নবাবগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির এডহক কমিটি ঘোষণা

গত ২২ মে, ২০২১ রোজ শনিবার নবাবগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির এডহক কমিটির নির্বাচিত সদস্যদের নামের তালিকা ঘোষণা করে নবাবগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতি। এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয় কলাকোপা কোকিল প্যারী উচ্চ বিদ্যালয় এর সম্মানিত প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ শাহ আলম। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নবাবগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাব আব্দুল মান্নান।

এই এডহক কমিটিতে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক ছাড়াও আরো ৭ জন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এই এডহক কমিটি আগামী ৪ মাসের জন্য গঠন করা হয়েছে।  ৪ মাসের মধ্যে এই এডহক কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটির হাতে নবাবগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির দায়িত্ব অর্পন করবে।

ঢাকায় সন্ত্রাসীদের হাতে নবাবগঞ্জের যুবক খুন

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জের শিকারীপাড়া ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের আলী বেপারীর ছেলে মোঃ মোস্তফা ঢাকার যাত্রাবাড়ির সাইনবোর্ড এলাকায় সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, কে বা কারা অজ্ঞাতভাবে মোস্তফাকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় মোস্তফাকে পড়ে থাকতে দেখে দুইজন পথচারী তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এই সময় হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ মোস্তফকে মৃত বলে ঘোষনা করে।

নিহত মোস্তফার ফুপাতো ভাই শাখাওয়াত হোসেন জানান, যাত্রাবাড়ির সাইনবোর্ডে সে একটা প্রেসে  ৬/৭ বছর যাবত চাকুরী করে আসছে। প্রেসের মালিকও মোস্তফার সম্পর্কে বলেন, সে কোনদিন কারো সাথে ঝগড়াও করেনি। সে অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র ছিল।

শাখাওয়াত আরো জানান, নিহত মোস্তফা তার মামাতো ভাই, যদিও তাকে তিন দিন বয়সে পাশের ইউনিয়ন জয়কৃষ্ণপুরের সোনাবাজু গ্রাম থেকে মোঃ আলী পালক পুত্র হিসেবে গ্রহন করেছিলেন। নিজ গ্রামেও সে ছিল একজন অতি ভদ্র একজন যুবক। গত শুক্রবার দুপুরে তার মায়ের সাথে শেষ কথা হয় তার। দুপুরের পরপরই নিখোঁজ হয় মোস্তফা। শনিবার দুপুরে তাকে রাস্তায় জখম অবস্থায় তার নিথর দেহ খোঁজে পাওয়া যায়।  পরে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন।  তার পিতা যাত্রাবাড়ী থানায়  নিজে বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। রবিবার বিকেলে নিজ গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।

যে যেভাবেই মোস্তফাকে হত্যা করে থাকুক বা যেভাবেই ওর মৃত্যু হয়ে থাকুক না কেন আমরা এর সঠিক তদন্ত চাই ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই বলে জানান স্থায়ীরা।

দোহার নবাবগঞ্জে সকল ভূমি মালিকদের জন্য এসিল্যাণ্ড অফিসের নির্দেশনা

news39.net: দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার সকল সম্মানিত ভূমি মালিকদের অবগতির জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন দুই উপজেলার এসিল্যান্ড অফিস। নির্দেশনা নিম্নরূপঃ #সরকার ভূমি উন্নয়ন কর (ভূমির খাজনা) ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করার কার্যক্রম শুরু করেছে।

#সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩০ জুন, ২০২১ এর পর থেকে প্রচলিত (ম্যানুয়াল) পদ্ধতিতে আর ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা হবে না। এর পরিবর্তে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা হবে।

#এর ফলে ভূমি মালিকগণ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে না গিয়ে অর্থাৎ ঘরে বসে কিংবা দেশের বাইরে বসেও ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান এবং দাখিলা সংগ্রহ করতে পারবেন।

#উপজেলার সকল ইউনিয়নে মৌজাওয়ারী ভূমি মালিকের তথ্য অনলাইনে এন্ট্রি দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। এ প্রচেষ্টা সফল করার জন্য আপনাদের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।

নিম্নলিখিত প্রমাণকসমূহ যথাঃ ১. খতিয়ানের কপি, ২. পূর্ববর্তী দাখিলার কপি, ৩. পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ৪. জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ৫. মোবাইল নাম্বার;

#সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগাযোগ করে আপনার ভূমি মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য অনলাইনে এন্ট্রি দেওয়া নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

#অন্যথায় ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানে জটিলতাসহ ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসংক্রান্ত যে কোন জিজ্ঞাসার জন্য আপনার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা অথবা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

পদ্মানদীতে ড্রেজার বন্ধে মোবাইল কোর্ট অভিযান

আজ ২২ মে ২০২১ তারিখ শনিবার সকাল ১১ টা হতে মৈনট ঘাট ও বাড়্রা ঘাট এলাকায় পদ্মানদীর অংশে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। দোহার উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নের শেষ সীমানা পর্যন্ত নদীতে মনিটরিং করা হয়। পদ্মানদীর দোহার অংশে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন সসম্পূর্ণ অবৈধ। কেউ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযান পরিচালনা করেন জনাব জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র সহাকারী কমিশনার (ভূমি) দোহার, ঢাকা।নদীতে কোন ড্রেজার না পাওয়ায় মামলা হয়নি। এসময় থানা পুলিশের সদস্যগণ অভিযানে সহযোগিতা করেন। নিয়মিত অভিযান চলবে।

দোহারে অবৈধ নৌঘাট; পুনরায় চালুর পায়তারা

ক্রাইম রিপোর্টার্স, news39.net: ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের চিঠির নির্দেশকে উপেক্ষা করে দোহার উপজেলায় পদ্মা নদীর তীরবর্তী বিলাশপুর ইউনিয়নে অবৈধ নৌঘাট স্থাপন করে প্রতিদিন হাতিয়ে নিয়েছে লাখ টাকা। একইসাথে সরকারও হারিয়েছে প্রায় কোটি টাকার বার্ষিক রাজস্ব। ঈদের পরে ঘাটটি সাময়িক বন্ধ থাকলেও, সুবিধাভোগী প্রভাবশালী মহল ঘাটটি পুনরায় চালুর ব্যাপারে সক্রিয় রয়েছে। এই ঘাট পুনরায় চালুর অপতৎপরতার অভিযোগের তীর বিলাশপুর ইউনিয়নের বিপরীতে ফরিদপুর চরভদ্রাসন উপজেলার শাহীন আনোয়ার উরফে বাবুল সিকদার ও তার ছেলে আরাফাত হোসেনের বিরুদ্ধে। তাদের এই কর্মকান্ডে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীচক্র জড়িত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই অনুমোদনহীন অবৈধ লঞ্চঘাট নিয়ে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন এবং ঢাকা জেলার দোহারের মৈনট ঘাট আন্ত:জেলা ঘাট ইজারাদারদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মৈনটঘাট টু চরভদ্রাসন আন্ত:জেলা লঞ্চ ও ফেরিঘাটে ইজারাদার আব্দুল আলী মৃদ্ধার দাবি, দোহার বিলাশপুর এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্রের সাথে চরভদ্রাসনের বাবুল সিকদার ও তার ছেলে আরাফাতের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। এই বছর করোনাকালীন লকডাউন সময়ে সরকারি বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে বিলাশপুর টু সদরপুরের আকোটচরে স্পিডবোটসহ বিভিন্ন নৌযানের মাধ্যমে লোকজন পারাপার শুরু করে। এই ঘাট নিয়ে সরকারের কোন অনুমতি নেই। বরং হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতিদিন লাখ টাকা। এরফলে পাঁচ কোটি আটাশ লাখ টাকায় নেয়া ইজারাকৃত মৈনট ঘাট টু চরভদ্রাসন আন্ত:জেলা লঞ্চ ও ফেরিঘাটের ইজারাদারসহ ঘাট সংশ্লিষ্ট সকলেই ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির কবলে পড়েছে। আর বিলাশপুরে ঘাটটি সরকারি অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ না থাকায়, সেখান দিয়ে অবৈধ পণ্য ও মাদক চোরাকারবারিরা সহজেই যাতায়াত করছে ।

এই বিষয়ে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার( রাজস্ব) বরাবর একটি অভিযোগ করেছেন বলেও জানান আব্দুল আলী মৃধা।

বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা বিলাশপুরের অবৈধ ঘাটের বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দোহার ও ফরিদপুরের চরভদ্রাসন, সদরপুরকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

news39.net টিম সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পায়, ফরিদপুর জেলার সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলার সীমান্তবর্তী আব্দুল সিকদারে ডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম সদরপুরের আকটেরচর টু জোয়ার নারিশা এলাকা ঘাট ইজারা নেয়।

কিন্তু পিয়াজখালী টু দোহারের নারিশা জোয়ার মাদ্রাসাঘাটটি আরাফাতের নামে ইজারা হলেও, সে জোরপূর্বক আন্ত:জেলা ঘাটের এলাকা বিস্তৃত করে, বিলাশপুর ঘাটে যাত্রী পারাপার করছে।

এখানে আরাফাতের পক্ষে শাহীন ও আনোয়ার এসব অবৈধ কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন বলেন, আমরা জানি যে মৈনটঘাট থেকে মানুষ স্পিডবোটে করে ফরিদপুর যায়। কিন্তু বিলাশপুর যে ঘাটটি নতুন তৈরী করেছে, এটা আগে ছিল না। এখন কি করে হলো, তাও জানি না।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, নুরুল ইসলাম পাটনির পক্ষে বাবুল সিকদার তাদের নিজ ইজারাকৃত এলাকার ঘাট স্থাপন না করে, স্থানীয় প্রভাবশালী লোজনদের মাধ্যমে, দোহারে বিলাসপুরে অবৈধ ঘাট স্থাপন করে লোকজন পারাপার করছেন।

এবিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এফ.এম ফিরোজ মাহমুদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিলাসপুর ঘাটটি অবৈধ। আমরা কমিশনার অফিসের একটি লিখিত নির্দেশ পেয়ে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার পুলিশ পাঠিয়ে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছি। এছাড়া সদরপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কথা বলেছি।

বিলাশপুরে অবৈধ নৌঘাট স্থাপন করে প্রতিদিন লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন, এমন অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে, বাবুল সিকদার বলেন, আমি বিলাশপুর ঘাট ইজারা নিয়েছি। তাই, ঘাট দিয়ে লোকজন পারাপার করছি।

কিন্তু তার এই কথার সত্যতা মেলেনি। সরকারি কাগজপত্রে তাদের ইজারাকৃত এলাকা হচ্ছে, পিয়াজখালী-চরবলাশিয়া টু মাদরাসাঘাট, কৃষ্ণদেবপুর, বাঁশতলা, নারিশা জোয়ার আন্ত:জেলা ঘাট। কিন্ত তিনি এসব এলাকা ব্যবহার না করে, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন আন্ত:জেলা ঘাট সংলগ্ন এলাকা ও দোহার উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তি বিলাসপুরে অবৈধ ঘাট বসিয়ে ছেলে আরাফাত হোসেনসহ তার বেতনকৃত কর্মচারীদের মাধ্যমে টোল আদায় করছেন প্রতিদিন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূরবী গোলদার বলেন, আমি শুনেছি বিভাগীয় কমিশনারের অফিস থেকে তারা বিলাসপুর ঘাট ইজারা নিয়েছে।

বিলাশপুর ঘাটের ব্যাপারে প্রশাসনের কোন অনুমতি নেই, তাহলে কিভাবে তারা ইজারা নিলেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

এ বিষয়ে বিলাশপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা news39.net কে বলেন, বিলাশপুরে পদ্মা নদীর কোনো পারাপারের খেয়াঘাট নেই। কেউ এটা করলে তা সম্পূর্ণ অবৈধ।

মৈনট ঘাটের ইজারাদার ম্যানেজার কাশেম মেম্বারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা কোটি টাকা নিয়ে ঘাট ইজারা নিয়েছি। কিছু প্রভাবশালী লোক আমাদের বিপরীতে অন্য একটা ঘাট বসিয়ে, ইতঃমধ্যে আমাদের প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা ক্ষতি করেছে। আমরা আইন মেনে সরকারিভাবে ঘাট নিয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে আমরা সব জায়গায় চিঠি দিয়েছি। এখন দুই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ ঘাটটি সাময়িকীভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে এটি কতদিন বন্ধ থাকবে সেটা আমরা জানি না।

বিলাশপুর অবৈধ ঘাটে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ঘাটটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

নবাবগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা ইউনিয়নে টিকারপুর নমপাড়া এলাকার সংখ্যালঘুদের নদীর ঘাটলা ও ইছামতি নদীর পাড় দখলকারী লুৎফর রহমানের অবৈধ স্থাপনা ভেঙে উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহম্পতিবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অরুণ কৃষ্ণ পাল।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম সালাউদ্দিন মনজু’র নির্দেশে বৃহম্পতিবার দুপুরে নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অরুণ কৃষ্ণ পালকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময়ে তিনি অভিযান চালিয়ে ওই সব অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দিয়ে নদী দখল মুক্ত করেন।
নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম সালাউদ্দিন মনজু’র জানান, প্রবাসী লুৎফর রহমান প্রভাব খাটিয়ে বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতি নদীর পাড় ও গ্রামের নমপাড়া পঞ্চায়েত ঘাটলার জায়গা জবর দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছিলেন। বৃহস্পতিবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। ইছামতী নদী সহ সরকারি জায়গা কেউ অবৈধভাবে দখল করে রাখতে পারবে না। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

দোহারে গাঁজাসহ চার মাদক ব্যবসায়ীকে আটক

ঢাকার দোহার উপজেলায় গাঁজাসহ চার মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলো-শাহজাহান (৪৫), হুমায়ুন (৩৪), সোহেল (৩০) ও জুলহাস আকন(৪৫)। দোহার উপজেলার চর লটাখোলা ও কাজীরচর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ মে) সকালে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে এসআই আল নূর তারেক, এএসআই নান্টু কৃষ্ণ মজুমদার ও এএসআই মো. এরশাদ হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সদের সহায়তায় দোহার উপজেলার চর লটাখোলা ব্রিজে চেকপোষ্ট বসিয়ে শাহজাহান, হুমায়ুন ও সোহেল নামে তিন জনকে আটক করে। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে ৩৮৫ পুড়িয়া গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। অপরদিকে, দোহার উপজেলার কাজীরচর এলাকা থেকে ২৬০ গ্রাম গাঁজা সহ জুলহাস আকন নামে একজনকে আটক করে পুলিশ।
এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে দোহার থানায় মাদক মামলা রুজু করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

দোহারে এক পুলিশ কন্সটেবল আটক

বৃহস্পতিবার দুপুরে দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের পশ্চিম চর থেকে সাইফুল ইসলাম নামে এক পুলিশ কন্সটেবলকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ। দোহার থানার এসআই আক্কাস আলির নেতৃত্বে তাকে আটক করা হয়। সাবিনা নামের এক নারীসহ বিভিন্ন নারীর সাথে প্রেমে প্রতারণা ও ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি আপলোড করায় তাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ধারা ২৬ উপধারা ২ এ গ্রেফতার করা হয়। তার পিতার নাম নাসিরুদ্দিন। বাড়ি নারিশা পশ্চিম চর সুইচগেট সংলগ্ন। সে বর্তমানে ফরিদপুর জেলা পুলিশ লাইনে কন্সটেবল পদে কর্মরত। সাইফুল ইসলাম বর্তমানে দোহার থানা পুলিশি হেফাজতে আছে। আগামীকাল তাকে কোর্টে প্রেরণ করা হবে। সেখানে বাদী উক্ত নারীর উপস্থিতিতে শুনানি হবে বলে জানা যায়।

ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রতিবাদে দোহারে মানববন্ধন

ঢাকার দোহার উপজেলায় ফিলিস্তিনে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জয়পাড়া থানার মোড় এলাকায় এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে বিলাসপুর ইসলামী কল্যাণ ফাউন্ডেশন।
এসময়ে একটি প্রতিবাদ মিছিল করে জয়পাড়া থানার মোড় হয়ে রতন চত্বরে এসে মিলিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এবারের ঈদুল ফিতরে বিশ্বের অন্য মুসলমানরা যখন পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের দিনের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। ফিলিস্তিনি অধিবাসীরা তখন ব্যাস্ত স্বজনের লাশ দাফনে। এছাড়া তারা ব্যাস্ত বোমা ও গুলিতে ক্ষতবিক্ষত স্বজনদের প্রাণ বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছে।

বক্তারা আরও বলেন, দখলদার ইসরায়েলী বাহিনী ধারবাহিকভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং হত্যাকান্ড- সংঘটিত করছে। বিশ্ব জনমতকে উপেক্ষা করে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী ফিলিস্তিন জনগোষ্ঠীকে তাদের আবাসস্থল থেকে উচ্ছেদ করে ইসরায়েল নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার নীলনকশা বাস্তবায়ন করে আসছে।

মানববন্ধনে ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বক্তারা আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ। তিনি ইজরায়েলকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ঘোষণা করেছেন। একইসাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট দাবী রাষ্ট্রীয়ভাবে ইজরায়েলের পৃষ্ঠপোষকদের পণ্য বর্জনের ডাক দিয়ে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

তারা বলেন, ফিলিস্তিনের ওপর, মুসলমানদের ওপর ইসরায়েলের হামলা এবারই প্রথম নয়, তারা যখনই সুযোগ পেয়েছে হামলা-গণহত্যা চালিয়েছে। এবার তারা এমন এক সময় গণহত্যা চালাচ্ছে, যখন সারা বিশ্ব করোনায় বিপর্যস্ত। ইসরায়েলের এই নারকীয় বর্বরোচিত গণহত্যা, শিশু হত্যা, নারী হত্যার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। ইসরায়েল নিঃসন্দেহে মানবতাবিরোধী অপরাধে অপরাধী। তাদের মানবতাবিরোধী কাজের প্রতি আমারা তীব্র নিন্দা জানাই।
মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার ও উপস্থিত পথচারীরা অংশ নেন।

রোজিনা ইসলামের আটকের প্রতিবাদে দোহার প্রেসক্লাবের মানববন্ধন

জাতীয় গণমাধ্যম দৈনিক প্রথম আলো’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে আটক ও হেনস্থার প্রতিবাদে ও দূর্নীতিবাজ এবং দোষীদের বিচারের দাবীতে মাননবন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে দোহার উপজেলা প্রেসক্লাব। বুধবার বিকাল ৪ঃ১৫টায় দোহার উপজেলার রতন স্বাধীনতা ভাস্কর্য এর সামনে দোহার প্রেসক্লাবের ব্যানারে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে।

সেসময় উপস্থিত ছিলেন দোহার প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক তারেক রাজিব, দোহারে প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান, ৭১’টিভির দোহার-নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ফারুক আহমেদ, সাপ্তাহিক জাগ্রত জনতার সাব-এডিটর আলমগীর হোসেন, দৈনিক আগামীর সময়ের হাশেম ফকির, বিজয় টিভি’র আতাউল রহমান সানি, দৈনিক যায়যায়দিনের শেখ সোহেল রানা, এশিয়ান টিভির দোহার-নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি আবু নাঈম দোহারী, চ্যানেল এস দোহার প্রতিনিধি কাজী জুবায়ের, সুজন আহমেদ নববাংলা, শরীফ হাসান আজকের প্রতিকা দোহার উপজেলা প্রতিনিধি, সাইফুল ইসলাম আগামীর সময় দোহার উপজেলা প্রতিনিধি, তৌহিদুল ইসলাম নিউজ৩৯,
আল আমিন দৈনিক সকালের সময়ের দোহার উপজেলা প্রতিনিধি, মাকসুমুল মুকিম আমার সময় দোহার উপজেলা প্রতিনিধি।

দোহার প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক তারেক রাজিব বলেন, রোজিনা ইসলামকে পাঁচ ঘন্টা সচিবালয়ে আটকিয়ে রেখেছে নির্যাতন করার পর, তাকে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়। এটা আমাদের সংবিধান বিরুদ্ধী এবং সংবিধানের ৩৯ ধারায় স্বাধীন গণমাধ্যমের কথা বলার অধিকার দেওয়া হয়েছে। আমাদের সেই অধিকার ফিরে চাই এবং রোজিনা ইসলামকে যে অফিসিয়াল সিকুয়েন্সসি আইনে ধরা হয়েছে, এটা ছিল বৃটিশ শাসনামলে স্বাধীনতাকামীদের নিস্পেষণ করার আইন। আমরা এই আইন বাতিলের দাবি জানাই। রোজিনাকে যে মামলা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো জামিনের যোগ্য ছিল, তা না দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর হয়। সে জন্য আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।

বক্তরা বলেন, স্বাস্থ্য দপ্তরের বিভিন্ন দূর্নীতির সংবাদ পরিবেশন করায় প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে হেনস্থা করে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। দ্রুত রোজিনা ইসলামকে মুক্তি না দিলে, জাতীয় প্রেসক্লাবের নির্দেশনা মোতাবেক বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে জানান তারা।