তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরাতে চূড়ান্ত শুনানি শুরু

0

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিলে চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ৭ সদস্যের আপিল বেঞ্চে এর শুনানি শুরু হয়।

বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে শুনানি শুরু করেন আইনজীবী ডক্টর শরীফ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করবেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়।

এরপর ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আপিল করেন।

জুবায়েদ হত্যা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনের শোক ঘোষণা

0

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী জুবায়েদ হোসাইন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুইদিনের শোক ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া আগামী ২২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের সকল কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

সোমবার সকাল ১১টায় শিক্ষক, ছাত্রনেতা ও সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২১ ও ২২ অক্টোবর দুই দিন শোক পালন করা হবে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত থাকবে, তবে ক্লাস চলবে। শোকের দুই দিনের প্রথম দিন শোক সভা এবং দ্বিতীয় দিন বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকর‌্যালি করা হবে। পাশাপাশি স্থগিত থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের সব আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, জুবায়েদের মৃত্যু আমাদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে। তাই এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন স্থগিত করা হলো। সাজসজ্জা থাকলেও লাইট জ্বলবে না। জোবায়েদ হত্যার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।

দোহারে তরুণদের মিলনমেলা: অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিজ্ঞা

0

দোহার প্রতিনিধি: “অপরাধমুক্ত দোহার গড়ব”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দোহার উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এক অনন্য তরুণ সমাবেশ। শনিবার ১৮ অক্টোবর দুপুরে দুই শতাধিক তরুণ একত্রিত হয়ে মাদক, অন্যায়, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ গ্রহণ করেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সমাজ থেকে মাদক, অবৈধ বালু উত্তোলন, জমি দখল ও অন্যায় শোষণের বিরুদ্ধে একযোগে রুখে দাঁড়ানোর সময় এখন। তারা ঘোষণা দেন—অন্যায়ের সাথে কোনো আপস নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে হবে ‘নো মার্সি’ নীতি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জুবায়ের আহমেদ। তিনি বলেন,

“তরুণরা দেশের ভবিষ্যৎ, তাদের টোকাই হিসেবে দেখতে চাই না। তারা হবে অপরাধ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য।”

তিনি তরুণদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন।

পদ্মা কলেজের প্রভাষক ও দোহার প্রেসক্লাবের সভাপতি তারেক রাজীব বলেন,

“যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই আকাঙ্ক্ষা এখনো পূর্ণ হয়নি। সেই অপূর্ণ কাজ তরুণদেরই শেষ করতে হবে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ‘জুলাই আন্দোলনের’ কর্মী মাসুদুর রাহমান আদনান রাজনৈতিক অপরাধের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,

“রাজনীতি করলেও যদি কেউ অপরাধকে ঢেকে রাখে—তবে সেই কালো হাত আমরা গুঁড়িয়ে দেবো।”

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার ও বিএনপি নেতা নূর সালাম তরুণদের ভালো কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

এ মিলনমেলায় উপস্থিত ছিলেন: সোহেল বেপারী, আরমান সেতু, রাকিব দেওয়ান, ইমরান বেপারী, আবিদ হজরত, শহিদুল ইসলাম, শেখ রাকিব, শাহাদাত হোসাইন, মিজানুর রহমান, শাফিন আহমেদ, রাসেল হোসেন, তামিম দেওয়ান, সিয়াম, আব্দুল্লাহ, শরিফ হাসান, রিদিম আহমেদ, আলামিন হাসান, সাব্বির আহমেদ, তারিফ হোসাইন, রাহাদ মাহমুদ, তপু গাজী, গাজি রাতিন সহ আরও অনেকে।

সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা খিচুড়ি ভোজে অংশ নেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় একটি সংগঠন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার মাধ্যমে দোহারে সামাজিক সচেতনতা ও ন্যায়ভিত্তিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।

তরুণদের প্রত্যয়—দোহার হবে মাদকমুক্ত, অন্যায়মুক্ত, এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক আধুনিক ও ন্যায়ভিত্তিক অঞ্চল।

ইয়ুথ ব্লাড ডোনার্স ক্লাবের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: মানবতার জয়গানে মুখর নবাবগঞ্জ

0

নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : শনিবার ১৮ অক্টোবর  বিকেলে নবাবগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্র কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উদযাপিত হলো ইয়ুথ ব্লাড ডোনার্স ক্লাবের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। রক্তদানে অগ্রণী এই সংগঠনটি আলোচনা সভা, মিলনমেলা, কেক কাটাসহ নানা আয়োজনে দিনটি উদযাপন করে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন নবাবগঞ্জের প্রখ্যাত মানবিক চিকিৎসক ডা. হরগোবিন্দ সরকার অনুপ। উদ্বোধন করেন নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মমিনুল ইসলাম।

গেস্ট অফ অনার ছিলেন জনাব আব্দুস সালাম, এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আজিজুল মিতু, এডভোকেট মহাসিন হাসান লিটু, সোহেল দূর্জয়, ডেন্টিস্ট সাদ্দাম হোসেন, শাহিনুর মেম্বার, আব্দুল আলিম মেম্বার, স্বাধীন ভাইসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানে নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার ৫টি সংগঠনকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। ক্লাবের একটিভ সদস্যদের মাঝে গাছ বিতরণ করা হয় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে। এছাড়া কেক কাটা, র‍্যাফেল ড্র এবং অতিথি আপ্যায়নসহ দিনব্যাপী আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

বৃক্ষ বিলাশ – একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সৌজন্যে অতিথিদের মাঝে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়, যা অনুষ্ঠানকে করে তোলে আরও অর্থবহ।

অনুষ্ঠান শেষে ইয়ুথ ব্লাড ডোনার্স ক্লাবের সদস্যরা বলেন—“রক্ত শুধু রক্ত নয়, এটি মানবতার সেতুবন্ধ। আমরা রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচাতে চাই, বিভেদ নয়, ভালোবাসা ছড়াতে চাই।”

দোহারে কুকুরের কামড়ে আহত শিশু, ভ্যাকসিন মেলেনি হাসপাতালে

ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা খালপাড় এলাকার ১৩ বছর বয়সী আব্দুল আলীমকে আজ সন্ধ্যায় একটি কুকুর কামড়ে দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন না থাকায় চিকিৎসা প্রদান সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী মেডিকেল কমিউনিটি অফিসার প্রদীপ সরকার জানান, “আমাদের এখানে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন (এআরভি) মজুদ নেই।” ফলে আক্রান্ত শিশুটিকে বাইরে থেকে ভ্যাক্সিন কিনে এনে পুশ করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. রবিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে প্রতিবেদক তিনবার ফোন দিলেও তিনি সাড়া দেননি এবং পরে আর যোগাযোগও করেননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই টিএইচও যোগদানের পর থেকেই হাসপাতালে সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী স্টেশন না ছাড়ার কথা থাকলেও তিনি প্রতিদিন বিকালেই ঢাকা চলে যান। ফলে বিকালের পর হাসপাতাল কার্যত ডাক্তারশূন্য হয়ে পড়ে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শেখ মামুন নামের এক রোগী জানান, “আগে আমরা যেভাবে চিকিৎসা পেতাম, এখন আর সেটা পাই না। ভ্যাকসিন তো দূরের কথা, সাধারণ ওষুধও পাওয়া যায় না।”

এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যেন দ্রুত এই সংকটের সমাধান হয় এবং সাধারণ মানুষ সঠিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে।

দোহারে জামায়াতের উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দোহার শাখার উদ্যোগে ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার শিলাকোঠা এমদাদুল উলুম মাদ্রাসার পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুসুমহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুল ওয়াহাব দোহারী, ঢাকা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এবিএম কামাল হোসাইন, উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. দেওয়ান শহিদুজ্জামান, সেক্রেটারি নুরে আলম ঝিলুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম তার বক্তব্যে ইনসাফভিত্তিক রাজনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সমাজে সকলের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “সততা, মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ছাত্রদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। পড়াশোনায় মনোযোগ দিলে এবং নিজের কাজ নিজে করলে সমাজে চাঁদাবাজির মতো অপকর্মের প্রয়োজন হয় না।” তিনি আরও বলেন, “তাকওয়া বা আল্লাহভীতি দ্বারা জীবন পরিচালিত হলে সমাজে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে।”

পলাতক প্রধান শিক্ষকের স্থায়ী অপসারণের দাবিতে দোহারে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, দোহার (ঢাকা): ঢাকার দোহার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেগম আয়শা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক প্রধান শিক্ষক কুলসুম বেগমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে তাঁর স্থায়ী অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন। এছাড়াও, তার নিয়োগের সময় তার কাম্য যোগ্যতা না থাকা সত্বেও, তাকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়ায় সে নিয়োগ বাতিল করে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ গ্রহণ করায়, সেগুলো ফেরত নিতে সরকারের প্রতি আবেদন জানানো হয়।

সোমবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় সচেতন অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরাও একাত্মতা প্রকাশ করেন।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, সাবেক প্রধান শিক্ষক কুলসুম বেগমের নিয়োগের সময় সরকার বিধি মোতাবেক ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা চেয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। কিন্তু তিনি ১০বছর ৩ মাসের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হয়েও ম্যানেজিং কমিটি ম্যানেজ করে সরকারি বিধি উপক্ষা করে নিয়োগ লাভ করেন। এই ব্যাপারে শিক্ষা অধিদপ্তরের জরুরি দৃষ্টি দেয়ার আবেদন তারা জানান। এছাড়াও, তিনি রেজুলেশনে জুনিয়র বেতন গ্রেড থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগকে প্রমোশন দেখান অথচ সহকারী শিক্ষক হিসেবে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তিনি এভাবেই দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষিকা হলেও বেতন পেতেন সহকারী শিক্ষকের বেতন গ্রেডে।

তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে একক কর্তৃত্ব চালিয়ে আসছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তিনি স্বজনপ্রীতি করে নিজের ও শ্বশুরালয়ের প্রায় ৮/৯ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন যারা সরাসরি তার আত্মীয়।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “আমাদের স্কুলের টেবিল, বেঞ্চ ও কিছু চেয়ার সাবেক প্রধান শিক্ষক তাঁর নিজস্ব লোকজন দিয়ে ঢাকায় বাসায় নিয়ে গেছেন। সেই কর্মচারীরাও এটি স্বীকার করেছেন। তাহলে এখনো তাঁর বিচার হচ্ছে না কেন?”

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জানান, “তিনি আমাদের সঙ্গে খারাপ ভাষায় কথা বলতেন। দরিদ্র কেউ বেতন কমানোর অনুরোধ করলে তিনি তাদের গৃহকর্মীর কাজ করতে বলতেন। এমন একজন মানুষ কীভাবে শিক্ষক হতে পারেন?”

দশম শ্রেণির খাদিজা আক্তার অভিযোগ করেন, “আমরা জেনেছি যে, স্কুলের খেলার মাঠের জন্য ডিসি স্যার ১ লক্ষ টাকা দিলেও মাত্র বারো হাজার টাকার বালু ফেলা হয়। এর সাক্ষী আমাদের শিক্ষকেরাই। আমরা এর বিচার চাই।”

শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, অভিভাবকদেরও অভিযোগের তীর কুলসুম বেগমের দিকে। স্থানীয় অভিভাবক আবুল কাশেম বলেন, “তিনি একাই একশো। তাঁর কথার বাইরে কেউ কথা বলার সুযোগ পেত না। পকেট কমিটি বানিয়ে একাই স্কুল চালাতেন। আমরা বহুবার প্রতিবাদ করেছি, কিন্তু কিছু হয়নি।” স্থানীয় একাধিক অভিভাবক আরও জানান, শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে নির্মাণ কাজে লেনদেন—সবকিছুতেই কুলসুম বেগমের একক সিদ্ধান্ত চলত।

প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষক নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানিয়েছেন, কুলসুম বেগমের বিরুদ্ধে আগেও দুর্নীতির অভিযোগ এনে আন্দোলন হয়েছিল। ২০২৪ সালে অভিভাবক ও ছাত্রীরা মিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি বিস্তারিত অভিযোগপত্রও জমা দেন, যেখানে ৭৫টি অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল। কিন্তু তদন্তে গড়িমসি এবং প্রতিকার না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এবার রাজপথে নেমেছে।
তারা বলেন, তিনি সাম্প্রদায়িক সুবিধা নেন অথচ সবচেয়ে বেশি জুলুম করেন নিজ সম্প্রদায়ের উপর।

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সমাজকর্মী নুজহাত তারিন বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম চলতে পারে না। আমরা শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে গর্বিত। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া।”

মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল দোহার থানায় গিয়ে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাসান আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ওসি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শোনেন এবং বলেন, “তদন্ত শেষের পথে। খুব দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। সত্য উদঘাটিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ বিষয়ে কুলসুম বেগমের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকেও কেউ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বান্দুরার নয়ানগরে স্বামীকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামে প্রবাসীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। নিহত প্রবাসী হলেন জুয়েল, এবং অভিযুক্ত স্ত্রী ঝুমানা আক্তার।

পুলিশ রোববার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বসতঘর থেকে জুয়েলের দগ্ধ লাশ উদ্ধার করে। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্ত্রী ঝুমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার জানিয়েছে, আট বছর আগে বাহরাইন প্রবাসী জুয়েলের সঙ্গে ঝুমানার বিয়ে হয়। জুয়েল বিদেশে চলে যাওয়ার পর ঝুমানা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

দুই মাস আগে জুয়েল বাহরাইন থেকে দেশে ফেরেন। এরপর থেকেই স্ত্রীর পরকীয়া ও উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল।

রবিবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশীরা ঘর থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখে চিৎকার দিলে এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশ খাটের ওপর থেকে জুয়েলের দগ্ধ লাশ উদ্ধার করে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঝুমানা বেগম তাঁর সহযোগীদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে জুয়েলকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করেন। এরপর নিহতের শরীরে আগুন ধরিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়।

নবাবগঞ্জ থানার ওসি মমিনুল ইসলাম জানান, “পরকীয়ার জেরে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।” এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং নিহত জুয়েলের স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

জাল দলিল ও প্রতারণার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন

দোহার উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শেখ আরিফের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা, জাল দলিল তৈরি ও প্রতারণার অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সোমবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার জয়পাড়া কালেমা চত্বরে বিলাসপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগী পরিবার এই কর্মসূচি পালন করে।

অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, প্রবাসী অধ্যুষিত দোহার উপজেলায় জমির চাহিদা বাড়ায় এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভূমিদস্যু শেখ আরিফের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখল করে নিচ্ছে। প্রায় ৪০-৫০ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা জমির প্রকৃত মালিকরাও এখন দিশেহারা।

রাধানগর গ্রামের ভুক্তভোগী তাপস শেখ বলেন, “আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে নিজের বাড়িতে বসবাস করছি। এখন সেই জমি জাল দলিলের মাধ্যমে নিজেদের দাবি করছে শেখ আরিফের চক্র। উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে আমাদের। আমরা এর বিচার চাই।”

একই গ্রামের কাশেম শিকদার অভিযোগ করেন, “আসল জমির মালিককে অন্ধকারে রেখে অন্যের জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নিচ্ছে এই চক্র। এতে বহু পরিবার পথে বসার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।”

স্থানীয়রা জানান, শেখ আরিফের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা চক্রটি এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রবাসীদের জমি টার্গেট করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে মালিকানা দাবি করছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মানববন্ধন শেষে ভুক্তভোগীরা শেখ আরিফ ও তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানিয়া তাবাসসুমের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এ বিষয়ে ইউএনও তানিয়া তাবাসসুম বলেন, “অভিযোগ লিখিতভাবে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য দোহার থানা প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।”

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্রী হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার শিক্ষক ও অভিভাবকদের

ঢাকার নবাবগঞ্জ আইডিয়াল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. আলীর বিরুদ্ধে আনীত ছাত্রী হয়রানির অভিযোগকে “মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছেন মাদরাসার শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ। তাদের অভিযোগ, “মাদরাসার সুনাম ক্ষুণ্ম ও রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে ঘটনার ৮ দিন পর ছাত্রীর মা মোসা. শিল্পী প্রথমে সংবাদ সম্মেলন এবং পরে মামলা করেছেন।”

গতকাল শুক্রবার আইডিয়াল মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা তাজুল ইসলাম এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এই দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা অধ্যক্ষ মো. আলী উল্লেখিত ঘটনার দিন মাদরাসায় অনুপস্থিত থাকার সপক্ষে কিছু প্রমাণ উপস্থাপন করেন।

ঘটনার দিন অধ্যক্ষ ছিলেন নির্বাচনী গণসংযোগে:

শিক্ষক ও অভিভাবকরা বলেন, “উল্লিখিত ঘটনার দিন (২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) যে সময়ের উল্লেখ করা হয়েছে, সেই সময় অধ্যক্ষ মো. আলী মাদরাসাতেই ছিলেন না। তিনি তখন পাশের উপজেলা দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১ আসনের এমপি প্রার্থীর নির্বাচনী গণসংযোগে ব্যস্ত ছিলেন। তারা জানান, এই গণসংযোগের চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ প্রচারিত হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, “গতকাল বৃহস্পতিবার আমরা গভীর দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি মাদরাসার সুনাম ক্ষুণ্ম করার জন্য আমাদের মাদরাসার এক শিক্ষার্থীর মা মোসা. শিল্পী আমাদের প্রিন্সিপাল, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, শিক্ষার্থীদের পিতৃসমতূল্য অভিভাবক এবং বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কুরুচীপূর্ণ, রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থ করতে মিথ্যা, বানোয়াট এবং বিভ্রান্তিকর অভিযোগ এনে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।”

তারা প্রশ্ন তোলেন, “ঘটনার দিন অভিযোগ না করে সরকারি একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কীভাবে সংবাদ সম্মেলন করা হলো, তা তাদের কাছে বোধগম্য নয়। পরবর্তীতে ঘৃণ্য রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের অংশ হিসেবে উল্লিখিত ঘটনার ৮ দিন পর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।”

মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যেসব দাবি ও প্রমাণ উপস্থাপন করে:

অধ্যক্ষের অনুপস্থিতি: অভিযোগকারী ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫-এর তারিখ উল্লেখ করেছেন। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, “ওই দিন অধ্যক্ষ মো. আলী দোহারের সুতারপাড়ায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী গণসংযোগে ব্যস্ত ছিলেন। ফেসবুকে লাইভ প্রচারিত ভিডিওতে সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়, তিনি সুতারপাড়ায় গণসংযোগে ব্যস্ত এবং সেখানে যোহরের আযান শোনা যাচ্ছে।”

শিক্ষার্থীর নিয়মিত উপস্থিতি: “উল্লিখিত মিথ্যা ঘটনার পরেও মাদরাসা খোলা ছিলো ছয় কার্যদিবস। এর মধ্যে এক দিন বাদে বাকি পাঁচ কার্যদিবস অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাশে এসেছে। শিক্ষক ও অভিভাবকরা প্রশ্ন তোলেন, যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটতো, তাহলে কি ওই শিক্ষার্থী নিয়মিত মাদ্রাসায় যেতো? সে কি এই ঘটনা তার কোনো ক্লাসমেট বা শিক্ষক বা অভিভাবকের সাথে শেয়ার করতো না?” তারা জোর দিয়ে বলেন, এটি একটি সুগভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।
অধ্যক্ষের কোনো আলাদা রুম নেই: “সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীর মা উল্লেখ করেছেন, তার মেয়েকে অধ্যক্ষ জনাব মোহাম্মদ আলী তার আলাদা রুমে ডেকেছিলেন। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এর প্রতিবাদ করে বলেন, এই মাদরাসায় অধ্যক্ষের জন্য কোনো আলাদা রুম নেই। অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী যে রুমে বসেন, সেখানে শিক্ষক ও অফিস সহকারীরাও বসেন এবং অধ্যক্ষের পাশেই অভিভাবকদের বসার রুম। এ থেকেই পরিষ্কার, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ কল্পিত ও বানোয়াট।”

সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ বলেন, “এই ঘটনার মাধ্যমে মাদ্রাসার সুনামসহ একজন সম্ভাবনাময়ী সৎ, চরিত্রবান, দেশপ্রেমিক আলেম ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।”

তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী ও সাংবাদিকবৃন্দের প্রতি অনুরোধ করেন, “এই জঘন্য মিথ্যাচারের ঘটনা তদন্ত করে সত্য উন্মোচিত করবেন। কারো চাপে প্রভাবিত না হয়ে জনগণের নিকট দায়বদ্ধতা থেকে সমাজে ন্যায়, ইনসাফ ও সত্য প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবেন।”

সংবাদ সম্মেলনে মাদরাসার সকল শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, পরিচালক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।