সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে হতে পারে নির্বাচন: ২১ বছরের সীমানা জটিলতার অবসান দোহার পৌরসভার

প্রকাশ:

শেয়ার করুন:

আল-আমিন ও শরিফ হাসান, news39.net: দীর্ঘ ২১ বছর পর হতে যাচ্ছে দোহার পৌরসভার নির্বাচন। দোহার পৌরসভার সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান হয়েছে। একারণে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে বা অক্টোবরের মাঝামাঝি হতে পারে দোহার পৌরসভার নির্বাচন। একইসাথে, মাহমুদপুর, রায়পাড়া ও সুতারপাড়া ইউনিয়নেও পর্যায়ক্রমে ৩ বার নির্বাচন হয়নি। এখন এই ৩টি ইউনিয়নেও নির্বাচনের দ্বার উন্মুক্ত হলো।

২৬ জুলাই, সোমবার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১১৭তম সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সীমানা জটিলতার সমাধান হয়। এদিকে, একটি নির্বাচনের অভাবে দোহার পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে রয়েছে স্বেচ্ছাচারিতা, অস্বচ্ছতা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ।

বর্তমান গেজেট অনুসারে, দোহার পৌরসভার আয়তন হবে ১৪.৩১ বর্গ কিলোমিটার; পূর্বে যা ছিলো ২১.১২ কি.মি। নতুন সীমানা অনুযায়ী সুতারপাড়া ইউনিয়ন থেকে ৪.০৫ ব.কি.মি, মাহমুদপুর থেকে ১.৮৬ ব.কি.মি. এবং রাইপাড়া থেকে ০.৯৯ ব.কি.মি. এলাকা বাদ যাবে। পূর্বে দোহার পৌরসভার মোট জনসংখ্যা ছিলো ৭১হাজার ৩৬২ জন। পুরুষ ভোটার ৩৫,০২৪ জন (৪৯.০৮ %), মহিলা ভোটার ৩৬৩৩৮ জন (৫০.৯২ %)।

দোহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন এর প্রচেষ্টায় এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং দোহার উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দোহার পৌরসভার সীমানা সংকোচন এবং সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

দোহার পৌরসভা নিয়ে news39.net সহ বেশ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় একাধিকবার সংবাদ প্রকাশের পর ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সাংসদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এই বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন।

নতুন পৌরসভার সীমানা নিয়ে দোহার উপজেলার চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন news39.net-কে বলেন, নিকারের ১১৭তম সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দোহার পৌরসভার এই সীমানা জটিলতার সমাধান হয়। আমরা ২১ বছর পর একটি সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সুন্দর পৌরসভার প্রত্যাশা করছি।

নতুন সীমানা সম্পর্কে আলমগীর হোসেন news39.net কে বলেন, দোহার পৌরসভার যে সীমানা জটিলতা ছিল, সেটি কিছু সম্প্রসারণ ও কিছু সংকোচন করা হয়েছে। সম্প্রসারণ করা হয়েছে যে গ্রামটা রশিদ ব্যাপারীর বাড়ির পিছনে ইউসুফপুরের অংশ, পৌরসভার বাইরে সুতারপাড়া ইউনিয়নের ছিল; এখন সেই এলাকাটি ঢোকানো হয়েছে পৌরসভার মধ্যে। আর দোহার খালের এপাড় হলো পৌরসভার, ওপার হলো সুতারপাড়া ইউনিয়নের। আড়িয়াল বিলের দোহার অংশে, রশিদ বেপারী বাড়ির সড়কের পূর্ব পাশ হলো সুতারপাড়ায়, আর সড়কের পশ্চিম পাশটা হল পৌরসভা‍য়।

তিনি আরও বলেন, ইসলামপুর আলমাস কমিশনার বাড়ি দিয়ে ঢুকে, লটাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যে রাস্তাটি গেছে; অর্থাৎ পশ্চিম লটাখোলা হলো পৌরসভার। সেই রাস্তাটি দিয়ে একদম হিলসামারি নদীর সীমানা পর্যন্ত পৌরসভার। আবার হিলসামারি নদী বরাবর পূর্ব-দক্ষিণ দিকে ডালু খন্দকার পেট্রলপাম্পের সামনে পদ্মা নদীর সীমানায় বিলাশপুরের সামান্য অংশ হলো নতুন দোহার পৌরসভা। সেক্ষেত্রে সুতারপাড়া ইউনিয়নের কাজিরচর-মধুরচর, ধাপারি খাল এবং একইসাথে আলামিন বাজার থেকে শুরু করে মিজাননগর ও চর পুরুলিয়া এলাকা নিয়ে হবে সুতারপাড়া ইউনিয়ন।

নতুন পৌরসভার সীমানা গঠন নিয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদ বলেন, দোহারের সীমানা নিকারের পাস হয়েছে। আমাদের কাছে গেজেট আসবে, গেজেট আসলে আমরা ওয়ার্ডগুলো নির্ধারণ করবো। ওয়ার্ড গঠন হলে, তফসিল হবে। তফসিল হওয়ার পরে, নির্বাচনের ঘোষণা করা হবে।

দোহার পৌরসভার নাগরিকদের অভিযোগ, একশ্রেণির প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা পৌরসভায় নিজস্ব বলয় তৈরি করে বিভিন্ন সুবিধা নিচ্ছে। পৌরসভা যাতে নির্বাচনের পথে না যায়, প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে বারবার নির্বাচনের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করছে।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার পুরনো জয়পাড়া ইউনিয়ন, রাইপাড়া, সুতারপাড়া ও মাহমুদপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম নিয়ে ২০০০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সীমানা জটিলতা ও ভোটার তালিকা নিয়ে বেশ কয়েকটি মামলা হয়। ২০১৩ সালে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগে চর লটাখোলা গ্রামের মৃত আবদুল হালিমের ছেলে আবদুস সোবাহান ও কাঁঠালিঘাটা গ্রামের মৃত ফায়জুদ্দিন বেপারির ছেলে মজিবর রহমান সীমানা জটিলতা নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন। নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়। বাদীরা মামলাগুলো ২০১৯ সালে তুলে নেয়ায় ৯০ দিনের মধ্যে পৌরসভা নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর গঠিত বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশের কপি ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার হাতে পৌঁছায়। সেই অনুসারে নির্বাচন কমিশন একই বছরের ১৪ অক্টোবর পৌরসভার ভোটের দিনক্ষণ ঠিক করে। তফসিল অনুসারে ১২ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষদিন, ১৫ সেপ্টেম্বর বাছাই, প্রত্যাহার ২০ সেপ্টেম্বর ও প্রতীক বরাদ্দ ২১ সেপ্টেম্বর এবং ১৪ অক্টোবর নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। তারপরও নির্বাচন হয় নি।

পরবর্তীতে ২০১৯-২০ সালে, দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন দোহার পৌরসভার সীমানা জটিলতার কারণ দেখিয়ে উচ্চ আদালতে রিটকারীদের নিয়ে আদালত কর্তৃক পিটিশন মামলা প্রত্যাহার করেন। এর ধারাবাহিকতায় পৌর নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়। ফলে পৌর নির্বাচনের আগে পৌর সীমানা পুন:নির্ধারন করার প্রচেষ্টা চালায় দোহার পৌর কর্তৃপক্ষ ও দোহার উপজেলা প্রশাসন।

উল্লেখ্য, দোহার উপজেলার জয়পাড়া, রাইপাড়া ও সুতারপাড়া ইউনিয়নের আংশিক অংশ নিয়ে ২০০০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দোহার পৌরবাসীর ভোটাধিকারের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিলো দোহার পৌরসভা। এরপর দোহার পৌরসভার সীমানা জটিলতা নিয়ে সুবিধাবাদীদের যোগসাজশে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন মামলার কারণে দীর্ঘ ২১ বছরে দোহার পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত ছিল।

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ সংবাদ

এই রকম আরও

বান্দুরা থেকে সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী আটক

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার পুরাতন বান্দুরা পিত্তিতলা এলাকা থেকে তৌকির নামে এক সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে স্থানীয় যুবসমাজ।...

জয়পাড়ায় দোকান থেকে কর্মচারীকে তুলে নিয়ে নির্যাতন, আটক ২

ঢাকার দোহারে এক দোকান কর্মচারীকে দোকান থেকে তুলে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগে দুই যুবককে আটক...

দোহার প্রেসক্লাব থেকে সাংবাদিক তানজিম ইসলামকে স্থায়ী বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার দোহার প্রেসক্লাবের সাধারণ সদস্যপদ থেকে সাংবাদিক তানজিম ইসলাম আহাদকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রেসক্লাবের...

মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শোল্লা ইউনিয়নের যুবসমাজের ‘রণহুঙ্কার’: ঐক্যবদ্ধ গ্রামবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, নবাবগঞ্জ: ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নে মাদকের নীল দংশন আর সন্ত্রাসের রাজত্বের বিরুদ্ধে এবার রুখে দাঁড়িয়েছে...