দোহার প্রতিনিধি: “অপরাধমুক্ত দোহার গড়ব”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দোহার উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এক অনন্য তরুণ সমাবেশ। শনিবার ১৮ অক্টোবর দুপুরে দুই শতাধিক তরুণ একত্রিত হয়ে মাদক, অন্যায়, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ গ্রহণ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সমাজ থেকে মাদক, অবৈধ বালু উত্তোলন, জমি দখল ও অন্যায় শোষণের বিরুদ্ধে একযোগে রুখে দাঁড়ানোর সময় এখন। তারা ঘোষণা দেন—অন্যায়ের সাথে কোনো আপস নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে হবে ‘নো মার্সি’ নীতি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জুবায়ের আহমেদ। তিনি বলেন,
“তরুণরা দেশের ভবিষ্যৎ, তাদের টোকাই হিসেবে দেখতে চাই না। তারা হবে অপরাধ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য।”
তিনি তরুণদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন।
পদ্মা কলেজের প্রভাষক ও দোহার প্রেসক্লাবের সভাপতি তারেক রাজীব বলেন,
“যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই আকাঙ্ক্ষা এখনো পূর্ণ হয়নি। সেই অপূর্ণ কাজ তরুণদেরই শেষ করতে হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ‘জুলাই আন্দোলনের’ কর্মী মাসুদুর রাহমান আদনান রাজনৈতিক অপরাধের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,
“রাজনীতি করলেও যদি কেউ অপরাধকে ঢেকে রাখে—তবে সেই কালো হাত আমরা গুঁড়িয়ে দেবো।”
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার ও বিএনপি নেতা নূর সালাম তরুণদের ভালো কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এ মিলনমেলায় উপস্থিত ছিলেন: সোহেল বেপারী, আরমান সেতু, রাকিব দেওয়ান, ইমরান বেপারী, আবিদ হজরত, শহিদুল ইসলাম, শেখ রাকিব, শাহাদাত হোসাইন, মিজানুর রহমান, শাফিন আহমেদ, রাসেল হোসেন, তামিম দেওয়ান, সিয়াম, আব্দুল্লাহ, শরিফ হাসান, রিদিম আহমেদ, আলামিন হাসান, সাব্বির আহমেদ, তারিফ হোসাইন, রাহাদ মাহমুদ, তপু গাজী, গাজি রাতিন সহ আরও অনেকে।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা খিচুড়ি ভোজে অংশ নেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় একটি সংগঠন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার মাধ্যমে দোহারে সামাজিক সচেতনতা ও ন্যায়ভিত্তিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।
তরুণদের প্রত্যয়—দোহার হবে মাদকমুক্ত, অন্যায়মুক্ত, এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক আধুনিক ও ন্যায়ভিত্তিক অঞ্চল।
