প্রতিদিনের হাদিসঃ তারাবিহর সালাত

হাদিস নং ২০০৮: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে রমাযান সম্পর্কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি রমাযানে ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় কিয়ামে রমাযান অর্থাৎ তারাবীহর সালাত আদায় করবে তার পূর্ববর্তী গোনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে। (৩৫)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৭৯)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২০০৯: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রমাযানে ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় তারাবীহর সালাতে দাঁড়াবে তার পূর্ববর্তী গোনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে। হাদীসের রাবী ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল করেন এবং তারাবীহর ব্যাপারটি এ ভাবেই চালু ছিল। এমনকি আবূ বাকর (রাঃ)-এর খিলাফতকালে ও ‘উমার (রাঃ)-এর খিলাফতের প্রথম ভাগে এরূপই ছিল। (৩৫)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৮০)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২০১০: ‘আবদুর রাহমান ইবনু ‘আবদ আল-ক্বারী (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রমাযানের এক রাতে ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর সাথে মসজিদে নাবাবীতে গিয়ে দেখি যে, লোকেরা এলোমেলোভাবে জামা‘আতে বিভক্ত। কেউ একাকী সালাত আদায় করছে আবার কোন ব্যক্তি সালাত আদায় করছে এবং ইকতেদা করে একদল লোক সালাত আদায় করছে। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি মনে করি যে, এই লোকদের যদি আমি একজন ক্বারীর (ইমামের) পিছনে জমা করে দেই, তবে তা উত্তম হবে। এরপর তিনি ‘উবাই ইবনু ‘কাব (রাঃ)-এর পিছনে সকলকে জমা করে দিলেন। পরে আর এক রাতে আমি তাঁর [‘উমার (রাঃ)] সাথে বের হই। তখন লোকেরা তাদের ইমামের সাথে সালাত আদায় করছিল। ‘উমার (রাঃ) বললেন, কত না সুন্দর এই নতুন ব্যবস্থা! তোমরা রাতের যে অংশে ঘুমিয়ে থাক তা রাতের ঐ অংশ অপেক্ষা উত্তম যে অংশে তোমরা সালাত আদায় কর, এর দ্বারা তিনি শেষ রাত বুঝিয়েছেন, কেননা তখন রাতের প্রথমভাগে লোকেরা সালাত আদায় করত।  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৮০ শেষাংশ)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২০১১: নাবী-সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেন এবং তা ছিল রমাযানে। (৭২৯)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৮১)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২০১২: ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গভীর রাতে বের হয়ে মসজিদে সালাত আদায় করেন, কিছু সংখ্যক পুরুষ তাঁর পিছনে সালাত আদায় করেন। সকালে লোকেরা এ সম্পর্কে আলোচনা করেন, ফলে লোকেরা অধিক সংখ্যায় সমবেত হন। তিনি সালাত আদায় করেন এবং লোকেরা তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করেন। সকালে তাঁরা এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করেন। তৃতীয় রাতে মসজিদে মুসল্লীর সংখ্যা আরো বেড়ে যায়। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে সালাত আদায় করেন ও লোকেরা তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করেন। চতুর্থ রাতে মসজিদে মুসল্লীর সংকুলান হল না, কিন্তু তিনি রাতে আর বের না হয়ে ফজরের সালাতে বেরিয়ে আসলেন এবং সালাত শেষে লোকদের দিকে ফিরে প্রথমে তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য দেয়ার পর বললেনঃ শোন! তোমাদের (গতরাতের) অবস্থান আমার অজানা ছিল না, কিন্তু আমি এই সালাত তোমাদের উপর ফরজ হয়ে যাবার আশংকা করছি (বিধায় বের হই নাই)। কেননা তোমরা তা আদায় করায় অপারগ হয়ে পড়তে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ওফাত হলো আর ব্যাপারটি এভাবেই থেকে যায়। (৭২৯)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৮২)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)

অধ্যায়ঃ তারাবীহর সালাত

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন

মা’কে ইউএনও’র কক্ষে প্রবেশে বাধা, এখন সেই মায়ের ছেলেই ইউ.এন.ও : আলোচিত দোহারের শামীম  

নিউজ৩৯,বিশেষ প্রতিবেদক, তারেক রাজীবঃ  তিনি একজন কর্মবীর। তার বড় পরিচয় তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান; একই সাথে তিনি দোহার উপজেলার কার্তিকপুরের সন্তান। তিনি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা ইউ.এন.ও- শামীম হোসেন। দোহারের গর্ব শামীম হোসেন। ইতিমধ্যে হয়েছেন চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ ইউএনও।

শামীম হোসেন, জন্ম নিয়েছিলেন দোহারের আন্তা বাহ্রা গ্রামে। ১১ ভাই-বোনের মধ্যে ছিলেন অষ্টম। ভাইদের মাঝে সর্ব কনিষ্ঠ। এমন পরিস্থিতিতে দোহার নবাবগঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে একজন বিদেশ চলে যাওয়াটা সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু জীবনকে ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি অদম্য জেদ, সাহস আর নিষ্ঠার দ্বারা। আজ তিনি সারা দেশে আলোচিত। আজ সারাদেশে তিনি দোহারবাসীর গর্বের সন্তান। পদ্মায় বাড়ী ভেংগে যাওয়ার পর চলে আসেন কার্তিকপুর গ্রামে। সেখানে কার্তিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এস এস সি পাশের পর উচ্চ শিক্ষার জন্য চলে আসেন দেশসেরা নটরডেম কলেজে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষা সাহিত্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে চান্স পান। কিন্তু বেছে নিলেন আজন্ম লালিত প্রিয় বিষয় ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যকে।

দোহারের মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালেক-রাবেয়া দম্পতির জীবনে খুব বেশি চাওয়া বা আকাঙ্ক্ষা ছিল না ।ছিল স্বপ্ন, ছিল অদম্য ইচ্ছ্বাশক্তি ও সন্তানদের প্রতি অগাধ আস্থা।  তবে তাদের মাঝে উৎকণ্ঠা ছিলো। ছিলো ‘তাগাদা’, ‘তাড়না’। সেই ‘তাড়না’ সন্তানদের ‘মানুষ’ হিসেবে গড়ে তোলার, ‘মানবসম্পদে’ পরিণত করার।

ইউএনও শামীম হোসনের বাবা-মায়ের ১১ সন্তানের মধ্যে কেউ কাস্টমস অফিসার , কেউ বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট অফিসার, কেউ শিক্ষকতাসহ নামকরা পেশায় জড়িত। এর মাঝেই ঘটলো মন খারাপের ঘটনাটি।

শামীম হোসেনের মায়ের জীবন যেন এক সংগ্রামী সফল মায়ের ইতিহাস। যে ইতিহাস অনুপ্রাণিত করে আমাদেরকে। আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করে সামনে এগিয়ে যেতে, অক্লান্ত পরিশ্রমে যে যেকোন কিছুই হওয়া সম্বভ তা দেখিয়ে দেন ইউএনও শামীম হোসেন। বলে রাখা ভালো, গৃহিণী হলেও তাপসী রাবেয়া শিক্ষিত, সচেতন নারী। পারিবারিক কাজে তিনি নিজেই ছুটে যান, মোকাবেলা করেন সংসারের খুঁটিনাটি কাজ। ঘটনাটি ১০ বছর আগের। পারিবারিক প্রয়োজনে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার তৎকালীন ইউএনও’র সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন তাপসী রাবেয়া।

কিন্তু কথা বলা দূরে থাক, দিনভর অপেক্ষা করে ইউএনও’র কক্ষেই প্রবেশ করতে পারেননি। দিনশেষে কষ্টের পাহাড় ডিঙিয়ে ঘরে ফেরেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেই কষ্ট শেয়ার করে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। বলেন, আমার একটা সন্তান যদি ইউএনও হতো! মা’র দীর্ঘশ্বাসটা আর বড় হয়। বিসিএস দিয়ে ইউএনও হওয়ার মতো তার সন্তানদের মাঝে আর কেউ অবশিষ্ট নেই। এরমধ্যে ৫ সন্তানের সবাই কর্মস্থলে প্রবেশ করে ভালো চাকরি করছেন।

কিন্তু মায়ের প্রতি অসম্মান, অবামননা মানতে রাজি নন রাবেয়া তাপসীর কনিষ্ঠ সন্তান শামীম হোসেন। তখন বান্দরবানের জেলসুপার তিনি। স্থির করলেন এ অবস্থায়ই বিসিএস দেবেন, মায়ের ইচ্ছা পূরণ করবেন!ইউএনও হয়ে মায়ের ‘অমর্যাদার’ প্রতিবাদ জানাবেন।

কিন্তু এ কীভাবে সম্ভব? জেল সুপারের পদ ছেড়ে ইউএনও হতে চাওয়ার ইচ্ছা কিংবা চেষ্টা অত সহজও নয়। এ অসহজ কাজটিকে সহজ করতে নেমে পড়লেন শামীম হোসেন। অদম্য স্পৃহার এ মানুষটি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অসম্ভবকে সম্ভব করা, অজেয়কে জয় করার প্রমাণ এর মধ্যে রেখেছেন। একে একে চারটি চাকরি ধরেন তা আবার ছেড়েও দিয়েছেন। জীবনের প্রথম চাকরি সেনাবাহিনীর সেকেন্ড লেফটেনেন্ট। নতজানু, গৎবাধা জীবন পছন্দ নয় শামীমের। তাই ছেড়ে দিলেন সেনাবাহিনীর চাকরি।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানেই ভর্তি হবেন নাকি অন্য কোথাও পড়বেন-ভাবতে ভাবতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে ভর্তির সুযোগ পান তিনি। অনার্স শেষ করে পূবালী ব্যাংকে পরীক্ষা দিয়ে টিকে গেলেন, হলেন ব্যাংক-অফিসার। বাংলাদেশ ব্যাংকে অডিট অফিসারের চাকরি পেয়ে ছাড়লেন পূবালী ব্যাংক। অডিট অফিসারের চাকরিতে গিয়ে দেখলেন-পুরাতন টাকা পোড়ানোই তার মূল কাজ। ভাবলেন এখানে টাকা পোড়াতেই পোড়াতেই জীবন যাবে-তাই করলেন না সে চাকরিও!

এবার অংশ নিলেন ২৬ তম বিসিএস পরীক্ষায়। শিক্ষাক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে প্রভাষক হিসেবে সরকারি কলেজে যোগ দিলেন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে। এখানে এসে দেখলেন নোংরা রাজনীতির খেলা। ছাত্রজীবনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের একটি ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখানে কাল হলো। সেই চাকরিও ছেড়ে দিলেন। এবার যুক্ত হলেন কারাগারের চাকরিতে। জেলসুপার হিসেবে যোগ দিলেন বান্দরবানে। কারাবন্দিদের সুখ-দুঃখের জীবন নিয়ে এখানেই থিতু হতে চেয়েছিলেন শামীম হোসেন।

কিন্তু সেখানেও থাকলেন না। মায়ের প্রতি ইউএনও’র অমর্যাদা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিলো। পণ করলেন প্রশাসন-ক্যাডারে যুক্ত হয়ে কর্মের মাধ্যমে মা’র প্রতি অবমাননার প্রতিবাদ জানাবেন।

২৮ তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন-ক্যাডারে যুক্ত হন। প্রথম পোস্টিং হয় পুরোনো কর্মস্থল বান্দরবানে। এখানে তিনবছর ভিআইপিদের প্রটোকল দেয়ার কাজ করেন। এরপর কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরার এসি ল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মা’র স্বপ্নের ইউএনও হিসেবে যোগ দেন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায়।

এই ব্যাপারে শামীম হোসেনের মামাতো ভাই জয়পাড়া মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক নজরুল ইসলাম খান নিউজ৩৯কে বলেন, ২৮ তম বিসিএস রেজাল্টের ফলাফল দেখে ও হতাশ হয়ে বাসায় ফিরে আসে। ও ভেবেছিলো ওর হয়নি। এরমধ্যে ওর এক বন্ধু বাসায় আসে মিষ্টি খেতে । ও বলে, মিষ্টি কেন খাওয়াবো,করেছিতো ফেল। তখন ওর বন্ধু বলে, আরে কানা – তুই প্রশাসন ক্যাডারে সারা বাংলাদেশ প্রথম হয়েছিস। তখনি ও সিএনজি নিয়ে চলে যায় পিএসসি অফিসে। গিয়ে দেখে ও সত্যি প্রথম হয়েছে।

নজরুল ইসলাম খান নিউজ৩৯কে আরো বলেন, ও আমাদের ভাই। আমি ওর মামাতো ভাই। ও আমাদের, আমাদের দোহারবাসীর গর্ব। আমার গর্বের সীমা নাই। তার জীবন থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। ৮ম সন্তানের পারিবারিকভাবে কি ই বা মূল্য আছে? কিন্তু ও প্রমাণ করেছে পরিশ্রম ই সব এনে দিতে পারে যদি লক্ষ্য থাকে অটুট।  ওর মাঝে রয়েছে সৃজনশীলতা,ও গ্রামের ছেলে,তাই সে প্রকৃতি ও গ্রাম ভুলে নাই। সে আজ সবার মুখ উজ্জ্বল করেছে।আশা রাখি আগামী দিনে ও অনুসরণ করবে। আজ সারা দেশে সে আলোচিত আর দোহার পুনরায় গর্বিত সন্তানে পরিচিত।

ইউএনও শামীম হোসেন বলেন, ‘এখানে যোগ দিয়ে পরিবর্তনের রাউজান গঠনে মাননীয় সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী স্যারের সারথী হয়েছি। আমার কার্যালয়কে বানিয়েছি সর্বস্তরের মানুষের কার্যালয়। আমার ফোন খোলা থাকে ২৪ ঘণ্টা। যে কেউ, যে কোনো সময় আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ পান। জীবনের শেষসময় পর্যন্ত তূণমূলের সঙ্গে থাকতে চাই। হতে চাই তাদের সুখ-দুঃখের সারথী।’

তবে নিজের আক্ষেপের কথা বলতে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘মা আমার বেঁচে নেই। প্রশাসন-ক্যাডারে যোগ দেয়ার খবরে মা অসম্ভব খুশি হয়েছিলেন। আমার ইউএনও হবার আগেই পৃথিবী ছেড়ে যান তিনি। মা নেই, চাইলেও তাকে আর পাবো না, পাওয়া যাবে না। কিন্তু তার চাওয়া অনুযায়ী সাধারণ মানুষকে অহর্নিশ সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তাতে যদি মা’র আত্মা শান্তি পায়! আমি কখনো স্বীকৃতি বা পদকের জন্য কাজ করিনা, আমি সবসময় নিজের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের মাটি ও মানুষের কল্যান ও উন্নয়নের চিন্তা করেছি। তারপরও আমাকে যে মর্যাদায় আল্লাহ অভিষিক্ত করেছেন তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’

২০১৬সালের ২৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ইউ এন ও এর দায়িত্ব নেন। এরপর যেন রুপকথার গল্পের মতো এগিয়ে নিয়েছেন রাউজান উপজেলাকে। সবার প্রিয় শামীম স্যার আজ এলাকাবাসীর আপনজন। গত এক বৎসর দায়িত্ব পালন কালে রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম হোসেন রেজা রাউজান উপজেলা পরিষদের সামনে ফুলের বাগান উপজেলা পরিষদের আঙ্গিনায় ফুলের বাগান গড়ে তোলেন । রাউজান উপজেলা পরিষদ ভবনে কেউ আসলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম হোসেন রেজার গড়ে তোলা ফুলের বাগান দেখে মনে হয় কোন পার্কে বেড়াতে এসেছে ।

রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম হোসেন রেজার সরকারী বাসভবনের সামনে ও পার্শ্বে, পেছনে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফলের বাগান । রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম হোসেন রেজা গত দেড় বৎসরে রাউজান শিল্পকলা একাডেমি, রাউজান উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা, স্কাউটস গার্ল গাইড কে সক্রিয় করে তোলে । সরকারী বেসরকারী অনুষ্ঠানে রাউজান শিল্পকলা একাডেমির শিল্পিরা গান, ও নৃত্য পরিবেশন করে আসছে ।

রাউজান উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে খেলাধুলার আয়োজন করে ক্রীড়াঙ্গনকে সক্রিয় করে তোলেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম হোসেন । এছাড়া ও রাউজানের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাংসদ এবি এম ফজলে করিম চৌধুরীর পৃষ্টপোষকতায় দুপুরের টিফিন প্রদান কার্যক্রম, সাংসদ এবি এম ফজলে করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে রাউজানে এক ঘন্টায় সাড়ে চার লাখ ফলজ গাছের চারা রোপন কর্মসুচি সফল করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম হোসেন ।

রাউজানে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যর ঘটনায় ব্যতিত হয়ে রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম হোসেন তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার সরকারী বাসভবনের পেছনের পুকুরে সাপ্তাহের প্রতি শুক্রবার সকালে এলাকার শিশুদের সাতার শেখানোর কাজ করে আসছেন ।

দোহারের অভিভাবক- প্রিয় স্যারকে দেখতে গেলেন সাবেক মন্ত্রী আঃ মান্নান খান

নিউজ৩৯ঃ দোহারের অন্যতম অভিভাবক, সিনিয়র সিটিজেন, শিক্ষার আলোক বর্তিতা হায়াত আলী মিয়া স্যার অসুস্থ। জনাব হায়াত আলী স্যারকে দেখতে স্কয়ার হাসপাতালে যান তার প্রিয় ছাত্র সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার আব্দুল মান্নান খান। কিছুক্ষণ তিনি সেখানে অপেক্ষা করেন। পরম মমতায় তিনি স্যারের দেহে ও মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। এসময় তিনি কিছুটা আবেগী হয়ে পড়েন। এরপর স্যারের শারিরিক সুস্থতার জন্য তিনি দোয়া করেন ও খোজ খবর নেন।

এ ব্যাপারে হায়াত আলী স্যারের কনিষ্ঠ সন্তান নরসিংদী জেলা ল্যান্ড একুইজিশন অফিসার রুবায়েত শিপলু নিউজ৩৯কে জানান, প্রায় ১৪ দিন ধরে আব্বা স্ট্রোক করে স্কয়ার হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। ডাঃ আব্দুল কাদিরের ত্ত্বাবধায়নে ৩০১৬ নম্বর কেবিনে রয়েছেন, তার বাম পাশ কিছুটা প্যারালাইজড হয়ে গেছে, যেখানে নিয়মিত ফিজিও থেরাপি প্রয়োজন। আর ডান চোখ ড্যামেজ হয়েছে। ডাক্তাররা তাকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। আপনারা সবাই দোয়া করবেন বাবা যেন সুস্থ হয়ে পুনরায় ফিরে আসেন আপনাদের মাঝে, আমাদের কাছে।

এই ব্যাপারে সর্বজন শ্রদ্ধেয় হায়াত আলী স্যারের জেষ্ঠ্য পুত্র নুরুল হায়াত টুটুল তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, “বাবা” আবার সুস্থ হয়ে ফিরে আসুন আপনার স্বমহিমায়। “বাবা” আপনিতো নির্ভীক, সাহসী, সবার প্রেরণার উৎস, জীবন-যুদ্ধের একজন দুর্বার ফাইটার। হ্যা বাবা, আপনিতো একজন সত্যিকারের যোদ্ধা। হাসপাতালের বেডে এভাবে শুয়ে থাকা আপনার সাথে বেমানান বাবা। আপনার হাজার হাজার ছাত্র আপনার পথ চেয়ে বসে আছে, আপনার হাজারো শুভাকাঙ্খী আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। আমি বিশ্বাস করি আপনি এযুদ্ধেও জয়ী হবেন। আপনি আবার আপনার রাগী চেহারায়, স্বতঃস্ফুর্ততায়, উচ্ছলতায় সুস্থ হয়ে ফিরে আসুন আমাদের সবার মাঝে।।

নিউজ৩৯ পরিবার স্যারের সুস্থতার জন্য মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর কাছে দোয়া করছে তিনি যেন পুরোপুরি সুস্থতা ফিরে পান, আমীন।

দোহারের যাত্রীছাউনী যাত্রীদের নয়ঃ চোখের সামনে কিন্তু উদাসীন সবাই

শরিফ হাসান,নিউজ৩৯ঃ বিগত জোট সরকারের আমলের শেষ দিকে সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ঢাকা-দোহার সড়কে যানবহনের জন্য অপেক্ষারত যাত্রীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করেন ৩টি যাত্রী ছাউনি।এদের একটি দোহার বাজার সংলগ্ন, একটি মেঘুলাতে কমিনিউটি ক্লিনিকের প্বার্শে আর অপরটি নারিশা পশ্চিম চর বাজারে। কিন্তু বর্তমানে নজরদারির অভাব ও অব্যবস্থার কারনে এই যাত্রীছাউনীগুলো পরিনত হয়েছে এলাকাবাসী ব্যক্তিগত কাজে।

দোহারে যাত্রী বা পথচারীদের জন্য তৈরি করা ছাউনিগুলোর বেশির ভাগই দখল হয়ে গেছে। অনেকগুলো পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়। কোনোটিতে বসেছে দোকান, কোনোটিতে যাত্রীদের বসার বেঞ্চ পর্যন্ত তুলে ফেলা হয়েছে। রাতের বেলা এগুলো হয়ে ওঠে মাদকসেবীদের নিরাপদ স্থান।

দোহার উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়,  দোহারে ৩টির মতো যাত্রী ছাউনি রয়েছে। সেগুলোর নেই কোন দেখভাল বা নজরদারি। পথচারীরা অভিযোগ করেন, প্রখর রোদ কিংবা হঠাৎ বৃষ্টি থেকে বাঁচতে বা গন্তব্যে পৌঁছানোর গাড়ি না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার জন্য এসব যাত্রী ছাউনি। অথচ তাঁরা এগুলো ব্যবহার করতে পারেন না।

দোহার ভূইয়াবাড়ী খেলার মাঠ এলাকা ঘুরে দেখা গেল, সামনের ফুটপাতের ওপর তৈরি যাত্রী ছাউনিতে বসার কোনো জায়গা নেই। হোটেল। সব সময় বখাটেদের ভিড় লেগে আছে। রাখা হয়েছে চুন সুড়কীর বস্তা। হয়েছে গণ সৌচাগার আর পাগলের নিরাপদ আবাস স্থল। অপরিচ্ছন্ন এই যাত্রী ছাউনীতে কোন যাত্রী আর বাসের জন্য অপেক্ষা করেন না।

চিত্রঃ ভূইয়াবাড়ী যাত্রী ছাউনী।

মেঘুলা কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে ছিল একটি যাত্রী ছাউনী। সেখানে কিছুদিন ছিল তেলের দোকান। এখন অযত্ন অবহেলায় সেখানে বাস করে কুকুর বিড়াল আর মাদকসেবী। ভেতর বসার জায়গা নেই।

চিত্রঃ মেঘুলা যাত্রী ছাউনী।

মেঘুলায় রোড এলাকায় আরাম বাসের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রী হাবিবুল বাশার বলেন, ছাউনিগুলো যাত্রীদের জন্য তৈরি। অথচ এসব ছাউনির বেহাল দশা। প্রশাসনের উচিত এগুলো নিয়মিত দেখাশোনা করা। জনগণের সেবার জন্য জনগনের টাকায় নির্মিত এসব যাত্রী ছাউন্নী দেখার যেন কেউ নেই।

নারিশা পশ্চিম চর বাজারে অবস্থিত যাত্রী ছাউনিটি এখন আশে পাশে মানুষের লাকড়ী ও গোবর শুকানোর স্থা হয়েছে। কিছুদিন আগেও এটি পরিচ্ছন্ন ছিল। এখন পাগলের বসতি।

চিত্রঃ পশ্চিমচর যাত্রী ছাউনী।

যাত্রী ছাউনীগুলোর এই দশার অন্যতম কারণ দোহারের ২ যাত্রী পরিবহন সংস্থা; আরাম ও নগরের কোন কাউণ্টার নেই এই যাত্রী ছাউনী সংলগ্ন। তাই শুরু থেকেই এক ধরনের সমন্বয়হীনতা ছিল। এই পরিবহনগুলো যাত্রী উঠা-নামানোর কাজে কখনই এসব স্টপেজে থামেনি। তাই যাত্রীরাও এদের প্রতি আকর্ষণ হারাতে থাকে।

এখন এগুলোর প্রতি সামান্য নজর দিলেই তা হয়ে উঠতে পারে পরিবহন খাতে সুষ্ঠূ ব্যাবস্তাপনা ও যাত্রী বিড়ম্বনা কমানর মুল উপায়।

এই ব্যাপারে দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আক্তার রিবা নিউজ৩৯ কে বলেন, নিউজ৩৯ সুন্দর একটি বিষয়কে সামনে এনেছে। এ বিষয়ে আমি দেখব যে কিভাবে এটি ব্যবহারের উপযোগী করা যায়। কারন এটা দোহারবাসীর জন্য যেমন সুন্দর, তেমনি এটি সরকারের অর্থেই করা হয়েছে। তাই এটি যত তাড়াতাড়ি ব্যবহারের উপযোগী করা যায় সেটা আমি দেখব। এতে পরিবহন খাতেও সুষ্ঠূ শৃংখলা ফিরে আসবে।  যাত্রীছাউনীগুলো কেন্দ্র করে কর্মহীন মানুষের কর্মেরও ব্যাবস্থা হতে পারে।

পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষার নির্দেশ হাই কোর্টের: রিট শুনানীকারী নিউজ৩৯ এর নির্বাহী সম্পাদক

বাজারে পাওয়া যায় এমন পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষা করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (২১ মে) বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

প্রকাশিত এসব প্রতিবেদন যুক্ত করে নিরাপদ পাস্তুরিত দুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করেন আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ।

রিটকারী পক্ষে শুনানি করেন নিউজ৩৯ এর নির্বাহি সম্পাদক ও দোহার-নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেণ্টের সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ, ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন হানিফ (ফরহাদ) ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান।

খাদ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিএসটিআই প্রতিনিধি এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তদন্ত কমিটি করে এই প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র- বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর-বি) পাস্তুরিত দুধ সংক্রান্ত যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, সেই রিপোর্টও এক মাসের মধ্যে দাখিল করতে বলেছেন আদালত। পাশাপাশি পাস্তুরিত দুধ নিরাপদ রাখার নিশ্চয়তা দিতে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, খাদ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, বিএসটিআই মহাপরিচালক, আইসিডিডিআর-বি এবং পুলিশ মহাপরিদর্শককে ৪ সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে এই মামলায় পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৭ জুন দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

তানভীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের নিয়ে কমিটি গঠনের পর বাজারে থাকা পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষা করে এক মাসের মধ্যে খাদ্য সচিব, স্বাস্থ্য সচিব ও বিএসটিআইটি মহাপরিচালককে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া আইসিডিডিআর,বির প্রকাশিত প্রতিবেদনও আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।”

নিরাপদ পাস্তুরিত দুধের নিশ্চয়তা দিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে একটি রুলও জারি করেছে হাই কোর্ট।

খাদ্য সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিএসটিআই মহাপরিচালক, আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক ও পুলিশ প্রধানকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আইনজীবী তানভীর আহমেদ বলেন, “পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে ক্রমবৃদ্ধি এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের উন্নতি করতে বলা হয়েছে সবিধানে। একইভাবে জনগণের পুষ্টি নিশ্চিত করে জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।

“কিন্তু আইসিডিডিআর ,বির প্রতিবেদন অনুযায়ী বাজারে থাকা ৭৫ শতাংশ পাস্তুরিত দুধে ভেজাল ধরা পরছে। জনস্বাস্থ্যের এটা মারাত্মক ঝুঁকি। তার মানে হচ্ছে জনস্বাস্থ্য নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা রয়েছে এবং একই সঙ্গে তা সংবিধানের ১৫(ক),  ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন “

সংবিধানের অনুচ্ছেদে ১৮ (১) এ বলা হয়েছে, জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলে গণ্য করবে এবং বিশেষতঃ আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ছাড়া মদ ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।

আগামী ২৭ জুন বিষয়টি পরবর্তী আদেশের জন্য রাখা হয়েছে বলে জানান তানভীর আহমেদ।

আইসিডিডিআর,বি জানিয়েছে, কেয়ার বাংলাদেশের আর্থিক সহায়তায় ‘স্ট্রেনদেনিং দ্য ডেইরি ভ্যালু চেইন (এসডিভিসি)’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের বগুড়া, গাইবান্ধা, নীলফামারী, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, রংপুর ও সিরাজগঞ্জ জেলার মোট ১৮টি উপজেলায় তাদের এই গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণার ফলাফল ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ফুড মাইক্রোবায়োলজিতেও প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দুগ্ধ শিল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে দুধের অণুজীববিজ্ঞানগত মান যাচাই করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের দুধ উৎপাদকারী, হিমাগার ও স্থানীয় রেস্তোরাঁ থেকে কাঁচা দুধের ৪৩৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া ঢাকা ও বগুড়ার বিভিন্ন দোকান থেকে বাণিজ্যিকভাবে প্রক্রিয়াজাত দুধের ৯৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক দুধ উৎপাদনকারী পর্যায়ে ৭২ শতাংশে কলিফর্ম এবং ৫৭ শতাংশ নমুনায় ফিক্যাল কোলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। নমুনাগুলোর ১১ শতাংশ উচ্চসংখ্যায় ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া দূষিত।

“ফিক্যাল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং দুধে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির ফলে বোঝা যায় যে, দুধ জীবাণু বা রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দ্বারা দূষিত, যা উষ্ণ রক্তের প্রাণীর মলে থাকতে পারে বা দুধ দোয়ানোর সময় দুধে মিশতে পারে।”

পরীক্ষিত পাস্তুরিত দুধের নমুনার প্রায় ৭৭ শতাংশে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা উচ্চমাত্রার, যা বিএসটিআইয়ের মানদণ্ডকে ছাড়িয়ে যায়। এছাড়া ৩৭ শতাংশ নমুনায় কলিফর্ম এবং ১৫ শতাংশ নমুনায় মলবাহিত কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে।

“দুধ পানের জন্য নিরাপদ করে তোলার জন্য একে পাস্তুরিত করা হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় মানদণ্ডে পাস্তুরিত দুধে এ ধরনের মলবাহিত কোলিফর্মের উপস্থিতি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়,” বলা হয় গবেষণা প্রতিবেদনে।

এই গবেষণার প্রধান তত্ত্বাবধায়ক আইসিডিডিআর,বির ফুড মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরির প্রধান ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, “দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন পর্যায়ে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি দেখে এটি স্পষ্ট বোঝা যায় যে, দুধের মূল গুণ অর্থাৎ এর পুষ্টিগত গুণাগুণ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।”

দোহারে মাদক বিরোধী অভিযানঃ মাদক ব্যাবসায়ী আটক

crime reporter,news39.net: ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের তিনদোকান হতে ৫৪ পিছ ইয়াবা সহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে শাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। গ্রেফতার কৃত মাদক ব্যবসায়ী হচ্ছেন মোঃ হিরা (২২)। পুলিশ সুত্রে জানা যায়,রবিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এমারৎ হোসেনের নেতৃত্বে, এস আই সংকর সহ একটি বিশেষ টিম তিনদোকানে হতে হিরাকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃত হিরা (২২), মুকসুদপুরের খাশেরটেক গ্রামের আব্দুল মুতালেবের ছেলে। কর্মরত পুলিশ আমাদেরকে জানায়, আসামীর বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৯(১)এর ৯(খ) একটি মামলা করা হয়েছে।

শেষ না করেও শেষ বলে পায়তারা ঠিকাদারের

ঢাকার দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের ঘারমোড়া গ্রামের আমিনউদ্দিন মৃধা কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশে সরকারী খালের উপর ৪০ ফুট ব্রীজ নির্মান কাজ শেষ না করেও শেষ বলে পায়তারা করছে ঠিকাদার। উক্ত ব্রীজ তৈরির ঠিকাদার মঞ্জুরুল হক কিরণ মৃধা কাজ শেষ না করেই কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এই ব্রীজের সংযোগ সড়ক পিচ ঢালাই না করেই ব্রিজের কাজ শেষ করায় জনগন ভোঁগান্তির শিকার হচ্ছে।

ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়ার ফলে ঘারমোড়া গ্রামের সড়ক ব্যবহার করার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এই রাস্তার  কারনে রিক্সা ও অটো একটু এদিক সেদিক হলেই ঘটছে ছোটখাটো দূর্ঘটনা।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ইজারাদার জনাব মঞ্জুরুল হক কিরণ মৃধা তার কাজের সুবিধার্থে তার ক্ষমতার জোর দেখিয়ে তার নিমার্নাধীন ব্রীজের পাশের পাকা রাস্তা থেকে মাটি কেটে এনে তার ব্রীজে ফেলে ব্যবহার করাচ্ছে। যার কারনে ব্রীজ এর কাজ সম্পূর্ণ না করেও শেষ বলছে।

সাম্প্রতিক কালে ব্রীজ এবং পাকা রাস্তা উভয়টি ক্ষতির মধ্য ব্যবহার অনুপযোগী। যার ফলে ঐ এলাকাবাসী ও সাধারণ মানুষ ভোঁগান্তি অরমে পৌছেছে।

নারিশায় হেরোইনসহ যুবক আটক

দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের সাতভিটা এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে মো. আশিক (২৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে অভিযান চালিয়ে আটক করেছে ফুলতলা তদন্ত কেন্দ্রের এসআই শংকরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। তার কাছ থেকে তল্লাশি চালিয়ে ৪০ পুড়িয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়। দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম (পিপিএম) বলেন, আশিক নারিশা এলাকার একজন মাদক ব্যবসায়ী। ওর বিরুদ্ধে এলাকার অনেক অভিযোগ আছে। আটককৃত আশিক সাতভিটা এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে।

প্রতিদিনের হাদিসঃ সাওম বা রোজা

হাদিস নং ২৩৫৩: আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দীন বিজয়ী থাকবে যতদিন লোকেরা অবিলম্বে ইফতার করবে। কেননা ইয়াহূদী ও খৃস্টানরা বিলম্বে ইফতার করে।

হাদিসের মানঃ  হাসান (Hasan)

হাদিস নং ২৩৫৪: আবূ ‘আতিয়্যাহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ও মাসরূক (রহ.) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে বলি, হে উম্মুল মু‘মিনীন! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইজন সাহাবীর একজন সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার করেন এবং খুব তাড়াতাড়ি (মাগরিবের) সালাত আদায় করে নেন। আর দ্বিতীয়জন বিলম্বে ইফতার করেন এবং সালাতও বিলম্বে আদায় করেন। তিনি বললেন, তাদের মধ্যে কে ইফতার অনতিবিলম্বে করেন এবং সালাত তাড়াতাড়ি আদায় করেন? আমরা বললাম, তিনি হচ্ছেন আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযি.)। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করতেন।

মুসলিম, তিরমিযী। ইমাম তিরমিযী বলেন: এই হাদীসটি হাসান সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৩৫৬: আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মাগরিবের) সালাতের পূর্বে কয়েকটি পাকা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন, পাকা খেজুর না পেলে খোরমা দিয়ে, তাও না পেলে কয়েক ঢোক পানি দিয়ে (ইফতার করতেন)।

হাসান সহীহ।

তিরমিযী, আহমাদ, দারাকুতনী। ইমাম তিরমিযী বলেন: এই হাদীসটি হাসান গারীব।

হাদিসের মানঃ  হাসান (Hasan)

হাদিস নং ২৩৫৭: মারওয়ান ইবনু সালিম আল-মুকাফফা‘ (রহ.) বলেন, আমি ইবনু উমার (রাযি.)-কে তার দাড়ি মুষ্টিবদ্ধ করে ধরে মুষ্টির বাড়তি অংশ কেটে ফেলতে দেখেছি। আর তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতারের সময় বলতেনঃ ‘পিপাসা দূরীভূত হয়েছে, শিরা-উপশিরাগুলো সিক্ত হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ প্রতিদানও নির্ধারিত হয়েছে।’

হাসান।

নাসায়ী, বায়হাক্বী।

হাদিসের মানঃ  হাসান (Hasan)

হাদিস নং ২৩৫৯:  আসমা‘ বিনতু আবূ বাকর (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সময় রমাযানে এক মেঘাচ্ছন্ন দিনে ইফতার করার পূর্বে সূর্য প্রকাশ হয়ে পড়লো। আবূ উসামাহ (রহ.) বলেন, আমি হিশামকে বললাম, তাদেরকে কি তা কাযা করার নির্দেশ করা হয়েছিল? তিনি বললেন, তা অবশ্যই করণীয়।

সহীহ।

বুখারী, ইবনু মাজাহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৩৬০: ইবনু উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরতিহীন সওম পালন করতে নিষেধ করেছেন। লোকেরা বললো, আপনি তো সাওমে বিসাল রাখেন। তিনি বললেনঃ আমার অবস্থা তোমাদের মতো নয়। কেননা আমাকে পানাহার করানো হয়।

সহীহ।

বুখারী, মুসলিম।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৩৬১: আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ তোমরা বিরতিহীন সওম পালন করো না। অবশ্য কেউ ‘সাওমে বিসাল’ করতে চাইলে সাহারী পর্যন্ত করতে পারে। সাহাবীরা বললেন, আপনি তো ক্রমাগত সওম পালন করেন? তিনি বলেনঃ আমার অবস্থা তোমাদের মতো নয়। আমার খাদ্যদাতা ও পানীয়দাতা আছেন। তিনি আমাকে পানাহার করান।

সহীহ।

বুখারী, আহমাদ, দারিমী।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)

অধ্যায়ঃ সওম (রোযা)

পাবলিশারঃ আল্লামা আলবানী একাডেমী

প্রতিদিনের হাদিসঃ রমজান বিষয়ক জাল হাদিস

রমযান কাছে এলে আমরা অনেকে নিম্নের দোয়াটি পড়ি, তবে এমন লোক খুব কম আছি যারা এর শুদ্ধতা ও অশুদ্ধতা সম্পর্কে অবগত:

“اللهم بارك لنا في رجب وشعبان وبلغنا رمضان”

“হে আল্লাহ, আপনি রজব ও শাবান মাসে আমাদের জন্য বরকত রাখুন এবং আমাদেরকে রমযান পর্যন্ত পৌঁছার তাওফিক দিন”।

হাদিসের সনদ:

ইমাম আহমদ তার “মুসনাদ” গ্রন্থে বলেন: আমাদেরকে বলেছে আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদেরকে বলেছে উবাইদুল্লাহ ইবনু ওমর, যায়েদা ইবনু আবির রাকাদ থেকে, তিনি যিয়াদ আন-নুমাইরি থেকে, তিনি সাহাবি আনাস ইবনু মালেক থেকে, তিনি বলেন: রজব আগমন করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন:… …

ইবনুস সুন্নি ফিল “আমালিল ইয়াওম ওয়াল লাইলাহ”: (৬৫৯), তিনি এ হাদিস ইবনু মুনি সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন আমাদেরকে বলেছে উবাইদুল্লাহ ইবনু ওমর আল-কাওয়ারিরি।

বায়হাকি ফি “শুআবিল ঈমান”: (৩/৩৭৫), তিনি বর্ণনা করেন আবূ আব্দুল্লাহ আল-হাফেয সূত্রে, তিনি বলেন আমাদেরকে বলেছে আবূ বকর মুহাম্দ ইবনু মুয়াম্মাল, তিনি বলেন আমাদেরকে বলেছে মুহাম্মদ ইবনু শারানি, আল-কাওয়ারিনি থেকে।

আবূ নু‘আইম ফিল “হিলইয়াহ”: (৬/২৬৯), তিনি এ হাদিস বর্ণনা করেন হাবিব ইবনু হাসান ও আলি ইবনু হারুন সূত্রে, তারা উভয়ে বলেছেন আমাদেরকে বলেছে ইউসূফ আল-কাদি, তিনি বলেন আমাদেরকে বলেছে মুহাম্মদ ইবনু আবূ বকর, তিনি বলেন আমাদেরকে বলেছে যায়েদা ইবনু আবির রাকাদ।

এ হাদিস বাযযার তার “মুসনাদ” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনু মালেক আল-কুশাইরি থেকে, সে যায়েদা থেকে।

এ হাদিসের সনদে দু’টি দোষ বা সমস্যা রয়েছে, হাদিস বিশারদগণের নিকট যার পরিভাষিক নাম হচ্ছে ইল্লত, অর্থাৎ হাদিসে দু’টি ইল্লত রয়েছে:

প্রথম ইল্লতঃ এ হাদিসের একজন বর্ণনাকারী হচ্ছেন যায়েদা ইবনু আবির রাকাদ, তার সম্পর্কে হাদিস বিশারদগণের মূল্যায়ন দেখুন:

আবূ হাতেম বলেছেন: যায়েদা ইবনু আবির রাকাদ যিয়াদ ইবনু নুমাইরি থেকে মারফূ সনদে মুনকার হাদিস বর্ণনা করে, জানি না এ সমস্যা তার থেকে না তার উস্তাদ যিয়াদ থেকে। সে যিয়াদ ব্যতীত অন্য কারো থেকে হাদিস বর্ণনা করেছে কিনা তাও জানি না, যার সূত্র ধরে তার হাদিস যাচাই করব।

বুখারি বলেছেন: তার হাদিস মুনকার।

আবূ দাউদ বলেছেন: তার হাদিস সম্পর্কে কিছু জানি না।

নাসায়ি বলেছেন: তাকে চিনি না।

যাহাবি “দেওয়ানে দুয়াফাতে” বলেছেন: সে কোন দলিল নয়।

ইবনু হাজার বলেছেন: তার হাদিস মুনকার।

“মুনকার” হাদিস:

হাদিস বিশারদদের একটি পরিভাষা হচ্ছে “মুনকার”, এর অর্থ সম্পর্কে ইমাম আহমদ বলেন:

 (الحديث عن الضعفاء قد يُحْتاج إليه في وقتٍ، والمنكر أبدًا منكر)

“দুর্বল বর্ণনকারীদের হাদিস কখনো প্রয়োজন হয়, কিন্তু মুনকার সর্বদা মুনকার”। দেখুন: “ইলালুল মারওয়াযী”: হাদিস নং: (২৮৭), “মাসায়েল ইবনু হানি”: (১৯২৫-১৯২৬), ইবনু রজব “শারহুল ইলাল”: (১/৩৮৫) গ্রন্থে ইবনু হানি থেকে তা বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আহমদের কথার অর্থ হচ্ছে: মুনকার সর্বদা পরিত্যক্ত, এর বিপরীতে দুর্বল হাদিসের প্রয়োজন হলেও মুনকার কখনো গ্রহণ করা যাবে না।

দ্বিতীয় ইল্লতঃ এ হাদিসের অপর বর্ণনাকারী যিয়াদ ইবনু আব্দুল্লাহ নুমাইরি আল-বিসরি, (যায়েদা ইবনু আবির রাকাদের উস্তাদ): তার সম্পর্কে হাদিস বিশারদদের বক্তব্য শুনুন:

ইয়াহ ইয়া ইবনু মায়িন বলেছেন: তার হাদিস দুর্বল।

আবূ হাতেম বলেছেন: তার হাদিস লেখা যাবে, কিন্তু দলিল হিসেবে পেশ করা যাবে না।

আবূ উবাইদ আজুররি বলেছেন: আমি আবূ দাউদকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি তাকে দুর্বল বলেছেন।

ইবনু হিব্বান ‘মাজরুহ’ বা দোষী ব্যক্তিদের আলোচনায় বলেন: তার হাদিস মুনকার। আনাস থেকে সে এমন কিছু বর্ণনা করে, যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সাথে মিলে না, তার হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা বৈধ নয়।

দারা কুতনি বলেছেন: সে দলিল নয়।

ইবনু হাজার বলেছেন: সে দুর্বল।

হাদিস সম্পর্কে আলেমদের মতামত:

বায়হাকি তার “শুআবূল ঈমান”: (৩/৩৭৫) গ্রন্থে বলেন: এ হাদিস শুধু যিয়াদ ইবনু নুমাইরি এবং তার থেকে শুধু যায়েদা ইবনু আবির রাকাদ বর্ণনা করেছেন।

বুখারি বলেছেন: যিয়াদ ইবনু নুমাইরি থেকে যায়েদা ইবনু আবির রাকাদ বর্ণিত হাদিস মুনকার।

ইমাম নববী তার “আযকার”: (পৃ.২৫৪) গ্রন্থে বলেন: “হিলইয়াতুল আউলিয়া” গ্রন্থে এ হাদিস আমরা দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছি।

ইমাম যাহাবি “মিযানুল ইতিদাল”: (৩/৯৬) গ্রন্থে যায়েদার জীবনী আলোচনায় এ হাদিস উল্লেখ করে বলেন: এ হাদিসও দুর্বল।

হায়সামি তার “মাজমাউয যাওয়ায়িদ”: (২/১৬৫) গ্রন্থে বলেন: “বাযযার এ হাদিস বর্ণনা করেছেন, এর সনদে যায়েদা ইবনু আবির রাকাদ আছে, ইমাম বুখারি তাকে মুনকারুল হাদিস বলেছেন, আলেমদের একটি জামাত তাকে অপরিচিত বলেছেন”।

তিনি আরো বলেন: “বাযযার ও তাবরানি আওসাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, এর সনদে যায়েদা ইবনু আবির রাকাদ আছে, যার ব্যাপারে বিতর্ক রয়েছে, কেউ তাকে নির্ভরযোগ্যও বলেছেন”। “মাজমাউয যাওয়ায়িদ”: (৩/১৪০)

ইবনু আলান ফি “ফুতুহাতির রাব্বানিয়াহ”: (৪/৩৩৫) গ্রন্থে ইবনু হাজার থেকে নকল করে বলেন: ইবনু হাজার বলেছেন এ হাদিস গরিব, ইমাম বাযযার ও আবূ নুআইম তা বর্ণনা করেছেন।

আহমদ আল-বান্না “বুলুগুল আমানি”: (৯/২৩১) গ্রন্থে বলেন:  অধ্যায়ের এ হাদিসে যিয়াদ নুমাইরি রয়েছে, সে দুর্বল।

ইমাম সুয়ূতি এ হাদিস তার “জামে সগির” গ্রন্থে বায়হাকি ফি “শুআবিল ইমান” ও ইবনু আসাকের সূত্রে উল্লেখ করে তার দুর্বলতার দিকে ঈঙ্গিত করেছেন, এর অন্যান্য সনদও রয়েছে, যার একটি অপরটি দ্বারা শক্তিশালী হয়”। কিন্তু তিনি সেসব সনদ উল্লেখ করেন নি!? বস্তুত এ হাদিসের সনদ একটি।

আহমদ শাকের “মুসনাদের তাখরিজ”: (৪/১০০-১০১) গ্রন্থে হাদিস নং: (২৩৪৬) এ বলেন: এর সনদ দুর্বল।

শায়খ শুআইব আরনাউত মুসনাদে আহমদের “তাখরিজ”: (৪/১৮০), গ্রন্থে হাদিস নং: (২৩৪৬) এ বলেন: এর সনদ দুর্বল।

আলবানি “মিশকাতের তাখরিজ”: (১/৪৩২), গ্রন্থে হাদিস নং: (১৩৬৯) এ বলেন: “জামেউস সাগির” গ্রন্থে আল্লামা সুয়ূতি বলেন বায়হাকি তার “শুআবূল ইমান” গ্রন্থে এ হাদিস উল্লেখ করেছেন। মুনাভি তার পশ্চাতে বলেন: লেখকের অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় বায়হাকি হাদিস বর্ণনা করে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অথচ বাস্তবতা এমন নয়, বরং বায়হাকি তার পিছু নিয়েছেন, যেমন তিনি বলেছেন: … অতঃপর বায়হাকির উল্লেখিত কথা নকল করেন। (অর্থাৎ বায়হাকি বলেন: ইমাম বুখারি বলেছেন: যিয়াদ ইবনু নুমাইরি থেকে যায়েদা ইবনু আবির রাকাদ বর্ণিত হাদিস মুনকার।)

ড. আমের হাসান সাবরি বলেন: এর সনদ দুর্বল। দেখুন: “জাওয়ায়েদ আব্দুল্লাহ ইবনু আহমদ ইবনু হাম্বল ফিল মুসনাদ”: (পৃ.১৯৮)

হাদিসের মানঃ  মুনকার (সর্বদা পরিত্যক্ত)

গ্রন্থঃ রমযান বিষয়ে জাল ও দুর্বল হাদিসসমূহ

অধ্যায়ঃ বিবিধ হাদিসসমূহ

পাবলিশারঃ ইসলাম হাউস