নবাবগঞ্জে লিচু চাষে স্বাবলম্বী কৃষক

চলতি মৌসুমে নবাবগঞ্জে বিভিন্ন লিচু বাগান গুলোর গাছে গাছে দেখা যাচ্ছে লিচু। লক্ষ টাকার লিচু বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়ে আয়ের স্বপ্ন দেখছেন লিচুচাষিরা।

এরই মধ্যে নবাবগঞ্জে ভাওয়ালিয়া গ্রামে অনুপম দত্ত নিপু ৩০ টি লিচু গাছ দিয়ে বাগান শুরু করে এবছর তিনি পর্যাক্তপরিমান লিচু বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়ে লক্ষ টাকা অায় করছে।

আর এভাবে নিপুর লিচু চাষে স্বাবলম্বী দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে লিচু চাষের আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলছে। বর্তমান লিচুর পুরো সিজন। এইসময়টায় সারাদেশে লিচু বাগানের লিচু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষীরা। অার এসব লিচু বাজারে পাইকারি দরে বিক্রি চলছে।

ভাওয়ালিয়া গ্রামে লিচু চাষী অনুপম দত্ত নিপু বলেন,  গতবছর ৩০ টি লিচু গাছের চারা নিয়ে লিচু চাষ শুরু করেছি। গতবছর প্রথমবারের মতো লিচুর পরিমান কম হলেও এবছর গাছে প্রচুর পরিমান লিচু এসেছে। অাশা করছি চলতি মৌসুমে বাগান থেকে ১-২ লক্ষ টাকার লিচু বিক্রি করতে পারবো। নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল অামি বলেন,  গত বছরের তুলানায় এবছর নবাবগঞ্জে এবছর লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। অাশা করা যাচ্ছে এবছর লিচু চাষে কৃষক স্বাবলম্বী হবে

দোহারে প্রেমজনিত কারনে কিশোরের আত্নহত্যা

দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের মেঘুলা বাজার সংলগ্ন উত্তর শিমুলিয়া গ্রামে প্রেমজনিত ঘটনার জের ধরে জয় মন্ডল নামে এক কিশোর ফাসিঁ দিয়ে আত্নহত্যা করে। ২৫ মে সকাল ১০ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। জয় মন্ডল উত্তর শিমুলিয়া গ্রামের মেঘুলা ওয়ার্ডের জুয়েল মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন নারায়ণ মন্ডলের ছেলে। জয় মন্ডল মালিকান্দা মেঘুলা স্কুল ও কলেজের মানবিক বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্র।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ শিমুলিয়া গ্রামের রতন মন্ডলের মেয়ে রিত্তীকা মন্ডলের সাথে প্রায় ২ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল জয় মন্ডলের। বিগত ৫ থেকে ৬ মাস আগে রিত্তীকা মন্ডলের বাবা মা অন্য ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক করলে রিত্তীকা মন্ডল বাড়ি থেকে পালিয়ে জয় মন্ডলের বাড়িতে চলে আসে। পরবর্তীতে রিত্তীকা মন্ডলের খালা তাকে নিয়ে যায় এবং বিচার সালিশীর মাধ্যমে বলা হয় যদি কেউ কারো সাথে দেখা করে তাহলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। গত ২৪ মে রিত্তীকা মন্ডল দেখা করতে বললে জয় মন্ডল তার সাথে দেখা করে। রিত্তীকা মন্ডলের খালা বিষয়টি জানতে পারে এবং আবার ২৫ মে বিচার সালিশীর আয়োজন করে।

বিভিন্ন দিক থেকে আসা চাপ সহ্য করতে না পেরে ফাসিঁ দিয়ে আত্নহত্যা করে না ফেরার দেশে চলে যায় জয় মন্ডল।

প্রতিদিনের হাদিসঃ স্ত্রীর প্রতি ব্যবহার

হাদিস নং ৩৯৪১: ইমাম আব্দুর রহমান আন-নাসাঈ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পার্থিব বস্তুর মধ্যে স্ত্রী ও সুগন্ধী আমার নিকট পছন্দনীয় করা হয়েছে এবং নামাযে রাখা হয়েছে আমার নয়নের প্রশান্তি।

তাহক্বীকঃ হাসান। মিশকাত ৫২৬১, রওযুন নাযীর ৫৩, সহীহ জামেআস-সগীর ৩১২৪।

হাদিসের মানঃ  হাসান (Hasan)

 

 

হাদিস নং ৩৯৪২: আলী ইবন মুসলিম আত-তূসী (রহঃ) … আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্ত্রী ও সুগন্ধী আমার জন্য পছন্দনীয় করা হয়েছে এবং নামাযে নিহিত রাখা হয়েছে আমার নয়ন প্রীতি।

তাহক্বীকঃ সহীহ। মিশকাত ৫২৬১, রওযুন নাযীর ৫৩, সহীহ জামেআস-সগীর ৩১২৪।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

 

 

হাদিস নং ৩৯৪৪: আমর ইবন আলী (রহঃ) … আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তির দুই স্ত্রী থাকবে এবং একজনের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়বে, সে কিয়ামত দিবসে এই অবস্থায় উঠবে যে, তার শরীরের একাংশ একদিকে ঝুঁকে থাকবে।

তাহক্বীকঃ সহীহ। ইবন মাজাহ ১৯৬৯, ইরওয়া ২০১৭, মিশকাত ৩২৩৬।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

 

 

হাদিস নং ৩৯৪৬. উবায়দুল্লাহ্ ইবন সাদ ইবন ইবরাহীম (রহঃ) … আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীগণ একদা ফাতেমা (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পাঠালেন। তিনি এসে অনুমতি চাইলেন, সে সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদর গায়ে আমার সাথে শোয়া ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমা (রাঃ)-কে অনুমতি দিলেন। তখন ফাতিমা (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনার স্ত্রীগণ আমাকে আপনার নিকট পাঠিয়েছেন। তারা আবু কুহাফার মেয়ের (আয়েশা) বিষয়ে তাদের সাথে ইনসাফ করার অনুরোধ করছেন। আয়েশা (রাঃ) বললেনঃ আমি চুপ ছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমা (রাঃ)-কে বললেন, যাকে আমি ভালবাসি তাকে কি তুমি ভালবাস না? ফাতিমা (রাঃ) বললেন, কেন ভালবাসব না? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে একে ভালবাস।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা শোনার পর ফাতিমা (রাঃ) উঠে গেলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীদের কাছে ফিরে গিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছিলেন তার বর্ণনা দিলেন। তারা বললেন, তোমার দ্বারা আমাদের কোন কাজ হল না। তুমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পুনরায় যাও এবং তাঁকে বল, আপনার স্ত্রীগণ আবু কুহাফার মেয়ে [আয়েশা (রাঃ)]-এর বিষয়ে ইনসাফের অনুরোধ করছে। ফাতিমা (রাঃ) বললেন, এই বিষয়ে আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আর কখনো কোন কথা বলব না।

আয়েশা (রাঃ) বললেন, এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীগণ যয়নাব বিনত জাহাশকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পাঠালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীগণের মধ্যে তিনিই একমাত্র রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে মর্যাদার বিষয়ে আমার সমপর্যায়ের ছিলেন। আমি যয়নব (রাঃ) অপেক্ষা বেশি দীনদার, আল্লাহর ভয়, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী, সত্যবাদী-দানশীলা যেই কাজে দান-সাদকার সওয়াব হয় ও নৈকট্য লাভ করা যায়, সেই কাজে অধিকতর সাধনাকারিণী আর কাউকে দেখিনি। শুধু এতটুকু কথা যে, তিনি হঠাৎ রেগে যেতেন। আবার তার রাগ পড়েও যেত খুব তাড়াতাড়ি। তিনি আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুমতি চাইলেন।

এ সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমা (রাঃ) প্রবেশ করার সময় যেই রকম আয়েশা (রাঃ)-এর সাথে চাদর আবৃত অবস্থায় ছিলেন, সেই অবস্থায় ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে অনুমতি দিলেন। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আপনার স্ত্রীগণ পাঠিয়েছেন। তারা আবু কুহাফার মেয়ের (আয়েশা-এর) ব্যাপারে তাদের সাথে ইনসাফ করার অনুরোধ করছেন। এই বলে তিনি আমার সাথে লেগেই গেলেন এবং ভাল-মন্দ বহু কিছু বললেন।

আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দৃষ্টির দিকে তাকাচ্ছিলাম তিনি আমাকে উত্তর দেয়ার অনুমতি দিচ্ছেন কি না এটা বুঝার জন্য। যয়নব তার অবস্থার মধ্যেই আছেন। শেষে আমি বুঝতে পারলাম যে, আমার উত্তর দেয়াটা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপছন্দ করবেন না। আমি যখন তার জওয়াব দেওয়া শুরু করলাম, তখন তাকে আর কিছু বলার সুযোগ দিলাম না। শেষ পর্যন্ত আমি তার উপর বিজয়ী হলাম। পরিশেষে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এতো আবু বকরেরই মেয়ে।

তাহক্বীকঃ সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

 

গ্রন্থঃ সূনান নাসাঈ

অধ্যায়ঃ স্ত্রীর সাথে ব্যবহার

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

প্রতিদিনের হাদিসঃ জুম্মার সালাত

হাদিস নং ৪৮৮: কুতায়বা (রহঃ) ……. আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ সূর্য উদিত হয় এমন সকল দিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হ’ল জুমু’আর দিন। এই দিনেই আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এদিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করান হয়। এই দিনেই তাঁকে তা থেকে বের করা হয়। আর এই জুমুআর দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। – সহিহাহ ১৫০২, সহিহ আবু দাউদ ৯৬১, মুসলিম, তা’লীক সহিহ ইবনু খুজাইমাহ ৩/১১৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৮৮

এই বিষয়ে আবূ লুবাবা, সালমান, আবূ যর, সা’দ ইবনু উবাদা এবং আওস ইবনু আওস রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীস হাসান-সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪৮৯: আবদুল্লাহ ইবনুল সাববাহ আল-হাশিমী আল-আত্তার (রহঃ) …… আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ জুমাবারের যে মুহূর্তটিতে দু’আ কবূলের আশা করা যায়, তোমার সে মুহূর্তটিকে বাদ আসর সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টিতে তালাশ কর। – মিশকাত ১৩৬০, তা’লীকুর রাগীব ১/২৫১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৮৯

ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই সনদে হাদীসটি গারীব। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই হাদীসটি অন্য সূত্রেও বর্ণিত আছে। রাবী মুহাম্মাদ ইবনু আবী হুমায়দ হচ্ছেন যঈফ। তার স্মরণশক্তির বিষয়ে হাদীস বিশেষজ্ঞ কতক আলিম তাকে যঈফ বলে মত দিয়েছেন। তাকে হাম্মাদ ইবনু আবী হুমায়দও বলা হয়। কথিত আছে, তিনি হলেন আবূ ইবরাহীম আল-আনসারী। ইনি হাদীসের ক্ষেত্রে মুনকার। সাহাবী এবং পরবর্তী যুগের কতিপয় আলিমের অভিমত হ’ল, এই দু’আ করার মুহূর্তটি বাদ আসর থেকে সূর্যন্ত সময় আশা করা যায়। ইমাম আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত এ-ই। ইমাম আহমদ (রহঃ) বলেনঃ দু’আ করার মুহূর্তটি সম্পর্কে অধিকাংশ হাদীসই বাদ আসর থেকে সূর্যস্ত পর্যন্ত সময়ের কথা উল্লেখিত হয়েছে। তবে যাওয়াল বা সূর্য পশ্চিমদিকে হেলে পড়ার পর থেকেও তা আশা করা যায়।

হাদিসের মানঃ  হাসান (Hasan)

হাদিস নং ৪৯১: ইসহাক ইবনু মূসা আল-আনসারী (রহঃ) …….. আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ সূর্য উদিত হয় এমন সব দিনের মধ্যে শেষ্ঠ দিন হ’ল ইয়াওমূল জুমুআহ। এই দিনেই আদম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সৃষ্ঠি করা হয়। এই দিনেই তাঁকে জান্নাতে দাখিল করা হয়, এই দিনেই তাঁকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়া হয়। এই দিনের মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত বিদ্যামান কোন মুসলিম বান্দা যখন সালাত (নামায/নামাজ) রত অবস্থায় এই মুহূর্তটি পায়, আর সে আল্লাহর কাছে কিছু যাঞ্ছা করে, তখন অবশ্যই আল্লাহ তার এই যাঞ্ছা পূরণ করেন। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু -এর সাথে আমার মুলাকাত হলে তাঁকে আমি এই হাদীসটি বর্ণনা করি। তখন তিনি বললেনঃ আমি এই মুহূর্তটি সম্পর্কে সমধিক অবহিত। আমি বললাম, আমাকে এই সম্পর্কে অবহিত করুন। এই বিষয়ে আমার সঙ্গে কার্পন্য করবেন না। তিনি বললেনঃ বাদ আসর কেমন করে হবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো বলেছেন, সালাত (নামায/নামাজ) রত অবস্থায় যদি কোন মুসলিম বান্দা এই মুহূর্তটি পায়। অথচ বাদ আসর তো (নফল) সালাত (নামায/নামাজ) হয় না। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এই কথা বলেননি যে, সালাতের অপেক্ষায় যে ব্যক্তি বসা থাকবে, তাকে সালাত (নামায/নামাজ) রত বলে গণ্য করা হবে? বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এ-ও তা-ই। – ইবনু মাজাহ ১১৩৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৯১ [আল মাদানী প্রকাশনী]

হাদীসটিতে লম্বা কাহিনী রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ولا تضنن بها على অর্থ হ’ল আমার সাথে এই বিষয়ে কার্পন্য করবেন না। الظن অর্থ-কৃপণ। الظَّنِينُ অর্থ- সন্দেহযুক্ত-সন্দেহ প্রবণ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪৯২: আহমদ ইবনু মানী (রহঃ) …… সালিম (রহঃ) তার পিতা (ইবন উমর) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমু‘আয় উপস্থিত হবে সে যেন গোসল করে নেয়। – ইবনু মাজাহ ১০৮৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৯২ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে আবূ সাঈদ, উমর, জাবির, বারা, আয়িশা ও আবূদ-দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী

অধ্যায়ঃ জুমু’আ

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

দোহারে ওসি’র সাহসিক দক্ষতায় ২৪ঘণ্টায় ৪ ডাকাত আটক  

নিজস্ব সংবাদদাতা,গাজী নাদিম ও শরিফ হাসানঃnews39.net : গত মঙ্গলবার রাতে দোহারের সুতারপাড়ায় আজাহার ব্যাপারী বাড়ীতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় দোহার থানা পুলিশের অফিসার ইন চার্জ শেখ সিরাজুল ইসলাম লিটুর কর্মদক্ষতা ও সাহসিক প্রচেষ্টায় ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে ডাকাত দলের ৪ সদস্যকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ। এছাড়া তাদের কাছ থেকে ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ এক লক্ষ ২৫ হাজার টাকা এবং ৬ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, ডাকাতদের ধরতে ও তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে নিজস্ব সোর্স ও ডিজিটাল পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রমে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের সহযোগীতায় দোহার থানা পুলিশ বুধবার রাতে ডাকাতির সাথে সম্পৃক্ত থাকায় ঢাকার মিরপুর, আগাঢ়গাঁও এবং দোহারের সুতারপাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা কালোহাটি গ্রামের মৃত শাহ আলমের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩০), পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার মৃত ছকিকুল ইসামের ছেলে মোঃ ইয়াকুব আলী সাগর (৩৪), ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার ছাঘলদী দক্ষিণ পাড়া খালপাড় গ্রামের মোঃ ওমর আলী মতুব্বরের স্ত্রী রাবেয়া বেগম (২৮) ও মোঃ খোরশেদ আলী মাতুব্বরের স্ত্রী কোমলা বেগম (৫০)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের দোহার পুরি এলাকায় প্রবাসী আজাহার বেপারির বাড়িতে দুর্ধষ ডাকাতি সংঘঠিত হয়। এ সময় ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পরিবারের সবাইকে হাত পা বেধে নগদ ৫০ হাজার টাকা, ৫টি মোবাইল সেট ও ২০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতের লোহার পাইপের আঘাতে পরিবারের ৪ সদস্য আহত হয়।

এ ব্যাপারে জনসাধারণ দোহার থানা পুলিশ ও ওসি শেখ সিরাজুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন নিউজ৩৯কে বলেন, ‌‘আমাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে। বৃহস্পতিবারও অভিযান চলছে। ডাকাতির পরপরই আমার ডাকাতি হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান শুরু করি। এ ঘটনায় আজাহার বেপারির স্ত্রী বিউটি আক্তার বাদী হয়ে একটি ডাকাতি মামলা করেছেন। বাকিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

দোহারে আরো ১২ মাদক ব্যবসায়ী আটক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মতো সারা দেশে মাদক বিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় দোহার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব ও পুলিশ। এদের মধ্যে ৬ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার নারিশা পশ্চিমচর এলাকা থেকে ৬০ পিচ ইয়াবা ও ১০ পুড়িয়া হেরোইন সহ মো. মেহেদী হাসান মিশা (২৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে দোহার থানার এসআই মো. হাফিজুর রহমান হাফিজের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। পরে তার বিরুদ্ধেও মাদক আইনে মামলা করে আদালতে প্রেরণ করা হয়। মিশা উপজেলার পশ্চিমচর এলাকার মো. আতিয়ার রহমানের ছেলে।

এছাড়া মামুন মোল্লা (২৮) ও মনোয়ার হোসেন (২২) নামে দুই মাদকসেবীকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ। আটকৃত মামুন উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের মইতপাড়া এলাকার আব্দুল হোসেনের ছেলে, মনোয়ার হোসেন সাতভিটা এলাকার মো. আজিজের ছেলে।

এর পরের দিন সোমবার দোহার উপজেলার বটিয়া এলাকা থেকে মো. সুমন হোসেন (৩২), শেখ মো. তারেক (৩৮) ও মোহাম্মদ সাগর (৩৩) নামে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। ইয়াবা সেবনের সময় তাদের হাতেনাতে আটক করে দোহার থানা পুলিশর এসআই মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই মো. হাফিজুর রহমান ও এএসআই সিদ্দিকুর রহমান সহ পুলিশের একটি দল। সুমনের বাড়ি থেকে তাদের তিনজনকে আটক করা হয়।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা আক্তার রিবা তাদের প্রত্যেককে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেণ।

সাজাপ্রাপ্ত সুমন উপজেলার বটিয়া এলাকার মো. আবেদের ছেলে, তারেক নারিশা পশ্চিমচর এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে ও সাগর নারিশা এলাকার মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে জানায় পুলিশ।

র‌্যাব-১১ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে সোমবার বিকেল চারটার দিকে র‌্যাব-১১ বালাশুরের কোম্পানী কমান্ডার সহকারী পরিচালক মো. নাহিদ হাসান জনি ও এএসপি মো. মহিতুল ইসলামের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল দোহার উপজেলার খেজুরতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী ও  সেবনকারী পালামগঞ্জ গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে মো. মামুন (২৭), হযরত আলীর ছেলে মো. রিয়াজ (২৭), এবং আল আমিন (২২) সহ তিনজনকে আটক করে। পরে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সহকারি কমিশনার (ভূমি) সালমা খাতুন ঘটনাস্থলেই তাদের প্রত্যেককে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেণ।

এদিকে একইদিন সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে র‌্যাব-১১ এর ওই দলটি দোহারের রায়পাড়া ইউনিয়নের খেজুরতলা চৌরাস্তা মোড়ে ছামছুদ্দিনের মুদি দোকানের সামনে থেকে উপজেলার জামালচর ইকরাশি গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে নাজমুল হোসেন (১৯), ও রাইপাড়া গ্রামের শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলে শামসুর রহমান (৩৫) কে আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে  ১০৩ পিস ইয়াবা এবং ইয়াবা বিক্রির নগদ ৭০০ টাকা উদ্ধার করে র‌্যাব। এ ঘটনায় মাদক আইনে মামলা দিয়ে তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এছাড়া, গত রোববার দিবাগত রাতে দোহার উপজেলার ফুলতলা এলাকা ৫৪ পিচ ইয়াবা সহ মো. হিরা (২৪) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। শাইনপুকুর ফুলতলা তদন্ত কেন্দ্রের এসআই শংকর চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে এএসআই রাহাত হাসান সহ পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে। আটককৃতের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে প্রেরণ করা হয়। হিরা উপজেলার ফুলতলা এলাকার আব্দুল মোতালেবের ছেলে।

দোহার থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী মাদকের সাথে যারা সম্পৃক্ত তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনা করার সময় যদি কোন মাদকসেবী বা ব্যবসায়ী পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করে তাহলে পুলিশ তার সমতুল জবাব দিবে।

বাংলা মদের কারখানা ভেঙে দিলেন নবাবগঞ্জের ইউএনও

নিজে উপস্থিত থেকে বাংলা মদের কারখানা ভেঙে দিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা ইউএনও। মঙ্গলবার ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে নবাবগঞ্জ উপজেলার কাশিমপুরে বাংলা মদের কারখানাটি উচ্ছেদ করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. তোফাজ্জল হোসেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদরের কাশিমপুর মৌজায় ১নং খাস খতিয়ানের প্রায় ১০ শতাংশ জমি দখল করে দিপক নামে এক মাদক ব্যবসায়ী গড়ে তুলেছিল বাংলা মদের কারখানা। তাছাড়া সরকারের অনুমতি ছাড়াই খাস জমিতে নির্মাণ করছিলেন পাকা ভবন।

মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. তোফাজ্জল হোসেন ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে বাংলা মদের কারখানাটি ভেঙে গুড়িয়ে দেন এবং বাড়িটি সিলগলা করে দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, দিপক ও তার পরিবার সরকারি জমি দখল করে পাকা ভবন তৈরি করে সেখানে মদের কারখানা গড়ে তুলেছিলেন। ভ্রাম্যমানে আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে মদের কারখানাটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সরকারি জমিও উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহনাজ মুন্নি মিথুন, নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. আশরাফুল আলম তালুকদার।

প্রতিদিনের হাদিসঃ কোরআন পাঠ

হাদিস নং ৩৯৬৯: জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত (এভাবে) পড়েছেনঃ ‘‘তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান বানিয়ে নাও।’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ১২৫)।

মুসলিম, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ। ইমাম তিরমিযী বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৯৭০: আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাতে এক লোক উচ্চস্বরে কুরআন তিলাওয়াত করলো। সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ অমুক ব্যক্তির উপর রাহমাত বর্ষণ করুন। সে রাতে আমাকে এমন কিছু আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যা আমি প্রায় ভুলতে বসেছিলাম।

বুখারী, মুসলিম।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৯৭১: ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘‘আর নবীর জন্য শোভনীয় নয় যে, তিনি খিয়ানাত করবেন।’’ এই আয়াত বদরের যুদ্ধের সময় অবতীর্ণ হয়েছে, বদরের যুদ্ধের সময় একটা লাল চাঁদর হারিয়ে গেলে কতিপয় লোক বলাবলি করলো, সম্ভবত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিয়েছেন। তখন আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘আর নবীর জন্য শোভনীয় নয় যে, তিনি খিয়ানাত করবেন। অথচ যে ব্যক্তি খিয়ানাত করবে সে খিয়ানাতকৃত বস্তুসহ কিয়ামাতের দিন উপস্থিত হবে। অতঃপর প্রত্যেকেই তার কৃতকর্মের পূর্ণ বিনিময় পাবে এবং তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র যুলুম করা হবে না।’’ (সূরা আল-ইমরানঃ ১৬১)। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘ইয়াগুলু’ শব্দের ইয়া-তে যবর হবে।

তিরমিযী। ইমাম তিরমিযী বলেনঃ এই হা্দিসটি হাসান গরীব।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৯৭২: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট কৃপণতা ও বার্ধক্য থেকে আশ্রয় চাইছি।

বুখারী, মুসলিম।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৯৭৩: লাক্বীত ইবনু সাবিরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বনী মুনতাফিকের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়েছিলাম। অতঃপর তিনি হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সীন হরফে যের পড়েছেন, সীনে যবর দিয়ে পড়েননি।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৯৭৪: ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক অভিযানে মুসলিমগণ এক লোকের সাক্ষাৎ পেলো, যার কিছু বকরী ছিলো। লোকটি বললো, আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। (অথচ) তারা তাকে হত্যা করে বকরীগুলো নিয়ে নিলো। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ ‘‘কেউ তোমাদের সালাম দিলে দুনিয়াবী সম্পদের লোভে তাকে বলো না যে, তুমি মু‘মিন নও’’ (সূরা আন-নিসাঃ ৯৪) অর্থাৎ সেই বকরীগুলো।

বুখারী, মুসলিম।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ

অধ্যায়ঃ কুরআনের কিরআত ও পাঠের নিয়ম

পাবলিশারঃ আল্লামা আলবানী একাডেমী

বাবা-মায়ের দ্বন্দের জেরে অপহরনের একমাস পর দোহার থেকে দুই শিশু উদ্ধার

রাজধানীর কদমতলী থেকে অপহরণের প্রায় একমাস পর দোহার থেকে দুই শিশু হিমু (৯) ও হিসামকে (৪) উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে দোহার থানাধীন নারায়নপুর এলাকা থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রোর একটি দল তাদের উদ্ধার করে। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় পিবিআই।

তিনি আরও জানান- তদন্তে আমরা জানতে পারি, ২০০৭ সালে ৪ মার্চ মো. হেলাল আহম্মেদের সঙ্গে লাকি রহমানের (৩৫) বিয়ে হয়। সংসারে তাদের এক মেয়ে হিমু (৯) এবং ছেলে হিসাম (৪) রয়েছে। পরবর্তীতে পারিবারিক জীবনে অশান্তি এবং কলহের কারণে গত ২০১৭ সালের ১৬ আগস্ট মাসে হেলালের সঙ্গে লাকির বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে লাকি রহমান তার সন্তানদের নিয়ে কদমতলী থানার সরাই মসজিদের পাশে তার ভাইয়ের বাসায় বসবাস করেন। এ বছরের ২৮ এপ্রিল বিকাল ৪টার দিকে লাকি রহমানের দুই সন্তানকে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনার সঙ্গে ভিকটিমদের চাচা মো. লিটন মৃধা (৩৫) ও মোহাব্বত আলীর (৩০) সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, ২৮ এপ্রিল বিকাল ৪টার দিকে কদমতলী এলাকার সরাই মসজিদের পাশে বাসার সামনে রাস্তায় খেলার সময় অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন ব্যক্তি  রশারিয়া ইসলাম ওরফে হিমু (৯) ও হিসাম আহম্মেদ (৪) কে অপহরণ করে। ভিকটিমের পরিবার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজার পরও তাদের সন্ধান পায়নি। পরে দুই শিশুর মা লাকি রহমান বাদী হয়ে আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১৫৪/১৮। হিমু কদমতলী এলাকার ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে।

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানঃ দোহারে ১০ মাদক ব্যবসায়ী আটক

সারা দেশে ঘোষনা দিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে চুড়ান্ত ঘোষনা দিয়েছিল সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার ১০ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ ও র‍্যাব। দোহারের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এদের আটক করা এদের মধ্যে ৬ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

২০ মে রবিবার রাতে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের তিনদোকান হতে ৫৪ পিছ ইয়াবা সহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে শাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। গ্রেফতার কৃত মাদক ব্যবসায়ী হচ্ছেন মোঃ হিরা (২২)। পুলিশ সুত্রে জানা যায়,রবিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এমারৎ হোসেনের নেতৃত্বে, এস আই সংকর সহ একটি বিশেষ টিম তিনদোকানে হতে হিরাকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃত হিরা (২২), মুকসুদপুরের খাশেরটেক গ্রামের আব্দুল মুতালেবের ছেলে। কর্মরত পুলিশ আমাদেরকে জানায়, আসামীর বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৯(১)এর ৯(খ) একটি মামলা করা হয়েছে।

একই দিনে  উপজেলার নারিশা পশ্চিমচর এলাকা থেকে ৬০ পিচ ইয়াবা ও ১০ পুড়িয়া হেরোইন সহ মো. মেহেদী হাসান মিশা (২৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে দোহার থানার এসআই মো. হাফিজুর রহমান হাফিজের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। পরে তার বিরুদ্ধেও মাদক আইনে মামলা করে আদালতে প্রেরণ করা হয়। মিশা উপজেলার পশ্চিমচর এলাকার মো. আতিয়ার রহমানের ছেলে।

এরপরের দিন ২১ মে সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে র‌্যাব-১১ এর একটি দল দোহারের খেজুরতলা চৌরাস্তা মোড়ে ছামছুদ্দিনের মুদি দোকানের সামনে থেকে উপজেলার জামালচর ইকরাশি গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে নাজমুল হোসেন (১৯), ও রাইপাড়া গ্রামের শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলে শামসুর রহমান (৩৫) ১০৩ পিস ইয়াবাসহ আটক করে। এ ঘটনায় মাদক আইনে মামলা করে তাদেরকে দোহার থানায় হস্তান্তর করা হয়।

একই দিন সোমবার বিকেল চারটার দিকে র‌্যাব-১১ বালাশুরের কোম্পানী কমান্ডার সহকারী পরিচালক মো. নাহিদ হাসান জনি ও এএসপি মো. মহিতুল ইসলামের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল দোহার উপজেলার খেজুরতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী ও  সেবনকারী পালামগঞ্জ গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে মো. মামুন (২৭), হযরত আলীর ছেলে মো. রিয়াজ (২৭), এবং আল আমিন (২২) সহ তিনজনকে আটক করে। পরে দোহার উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সহকারি কমিশনার (ভূমি) সালমা খাতুন ঘটনাস্থলেই তাদের প্রত্যেককে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেণ।

একই দিনে দোহার উপজেলার বটিয়া এলাকা থেকে মো. সুমন হোসেন (৩২), শেখ মো. তারেক (৩৮) ও মোহাম্মদ সাগর (৩৩) নামে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। ইয়াবা সেবনের সময় তাদের হাতেনাতে আটক করে দোহার থানা পুলিশর এসআই মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই মো. হাফিজুর রহমান ও এএসআই সিদ্দিকুর রহমান সহ পুলিশের একটি দল। সুমনের বাড়ি থেকে তাদের তিনজনকে আটক করা হয়।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা আক্তার রিবা তাদের প্রত্যেককে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী মাদকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।