দোহারের পদ্মায় ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণে পাউবোর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সমঝোতা

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মাঝির চর থেকে মুকসেদপুর পর্যন্ত পদ্মার ড্রেজিং ও বাম তীর সংরক্ষণে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘পদ্মা নদী ড্রেজিং ও বাম তীর সংরক্ষণ’ শীর্ষক এই প্রকল্প বাস্তবায়নে এই সমঝোতা হয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রকল্প এলাকার নদীভাঙন রোধ, নদীর গতিপথ পরিবর্তন প্রতিরোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষা ও ২ হাজার ৫০০ হেক্টর ভূমি পুনরুদ্ধার করা যাবে। পাশাপাশি প্রকল্প এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা বিধান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর ২০১৮ থেকে ৩০ জুন ২০২২ মেয়াদে ১৪৮৩২৫.৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িতব্য প্রকল্পটি ৭ আগস্ট ২০১৮ তারিখে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়োর, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মাহমুদুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মোহাম্মদ ইউসুফ, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. মাহফুজুর রহমানসহ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে মেজর জেনারেল ইবনে ফজল সায়েখুজ্জামান, ই-ইন-সি ও লে. কর্নেল মো. সাদেক মাহমুদ, অধিনায়ক ২৫ ইসিবি উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা-দোহার সড়কে নিন্মমানের কাজ করার প্রতিবাদে শ্রীনগরে মানববন্ধন

 ঢাকা-দোহার সড়কের শ্রীনগর মূল অংশে বর্ধিত করণে ন্যাশনাল ডেভলাপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং (NDE) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিন্মমানের কাজ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। রবিবার সকালে উপজেলার ভাগ্যকুলের মধ্য কামাগাঁও এলাকায় ওই সড়কটিতে স্থানীয় লোকজন ও ছাত্র-ছাত্রীরা এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, ঢাকা-শ্রীনগর-দোহার সড়ক উন্নয়নে কাজ চলছে। রাস্তার পাশে যেখানে সেখানে বালু ফেলে রাখায় ধুলোবালি বাতাসে উড়ে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সমস্যার সৃষ্টি করছে। এ কারণে এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে চলাচলরত শিক্ষার্থীরা শ্বাষকষ্টে ভোগছে।

ঢাকা-দোহার সড়ক

স্থানীয় আ’লীগের সাবেক নেতা ও আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী শহিদুল ইসলাম একুল খান বলেন, সড়কে নিন্মমানের কাজ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করার উদ্যোগ নিয়েছি। রাস্তায় অগোছালভাবে যেখানে সেখানে নির্মাণ উপকরণ ফেলে রাখায় লোকজনের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ধুলোবালুর মানুষ শ্বাষকষ্টে ভোগছে। তিনি আরো জানান, রাস্তার কাজে নিয়োজিত ন্যাশনাল ডেভলাপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং (NDE) নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সিডিউল অনুযায়ী কাজ করার লক্ষে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

প্রতিদিনের হাদিস: ঈমান

0

হাদিস নং ১৭: হাজ্জাজ ইবনু শায়ির ও কাসিম ইবনু যাকারিয়া (রহঃ) … জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নূ’মান ইবনু কাওকাল (রাঃ) বলেছেন, হে আল্লাহর রাসুল! বাকি অংশ উপরোক্ত বর্ণনার অনুরূপ। তবে তিনি তাঁর বর্ণনায় وَلَمْ أَزِدْ عَلَى ذَلِكَ شَيْئًا (এবং এর উপর কিছু বৃদ্ধি না করি) কথাটি অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

হাদিস নং ১৮: সালামা ইবনু শাবীব (রহঃ) … জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছন যে, কোন এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে আরয করলেন, আমাকে অবহিত করুন, যদি আমি ফরয সালাত (নামায/নামাজ)সমূহ আদায় করি, রামাযানের রোযা পালন করি, হালালকে হালাল জানি এবং হারামকে হারাম জানি; যদি এর অতিরিক্ত কিছু না করি, তাহলে আমি কি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব? রাসুল বললেন, হ্যাঁ। সে ব্যাক্তি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি এর উপর কিছুমাত্র বাড়াব না।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

হাদিস নং ১৯: মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নু’মায়র আল হামদানী (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসলামের বুনিয়াদ পাঁচটি বিষয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করা, সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করা, যাকাত দেয়া, রামাযানের রোযা পালন করা এবং হাজ্জ (হজ্জ) করা। এক ব্যাক্তি (এ ক্রম পরিবর্তন করে) বলল, হাজ্জ করা ও রামাযানের রোযা পালন করা। রাবী বললেন, না রামাযানের রোযা পালন করা ও হাজ্জ করা এভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ)

হাদিস নং ২০: সাহল ইবনু উসমান আল আসকারী (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পাঁচটি জিনিসের উপর ইসলামের বুনিয়াদ রচিত। আল্লাহর ইবাদত করা এবং তাঁকে ছাড়া অন্যকে অস্বীকার করা, সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করা, যাকাত দেওয়া, বায়তুল্লাহ হাজ্জ (হজ্জ) করা ও রামাযানের রোযা পালন করা।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম

অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈমান

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যমুনা সেতুর রক্ষণাবেক্ষণে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে নাজমুল হুদাকে তলব দুদকের

যমুনা সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মার্গানেট ওয়ান লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার দুদকের সহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক নোটিশের মাধ্যমে তাকে তলব করা হয়। নোটিশে তাকে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

রোববার বিকালে দুদকের বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে নাজমুল হুদার ধানমণ্ডির ৫ নম্বর রোডের ৩১ নম্বর বাড়ির ঠিকানায় এ নোটিশ পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মার্গানেট ওয়ান লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকের কাছ থেকে ২০০৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে চেকের মাধ্যমে ৬ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। ২০০৮ সালের ১৮ জুন রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ বেলাল হোসেন।

ওই মামলার তদন্ত শেষ করতে নাজমুল হুদাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক। কমিশনের ১৯ ও ২০ ধারা এবং কমিশনের বিধিমালার ২০ বিধিসহ ফৌজধারি কার্যবিধি ১৬০ ধারায় নাজমুল হুদার জবানবন্দি গ্রহণ করবে দুদক।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এ মামলায় ২০০৮ সালের ২২ জুলাই পাঁচজন সাক্ষী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তারা হলেন- সৈয়দ আমেদ ফারুক, রুস্তম আলী হাওলাদার, এসএম আবদুল মান্নান, মো. আনোয়ারুল হক ও মো. মোবারক হোসেন।

প্রতিদিনের হাদিস: ঈমান

0

হাদিস নং ১৫: আবূ বকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক বেদূঈন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে আরয করল, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে এমন একটি আমল বাতলে দিন, যা করলে আমি জান্নাতে যেতে পারব। তিনি বললেন, তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তার সঙ্গে কোন কিছু শরীক করবে না, ফরয সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করবে, নির্ধারিত যাকাত দিবে এবং রামাযানের রোযা পালন করবে। তারপর সে বলল, যার হাতে আমার প্রান তাঁর কসম, আমি এর উপর কখনো কিছু বাড়াব না এবং তা থেকে কমও করব না। লোকটি চলে গেলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কেউ কোন জান্নাতী লোক দেখে খুশি হতে চাইলে একে দেখুক।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

হাদিস নং ১৬: আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) … জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নূমান ইবনু কাওকাল (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে হাযির হলেন। তিনি আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে অবহিত করুন, যদি আমি ফরয সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করি, হারামকে হারাম বলে জানি, হালালকে হালাল জ্ঞান করি, তাহলে আমি কি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম

অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈমান

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নবাবগঞ্জে অবাধে মাটি বিক্রির মহোৎসব

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় অবাধে মাটি বিক্রির মহোৎসব চলছে। বিশেষ করে উপজেলার কৈলাইল, পশ্চিম মেলেং, খালপাড় মাতাপপুর, কাটাখালী, মালিকান্দা, দৌলতপুর, শোল্লার আওনা চক, চক সিংহরা, চক সিংজোর, নয়শ্রী এলাকার শৈল্যা ও কলাকোপা ইউপির সাহেবখালিসহ শিকারীপাড়া, বাহ্রা ইউনিয়নে কয়েকটি জায়গা থেকে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত ভূমি আইন মানা হচ্ছে না। প্রশাসনও নিরব ভূমিকা পালন করছে।

মাটি উত্তোলন হচ্ছে এমন সব এলাকার জনসাধারণের অভিযোগ, সারা বছরই এক শ্রেণির মানুষ অবৈধভাবে মাটি বিক্রির ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে পাশের ফসলি জমির মালিকরা সংকটে পড়ছেন। তাছাড়া, উপজেলায় আবাদি জমির পরিমাণও কমছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, নবাবগঞ্জে মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১৭ হাজার ৫১১ হেক্টর। এর মধ্যে এক ফসলি জমির পরিমাণ হলো ৬ হাজার ৯৯৩ হেক্টর, দুই ফসলি জমি ৮ হাজার ৬২৮ হেক্টর, তিন ফসলি জমি ২ হাজার ১৮১ হেক্টর। এছাড়া তিনের অধিক ফসলি জমির পরিমাণ ২৫ হেক্টর। আর আবাদ যোগ্য পতিত জমি রয়েছে ২৪৫ হেক্টর। কিন্তু এখন প্রতিদিনই গড় ২ থেকে ৩শ’ বিষা কৃষি জমির মাটি কাটা চলছে। তবে মাটি কাটার ক্ষেত্রে পুকুর খনন ও মাছ চাষের কথা বলা হচ্ছে।

এলাকাবাসীরা জানান, মাছ চাষ করার কথা বলা হলেও পুকুর খনন করে শত শত বিঘা আবাদি জমির মাটি ভেকু দিয়ে কেটে বিভিন্ন ইটভাটা ও স্থাপনা নির্মাণকারীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। আর কাটা মাটি বহন করার ফলে অধিকাংশ গ্রামীণ কাঁচা ও পাকা রাস্তা বেহাল হয়ে পড়েছে।

সিংজোর গ্রামের অটোরিকশা (সিএনজি) চালক সালাম মোল্লা জানান, রাস্তাঘাট যতই ঠিক করা হোক না কেন কোনো লাভ নেই। কারণ মাটি বিক্রি বন্ধ না হলে এসব সড়কে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ হবে না। মাটি টানা যানবাহনের কারণে পাকা সড়কের পিচ দ্রুত উঠে যাচ্ছে। সড়কের নানা জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। আর কাঁচা সড়কও ভেঙে বড় বড় গর্ত হচ্ছে।

রায়পুর গ্রামের খলিলুর রহমান, কাটাখালী গ্রামের কিতাব মিয়া জানান, মাটি বিক্রির ব্যবসা চালাতে গিয়ে একটি সিন্ডিকেট খুবই তৎপর। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করে তাদের ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। আর এই সিন্ডিকেট চক্রটি যখন যে দল ক্ষমতায় আসে সেই দলের নেতাকর্মী পরিচয় দিয়ে থাকে।

উপজেলার রাজপাড়া এলাকার বাসিন্দা কালাম মিয়া জানান, আমাদের পাশে সাহেবখালী দোহার উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর এলাকায় অবস্থিত সাহেবখালীর জে.বি.সি, জেপিবি, ইটভাটার কারণে সড়ক ও কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ভেকু দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে মাহেন্দ্র গাড়ি দিয়ে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে নেওয়ার কারণে সড়কগুলো যাতায়াতের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে তারা স্থানীয় প্রশাসনের নিরবতাকে দায়ী করেন।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার শিকারীপাড়া এলাকার ডিএনবি ও চুনাকাটিবিল এলাকায় অবস্থিত জেবিসি, সাহেবখালীর জে.বি.সি, জেপিবি, মাঝিরকান্দা এলাকায় ডি.এন.বি ও শোল্লা পালিঝাপের এস.এসবি ব্রিকস্(এ.এ.বি) কৈলাইল ইউনিয়নে জে.বিসি(এনডিএস)ব্রিকস, এনবিএস, কে.এইচ.বি ,জে.বি.সি(এনডিএস) নামের ব্রিকফিল্ড মালিকরা শত শত বিঘা কৃষি জমির মাটি উত্তোলন করে কৃষি অধ্যুষিত এই অঞ্চলের ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলছে।

উপজেলা কৃষক সমিতির নেতা মো বাবুল মিয়া জানান, কৈলাইল, সাহেবখালী, শিকারীপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটা সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকরা জমি হারানোর দুশ্চিন্তায় এখন দিন পার করছেন। এসব আবাদযোগ্য কৃষি জমি বিভিন্ন কৌশলে খরিদ করে বছরের পর বছর মাটি বিক্রির ব্যবসা চালাচ্ছেন। বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী মহল এ ঘটনায় জড়িত। স্থানীয় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এ বিষয়ে বহুবার অভিযোগ করলেও কোনো ফলাফল পাননি। বরং অভিযোগকারীদের সব সময় হামলা, মামলার শঙ্কায় থাকতে হয়।

নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনজুর হোসেনের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শরীফ রায়হান কবির মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেনকে জানানো হবে। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা কথাও বলা হবে।

প্রতিদিনের হাদিস: ঈমান

0

হাদিস নং ১২: মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়ের (রহঃ) … আবূ আইয়ুব (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। আবূ আইয়ুব (রাঃ) বলেন, এক সফরে জনৈক বেদুঈন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে এসে দাড়াল। সে তাঁর আরয করল, হে আল্লাহর রাসুল! অথবা বলেছিল, হে মুহাম্মাদ! আমাকে এমন কিছু বলেদিন যা আমাকে জান্নাতের কাছে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। রাবী বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থামলেন এবং সাহাবীদের দিকে তাকালেন। পরে তিনি বললেন, তাকে তাওফীক দেওয়া হয়েছে অথবা বললেন, তাঁকে হিদায়াত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কী বললে? রাবী বলেন, সে তার পূনরাবৃত্তি করল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না, সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করবে, যাকাত দিবে এবং আত্নীয়তার সস্পর্ক বজায় রাখবে, (এবারে) উটনী ছেড়ে দাও।

হাদিসের মানঃ  সহিহ

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

হাদিস নং ১৩: মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও আবদুর রহমান বিশর (রহঃ) … আবূ আইয়্যুব (রাঃ) থেকে এবং তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ হাদীসের অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন।

হাদিসের মানঃ  সহিহ

হাদিস নং ১৪: ইয়াহইয়াহ ইবনু ইয়াহইয়াহ আত তামিমী (রহঃ) ও আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … আবূ আইয়্যুব (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে হাযির হল এবং আরয করল, আমাকে এমন একটি কাজের কথা বাতলে দিন, যে কাজ আমাকে জান্নাতের কাছে পৌছে দেবে এবং জাহান্নাম থেকে দুরে রাখবে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করবে না, সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করবে, যাকাত দিবে এবং আত্নীয়তার সস্পর্ক বজায় রাখবো সে ব্যাক্তি চলে গেলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে যে কাজের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা দৃঢ়তার সাথে পালন করলে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর আবূ শায়বার বর্ণনায় إِنْ تَمَسَّكَ بِمَا أُمِرَ এর স্থলে إِنْ تَمَسَّكَ بِهِ রয়েছে।

হাদিসের মানঃ  সহিহ

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম

অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈমান

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নবাবগঞ্জে ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করার জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুরে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন। প্রথম দিন উপজেলার ২৪জন ভিক্ষুকের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সারাদেশের অন্যান্য উপজেলার মতো নবাবগঞ্জকে মুক্ত ঘোষণা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এ কার্যক্রমে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনিতীক, সাংবাদিক ও সুশিল সমাজের সহযোগীতা চাই।

উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক প্রত্যেক ভিক্ষুকের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহের পর ব্যবস্থা গ্রহন করে পূনর্বাসন করা হবে।

সোমবার দুপুরে এ কার্যক্রমে সহযোগীতা করেন, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের উচ্চমান সহকারী জিতেন্ত্র কুমার, সাংবাদিক- বিপ্লব ঘোষ, কাজী সোহেল, শাহিনুর রহমান, ইমরান হোসেন সুজন, নাজমুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা- মেহেদি হাসান রানা, নাহিদুল আলম নাদিম প্রমূখ।

টাকার বিনিময়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার অভিযোগ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের নিয়ে অনিয়মভাবে এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা চৌকিঘাটা জনমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্বাচনী পরীক্ষায় মোট ৭১ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। ম্যানেজিং কমেটি ও শিক্ষকদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক অকৃতকার্য হওয়া কোন শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহনের অনুমতি দেয়া হয় নি। কিন্তু আগলা চৌকিঘাটা জনমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  আ.কা.ম শরীফুল ইসলাম কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অকৃতকার্য হওয়া শাহাদাত, মোরসালিনও মিনহাজ নামের তিন শিক্ষার্থীকে টাকার বিনিময় নবাবগঞ্জের কৈইলাল টেকনিক্যাল উচ্চ বিদ্যালয় হতে পরীক্ষা দিতে সহায়তা করেন। নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া অন্য শিক্ষার্থীরা এ বিষয় টি জানতে পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সাধারন ছাত্রদের দাবী আমরা এর সুষ্ঠ বিচার চাই। এমনকি এ বিষয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে সাগর সহ কয়েকজন অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থী  স্কুলের ম্যানেজিং কমেটির সদস্য মো. জুয়েল হোসেনের উপর আতর্কিত হামলা করেন।

এবিষয়ে মো. জুয়েল হোসেন জানান , সাগর সহ যারা আমার উপর হামলা করে  তাদের আমি অনুরোধ করে বলেছিলাম আমি এ বিষয়টি জানি না, আমরা তদšত করবো এবং যারা এর সাথে জড়িত থাকবে তাদের প্রতি ব্যবস্থা গ্রহন করবো। তবুও তারা আমার উপর হামলা করে।

তিনি আরও বলেন , এ বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে  একটি তদন্ত কমেটি গঠন করি। এ তদন্ত কমেটির মাধ্যমে আমরা জানতে পারি আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক আ.কা.ম শরীফুল ইসলাম তিনি  টাকার বিনিময় তিনজন শিক্ষার্থীকে কৈইলাল টেকনিক্যাল উচ্চ বিদ্যালয় হতে এস এস সি পরীক্ষা  দেয়াচ্ছেন। তার এরকম দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের ম্যানেজিং কমেটি দ্রুত ব্যাবস্থা গ্রহন করবে বলে আমি মনে করছি।

ম্যানেজিং কমেটির আরেকজন সদস্য মো. শাহিন তিনিও সত্যতার কথা স্বীকার করে বলেন, এ দুর্নীতির সাথে আমদের প্রধান শিক্ষক জড়িত । তারই সহযোগিতায় তিনজন অন্য স্কুল থেকে পরীক্ষা দিচ্ছে। আমরা সকলে দ্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।

স্কুল ম্যানেজিং কমেটির একজন মহিলা সদস্য মিস মনিকা ইসলামও প্রধান শিক্ষকের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে কৈইলাল টেকনিক্যাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার খানের বলেন , তারা বোর্ড থেকে অনুমতি এনেছে তাই আমি তাদের পরীক্ষা দিতে দিয়েছি। আপনাদের কিছু জানার থাকলে বোর্ডকে গিয়ে জিঙ্গেস করুন। প্রতিবেদকের সাথে আর কোন কথা না বলেই চলে যান তিনি।

এই একই বক্তব্য দেন আগলা চৌকিঘাটা জনমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক । প্রতিবেদকের আর কোন পশ্নের উত্তর দেননি ।

এ বিষয়ে কৈইলাল স্কুলের ম্যানেজিং কমেটির সদস্য  জনাব ভৌমিক এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এবিষয়ে অবগত নই, এখনই জানতে পারলাম। এ বিষয় আমাদের ম্যানেজিং কমেটির কেউ জানেনা। আমরা বিষয়টি নিয়ে বসবো এবং ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।

আগলা ইউনিয়নের একজন স্থানীয় মো. নিয়ামত জানান , এর আগেও কয়েকবার এই প্রধান শিক্ষরে বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিলো।  আমরা চাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি মুক্ত হোক। আমাদের ছেলেমেয়েরা ভালো জায়গা থেকে ভালো শিক্ষা গ্রহন করুক।

নবাবগঞ্জের সাধক বলাই চাঁদ দরবেশের মৃত্যু বার্ষিকী পালন

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার সাধক বলাই চাঁদ দরবেশের ২৭৫তম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় কলাকোপা বাগহাটি গ্রামে ক্ষ্যাপা রানী-বলাই চাঁদের মন্দির প্রাঙ্গনে ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন মন্দির কমিটির সভাপতি বিপদ ভঞ্জন সাহা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ। তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশে ধর্মীয় সম্প্রতি বজায় থাকে। আপনারা যে যেভাবেই ধর্ম পালন করেন। ধর্ম পালনে বিশ^াসীরা নাস্তিক নন। আমি সকল ধর্মকে সম্মান করি।

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব ঘোষের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন- নারী ও শিশু অধিকার কর্মী মাধুরী বণিক, মন্দিরের দরবেশ মরণ চাঁদ, দরবেশ পালন চাঁদ, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক অমল মজুমদার, শিক্ষক সনাতন সাহা, সমাজ কর্মী সুজন মাহমুদ, সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী, গৌর বিশ^াস, নীলচাঁন শীল, রঞ্জিত হালদার প্রমূখ।