নবাবগঞ্জে অধ্যক্ষ ও জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

নবাবগঞ্জ উপজেলায় যৌন হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মা মোসাম্মৎ শিল্পী।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নের বলমন্তর এলাকার সিনথিয়া ইসলামের মা মোসামৎ শিল্পী নবাবগঞ্জ আইডিয়াল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, আমি অসহায় একজন মানুষ, প্যারাগণ হসপিটালে চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করছি। আমার মেয়ে নবাবগঞ্জ আইডিয়াল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ২৩ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মোহম্মদ আলী আমার মেয়েকে তার অফিস রুমে ডেকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করে। এবং এ ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য আমার মেয়েকে ছুরি দিয়ে হত্যার ভয় দেখায়। ভয়ে আমার মেয়ে কাউকে কিছু বলে নাই। হঠাৎ গত ৩০ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) মাদ্রাসা থেকে ফোন আসে আমার মেয়ে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে। এরপর আমি মাদ্রাসায় যাওয়ার পর জানতে পারি এক সপ্তাহ আগে আমার মেয়ের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা। বর্তমানে আমার মেয়ে নবাবগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, সে শারিরীক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিছুক্ষন পর পর অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে। আমি এবং আমার পরিবার বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।

শিল্পী বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের নৈতিকতা ও শালীনতার প্রতীক হওয়ার কথা। কিন্তু তার কাছ থেকে এ ধরনের জঘন্য আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ঘটনা শুধু আমার মেয়ের মানসিক ও সামাজিক জীবনে আঘাত করেনি, বরং গোটা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তিনি আরো বলেন, মাদ্রাসার এ প্রিন্সিপাল জামায়াতের নেতা বলে পরিচয় দেয়। এবং তার ক্ষমতার দাপটে ভয়ভীতি দেখান আমাদের।

এসময় তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে বলেন, দ্রুত অভিযুক্ত মাদ্রাসার প্রিন্সিপালকে পদচ্যুত করতে হবে এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সেই সঙ্গে আমার মেয়ের নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

অভিযোগটিকে সাজানো ও উদ্দেশ্যমূলক বলে উল্লেখ করেছেন মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে মিথ্যা ঘটনা সাজানো হয়েছে। ঘটনার দিন আমি মাদ্রাসায় ই ছিলাম না। এছাড়াও, আমার ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এতে ইন্ধন জোগাচ্ছে।’

থানায় কোন অভিযোগ করেছেন কিনা সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন করলে শিল্পী বলেন, না আমি এখনো কোন মামলা বা অভিযোগ করি নাই। ওসি এসেছিল এসেছিল এসে আমার মেয়ে ছবি তুলতে চেয়েছে এবং আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে।

এ ঘটনায় মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলমান বলে জানিয়েছেন নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগের জবাব দিয়েছেন মশিউর রহমান উদ্যোম

0

দোহার উপজেলায় “অপপ্রচারের” অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে দোহার প্রেসক্লাবের অডিটোরিয়ামে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন উপজেলার সুতারপাড়া মধুরচর এলাকার বাসিন্দা মশিউর রহমান উদ্যোম।

সংবাদ সম্মেলনে মশিউর রহমান উদ্যোম অভিযোগ করেন, মধুরচর এলাকার বাবু খা ও তাঁর স্ত্রী রাজিয়া তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট কুৎসা রটিয়ে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন।

উদ্যোম দাবি করেন যে, বাবু খা গং যে জমিটি দাবি করছেন, তার প্রকৃত মালিক হলেন বেগম শামসুন্নাহার গং। জমিটির দাগ নম্বর উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি হলো সিএস ৬৫৩, এসএ ১৮৫, এবং আরএস ৩২৮, ৩২৯ ও ৩৩০। অপরদিকে, বাবু খা গং একই দাগের জমি দাবি করলেও, তাঁদের দাগ নম্বর ভিন্ন, যা অন্য সম্পত্তির।

সংবাদ সম্মেলনে দোহার প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দসহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দোহারের ঝনকিতে হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন: বিক্ষোভ মিছিল 

0

ঢাকা: ১ অক্টোবর (বুধবার)। গত শনিবার রাতে ঢাকার দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের ঝনকি গ্রামে সংঘটিত নৃশংস হামলার প্রতিবাদে আজ বুধবার সকালে দোহার উপজেলা সড়কের কালেমা চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় জনসাধারণ। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত এবং দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত হামলায় আহত সুমা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, শনিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে যুবদল নেতা মামুন মাঝির ইন্ধনে মুকসেদ মাঝি, আতিয়ার খালাসী, ফারুক, মহিবুল্লাহসহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন সশস্ত্র হামলাকারী তাঁদের ওপর চড়াও হয়। হামলাকারীরা চাপাতি, রামদা ও শাবলের মতো দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে।

ক্রন্দনরত সুমা আক্তার আরও জানান, হামলায় গুরুতর আহত আমার বাবা ইসরাফিল শিকদার ও ফুফাতো ভাই সেলিমকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তাঁরা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে সেলিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করে বলেন, “মতিন সেলিমকে কুপিয়েছে। এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি এবং বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি পাচ্ছি।”

মানববন্ধনে উপস্থিত আরেকজন ভুক্তভোগী রোকসানা জানান, পূর্বের শত্রুতা ও জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ঘটনার দিন রুবেলের বাড়ির সামনে কিছু স্থানীয় যুবক অভিযুক্তদের বাধা দিতে গেলে, তারা মামুন মাঝি, মুকসেদ মাঝি ও আতি খালাসীকে ফোন করে নিয়ে আসে। এরপর ১৫ থেকে ২০ জন সবুজন, মতিনসহ আরো কয়েকজন মিলে নির্বিচারে কোপাতে শুরু করে।

রোকসানা বলেন, “আমরা পায়ে ধরেও রক্ষা পাইনি। তারা হুমকি দিয়ে বলে, ‘তোগোরে আইজ মাইর‍্যা ফালামু’। সেলিমকে খুব খারাপভাবে কোপানো হয়েছে এবং ইস্রাফিল শিকদারকে শাবল দিয়ে আঘাত করা হয়। তারা সুমার কাপড় ছেঁড়ার চেষ্টা করে এবং কোপায়।” তিনি দ্রুত গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের জোর দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন যে, এই জঘন্য হামলার সঙ্গে জড়িত সকল দোষীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। সরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু হওয়া এই মানববন্ধনটি উপজেলা গেট হয়ে দোহার থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়।

এ বিষয়ে দোহার থানা তদন্ত অফিসার মো. নুরুন্নবী সাংবাদিকদের জানান, আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।

প্রযুক্তির সহায়তায় ভোট দেবেন প্রবাসীরা : সিইসি

0

নিউজ ডেস্ক : প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, এবার প্রবাসীরা আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এটি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে ইসির অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি।

সিইসি বলেন, প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অনেক সহজ ও কার্যকর করা হচ্ছে। এটি আমাদের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

নাসির উদ্দিন বলেন, প্রবাস থেকে ভোট দিতে হলে প্রবাসীকে অবশ্যই আউট অব কান্ট্রি ভোটিং এ রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এ লক্ষ্যে খুব শিগগির আমরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামের একটা মোবাইল অ্যাপ চালু করবো।

সিইসি আরও বলেন, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপসে আপনার রেজিস্ট্রেশনের সময় আপনাকে আপনার প্রয়োজন হবে এনআইডি কার্ড আপনার পাসপোর্ট ডিটেইলস লাগবে এবং প্রবাসে আপনার ঠিকানাটা দিতে হবে। এই অ্যাপসের মাধ্যমে আপনার ফেস আইডেন্টিফিকেশন করতে হবে, লাইভনেস ডিটেকশন সম্পন্ন করতে হবে। এই কাজটি করার পরে আপনার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে আপনার প্রবাসের ঠিকানায় আমাদের ব্যালট পেপার পৌঁছে যাবে।

সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, আপনি ভোট দেওয়ার পরে শুধু খামটি পোস্ট অফিসে পোস্ট করবেন। এটা যথাযথ স্থানে আমাদের প্রদত্ত ঠিকানায় পৌঁছে যাবে। আমরা আশা করবো আমাদের সব প্রবাসী ভাইবোন এই সুযোগটা কাজে লাগাবেন।

দোহারে জমি নিয়ে সংঘর্ষ: উভয় পক্ষের আহত হওয়ার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

0

মাহমুদুল হাসান, দোহার (ঢাকা): ঢাকার দোহার উপজেলার সুতারপাড়া গ্রামে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে আনুমানিক ৭টার দিকে এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারীও রয়েছেন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন। জমিসংক্রান্ত এই বিরোধ স্থানীয় আদালত, সালিশ এবং সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত হলেও এখনো এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সংঘর্ষের বিবরণ ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আরিফ হোসেন গং এবং শেখ মনির-শেখ জাহেদুল গংয়ের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার সকালে এই বিরোধ সহিংস রূপ নেয়।

শেখ মনির ও জাহেদুল গংয়ের পক্ষে রুপা আক্তার (৩২) অভিযোগ করেন, “সকাল সাতটার দিকে আরিফ, শাওনসহ ১০-১২ জন দেশীয় অস্ত্রসহ আমাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।”
“তারা একটি ভেকু মেশিন নিয়ে এসে ঘরের বেড়া ও স্থাপনা ভাঙচুর করে। এ হামলায় আমার বড় জা শম্পা (৪০) ও আমার মেয়ে আহত হন, বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন।”

তিনি আরও জানান, জমিটি তাদের দাদা শ্বশুর ও শ্বশুর খরিদসূত্রে মালিক। তারা জমি নিয়ে আদালতে মামলা করেছিলেন এবং মামলার রায় তাদের পক্ষে আসে।
তিনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গত ২৬ মার্চ তাদের বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগও করেন। রুপা আক্তার প্রতিপক্ষ আমেনার আহত হওয়ার অভিযোগ মিথ্যা বলে অস্বীকার করেন।

অন্যদিকে, আরিফ হোসেন ভিন্ন দাবি করে বলেন,
“গত বছরের ১৬ রমজান থেকে প্রতিপক্ষ আমাদের ওপর হামলা ও জমি দখলের চেষ্টায় লিপ্ত। বিষয়টি সাংবাদিক, গণমাধ্যম এবং প্রশাসন জানে।

তিনি জানান, “২৬ রমজানে আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল ও সমালোচিত হয়। তবুও আমরা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো প্রকার সহায়তা পাইনি।”

তাঁর দাবি, “সুতারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ব্যাপারী, স্থানীয় বিএনপি নেতা জলিল সওদাগর, আব্দুল করিম বেপারিসহ স্থানীয় সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে আমাদের জমি বুঝিয়ে দেয়া হয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমরা জমি পুনরুদ্ধারে গেলে আজ সকালে কাদের খার ছেলে করিম, শেখ মনিরের স্ত্রী ও তার মেয়ে, আজিজুলের স্ত্রী কর্তৃক হামলার শিকার হই।”

আরিফ হোসেন জানান, “আমার খালা আমেনাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে , তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এমনকি এক হামলাকারী আমাদের একজনের হাত কামড়ে যখম করে।”

আরিফ হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে ‘ডাকাতি’র অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার একটি পা নেই, আমি কীভাবে ডাকাতি করব? আমি অটো চালাই। মামলাটি কোর্টে খারিজ হয়েছে বলেও তিনি দাবী করেন।” তিনি দাবি করেন জমিটি তাদের পৈতৃক, যদিও আরএস রেকর্ডে ওঠেনি। তবে প্রতিপক্ষের নামেও রেকর্ড নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উভয় পক্ষই প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। এ বিষয়ে দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: হাসান আলী জানান, “জমির মূল বৈধতা তার কাগজপত্র। আজকের ঘটনাটি আমি জেনেছি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অফিসারসহ পুলিশের গাড়ি সেখানে পাঠিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “ভুক্তভোগী যে কেউ চাইলেই মামলা করতে পারে।”
এলাকাবাসীর মতে, জমির মালিকানা নিয়ে আইনি জটিলতা, স্থানীয় সালিশ এবং সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চললেও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ ছাড়া এই বিরোধ আরও তীব্র হতে পারে এবং পরিস্থিতি অবনতির আশংকা রয়েছে।

নবাবগঞ্জে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টা: অভিযুক্ত পলাতক

0

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় এক ভয়াবহ ও মর্মস্পর্শী ঘটনা ঘটেছে। নয়নশ্রী ইউনিয়নের বাংলা বাজার ভাওয়াডুবি এলাকায় তুচ্ছ পারিবারিক কলহের জেরে এক স্বামী তার স্ত্রীর শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই নারকীয় ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী রোজিনা বেগম (৩০) গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় বর্তমানে নবাবগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তিনি জানান, তার স্বামী রজ্জব আলী সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়ার জেরে তাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন। রোজিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। রোজিনা বেগমের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার সুগন্ধিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত আবাদুল গনি খান।

দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও পূর্বেও হত্যার অভিযোগ করেন রোজিনা বেগম। তিনি বলেন, স্বামী রজ্জব আলী দীর্ঘদিন ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অকথ্য নির্যাতন করে আসছিলেন। এরই চরম পরিণতি হিসেবে সোমবার দুপুরে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রোজিনা আরও জানান, রজ্জব আলী এর আগেও আরেক স্ত্রীকে হত্যা করেছেন এবং তিনি মোট তিনটি বিয়ে করেছেন। এই গুরুতর অভিযোগগুলো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ুন কবির খান এই ঘটনার পর এলাকায় গভীর আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টির কথা জানিয়েছেন।

পুলিশের তৎপরতা: অভিযুক্ত অধরা
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে অভিযুক্ত রজ্জব আলীকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। পুলিশ তার সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে। ওসি আরও বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্তাধীন রয়েছে এবং রোজিনা বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, অভিযুক্ত রজ্জব আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়। এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

দোহারের ঝনকিতে হামলা ও সংঘর্ষঃ আহত ৫; আশংকাজনক ১

0

স্টাফ রিপোর্টার, news39.net: ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের ঝনকি গ্রামে এক ভয়াবহ হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পূর্বের জমি সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব থেকে এই হামলা ও সংঘর্ষের মূল কারণ বলে স্থানীয়রা জানান। এলাকাবাসী কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শনিবার দিবাগত রাতে ঝনকি গ্রামে চান্দু’র দোকান থেকে পশ্চিমদিকে মাদক ব্যবসায়ী রুবেলের বাড়ীর সামনে ২৩/২৪ বছর বয়সী কিছু সংখ্যক কিশোর জড়ো হলে, সন্দেহ থেকে রিসাদ, তুষার, রায়হান মোল্লা, পারভেজসহ আরো কয়েকজন তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে তারা মাদকদ্রব্য কিনতে এসেছে। এসময় একজনকে বকাঝকা দিয়ে সরিয়ে দেয়ার হলে, তারা তৎক্ষণাৎ মুকসেদ মাঝিকে ফোন দিয়ে আসতে বলে।

মুকসেদ মাঝি ঘটনাস্থলে আসলে কথা কাটাকাটি হয় ও হাতাহাতি হয়। এসময় মুকসেদ মাঝির সাথে লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রিসাদদের উপর হামলা করে। পরে আরও লোকবল যুক্ত হয়ে বাড়ী ঘিরে ফেলে এলোপাথারি কুপিয়ে ৪ জনকে গুরুতর আহত করে। এসময় মুকসেদ মাঝিও আহত হোন বলে জানা গেছে। আশংকাজনক অবস্থায় সেলিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে; বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে নিবীড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে জানা যায়।

আহত সুমা আক্তার (৩২) নিউজ৩৯কে জানান, আমরা আমার ছোট ভাইয়ের শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে যাই। এরআগে আমাদের জায়গা নিয়ে এলাকায় বসা হয়। আমাদের বিপরীত পক্ষের বিচারে ছিলেম মামুন মাঝি। মুকসেদ মাঝি এরা। কিন্ত বিচার চলাকালীন তাদের মনের মতো না হওয়ায়, তখন তারা বিচার থেকে উঠে গিয়ে বলে তোদেরকে দেখে নিবো। সেই হুমকির ফল তারা গতকাল রাতে প্রমাণ করল।
আমরা ভাইয়ের শ্বশুর বাড়ী থাকাকালীন এলাকার মাদকসেবীদের সাথে আমার ভাইয়ের তর্ক হয়। এসময় তারা মুকসেদ মাঝিকে আসতে বলেন। সেই সুযোগে গতকাল রাত ৯ টার দিকে মান্নান মাঝির ছেলে বিএনপির মকসেদ মাঝি,আতিয়ার খালাসী,সবুজ মাঝি, ফারুক, মহিবুল্লাহসহ ৩০ থেকে ৪০ জন চাপাতি, রামদা,শাবল, ছ্যান দিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়।

তিনি আরো বলেন, আমার পিতা ইসরাফিল শিকদার ও ভাই শেখ সেলিমকে এমন ভাবে তারা কুপিয়েছে তারা এখন ঢাকা মেডিকেলে আইসিইউতে আছে। তারা রামদা দিয়ে কুপ দিয়ে আমার হাতের রগ কেটে ফেলেছে। মামুন মাঝি ঢাকা জেলা যুবদলের সদস্য। এলাকায় তার রয়েছে কিশোর গ্যাং। সে বিএনপির দাপট দেখিয়ে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। আমরাও বিএনপি করি কিন্ত আমরাতো অসহায় । আমরা এখন প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার চাই।

এ বিষয়ে মামুন মাঝির সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, তারা মাদককারবাবী করেন। বিএনপির ওর্য়াড সভাপতি মুকসেদ মাঝি তাদেরকে মাদকের সাথে জড়িত না থাকার জন্য বারণ করেন। তাদেরকে কুপানোর বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতকাল রাতে এসময় এলাকায় প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ লোক ছিল, তখন কে বা কারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে এবিষয়ে আমি কিছু জানি না।

এ বিষয়ে দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আলী বলেন, আহতদের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে থানা যথাযথ ব্যবস্থা নিবে বলে জানানো হয়েছে।
ঝনকিতে হামলা ও সংঘর্ষঃ আহত ৫; আশংকাজনক ১

স্টাফ রিপোর্টার, news39.net: ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের ঝনকি গ্রামে এক ভয়াবহ হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পূর্বের জমি সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব থেকে এই হামলা ও সংঘর্ষের মূল কারণ বলে স্থানীয়রা জানান। এলাকাবাসী কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শনিবার দিবাগত রাতে ঝনকি গ্রামে চান্দু’র দোকান থেকে পশ্চিমদিকে মাদক ব্যবসায়ী রুবেলের বাড়ীর সামনে ২৩/২৪ বছর বয়সী কিছু সংখ্যক কিশোর জড়ো হলে, সন্দেহ থেকে রিসাদ, তুষার, রায়হান মোল্লা, পারভেজসহ আরো কয়েকজন তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে তারা মাদকদ্রব্য কিনতে এসেছে। এসময় একজনকে বকাঝকা দিয়ে সরিয়ে দেয়ার হলে, তারা তৎক্ষণাৎ মুকসেদ মাঝিকে ফোন দিয়ে আসতে বলে।

মুকসেদ মাঝি ঘটনাস্থলে আসলে কথা কাটাকাটি হয় ও হাতাহাতি হয়। এসময় মুকসেদ মাঝির সাথে লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রিসাদদের উপর হামলা করে। পরে আরও লোকবল যুক্ত হয়ে বাড়ী ঘিরে ফেলে এলোপাথারি কুপিয়ে ৪ জনকে গুরুতর আহত করে। এসময় মুকসেদ মাঝিও আহত হোন বলে জানা গেছে। আশংকাজনক অবস্থায় সেলিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে; বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে নিবীড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে জানা যায়।

আহত সুমা আক্তার (৩২) জানান নিউজ৩৯কে জানান, আমরা আমার ছোট ভাইয়ের শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে যাই। এরআগে আমাদের জায়গা নিয়ে এলাকায় বসা হয়। আমাদের বিপরীত পক্ষের বিচারে ছিলেম মামুন মাঝি। মুকসেদ মাঝি এরা। কিন্ত বিচার চলাকালীন তাদের মনের মতো না হওয়ায়, তখন তারা বিচার থেকে উঠে গিয়ে বলে তোদেরকে দেখে নিবো। সেই হুমকির ফল তারা গতকাল রাতে প্রমাণ করল।
আমরা ভাইয়ের শ্বশুর বাড়ী থাকাকালীন এলাকার মাদকসেবীদের সাথে আমার ভাইয়ের তর্ক হয়। এসময় তারা মুকসেদ মাঝিকে আসতে বলেন। সেই সুযোগে গতকাল রাত ৯ টার দিকে মান্নান মাঝির ছেলে বিএনপির মকসেদ মাঝি,আতিয়ার খালাসী,সবুজ মাঝি, ফারুক, মহিবুল্লাহসহ ৩০ থেকে ৪০ জন চাপাতি, রামদা,শাবল, ছ্যান দিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়।

তিনি আরো বলেন, আমার পিতা ইসরাফিল শিকদার ও ভাই শেখ সেলিমকে এমন ভাবে তারা কুপিয়েছে তারা এখন ঢাকা মেডিকেলে আইসিইউতে আছে। তারা রামদা দিয়ে কুপ দিয়ে আমার হাতের রগ কেটে ফেলেছে। মামুন মাঝি ঢাকা জেলা যুবদলের সদস্য। এলাকায় তার রয়েছে কিশোর গ্যাং। সে বিএনপির দাপট দেখিয়ে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। আমরাও বিএনপি করি কিন্ত আমরাতো অসহায় । আমরা এখন প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার চাই।

এ বিষয়ে মামুন মাঝির সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, তারা মাদককারবাবী করেন। বিএনপির ওর্য়াড সভাপতি মুকসেদ মাঝি তাদেরকে মাদকের সাথে জড়িত না থাকার জন্য বারণ করেন। তাদেরকে কুপানোর বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতকাল রাতে এসময় এলাকায় প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ লোক ছিল, তখন কে বা কারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে এবিষয়ে আমি কিছু জানি না।

এ বিষয়ে দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আলী বলেন, আহতদের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে থানা যথাযথ ব্যবস্থা নিবে বলে জানানো হয়েছে।

দোহারে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে পৌর বিএনপি নেতার বাড়ীতে হামলার অভিযোগ

0

ঢাকার দোহার উপজেলায় পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহসিন উদ্দিন খান মাসুমের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও স্বর্ণালংকারসহ নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শিকদার ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ব্যক্তিগত জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাজনৈতিক সংগঠনের দুই নেতার এমন সংঘাতে দোহারের স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

মহসিন উদ্দিন খান মাসুম ও তাঁর স্ত্রী ফারহানা রহমান রূপার থেকে জানা যায়, “গতকাল শনিবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ছাত্রদল নেতা আলমগীর শিকদার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন বহিরাগত লোক নিয়ে দক্ষিণ জয়পাড়া বড় মাঠ ( কুরবানির গরুর হাট মাঠ) সংলগ্ন এলাকায় তাঁদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন। এসময় তাঁরা বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি প্রদান করেন।”

রূপা অভিযোগ করে বলেন, “তাঁরা হুমকি না মানায় হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। শুধু তাই নয়, ঘরে রাখা দেবীনগর হাটের ইজারার খাজনার টাকা ও দেড় ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়াও, গুরুত্বপূর্ণ কাগজ, ৩টি চেক বই নিয়ে যায়।”

মহসিন উদ্দিন মাসুম আরও জানান, “আমি আমার বাবার ক্রয়কৃত এই জমিতে বসবাস করছি আজ ২৫ বছর। জমি ক্রয় হয়েছে প্রায় ৩৭ বছর।”  হামলার পর আলমগীর শিকদার ও তাঁর সহযোগীরা পাশের একটি দোকান এবং আরও দুটি বাড়িতে গিয়েও হুমকি প্রদান করেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

ছাত্রদল নেতার পাল্টা দাবি: জমি সংক্রান্ত বিরোধ

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শিকদার হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, “মহসিন উদ্দিন খান মাসুম যে বাড়িতে থাকেন, সেই জমির মালিক তাঁর মামা। মামার দলিল রয়েছে। তিনি মামার কাছ থেকে ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ নিয়েছেন। সেই আইনি সূত্রেই তিনি মাসুম খানের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন। তিনি ভাঙচুর করেননি এবং মাসুম খান বাড়িতে না থাকায় তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে শুধু যোগাযোগ করতে বলেছেন। পরবর্তীতে আমি ফোনে মাসুম ভাইকে বিষয়টি অবহিত করি। ভাংচুরের ঘটনাটি সাজানো এবং আমাকে ফাসাতে এই ঘটনা সাজানো হয়েছে বলে আমি মনে করি।”

তবে তাঁর সঙ্গে লোক থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, “তিনি তাঁর সঙ্গে কয়েকজন লোক থাকার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি আমার এলাকার ভাই, বন্ধুদের সাথে এক জায়গায় যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে,  ভাইয়ের বাসা সামনে আসায় ভাবলাম ভাইকে বিষয়টি অবহিত করি। এটাতো স্বাভাবিক, তাই না?”

এই ব্যাপারে দলীয় নেতাদের অবস্থান ও বক্তব্য:

উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেছের খান জানান, মহসিন উদ্দিন খান মাসুম তাঁকে বিষয়টি অবগত করলে তিনি আইনগত পদক্ষেপ নিতে বলেন। তিনি আরও বলেন, “মাসুমের বাবা মোসলেম স্যার আমাদের শিক্ষক ছিলেন।” তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, “আলমগীর যদি এমন কাজ করে থাকেন, তবে তাঁর দল থেকে বহিষ্কার হওয়া উচিত।” তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক দেখবেন বলে জানান তিনি।

ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক বলেন, “যেটা সত্য, আমরা সেটাই চাই। আমরা চাই ন্যায়বিচার হোক।”

মহসিন উদ্দিন খান মাসুম থানায় অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি মামলায় রুপান্তর হবে বলে জানান তিনি।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আলী নিশ্চিত করেছেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি জানান, “ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

পদ্মায় স্পিডবোটের তলা ফেটে পানিতে ডুবে গৃহবধূর মৃত্যু, আহত ৮

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পদ্মা নদীর গোপালপুর ঘাট থেকে মৈনট ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া একটি স্পিডবোট ডুবে দুর্গা রায় (৫৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আট যাত্রী।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে গোপালপুর ঘাট থেকে স্পিডবোটটি ছেড়ে যাওয়ার পর পদ্মা নদীর অপরপাড়ের মৈনট ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছালে প্রচণ্ড ঢেউ আর কড়াল স্রোতে পড়ে বোটটির তলা ফেটে গিয়ে পানি উঠে ডুবে যায়।

এ সময় স্পিডবোটের ১৮ জন যাত্রী প্রায় আধা ঘণ্টা যাবৎ পদ্মায় ভেসে ছিলেন। পরে স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত যাত্রীদের উদ্ধার করেন। মৃত দুর্গা রায় উপজেলার জয়দেব সরকারের ডাঙ্গি গ্রামের বিমল চন্দ্র রায়ের স্ত্রী।

আহত সিকমা আক্তার (২০), লক্ষণ রায় (০৩), মারিয়া আক্তার (২৫) ও মাসুদ আলমসহ মোট ৮ যাত্রীকে উদ্ধার করে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রজিউল্লাহ খান বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাই এবং নৌবাহিনীকে অবহিত করি।’

চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন মাস্টার গোলাম মুর্তজা বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করি।’

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা খাতুন বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসি এবং স্বজনদের খোঁজখবর নিচ্ছি। বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এ ঘটনায় যদি কারও অবহেলা প্রমাণিত হয় তবে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ননী গোপাল হালদার দুর্গা রায়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দোহারে সেলাই মেশিন বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

0

মো:আল আমিন হোসাইন: ঢাকার দোহার পৌরসভার উদ্যোগে পৌর এলাকার অসহায় ও দুঃস্থ নারীদের মাঝে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ, বৃক্ষরোপণ ও এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে দোহার পৌরসভা অডিটোরিয়ামে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দোহার পৌরসভার প্রশাসক তানিয়া তাবাসসুম। প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিভাগের স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (উপসচিব) মোছা. সেলিনা বানু। তিনি দোহার পৌরসভার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসফিক সিবগাত উল্লাহ, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার এম এম মামুনুর রশীদসহ অন্যান্য পৌর কর্মকর্তা।