শপথ নিলেন নতুন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী

0

দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বঙ্গভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাকে এ নিয়োগ দেন। আজ শপথ গ্রহণের দিন থেকেই তার এ নিয়োগ কার্যকর হবে।

বিদায়ী প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ গতকাল শনিবার অবসরে যান। এদিন তার চাকরির মেয়াদ ৬৭ বছর পূর্ণ হয়।

নতুন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী আইন পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। তিনি ১৯৮৫ সালে জেলা জজ আদালতে এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হন এবং দুই বছর পর স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট তাকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

দোহারে বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন বাল্কহেড শাখার অফিস উদ্বোধন ও কমিটি ঘোষণা

দোহার প্রতিনিধি: ঢাকার দোহারে বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন বাল্কহেড শাখা (পদ্মা আঞ্চলিক কমিটি)-এর অফিস উদ্বোধন ও নতুন কমিটি ঘোষণা উপলক্ষে এক শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে দোহার উপজেলার ধোয়াইর বাজারে আয়োজিত এ শ্রমিক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রনি দেওয়ান এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান টিটু।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোঃ শাহ আলম। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুর আলম।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন বাল্কহেড শাখা কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ বজলুর রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথিসহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের অধিকার, সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং নৌযান শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন বাল্কহেড শাখা (পদ্মা আঞ্চলিক কমিটি)-এর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে রেজিস্ট্রেশন নম্বর বি-১০৬৫ অনুযায়ী সভাপতি বেলায়েত এবং সাধারণ সম্পাদক রনি দেওয়ান নির্বাচিত হন।

নবাবগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

নিউজ৩৯ ডেস্ক | নবাবগঞ্জ (ঢাকা): ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

নবাবগঞ্জ থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো ধরনের তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

দুদকের অনুসন্ধানে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে জ্যোতির বিশাল অবৈধ সম্পদ

0

সোহেল হোসেন, নিউজ৩৯: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও তাঁর ছেলে শাফি মোদ্দাছির খান জ্যোতি-র বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য। তদন্তে দেখা গেছে, তারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের মালিকানা করেছেন।

দুদকের সূত্র অনুযায়ী, জ্যোতিকে পেশিশক্তি ও পুলিশের ভয়ে টেন্ডার নেওয়া, সরকারি প্রকল্প ও বিভিন্ন বরাদ্দে নিয়ন্ত্রক ভূমিকা পালন করার সুযোগ ছিল। তদন্তে জানা গেছে:

🔹 কোম্পানি ও জমির কেলেঙ্কারি:
জ্যোতির নামে মেসার্স তিতাস নামে একটি কোম্পানি বানানো হয়েছিল, যার মাধ্যমে টেকনাফের মিঠাপানি ছড়ায় ৫ একর জমি ও অন্যান্য সম্পদ কেনা হয়েছে।

🔹 নির্বাচনী সরঞ্জামে দুর্নীতি:
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শুধুমাত্র অমোচনীয় কালি কেনায় জ্যোতি ও তার সিন্ডিকেটের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় ও অনিয়মের allegations উঠেছে।

🔹 পাচার ও লেনদেন:
দুদক জানায়, জ্যোতি ও পরিবারের নামে একটি মামলাও করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৮৭ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন ও ২২ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জ্যোতি ও তাঁর সহযোগীরা সরকারের বিভিন্ন বরাদ্দ, পুলিশ ও ঠিকাদারি ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে ঘুষ ও অন্য সুবিধা মোকাবিলা করতেন। দুদক এই ঘটনায় আরও খুঁজতেও বদ্ধপরিকর।

আপনাদের দোয়ায় মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি : তারেক রহমান

0

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রথমেই রাব্বুল আলামিনের প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি। জনগণের দোয়ায় প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কের গণসংবর্ধনা মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার শুরুতে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে আজ আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি। আপনাদের দোয়ায় আজ আমি আপনাদের মাঝে। প্রিয় ভাই-বোনেরা, আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল। ঠিক একইভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর আধিপত্যবাদী হাত থেকে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এ দেশ রক্ষা করা হয়েছিল। একইভাবে পরবর্তী সময়ে সব স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এ দেশের জনগণ, এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষ তাদের গণতন্ত্রের অধিকারকে ছিনিয়ে এনেছিল। কিন্তু তারপরেও ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি ১৯৭১ সালে দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে এ দেশের ছাত্র-জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষ; কৃষক-শ্রমিক, গৃহবধূ, নারী-পুরুষ, মাদ্রাসার ছাত্রসহ দল-মত ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সব মানুষ গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এ দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়, তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ চায় তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবে। প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজ আমাদের সময় এসেছে সবাই মিলে দেশ গড়ার। এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, একইভাবে সমতলের মানুষ আছে। এই দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে।

‘আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেই বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন। অর্থাৎ, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই; যেখানে একজন নারী, একজন পুরুষ বা একজন শিশু— যিনিই হোক না কেন, নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে যেন আবার নিরাপদে ঘরে ফিরে আসতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, চার কোটিরও বেশি তরুণ প্রজন্মের সদস্য, পাঁচ কোটির মতো শিশু এবং ৪০ লক্ষের মতো প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছেন। কয়েক কোটি কৃষক-শ্রমিক রয়েছেন। এই মানুষগুলোর একটি প্রত্যাশা আছে এই রাষ্ট্রের কাছে, একটি আকাঙ্ক্ষা আছে এই দেশের কাছে। আজ আমরা সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ হই, আজ আমরা যদি সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, লক্ষ-কোটি মানুষের সেই প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারব ইনশাআল্লাহ। ১৯৭১ সালে আমাদের শহীদেরা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এমন একটি বাংলাদেশ গঠনের জন্য। বিগত ১৫ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে রাজনৈতিক দলের সদস্য ছাড়াও শত-শত, হাজারো মানুষ গুম ও খুনের শিকার হয়েছে।

এদিন, বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে গণসংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছান তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

স্বেচ্ছায় রক্তদান: নীরব ইবাদত, মানবতার শ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত ও সুস্থ জীবনের পথ

0

মানবদেহে লোহিত রক্তকণিকার গড় আয়ু প্রায় ১২০ দিন। এই সময় শেষে পুরোনো রক্তকণিকা ধ্বংস হয়ে যায় এবং অস্থিমজ্জা থেকে প্রতিনিয়ত নতুন রক্তকণিকা তৈরি হয়। প্রতিদিনই আমাদের শরীরে কোটি কোটি নতুন রক্তকণিকার জন্ম হয়। ফলে একজন সুস্থ মানুষের জন্য রক্তদান সম্পূর্ণ নিরাপদ, কারণ শরীর খুব দ্রুতই সেই ঘাটতি পূরণ করে নিতে সক্ষম।

বর্তমানে শিক্ষিত তরুণসমাজসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসছেন। তাদের এই মহৎ উদ্যোগে অসংখ্য রোগী রক্তশূন্যতা ও রক্তের অভাবজনিত মারাত্মক ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাচ্ছেন। বিনামূল্যে রক্তদানের মাধ্যমে তারা সমাজে মানবতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। নিঃসন্দেহে স্বেচ্ছায় রক্তদান শুধু মানবসেবা নয়; এটি একটি মহৎ ইবাদতও বটে।

একসময় রক্তের অভাবে মুমূর্ষু রোগীরা জীবন বাঁচাতে মোটা অঙ্কের টাকায় রক্ত কিনতে বাধ্য হতেন। কিন্তু আজ সচেতন সমাজ ও মানবিক তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। এই পরিবর্তন সমাজে দয়া, সহানুভূতি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে, যা রোগীর পাশাপাশি পুরো সমাজকেই উপকৃত করছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“মানুষের মধ্যে সে-ই উত্তম, যে মানুষকে উপকার করে।” (বুখারি)

রক্তদান সেই উত্তম কাজেরই বাস্তব উদাহরণ। দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার কিংবা প্রসবজনিত জটিলতায় রক্তের প্রয়োজন হয় সবচেয়ে বেশি। এমন সংকটময় মুহূর্তে একজন রক্তদাতা হয়ে উঠতে পারেন জীবনরক্ষাকারী। অন্যের প্রাণ বাঁচানো আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় কাজ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“যে ব্যক্তি একজন মানুষের জীবন রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করল।” (সুরা আল-মায়িদা : ৩২)

শারীরিক দিক থেকেও রক্তদান উপকারী। নিয়মিত রক্তদানে রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকে, নতুন রক্তকণিকা তৈরি হয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমতে পারে। ইসলাম আমাদের শরীরের যত্ন নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তাই রক্তদান মানবিক, শারীরিক ও আত্মিক—তিন দিক থেকেই কল্যাণকর।

স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদান রোগীর আর্থিক বোঝা কমায় এবং তার কষ্ট লাঘব করে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রক্তদান করেন, তিনি নিঃসন্দেহে মহান প্রতিদানের অধিকারী হন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে—পুরুষ হোক বা নারী—আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং অবশ্যই তাদের উত্তম প্রতিদান দেব।” (সুরা নাহাল : ৯৭)

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দুঃখ-কষ্ট দূর করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার কষ্ট দূর করবেন।” (মুসলিম)

উল্লেখ্য, মানবদেহের প্রকৃত মালিক আল্লাহ। তাই শরীরের কোনো অঙ্গ বা অংশ বিক্রি করা জায়েজ নয়। অর্থের বিনিময়ে রক্ত বিক্রি করাও বৈধ নয়। রক্তদান হতে হবে নিঃস্বার্থভাবে—মানুষের উপকার ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়তে। তাহলেই রক্তদান ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে।

আসুন, আমরা সবাই স্বেচ্ছায় রক্তদানে অভ্যস্ত হই। এই সামান্য ত্যাগের মাধ্যমে আমরা শুধু মানুষের জীবনই রক্ষা করব না; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালের মহাপুরস্কারও অর্জন করতে পারব।

শীতার্ত মানুষের সেবায় আল্লাহর সন্তুষ্টি

0

স্টাফ রিপোর্টার: শীতকাল কেবল ঋতু পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে আসে না; এটি মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময়ও বটে। ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশে বর্তমানে শীত ও গ্রীষ্ম—এই দুই ঋতুই সবচেয়ে বেশি প্রকটভাবে অনুভূত হয়। পবিত্র কোরআনেও শীত ও গ্রীষ্মের সফরের কথা উল্লেখ করে মানুষের জীবনব্যবস্থার সঙ্গে ঋতুর গভীর সম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

শীত মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেড়ে যায় শৈত্যপ্রবাহের প্রকোপ। এই শীত অনেকের জন্য স্বস্তি ও আনন্দের হলেও দরিদ্র, ছিন্নমূল ও বস্ত্রহীন মানুষের জন্য এটি এক নীরব দুর্ভোগে পরিণত হয়। পর্যাপ্ত গরম পোশাক, কম্বল ও আশ্রয়ের অভাবে বৃদ্ধ, শিশু ও অসহায় মানুষ চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। ফুটপাতে খড়কুটা জ্বালিয়ে আগুন পোহানোই অনেকের একমাত্র ভরসা।

চিকিৎসকরা জানান, শীতের তীব্রতায় নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি ও কোল্ড ডায়রিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অথচ দরিদ্র মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে শীত তাদের জন্য শুধু কষ্ট নয়, অনেক সময় জীবনঝুঁকির কারণও হয়ে দাঁড়ায়।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোত্তম ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইসলাম দয়া ও সহানুভূতির শিক্ষা দেয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা অভাবী ও অসহায় মানুষের জন্য ব্যয় করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে নবী করিম (সা.) শীতার্ত ও ক্ষুধার্ত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য উম্মতকে উৎসাহিত করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শীত মোকাবিলায় এটি শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং একটি সামগ্রিক সামাজিক দায়িত্ব। সরকার, সমাজ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিত্তবানদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। শীতবস্ত্র বিতরণ, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং ফুটপাতবাসীর জন্য অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।

সামাজিকভাবে সচেতন নাগরিকরা বলছেন, দান ও সাহায্যের ক্ষেত্রে প্রদর্শন নয়, বরং নিঃস্বার্থ মানসিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি কম্বল বা সামান্য সহায়তাই পারে কোনো অসহায় মানুষের রাতের কষ্ট লাঘব করতে কিংবা একটি শিশুর জীবন রক্ষা করতে।

শীতের এই সময়ে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হতে পারে আমাদের মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের সর্বোত্তম উদাহরণ।

দোহার থানার দুই মামলার দুইজন গ্রেফতার

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার দোহার থানার পৃথক দুইটি মামলার দুইজন আসামীকে গ্রেফতার করেছে দোহার থানা পুলিশ।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর  এক প্রেস রিলিজ এর মধ্যে জানান, আমরা অভিযান পরিচালনা করে দুইজন আসামী গ্রেফতার করেছি। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে প্রথমজন দোহার থানার মামলা নং-০২, তারিখ ২৫/০৮/২০২৪ খ্রিঃ এর  আসামী। মামলাটি পেনাল কোডের ১৯০৮ সনের বিস্ফোরক উপাদানবলি আইনের ৩/৬ ধারায় রুজু করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী কুসুমহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক  শামিম খান (৫৫)। তাঁর পিতা মৃত সিরজন খান।

অপরদিকে দোহার থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩) এর ৮/৯/১০/১২/১৩ ধারার রাইপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন (৫৫) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর পিতা মৃত ছবেদ আলী।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের উপ-সেনাপতি এ কে খন্দকার আর নেই

0

মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ও সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার (বীর উত্তম) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এ কে খন্দকার ১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে (পিএএফ) পাইলট অফিসার পদে কমিশন লাভ করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ফাইটার পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর হিসেবে নিযুক্ত হন।

১৯৫৭ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান এয়ার ফোর্স একাডেমিতে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর স্কুলে ফ্লাইট কমান্ডার হিসেবে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত এবং জেট ফাইটার কনভারশন স্কোয়াড্রনে ফ্লাইট কমান্ডার হিসেবে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬১ সাল পর্যন্ত তিনি পিএএফ একাডেমিতে স্কোয়াড্রন কমান্ডার হিসেবে কাজ করেন। পরে জেট ফাইটার কনভারশন স্কোয়াড্রনে স্কোয়াড্রন কমান্ডার হিসেবে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ট্রেনিং উইংয়ের অফিসার কমান্ডিং হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিদ্রোহী কবির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত শহীদ ওসমান হাদি

0

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা সোয়া ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শরিফ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মী এবং পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো শোকাহত মানুষ জানাজায় শরিক হন।

দুপুর আড়াইটার দিকে জানাজা শেষ হওয়ার পর মরদেহ দাফনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে নেওয়া হয়।

শনিবার সকাল থেকেই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মানুষের ঢল নামে। সকাল ১০টার দিকে মানিক মিয়া এভিনিউতে অপেক্ষমাণ ছাত্র-জনতাকে দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। চীন থেকে আনা আটটি আর্চওয়ে গেট দিয়ে সারিবদ্ধভাবে হাজারো মানুষ প্লাজায় প্রবেশ করেন। দুপুর ২টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ মিছিল নিয়ে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে জড়ো হন।

এর আগে বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শরিফ ওসমান হাদির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘর থেকে মরদেহ মর্গে নেওয়া হয়। এ সময় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মরদেহের সঙ্গে ছিলেন হাদির স্বজন, সহযোদ্ধা ও সহকর্মীরা।

শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।