প্লাবিত হচ্ছে দোহার

মঙ্গলবার সন্ধ্য থেকে দোহারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। আগামী তিন দিন পদ্মা নদীর পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে দেশের মধ্যাঞ্চলে বড় বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর এতে আতংকিত হয়ে পড়েছে দোহার-নবাবগঞ্জের অধিবাসীরা। মংগলবার সন্ধ্যায় দোহারের মাঝির চর, কাজির চর, ধোয়াইর, নারিশা পশ্চিম চরের কিছু অংশ প্লাবিত হয়েছে। এদিকে নবাবগঞ্জের কাশিয়াখালী বেড়ি বাধে পানির তীব্র চাপ সৃষ্টি হওয়ায় আতংকিত হয়ে পড়েছে শিকারিপাড়া, বারুয়াখালী ও বান্দুরা ইউনিয়নের জনগণ। এই বাঁধ ভেঙে গেলে দোহার নবাবগঞ্জের প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়বে।

এদিকে বন্যার পানি আসছে রাজধানী ঢাকার দিকেও। আর উত্তরাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

ঢাকা জেলা বিএনপি’র আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

ঢাকা জেলা বিএন পি’র উদ্যোগে সাবেক সফল প্রধান মন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘায়ু কামনা করে রোগ মুক্তি ও দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়ার আয়োজন করা হয়, ! উক্ত দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্তিথ ছিলেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভি, ঢাকা জেলা বিএনপি’র সভাপতি ডা: সালাউদ্দিন বাবু, সাধারন সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল কবির পল সহ দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরানিগঞ্জ,সাভার ও ধামরাই এর নেতৃ বৃন্দ!

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার কী তাদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে রাষ্ট্রপতিকে ব্যবহার করছে?’

তিনি বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় পরিবর্তনের জন্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অলিম্পিক প্রতিযোগিতার ন্যায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের বৈঠক শুধু উদ্বেগের নয়, ন্যায়বিচারের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করার অশুভ অপচেষ্টারই অংশ।’

ঢাকা জেলা বিএনপি’র সভাপতি ডাঃ সালাহ উদ্দিন বাবু বলেন, নির্বাচন দিন, সুষ্ঠু পরিবেশে সহয়ায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক। জনগণ যে রায় দেয় তা মেনে নিব।

ঢাকা জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক বলেন, এই দেশ, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মানবাধিকার এখন বিপন্ন। বিএনপি হচ্ছে এই দেশের মানুষের আশা ভরসার স্থান। এই বন্যায় তিনি সমাজের অর্থশালীসহ দলীয় নেতা-কর্মিদের বান ভাসী মানুষের পাশে দাড়ানোর আহবান জানান। তিনি বলেন, আমরা নেত্রির নির্দেশের অপেক্ষায় আছি, আদেশ এলেই আমরা নির্বচন সহ জনগণ অধিকার আদায়ের আন্দোলনে রাজপথে থাকবো।

স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু, সোনার বাংলা গড়ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনাঃ দোহার-নবাবগঞ্জে সালমান এফ রহমান

0

১৫ই অগাস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে নবাবগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিল্পপতি সালমান এফ রহমান বলেছেন, আমরা আজ  পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছি, এর সবটুকু হয়েছে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের ত্যাগের কারণে। আমরা আজ বিশ্ব দরবারে বাঙালি জাতি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন আর তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ আজ বিশ্বদরবারে সাহসী ও উন্নয়নশীল জাতি হিসেবে নতুনভাবে দাঁড়িয়েছে। আমরা তার নেতৃত্বেই  এগিয়ে যাব। কোনো ষড়যন্ত্রই দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

ছবিঃ দোহারে সুতার পাড়া মিজান মার্কেটে জনসভা।

দোহারে সুতারপাড়া হলের বাজার ও নারিশা পশ্চিম চরে আলাদা সমাবেশে তিনি বলেন, এক বংগবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা স্বাধীন হয়েছি। এই স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদেরকে আগামী নির্বাচনে আবারো নৌকাকে জয়ী করে জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করতে হবে। এ সময় ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান, ঢাকা জেলা আওয়ামীলিগের সহ সভাপতি ফজলুর রহমান, দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা আলমগীর হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, সালাহউদ্দিন আহমেদ, রাশেদ চোকদার, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ পাঠাগার সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন সোহাগ, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ রানা পান্নু, জয়পাড়া কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি মোশাররফ হোসেন শান্ত সহ স্থানীয় নেতা-কর্মি ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

ছবিঃ নারিশা পশ্চিম চরের জনসভায়।

নবাবগঞ্জে নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলুর সভাপতিত্বে শোক সভায় সালমান এফ রহমান বলেন, দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলাকে একটি আধুনিক মডেল উপজেলা হিসেবে গড়তে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমান সরকারের আমলে দেশজুড়েই উন্নয়নের জোয়ার বইছে। কোনো ষড়যন্ত্রই দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উদযাপিত হয়েছে।

ছবিঃ নবাবগঞ্জে পুস্পস্তবক অর্পণ।

১৫ই অগাস্ট সকাল থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, র‌্যালি, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, আলোচনা সভা, কোরআন তেলোয়াত, মিলাদ মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, জাতীয় পার্টি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মসূচি পালন করেছে। সকাল ১১টায় প্রথমে উপজেলা প্রশাসন বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের যারা শাহাদাতবরণ করেছেন তাদের স্মরণে প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বেসরকারিখাত উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন । পরে তিনি নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার প্রায় ৩০টি শোকসভায় অংশ নেন। পরে উপজেলা সদর শহীদ মিনারের সামনে থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে একটি র‌্যালি বের হয়।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আব্দুল বাতেন মিয়া, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী শওকত হোসেন শাহিন, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের  সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন, দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম জালাল শিমু, ঢাকা জেলা পরিষদের সদস্য ওয়াহিদুজ্জামান রনি, এস এম সাইফুল ইসলাম,  কেন্দ্রীয় তাঁতী লীগের সহ সভাপতি শহীদুল্লাহ, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন।

যে শোক চির ক্ষতের

0

যত দিন রবে পদ্মা মেঘনা/ গৌরী যমুনা বহমান/ তত দিন রবে কীর্তি তোমার/ শেখ মুজিবুর রহমান/ দিকে দিকে আজ অশ্র“গঙ্গা/ রক্তগঙ্গা বহমান/ নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়/ জয় মুজিবুর রহমান। হৃদয়ের স্মৃতিপটে শোকের বিচরণে ভিন্নতা থাকে। স্বজন হারানোর শোক, আর্তনাদ থাকে সময় ধরেও। সময় গড়িয়ে শোকের ছায়ায় আলোরও দেখা মেলে। কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারিয়ে জাতি যে শোকে মুহ্যমান, তা যেন অনন্তকালের। পিতা হারানোর এ শোক চিরদিনের।

আজ ১৫ আগস্ট। ইতিহাস এদিন থমকে দাঁড়ায়। নদী তার স্রোত হারায়। বনের পাখিরা নিস্তব্ধ হয়ে আরও নির্জনে চলে যায়। এদিন ভোরের সূর্য আরও রক্তিম হয়ে ওঠে। রাখালের বাঁশির সুরলহরি এদিন আরও করুণ হয়ে ওঠে।

নানা ঘটনাপ্রবাহ আর ব্যথাতুর স্মৃতিতে বাঙালি জীবনে আগস্টের গোটা মাস ভারি হলেও ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড বিশ্বমানবতাকে স্তম্ভিত করে দেয়। এদিন বাঙালি জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাংলাদেশের স্থপতি, মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা নির্মমভাবে হত্যা করেন।

বিশ্ব ইতিহাসের নির্মম ওই হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সেদিন আরও প্রাণ হরণ করা হয় বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, ভাই শেখ নাসের ও কর্নেল জামিলের।

ঘাতক সেনাদের বুলেটে আরও প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু বাবু, আরিফ রিন্টু খান।

বর্বর ওই হত্যাকাণ্ডের দিন দেশে না থাকায় প্রাণে রক্ষা পান বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। ওই সময় স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জার্মানির কার্লসরুইয়ে সন্তানসহ অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনা। শেখ রেহানাও ছিলেন বড় বোনের সঙ্গে।

আগস্ট মানেই জাতির দীর্ঘশ্বাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ওই হত্যাকাণ্ডের নির্মমতা পৃথিবীর যে কোনো হত্যাকাণ্ডকে হার মানায়। ঘটনার বর্ণনায় দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্ট খুনিও আঁতকে উঠবে। রাতের আঁধারে বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে পৈশাচিক পন্থায় হামলা চালান দিকভ্রান্ত সেনা কর্মকর্তারা। বুলেটের আঘাতে রক্তগঙ্গা বয়ে যায় পুরো বাড়ি। ঝাঁঝরা হয়ে যায় দরজা, জানালা, বাড়ি ও দেয়াল। রক্তসাগরে যুবে ছিল লাশগুলো।

নিজের সৃষ্ট দেশে কোনো বাঙালি তার জীবনের হুমকি হতে পারে, কখনও ভাবেননি বঙ্গবন্ধু। এ কারণে বাড়তি নিরাপত্তার ধার ধারেননি তিনি। সুরক্ষিত রাষ্ট্রপতির বাসভবন ছেড়ে বসবাস করতেন প্রিয় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে।

ওই বাড়িতেই ঘাতকের বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়ে পর্বতসম দেহ আর ইস্পাতসম মনোবল নিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘তোরা কী চাস আমার কাছে? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে?’

ঘাতকরা তাকে অন্য কোথাও নিয়ে যায়নি। বঙ্গবন্ধুকে তার প্রিয় বাড়িতেই বুলেটের আঘাতে ঝাঁঝরা করে দেয়। নির্মম ওই হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশ যেন মেঘে ঢেকে যায়। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ যেন ‘খুনের বাংলায়’ পরিণত করে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করা হয়। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে খুনিদের দায়িত্ব দেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক বিচারের হাত থেকে খুনিদের রক্ষা করতে কুখ্যাত ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটিকে আইন হিসেবে অনুমোদন দেন।

তবে শেষ রক্ষা হয়নি খুনিদের। ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি পাঁচ আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করা হয়। যদিও দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন আসামির সাজা এখনও কার্যকর করতে পারেনি সরকার।

দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্টের উপদেষ্টা পরিষদ ঘোষিত

0

নিউজ৩৯: দোহার-নবাবগঞ্জের সর্ব বৃহৎ সামাজিক ও মানবিক প্রতিষ্ঠান দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্টের(DNSM) উপদেষ্টা পরিষদ ঘোষিত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানই সর্ব প্রথম পদ্মা ভাঙন রোধ ও পদ্মা বাধের দাবীতে জনমত গঠন করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাধের দাবী বাস্তবায়ন করে।

দোহার – নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্টের কীর্তিমান উপদেষ্টা পরিষদ –

১. ড. খান মোঃ আব্দুল মান্নান, মাননীয় আই জি আর (মহাপরিদর্শক রেজিষ্ট্রেশন), বাংলাদেশ এবং সাবেক জেলা জজ।
২. নির্মল রঞ্জন গুহ, সিনিয়র সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ।
৩. মাসুদ পারভেজ, উপজেলা ভাইস – চেয়ারম্যান, দোহার উপজেলা, ঢাকা।
৪. শিমুল বাশার, সিনিয়র সাংবাদিক – ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন ও কলামনিস্ট।
৫. রুবায়েত শিপলু, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
৬. এমারেত হোসেন ইমরান, সিনিয়র প্রভাষক, পদ্মা কলেজ এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ ও কলামনিস্ট।।
৭. মু. মেহেদি আরিফ, সাবেক বিতার্কিক বাংলাদেশ টেলিভিশন ও ব্যবসায়ী ও কলামনিস্ট।
৮. মোঃ ফারুক হোসাইন, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

 

দোহারে অপহরণের অভিযোগে আটক ১

ঢাকার দোহারে মনির হোসেন (৩৫) নামে এক ব্যাক্তিকে অপহরণের অভিযোগে দোহার থানা পুলিশ আটক করেছে। মনির হোসেন দোহার উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সাহাবউদ্দিন আহামেদ-এর ছেলে। একসময় বিএনপি’র সক্রিয় কর্মী মনির বর্তমানে জাতীয় পার্টি এমপি সালমা ইসলামের কর্মী। এদিকে তার পরিবারের দাবী, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে মনিরকে কেউ ফাঁসিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অপহৃত রাজীবের পিতা আনোয়ার হোসেন দোহার থানায় রবিবার রাতেই একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, রবিবার রাতে দোহার উপজেলার সুতার পাড়া ইউনিয়নের আনোয়ার হোসেন খানের ছেলে রাজীব খান (২৭) নামে এক যুবক দক্ষিণ জয়পাড়া পশু হাসপাতালের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মনিরসহ অজ্ঞাত তার পাঁচ সহযোগী তাকে মারধর করে। সেসময় রাজীবের কাছে থাকা দুই লাখ দশ হাজার টাকা ও একটি আইফোন ছিনিয়ে নেয় দুস্কৃতিকারীরা।  পরে রাজীবকে অজ্ঞাত একটি ঘরে আটকে রাখে। অপহরণকারীরা রাজীবের পিতা আনোয়ার হোসেনের ফোনে কল দিয়ে মুক্তিপণের আরো একলাখ টাকা দাবী করে। সে সময় অপহরণকারীরা বলে, যদি একলাখ টাকা দেয়া হয়, তবে রাজীবকে জীবিত পাওয়া যাবে অন্যথা হলে মৃত পাওয়া যাবে।

পরে আনোয়ার হোসেন দোহার থানায় মনিরের নামে একটি অভিযোগ দায়ের করলে তৎক্ষণাৎ দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলামের লিটুর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে। ঘটনাস্থল থেকে রাজীবকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ও মনিরকে আটক করে পুলিশ।

এই ব্যাপারে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দোহার থানা ওসি শেখ সিরাজুল ইসলাম নিউজ৩৯-কে জানান, “আমরা রাজীবকে উদ্ধার ও অপহরণকারী মনিরকে আটক করেছি। তার বিরুদ্ধ দোহার থানায় মামলা রুজ্জু করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”

এই ব্যাপারে মনিরের স্বজনদের দাবী, মনিরকে ফাঁসাতে রাজীব এই ঘটনা সাজিয়েছে। তাকে ও তার পরিবারকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এই ঘটনা সাজানো হয়েছে।

পদ্মা কলেজের ছাত্র নিখোঁজ

১৩ আগস্ট, রবিবার দুপুর থেকে পদ্মা মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র মাইমুন হাসানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সে দোহারের সুতারপাড়া ইউনিয়নের ঘারমোড়া গ্রামের সুলতানুজ্জামানের ছেলে। মাইমুনের বয়স ১৭ বছর, সে পদ্মা কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র।

মাইমুন সকালে সে কলেজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়, এবং দুপুর ১২টার দিকে মেঘুলা বাজারে শেষ বার দেখা গেছে বলে জানিয়েছে তার চাচাতো বোন। কোথায় যেতে পারে এ ব্যাপারে কোনো ধারণা নেই মাইমুনের পরিবারের। রাত পর্যন্ত তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। মাইমুনের কোনো ধরণের খবর পাওয়া গেলে দোহার থানায় অথবা তার পিতাকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। মাইমুনের পিতা সুলতানুজ্জামানের মোবাইল নাম্বার: ০১৮ ১৬ ৬০৫৭৩৯।

ব্লু হোয়েল গেম: যার পরিনতি মৃত্যু

অনলাইন সুইসাইড গেম ব্লু হোয়েল। এই গেমের ৫০টি ধাপ। সর্বশেষ পরিণতি মৃত্যু। লেভেল ও টাস্কগুলি ভয়ঙ্কর। গেম যত এগোবে, টাস্ক তত ভয়ঙ্কর হতে থাকবে। প্রথমদিকের টাস্কগুলি মজার হওয়ায় সহজেই আকৃষ্ট হয়ে পড়ে কিশোর-কিশোরীরা। কেউ খেলায় ইচ্ছুক হলে তার কাছে পৌঁছে যায় নির্দেশাবলী। সেইমতো নির্দেশ বা চ্যালেঞ্জগুলি একে একে পূরণ করে তার ছবি পাঠাতে হয় ব্লু হোয়েল গেম হ্যান্ডলারকে। নিজের হাত কেটে তিমির ছবি এঁকে ছবি তুলে পাঠাতে হয়। এই খেলায় অংশগ্রহণকারীকে হোয়েল বলা হয়। স্বেচ্ছায় তারা এই মরণ খেলায় যোগ দেয়।

অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের দেওয়া টাস্ক করে এবং ছবি পাঠায়। গেমের  শেষে এদেরই আত্মহত্যা করতে বলা হয়। এই খেলার জন্ম রাশিয়ায়। জন্মদাতা ২২ বছরের তরুণ ফিলিপ বুদেকিন। ২০১৩ সালে রাশিয়ায়  প্রথম সূত্রপাত। ২০১৫ সালে প্রথম আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়। বুদেকিনের দাবি, সমাজ সাফাই করতেই এই গেম ছড়িয়েছে সে।

১৬জন কিশোরীকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ ওঠে ফিলিপের বিরুদ্ধে। অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের খোঁজে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামে #ব্লুহোয়েলচ্যালেঞ্জ, #আইঅ্যামহোয়েল লিখে পোস্ট করলে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর তার সঙ্গে যোগাযোগ করে নেয়। মাঝপথে কেউ খেলা ছাড়তে চাইলে, তাকে ব্ল্যাকমেল করে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর। প্রিয়জনদের ক্ষতি করার হুমকি দেয় তারা।

ব্লু হোয়েল গেম; যার পরিনতি মৃত্যু

এই গেম খেলতে গিয়ে সারা পৃথিবীতে ইতিমধ্যেই প্রায় দেড়শোজন প্রাণ হারিয়েছে, যাদের বেশিরভাগই কিশোর।

দোহারের প্রবাসীর পেট থেকে ৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধার

রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দোহারের ফজর আলীসহ ২ যাত্রীর পেট থেকে ৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ টিম। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মালয়েশিয়া থেকে আসা মালিন্দো এয়ারলাইন্সের ওডি১৬২নং ফ্লাইটে ওই দুই যাত্রী ঢাকায় আসলে স্বর্ণের বারগুলো জব্দ করা হয়।

ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার সাইদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুই যাত্রী ঢাকার দোহারের ফজর আলী ও কুমিল্লার বুড়িচংয়ের কামাল হোসেন বিমান বন্দরের গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় তাদের শরীর তল্লাশি করা হয়। কোনো স্বর্ণ না পাওয়ায় তাদের শরীর থেকে মেটাল জাতীয় পদার্থ অপসারণ করে অর্চওয়েতে হাঁটানো হয়। পরে সেখানে হাই ফ্রিকোয়েন্সিতে মেটাল জাতীয় পদার্থ থাকার সিগনাল পাওয়া যায়। দুই যাত্রীই তখন তাদের রেক্টামে স্বর্ণ থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের বিমান বন্দরের টয়লেটে নিয়ে রেক্টামে থাকা ৩টি করে মোট ৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা বারগুলোর মোট ওজন ৬০০ গ্রাম। এগুলোর আনুমানিক বাজার মূল্য ৩০ লাখ টাকা। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কারাগারে কথিত পীর মতিউর রহমান ওরফে হজবাবা

অবশেষে কারাগারে মতিউর রহমান ওরফে হজবাবা। একবছর আগে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান টিম আন্ডারকভারে, হজের নামে ভন্ডামির ছবি প্রচারিত হয়।

একমাসের অনুসন্ধানে তুলে আনা হয়, মানুষ হয়ে মানুষের সেজদা নেয়াসহ হজবাবার ভন্ডামির নানা দিক। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক হজবাবা মতিউর রহমান দোহার থানার প্রতারণা মামলায় গত ৮ আগষ্ট মংগলবার ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে আত্ন-সর্ম্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।