নবাবগঞ্জে ইছামতি নদীর অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না

প্রায় এক মাস ধরে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ইছামতি নদীর ভাঙ্গাভিটা এলাকায় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করলেও কিছুতেই তা বন্ধ হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে নীরব ভূমিকায়। অন্যদিকে থানা পুলিশ প্রভাবশালীদের ক্ষমতার কাছে নিরূপায় হয়ে পড়েছে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বালু লুণ্ঠন করছে প্রভাবশালী চক্রটি। এতে পার্শ্ববর্তী বসতবাড়ি ও শত শত একর আবাদি কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়েছে। প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খোলার সাহস পর্যন্ত পাচ্ছে না এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতা মুরাদ মিয়ার নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এক মাস ধরে অবাধে বালু উত্তোলন করে চলেছে। শত শত বিঘা কৃষিজমির মাটি কেটে নিচ্ছে ওই চক্রটি। এতে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে কৃষিজমি। এ অবস্থায় পার্শ্ববর্তী বসতবাড়ি ও শত শত একর আবাদি কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়েছে। চক্রটির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ওই এলাকার জমির মালিকরা। ভাঙ্গাভিটা এলাকায় দুটি ড্রেজার বসিয়ে এক মাস ধরে দিন-রাত অবাধে বালু উত্তোলন করে চলেছে ওই বালুদস্যুরা।

সরেজমিন দেখা গেছে, বালু উত্তোলনের হিসাব মোতাবেক প্রতিদিন ৪০-৪২টি বাল্কহেডের বালু লোড দিচ্ছে। এর মধ্যে থেকে প্রতিদিন একটি বাল্কহেড বালু ইউনিভার্সিটির জন্য বরাদ্দ, বাকি ৪০-৪১টি বাল্কহেড বালু অন্যত্র বিক্রি করছে বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

ভাঙ্গাভিটা গ্রামের কৃষক পরিতোষ বাবু জানান, আমাদের এলাকায় কোনোকালেও বালুমহাল ছিল না। মুরাদ মিয়া ফসলি জমির ধারে ১৬ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের লোহার পাইপ দিয়ে ১২০ ফুট গভীর থেকে বালু উত্তোলন করতে পারে, এমন দুটি বড় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। সিফাত ও হাজী সামাদ নামে দুটি বালু কাটার মেশিন প্রতিদিন শতাধিক বাল্কহেডের বালু লোড দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা পবিত্র কুমার জানান, এভাবে দিন-রাত বালু উত্তোলন চলতে থাকলে ফসলি জমি ও আশপাশের বাড়িঘর দেবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই চক্রের ক্ষমতা আর টাকার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ভাঙ্গাভিটা গ্রামের বাসিন্দা গণেশ জানান, আমাদের গ্রামের ৯৮ ভাগ অধিবাসী হিন্দু সম্প্রদায়। প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে কেউ মুখ খোলে না। কারও জমি কেটে নিয়ে গেলেও কিছু করার থাকে না। কেউ বাধা দিতে গেলে তাকে প্রকাশ্যে অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়া হয়।

নবাবগঞ্জের বাসিন্দা, সাবেক গণপরিষদ সদস্য আবু মো. সুবিদ আলী টিপু জানান, শত শত একর জমি কেটে লুটপাটের মহোত্সব চলছে। দেখার কেউ নেই। বালু উত্তোলনের ফলে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটছে, অন্যদিকে কৃষিজমি লোপাট হচ্ছে।

বালু উত্তোলনের মূল হোতা মুরাদ মিয়া বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ভূমি মন্ত্রণালয় ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের লিখিত অনুমোদন নিয়ে বালু কাটছি। এ বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা ও থানা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ সরকারি সফরে দেশের বাইরে থাকায় চলতি দায়িত্বে থাকা দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম আল-আমিন জানান, আমার জানা মতে নবাবগঞ্জ উপজেলায় কোনো বালুমহাল নেই। সে ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক মহোদয় কোনো অনুমতি প্রদান করার কথা নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোহারে বিএনপি নেতার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল

ঢাকার  দোহার উপজেলা র সাধারন সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়াম্যান আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম ভূলু রোগ মুক্তি ও দীর্ঘায়ূ কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে নয়াবাড়ী ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগন। ৪ আগষ্ট শুক্রবার বিকাল চার টায় নয়াবাড়ী ইউনিয়নের ধোয়াইর মদিনাতুল উলূম মাদ্রসার মাঠে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া পরিচালনা করেন দোহার উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুল ওয়াহাব দোহারী। এসময় উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব মিজানুর রহমান, ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বজলুর রহমান কামাল, নয়াবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, সাধারন সম্পাদক আবুল হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সামসুদ্দিন মেম্বার, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহিদুর রহমান বানী, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সেকেন্দার আলী, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান রতন, নয়াবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম কিরন, সহ-সম্পাদক সুজন মাহমুদ, স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতা ওয়াজেদ আলী খান সহ ইউনিয়নের সকল মসজিদের ইমামগন ও সর্বস্তরের জনগন।

উল্লেখ্য গত ১৮ জুলাই দোহার উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়াম্যান আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম ভূলু অসুস্থ্য হয়ে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালের আইসিইউ তে ভর্তি হয়। সেখানে থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক পাঠানো হয়।

দোহারে মুক্তিযোদ্ধার বসত বাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ

দোহারের মুক্তিযোদ্ধা কুরবান শরীফের বসত বাড়ি ভাংচুর করে দখল চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় দোহার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রজ্জব আলী মোল্লা নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন।

শুক্রবার সকালে উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের সুন্দরীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বৃদ্ধ কুরবান আলী ঐ গ্রামের মৃত কুব্বাত শরীফের ছেলে।

মুক্তিযোদ্ধা কুরবান শরীফ অভিযোগে করেন, কার্তিকপুর মৌজার এসএ ৮২৫দাগের ২২ শতাংশ জমি তার পূর্বপুরুষের ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত। সেখানে একশত বছরের বেশি সময় ধরে তিনিসহ বাপ-দাদারা বসবাস করছেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশি ইসমাইল ভূইয়ার ছেলে লিমন ভূইয়া ও মামুন ভূইয়ার নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের একটি দল  বাড়ি-ঘর ভাংচুর চালায়। এসময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। বাড়িতে থাকা স্কুল পড়–য়া মেয়ে ও স্ত্রী রাশিদা বেগম বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাদের লাঠিসোটার ভয় দেখানো হয়। হামলাকারীরা বাড়ির দুটি টিনকাঠের দু’চালা ঘর ও একটি রান্না ঘর মুহুর্তে ভেঙে ফেলে চলে যায়। এতে তিনি নি:শ্ব হয়ে পড়েছেন। এবিষয়ে দোহার থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত লিমন ভূইয়া ও মামুন ভূইয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টার করে সংযোগ পাওয়া  যাওয়া যায়নি।

দোহার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রজ্জব মোল্লা এ হামলার নিন্দা জ্ঞাপন করে বলেন, বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা কুরবান শরীফের পরিবারের উপর হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। যাতে এদেশের মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর কোন দুস্কৃতিচক্র হাত রাড়াতে না পারে।

দোহার থানার পরিদর্শক তদন্ত ইয়াসিন মুন্সি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সরেজমিন পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নবাবগঞ্জের কাশিয়াখালী বেড়ী বাঁধে গর্ত

 

নবাবগঞ্জের কাশিয়াখালী বেড়ী বাঁধ এখন হুমকির মুখে। এবার পদ্মার পানির চাপ বৃদ্ধি পেলে বাঁধটি ভেঙে নবাবগঞ্জ-দোহার ও মানিকগঞ্জের কিছু অংশ বন্যার পানিতে প্লাবিত হবে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর। দোহার নবাবগঞ্জ ও হরিরামপুর উপজেলার পদ্মানদীর তীরবর্তী কাশিয়াখালী বেড়ী বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে বাঁধটি। প্রবল বৃষ্টির কারণে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁধের বিভিন্ন অংশ। তবে শুষ্ক মৌসুমে এর সংস্কার না করায় এখন হুমকির মুখে বাঁধটি। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নিয়ে বেড়ী বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট পরিদর্শন করেন নবাবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ। এই সময় তার সাথে উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহজাহান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিনও ছিলেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে বেড়ী বাঁধ সংস্কারের আশ্বাস দেন স্থানীয়দের।

 

এলাকাবাসী জানায়, ১৪.১৪ কি.মি বেড়ী বাঁধের মধ্যে  জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের তিতপালদিয়া স্লুইস  গেটে পানির চাপ বেশি হওয়ায় কিছু দিন আগে স্লুইস গেটের দুইপাশে ফাটল দেখা দেয়। সাথে সাথে প্রশাসন ও এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় ভাঙন ঠেকানো গেছে। এদিকে ৫/৬ মাস আগে শুষ্ক মৌসুমে হাটিপাড়ার রত্নাদিয়া একটি স্লুইস গেটের নির্মাণ কাজ শুরু হলেও এ পর্যন্ত মাত্র ১০ ভাগ কাজ হয়েছে। অথচ বেড়ী বাঁধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই স্লুইস গেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত বছরও বেড়ী বাঁধটির অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। তখন প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় বাঁধটি রক্ষা পায়। পরবর্তীতে বাঁধটি সংস্কার না হওয়ায় এবার হুমকির মুখে রয়েছে বাঁধটি।

স্থানীয় আ: সালাম বলেন, বাঁধ নিয়ে আমরা আতঙ্কে রয়েছি। যে কোনো মুহূর্তে বাঁধে ধস দেখা দিতে পারে।

 

উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলিমোর রহমান খান পিয়ারা জানান, গতবারের চেয়ে বেড়ী বাঁধের অবস্থা এবার আরো খারাপ। এখন যে অবস্থা রয়েছে এবার পানি চাপ বাড়লে ৭৫ ভাগ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জয়কৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, এবার বেড়ী বাঁধের অবস্থা নাজুক। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বাঁধটির করুণ দশা।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ বলেন, বর্ষার পূর্বেই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে সড়ক ও জনপথ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দেখানো হয়েছে। সেই সঙ্গে দ্রুত সংস্কারের জন্য বলা হয়েছে। এরপরও যদি কাজের গাফিলতি হয় তবে তার জন্য তারাই দায়ী থাকবেন।

কেরানীগঞ্জ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সৈয়দ আলম বলেন, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায়। তারপরও বাঁধের কিছু কিছু ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় আমাদের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মঈনউদ্দিন ঝুঁকির কথা স্বীকার করে বলেন, আমাদের লোকজন দিনরাত বাঁধে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে অর্থ সংকটের কারণে আমরা সেভাবে কিছু করতে পারছি না।

দোহারে হত্যা মামলার যাবতজীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার

দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটের ইজারাদার মো. শহীদ উল্লাহ হত্যা মামলায় যাবতজীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী রমিজ উদ্দিন (৫০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রমিজ উপজেলার নয়াডাঙ্গি গ্রামের মৃত ছকিল উদ্দিন ছকুর ছেলে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সালের আগষ্টের প্রথম সপ্তাহে তৎকালীন মৈনট ঘাটের ইজারাদার শহীদ উল্লাহকে হাত-পা বেঁধে বস্তায় ভরে পদ্মা নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়।

মৃত শহীদের স্বজনরা দোহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৪(৮)১৯৯৭, দায়রা ৬১/০২। পরে আদালত হত্যাকান্ডে জড়িত রমিজসহ ৩জনকে যাবতজীবন কারাদ-ের আদেশ দেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে গোপন সংবাদের সূত্রধরে, দোহার থানার পরিদর্শক তদন্ত ইয়াসিন মিয়া ও উপপরিদর্শক আল-মামুনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য নয়াডাঙ্গি গ্রামের পদ্মানদী তীরবর্তী একটি টং ঘর থেকে রমিজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় সে অসাভাবিক আচরণ করছিল। পরে যাচাই-বাছাইয়ের পর পুলিশ রমিজের পরিচয় নিশ্চিত হোন।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন, দীর্ঘ এক মাস চেষ্টার পর তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী চাইলে আমি ঢাকা-১ এর প্রার্থী হব: আব্দুল মান্নান খান

0

গনতন্ত্রের মানস কন্যা ও বর্তমান সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি চায় তাহলে আমি ঢাকা ১ আসন থেকে আমি আবার নৌকা প্রতিক নিয়া নির্বাচন করবো বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক গৃহায়ন ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান। তিনি আজ নিউজ৩৯ এর সাথে একান্ত ফোনালাপে এই কথা জানান।

তিনি বলেন, বিগত দিনে আমি মন্ত্রী থাকায় ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জে রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ড, স্কুল কলেজের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। আমি দোহার নবাবগঞ্জের সকল মানুষের সুখে দুঃখে পাশে ছিলাম। এবং যতদিন বাঁচবো দোহার নবাবগঞ্জবাসীর পাশে থাকবো। আওয়ামীলীগ দলীয় সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে ঢাকা- ১ দোহার নবাবগঞ্জ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করব ইনসাল্লাহু। যদি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয় তবে আওয়ামীলীগের পক্ষ হয়ে নৌকা প্রতীকের জন্য সবার কাছে ভোট চাইবো।

বৃষ্টির পানিতেই বন্যা দোহার পৌরসভায়

 

 

ছেলেমেয়েকে নিয়ে ঘরের ভেতর জানালার পাশে বসে ছিলেন লাবণী বেগম। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গৃহবন্দী অবস্থা তাঁদের। উঠানভরা পানি বারান্দা ছুঁই ছুঁই করছে। চলাচলের জন্য উঠানের ভেতরে প্রথম হাতখানেক পরপর পাশাপাশি দুটো করে ইট পাতা হয়েছিল। এক ইট তলিয়ে যাওয়ার পর তার ওপর আরও একটি করে ইট পাতা হয়েছে। সেই ইটও তলিয়ে যাওয়ার পরে তার ওপর দিয়ে তক্তা বিছিয়ে দেওয়া। সেতুর মতো সেই তক্তার ওপর দিয়ে তাঁরা এঘর-ওঘর যাতায়াত করেন।

এ অবস্থা দোহার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ জয়পাড়ার আবদুল খালেকের বাড়ির। এই পানি বন্যার নয়, বৃষ্টির। নামতে না পেরে আটকে আছে। বৃষ্টির পানি আটকে গিয়ে দোহার শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে সাতটিরই বিভিন্ন মহল্লায় কমবেশি বৃষ্টির পানি আটকে আছে। এর মধ্যে ১ নম্বর ওয়ার্ডের আজাহার আলী সড়কের পাশে কোনো নর্দমা নেই। পানি জমে আছে। তার ভেতর দিয়েই লোকজন, যানবাহন চলছে। এ ছাড়া এই ওয়ার্ডের লটাখোলা, লটাখোলা বিলের পাড় এলাকাতেও পানি জমেছে। পাশেই ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর জয়পাড়া, খালপাড়া, রায়পাড়া, বউবাজার, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বউগ্যার চক, উত্তর জয়পাড়া এলাকায় পানি জমে ছিল। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাটিয়া, দক্ষিণ জয়পাড়া, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জয়পাড়া নুরুপুর, ঘোনা, খারাকান্দা, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ইউসুফপুর, কাটাখালী এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দোহার ঘাট ও বানাঘাট এলাকায় পানি জমে ছিল।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, জলাবদ্ধতাই দোহারবাসীর প্রধান সমস্যা। বছরের পর বছর তাদের বর্ষাকালে এই সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে। শহরে বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার মতো নর্দমা নেই। নিষ্কাশনব্যবস্থা কার্যত অচল। ইদানীং সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।

গত শনিবার সরেজমিনে দেখা গেল, ৫ নম্বর ওয়ার্ডজুড়েই বৃষ্টির পানি আটকে আছে। লাবণী বেগমের স্বামী আবদুল খালেকের বাজারে হার্ডওয়্যারের দোকান। তাঁর ছোট দুই ভাই আবদুল মালেক ও আবদুল ওয়াদুদকে নিয়ে তাঁদের যৌথ পরিবার। চারদিকে টিনের ছাউনির পাকা ঘর। মাঝে বড় উঠান। সেই উঠানের এক কোণে হাঁস-মুরগির ঘর। অন্যদিকে রান্নাঘর। জ্বালানি কাঠ রাখার মাচান। লাবণী বেগম জানালেন, লাকড়ি জ্বালানো মেটে চুলা ডুবে গেছে। গ্যাসের চুলা-সিলিন্ডার এনে রান্না করতে হচ্ছে।

শৌচাগার, গোসলখানায় পানি উঠেছে। বাধ্য হয়ে বাড়ির বাইরের উঠানের এক পাশে মাটি ফেলে অস্থায়ী শৌচাগার ও গোসলের জায়গা করা হয়েছে। তিনি জানালেন, প্রতিবছরই বর্ষায় এই মহল্লায় পানি জমে। তবে এবারের মতো এমন ভয়াবহ অবস্থা আগে কখনো হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার সর্বশেষ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি।

এই পরিবারটির মতোই একই অবস্থা বৃষ্টির পানিবন্দী প্রায় প্রতিটি পরিবারে। চলাফেরার সমস্যা তো আছেই; রান্না, গোসল, শৌচকর্ম এসব নিয়ে দুর্ভোগ হচ্ছে প্রচণ্ড। অধিকাংশ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারে রান্না হয় লাকড়ির চুলায়। সাধারণত উঠানের এক প্রান্তে থাকে এসব মেটে চুলা। পানিতে চুলা ডুবে গেছে। যাঁদের সামর্থ্য আছে, তাঁরা গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহার করেছেন। গ্যাসের সিলিন্ডার কেনার সামর্থ্য নেই যাঁদের, এমন পরিবারে রান্নার কষ্ট প্রচণ্ড।

কাদাপানি মাড়িয়ে বিকেলে আসা গেল ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাঙপাড় মহল্লার বায়তুল নাজাত জামে মসজিদের সামনে। এখানে আসরের নামাজ আদায় করতে আসা স্থানীয় মুসল্লিরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন পানিবন্দী অবস্থার দুর্ভোগ নিয়ে। বেগম আয়েশা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী শিক্ষক মাওলানা নূরুল ইসলাম বললেন, এই মহল্লায় প্রায় দুই শ পরিবার পানিবন্দী হয়ে আছে। মেয়র বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কোনো দিন এসে খোঁজও নেননি। সাধারণ মানুষের কী অবস্থা তা দেখার কেউ নেই। স্থানীয় বাসিন্দা সামাদ মাতবর, মোহাম্মদ ব্যাপারী, নবাব আলী চোকদারসহ অনেকেই বলছিলেন, রাস্তা ডুবে আছে। বাড়ির উঠানে পানি। তাদের মসজিদের আসতে কষ্ট, ছেলেমেয়েদের স্কুল কলেজে যেতে কষ্ট। পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এই আটকে থাকা পানিতে এখন মশার বংশবিস্তার ঘটছে। তাঁদের অভিযোগ পৌরসভা ট্যাক্স আদায় করছে ঠিকই, কিন্তু দুর্ভোগ কামানোর জন্য কিছু করে না।

আবর্জনা ফেলার কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা কনটেইনার না থাকায় এসব খোলা জায়গায় আবর্জনা ফেলা হয়। পানিতে সেই আবর্জনা আর আগাছা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। কিছু কিছু এলাকায় সড়কও ভাঙা। মাঝে মাঝেই খানাখন্দ।

দোহার পৌরসভা প্রথম শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। ২০০০ সালে সর্বশেষ পৌর নির্বাচন হয়েছে। মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি নেতা আবদুর রহিম মিয়া। পাশের তিন ইউনিয়নের সঙ্গে সীমানা নির্ধারণ নিয়ে মামলা চলছে বলে আর নির্বাচন হয়নি। প্রায় ১৭ বছর ধরে মেয়রের দায়িত্ব পালন করে ক্লান্ত ৮৪ বছর বয়সী আবদুর রহিম মিয়া প্রথম আলোকে বললেন, ‘আমি অখন ছাইড়া দিবার চাই, কিন্তু পথ পাইতাছি না।’ জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ সম্পর্কে তিনি বলনে, এই এলাকাটি একটু নিচু। পৌরসভার ভেতরে আগে অনেক ডোবা, পুকুর প্রাকৃতিক জলাশয় এসব ছিল। জায়গার দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকে বাইরে থেকে মাটি এনে এসব জলাশয় ভরাট করে ফেলেছে। ফলে পানি যাওয়ার জায়গা নেই। তা ছাড়া অসংখ্য দালানকোঠা হচ্ছে। তাতে পানির প্রবাহও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

মেয়র অভিযোগ করেন, তিনি বিএনপি করেন বলে দোহার পৌরসভার উন্নয়ন বরাদ্দ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে কেটেছেঁটে কমিয়ে দেওয়া হয়। দোহার প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও বার্ষিক উন্নয়নের জন্য ৬০ থেকে ৮০ লাখ টাকার বেশি বরাদ্দ পান না। তাঁর নয়টি ওয়ার্ড। প্রতি ওয়ার্ডের ভাগে ১০ লাখ টাকাও পড়ে না। এবার বরাদ্দ পেয়েছেন ৮০ লাখ টাকা। এ অবস্থায় তাঁর ভাষায় ‘টুক টুক করে’ উন্নয়নের কাজ চলছে।

দোহারে নারী মাদক ব্যবসায়ীর কারাদন্ড

দোহারে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অপরাধে নাসিমা বেগম (৩৫) নামে এক নারীকে ৬ মাসের কারাদ- দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।

জানা যায়, বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইমরুল হাসানের আদালত এ সাজা দেন। নাসিমা উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের বেথুয়া গ্রামের শেখ হিমন উরফে হিমন কানার স্ত্রী।

পুলিশ সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদ পেয়ে দোহার থানার ফুলতলা ফাঁড়ি ইনচার্জ পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বেথুয়া গ্রামের হিমনের বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় ইয়াবা বিক্রিরত অবস্থায় নগদ ৭৮১৫টাকা ও ৬পিচ ইয়াবাসহ নাসিমা বেগমকে আটক করে থানায় আনে। গতকাল বুধবার দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে ৬মাসের কারানন্ড দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

হাসি ফুটেছে দোহারের পাট চাষীদের

হাসি ফুটেছে ঢাকার দোহারে সোঁনালী আঁশ পাট চাষীদের মুখে। পাটের বাম্পার ফলন ও ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় চাষী পরিবারের এখন সুদিন বলে জানায় স্থানীয়রা।

দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের মধুর খোলা, নারিশার চৈতাবাতর, পশ্চিমচর,জালালপুর, নয়াবাড়ির পানকুন্ড, বালেঙ্গাসহ বিশটি গ্রামের প্রায় এক হাজার পাট চাষী পরিবারে সদস্যরা ব্যস্ত হয়ে উঠেছে বাংলার সোঁনালী আঁশ পাট ঘরে তুলার জন্য।

রৌদে পাট খড়ি শুখানোর আগেই জ্বালানী হিসাবে জমি থেকে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এবং দুর থেকে আসা পাইকেররা সারা দিনই চাষীদের বাড়িতে ঘুরাঘুরি করছে পাট নেওয়ার জন্য।

স্থানীয় কিছু পাইকেররা পাট চাষীর অগ্রিম টাকা দিচ্ছে। নয়াবাড়ির পানকুন্ডু গ্রামের রব ফকির জানান, টানা বর্ষণে কোন কাজ ছিলনা তাই এলাকায় অনেকের কাছেই টাকা ধার চেয়ে ব্যর্থ হয়েছি, আর এখন তারাই আমাদের অগ্রিম টাকা দিতে চাইছে।

দোহারে বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন

ঢাকার দোহার উপজেলায় বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন। এসময় উপজেলার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন ফলজ ও ঔষধি বৃক্ষ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল-আমিন, দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম শেখ, ভাইস চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ ও শামীমা রাহিম শিলা, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন প্রমূখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল হাসান।