বাংলাদেশ দখলের আগে ভারতের ৬টি শহর মাটির সাথে মিশিয়ে দেব!: এক অকুতোভয় রাষ্ট্রনায়কের গল্প

প্রকাশ:

শেয়ার করুন:

১৯৭৭ সালের ২০ ডিসেম্বর। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবন তখন এক টানটান উত্তেজনার সাক্ষী। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সেখানে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। মাত্র ৪১ বছর বয়সী এক তেজস্বী রাষ্ট্রনায়ককে বরণ করে নিতে ভারতের তৎকালীন প্রবীণ নেতারা যে নজিরবিহীন প্রটোকল দিয়েছিলেন, তা দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে অনেকেরই সহ্য হচ্ছিল না।

প্রেক্ষাপট: কূটনৈতিক বিজয় ও ভারতের অস্বস্তি

তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ৮১ বছর বয়সী মোরারজী দেশাই এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর উপস্থিতিতে জিয়ার জন্য যে সম্মান প্রদর্শন করা হচ্ছিল, তার পেছনে ছিল জিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। বিশেষ করে ১৯৭৭ সালের নভেম্বরে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিতে বাংলাদেশ যে অভাবনীয় কূটনৈতিক জয় পেয়েছিল, তা ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের এক বড় অংশের কাছে ছিল পরাজয়ের মতো।

জগজীবন রাম বনাম জিয়াউর রহমান: সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত

ভারতের দীর্ঘকালীন ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ৭০ বছর বয়সী জগজীবন রাম ছিলেন দাপুটে নেতা। তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়ার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসে হঠাৎ সব শিষ্টাচার ও প্রটোকল ভেঙে ঔদ্ধত্যের সাথে প্রশ্ন করেন:

“Did you ever compare the population and military power of Bangladesh and India?” (আপনি কি কখনো বাংলাদেশ ও ভারতের জনসংখ্যা ও সামরিক শক্তির তুলনা করেছেন?)

প্রেসিডেন্ট জিয়া ধীরস্থির কণ্ঠে উত্তর দিলেন, “Yes, I do!”

জগজীবন রাম তাচ্ছিল্যের সুরে আবার জিজ্ঞেস করলেন,

“Then have you calculated how much time is needed by India to grab your whole country?” (তাহলে বাংলাদেশ দখল করতে ভারতের কত সময় লাগবে সেটা কি হিসাব করে দেখেছেন?)

জিয়ার সেই অকুতোভয় জবাব:

এই অবমাননাকর প্রশ্নের মুখেও বিচলিত হননি রণক্ষেত্রের সেই বীর। সানগ্লাসের ফাঁক দিয়ে তীর্যক দৃষ্টিতে তাকিয়ে মাথা উঁচু করে জিয়া উত্তর দিলেন:

“But you must be careful, because before seizure our boys will destroy 6 main cities of India into ruins. And also don’t forget we defeated India in 1965!” > (সাবধান থাকবেন, কারণ বাংলাদেশ দখল করার আগেই আমাদের ছেলেরা আপনাদের ৬টি বড় শহর মাটির সাথে গুঁড়িয়ে দেবে। আর ভুলে যাবেন না, ১৯৬৫ সালে আমরা ভারতকে পরাজিত করেছি!)

অপমানে লাল হয়ে জগজীবন রাম সোফা ছেড়ে উঠে চলে যেতে ধরলে জিয়া পেছন থেকে বজ্রকণ্ঠে যোগ করেন, “Won’t you ask which six cities we’d destroy?” (কোন ৬টি শহর আমরা ধ্বংস করব, সেটা জানতে চাইলেন না?)

কূটনৈতিক মহলে তোলপাড়:

এই ঘটনায় উপস্থিত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক শামসুল হক, উপদেষ্টা বি.এম. আব্বাস এবং পররাষ্ট্র সচিব তবারক হোসেন স্তব্ধ হয়ে যান। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী মোরারজী দেশাই ও অটল বিহারী বাজপেয়ী ছুটে আসেন। অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে জিয়া তাঁদের বলেন, “তেমন কিছু হয়নি, মিস্টার রাম আমার সাথে একটু ফান (কৌতুক) করেছেন, আমিও পাল্টা ফান করলাম— এই যা!”

কেন শহীদ জিয়া আজও প্রাসঙ্গিক?

১. জাতীয়তাবাদ: তিনি আমাদের শিখিয়েছেন মাথা নত না করার রাজনীতি।

২. দূরদর্শী প্রতিরক্ষা: জিয়ার এই দৃঢ় অবস্থান ভারতকে বুঝিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ কোনো ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ নয়।

৩. আধুনিকায়ন: তাঁর আমলেই সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার ভিত্তি স্থাপিত হয়।

আজ ১৯ জানুয়ারি, মহান এই নেতার ৯০তম জন্মবার্ষিকী। যাকে নিয়ে প্রতিটি বাংলাদেশী গর্ব করতে পারে। তিনি ছিলেন একজন যোগ্য, সৎ এবং অকুতোভয় দেশপ্রেমিক।

শুভ জন্মদিন, প্রিয় নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন।

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ সংবাদ

এই রকম আরও

প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, ৪৯ জেলায় তাপপ্রবাহ

মধ্য মে থেকে টানা তাপপ্রবাহ বইছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এর দাপট বেড়েই চলেছে। গতকাল বুধবার ৪৯টি জেলা ছিল...

ঈদুল আজহার ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১ জন

২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত, ঈদুল আজহার আগে ও পরে ১৩ দিনে দেশে ২৯২ টি সড়ক দুর্ঘটনায়...

ডেঙ্গু পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় ও চিকিৎসকের ফি মওকুফের নির্দেশ

ডেঙ্গু চিকিৎসা ব্যয় কমাতে বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ সিট ফাঁকা রাখা এবং টেস্টে ৮০ শতাংশ...

চালু হচ্ছে প্রবাসী কার্ড, মিলবে বিএমইটি’র সেবাও

প্রবাসীদের জন্য একক ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কার্ড চালু হলে আলাদা...