ঢাকা-১ঃ আজ থেকে শুরু হচ্ছে আবু আশফাকের নির্বাচনী প্রচারণা

আজ আজ থেকে শুরু হচ্ছে আবু আশফাকের নির্বাচনী প্রচারণা । দোহার উপজেলা বিএনপি ও সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মিদের অাজ হতে নির্বাচনি প্রচারনায় অংশ নিতে, নিজ নিজ ইউনিয়ন নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে কর্মসুচি জেনে নিন, এবং সকলে সর্বাত্বক ভাবে গনসংযোগে অংশ নিতে ইতঃমধ্যে যোগাযোগের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ঢাকায় নিজ কার্য্যালয়ে বৈঠক করেন খন্দকার আবু আশফাক।

নিউজ৩৯কে এই  ব্যাপারে তিনি জানান, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমাদের মধ্যে শঙ্কা রয়েছে। সিইসির তরফ থেকে সব দলের সমান সুযোগ চাই। সেই সঙ্গে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দরকার। জনগনকে যদি ভোট দানের পরিবেশ তৈরি করে দেয়া হয় তাহলে জনগন ভোট দিতে পারবে। আওয়ামী লীগের এখন আর সেই ক্ষমতা নাই যে দোহার নবাবগঞ্জে আর জয়ী হবে। আমাদের বিজয় আর কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবেন না ইনশাল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, আমি নির্বাচিত হলে, তরুন-তরুনী ও যুবক-যুবতীদের জন্য কয়েকটা ট্রেনিং ইন্সটিটিউট তৈরি করবো যাতে তারা এখানে প্রশিক্ষন নিয়ে নিজেরা উপার্জন করতে পারে। আমি শিল্প কলকারখানা ও আত্ম-কর্মসংস্থানে নজর দিবো।দোহারের সবচেয়ে বড় চাহিদা যেটা সেটা হচ্ছে গ্যাস। ঢাকার অদূরে সাভার কালিয়াকোরে যে বড় বড় ইন্ডাস্ট্রিজ গড়ে উঠেছে তার অন্যতম কারন হচ্ছে গ্যাস। দোহার-নবাবগঞ্জে গ্যাসের সুবিধা নেই বলেই, এতো বড় বড় ইন্ডাস্ট্রিয়ালিজের বাড়ি দোহার-নবাবগঞ্জে হলেও গ্যাসের কোন সুবিধা না থাকার কারনে কোন শিল্পকারখানা গড়ে উঠে নি। আমি দোহার-নবাবগঞ্জে গ্যাস আনার জন্য কাজ করে যাব।

তিনি আরো বলেন,আমার সাথে প্রত্যকের সুসম্পর্ক বিদ্যমান, যে কোন কাজে সহজেই আমার কাছে আসতে পারে, আমাকে পাশে পায়। আমাকে তারা তাদের কাছের মানুষ ভাবে, ভাবে তাদের স্বজন। একই সাথে কাশিয়াখালি বাঁধের ব্যাপারে আমি যে উদ্যোগটা প্রথমে নিব সেটা হলো আমি কাশিয়াখালি বাঁধে আরো কয়েকটা স্লুইচ গেটের উদ্যোগ নিবে। যাতে পলির অভাবে মৃতপ্রায় নবাবগঞ্জ অঞ্চলের কৃষি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে প্রায় এবং একই সাথে মৃত প্রায় ইছামতী নদীকে আমি আবার প্রান সঞ্চারের চেষ্টা করবো। যেন পদ্মার পানির একটা পরিমিত পরিমান ইছামতীতে ঢুকে। ইনশায়াল্লাহ তারাই আমাকে ভোট দিয়ে এই সংসদীয় আসনে আমাকে এমপি নির্বাচিত করবে।

ঢাকা-১০: তাপসের সরব প্রচারণা আর আব্দুল মান্নান থানায়

ঢাকা-১০ আসনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস ও বিএনপির আব্দুল মান্নান। প্রতীক পাওয়ার পর সোমবার থেকেই প্রচারণায় নেমেছেন তাপস। তবে এখনো প্রচার শুরু করতে পারেননি মান্নান। প্রতীক পাওয়ার দিন ঘরোয়াভাবে নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই দিন রাতে তার আইনজীবী গ্রেপ্তার হওয়ায় গতকাল দিনভর ছিলেন থানায়। এজন্য প্রচারণাও শুরু করতে পারেননি।

এদিকে প্রতীক বরাদ্দের ২য় দিন গতকাল রাজধানীর হাজারিবাগকে একটি মডেল আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর প্রথম দিন থেকেই তার নির্বাচনী এলাকা সিটি করপোরেশনের ১৭ ও ২২নং ওয়ার্ড হাজারিবাগ এলাকায় প্রচার চালান।

এসময় ভোটারদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময়ের পাশাপাশি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য নৌকা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। তার নির্বাচনী এলাকা একটি আধুনিক আবাসিক এলাকায় গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রচারণা চালাকালীন ফজলে নূর তাপস বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মাণের জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কাজ করে চলেছে। আমার নির্বাচনী এলাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আবারও নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের সময়ে করা উন্নয়নের চিত্র জনগণের কাছে তুলে ধরছি। ঢাকা-১০ এলাকার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পরিকল্পনা হিসেবে তিনি বলেন, যানজট নিরসনে মেট্রো রেলের সংযোগ ধানমন্ডি ২৭ থেকে সায়েন্সল্যাব মোড় হয়ে নিউ মার্কেট দিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

এদিকে প্রচারণা শুরু করতে না পারার বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী আবদুল মান্নান জানান, গত সোমবার রাত ১০টায় তার ধানমন্ডির বাসা থেকে বের হওয়ার পর তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। খবর পেয়ে সকাল ১০টায় আমি ধানমন্ডি থানায় আসি। দীর্ঘ সময় থানার মধ্যে বসে থাকলেও, কেউই আমাকে জানায়নি কেন আমার আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমি নির্বাচন কমিশনকে জানাবো। এ সময় নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার একের পর এক কর্মিকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আমার আইনজীবীকেও ধরে আনা হয়েছে। কি কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হলো, সেটুকু পর্যন্ত জানাচ্ছে না আমাদেরকে। সারাদিন এই সব ঝামালে নিয়ে থাকায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করতে পারিনি। বুধবার বা বৃহস্পতিবার থেকে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের রোল মডেল – সালমান এফ রহমান

আওয়ামী লীগ সভাপতির বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী সালমান এফ রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের রোল মডেল। বিদ্যুৎ খাতে দেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। যার প্রমাণ ঘরে ঘরে এখন বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত। সারা দেশের মতো দোহার-নবাবগঞ্জেও এখন বিদ্যুতের কোনো সমস্যা নেই। সব সমস্যার সমাধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে দূর করেছেন। সালমান এফ রহমান বলেন, পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন দিতে চেয়েও দেয়নি ভুয়া অভিযোগ তুলে। তখন প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করেছিলেন নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করা হবে।

বর্তমানে পদ্মা সেতুর ৬০% কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। বাকি কাজও দ্রুত সময় হয়ে যাবে। বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল হয়েছে। যার প্রমাণ আপনাদের প্রায় প্রত্যেকের হাতে স্মার্ট ফোন দেখলেই বুঝা যায়। এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ নেতৃত্বের কারণে। তাই দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিকল্প নেই। মঙ্গলবার দোহার উপজেলার জয়পাড়ায় দোহার-নবাবগঞ্জ উইভার্স কো-অপারেটিভ ইন্ডাস্ট্রিয়ালের বাৎসরিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার তাঁতীদের ভাগ্য উন্নয়নে অনেক কাজ করেছে। এ জন্য আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে আর একবার ক্ষতায় আনতে হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়নের সচল চাকা অচল হয়। এসময় সালমান এফ রহমান দোহার-নবাবগঞ্জবাসীকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন, দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার সহ আরো অনেকে।

এতদিন সুখে-দুঃখে যেমন আপনাদের পাশে ছিলাম, আগামীতেও পাশে থাকব – সালমা ইসলাম

দোহার-নবাবগঞ্জ এলাকায় গত পাঁচ বছর ধরে চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে মটরগাড়ি মার্কায় ভোট দিতে ঢাকা-১ আসনের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি।

তিনি বলেন, এতদিন সুখে-দুঃখে যেমন আপনাদের পাশে ছিলাম, আগামীতেও পাশে থাকব ইনশাআল্লাহ। এ অঞ্চলের উন্নয়নে গত ৫ বছর আমি কতটুকু সময় ব্যয় করেছি আপনারা জানেন।

আগামী দিনেও এ এলাকার উন্নয়ন তথা আপনাদের সেবায় কাজ করতে চাই। উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখতে আমাকে আবার ভোট দিন।

দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালে মঙ্গলবার ভোটারদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন এ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সালমা ইসলাম বলেন, বিগত সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা আপনাদের ভোটে এ অঞ্চলের এমপি ও মন্ত্রী হয়েছিলেন।

কিন্তু তারা আপনাদের ও দোহার-নবাবগঞ্জের উন্নয়নের কথা ভুলে নিজের উন্নয়নে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু আমি এতদিন সুখে-দুঃখে যেমন আপনাদের পাশে ছিলাম, আগামীতেও পাশে থাকব ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, আপনাদের ভোটে আবার নির্বাচিত হলে এলাকায় পাইপের মাধ্যমে গ্যাসের লাইন আনব ইনশাআল্লাহ। এলাকার সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজিসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কাজ বন্ধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেব। এলাকার যেসব কাজ অসমাপ্ত রয়েছে সেগুলো আমি সমাপ্ত করব।

উপজেলার গালিমপুর বক্সনগর ও নবাবগঞ্জের কলাকোপা ইউপির সমসাবাদ গ্রামে উঠান বৈঠকে উপস্থিত ভোটারদের উদ্দেশে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, আমি এ অঞ্চলের উন্নয়নে গত ৫ বছর কতটুকু সময় ব্যয় করেছি আপনারা জানেন।

নদীতে ব্রিজ ছিল না, ব্রিজ করেছি। রাস্তা না থাকায় মানুষ হেঁটে চলাচল করত। এখন বিভিন্ন গ্রামে নতুন সড়ক নির্মাণের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণসহ অসংখ্য বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ হয়েছে দোহার ও নবাবগঞ্জে।

পদ্মার ভাঙন থেকে রক্ষায় নেয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে ভোটারদের উদ্দেশে সালমা ইসলাম বলেন, আপনারা জানেন, ভাঙনকবলিত এ এলাকাকে পদ্মার ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষায় আমি দীর্ঘ সময় আপনাদের পাশে থেকে কাজ করেছি। আপনাদের পাশে থেকে আগামী দিনেও এ এলাকার উন্নয়ন তথা আপনাদের সেবায় কাজ করতে চাই।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জুয়েল আহমেদ, খলিলুর রহমান, মো. শাহজাহান, একেএম আবদুল হালিম, আবু নাইম, ইয়াসিন রবিন, শফিকুল ইসলাম স্বপন, লুৎফা আক্তার, রেশমী আজাদ, আসমা আক্তার রুমি, রুপালি মেম্বার, মোস্তারিন মিথুন, মো. মাসুদ, মো. সেলিম, মো. বোরহান, খলিল দেওয়ান প্রমুখ।

দোহার – নবাবগঞ্জে জমে উঠেছে ত্রিমুখী লড়াই

প্রতিবার নির্বাচনের একেবারে শেষ মুহূর্তে কিছু জমজমাট নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও এর ব্যতিক্রম নয়। নির্বাচনী আসনগুলোতে চূড়ান্তভাবে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সেটা নিশ্চিত হয়েছে নানা সংশয় ও নাটকীয়তার পর। ঢাকা-১ আসনও এর ব্যতিক্রম নয়। ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ নিয়ে গঠিত এই আসনটিতে ধানের শীষ প্রতীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক। গত শুক্রবার ২০৬ জনের চূড়ান্ত মনোনয়নের যে তালিকা প্রকাশ করে বিএনপি সেখানে তাঁর নাম ছিল না। মামলার কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বাতিল করায় ওই তালিকায় তিনি ছিলেন না বলে জানা যায়। ইসিতে আপিল করে প্রার্থিতা ফেরত পান আশফাক। এরপর গত রোববার তাঁর মনোনয়ন নিশ্চিত করে বিএনপি। অন্যদিকে এই আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়বেন সালমান এফ রহমান। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন সালমা ইসলাম।

ঢাকা-১ আসনে সালমা ইসলাম এবং সালমান এফ. রহমানের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাকের শক্ত অবস্থান জমজমাট ভোটযুদ্ধকে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে পরিণত করছে। সালমা ইসলাম মহাজোটের অন্যতম অংশীদার জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্যও তিনি। তবে সালমা ইসলামের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তিনি দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনের অন্যতম কর্ণধার। শিল্পপতি ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল তাঁর স্বামী।

জাতীয় পার্টি ও মহাজোটের নানা হিসাব নিকাশের কারণে সালমা ইসলাম নিজ দল থেকে মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন তিনি। বলাই বাহুল্য, দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনের মাঠে সালমা ইসলাম দুর্বল হয়ে পড়বেন এমনটা নয়। প্রবল পরাক্রমেই তিনি নির্বাচনী যুদ্ধে নেমে পড়েছেন।

ঢাকা-১ আসনটি জাতীয় সংসদের ১৭৪ তম আসন। আসনটির মোট ভোটার ৪ লাখ ৪০ হাজার ৪০৭জন। স্বাধীনতার পর থেকে ৯০ এর আগে পর্যন্ত এই আসনে কোনো দলেরই একক আধিপত্য ছিল না। তবে ১৯৯১ সাল থেকে টানা তিনটি নির্বাচনে জিতে এই আসনটিকে নিজের রাজত্ব বানিয়ে ফেলেন বিএনপির সাবেক নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে সেই রাজত্বের অবসান ঘটে। ওই নির্বাচনে ঢাকা-১ আসন থেকে জয় পান আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল মান্নান খান। তিনি বিএনপির আবদুল মান্নানকে প্রায় ৩৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। দুই দশক পর আসনটির দখল পায় আওয়ামী লীগ। তবে ২০১৪ সালে তা আবারো হাতছাড়া হয় তাদের।

জনপ্রিয়তার দিক থেকে সালমান, সালমা এবং আশফাক তিনজনই প্রায় সমানে সমান। এর আগে সালমান এবং সালমা দুজনই ঢাকা-১ আসন থেকে একবার করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে সালমা আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান খানকে পরাজিত করেন। অন্যদিকে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির নাজমুল হুদার কাছে হেরে গিয়েছিলেন সালমান এফ রহমান। সেই নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর দোহারে এক রকম অবাঞ্ছিতই হয়ে পড়েছিলেন সালমান এফ রহমান। এরপর পেরিয়ে গেছে অনেকগুলো বছর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও বদলে গেছে। বিএনপি থেকে বেরিয়ে নাজমুল হুদা আলাদা দল গঠন করেছেন। এই নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১ আসনে সালমান এফ রহমানকে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ত্রিমুখী লড়াইয়ের কারণে ঢাকা-১ আসনের ভোটযুদ্ধ এবারের নির্বাচনে বাড়তি উত্তাপ ছড়াচ্ছে। জয় পেতে তিনজন প্রার্থীই তাদের সব শক্তি প্রয়োগ করবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবেন সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

“আনন্দ বেদনার বিদায়ী উৎসব জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের|

র‍্যাগ-ডে একটি ইংরেজি প্রবাদ।যার বাংলা অর্থ পড়ালেখা শেষের হৈচৈপূর্ন দিন।এমনিভাবেই হাসি তামাশা আর হৈহুল্লোড়ে পালিত হলো জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের র‍্যাগ ডে।

ধবধবে সাদা টি শার্ট সকলের গায়ে।মেয়েরাতো অনেকে সবুজ আর লালের সালোয়ার কামিজে সেজেছে দলবেধে।সকলের গায়েই সাদা টি শার্ট কিন্তু একটু যায়গাও যেন সাদা নেই।লাল,নীল,সবুজ আর কালো রঙের হিজিবিজি লেখালেখি। আজ যেন লেখালেখির লগ্ন এসেছে।কেওবা জড়ির ঝিকিমিকি মেখে দিচ্ছে প্রিয় বন্ধু-বান্ধবির গালে।সে এক মোহনীয় দৃশ্য।
এরইমাঝে মাইকে আওয়াজ আসে সকলকে সেমিনার কক্ষে প্রবেশ করার জন্য।যথারীতি,ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের আসন নেওয়ার পর নজরুলের পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা।অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিল রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শরিফ হাসান।

যথাসময়ে অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান,সহকারি অধ্যক্ষ তাপস কুমার নন্দি সহ বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও অন্যান্য মাননীয় শিক্ষক মহোদয় আসনগ্রহণ করে।রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রাজিব শরিফ ও মোশাররফ হোসেন শান্ত ও উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।তাদের মহামূল্যবান বিদায়ী বক্তব্যে উঠে আসে,শিক্ষার্থীদের সাফল্য কামনা,তাদের এগিয়ে যাবার এবং দেশের জন্য কিছু করার আহবান।
এরপর শিক্ষকগন ও ছাত্রছাত্রীরা একে অপরকে কেক খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে দুপুরের খাবার পরিবেশনে চলে যায়।খাওয়া দাওয়া শেষ হলে কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে।একক,দলীয়, এখানে ওখানে প্রিয় ক্যাম্পাসের সর্বত্র ছিল ছাত্রছাত্রীদের ছবি তোলার উৎসব।
পড়ন্ত বিকেলে ছিল দোহারের নীল ব্যান্ডের সংগীতানুষ্ঠান। একেরপর এক ধামাকেদার পারফরমেন্স করে শ্রোতাদের আসন ছেড়ে নাচতে বাধ্য করে।
এরইমাঝে একদল ছাত্রছাত্রী অসুস্থ দারোয়ান কাকার জন্য সকলের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য সংগ্রহ করে।

বন্ধুবান্ধব নিয়ে আড্ডা,ঘোরাঘুরি,ক্লাস আর অ্যাসাইনমেন্টের ভিড়ে কিভাবে যে চারটা বছর কেটে বিদায় ঘন্টা বেজে গেল টেরই পেলাম না।মধুময় দিনগুলির স্মৃতি হৃদয়ের ফ্রেমে কল্পনা করতে করতেই কনসার্ট শেষ হয়ে সূর্য ডোবার পালা।অন্তিমলগ্নে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে সবাই।পরস্পরকে অশ্রুসজল নয়নে বিদায় জানিয়ে পাড়ি জমায় নিজবাসভুমে।

দোহারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে বিশেষ সেবা সপ্তাহের উদ্ধোধন|

দোহারে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে বিশেষ সেবা সপ্তাহের উদ্ধোধন করা হয়েছে। ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনামূল্যে এই বিশেষ স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হবে। ১০ ডিসেম্বর সোমবার সকাল ১১ টায় এ সেবা সপ্তাহের উদ্ধোধন করা হয়। দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেবা সপ্তাহের উদ্ধোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা। পরে উদ্ধোধন শেষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আর উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

মটরগাড়ি প্রতীক নিয়ে লড়বেন সালমা ইসলাম|

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মটরগাড়ি (কার) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। সোমবার বেলা ১১টার দিকে সালমা ইসলামের অভিপ্রায় অনুযায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং অফিসার আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান তাকে মটরগাড়ি প্রতীক বরাদ্দ দেন। এ সময় সালমা ইসলামের পক্ষে যমুনা গ্রুপের পরিচালক (হিসাব) শেখ মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ, মনোনয়ন প্রস্তাবক মো. ইফতেখার হোসেন তন্ময় ও সমর্থনকারী সৈয়দ আবদুল হাসিব উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং অফিসার আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান বলেন, নিয়মানুযায়ী প্রার্থীর পছন্দের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ঢাকা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলাম মটরগাড়ি প্রতীক পেয়েছেন।

পুরান ঢাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ঢাকা জেলার পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের কাজ শুরু হয়। প্রথমেই ঢাকা-১ আসনের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলাম ছাড়াও সাতজন বিভিন্ন প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এর আগে ২ ডিসেম্বর ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সালমা ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন।

তিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।

সিংহ যেমন বনের রাজা, আমিও গুলশানের রাজা হতে চাই – নাজমুল হুদা

0

সিংহ যেমন বনের রাজা, আমিও গুলশানের রাজা হতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।

সোমবার ঢাকার বিভাগীয় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে নির্বাচনের প্রতীক পাওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিংহ প্রতীক পেয়েছেন নাজমুল হুদা।

প্রতীক পাওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সিংহ কখনো পরাজিত হয় না, সিংহ যেমন বনের রাজা, আমিও গুলশানের রাজা হতে চাই। আমি এ নির্বাচনে জিতব।’

ঢাকার-১৭ আসনে অনেক জনপ্রিয় প্রার্থী থাকলেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী নাজমুল হুদা।

নাজমুল হুদা বলেন, নির্বাচনী এলাকার মানুষের পাশে থাকব, আমাদের স্লোগান সহিংস না। সুস্থ রাজনীতির মাধ্যমে সুশাসন কায়েম করব। এলাকার মানুষের পাশে থেকে মানুষের মন জয় করার চেষ্টা করব। এছাড়া এলাকার মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তাদের দাবি পূরণ করার চেষ্টা করব।

শুরুতে তার মনোনয়ন বাতিল হলেও নির্বাচন কমিশনে তিনি আপিল করলে তা বৈধ ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা-১৭ আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ, আওয়ামী লীগের প্রার্থী চিত্রনায়ক ফারুক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

ঢাকা-১ এ ধানের শীষ প্রতিকে লড়বেন খন্দকার আবু আশফাক

ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও সদ্য সাবেক নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে ঢাকা-১ সংসদীয় আসনে প্রতিদন্দিতা করবেন। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে খন্দকার আবু আশফাক লড়াই করবেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সালমান এফ রহমান ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলামের সাথে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি আজ দুপুরে খন্দকার আবু আশফাকের কাছে পৌছায়। আজ দুপুর সোয়া দুইটার দিকে গুলশানে বিএনপির  চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে তারা বিএনপির মনোনয়নের ঠিঠি সংগ্রহ করেন তিনি। আসফাক চিঠি পাওয়ায় দোহার-নবাবগঞ্জের বিএনপি কর্মী সমর্থকরা গুলশান কার্যালয়ের সামনে উল্লাস প্রকাশ করেন।খন্দকার আবু আশফাক