নবাবগঞ্জে চলছে সালমা ইসলাম ও নুরুল ইসলাম বাবুলের প্রচারণা

নবাবগঞ্জের বর্ধনপাড়ায় বৃহস্পতিবার প্রচার চালিয়েছেন ঢাকা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (মটরগাড়ি) সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি। এ সময় তার সাথে ছিলেন তার স্বামী  বিশিষ্ট শিল্পপতি যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামসহ নেতাকর্মীরা।

নবাবগঞ্জের বর্ধনপাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার মহিলা সমাবেশে ঢাকা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী, সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপির পক্ষে মটরগাড়ি মার্কায় গণসংযোগে অংশ নিয়ে শিল্পপতি নুরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। দীর্ঘদিনের অবহেলিত নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার সার্বিক চিত্র পাল্টে গেছে গত পাঁচ বছরে। এ অঞ্চলের উন্নয়ন ও অগ্রগতির এ ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী সংসদ নির্বাচনে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এজন্য ভোটারদের এ আসনের (ঢাকা-১) বর্তমান সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামকে মটরগাড়ি মার্কায় ভোট দিয়ে জয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন যমুনা গ্র“পের চেয়ারম্যান দেশবরেণ্য শিল্পপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আমার জীবনে চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছেন। আমি শুধু অবহেলিত এ এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। মটরগাড়ি মার্কায় আপনাদের একটি ভোট আগামী দিনে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলাকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। ভালো মানুষকে নির্বাচিত করলে এলাকার উন্নয়ন হবে। তাই আসুন চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে সবাই মিলে এ এলাকার উন্নয়নে কাজ করি- এ হোক আমাদের অঙ্গীকার।

সমাবেশে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, আপনারা জানেন, আমি আপনাদের এ এলাকার উন্নয়নে গত ৫ বছর কত কঠোর পরিশ্রম করেছি। এর ফলে দীর্ঘদিনের অবহেলিত নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলায় এখন শান্তির সুবাতাস। এ অঞ্চলের উন্নয়ন, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি ধরে রাখতে আগামী ৩০ ডিসেম্বর মটরগাড়ি মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করুন।

সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ৫ বছরে দোহার ও নবাবগঞ্জের সার্বিক চিত্র পাল্টে গেছে। প্রায় ৭২টি রাস্তার কার্পেটিং হয়েছে। নদীর ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণসহ কোমরগঞ্জ থেকে বান্দুরা পর্যন্ত ইছামতি নদী খনন করা হয়েছে। গ্রামপর্যায়ে প্রায় ৫১টি কাঁচা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণসহ ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাবের ব্যবস্থা করেছি। জিনজিরা ও কেরানীগঞ্জ-নবাবগঞ্জ-শ্রীনগর আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণের জন্য ৪৬৯ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে।

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, এসব চলমান উন্নয়ন কাজ শেষ করাসহ এলাকার উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মটরগাড়ি মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করুন। আমি আপনাদের পাশে ছিলাম, সব সময় আপনাদের পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জুয়েল আহমেদ, খলিলুর রহমান, একেএম আবদুল হালিম, মুরাদ মিয়া, নারী নেত্রী রেশমী আজাদ, শিল্পী ইসলাম, আসমা আক্তার রুমি প্রমুখ।

দোহারে – নবাবগঞ্জে চলছে সালমান এফ রহমানে বাড়ী বাড়ী ভোট প্রার্থনা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাকি মাত্র ১৭ দিন । এর মধ্যে শুরু হয়েগেছে দোহার-নবাবগঞ্জ ঢাকা-১ আসনের ভোট যুদ্ধ । একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সারা দেশের মতো ঢাকা-১ আসনের নির্বাচন প্রচার প্রচারনা জমে উঠেছে ।রাস্তা-ঘাট,উঠান বৈঠক, চায়ের দোকানে শুধু নির্বাচনকে ঘিরে জনগননের মাঝে চরম কৌতুহলী সৃস্টি হয়েছে । এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার জয়পাড়া বাজারে ুপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক খোকন শিকদার লিফলেট বিতরণ করেন ও ভোট চান। শুক্রবার সকালে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল দোহার- সুতারপাড়ায় বাড়ী বাড়ী ভোট প্রার্থনা করেন।

উত্তাপের সঙ্গে মিশে আছে উত্তেজনাও

0

সূত্রঃ সমকাল, অনলাইন ডেস্ক, নিউজ৩৯ঃ সারাদেশে ৩০০ নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ঢাকা-১ আসন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি। মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার ২৮৭ ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৯৩ জনই নারী।

কেন এ আসনে নারী ভোটার বেশি?- এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, এই দুই উপজেলার বেশিরভাগ যুবকই প্রবাসী। তাদের বড় একটি অংশ কাজ করছেন সৌদি আরবে। তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বসবাস সিঙ্গাপুরে। এর বাইরে কুয়েত, দুবাই আর মালয়েশিয়ায়। অন্যান্য দেশেও আছেন। দুই উপজেলার বেশিরভাগ বাড়িরই অন্তত একজন পুরুষ বিদেশে কাজ করছেন। ফলে ভোটার লিস্টে নারীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। আর সঙ্গত কারণেই নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মন কাড়তে চাচ্ছেন নারী ভোটারদের।

রাজধানী ঢাকা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের উপজেলা দোহার। নবাবগঞ্জের সঙ্গে দূরত্ব অবশ্য আরও কম। আধা শহর, আধা গ্রামের মিশেলে গড়ে ওঠা এই জনপদের এ দুই উপজেলায় আসতে পথের দু’পাশে হলুদ-সবুজে মেশানো সরিষা ক্ষেতের ছড়াছড়ি। ভোরের কুয়াশার রেশ কাটেনি তখনও। প্রকৃতি আড়মোড়া ভেঙে পুরোপুরি জেগে ওঠার আগেই আগলা বাজার পার হয়ে পৌঁছা হয় নবাবগঞ্জ উপজেলার বেণুখালী-টিকেরপুর

এলাকায়। সেখানে মূল সড়ক মেরামতের কাজ করছিলেন দিনমজুর আশরাফ আলী মিয়া। তিনি চুড়াইন ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার সরল মন্তব্য, ‘এই এলাকায় নির্বাচন হইতেছে ট্যাকাওয়ালা গো নির্বাচন। ট্যাকায় ট্যাকায় টক্কর হইবো।’

তার এই মন্তব্যের মূল কারণ হলো, দেশের শীর্ষ দুই শিল্প গ্রুপের দুই কর্ণধার এ আসনে প্রার্থী হয়ে আলো ছড়াচ্ছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটরকার প্রতীকের যমুনা গ্রুপের পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। তিনি এ নির্বাচনী এলাকার বর্তমান সাংসদ। এই দু’জনের সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবির্ভূত হয়েছেন নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আবু আশফাক। ফলে এ আসনে আরও প্রার্থী থাকলেও মূলত লড়াই হবে এই তিনজনের মধ্যেই। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারে নেমেছেন তারা। নির্বাচনের পরিবেশ এতদিন শান্তই ছিল। তবে গত বুধবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মুখোমুখি হয়ে যাওয়ার পর বিএনপির মিছিল থেকে আক্রমণে আওয়ামী লীগের চারজন কর্মী আহত হওয়ায় এলাকায় নির্বাচনী উত্তাপের সঙ্গে ছড়িয়েছে উত্তেজনাও। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর এ উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে দু’দলের নেতাকর্মীদের মাঝে। দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ গতকাল বিক্ষোভ মিছিল করেছে এ ঘটনায়। দোহার থানা পুলিশ বিএনপির ১৬৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ৫০০ জনকে আসামি করে দুটি মামলাও করেছে। এরই মধ্যে বিএনপির ১৮ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

নবাবগঞ্জের আগলা বাজার এলাকার বাসিন্দা কাওসার হোসেন কমেটের মতে, এই নির্বাচনী এলাকায় মানুষ অনেক বেশি শান্তিপ্রিয়। তারা নিরাপদে ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দিতে চায়।

সরেজমিন দেখা গেছে, নির্বাচনী প্রচারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালমান এফ রহমান। নির্বাচনী এলাকাজুড়ে তার পোস্টার চোখে পড়ার মতো। বাকি দুই প্রার্থীর পোস্টার চোখে পড়ল না। তবে সব প্রার্থীর পক্ষে গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক, গণসংযোগ, কর্মিসভার মাধ্যমে ভোট প্রার্থনা চলছে।

নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা একজন প্রার্থী তার কর্মীদের মাঝে দোহার ও নবাবগঞ্জে প্রায় দুই শতাধিক মোটরসাইকেল বিতরণ করেছেন বলে অভিযোগ করলেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন। তিনি এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটা দুঃখজনক।

জাতীয় সংসদের ১৭৪, ঢাকা-১ আসনটি জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ নিয়ে গঠিত। দুই উপজেলার মধ্যে নবাবগঞ্জ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা বেশি। দোহারে মোট ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৭৭ জন। নবাবগঞ্জে ভোটার ২ লাখ ৬১ হাজার ৮৮৪ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৭৭টি। এ ছাড়া অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র আছে ১৫টি।

স্বাধীনতার পর ‘৯০-এর আগ পর্যন্ত এই আসনে কোনো দলেরই একক আধিপত্য ছিল না। এ আসনটিতে দেশের প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি প্রত্যেকে দু’বার করে বিজয়ী হয়েছে। ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের আবু মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, ১৯৭৯ সালে বিএনপির খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির শহীদ খন্দকার, ১৯৯১ সালে বিএনপির নাজমুল হুদা, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান ও ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম এ আসনে বিজয়ী হন।

ঢাকা-১ আসনে সালমা ইসলাম এবং সালমান এফ রহমানের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে প্রথমে মনে করা হচ্ছিল। তবে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাকের শক্ত অবস্থান ও গত বুধবার দোহারে বিএনপির নির্বাচনী শোডাউন, এখানে জমজমাট ভোটযুদ্ধকে কঠিন লড়াইয়ে পরিণত করছে।

নৌকা প্রতীকের সালমান এফ রহমানের বাড়ি দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের শাইনপুকুর গ্রামে। সল্ফ্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান সালমানের বাবাও মন্ত্রী ছিলেন। তিনি এলাকার শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও জনসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এর আগে বিনামূল্যে দোহারে ২৪০টি আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল স্থাপন, মেধাবী ছাত্রদের মাঝে বৃত্তি প্রদান, কন্যা দায়গ্রস্তদের আর্থিক অনুদান, অভাবগ্রস্তদের সাহায্য-সহযোগিতা ও চিকিৎসাসেবা প্রদান ছাড়াও বহু স্কুল-কলেজে কম্পিউটার দিয়েছেন তিনি।

সালমা ইসলাম মহাজোটের অন্যতম অংশীদার জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্যও তিনি। তবে সালমা ইসলামের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তিনি দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনের অন্যতম কর্ণধার। শিল্পপতি ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল তার স্বামী। জাতীয় পার্টি ও মহাজোটের নানা হিসাব-নিকাশের কারণে সালমা ইসলাম নিজ দল থেকে মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরগাড়ি নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন তিনি। নবাবগঞ্জ উপজেলার চুড়াইন ইউনিয়নের কামারখোলা গ্রামে তার বাড়ি।

বিএনপির প্রার্থী আবু আশফাকের বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের কলাকোপা পুকুরপাড় গ্রামে। তিনি দু’বার নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।

ভোটাররা বলছেন, সালমান, সালমা এবং আশফাক তিনজনেরই জনপ্রিয়তা রয়েছে। এর আগে সালমান এবং সালমা দু’জনই ঢাকা-১ আসন থেকে একবার করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

সংশ্নিষ্টরা যা বলেন : আওয়ামী লীগ প্রার্থী সালমান এফ রহমানের পক্ষে নির্বাচনী মাঠ দৌড়ে বেড়াচ্ছেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন। উপজেলা পরিষদে বসেই কথা হলো তার সঙ্গে। তিনি বলেন, বিজয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী। গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার সারাদেশে যে উন্নয়ন করেছে, সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আসন্ন নির্বাচনে নৌকা মার্কাকে এ দেশের জনগণ ভোট দিয়ে আবারও শেখ হাসিনাকেই রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরিয়ে আনবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলাম তার মেয়াদে দোহার-নবাবগঞ্জে উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছেন। তিনি আবারও নির্বাচিত হলে এই দুই উপজেলাকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

বিএনপির প্রার্থী আবু আশফাক বলেন, সুষ্ঠু ভোট হলে আমিই বিজয়ী হবো। এ নির্বাচন ৫ জানুয়ারির চেয়েও ভয়াবহ খারাপ। গত বুধবার নির্বাচনী প্রচারকালে আমাকে বিনা মামলায় আটক করে ন্যক্কারজনক নজির গড়েছে তারা। আমার প্রচার সঙ্গীদেরও আটক করে মামলা দেওয়া হয়েছে তাদের নামে। আমাদের নির্বাচন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার নির্বাচন।

প্রধান ইস্যু পদ্মার ভাঙন : প্রমত্তা পদ্মার ভাঙনে ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে দোহারের মানচিত্র। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা তীরবর্তী দোহার উপজেলার নদীভাঙন রোধ করা এবারের নির্বাচনে তাই ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এ অঞ্চলের ভাঙনকবলিত মানুষগুলো চর অঞ্চলে বসবাস করে। প্রতিবার ভোটের সময় প্রার্থীরা তাদের কেবলই আশ্বাসের বাণী শোনান। বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থীরা নিজের জমি হবে, রাস্তা হবে, স্কুল হবে- এমন সব প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ঝরালেও কথা রাখেননি কেউই। ফলে এ চর অঞ্চলের মানুষ নিরক্ষতার পাশাপাশি অস্বাস্থ্য ও অপুষ্টিতে ভুগছে। সরেজমিন দেখা গেছে, নারিশা ইউনিয়নের মেঘুলা, নারিশা জোয়ার, পশ্চিমচর, রানিপুর, সুতারপাড়া ইউনিয়নের মধুরচর, কাজিরচর, বিলাশপুর ইউনিয়নের বিলাশপুর, মাঝিরচর, নয়াবাড়ি ইউনিয়নের ৭-৮টি গ্রাম ও মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৩-৪টি গ্রাম এর মধ্যে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। এসব গ্রামের বাসিন্দারা চরে আশ্রয় নিয়েছে। মধুরচর নিবাসী অলি আহম্মেদ বলেন, ‘পদ্মার ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ যারা নেবেন, জনরায় তাদের পক্ষেই যাবে।’

নবাবগঞ্জে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা

নিউজ৩৯ নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি. বুধবার সন্ধ্যায় দোহারে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের মিছিলে বিএনপির হামলার অভিযোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে নবাবগঞ্জে ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলা সদর কেন্দ্রীয় শহীদ চত্বর থেকে বের হয়। পরে কায়কোবাদ চত্তর ঘুরে উপজেলা ফটক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে ফিরে এসে প্রতিবাদ সভা করেন।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রানা বলেন, দোহারে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকর্মীদের উপর বিএনপির হামলা ও দুইটি মটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বিএনপি- জামায়াত জোট নির্বাচন বানচাল করতে এ হামলা করেছে। ৩০ ডিসেম্বর ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে এ হামলার জবাব দেয়া হবে।

সভায় বক্তব্য রাখেন- আওয়ামীলীগের জাতীয়  কমিটির সদস্য আব্দুল বাতেন মিয়া, কেন্দ্রীয় তাঁতীলীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. শওকত আলী, সাধারণ সম্পাদক খগেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিন জালাল প্রমূখ। নবাবগঞ্জ উপজেলা তাঁতীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিবের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় তাঁতী লীগের সহ-সভাপতি কে এম শহীদুল্লাহ দুলাল, ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান ভুইয়া কিসমত, উপ-প্রচার সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মোক্তার হোসেন বাদল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউর রহমান রেজা, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ওয়াহিদুজ্জামান রনি, ঢাকা জেলা পরিষদের সদস্য এসএম সাইফুল ইসলাম, কলাকোপা ইউনিনের চেয়ারম্যান আলহাজ ইব্রাহীম খলিল, বক্সনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ, আওয়ামীলীগ নেতা- শাহীন খান, প্রবীর সাহা, ঢাকা জেলা দক্ষিণ তাঁতী লীগের সভাপতি রমজান মল্লিক, সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান পলাশ, ছাত্রলীগ নেতা- আতিকুর রহমান বাবু, শোভন সিকদার, সাইফুল বারী শান্ত, নাহিদুল আলম নাদিম প্রমুখ

দোহারে বিএনপি’র ১৬৩ নেতা-কর্মীর নামে মামলা: আটক ১৮

বুধবার বিকালে বিএনপির মিছিল শেষে মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার অভিযোগে পৃথকভাবে দুটি মামলা দায়ের করেন বিলাসপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রাশেদ চোকদার ও পৌরসভা ৫নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ওয়াসিম চোকদার। তারা বাদী হয়ে বিএনপির ১৬৩ নেতাকর্মীর নামে পৃথক দুটি মামলা করেছেন। ঐ মামলায় আটক ১৮জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে বাকিদের নাম জানা যায়নি।

বুধবার বিকালে বিএনপির মিছিল শেষে মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার অভিযোগে পৃথকভাবে মামলা দুটি দায়ের করেন বিলাসপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রাশেদ চোকদার ও পৌরসভা ৫নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ওয়াসিম চোকদার।

দোহার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইয়াসিন মুন্সী সাংবাদিকদের বলেন, ওই মামলায় বিএনপির ১৮ জন নেতাকর্মীকে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দোহার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মেছেরও রয়েছেন। এদিকে, গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের স্বজনদের ভিড় সামলাতে দোহার থানার প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়া হয়।

বিলাসপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রাশেদ চোকদার দাবি করেন, যে মোটরসাইকেল দুটি পুড়ানো হয়েছে এর মধ্যে একটি তার নিজের, অপরটি যুবলীগের ওয়াসিম চোকদারের

শেখ হাসিনার উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ – সালমান রহমান

বুধবার সকাল ১০টায় দোহার উপজেলার নয়াবাড়ী ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও ঢাকা জেলা ছাত্রলীগ(দক্ষিণ) এর সাংগাঠনিক সম্পাদক অনুপম গুহ নয়নের উদ্যোগে স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতির বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে বাংলাদেশ। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে। শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই দেশের সার্বিক উন্নয়ন হয়। সালমান এফ রহমান বলেন, আসছে নির্বাচনে নৌকার কোনো বিকল্প নেই।দোহার-নবাবগঞ্জকে উন্নয়নের রোল মডেল বানাতে নৌকা মার্কাকে জয়ী করতে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ উন্নয়ন বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পাল্টে দিচ্ছে। তিনি তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি একজন  সফল নেত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে উন্নয়নের ঢল নেমেছে, এসব উন্নয়নের কথা ভোটারদের জানিয়ে দিতে হবে। এ উন্নয়ন যেন বন্ধ না হয়ে যায়, সে জন্য যেমন করেই হোক শেখ হাসিনাকে ফের ক্ষমতায় আনতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নয়াবাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শামীম হান্নান সহ স্থানীয় নেতা-কর্মি।

দোহারে বিএনপি’র হামলায় আওয়ামীলীগের ৪ কর্মি আহতের অভিযোগ

দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ অভিযোগ করেছে, দোহারে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারনা শেষে আ’লীগের কর্মিদের উপর হামলায় বিএনপির কর্মিরা আওয়ামীলীগের ৪ জন কর্মিকে পিটিয়ে আহত করলে পুলিশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। এদের মধ্যে রয়েছে দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহমান শান্ত। এরা সবাই সালমান এফ রহমানের নির্বাচনী গণ-সংযোগে ছিলো বলে দাবী করেছে দলটি।

দোহার থানার ওসি মো.সাজ্জাদ হোসেন জানান,বুধবার বিকালে উপজেলার করমআলী মোড় এলাকায় ঢাকা-১ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক তার গাড়ি বহরনিয়ে পালামগঞ্জ – করম আলীর মোড় হয়ে জয়পাড়া জিরো পয়েন্টে এসে নির্বাচন প্রচারনা শেষ করেন।পরে বিএনপির প্রার্থী আশফাক ও তার গাড়ী বহরের লোকজন আ,লীগের কর্মিদের উপর হামলা চালালে পুলিশ খন্দকার আবু আশফাককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।সংবাদ পেয়ে বিএনপির কর্মিরা উপজেলার করমআলী মোড়ে দুটি মটর সাইকেলে অগ্নি-সংযোগ করেন এবং বেশ কয়েকটি দোকান ভাংচুর করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় দোহার থানা পুলিশ ৮জন বিএনপির কর্মি আটক করেছে।

এদিকে, এ ঘটনার পরপর বুধবার সন্ধার দিকে নৌকার প্রার্থী সালমান এফ রহমানের পক্ষে মিছিল বের করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা দাবি করেন, লটাখোলা করম আলী মোড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা নৌকার প্রার্থীর পক্ষে থাকা দুটি মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এই ব্যাপারে ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সভাপতি গিয়াস উদ্দিন সোহাগ নিউজ৩৯কে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন।তখন এই বিএনপি’র সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে আমাদেরকে রক্তাক্ত করেছে। আশা করছি, প্রশাসন এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে। অন্যথায় আমরা উপযুক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলে এর জবাব দিবো।

দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা আমাদের দুই কর্মীর মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মিরা অভিযোগ করে বলেন, শান্তিপূর্নভাবে পালামগঞ্জ থেকে করম আলীর মোড় হয়ে জয়পাড়া জিরো পয়েন্টে নির্বাচনী প্রচারনা চলছিল।এ সময়ে রতন স্বাধিনতা চত্তরে নির্বাচনী প্রচারনার মিছিলটি আসলে পুলিশ পথরোধ করেন।আমাদের প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাককে গাড়ীবহর থেকে নামিয়ে থানায় নিতে চাইলে কথা কাটাকাটি হয়।এক পর্যায়ে প্রার্থীসহ আরোও ৮জনকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।এ ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গোটা উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ঢাকা-১: বিএনপি প্রার্থী আশফাক আটকের পর মুক্ত

ঢাকার দোহারে নির্বাচনী প্রচার মিছিল থেকে বিএনপির প্রার্থী খোন্দকার আবু আশফাককে আটকের কয়েক ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। বুধবার বিকালে আশফাককে আটকের পর রাত ৯টার দিকে ছেড়ে দেয়া হয়।ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দোহার থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন। তিনি জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে আবু আশফাককে থানায় আনা হয়েছিল। পরে তাকে রাত ৯টার দিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। নাশকতায় জড়িত কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

এদিন বিকালে দোহারের লটাখোলা করম আলী মোড়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

পুলিশ জানায়, নির্বাচনী মিছিলে অংশ নেয়া নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা উল্টো হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে চাইলে তারা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুঁড়ে হামলা চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

একপর্যায়ে লটাখোলা করম আলীর মোড় থেকে পুলিশ বিএনপির প্রার্থী খোন্দকার আবু আশফাককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় দোহার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মেছেরসহ আরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ।

বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, অন্তত ৩০/৩৫ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ‘নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় বিএনপির কর্মীরা আমাদের দুই কর্মীর মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে’।

দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়েছে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিএনপির প্রার্থী আবু আশফাককে থানায় আনা হয়।

প্রসঙ্গত, আবু আশফাকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে বেশ কয়েকটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।

সূত্রঃ যুগান্তর; https://www.jugantor.com/eleventh-parliament-election/121409/%E0%A6%A2%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A7%A7-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%8F%E0%A6%A8%E0%A6%AA%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%80-%E0%A6%86%E0%A6%B6%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%95-%E0%A6%86%E0%A6%9F%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4

‘নিরাপত্তা দিতে’ ঢাকা-১ বিএনপির প্রার্থী আশফাককে থানায় নিল পুলিশঃ আটক ৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বুধবার বিকাল ৪টায় নির্বাচন প্রচারনায় নেমেছেন দোহার-নবাবগঞ্জ ঢাকা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক । এসময় বিএনপি প্রাথী খন্দকার আবু আশফাক তার গাড়ি বহরটি পালামগঞ্জ থেকে বাঁশতলা – করম আলীর মোড় হয়ে জয়পাড়া জিরো পয়েন্টে এসে নির্বাচন প্রচারনা চালান । এসময় আওয়ামীলীগের সমর্পুথকদের সাথে সংঘর্ষের আশংকায় পুলিশি বাধার মুখে পড়েনসংগঠনটি। বিএনপির প্রার্থী খোন্দকার আবু আশফাকের মিছিলে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এসময় প্রার্থী আবু আশফাকসহ অন্তত ৮ জন নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। আহত হয় অন্তত ২৫ নেতাকর্মী। বুধবার বিকেলে দোহারের লটাখোলা করম আলী মোড় থেকে ধানের শীষের প্রতীকের মিছিল বের হলে এ ঘটনা ঘটে। মিছিলে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

নির্বাচনী মিছিল শেষে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় কেউ রুখতে পারবেনা। পুলিশ এখানো হুমকি-ধামকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে নেতাকর্মীদের। পুলিশের এ ধরণের আচরণ সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়। মানুষ এখন পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে। যে কারণে ঢাকা-১ আসনে ধানের শীষের জোয়ার উঠেছে। এসময় পুলিশ হঠাৎ করে নেতাকর্মীদের উপর লাঠিচার্জ করে বলে স্থানীয় নেতা-কর্মিরা অভিযোগ করে।

এসময় পুলিশের উদ্দেশ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে লটাখোলা করম আলীর মোড় থেকে পুলিশ বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাককে আটক করে থানায় যায়। এছাড়া দোহার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মেছের সহ অন্তত ৮ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। তবে বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, অন্তত ১৯/২০  জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, বিএনপির প্রার্থী আবু আশফাককে আটক করা হয়নি।‘ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ঝামেলা হওয়ার আশঙ্কা ছিল বলে প্রার্থীর নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে থানায় নেওয়া হয়েছে।’ তাকে নিরাপদে রাখার জন্য এবং সংঘর্ষে আহত হওয়া থেকে রক্ষার জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে, ছেড়ে দেয়া হবে। তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়েছে। এছাড়া বিপরীত দিক থেকে আসা আওয়ামীলিগের নেতা-কর্মিদেরকে তারা উস্কানি দেয় এবং সেখানে আওয়ামীলীগের ২ কর্মির মোটরবাইক বিএনপি নেতা-কর্মিরা পুড়িয়ে দেয়।

এ বিষয়ে আবু আশফাকের সাথে সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে, কথা বলতে দেয়নি পুলিশ।

নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার কালাম বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে এবং অন্যায়ভাবে আমাদের নেতাকে তুলে নিয়েছে।আর আমরা কোন উস্কানি দেইনি।’

দোহার উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেন, ‘সরকার দলীয় প্রার্থী দিন–রাত প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু তাদের কোন ধরনের বাধা দেওয়া হচ্ছে না। আর আমরা মাঠেই নামতে পারছি না।’ তিনি দাবি করেন, পুলিশ বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানি করছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

0

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার দুপুর ২টার দিকে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তিনি বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সড়ক পথে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া যান। সকাল ৮টায় তিনি গণভবন থেকে রওনা হয়ে মুন্সীগঞ্জ হয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া যান।

দুপুর ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন। এরপর তিনি টুঙ্গিপাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিকেল ৪টার দিকে তিনি কোটালীপাড়ায় নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়েছেন। এই জনসভার মাধ্যমেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করছেন শেখ হাসিনা।

তিনি আগামীকাল বৃহস্পতিবার সড়ক পথে ঢাকা ফেরার পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গা মোড়, ফরিদপুর মোড়, রাজবাড়ি রাস্তার মোড় (রাজবাড়ি জেলা), পাটুরিয়া ঘাট (আরোয়া ইউনিয়ন), মানিকগঞ্জ পৌরসভার বাসট্যান্ড, ধামরাই রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ও সাভারের জালেশ্বর মৌজার ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় নির্বাচনী পথসভায় অংশগ্রহণ করবেন।