দোহারে মোবাইল কোটের মধ্যেমে ১১ জন্যকে অর্থদন্ড

ঢাকার দোহার উপজেলায় সরকার ঘোষিত লকডাউনে সরকারি নির্দেশ অমান্য করায় মোবাইল কোটের মধ্যেমে ১১ জনকে অর্থদণ্ড প্রদান করেছে দোহারের ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ সোমবার সকালে সারা দেশের ন্যায় ঢাকার দোহার উপজেলায় সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন কার্যক্রমকে বাস্তবায়ন করতে দোহার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযান চালান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র। দোহার উপজেলার থানার মোড় ও জয়পাড়া বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এবং স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে এই মর্মে সকলকে সর্তক করা হয়।
এ সময়ে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনে সরকারি নির্দেশ অমান্য করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত সংক্রামণ রোগ ২০১৮ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এ ১১টি মামলায় ৬৮০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অভিযানে সহযোগিতা করেন দোহার থানা পুলিশ।

দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, গতকাল থেকে সরকার লকডাউন বৃদ্ধি করেছে আর তারি ধারাবাহিকতায় আজ আমরা থানার মোড় ও জয়পাড়া বাজারে অভিযান পরিচালনা করি। প্রতিদিনই সারা দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং যাতে দোহারে এমন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি না পায় সে জন্য আমরা নিয়মিত অভিযান চালাবো। স্বাস্থ বিধি না মানলে দোহার উপজেলা প্রশাসন কঠোর হতে বাধ্য হবে।

ঈদ পরবর্তী দোহার উপজেলা প্রশাসনের অভিযানঃ ১৩ জনকে জরিমানা

ঢাকার দোহার উপজেলায় সরকার ঘোষিত লকডাউনে সরকারি নির্দেশ অমান্য করায় ১৩ জনকে অর্থদণ্ড প্রদান করেছে দোহারের ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ রবিবার সকালে সারা দেশের ন্যায় ঢাকার দোহার উপজেলায় সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন কার্যক্রমকে বাস্তবায়ন করতে দোহার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযান চালান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র। দোহার উপজেলার থানার মোড় এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এবং স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে এই মর্মে সকলকে সর্তক করা হয়।
এ সময়ে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনে সরকারি নির্দেশ অমান্য করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত সংক্রামণ রোগ ২০১৮-এ কয়েকজনসহ ১৩টি মামলায় ৪৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অভিযানে সহযোগিতা করেন দোহার থানা পুলিশ।

দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, আজ থেকে সরকার লকডাউন বৃদ্ধি করেছে আর তারি ধারাবাহিকতায় আজ আমরা থানার মোড়ে অভিযান পরিচালনা করি। প্রতিদিন ই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দোহারে বৃদ্ধি পাচছে। স্বাস্থ বিধি না মানলে দোহার উপজেলা প্রশাসন কঠোর হতে বাধ্য হবে।

দোহারে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার ওপর হামলা: কুপিয়ে জখম

ঢাকার দোহারে পূর্ব শত্রুতার জেরে শেখ সেন্টু নামে এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।

সোমবার রাত আনুমানিক আটটার দিকে উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের চর কুসুমহাটি এলাকায় এ ঘটনায় ঘটে। আহত শেখ সেন্টু ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলার সুন্দরীপাড়া গ্রামের শিকিম আলীর ছেলে।

আহত শেখ সেন্টু জানায়, প্রয়োজনীয় কাজে রাত ৮টার দিকে সে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। পথিমধ্যে স্থানীয় বখাটে আকতার, সাগর, সানু ও ফরহাদ সহ কয়েকজন প্রথমে তাকে পিছন থেকে জাপটে ধরে। এরপর তাকে কুপিয়ে আহত করে রাস্তায় ফেলে রাখে। তিনি দাবি করেন এসময় আকতারের বাবা সির্জন মোল্লা একটু দূরেই বসে ছিলেন।

আহত সেন্টুকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থা অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারন এখনো জানা যায়নি।

দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্হিবিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক কাজী মোঃ ওমর ফারুক জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৪/১৫ টা ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। যার ফলে শরীর থেকে অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় প্রেরণ করেছি।

এ ঘটনায় পুলিশ দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দোহার থানায় একটি অভিযোগ প্রক্রিয়াধীন।

নবাবগঞ্জে ঈদ বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

ঢাকার নবাবগঞ্জে পন্যের গায়ে মূল্য প্রদর্শন করায় পাঁচ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। রবিবার বিকেলে উপজেলার চূড়াইন ইউনিয়নের গোবিন্দপুর বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অরুণ কৃষ্ণ পাল। এছাড়া নবাবগঞ্জের বাগমারা বাজারেও অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ঈদকে সামনে রেখে নবাবগঞ্জে মার্কেটগুলো নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। রবিবার গোবিন্দপু বাজারে অভিযান চালিয়ে পাঁচ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। এছাড়া মাস্ক না পড়ায় দুই জনকে অর্থদ- দেওয়া হয়। পাশাপাশি জনসচেতনতার লক্ষ্যে পথচারীদের মাঝে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করেণ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অরুণ কৃষ্ণ পাল।

এছাড়া বাগমারা চাঁদনী প্লাজার পর এবার বান্দুরা বাজারে কাপড়ের দোকানগুলোতে অভিযান পরিচালনা করেছেন প্রশাসন৷ এসময় পণ্যের মুল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় এবং দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য রাখায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন,২০০৯ অনুযায়ী ৩ কাপড়ের দোকানদারকে আর্থিক জরিমানা করা হয়। এছাড়া জনসচেতনতার লক্ষ্যে মাস্ক বিতরণ করা হয় এবং ক্রেতা ও দোকানীদের মাস্ক পড়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করার আহ্বান জানান৷

অরুণ কৃষ্ণ পাল বলেন, পণ্যের গায়ে মূল্য প্রদর্শন না করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৫ দোকানীকে অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। এই অভিযান চলমান থাকবে।

এখন রাজনীতি নয়, আপনাদের পাশে থেকে কাজ করে যাব: সালমা ইসলাম এমপি

পৃথিবীব্যাপী মানুষ এখন করোনাভাইরাসের আতঙ্কে। তাই এ সময়ে কোনো রাজনীতি নয়। আপনাদের ভালোবেসে আমার পক্ষ থেকে ঈদ উপহার হিসেবে শাড়ি কাপড় পাঠিয়েছি। আপনারা জানেন, প্রতি বছর রমজান মাসের শেষদিকে আপনাদের সবার সাথে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে আমি আপনাদের মাঝে উপস্থিত হতাম। এবার কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস নামক মহামারির কারণে উপস্থিত হতে না পারলেও আপনাদের কথা ভুলে যাইনি। আমার জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মাধ্যমে, আমার নিজস্ব অর্থে কেনা ঈদ উপহার আপনাদের জন্য পাঠিয়ে দিলাম।

শনিবার ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার লোকের মাঝে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শাড়ি কাপড় বিতরণকালে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন তিনি। এ সময় উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে এসব কথা বলেন যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি।

এদিন জাতীয় পার্টির নেতারা সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপির পক্ষ থেকে কলাকোপা, যন্ত্রাইল, বান্দুরা, নয়নশ্রী, শিকারীপাড়া, বারুয়াখালী ও জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে শাড়ি কাপড় বিতরণ করেন।

এ সময় সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলাম বলেন, সারা বিশ্ব এখন করোনায় বিপর্যস্ত। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি বাংলাদেশসহ পৃথিবীর প্রতিটি জনপদের মানুষ যেন করোনাভাইরাস নামক মহামারির সংক্রমণ থেকে নিরাপদে থাকেন। আপনারাও আল্লাহর কাছে এ প্রার্থনা করবেন। আমার প্রিয় নবাবগঞ্জবাসী আপনাদের যে কোনো প্রয়োজনে আমি পাশে ছিলাম। আগামী দিনগুলোতেও পাশে থেকে এ জনপদের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান সালমা ইসলাম আরও বলেন, সারা পৃথিবীতে এখন করোনার মহামারি চলছে। আমাদের প্রতিবেশী ভারতের জনসাধারণও করোনা সংক্রমণে ভালো নেই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা সংক্রমণ রোধে রাত-দিন কাজ করে চলেছেন। তাই আমাদের সবাইকে এ সময়ে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব ধরনের কাজ করতে হবে। তাহলে আমরা করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে পারব।

তিনি নবাবগঞ্জের সবাইকে অগ্রিম পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, করোনালীন এ সময়ে গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের হাতে কোনো কাজ নেই। আমি জানি পরিবার-পরিজন নিয়ে আপনাদের চলতে কষ্ট হচ্ছে। আমার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম এখন আমাদের মাঝে নেই। তিনি দোহার-নবাবগঞ্জবাসীকে অনেক অনেক ভালোবাসতেন। আপনারা জানেন, দেশের দুর্যোগময় সময়ে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়তেন আপনাদের জন্য- দোহার ও নবাবগঞ্জের মাটি-মানুষের প্রতি ভালোবাসার টানে। তিনিই আমাকে শিখিয়েছেন ও অনুপ্রাণিত করেছেন আপনাদের জন্য কাজ করতে, আপনাদের সবার সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে। আমি আছি তার দেখানো পথ ধরে, আপনাদের পাশে। দোয়া করবেন ও পাশে থাকবেন- এই প্রত্যাশা করি। আপনারা ভালো থাকুন।

সালমান এফ রহমানের সৌজন্যে ৪২ হাজার পরিবার পেলো প্রধানমন্ত্রীর উপহার

করোনায় কর্মহীন ও অসহায়  দোহার-নবাবগঞ্জবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর  বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা, ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান। তার পক্ষ থেকে  দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় পর্যায়ক্রমে ৪২ হাজার ৩ শ’ ৬৩ অসহায় কর্মহীন পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ২১ হাজার ৯ শ’ ৭৯ পরিবার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে আর্থিক সহযোগিতা পেলেন। এবং দোহার উপজেলা পৌরসভাসহ ৮টি ইউনিয়নে ৪৫০ টাকা হারে দোহার পৌরসভাসহ ৪ হাজার ৬ শ’ ২১ এবং ৫০০ টাকা হিসেবে দোহার উপজেলায় ১৫ হাজার ৭ শ’ ৬৩ সহ মোট ২০ হাজার ৩ শ’ ৮৪ পরিবার আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন। এর তালিকায় রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, দোকানের কর্মচারী,  পোল্ট্রি খামারের শ্রমিক, বাস-ট্রাকসহ পরিবহন শ্রমিক, হকারসহ নানা পেশার মানুষ রয়েছেন। নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে ৭ হাজার পরিবারকে ৫০০ টাকা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। এবং উপজেলার ১৪ হাজার ৯ শ’ ৭৯ অতি দরিদ্র, অসহায়, দুস্থ পরিবারকে ৪৫০ টাকা হিসেবে ঈদ উপহার প্রদান করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ নাসির উদ্দিন আহমদ ঝিলু জানান, আমরা সালমান এফ রহমান এমপি’র মতো কীর্তিমান মানুষ পেয়ে নিজেদের খুবই ভাগ্যবান মনে করছি। দেশবরেণ্য শিল্পপতি হয়েও তিনি জন্মস্থানকে ভুলে যাননি।

যেকোনো বিপদেই আমরা তাকে পাশে পেয়েছি। আমি নবাবগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।

 দোহার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদ জানান, দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার অভিভাবক ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান স্যারের দিকনির্দেশনায় অসহায়  দোহারবাসীর পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম সালাউদ্দীন মনজু বলেন, এ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে আর্থিক সহযোগিতা পেয়েছেন। যাচাই বাছাই করে নামের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। যারা প্রাপ্য তারা  যেন তালিকা থেকে বাদ না পড়ে  সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। আশা করি, মানুষের দুর্দশা অনেকাংশে লাঘব হবে।

দোহারে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ক সচেতনতা কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ঢাকার দোহার উপজেলায় জলবায়ু পরিবর্তন, আঘাত প্রতিরোধ, খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৮-মে) সকাল সাড়ে ১০ টায় দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
লাইফস্টাইল, হেলথ এডুকেশন এন্ড প্রমোশন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়নে কর্মশালায় জলবায়ু পরিবর্তন, আঘাত প্রতিরোধ, খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতনতামূলক আলোচনা করা হয়।

দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. বিল্লাল হোসেন,

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার- ডা. হুসাইন মো. আল-আমিন, ডা. কাজী মো. ওমর ফারুক, জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ডা. ইসমাত জাহান লাকী, উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন-সহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ও কর্মচারী সহ সাংবাদিক বৃন্দ।

দোহারের কৃষকেরা মেতেছে ধান কাটার উৎসবে

পাকা ধানের গন্ধে ম-ম করছে পুরো এলাকা। ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যাস্ত কৃষকেরা।সারা দেশে চলছে ধান কাটার উৎসব।এই উৎসবে মেতেছে দোহারের ধান চাষীরাও।

দোহারে জালের মতো ছড়িয়ে আছে ধানের ক্ষেত। আর এইসব ক্ষেত থেকে প্রতিবছর হাজার-হাজার মণ ধান উৎপাদন হচ্ছে।ভারী বৃষ্টি এবং শিলা বৃষ্টির কারনে প্রতিবছর ধান কাটার বিলম্ব হয় এবং ধানের ক্ষতি হয়। এই বছর এখনও পর্যন্ত সেই ক্ষতির মুখ দেখতে হয়নি এই উপজেলার কৃষকদের।

দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়,প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়।এবং শ্রমিকদের দৈনিক পারিশ্রমিক ৫০০ টাকা।

কৃষক সায়েদ মোল্লা  নিউজ৩৯কে বলেন, প্রথমবারের মতো ধান চাষ করেছি।খুবই আশঙ্কার মধ্যে ছিলাম কী হয় না হয়।তবে আল্লাহর রহমতে ধান খুবই ভালো হয়েছে।এবং এই বছর ধানের ভালো দাম পাচ্ছি।তবে ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাওয়া একটু কষ্ট হচ্ছে। এ সময় তিনি আরো বলেন ভারী বৃষ্টির আগে ধান কেটে ফেলতে পারলে কৃষকেরা লাভবান হবে।

কৃষকদের এই আমেজকে অটুট রাখতে এবং শ্রমিক সংকট নিরসনে দোহার উপজেলা প্রশাসন এবং দোহার কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের মাধ্যমে সরকারের কৃষি যন্ত্রপাতি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে কম্বাইন্ড হারভেস্ট মেশিন (আধুনিক ধান কাটার যন্ত্র) কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এই মেশিন দিয়ে ধান কাটা,ঝাড়া,মাড়াই ও বস্তায় ভরা যাবে। করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমিক সংকটে দোহার উপজেলার যে কোন প্রান্তের কৃষক উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে এই মেশিনের সহায়তা গ্রহন করতে পারবে।

চলাচলের অনুপযোগী মইতপাড়া-মুকসুদপুর সড়ক

চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের মুকসুদপুর-মইতপাড়া সড়ক। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে প্রায় হাজারো গ্রামবাসী। জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে উপজেলার মুকসুদপুরের মইতপাড়া এলাকায় ইট সলিংয়ের কাজ হয় এ সড়কে। এর কয়েক মাস পরে সড়কটি ভেঙে পরে যায় পাশের খালে। কিন্তু ঠিক করার উদ্যোগ নেয়া হয়নি গত ৬ বছরেও।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম মোল্লা জানায়, এ সড়কটির জন্য ভোগান্তিতে পরেছি আমরা সকল এলাকাবাসি। কয়েক দফা জনপ্রতিনিধি ও নেতা কর্মীদের কাছে ধরনা দিতে দিতে আমরা আজ ক্লান্ত হয়ে পরেছি। পরে আমার নিজেস্ব অর্থায়নে কয়েকটি খনা খন্দন স্থানে মাটি দিয়ে ভরাট করি। যে কাজটি করার কথা জনপ্রতিনিধিদের সে কাজটি আমি করেছি আমার নিজস্ব অর্থে। আবার কয়েক দফায় গাড়ি চলাচল করায় ফের সড়কটি খনা খন্দনে পরিনিত হয়েছে এবং আবার ভোগান্তির শিকার হচ্ছে স্থানীয়রা। এখান দিয়ে ইজিবাইকতো দুরের কথা কোন গাড়িই আসতে চায়না এত ভাঙ্গার কারনে। কোন অসুস্থ্য রোগী বা প্রসূতি মাকে হাসপাতালে নিতে গেলে ভোগান্তিতে পরতে হয় সে সাথে কোন রিকশা আসলে তা ঠেলে নিতে হয়। তাই আমরা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি কামনা করছি, আমাদের মাত্র এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করে যেন এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং সে সাথে আমরা দোহারের এমপি সালমান এফ রহমানের কাছে দাবি জানাই আমাদের এই রাস্তাটি করে দিতে।

স্থানীয় অটো চালাক অভিযোগ করে বলেন, আমাদের এই রাস্তাটি খারাপের কারণে আমাদের ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে সমস্যা হয়। বাসায় থেকে অটোরিকশা বা রিকশায় পাঠাতে পারলে আমাদের চিন্তা কম হয়। কিন্তু এখন রাস্তার যে অবস্থা তাতে কোন রকম যানবাহন চলাচল করতে চায় না এই রাস্তাটি দিয়ে। আর তাছাড়া এই রাস্তায় প্রায় দূর্ঘটনা ঘটে থাকে আর মাঝে মাঝে এই দূর্ঘটনার কারনে হাসপাতালেও যেতে হয় চিৎসাকরানোর জন্য।

এই রাস্তায় দিয়ে একমাত্র ব্যাক্তিগত যানবাহন চলাচল করে তাও তারা চলে দায় ঠেকে। আমরা এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নানের কাছে গেলে তিনি আমাদেরকে বলেন যে এই রাস্তাটি করে দিবে। কিন্তু পরর্বতীতে তিনি এই রাস্তাটি আর করে দেন নাই। এখন আমাদের দাবি এই রাস্তাটি যাতে মেরামত করে চলাচলের জন্য অনুপযোগী করে দেওয়া হয়।

এ বিষয় মুকসুদপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল হান্নান বলেন, রাস্তাটি অর্ধক মেরামত করা হয়েছে। বাকিটুকু বাজেটে না থাকার কারনে আমরা করতে পারি নাই। তবে বাকি অংশটুকু এলজিডির কাছে বাজেট দেওয়া হয়েছে। আগামী বছর বাকিটুকু মেরামত করা হবে।

দোহারে সেজেছে কৃষ্ণচূড়ার রঙে

বৈশাখের আকাশে ফুটন্ত সূর্য, রোদ্দুরে তপ্ত প্রকৃতি, হঠাৎ হঠাৎ মৃদু গরম হাওয়া। করোনার থাবায় ভয়ার্ত দোহার উপজেলা লকডাউনের খপ্পরে। জনমানুষ শূন্য পথঘাট। জনজীবনে শঙ্কা-উৎকণ্ঠা থাকলেও প্রকৃতি চলছে তার আপন মহিমায়। তাই তো লকডাউনের মধ্যেও দোহার উপজেলা সেজেছে কৃষ্ণচূড়া ফুলের রূপে।

ফুলে-মুকুলে সেজেছে তার চিরচেনা রূপে। করোনার মধ্যেই প্রায় দূষণহীন দোহারের আনাচে-কানাচে উঁকি মারছে গ্রীষ্মের নানা রঙের ফুল। এ ঋতুতে কখনো কালবৈশাখীর রুদ্র তাণ্ডব আবার কখনো রোদের খড়তাপ। একই সঙ্গে গাছগাছালিতে নানা জাতের পাখিদের কিচিরমিচিরও প্রকৃতিতে প্রাণ ফেরার কথাই জানান দিচ্ছে।

এমন রুক্ষ গ্রীষ্মে প্রকৃতি সাজছে বাহারি ফুলে। যে ফুল কেড়ে নেয় দোহার উপজেলাবাসীর মন। গাছে গাছে ফুটেছে রক্তিম লাল কৃষ্ণচূড়া। এবার করোনার মন খারাপ সময়ে নীরবে সৌন্দর্য বিলাচ্ছে কৃষ্ণচূড়া। ঝলমলে রঙের খেলা আর কখনো কখনো বাতাসে সোঁদা গন্ধে আপন ছন্দ তুলে ধরেছে প্রকৃতি। দোহার উপজেলার রাস্তা গুলো যেনো সেজেছে  কৃষ্ণচূড়া ফুল দিয়ে।

এখন দোহার উপজেলার প্রায় এলাকার অলিগলিতে ও রাস্তায় এই গাছের দেখা মিলছে। তবে দোহারের প্রাণকেন্দ্র জয়পাড়া বাজার এলাকায় কৃষ্ণচূড়ার লাল আগুন চোখে পড়ে। কৃষ্ণচূড়ার এই মায়াবী আহ্বান পথচারী সব বয়সের মানুষের হৃদয়কে আন্দোলিত করে। কেননা- দুঃখ, যন্ত্রণা, বঞ্চনা, হতাশা ও সংশয়ে ভরা আমাদের যাপিত জীবনে ফুল ও বৃক্ষ আনন্দ আর প্রেমের এক অফুরান উৎস।

কৃষ্ণচূড়া ফুলের বর্ণ-বৈচিত্র লক্ষণীয়। গাঢ় লাল, লাল, কমলা, হলুদ এবং হালকা হলুদের এক দীর্ঘ বর্ণালীতে বিস্তৃত এর পাপড়ির রঙ। প্রথম ফোটার উচ্ছ্বাস আস্তে আস্তে স্তিমিত হয়ে আসলেও বর্ষার শেষ পর্যন্ত কৃষ্ণচূড়ার গাছ থেকে ফুলের রেশ হারিয়ে যায় না। শুধু ফুল নয়, পাতার ঐশ্বর্যেও কৃষ্ণচূড়া অনন্য। এই পাতার সবুজ রঙ এবং সূক্ষ্ম আকৃতি অতিশয় আকর্ষণীয়।

গ্রীষ্মের খেয়ালি হাওয়ায় নম্র, নমনীয় পাতাদের নৃত্য বড়ই দৃষ্টি শোভন। কৃষ্ণচূড়ার কচি ফলেরা পাতার মতোই সবুজ। তাই পাতার ভিড়ে সহজে তাদের দেখা যায় না। শীতের হাওয়ায় পাতা ঝরে গেলেই ফল চোখে পড়ে। পাকা ফল গাঢ় ধূসর। পাতাহীন কৃষ্ণচূড়ার শাখায় তখন ফল ছাড়া আর কিছুই থাকে না। বসন্তে আবার কৃষ্ণচূড়ার দিন ফেরে। একে একে ফিরে আসে পাতার সবুজ, প্রস্ফুটনের বহুবর্ণের দীপ্তি নিঃশব্দে ঝরে পড়ে বির্বণ ফলেরা। কৃষ্ণচূড়া ফিরে পায় তার দৃষ্টি নন্দন শোভা।

গ্রীষ্মের তাপদাহে ক্লান্ত নয়নে প্রশান্তির বার্তাবাহক এই কৃষ্ণচূড়া। উঁচু আসনে লাল- বসনে রানির বেশধারী কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতির মাঝে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে যেন। ডালে ডালে চোখ- ধাঁধানো রঙের ঔজ্জল্য ছড়ায় রক্তলাল কৃষ্ণচূড়া। দীর্ঘ, প্রসারিত গাছে ফুলের প্রাচুর্য লাল হয়ে ওঠে আকাশে-বাতাসে। এ যেন লাল রঙের এক মায়াবী ক্যানভাস, যে কারো চোখে এনে দেয় শিল্পের দ্যোতনা।

বাঙালির কবিতা, সাহিত্য, গান ও বিভিন্ন স্থানে কৃষ্ণচূড়া ফুলের কথা নানা ভঙ্গিমায় উঠে এসেছে। কবি শামসুর রহমান লিখেছেন, ‘আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে/কেমন নিবিড় হয়ে। কখনো মিছিলো কখনো বা/একা হেঁটে যেতে যেতে মনে হয়- ফুল নয়, ওরা/শহীদের ঝলকিত রক্তের বুদবুদ, স্থৃতিগন্ধে ভরপুর।’

দোহারে সেজেছে কৃষ্ণচূড়ার রঙে

কৃষ্ণচূড়া এক ধরনের বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ, যার ইংরেজি নাম ফ্লেম ট্রি (Flame Tree) এবং বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া (Delonix Regia)। এই গাছ চমৎকার পত্র-পল্লব এবং আগুনলাল কৃষ্ণচূড়া ফুলের জন্য প্রসিদ্ধ। এটি ফাবাসিয়ি পরিবারের অন্তর্গত একটি বৃক্ষ।

আমাদের দেশে সাধারণত বসন্তের শেষের দিকে এ ফুল ফোটে। কৃষ্ণচূড়ার ফুল ফোটার আগে কলি দেখতে মোহরের মতো দেখায়, তাই হিন্দিতে এই ফুলকে বলা হয় গুলমোহর। ‘ফুটুক না কৃষ্ণচূড়া, ছুঁয়ে দিক মন, জেগে উঠুক ভালোবাসার বন্ধন’।