ফেলেছেন। এ কারণে বৃষ্টির পানি সরতে না পারায় রাস্তায় উপচে পড়ছে। এ ছাড়া এ পৌরসভায় বরাদ্দ কম।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন জানান, খুব শিগগির দখলকারীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে প্রশাসনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোহারে ইয়াবা ও হেরোইনসহ আটক ২

ঢাকার দোহার উপজেলায় ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুই যুবককে আটক করা হয়েছে, যাদের মাদক ব্যবসায়ী বলছে র‌্যাব। শনিবার দুপুরে র‌্যাব-১১ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আটকরা হলেন- উপজেলার সাতভিটা এলাকার রতন বেপারীর ছেলে খোকন বেপারী (৩২) ও একই এলাকার  আব্দুস সামাদ মৃধার ছেলে রিজু আহাম্মেদ (২২)।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সাতভিটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই দুই ‘মাদক ব্যবায়ীকে’ আটক করা হয়েছে। “এ সময় তাদের দেহ তল্লাশি করে ১৮০টি ইয়াবা ট্যাবলেট, পাঁচ গ্রাম হেরোইন ও মাদক বিক্রয়ের নগদ ৩ হাজার ৪৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়।”

আটক দুজনের বিরুদ্ধে দোহার থানায় একটি মাদক আইনের মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে এ র‌্যাব কর্মকর্তা জানান।

ভুলু চেয়ারম্যানের দোয়া মাহফিলে আওয়ামী লীগ নেতার হাতে লাঞ্চিত সংখ্যালঘু যুবক

দোহার উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও নয়াবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভুলুর দোয়া মাহফিলে নয়াবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান মশুর হাতে লাঞ্চিত ও মারধোরের শিকার হয়েছেন স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যুবক ও সিরাজুল ইসলাম ভুলুর ব্যক্তিগত কর্মচারী গৌতম বিশ্বাস।  গৌতম বিশ্বাস নয়াবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক সচিব গোবিন্দ বিশ্বাসের ছোট ছেলে।

গত বেশ কিছু দিন ধরে নয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভুলু ঢাকায় শারিরিক অসুস্থতার কারনে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার আশু রোগ মুক্তি কামনা করে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এই দোয়া মাহফিলে মিস্টির প্যাকেট বিতরনকে কেন্দ্র করে মোশিউর রহমান মশু বিনা কারনে সিরাজুল ইসলাম ভুলুর ব্যক্তিগত কর্মচারী গৌতমকে গালিগালাজ করেন। এই সময় নয়াবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বজলুর রহমান কামাল, মশিউর রহমানকে ফিরিয়ে দিলে সে আবার রাত্রে গৌতমকে আক্রমন করে। এই সময় সে বিনা কারনে গৌতমকে চর-থাপ্পর দেয়।

এই ঘটনায় হতবাগ হয়ে পড়েছে নয়াবাড়ি ইউনিয়নের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা। বিনা কারনে গৌতম সরকারের মতো একজন নিরিহ যুবকের উপর এই আক্রমন তাদেরকে শংকিত করে তুলেছে।

দোহারে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগ

দোহার উপজেলার রাইপাড়া ইউনিয়নের ইকরাশি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সাবিকুন নাহার নামে ৮ শ্রেনির এক ছাত্রীকে শারিরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একই স্কুলের ধর্ম শিক্ষক আহম্মদ আলীর বিরুদ্ধে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার স্কুলে ক্লাস চলাকালীন অবস্থায় পেছনের বেঞ্চে বসে থাকা তার আরেক সহপাঠি্র কাছে কি পড়া তা জানতে চাইলে শিক্ষক আহম্মদ আলী তার ডান কানে দুইটি থাপ্পড় মারেন। এতে সাবিকুন নাহার বেঞ্চে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পায়। পরে অজ্ঞান হলে পড়লে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একলাল উদ্দিন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলে সে সেরে উঠলে তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হলে। কিন্তু শনিবার সকালে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে হলে তাকে আবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আহম্মদ আলীর সাথে বার বার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও তাকে পাও্যা যায়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একলাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে দোহার থানা ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখ জানান, এ ঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আমেরিকায় নবাবগঞ্জ এসোসিয়েশনের বনভোজন ৬ আগষ্ট

প্রবাসের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন নবাবগঞ্জ এসোসিয়েশন অব ইউএসএ ইন্ক-এর বনভোজন আগামি ৬ আগষ্ট রবিবার অনুষ্ঠিত হবে লং আইল্যান্ডের হ্যাকশেয়ার স্টেট পার্কে। দিনব্যাপি অনুষ্ঠানে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‌্যাফেল ড্র ছাড়াও থাকবে ভোজন বিলাসীদের জন্য থাকবে সুস্বাদু খাবার। বনভোজনে জ্যাকসন হাইটস থেকে সকাল সাড়ে আটটায় বাস ছেড়ে যাবে পার্কের উদ্দেশ্যে।

এতে পরিবার ১০০ ডলার এবং একক ৫০ ডলার চাদাঁর পরিমান নির্ধারন করা হয়েছে। বনভোজনে র‌্যাফেল ড্রতে প্রথম পুরস্কার স্বর্নালংকার, দ্বিতীয় পুরস্কার নিউইয়র্ক-ঢাকা- নিউইয়র্ক টিকিট, তৃতীয় পুরস্কার আইপ্যাড, চতুর্থ পুরস্কার ল্যাপটপ, পঞ্চম পুরস্কার ৩২ ইঞ্চি টেলিভিশন, ছষ্ঠ পুরস্কার ডিজিডাল ক্যামেরাসহ আরো আকর্ষণীয় পুরস্কার রয়েছে। বনভোজনে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন বলে জানান, সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মো: মিলন মোল্লা। তারা বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বনভোজনের ইভেন্ট গুলো সাজানো হয়েছে। এ বারের বনভোজন হবে আনন্দঘন ও ব্যতিক্রমধর্মী। বনভোজনে নবাবগঞ্জবাসীসহ কমিউনিটির সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য আহবান জানিয়েছেন বনভোজন উপকমিটির আহবায়ক মনসুর আলম ও সদস্য সচিব মো: উজ্জ্বল বিপুল।