দোহারে নতুন করে ৮৭ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত

দোহারে নতুন করে আরও ৮৭ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৪৮ জনে।

শুক্রবার (৩০ জুলাই) বিকাল ৩ টা ৪৫ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, গত সোমবার ২৬ জুলাই উপজেলা থেকে ১৭৪ টি নমুনা পাঠানো হয়। এ থেকে ৮৭ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৫০ শতাংশ। নতুন করোনা শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৫০৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৪৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। উপজেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ২৬ জন মারা গেছেন।

ফরিদপুর থেকে মৈনট ঘাটঃ কোভিড ছড়ানোর আশংকা

0

শরিফ হাসান ও আল আমিন, news39.net: সোমবার ভোর ৪:৩০ মিনিট। news39.net এর একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত দোহারের মৈনট ঘাটে। সরেজমিনে দেখতে চায় প্রতিনিধি দলটি কেমন চলছে দোহারের প্রবেশ পথে লকডাউন। দেশব্যাপী লকডাউন শুরুর পূর্বেই দোহার-নবাবগঞ্জের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দোহারের সাথে ফরিদপুরের সকল নৌরুট ও মানিকগঞ্জের সড়কপথ বন্ধ করে, কার্যত ঢাকা থেকে দোহার-নবাবগঞ্জ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়ে ভার্চ্যুয়াল মিটিং করেছিলেন স্থানীয় সাংসদ সালমান এফ রহমান এমপি।

অনেকর নিশ্চয় মনে আছে, কাজী নজরুল ইসলামের “খোকার সাধ” কবিতায় পড়েছিলেন “সূয্যিমামা জাগার আগে উঠব আমি জেগে/ হয়নি সকাল, ঘুমো এখন’- মা বলবেন রেগে/……../ হয়নি সকাল- তাই বলে কি সকাল হবে না ক? তেমনি দোহারে প্রশাসনের ঘুম ভেংগে জাগার আগেই, জেগে যায় মৈনট ঘাট। জেগে যায় সিএনজি চালকেরা। এদের সকাল ৬:৩০ টার পূর্বে অবস্থান মৈনটঘাট, কার্তিকপুর বাজার সহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আশেপাশে।

ভোর সকালেই এসব চালকেরা জেগে ওঠেন। অপেক্ষায় থাকেন, যাত্রী পারাপারের। মৈনট ঘাট দিয়ে মাছ ধরার ও পণ্য পরিবহনের ট্রলারে এসব যাত্রী পারাপার হোন। তারা এসে নামেন, ভাসমান রেস্তোরাঁর পূর্বপাশে। ঘাটের পাশেই ঢাকা জেলা পুলিশের রয়েছে একটি জনশূন্য টহল বোট। আর ঘাটের আধা কিলোমিটার দূরেই মৈনট পুলিশ ফাড়ি। সবাই তখন ঘুমে বা সকালের কাজে ব্যাস্ত। আর তখনই সক্রিয় ট্রলার ও সিএনজি চালকেরা। ইজারাদারদের সামনে এসব ঘটলেও, তারা জানান তারা কিছুই জানেন না।

ছবিঃ যাত্রী পারাপার হচ্ছে।

দেখা যায়, কিছুক্ষণ পর পর একটা করে মাছ ধরার নৌকা আসছে, আসছে বড় পণ্যবাহী ট্রলার। এসব ট্রলারে মাছ আনা হয় মৈনটের আড়ৎ এ বিক্রির জন্য। মাছ ও পণ্যের সাথে আসছেন যাত্রীরা। ফরিদপুর থেকে এসব যাত্রী নিয়ে আসছেন দোহার হয়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য। মৈনটঘাট থেকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও কেরানীগঞ্জের কদমতলীর উদ্দেশ্যে এসব যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাচ্ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা।

ছবিঃ যাত্রী ও কিছু আয়ের অপেক্ষায় সিএনজি চালকেরা। 

মৈনট ঘাটে সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ডে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চালক news39.net টিমকে যাত্রী ভেবে বলেন, ‘প্রতিদিন অটোরিকশা নিয়ে রাজধানীতে তারা যাতায়াত করেন। তবে তারা রাজধানীর ভেতরে যান না। কেরানীগঞ্জের কদমতলী আর মোহাম্মদপুরের বছিলা পর্যন্ত তারা যাত্রী নিয়ে যান, বলে জানান। আর সকালে যাওয়া ক্ষেত্রে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। মাঝে মাঝে সমস্যা হলে, ম্যানেজ করে নেন।’ কিভাবে কি ম্যানেজ করে জানতে চাইলে, সিএনজি নিয়ে সরে পড়েন তিনি।

সরকারি বিধিনিষেধ না মেনে অটোরিকশা চালাচ্ছেন কেন, জানতে চাইলে পাশের চালক জানান, আমরা পেটের দায়ে নামি। আমাদের কি দেখার কেউ আছে? বাড়ীতে পোলাপান না খাইয়া থাকলে কি কোন বাপ বইস্যা থাকতে পারে? আমাগো খাওন দেন, খরচ দেন, একদিনও বাইর হমু না। তাই, প্রশাসনের চোখে ফাঁকি দিয়ে সিএনজি চালাই। পারবেন খালি আমাগো সাথে, বড়লোক আর নেতাগো সাথে পারবেন? এই বলে তড়িঘড়ি করে অটোরিকশা নিয়ে সরে পড়েন তিনিও।

মৈনটঘাট থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকের সঙ্গে কদমতলী পর্যন্ত যেতে ভাড়া নিয়ে দর-কষাকষি করেন যাত্রীরা। উচ্চ ভাড়ায় তারা চলে যান তাদের গন্তব্যে। তেমনিভাবে, দেখা যায়, প্রায় প্রতি যাত্রীই পরিবারের ২–৩ জন সদস্য নিয়ে তিনি ঢাকা যাচ্ছেন।

লকডাউনের বিধিনিষেধ অমান্য করে কেন ঢাকা যাচ্ছেন, জানতে চাইলে যাত্রীরা বলেন, ‘আমাদের সব ঢাকাতে। ঈদের ছুটিতে এসেছিলাম, এখন চলে যাচ্ছি। চাকরি করি, তাই ঢাকাতে যাচ্ছি। এরপর একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় জনপ্রতি ২০০ টাকা ভাড়ায় কেরাণিগঞ্জ কদমতলীর উদ্দেশে রওনা।

এই ধরনের পারাপার ও যাতায়াতে দোহারে সংক্রমণ বাড়ছে বলেই আশংকা স্থানীয় জনসাধারণের। এদের মধ্যে অনেকে রয়েছেন করোনা রোগী। দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলায় এখন রাস্তাঘাটে করোনা রোগী। জেনে বা না জেনে তারা ঘোরাঘুরি করছেন। ডাক্তার দেখাতে, ওষুধ কিনতে, অক্সিজেন সাপোর্ট নিতে, ঢাকায় উন্নত চিকিৎসা নিতে রাস্তায় রাস্তায় বিভিন্ন যানবাহনে এদের ঘোরাঘুরি। পূর্বের মতো লকডাউন এখন এতোটা কঠিনও নয়।

যদিও প্রতিদিনই সরকারি বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। প্রতিদিনই সকাল -সন্ধ্যা অভিযান চালান দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফএম ফিরোজ মাহমুদ নাঈম  ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র। সাথে দোহার থানা পুলিশের অফিসার ইন চার্জ মোস্তফা কামাল। প্রতিদিনই তাঁরা বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার জন্য বিভিন্ন জনকে করছেন জরিমানা করছেন।

মৈনটের স্থানীয় ট্রলার চালক শেখ কাইমদ্দিন জানান, যারা মাছ ধরে, আমরা তাদেরকেই নিয়ে আসি। মাছের সাথে যাত্রী কেনো পারাপার করছেন তাকে জিজ্ঞেস করা হলে;  তিনি বলেন, এক দুই জন মাছ বিক্রিতার সাথে আসে। সবারইতো জরুরি প্রয়োজন আছে। সরকারতো সব দিতে পারে না। মানুষেরও সুবিধা অসুবিধা আছে। আর কেউ অনুরোধ করলে মানুষ হিসাবেতো সব ফালাইয়া দিবারও পারি না। আপনারা কি পারবেন? তবে, এমনি কাউরে আনি না।

এ বিষয় মৈনটঘাট ইজারাদারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, মাছের অড়ৎ আর আমাদের ঘাট এক না। আমরা মাছের আড়ৎ এককভাবে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সেটা আমরা পাইনি। মাছের আড়ৎ এর কোন ইজারা আমাদের নাই।

তবে, news39.net এর প্রতিনিধি ঘুরে মৈনট ঘাট বা মাছের আড়ত কোথায়ই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে, ইজারাদারদের থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। জেলেরা, নিলামকারী প্রায় কারো মুখেই নেই মাস্ক। ক্রেতাদের কয়েকজনের আছে, আবার যাদের আছে, তাদের মাস্ক মুখের উপরে, নাকের নিচে। মৈনট ঘাট থেকে দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে মাছ বিক্রেতারা মাছ নিয়ে যান, আর এভাবেই ব্যাপকভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে আশাংকা জনসাধারণের।

বিষয়টি news39.net এর প্রতিনিধি টিমের মাধ্যমে জানার পর দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ মাহমুদ নাঈম জানান, অতি দ্রুতই তারা ব্যবস্থা নিবেন। কোন প্রকার অনিয়মেই ছাড় দেয়া হবে না।

পদ্মা সরকারি কলেজে অনার্স কোর্সে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি

পদ্মা সরকারি কলেজ
মুকসুদপুর, দোহার, ঢাকা-১৩৩৩।
কলেজ কোড: ৬৫৭২

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০২০-২০২১ সালের শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ অনার্স কোর্সে ঢাকা দক্ষিণ এর সেরা উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পদ্মা সরকারি কলেজ, মুকসুদপুর, দোহার, ঢাকায় ৭ম ব্যাচে ভর্তি চলছে।

হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা ও সমাজকর্ম বিভাগে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া ২৮ জুলাই ২০২১ থেকে ১৪ আগস্ট ২০২১ পর্যন্ত চলবে।

২৮/০৭/২০২১ তারিখ থেকে অনলাইনে (www.nu.ac.bd/admissions) আবেদন ফরম পূরণ করে ১৪/০৮/২০২১ তারিখের মধ্যে আবেদন ফি বাবদ ২৫০/-টাকা বিকাশের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।

সমাজকর্ম বিভাগ: বিকাশ (personal)-01718902791
হিসাববিজ্ঞান বিভাগ: বিকাশ নাম্বার-01817619024 (personal)
ব্যবস্থাপনা বিভাগ: বিকাশ 01914334676(personal)

পেমেন্ট এর সময় রেফারেন্স এর স্থানে অনলাইন আবেদনের রোল নম্বর উল্লেখ করতে হবে। প্রয়োজনে বিকাশ নাম্বারে ফোন করুন।

মোঃ জালাল হোসেন
অধ্যক্ষ
০১৩০৯-১০৮০০৯
০১৭১২-০৯৫৪৫৬

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে হতে পারে নির্বাচন: ২১ বছরের সীমানা জটিলতার অবসান দোহার পৌরসভার

আল-আমিন ও শরিফ হাসান, news39.net: দীর্ঘ ২১ বছর পর হতে যাচ্ছে দোহার পৌরসভার নির্বাচন। দোহার পৌরসভার সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান হয়েছে। একারণে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে বা অক্টোবরের মাঝামাঝি হতে পারে দোহার পৌরসভার নির্বাচন। একইসাথে, মাহমুদপুর, রায়পাড়া ও সুতারপাড়া ইউনিয়নেও পর্যায়ক্রমে ৩ বার নির্বাচন হয়নি। এখন এই ৩টি ইউনিয়নেও নির্বাচনের দ্বার উন্মুক্ত হলো।

২৬ জুলাই, সোমবার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১১৭তম সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সীমানা জটিলতার সমাধান হয়। এদিকে, একটি নির্বাচনের অভাবে দোহার পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে রয়েছে স্বেচ্ছাচারিতা, অস্বচ্ছতা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ।

বর্তমান গেজেট অনুসারে, দোহার পৌরসভার আয়তন হবে ১৪.৩১ বর্গ কিলোমিটার; পূর্বে যা ছিলো ২১.১২ কি.মি। নতুন সীমানা অনুযায়ী সুতারপাড়া ইউনিয়ন থেকে ৪.০৫ ব.কি.মি, মাহমুদপুর থেকে ১.৮৬ ব.কি.মি. এবং রাইপাড়া থেকে ০.৯৯ ব.কি.মি. এলাকা বাদ যাবে। পূর্বে দোহার পৌরসভার মোট জনসংখ্যা ছিলো ৭১হাজার ৩৬২ জন। পুরুষ ভোটার ৩৫,০২৪ জন (৪৯.০৮ %), মহিলা ভোটার ৩৬৩৩৮ জন (৫০.৯২ %)।

দোহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন এর প্রচেষ্টায় এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং দোহার উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দোহার পৌরসভার সীমানা সংকোচন এবং সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

দোহার পৌরসভা নিয়ে news39.net সহ বেশ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় একাধিকবার সংবাদ প্রকাশের পর ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সাংসদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এই বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন।

নতুন পৌরসভার সীমানা নিয়ে দোহার উপজেলার চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন news39.net-কে বলেন, নিকারের ১১৭তম সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দোহার পৌরসভার এই সীমানা জটিলতার সমাধান হয়। আমরা ২১ বছর পর একটি সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সুন্দর পৌরসভার প্রত্যাশা করছি।

নতুন সীমানা সম্পর্কে আলমগীর হোসেন news39.net কে বলেন, দোহার পৌরসভার যে সীমানা জটিলতা ছিল, সেটি কিছু সম্প্রসারণ ও কিছু সংকোচন করা হয়েছে। সম্প্রসারণ করা হয়েছে যে গ্রামটা রশিদ ব্যাপারীর বাড়ির পিছনে ইউসুফপুরের অংশ, পৌরসভার বাইরে সুতারপাড়া ইউনিয়নের ছিল; এখন সেই এলাকাটি ঢোকানো হয়েছে পৌরসভার মধ্যে। আর দোহার খালের এপাড় হলো পৌরসভার, ওপার হলো সুতারপাড়া ইউনিয়নের। আড়িয়াল বিলের দোহার অংশে, রশিদ বেপারী বাড়ির সড়কের পূর্ব পাশ হলো সুতারপাড়ায়, আর সড়কের পশ্চিম পাশটা হল পৌরসভা‍য়।

তিনি আরও বলেন, ইসলামপুর আলমাস কমিশনার বাড়ি দিয়ে ঢুকে, লটাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যে রাস্তাটি গেছে; অর্থাৎ পশ্চিম লটাখোলা হলো পৌরসভার। সেই রাস্তাটি দিয়ে একদম হিলসামারি নদীর সীমানা পর্যন্ত পৌরসভার। আবার হিলসামারি নদী বরাবর পূর্ব-দক্ষিণ দিকে ডালু খন্দকার পেট্রলপাম্পের সামনে পদ্মা নদীর সীমানায় বিলাশপুরের সামান্য অংশ হলো নতুন দোহার পৌরসভা। সেক্ষেত্রে সুতারপাড়া ইউনিয়নের কাজিরচর-মধুরচর, ধাপারি খাল এবং একইসাথে আলামিন বাজার থেকে শুরু করে মিজাননগর ও চর পুরুলিয়া এলাকা নিয়ে হবে সুতারপাড়া ইউনিয়ন।

নতুন পৌরসভার সীমানা গঠন নিয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদ বলেন, দোহারের সীমানা নিকারের পাস হয়েছে। আমাদের কাছে গেজেট আসবে, গেজেট আসলে আমরা ওয়ার্ডগুলো নির্ধারণ করবো। ওয়ার্ড গঠন হলে, তফসিল হবে। তফসিল হওয়ার পরে, নির্বাচনের ঘোষণা করা হবে।

দোহার পৌরসভার নাগরিকদের অভিযোগ, একশ্রেণির প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা পৌরসভায় নিজস্ব বলয় তৈরি করে বিভিন্ন সুবিধা নিচ্ছে। পৌরসভা যাতে নির্বাচনের পথে না যায়, প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে বারবার নির্বাচনের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করছে।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার পুরনো জয়পাড়া ইউনিয়ন, রাইপাড়া, সুতারপাড়া ও মাহমুদপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম নিয়ে ২০০০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সীমানা জটিলতা ও ভোটার তালিকা নিয়ে বেশ কয়েকটি মামলা হয়। ২০১৩ সালে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগে চর লটাখোলা গ্রামের মৃত আবদুল হালিমের ছেলে আবদুস সোবাহান ও কাঁঠালিঘাটা গ্রামের মৃত ফায়জুদ্দিন বেপারির ছেলে মজিবর রহমান সীমানা জটিলতা নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন। নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়। বাদীরা মামলাগুলো ২০১৯ সালে তুলে নেয়ায় ৯০ দিনের মধ্যে পৌরসভা নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর গঠিত বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশের কপি ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার হাতে পৌঁছায়। সেই অনুসারে নির্বাচন কমিশন একই বছরের ১৪ অক্টোবর পৌরসভার ভোটের দিনক্ষণ ঠিক করে। তফসিল অনুসারে ১২ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষদিন, ১৫ সেপ্টেম্বর বাছাই, প্রত্যাহার ২০ সেপ্টেম্বর ও প্রতীক বরাদ্দ ২১ সেপ্টেম্বর এবং ১৪ অক্টোবর নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। তারপরও নির্বাচন হয় নি।

পরবর্তীতে ২০১৯-২০ সালে, দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন দোহার পৌরসভার সীমানা জটিলতার কারণ দেখিয়ে উচ্চ আদালতে রিটকারীদের নিয়ে আদালত কর্তৃক পিটিশন মামলা প্রত্যাহার করেন। এর ধারাবাহিকতায় পৌর নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়। ফলে পৌর নির্বাচনের আগে পৌর সীমানা পুন:নির্ধারন করার প্রচেষ্টা চালায় দোহার পৌর কর্তৃপক্ষ ও দোহার উপজেলা প্রশাসন।

উল্লেখ্য, দোহার উপজেলার জয়পাড়া, রাইপাড়া ও সুতারপাড়া ইউনিয়নের আংশিক অংশ নিয়ে ২০০০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দোহার পৌরবাসীর ভোটাধিকারের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিলো দোহার পৌরসভা। এরপর দোহার পৌরসভার সীমানা জটিলতা নিয়ে সুবিধাবাদীদের যোগসাজশে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন মামলার কারণে দীর্ঘ ২১ বছরে দোহার পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত ছিল।

দোহারে নিজস্ব অর্থয়নে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করছেন ডাঃ জসীমউদ্দিন

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় নিজ অর্থআয়নে হাসপাতালের বিপরীত পাশে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করেছেন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মকর্তা ডাঃ জসীমউদ্দিন। জয়পাড়া রতন চত্বর থেকে প্রেসক্লাব ভবন হয়ে রাস্তাটি আর সিসি ঢালাই হয়ে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকে। আর সেই বন্ধ থাকা রাস্তায় জয়পাড়া বাজারের হোটেল ও রেস্তোরাঁ ময়লা ফেলে তৈরি করছে ময়লার ভাগাড়। এই ময়লার দূর্গন্ধে এই রাস্তায় চলাচল হয়ে পড়েছে প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে মশার ঔষুধ ব্যবহার না করায় এই ময়লার ভাগাড় হয়ে পড়েছে মশার নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র। ফলে একদিকে স্বাস্থ্য ঝুকিতে পড়েছে দোহার পৌরসভা বাসী ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। এই রাস্তাটির এক পাশে রয়েছে সরকারি হাসপাতাল ও অন্য পাশে রয়েছে দোহার উপজেলা পরিষদ এবং সামনের দিকে রয়েছে দোহার প্রেসক্লাব। গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হিসেবে পরিচিত হলেও তার কোন পরিচয় নাই এখন ময়লার ভাগাড় কারনে।

দোহারে নিজস্ব অর্থয়নে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করতেছেন ডাঃ জসীমউদ্দিন

এবিষয়ে ডাঃ জসীমউদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি আমার নিজ অর্থয়নে এই রাস্তাটি মেরামত করছি। এতে আমার প্রায় ৩০-৫০ হাজার টাকা খরচ যাবে। আমি এই রাস্তাটি করার কারন আমার হাসপাতালের চাপ কমানোর জন্য। এই রাস্তাটি বন্ধ থাকার কারনে জনগণ হাসপাতালে ভিতর দিয়ে যাতায়েত করতো আর তাছাড়া এখন আমাদের হাসপাতালে করোনা রোগী রয়েছে। জনগণ যদি এদিক দিয়ে যাতায়াতের ফলে করোনায় আক্রান্ত না হয় সে জন্য আমি এই বিকল্প রাস্তাটি নিজ উদ্যোগে মেরামত করার পরিকল্পনা করি। এই রাস্তার উপর যে ময়লা ফেলা হয় তাতে আমাদের ও রোগীর সমস্যা হয়। আর এ বিষয় নিয়ে আমি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাখালী ১৪.৬.২১ তারিখ একটি দরখাস্ত পাঠাই।  এরপর আমি এমপি মহোদয় সালমান এফ রহমানকে বিষয় টা জানাই। পরে পৌরসভাকে বললে তারা জানায়, ময়লা পরিস্কারের ব্যাপারে তারা চেষ্টাচালাচ্ছে তবে ময়লা ফেলার কোন জায়গা না পাওয়া সেটি এখন সম্ভব হচ্ছে না। আমি এই রাস্তাটি পাশে থাকা আমাদের হাসপাতালে ওয়ালে লাইট এর ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি যাতে রাতেও জনগণ এই রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করতে পারে।

এই সময় তিনি রতন চত্ত্বরে থাকা বাস ও গাড়ি স্ট্যান্ড সরিয়ে নেওয়ার আহবান জানান এবং হাসপাতাল রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান।

দোহারে ১৩৩ জনের করোনা শনাক্ত: হার ৫৬%

দোহারে নতুন করে আরও ১৩৩ জনেরে দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫২২ জনে।

সোমবার (২৬ জুলাই) রাত ১২টা ৪০ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, গত রবিবার উপজেলা থেকে ২৩৮ টি নমুনা পাঠানো হয়। এ থেকে ১৩৩ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। নতুন করোনা শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ১৯৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৮৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। উপজেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ২২ জন মারা গেছেন। হাসপাতালে মোট ভর্তি রয়েছে ১৪ জন বাকি গুলো বাসায় চিৎসাধীন রয়েছে।

নবাবগঞ্জ ও দোহারে নির্মিত হচ্ছে স্টেডিয়াম

শরিফ হাসান ও আল আমিন, news39.net: দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলায় নির্মিত হতে যাচ্ছে দোহার-নবাবগঞ্জবাসীর বহুল আকাংখিত স্টেডিয়াম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের নামে হচ্ছে শেখ রাসেল মিনি স্টোডিয়াম।

দোহার উপজেলার নুরপুর এলাকায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নবাবগঞ্জে স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য প্রকল্পের স্থান যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানা গিয়েছে।

২৭ জুলাই, মঙ্গলবার , স্টেডিয়াম নির্মাণের লক্ষ্যে উপজেলার ঘুনা-নূরপুর মাঠ তথা ভূইয়া বাড়ীর মাঠে এলাকায় ৩ একর জমি নির্বাচন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সাংসদ সালমান রহমান এমপির নিকট এই ব্যাপারে চাহিদা অনুসারে প্রস্তাব পাঠিয়েছে দোহার উপজেলা প্রশাসন।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ মাহমুদ নাঈম news39.net কে বলেন, এই উদ্যোগটি দোহার উপজেলাকে মডেল উপজেলায় রূপান্তরিত করতে স্থানীয় সাংসদ এমন কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছেন। আশা করা যাচ্ছে খুব শিগগিরই এটি বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি, আশা করছি দ্রুত এটি অনুমোদন হয়ে আসছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ এর ১৫ ই আগষ্ট বিপথগামী ঘাতকেরা নির্মমভাবে বংগবন্ধুসহ তার পরিবারের উপরে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলো। সেদিনের হত্যাকান্ডের হাত থেকে রেহাই পায়নি ছোট্ট শিশু রাসেলও। বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি কলংকিত দিন।

তাই, শেখ রাসেলকে অবিস্মরণীয় করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত হচ্ছে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম।

শিশুকে নেশা খাওয়ানোর প্রতিবাদ করায় কুপিয়ে জখম: ১৪ দিনেও গ্রেফতার হয় নি কোন আসামি

নবাবগঞ্জ উপজেলার খানেপুর গ্রামে দুই শিশুকে নেশা খাওয়ানোর প্রতিবাদ করায় মো.সোহরাব হোসেন নামে এক ব্যাক্তিকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। গত ১৪ জুলাই আহত সোহরাব নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর উৎপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায় তার ওপরে। পরে গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় আহত সোহরাবের স্ত্রী শাহিদা আক্তার বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে।মামলার অভিযোগে বলা হয়, মাদক ব্যবসায়ী টুইন্ডা ছাত্তার, ইফটিজিং মামলার আসামি রবিউল ও জমির দালাল আইনুদ্দিনসহ আরো ৪/৫জন সন্ত্রাসী মাদকের প্রতিবাদ করায় তার ওপর হামলা করে।

আহতের স্ত্রী শাহিদা আক্তার ফেসবুকে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, আমার স্বামী যুবলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক।

তিনি সবসময়ই অন্যায়ের ও মাদকের বিরুদ্ধে। সরকার চেষ্টা করছেন মাদক নির্মুলে, আর এসব সন্ত্রাসীরা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে তরুন ও যুব সমাজেরর কাছে নেশা বিক্রি করে। মাদকের প্রতিবাদ ও থানায় অভিযোগ করায় উক্ত সন্ত্রাসীরা আমার স্বামীকে মেরে ফেলার জন্য রাতের অন্ধকারে আক্রমন করে। তারা শিশুদেরকে মাদকাসক্ত করতে ডিংক্স এর সাথে নেশা মিশিয়ে খাওয়ায়।

তিনি বলেন, উপজেলা থেকে খানেপুর একটু দূরে হওয়ায় পুলিশ, সাংবাদিকদের চোখকে ফাকি দিয়ে তারা এই এলাককে বেছে নিয়েছে। শুধুমাত্র মাদকের প্রতিবাদ করায আমার স্বামীর জীবন আজ হুমকির সম্মুখীন। এই কঠিন মুহূর্তে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যম যদি আমাদের পাশে না থাকেন, তাহলে আর কেউ মাদকের প্রতিবাদ করতে সাহস পাবে না। আমার স্বামীর সাথে উল্লেখিত আসামিদের অন্য কোন বিষয় নিয়ে কখনো ঝগড়াঝাঁটি মারামারি হয়নি। তাদের সাথে কোন ধরনের শত্রুতাও নেই। বরং তারা আমার স্বামীর সাথে রাজনীতি করত। আমার স্বামী তাদেরকে সব সময় বলতো রাজনীতি করতে হয় মানুষের মঙ্গলের জন্য। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কোন ধরনের অপকর্ম করা যাবে না। মামলার ১ নম্বর আসামি ছাত্তারকে আমার স্বামী প্রায়ই বুঝাতেন মাদক ব্যবসা না করার জন্য।

মামলির নথি ও বিভিন্ন সূত্র জানায়, গত ১৪ই জুলাই দুই শিশুকে নেশা খাওয়ানোর প্রতিবাদ করায় মো. সোহরাব হোসেনকে এলাকার মাদক ব্যবসায়ী মো. ছাত্তার (৪৫) পিতা: আজিজ বেপারী, আজিজুল ওরফে আজি বেপারী (৭০), জমির দালাল মো. আইনুদ্দিন(৫০) পিতা: বোরহান বেপারী, ইপটিজিং মামলার আসামি মো. রবিউল (২২), বখাটে মো. নাহিদ(২০) পিতা: আলমাছ, অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জন এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, চড়-থাপ্পড় মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা জখম করে। ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মসজিদ হতে নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার পথে উপজেলার খানেপুর গ্রামের যাদব সরকারের মুদি দোকানের সামনে পাকা রাস্তার উপর পৌছামাত্র আসামিগণ আমার স্বামীর পথরোধ করিয়া অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। প্রতিবাদ করিলে এক নম্বর আসামি ছাত্তারের হুকুমে উল্লেখিত আসামিগন আমার স্বামীকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, চড়-থাপ্পড় মেরে তার হাতে, বুকে ও পিঠে সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদনাদায়ক নীলা ফুলা জখম করে। মামলার ৪ নম্বর আসামি মো. রবিউল তার হাতে থাকা ধারালো রামদা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার স্বামীর মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারিলে মুখের থুতনীর মাঝখানে কোপ লেগে মারাত্মক কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। ৫ নং আসামি নাহিদ হাতে থাকা লোহার হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে আমার স্বামীর নাক ফাটিয়ে রক্তাক্ত জখম হয়। ৩ নং বিবাদী আইনুদ্দিন তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে পিটাইয়া মাথা সহ বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ফোলা জখম করে। এক পর্যায়ে তিন নম্বর আসামি আইনুদ্দিন আমার স্বামীর পকেটে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আমার স্বামীর ডাক চিৎকারে করিলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসিলে উক্ত আসামিগন আমার স্বামীকে খুন জখম সহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে দ্রুত পালিয়া যায়। এঘটনার আসামিদের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে।

তবে এই ঘটনার আগের দিন আহত সোহরাব হোসেন নিজে উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় অভিযোগপত্র দায়ের করেন। অভিযোগ পত্রে বলা হয়, গত ১৩ই জুলাই সন্ধ্যা রাতে খানেপুর বাজারে আমার আহত মো. সোহরাব হোসেনকে ইয়াবা ব্যাবসায়ী মো. ছাত্তার (৪৫) পিতা: আজিজ বেপারী, জমির দালাল মো. আইনুদ্দিন(৫০) পিতা: বোরহান বেপারী, বখাটে মো. নাহিদ(২০) পিতা: আলমাছ, আলমাছ মিয়া পিতা বোরহান বেপারী অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪ জন এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, চড়-থাপ্পড় মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা জখম করে। এরা এলাকায় বিভিন্ন ধরণের নেশা পান করে বেরায়। এক নম্বর আসামি ছাত্তারের ছেলে রবিউল আমাদের গ্রামের জুলহাসকে এক ধরণের নেশা দেয়। জুলহাস ওই নেশা একই গ্রামের মাসুদের ১০ বছরের ছেলে এবং মঞ্জুর ১১ বছরের ছেলেকে খাওয়ায়। বিষয়টি মাসুদের ভাতিজা আমার স্বামীকে (মো. সোহরাব হোসেন) জানালে জুলহাসের কাছে তাদেরকে নেশা খাওয়ানোর কারণ জানতে চান। পরে জুলহাস ছাত্তার, আইনুদ্দিনসহ অন্যদেরকে জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, চড়-থাপ্পড় মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা জখম করে ।

দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা বিভাগের বেড সংখ্যা বৃদ্ধি

news39.net: দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা বিভাগের বেড সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই দাবীটি বিভিন্ন সময় করা হয়ে আসছিলো। ঢাকা-১ আসনের সাংসদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা ইউনিটের বেড সংখ্যা ১০ থেকে ৩০ উন্নীত করা হয়। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য অক্সিজেন সাপোর্টসহ বেড সংযুক্ত করা হয়েছে । ২৬ জুলাই, সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এফ.এম ফিরোজ মাহমুদ নাঈম।

এসময়ে ফিরোজ নাঈম news39.net কে বলেন, দোহার উপজেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫০% এর বেশি। আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় কোভিড বিভাগকে ১০ থেকে ৩০ বেডে উন্নীত করার সময় উপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন ঢাকা-১ আসনের সাংসদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সালমান এফ রহমান।

এছাড়াও বেক্সিমকো গ্রুপের সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ৩৩ জন রোগীকে প্রতিদিন অক্সিজেন সরবরাহ করার ব্যবস্থা রয়েছে।

দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কোভিড টিকার রেজিস্ট্রেশনের পর দিনই টিকা গ্রহন করতে পারছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে আমরা সিনোফার্মের ৪ হাজার টিকা পেয়েছি। এ পর্যন্ত ১৮’শ টিকা দেওয়া হয়েছে। দোহারে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সকলকে সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করোনা আক্রান্ত

news39.net:
দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বাবুল করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ণ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। উল্ল্যেখ্য তিনি শনিবার করোনার পজিটিভ হোন।
দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার দলের পক্ষে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।