নবাবগঞ্জের যন্ত্রাইলে পাঁচ ডাকাতকে গণপিটুনি

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের পূর্বাপাড়া গ্রামে ধারালো অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে নবাবগঞ্জ থানায় সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।বুধবার দুপুর ১টায় নবাবগঞ্জ থানা সম্মেলন কক্ষে সংবাদকর্মীদের এ তথ্য অবহিত করে।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শেখ সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, গত সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল পূর্বপাড়া এলাকার একটি রিকশার গ্যারেজে ডাকাতদের অবস্থান জানতে পারে জনতা। এ সময় স্থানীয় জনতা একত্রিত হয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ঐ পাঁচ সদস্যকে আটক করে গণপিটুনি দেন। এসময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সকালে তাদের পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত ডাকাতদের নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আটক ডাকাত দলের সদস্যরা হলেন- বগুড়া জেলার শেরপুর এলাকার নুর আহমেদ, ফরিদপুর জেলা সদর এলাকার শেখ বাবু, একই জেলার রমজান, নওগা জেলার আব্দুল মালেক ও পাবনা জেলার ফরহাদ।

ওসি সিরাজুল ইসলাম আরও জানান, চিকিৎসা দিয়ে বুধবার দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বাদী-বিবাদী মারা যাওয়ার পরেও শেষ হয় না দেওয়ানি মামলা

১৯৬৪ সালে নিবারণ প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তি ঢাকার নিম্ন আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা করেন। ১৯৯৩ সালে তিনি মারা যান। মামলায় বাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত হন তার ছেলে লক্ষ্মণ প্রামাণিক ও পরেশ প্রামাণিক। গত সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাদীর ছেলে লক্ষ্মণ প্রামাণিক মারা যান। এর চার/পাঁচ বছর আগে মারা যান মামলার বিবাদী আব্দুল জলিল। কিন্তু এখনো শেষ হয়নি ওই মামলাটি। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন। বাদী পক্ষের আইনজীবী এড. চঞ্চল কুমার বিশ্বাস বলেন, এই মামলার বাদী নিবারণ প্রামাণিক মারা গেছেন।

এরপর তার দুই ছেলে লক্ষ্মণ ও পরেশ এই মামলায় পক্ষভুক্ত হন। কিন্তু ৯২ বছর বয়সী লক্ষ্মণ সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে মারা গেছেন বলে স্বজনেরা জানান। আদালতের নির্দেশে লক্ষ্মণ প্রামাণিকের ওয়ারিশগণকে পক্ষভুক্ত করতে রোববার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এফিডেভিট করে জমা দেয়া হয়েছে। গতকাল পক্ষভুক্তির শুনানি শেষে মৃতের ওয়ারিশগণকে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। আশা করি খুব শিগগিরই রায়ের তারিখ নির্ধারিত হবে। তবে হাইকোর্টের এই রায়ই চূড়ান্ত নয়। দু’পক্ষের যেকোনো পক্ষই আপিলে যেতে পারবেন। আপিলে গেলে সেখানে চলে যাবে প্রায় দুই থেকে তিন বছর।

নথি থেকে জানা যায়, নিবারণ প্রামাণিক পেশায় কৃষক। ১৯৫০ সালে ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে চলে যান যশোরে। যাওয়ার সময় নিজের ভাগ্নে গৌর চন্দ্র মণ্ডলকে ১০ একরের বেশি সম্পত্তি দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে যান। দুই বছর পর ফিরে এসে সম্পত্তি আর ফেরত পাননি। পরে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। ১৯৬৪ সালে নিম্ন আদালতে দায়ের করা হয় মোকদ্দমা। পাকিস্তান আমলে করা ওই মামলায় ১৯৮৩ সালে নিম্ন আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন। যাতে মামলার বিবাদী (নিবারণের ভাগ্নে গৌর চন্দ্র মণ্ডল) জমি বিক্রি করতে না পারেন। তবে ১৯৯১ সালে ভাগ্নে বিনিময় দলিলের মাধ্যমে ৯৮ শতাংশ জমি আবদুল জলিল নামের এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করেন। এর দুই বছর পর ১৯৯৩ সালে মারা যান নিবারণ। মামলায় বাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত হন নিবারণের ছেলে লক্ষ্মণ প্রামাণিক ও পরেশ প্রামাণিক। মামলার শুনানি শেষে ১৯৯৯ সালের ৩১শে জানুয়ারি তৎকালীন সাবজজ আদালত নিবারণের পক্ষে রায় দেন। কিন্তু নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে নিজের কেনা ৯৮ শতাংশ সম্পত্তি ফিরে পেতে জজ আদালতে আপিল করেন আব্দুল জলিল। আপিল আংশিক মঞ্জুর করে ২০০০ সালের ২৭শে এপ্রিল রায় দেন আদালত। রায়ে আদালত বলেন, ৪৯ শতাংশ সম্পত্তির স্বত্ব ভাগ্নে গৌর চন্দ্র মণ্ডলের। এই ৪৯ শতাংশ তিনি বিনিময় করতে পারেন। নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে দুই পক্ষই ২০০০ সালে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। ২০১৪ সালের ৩রা জুন হাইকোর্ট রুল খারিজ করে রায় দেন। অর্থাৎ জজ আদালতের দেয়া সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। এর বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে আপিল বিভাগে আবেদন করেন লক্ষ্মণ প্রামাণিক ও তার ভাই পরেশ প্রামাণিক। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ২৩শে অক্টোবর আপিল বিভাগ মামলাটি হাইকোর্টে পুনঃশুনানির জন্য পাঠান। বর্তমানে মামলাটি বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে বিচারাধীন। গত ২০শে সেপ্টেম্বর মামলাটি রায়ের জন্য ৩৮ নম্বর ক্রমিকে ছিল। কিন্তু এর আগে সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ৯২ বছর বয়সী লক্ষ্মণ প্রামাণিক মারা গেছেন বলে স্বজনরা জানান। আদালত লক্ষ্মণ প্রামাণিকের ওয়ারিশগণকে পক্ষভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

এভাবেই বছরের পর বছর যায়। কিন্তু মামলা শেষ হয় না। এক সময়  বিচারপ্রার্থীরা হতাশ হয়ে রায়ের আশা ছেড়ে দেন। একপর্যায়ে বিচারপ্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন আইনজীবীর সঙ্গে। তবে এমন ঘটনা শুধু সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গেই ঘটে তা কিন্তু নয়। আইনজীবীর নিজের মামলাতেও এমন ঘটনা ঘটে।  ফলে, কয়েক যুগ পার হলেও মামলা শেষ হয় না। ঢাকা জজ কোর্টে স্বয়ং আইনজীবীর মামলায় ২০ বছরেও মামলাটি এখন যুগ্ম জেলা জজ ও পরিবেশ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। গতকাল মামলাটি যুক্তিতর্ক ও দরখাস্ত শুনানির জন্য ছিল। এই মামলার বাদী-বিবাদী চারজন মারা গেছেন। বর্তমানে মামলার পক্ষভুক্ত হয়েছেন উভয় পক্ষের ওয়ারিশগণ। কবে মামলাটি শেষ হবে? সঠিকভাবে বলা যায় না। তবে  জজ কোর্টে রায় হলে যে পক্ষেই রায় যাক না কেন, উভয় পক্ষই হাইকোর্টে আপিল করবে। ওখানেও বেশ কয়েক বছর সময় লাগবে। এরপর মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। ক্ষোভের সঙ্গে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট শ্রেষ্ঠ আহমেদ রতন। তিনি বলেন, ক্লায়েন্টরা মনে করেন আইনজীবীরা ইচ্ছা করেই মামলা শেষ করেন না। অথচ তারা বুঝতে চান না আইনজীবীর মামলাও বছরের পর বছর লেগে যায়। মামলা শেষ হয় না। তিনি জানান, ২০০০ সালে আমার পিতা ও চাচারা বাদী হয়ে ১০১ শতাংশ জমির স্বত্ব ও খাস দখল পুনঃউদ্ধারে মামলা দায়ের করেন। ইতিমধ্যে বাদীপক্ষের দুইজন মারা গেছেন। বিবাদী পক্ষেরও দুইজন মারা গেছেন। কিন্তু এখনো মামলাটি শেষ হয়নি। মোকদ্দমাটি শেষ না হওয়া প্রসঙ্গে এডভোকেট শ্রেষ্ঠ আহমেদ রতন বলেন, একটি আদালত প্রতিদিন ৪-৫টি মামলার শুনানি করেন। কেননা, তার অধীনে প্রতিদিন মামলা থাকে শতাধিকেরও বেশি। পরিতাপের বিষয় হলো, এই মামলার বাদী আমার দাদী আকলিমা বেগম মামলার রায় না দেখেই ইন্তেকাল করেছেন। নথি থেকে জানা যায়, ২০০০ সালে বসতবাড়ির জমি উদ্ধারে ঢাকার ৫ম সাবজজ (যুগ্ম জেলা জজ) আদালতে মামলা করেন। এখন পর্যন্ত বাদীপক্ষের মাত্র দুজনের সাক্ষী জেরা শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে ১ জন বাদী আকলিমা বেগম ও তিন বিবাদী জোনাব আলী, মোন্নাফ ও নাসির উদ্দিন ইন্তেকাল করেছেন। এখন পর্যন্ত এই মামলায় বেশ কয়েকজন আইনজীবী নিযুক্ত হয়েছেন। কিন্তু কারো পক্ষেই মামলা শেষ করা সম্ভব হয়নি। কবে নাগাদ মামলাটি শেষ হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি মামলার তারিখ পড়ে কমপক্ষে দুই থেকে তিন মাস পর। এরমধ্যে আবার মামলার কার্যতালিকায় অনেক মামলা থাকায় আদালত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বেশি সময় দিতে পারেন না।

দোহারে ৩টি স’মিলকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

দোহারে মঙ্গলবার সকালে ‘স’ মিলে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারি কমিশানার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র। এসময় ৩টি স’মিলকে লাইসেন্স হালনাগাদ না থাকায় জরিমানা ও সতর্ক করা হয়।

মঙ্গলবার সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্রের নেতৃত্বে ও দোহার থানা পুলিশের সহযোগিতায় জয়পাড়া, লটাখোলা ও করম আলী মোড়ে ১০টি স’মিলে অভিজান চালায়। এসময় ৩টি স’মিলে লাইসেন্স হালনাগাদ না-থাকায় মোয়াজ্জেম হোসেনকে ২ হাজার, নূর জাহান স’মিলের মালিক মো শাখাওয়াতকে ২ হাজার এবং হযরত আলী স’মিলের মালিক আব্দুস সোবহানকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসাথে তাদেরকে সতর্ক করা হয়।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এসময় উপজেলার বন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

দোহারে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের অভিযান

দোহার উপজেলার জয়পাড়া বাজারে মঙ্গমলবার সকাল থেকে করোনা সংক্রমণ রোধে মাস্ক পড়ার জন্য অভিযান পরিচালনা করেছে দোহার উপজেলা প্রশাসন। অভিযান পরিচালনা করেন দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র।

নিউজ৩৯ কে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে, সরকার কতৃক ঘোষিত জনসাধারণের জন্য বাধ্যতামূলক মাস্ক পড়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। শীতকালীন মৌসুমে কোভিড – ১৯ বেড়ে যাওয়ায় আশংকা থেকে ও এই সংক্রমণ রোধে আজ থেকে এই অভিযান পুনরায় শুরু হলো। মাস্ক না পড়ার অপরাধে ৭ জনকে জরিমানা করা হয়েছে, অন্যদের কে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। আপনারা সবাই মাস্ক পড়বেন, নিরাপদ থাকবেন। অন্যকেও নিরাপদ রাখবেন এবং মাস্ক পড়তে উৎসাহিত করবেন।

জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র নিউজ৩৯কে আরও বলেন, করোনার দ্বিতীয় শক ওয়েভের জন্য, সরকার মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করেছে। তাই সবার সুরক্ষার জন্য অতীতের মতো আমরা মাঠে আছি।

অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করে দোহার থানা পুলিশ।

শোল্লায় রুপালী ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন

ঢাকার নবাবগঞ্জের শোল্লায় রুপালী ব্যাংকের শাখা শোল্লা বাজারে উদ্বোধন করা হয়েছে। এটি রুপালি ব্যাংক লিমিটেডের৫৭৯তম শাখা। ১৭ নভেম্বর মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টায় শোল্লা বাজারের মৌমি প্লাজায় ২য় তলায় ফিতা কেটে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

রুপালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন এমপি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান।

নবাবগঞ্জে রুপালী ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতায় দেশের অর্থনীতির চাকা দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ব্যাংকিং সেক্টরেও উন্নয়নের ঘাটতি নেই। বিশ্বে আজ আমাদের দেশ একটি উন্নয়নের রোল মডেল।

ব্যাংকের ঢাকা দক্ষিণের বিভাগীয় প্রধান পারসুমা আলমের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক মিজানুর রহমান ভূইয়া কিসমত, যুগ্ম আহবায়ক ও বিআরডিবির চেয়ারম্যান দেওয়ান আওলাদ হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম সালাউদ্দীন মনজু।

উপস্থিত ছিলেন, শোল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেওয়ান তুহিনুর রহমান, শাখা ব্যবস্থাপক মো. জাহিদুল ইসলাম প্রমূখ।

অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশায় অতিষ্ঠ দোহারবাসী

ইংরেজি আদ্যক্ষর এ ফর অটোমেটিক, এ ফর এক্সিডেন্ট, এ ফর অটোরিকশা! সবই যেন মিলে যায় দোহারে ক্রমবর্ধমান অটোরিকশার ক্ষেত্রে। অটোরিকশাগুলো এখন দোহারবাসীর গলার কাঁটা। রাস্তায় চলতে-ফিরতে চোখে পড়ে অটোরিকশার নানা নৈরাজ্য। এ যেন নিয়ন্ত্রণহীন এক যান। দেখারো কেউ নেই। মাঝে মাঝে প্রশাসনের সাথে অটোরিকশা চালকদের চলে ইঁদুর-বিড়াল খেলা। প্রশাসন বা পুলিশ রাস্তা থেকে সরে যেতেই আবার ঠিক আগের নৈরাজ্য। নেই লাইসেন্স, নাই নিয়ন্ত্রণ এমনকি লাগে না কোন প্রশিক্ষণও। এ যেন ইচ্ছ্বে যাদু। ইচ্ছ্বে হলেই অটোরিকশা নিয়ে নেমে পড়া যায় রাস্তায়। আর রাস্তায় নেমেই হয়ে ওঠে রাস্তার রাজা। তাই বুঝি, তার চলাচল রাস্তার মধ্য রেখা বরাবর। মাঝে মাঝেই আবার রাস্তাতেই গড়বড়।

আবার প্রয়োজনের তুলনায় অধিক অটোরিকশা রাস্তায় হওয়া স্বত্ত্বেও, তাতে নেই ট্রাফিক কন্ট্রোলিং ব্যবস্থা, নেই সাইড লাইট, নেই বা থাকলেও কাজে লাগে না ব্রেক! আছেন অদক্ষ ড্রাইভার, সাথে অতিরিক্ত গতি! ফলাফল অটোমেটিক এক্সিডেন্ট। এটি এখন দোহারের রাস্তাগুলোর বাস্তব চিত্র।

দোহারের রাস্তাগুলো এখন যেকোন সময়ের তুলনায় প্রশস্থ এবং মসৃণ। প্রতিনিয়ত বড় করা হচ্ছে রাস্তাগুলো, কিন্তু সুফল পাচ্ছেনা জনগণ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাহ্রাঘাট থেকে ফুলতলা পর্যন্ত সড়কটি বেশ মসৃণ এবং প্রসস্থ। রাস্তায় নেই কোন প্রতিবন্ধকতা। তবুও যেন দোহারের গুলিস্তান জয়পাড়া বাজার , কার্তিকপুর বাজার, ময়নট ঘাটের রাস্তা, জয়পাড়া থানার মোড় এবং জয়পাড়া কলেজের সামনে থেকে জয়পাড়া ওয়ান ব্যাংক পর্যন্ত বিশাল এলাকাজুড়ে যানজট লেগেই থাকে। আর এর করণ জয়পাড়া কলেজের সামনে থাকা সিএনজি আর অটোরিকশার রাস্তা ও ফুটপাত দখল!
যত্রতত্র পার্কিং, অটোরিকশার আধিক্ষ্য, অদক্ষ ড্রাইভার, ফিটনেস বিহীন গাড়ী, অধিক গতি, যত্রতত্র গাড়ী ঘুরাতে গিয়ে জ্যামের সৃষ্টি করে অটোগুলো। আর এ কারনেই যানজট লেগেই থাকে।

মাসুদ রানা নামে এক ব্যাক্তি নিয়মিত ফুলতলা টু জয়পাড়া যাতায়াত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, অধিকাংশ অটোচালকই অদক্ষ, অযোগ্য ও অপরিণত বয়সের। তাদের কারণেই প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে জয়পাড়া বাজারে। তাঁরা নিবন্ধনহীন অটোরিকশার দৌরাত্ম্যের জন্য কর্তপক্ষের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেন।

দক্ষিন জয়পাড়ার বাসিন্দা নাজমুল নিউজ৩৯কে জানান, প্রতিদিন বেড়েই যাচ্ছে অটো রিক্সা, সাথে সাথে বাড়ছে জ্যাম ও দুর্ঘটনা। রাস্তা পারাপারে বৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অটোরিকশার গতিতে নেই নিয়ন্ত্রণ, রিক্সার বডি ফিটনেস নেই। আর এই অটোরিকশার জন্য বিদ্যুৎ এর উপরও চাপ বাড়ছে। ফলে নিয়মিত বিদ্যুৎ চাহিদা দোহারে বাড়ছে, বাসা বাড়ির মিটারে চলছে বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে অটো চার্জের ব্যবসা। ফলে বাড়ছে বিদ্যুৎ লোডশেডিং।

উল্লেখ্য দোহার উপজেলার যানজট নিরসনে ইতঃমধ্যে দোহার উপজেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৬/১০/২০ তারিখের দোহার উপজেলা সভাকক্ষে দোহার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় যানজট নিরসন ও দোহার উপজেলার প্রাণকেন্দ্র জয়পাড়া বাজার এলাকার প্রধান সড়কে ইজিবাইক এবং যত্রতত্র মোটরসাইকেল, মালবাহী গাড়ীর পার্কিংয়ের চাপ কমাতে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে এই সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় । যানজট নিরসনে ১লা নভেম্বর থেকে এটি কার্যকর করা হবে বলে সভা থেকে জানানো হয়েছিলো। এছাড়া দোহার থেকে ঢাকাগামী দুইটি গণপরিবহন আরাম ও নগরের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার কথা থাকলেও এখনো কিছুই হয়নি।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদ নিউজ৩৯ কে বলেন, দোহার উপজেলার প্রাণকেন্দ্র জয়পাড়া বাজার, থানার মোড় থেকে ওয়ান ব্যাংক মোড় হয়ে জয়পাড়া কলেজ মার্কেট পর্যন্ত কোনো যত্রযত্র গাড়ী পার্কিং, রিক্সা, ব্যাটারীচালিত ইজিবাইক, সিএনজি ও ফুটপাতে দোকান বসাতে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি মেঘুলা বাজারে প্রতিদিনের যানজট কমাতে রাস্তার উপরে রাখা মটরসাইকেল পার্কিং বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এসময় রাস্তার উপরে থাকা ফুটপাত সরিয়ে নিয়ে বাজারের অন্য পাশে স্থানান্তরের প্রস্তাবনা দেন মেঘুলা বাজার কমিটির সভাপতি।
মাসিক সভায় উপস্থিত ছিলেন দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো.ফজলুল হকসহ অন্যান্যরা

এনআরবি ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচিত হলেন আব্দুল মান্নান

এনআরবি ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক ইন্সপেকটর জেনারেল অব রেজিস্ট্রেশন(আইজিআর) ও দোহারের কৃতি সন্তান ড. খান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান। এনআরবি ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার আগে বর্নাঢ্য এক কর্ম জীবন কাটিয়েছেন ড.খান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের। ছাত্র অবস্থায় যোগ দিয়েছিলেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে। লড়াই করেছেন সম্মুখ সমরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর আমেরিকান ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি, ক্যালিফোর্নিয়া, ইউএসএ থেকে তার ডক্টরেট সম্পন্ন করেন। এবং ১৯৯২ সালে ইতালির রোমের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল ইন্সিটিটিউট থেকে ডেভেলমেন্ট ল কোর্স সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনে তিনি ঝিনাইদহের ডিস্ট্রিক্ট ও সেশন জাজ হিসাবে দায়িত্ব পালন করে ডেপুটি ইন্সপেকটর জেনারেল অব রেজিস্ট্রেশনে যোগ দেন। এই বিভাগ থেকেই তিনি অবসর গ্রহন করেন। কর্মজীবনের বাইরেও তিনি বাংলাদেশ জিডিশিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সদ্য সরকারি করন হওয়া পদ্মা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

স্মৃতির জানালায় প্রিয় শিক্ষক

বার্ধক্যে উপনীত প্রিয় শিক্ষককে দেখতে তাঁর বাড়িতে গেলেন তাঁরই এক সময়কার কয়েকজন ছাত্র। বিছানায় নিশ্চুপ শুয়ে থাকা শিক্ষকের পা ছুঁয়ে সালাম করলেন তাঁরা। বিনয়ের সাথে নিজেদের পরিচয় দিয়ে শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলেন তাদেরকে চিনতে পেরেছেন কি না। বেশ কিছুক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে রইলেন শিক্ষক। অতঃপর ধীরলয়ে একটি ক্ষীণ কন্ঠ ভেসে এলো ছাত্রদের কানে। কিছুটা জড়তা মাখা, খানিকটা অস্পষ্ট সেই কন্ঠটি জানান দিল স্মৃতির মহাসাগরের তলদেশ থেকে মুহূর্তেই যেন খুঁজে পেলেন শিক্ষক তাঁর প্রিয় ছাত্রদের। তবে যে কন্ঠে একসময় ক্যাম্পাসের চারিদিকের বাতাস প্রকম্পিত হতো, আজ সে কন্ঠ কতোটা যে ম্রিয়মান হয়ে পড়েছে! যে দুরন্ত গতির পায়ের ভারে মাঠের সবুজ ঘাসগুলো নুয়ে পড়তো, আজ সে পা দু’টো যেন আর যেতেই চায়না ঘরের চার দেয়ালের বাইরে। শরীরটা যেন বিছানাকেই এখন ঠাঁই করে নিয়েছে অনেকটা স্থায়ী ভাবে। নিরন্তর বয়ে চলা জীবন ঘড়ির কাটাটি কত নির্দয়, কত নির্মম!

আমার কল্পনায় দেখা তবে হয়তো অনেকটাই বাস্তব এমন একটি ছবির অবয়ব আমার হৃদয় গহীণে আজ যেন ঘোর পাক খাচ্ছে ।

জয়পাড়া পাইলট হাইস্কুলের বার্ধক্যে উপনীত প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রদ্ধেয় হায়াত আলী মিয়া স্যারকে দেখতে গিয়ে কয়েকদিন আগে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লায়ন সালাম চৌধুরী ভাই। যদিও আমি হায়াত আলী মিয়া স্যারের স্কুলের ছাত্র ছিলাম না কিন্তু স্যারের বার্ধক্য জনিত বর্তমান শারীরিক অবস্থাটি জেনে সেদিন আমার মনটা কেমন যেন বিষন্নতায় ছেয়ে গেলো।

আমার মনের আয়নার ভেসে এলো জীবন সিঁড়ির প্রথম অংশের একটি ধাপে স্যারের সাথে আমার ক্ষণিকের কিছু স্মৃতিময় মুহূর্ত। আজ থেকে প্রায় ৩৭ বছর আগের সেই স্মৃতিটি আমাকে অনেক কিছুই মনে করিয়ে দেয়। হৃদয়ের জানালায় উঁকি দেয়া সেই স্মৃতি আমাকে শ্রদ্ধেয় হায়াত আলী স্যারের খুব কাছে টানে, তার আঙ্গিনায় নিয়ে চলে আমাকে। যদিও সেই ক্ষণিক দেখার আগে বা পরে আর কখনো স্যারের সাথে আমার সরাসরি দেখা বা কথা হয়নি।

মুকসুদপুর শামসুউদ্দিন শিকদার উচ্চ বিদ্যালয় (ঐ সময় মুকসুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়) হতে এস এস সি ১৯৮৩ ব্যাচের পরীক্ষা দিতে জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গেলাম। বিজ্ঞান বিভাগের প্র্যাকটিক্যাল অংশের ভাইবা পরীক্ষার প্রাক্কালে আমাদের স্কুলের শ্রদ্ধাভাজন তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মরহুম আব্দুস সামাদ স্যার শ্রদ্ধেয় হায়াত আলী স্যারের (সম্ভবত কেন্দ্র সচিব ছিলেন) সাথে আমাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে এলেন। বিশেষ করে আমাকে ফার্স্ট বয় হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেন৷ ভাইবা বোর্ডে হায়াত আলী স্যার আমার গ্রামের নাম, পিতার নাম জিজ্ঞেস করলেন। আমি পিতার নামের আগে জনাব বলাতে তিঁনি খুশি হলেন এবং জনাব বলি কিনা তা যাচাই করতেই পিতার নাম জিজ্ঞেস করেছেন বলে জানালেন। আমার গ্রামের নাম মধুরখোলা শুনে তিনি কিছুটা রসিকতার স্বরে জানতে চাইলেন আমার গ্রামে অনেক মধু পাওয়া যায় কিনা।তখন কি বলেছিলাম তা আজ আর পরিষ্কার মনে নেই। তবে কিছুদিন আগে “আমার গ্রাম” কবিতায় সেই প্রশ্নের আমি একটি উত্তর রেখেছি । উদ্ভিদ কাকে বলে এই প্রশ্নের উত্তরে “ যাহা মাটি ভেদ করে উঠে তাকে উদ্ভিদ বলে এমন উত্তর শুনে তিঁনি বল্লেন, ”তাহলে তো ওরচুঙ্গাও উদ্ভিদ।“ সাথে সাথে আমি বল্লাম, “স্যার, যাহা মাটি ভেদ করে উঠে এবং স্থান ত্যাগ করতে পারেনা তাকে উদ্ভিদ বলে।“ স্যার এবার হাসিমুখে প্রশ্ন করলেন “ তোমার থেকে আমি ক’জনের পরে বসে আছি। আমি গুনে দেখে বল্লাম ৫ জনের পরে। স্যার প্রশ্ন করলেন পাঁচ এবং পঞ্চম এর মধ্যে তফাত কি? আমি বল্লাম পাঁচ বলতে পাঁচটি সংখ্যাকে বুঝায় আর পঞ্চম বলতে প্রথম চারটি সংখ্যা বাদ দিয়ে পরবর্তী সংখ্যাটিকে বুঝায় ।আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর শুনে স্যার বেশ খুশি হলেন এবং প্রশংসা করলেন। পরীক্ষার ফলাফলেও তার প্রতিফলন পেলাম।

প্রায় ৩ যুগ আগের ভাইবা পরীক্ষার সেই দিনটি থেকে শ্রদ্ধেয় হায়াত আলী মিয়া স্যারের নামটি আমার অজান্তেই মনের ডায়েরিতে স্থায়ী ভাবে লেখা হয়ে যায়। স্যারের সুন্দর মুখশ্রী সেদিন আমার হৃদয়পটে কোন এক অজানা শিল্পী যেন রংতুলিতে এঁকে দিয়ে গেলেন । শ্রদ্ধেয় স্যারদের মূল্যায়ন করার মতো স্পর্ধা আমি রাখি না বা সে জ্ঞানও আমার নেই। তবে প্রসংগক্রমে দু-একটি কথা বলছি।

আমাদের সময়ে দোহারের হাই স্কুলগুলোর গুণী সেরা শিক্ষকদের মধ্যে শ্রদ্ধেয় হায়াত আলী মিয়া স্যারের অসম্ভব নাম ডাক ছিলো। তিঁনি অনেক বড় মাপের একজন শিক্ষাগুরু।

সমসাময়িক সময়ে গুণী সেরা শিক্ষকদের আরেক জন যিনি তাঁর ছাত্র হিসেবে আমাকে সেদিন শ্রদ্ধেয় হায়াত আলী মিয়া স্যারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, মুকসুদপুর শামসুদ্দিন শিকদার উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আমার সরাসরি শিক্ষাগুরু প্রয়াত শ্রদ্ধেয় আব্দুস সামাদ স্যার। তিঁনি ২০১৯ সালের ১৫ নভেম্বর ভবের মায়া ছিন্ন করে বিধাতার ডাকে পরপারে পাড়ি জমান।

শ্রদ্ধেয় হায়াত আলী মিয়া স্যার, প্রয়াত আব্দুস সামাদ স্যারদের বাইরেও বেশ ক’জন গুণী আদর্শ শিক্ষকের সান্নিধ্য পেয়েছি আমি।তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মুকসুদপুর শামসুউদ্দিন শিকদার উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রয়াত আব্দুর রহমান স্যার, কাঞ্চন স্যার, নারায়ন স্যার,অশোক স্যার,আহমদ আলী স্যার (পরবর্তীতে নারিশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হন) প্রমুখ। সেই সময়ে এই তালিকায় প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে মধুর খোলা প্রাইমারীর জব্বার স্যার, মুকসুদপুর প্রাইমারীর প্রফুল্ল স্যার, মইৎপাড়া প্রাইমারীর রইস উদ্দিন স্যার, সাতভিটা প্রাইমারীর শফিউদ্দিন স্যার,নারিশা পশ্চিমচর প্রাইমারীর তালিম স্যার সহ আরো অনেক অনেক গুণী শিক্ষকের নাম বলা যায়। যাঁদের অনেকেরই সান্নিধ্য পেয়েছি আমি।

দোহারের সেই সময়কার সেরা শিক্ষকদের অনেকেই আজ বিধাতার ডাকে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন।মহান সৃষ্টি কর্তার দরবারে তাঁদের সকলের আত্মার শান্তি কামনা করছি। বেঁচে থাকাদের মধ্যে এখন অনেকেই জীবনের চরম সত্য বার্ধক্যে উপনীত। শ্রদ্ধেয় হায়াত আলী স্যারের মতো অনেকেরই দেহটা হয়তো এখন আর বিছানা থেকে উঠতে চায় না!

আমার কিশোর বয়সে দেখা ভীষণ প্রাণবন্ত,সূর্যের ন্যায় তেজোদীপ্ত,আকাশের ন্যায় উদার, পান্ডিত্বে ভরপুর অসামান্য ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন শিক্ষাগুরুদের শরীরে আজ বহমান নদীর সেই স্রোত আর নেই। জীবন পথের কোন এক বাঁকে বার্ধক্য এসে চিরচেনা পথ আগলে দাঁড়িয়েছে। থমকে গেছে তাঁদের একসময়ের দীপ্ত পায়ে অপ্রতিরুদ্ধ পথচলা। পিছনে ফেলে আসা সোনালী দিনগুলোর অনেক স্মৃতিই যেন বিস্মৃতির অতল গহ্বরে হারিয়ে গেছে বা ধূসর মরুর বুকে দৃষ্টির শেষ সীমান্ত রেখায় আলো আঁধারের মাঝে আজ অনেকটাই অস্পষ্ট হয়ে গেছে। আসলে এরই নাম জীবন ঘড়ি।যারা একসময় শ্রেণী কক্ষে ছাত্রদের শুনাতেন “সময় ও নদীর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না।” সেই চিরন্তন বাণীর ধ্বনি যেন বিদ্যালয়ের দেয়ালে আজ প্রতিধ্বনিত হয়ে নিরালায় নিজ ঘরের বিছানায় নিশ্চুপ শুয়ে থাকা সেই মহান শিক্ষকদের নিজ কানে এসে বাজছে।

সময়ের স্রোত আর জীবনের প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততায় কখন যেন অনেক দূরের স্মৃতি হয়ে যায় আমাদের শৈশব কৈশোর। সেই স্মৃতির অপরিহার্য অংশ আমাদের স্কুল জীবন আর প্রিয় শিক্ষকগণ। যখন মনের আনন্দে উপভোগ করেছি দূরন্ত সোনালী শৈশব কৈশোর, তখন পরম যত্নে আমাদের জীবন ও মনন গড়নে ব্যস্ত ছিলেন আমাদের শিক্ষকগণেরা। কোন লোভ লালসা তাঁদের মোহাবিষ্ট করতে পারেনি। আদর্শ থেকে একচুলও পিছপা হননি। কেবলই টাকা ওয়ালা ক্ষমতা কেন্দ্রিক লোকদের কাছে টানেননি কোনদিন। ছাত্রদের সামনে তাঁরা হাজির করতেন এলাকার সত্যিকার গুণীজনদের।পাশে বসাতেন কর্মক্ষেত্রে সফল স্কুলের প্রাক্তন আদর্শ ছাত্রদের। যাতে ছাত্ররা তাদের দেখে লেখাপড়ার প্রতি উৎসাহিত হয়। সত্যিকার মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার বাসনা তীব্র হয় মনে। পদ পদবীর উদ্দেশ্যে স্কুলের জন্য কারো কারো দানের আগ্রহকেও প্রত্যাখান করেছেন বিনয়ের সাথে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বাহ্যিক চাকচিক্যের চাইতে তাঁরা ছাত্রদের প্রতিভা বিকশিত করতে,তাদের জ্ঞানের রাজ্য সম্প্রসারণে, তাদের অন্তরাত্মাকে আলোকিত করতে সদা সচেষ্ট থাকতেন। অন্যায্য চাওয়া পাওয়ার আকাংকা, হীনমন্যতা তাঁদের স্পর্শ করতে পারেনি।

সেকারণেই তাঁরা কেবল শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন আদর্শ শিক্ষক। ছিলেন দার্শনিক, বাতিঘর, গাইড, রোলমডেল। আজকের ক্ষয়িষ্ণু সমাজে সেই আদর্শবান শিক্ষকদের বড় প্রয়োজন। মানবিক মূল্যবোধ বিবর্জিত অসুস্থ প্রতিযোগিতার অশুভ কালো থাবার করাল গ্রাস থেকে ছাত্র ছাত্রী তথা দেশ মাতৃকার আগামী দিনের চালকদের রক্ষা করতে আজ সাহসী, গুণী, আদর্শ শিক্ষকের বিকল্প নেই।

জ্ঞান নির্ভর আলোকিত সমাজ ও জাতি বিনির্মানে ভীষণ প্রয়োজন হায়াত আলী স্যার, আব্দুস সামাদ স্যার, আব্দুর রহমান স্যারদের মতো সত্যিকারের মানুষ গড়ার কারিগর।

আমার এ লেখায় কোন ভুলভ্রান্তি থাকলে সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। পরিশেষে জাতীর মেরুদণ্ড নবীন প্রবীন সকল শিক্ষকগণের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা, অকৃত্রিম ভালোবাসা ও অনেক অনেক শুভকামনা রইলো।

লেখক: শেখ তোফাজ্জল হোসেন সমঝদার
জেনারেল ম্যানেজার
বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি

ইকরাশিতে এক রাতে ৪ বাড়িতে ডাকাতি ও চুরি

ঢাকার দোহারের ইকরাশি গ্রামে খৃষ্টান চ্যাপেল এর বাসা ( গির্জা) এলাকায় গত বৃহস্পতিবার এক রাতে ৪ বাড়িতে ডাকাতি ও চুরি হয়েছে। রাত ৩টায় মেঘলাল চন্দ্র শীল পিতাঃ অমল চন্দ্র শীল, নয়ন পাল পিতাঃ সংকর পাল এবং গোপাল শীল পিতাঃ অশীনি শীল এর বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে জানা যায় ঘরের দরজা ভেঙ্গে ডাকাত দলের এক টিম ভেতরে প্রবেশ করে ঘরে থাকা সকল সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে থাকা মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাত দলের ১০ থেকে ১৫ জনের দল ঘরে ঢুকে তিন ঘর থেকে ৫ টি মোবাইল সেট যার আনুনামিন মূল্য ৩৫ হাজার টাকা, ১ ভরি স্বর্নাঅলংকার এবং ঘরে থাকা নগদ ২২ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

একই এলাকার জাবেদ আলী মৃধার ছেলে মোরাদ মৃধা জানান, একই রাতে আমাদের বাসায় ডাকাত দলের অন্য সদস্যরা হানা দেয় তার বাসা থেকে নগদ ১ লক্ষ ৬ হাজার টাকা ও ২ ভরি স্বর্নাঅলংকার এবং আরো অন্যান্য আনুষাঙ্গিক জিনিস পএ কাপড়, রূপার জিনিস পএাদি নিয়ে যায়।

একই রাতে একই এলাকার শেখ হেকমত আলীর ছেলে মোতালেব বাবুর্চির বাসায় ব্যাবহারির আসবাবপত্র ও নগদ ২ হাজার টাকা চুরি গেছে বলে জানা যায়।

ইকরাশিতে ডাকাতি ও চুরি -র ঘটনাস্থল দোহার থানা পুলিশ পরিদর্শন করেছেন।

দোহারে নির্বাচনী আমেজঃ মাঠে সরগরম রাশেদ চোকদার

দোহারে শীতের আগমনের সাথে সাথে শুরু হয়েছে ইউনিয়ন নির্বাচনী আমেজ। আসন্ন ইউনিয়ন নির্বাচন উপলক্ষে বিলাশপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে সদর মার্কেটে শুক্রবার বিকাল ৪ টায় থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোহার উপজেলার বিলাশপুরে, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রাশেদ চোকদারের নির্বাচন প্রস্ততিসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে মিছিল নিয়ে উক্ত সভায় উপস্থিত হন রাশেদ চোকদারের সমর্থকবৃন্দ। এসময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী, বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেম্বার ও বিলাশপুর ইউনিয়নের সাধারণ জনগন উপস্থিত ছিলো।

এসময় বিলাশপুর ইউনিয়নের বিগত দিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় কিছু মেম্বার।

বিলাশপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য ও সাবেক বিলাশপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলিগের সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, আমরা মেম্বাররা ৪৫ মাস যাবৎ বেতন পাচ্ছিনা। বিলাশপুর ইউনিয়নের উন্নয়নের লক্ষ্ লক্ষ্ টাকা উধাও হয়ে যাচ্ছে। এগুলা কোথায় যাচ্ছে, মেম্বাররা কিছু জানেনা। সব লুটে নিচ্ছে আমাদের দূর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান।

রাশেদ চোকদারের নির্বাচন প্রস্ততি সভায় বলেন, আমি মানুষের সাথে ছিলাম, আছি এবং থাকবো৷ আমি মানুষের পাশে থাকতে চাই। সততা ও নিষ্ঠার সাথে বিলাশপুর ইউনিয়নের সকল মানুষের সুবিধা অসুবিধা দেখে সেবা করে যাবো।

তিনি আরো বলেন,আসন্ন বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রাশেদ চোকদার কে আপনারা ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। এই জয় হবে আপনার সন্তানের জয়, আপনার ভাইয়ের জয়। আপনার জয়। আমি বিজয়ী হলে, আপনাদের জন্য কাজ করে যাবো নিজের বাবা-মা-ভাই-বোন হিসেবে সকল জনগণের জন্য। এখানে কোন ভাগ থাকবে না, থাকবে না ঘৃণা বা অবহেলা। এই ইউনিয়ন আমার৷ এই ইউনিয়ন সকল জনগণ আমার পরিবারের সদস্য। তাদের কল্যাণ মানে আমার নিজের কল্যাণ। তাই আপনারা আমাকে জয়যুক্ত করবেন, এই দোয়া চাই।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলার সেচ্ছাসেবকলীগ এর সভাপতি বাসার চোক্দার, দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ উদয় হোসেন, দোহার পৌরসভা ছাত্রলীগের সভাপতি পাপেল মাহমুদ নিজাম, আওয়ামীলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, ৮ ওয়ার্ডের মেম্বারগণ ও বিলাশপুর ইউনিয়নের সাধারণ জনগন।