উৎপাদন বেশিঃ তবুও দোহারে পাট চাষীরা আগ্রহ হারাচ্ছে

শরিফ হাসান, news39.net: পাট উৎপাদনে ঢাকা জেলা অন্যতম। সারাদেশের সোনালী আশের অন্যতম শীর্ষ উৎপাদন কেন্দ্র ঢাকা জেলা হলেও, দোহার উপজেলায় গত কয়েক বছরে পাট চাষ করে ন্যায্যমূল্য পায়নি কৃষকরা। তাই পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে কৃষকরা।

চলতি মৌসুমে দোহার উপজেলায় আগের তুলোনায় পাট চাষ কমেছে। গতকয়েক বছরের তুলনায় উপজেলার ৮টি ইউনিয়নেই পাটের আবাদ কমেছে এবছর। পানির অভাবে পাটে পানি না দিতে পারা ও জাগ দিতে না পেরে এবং শ্রমিকের দাম বেশি হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ে উৎপাদন খরচ তুলতে কৃষককে খেতে হচ্ছে হিমশিম। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারনে অনেক কৃষক এখন পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে।

এক সময় পাটকে সোনালী আঁশ বলা হলেও সেই স্বপ্নের সোনালী আঁশ পাটকে ঘিরে থাকতো কৃষকের স্বপ্ন। সময় মতো বৃষ্টি না হওয়ায় কারনে ভালো বীজ রোপণ করেও কাঙ্খিত ফলন পাচ্ছে না দোহারের কৃষকরা। এতে দুশ্চিন্তায় পরেছে সোনালী আঁশের পাট চাষিরা। আর সে জন্য সোনালী আঁশ পাট চাষবাদ দিয়ে অন্যান্য ফসল উৎপাদনে ঝুঁকছে তারা। কাঙ্খিত দাম না পেয়ে হতাশ পাট চাষীরা। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পাট চাষীরা। প্রতি মণ পাট ২৩’শ থেকে ২৫’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, গত বছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৬০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়। চলতি মৌসুমে ৭০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে।

উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের বড় রামনাথপুর গ্রামের পাট চাষী আলাউদ্দিন খা(৬০) জানান, দেড় বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। এইবার তো সময়মতো বৃষ্টি হয় নাই। তাই এবার ফলনও ভাল হয় নাই। তাছাড়া দেড় বিঘা জমিতে শ্রমিকের মজুরিসহ ১৫ হাজার টাকা খরচ গিয়েছে। বাজারে পাটের দামও ২ হাজার থেকে দুই হাজার পাঁচশত টাকা। আমি প্রায় বিশ বছর ধরে চাষা বাদ করে আসছি। দুই তিন বছর ধরে লুকশান হচ্ছে। সে জন্য চিন্তা করতেছি সামনে বছর আর পাট চাষ করবো না। খরচ বেশী পরে ফলনের থেকে সে জন্য।

একই ইউনিয়নের রামনাথপুর গ্রামের হাসানা বেগম জানান, আমি এ বছর ১ বিঘা নয় কাটা জমিতে পাট চাষ করেছি। এতে আমার ১৬ হাজার টাকা খরচ গিয়েছে । কাঙ্খিত দাম পাইনা আবার লোকজন নাই। টাকার জন্য লোকও নিতে পারিনা সে জন্য এবার ১ বিঘা নয় কাটায় জমিতে পাট চাষ করেছি। লোকসান দিয়ে সামনে বছর পাট চাষ করার আগ্রহ নেই। খরচের চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয় পাট।

পৌরসভার চরলটাখোলা গ্রামের পান্নু তালুকদার বলেন, ১ বিঘা জমির পাটে উৎপাদন করতে শ্রমিকের মজুরিসহ ৭-৮ হাজার টাকা পরে। পাট চাষ করে তেমন কোন লাভ করতে পারি না। সে জন্য লোকসানের কারনে দিন দিন পাট চাষ কমিয়ে দিচ্ছেন। এ বছর সময় মতো বৃষ্টি না হওয়া পাট জাগ দেওয়ার জন্য পানি পাওয়া যায় নি। তাছাড়া সেচের পানি দিয়ে পাট চাষের কারনে খরচ বেশী পরেছে। বৃষ্টি সময় মত হলে পাটে পর্যাপ্ত পানি দিতে পারতাম এবং পাট জাগও দিতে পারতাম। সময়মত সব কিছু করতে পারলে হয়তো লাভের মুখ দেখতাম। এখন আল্লাহই ভাল জানে কি হবে তবে আশা করি হয়তোবা কিছু টা লাভ হবে।

পৌরসভার চরলটাখোলা গ্রামের শেখ বাচ্চু জানান, আমি নিয়মিত একজন্য কৃষক আমি সারাবছরই সিজনের ফসল ফলাই। গতবছর আমি পাট কেটে জাগ দিয়ে রেখেছিলা আমার সব পাট বন্যার পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে। সেই পাট আমি ডুবিয়ে ডুবিয়ে কিছু উঠতে পেরেছিলাম কিন্তু সবগুলো উঠাতে না পারায় আমার ২৯ হাজার টাকা লুকশান হয়েছে। আমি এ বছর চার বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। আমি তিন বছর ধরে পাট চাষ করতেছি। এ বছর পাটে সময় মত পানি না দিতে পারায় তেমন ভাল ফসল হয়নি। পানি না থাকায় আমি সেচের পানি দিয়ে পাট চাষ করেছি এতে খরচবেশী হয়েছে। আমার খেতে সেচের পানি দেওয়ার জন্য ষাট ফুট লতা পাইপের দরকার ছিল আমি মেম্বার,চেয়ারম্যান এর কাছে গিয়ছি তারা ব্যবস্থা করে দেয়নি। পরে আমি উপজেলায় যোগাযোগ করলে কৃষি স্যার দিতে চেয়েছিল কিন্তু আমি অসুস্থ থাকার জন্য সেটি অনতে পারি নাই। পাঠ চাষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সার দেওয়া হয়েছে। আমার সার এসেছিল কিন্তু আমি অসুস্থতার জন্য যেতে পারি নাই হারুন মেম্বারের কাছে সার আনতে পরার্বতীতে আমি তার সাথে যোগাযোগ করলে সে বলে সার নাই শেষ হয়ে গিয়েছে। আমাদের জয়পাড়া বাজারে সিন্ডিকেট রয়েছে যার কারনে আমরা ভাল পাট নিয়ে গেলেও সে অনুযায়ী দাম পাই না।

এব্যাপরে দোহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইয়াকুব মামুন বলেন, গত বছরের তুলোনায় এ বছর ১০ হেক্টর বেশী পাট চাষ হয়েছে। তাছাড়া এবার আমরা ১০০ জন কৃষককে ভালমানের পাটের বিজ দিয়েছি। পাট কম হওয়ার কারণ কি এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমাদের দোহার উপজেলায় ৮ টি ইউনিয়ন রয়েছে সেখান থেকে কিছু ইউনিয়নে পাট চাষ কম হয়েছে আবার কিছু ইউনিয়নে বেশী হয়েছে যেমন মুকসুদপুর ইউনিয়ন পাট চাষ বেশী হয়েছে সেজন্য সব ইউনিয়ন মিলে এবার পাটচাষ গতবছরের তুলেনায় বেশী হয়েছে। তবে পাটের আবাদের সময় বৃষ্টি না হওয়ায় এবার পাট চাষের কিছুটা সমস্যা হয়েছে কৃষকদে।

দোহারে প্রশাসনের অভিযানে ৫০ জনকে জরিমানা

দোহার উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ২২টি মামলায় ৫০ জনকে অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (৮আগষ্ট) সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দোহার উপজেলা  সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

এসিল্যান্ড ফজলে রাব্বি সরকার ঘোষিত করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে এবং কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে দোহার উপজেলার জয়পাড়া আয়োজন মোড়, থানার মোড়,বাসতলা ও পালামগঞ্জ বাজার এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে দোকানপাট ও গণপরিবহন বন্ধ নিশ্চিত করতে এবং স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য ও স্বাস্থ্য বিধি অমান্য করে অযথা বাহিরে বের হওয়ার কারনে ৫০ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১২ হাজার ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে সকাল থেকেই মাঠে কাজ করছেন  দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফজলে রাব্বি,দোহার থানার পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও উপজেলা আনসার সদস্যগণ।

দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফজলে রাব্বি জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার কারনে আজকে আমরা কয়েকজন বাইক চালককে জরিমানা করি। লকডাউন বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নবাবগঞ্জে জামাইয়ের হাতে শ্বাশুড়ি খুন

ফয়সাল হোসেন,news39.net: রোববার (৮ আগস্ট) সকালে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শোল্লা এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে মেয়ের জামাইয়ের হাতে খুন হয়েছেন শ্বাশুড়ি। নিহতের নাম হামিদা বেগম (৪৫)। এছাড়া, মেয়ে তানিয়া এবং তার ছোট ভাইকে গুরুতর আহতাবস্থায় হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা যায়, মেয়ের জামাই শাওন মোল্লা তার স্ত্রী তানিয়াকে ছুরিকাহত করলে, মেয়েকে বাচাতে ছুটে আসেন শাশুড়ি ও শ্যালক। তখন শাওন হামেদা বেগমকে কুপিয়ে আহত করে। গুরুতর আহত ৩ জনকে হাসপাতালে নেয়ার পথে পথিমধ্যে হামেদা বেগম মারা যান বলে জানিয়েছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ।

নিহত হামিদা ওই গ্রামের মহিদুল বেপারীর স্ত্রী। এই ঘটনায় জামাতা শাওন মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকবছর আগে হামিদা মেয়ে তানিয়াকে বিয়ে দেন উলাইল এলাকার কাদের মোল্লার ছেলে শাওনের সাথে। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে দ্বন্ধ চলছিল তানিয়া ও শাওনের মাঝে। দু’পক্ষ মিমাংসা না হওয়ায় একপর্যায়ে ডিভোর্স হয়। ডিভোর্সের পর রবিবার সকালে তানিয়াকে জোরপূর্বক তুলে নিতে আসলে হামিদা এবং তার ছেলে হাসান বাধা দিতে আসলে, তাদেরকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আহত অবস্থায় হামিদা বেগম এবং তার মেয়ে তানিয়া ও ছেলে হাসানকে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে হামিদাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। তবে হাসান এবং তানিয়াকে উন্নয়ন চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়৷

নবাবগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে এবং মামলা হয়েছে। এছাড়া, স্থানীয়দের সহযোগিতায় শাওনকে আটক করেছে পুলিশ৷ তবে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে৷

নবাবগঞ্জে করোনায় বৃদ্ধের মৃত্যু

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজন বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ গ্রামের সুনীল আগষ্টিন গমেজের মৃত্যু হয়। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। এই নিয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা কোভিড ১৯ সৎকার কমিটি ২৬ তম লাশ সৎকার করলো। এই নিয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা দাফন ও সৎকার কমিটির সর্বমোট ১০০ ছুলো।

সুনীল আগষ্টিন গমেজ কিছু দিন আগেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। এই সময় তিনি নবাবগঞ্জ হসপিটাল থেকে টেলিমেডিসিন নিয়ে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধিন ছিলেন। পরে ৬ আগস্ট নিজগৃহে সুনীল আগষ্টিন গমেজ মৃত্যু বরন করেন। ৭ আগস্ট সকালে সাড়ে দশটায় নবাবগঞ্জ উপজেলা কোভিড ১৯ সৎকার টিম লাশ গ্রহন করেন ও ১১টার দিকে ধর্মীয় রীতি অনুসরন করে  হাসনাবাদ গির্জায় লাশ সৎকার করা হয়। উপস্থিত ছিলেন অনুপম দত্ত নিপু ( টিম লিডার), চিত্ত দাস, অর্জুন দাস, রিমন দাস, বাসুদেভ শিল, গনপতি বাড়ৈ,কৃষ্ণ মন্ডল,শ্রী কৃষ্ণ সাহা, শুভজিৎ সরকার, শ্রীবাস মন্ডল ও অন্তহিন ঘোষ।

করোনায় মৃতদের পাশে দোহার যুবলীগের ‘মানবিক টিম’

বিশ্ব করোনা মহামারিতে প্রাণের বাংলাদেশ যখন উদ্বিগ্ন; মৃত্যুর মিছিল যখন বড় হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্ত্রী-সন্তান স্বজনরা যেখানে প্রিয় মানুষটির লাশ স্পর্শ করতে ভয় পাচ্ছে । সেই মুহূর্তে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নির্দেশে মাঠে নেমেছে মাঠ পর্যায়ের যুবলীগের নেতাকর্মীরা। ঢাকা জেলা যুবলীগের আহ্বানে দোহার উপজেলা যুবলীগ নিয়েছে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ। করোনা মহামারিতে মৃত ব্যক্তিদের সৎকার করার দায়িত্ব নিয়েছে দোহার উপজেলা যুবলীগ।

করোনা মহামারিতে মৃত ব্যক্তিদের লাশ সৎকারের জন্য ইসলাম ও হিন্দু ধর্মালম্বিদের জন্য আলাদা আলাদা টিম গঠন করেছে দোহার উপজেলা যুবলীগ। দোহার উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. আলমাস উদ্দিন(ভিপি আলমাস), সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আকন্দ এই কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্ববধান করছেন। এবং একই সাথে কার্যকরী সদস্যসহ আলাদা আলাদা স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করা হয়।

মাসুদ মোল্লাকে টিম লিডার এবং মুফতি মো. নুরুল ইসলামকে সার্বিক সহযোগিতা করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। অন্যান্য সদস্যরা হলেন- মোশাররফ হোসেন, সাদ্দাম হোসেন রাজীব, পবন মল্লিক, শিপন মাহমুদ, আসলাম আকন্দ, শেখ শহীদ, আলী আকবর, মো. শাহজাহান ও চন্দন কর্মকার। রাত যখন গভীর সবাই নিদ্রাচ্ছন্ন মানবিক যুবলীগ দোহার উপজেলা তখন করোনা উপসর্গের মৃতদেহ কাঁধে নিয়া কবরস্থানের দিকে।

৬ই আগস্ট পবিত্র জুমার দিনে মানবিক যুবলীগ টিম দোহার ফজরের নামাজের পর ভোরবেলা সবাই উপস্থিত কুসুমহাটী ইউনিয়নের ইকরাশী (পুষ্পখালী সংলগ্ন) গ্রামে করোনায় আক্রান্ত মৃত সেলিম বেপারীর মৃতদেহ স্বজনদের সহযোগিতায় দাফন কাজ সম্পন্ন করে মানবিক যুবলীগ টিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুসুমহাটী ইউনিয়নের  চেয়ারম্যান  আমজাদ হোসেন আজাদ।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উত্তর জয়পাড়া শাহেববাজার সংলগ্ন ময়না আক্তার (মুন্সি বাড়ি) স্বামী আক্কাছ উদ্দিন করোনা উপসর্গ নিয়ে রাত সাড়ে ৯টায় মৃত্যুবরণ করেন। নিহতের স্বজনরা মানবিক যুবলীগ টিমকে জানালে স্বজনদের সহযোগিতা নিয়ে মরহুমাকে রাত ৩টায় উত্তর জয়পাড়া কবরস্থানে দাফন করে।

বৃহস্পতিবার উপজেলার পশ্চিম সুতারপাড়া এলাকায় জুলেখা বেগম নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় ভয়ে মৃত ব্যক্তির দাফনে অনীহা প্রকাশ করে প্রতিবেশী ও স্বজনরা। জুলেখার দুই ছেলেই প্রবাসে থাকায় বাড়িতে কোনো পুরুষও ছিলেন না। এমন খবর পেয়ে ওই বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে তার দাফন কাজ সম্পন্ন করে উপজেলা যুবলীগের গঠিত ‘মানবিক টিম’।

দোহার উপজেলার যুবলীগের সভাপতি আলমাছ উদ্দিন বলেন, মৃত ব্যক্তির দুই ছেলেই প্রবাসে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় ভয়ে এগিয়ে আসেনি প্রতিবেশী ও স্বজনরা। আমরা খবর পেয়ে স্বেচ্ছায় মৃত ব্যক্তির দাফন করেছি। আমাদের উপজেলা যুবলীগের ‘মানবিক টিম’ এখন থেকে এ কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে।

এ ব্যাপারে দোহার উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আকন্দ বলেন, দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ ও দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন ভাই আমাদেরকে সুরক্ষা সামগ্রী দিয়েছেন। মানবিক টিমের কার্যক্রম সকলের সহযোগিতায় অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম ফিরুজ মাহমুদ বলেন, উপজেলা যুবলীগের উদ্যোগে করোনাকালীন সময়ে যখন আত্মীয়স্বজনরা মৃত ব্যক্তিকে দাফন করতে ভয় পেয়ে দূরে চলে যায়, তখন মানবিক যুবলীগ টিম সেই দুঃসময়ে নিজেদের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নেয়। আমি তাদেরকে  সার্বিক সহযোগিতার জন্য পাশে আছি।

দোহারে প্রশাসনের অভিযানে সাতটি বাইক জব্দ

দোহার উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ২৩টি মামলায় ২৩ জনকে অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার(৭আগষ্ট) সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম ফিরোজ মাহমুদ নাঈম ও
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মো. ফজলে রাব্বি আলাদাভাবে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
ইউএনও এএফএম ফিরোজ মাহমুদ নাঈম ও এসি ল্যান্ড ফজলে রাব্বি সরকার ঘোষিত করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে এবং কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে দোহার উপজেলার জয়পাড়া আয়োজন মোড়, থানার মোড়,মেঘুলা বাজার ও নারিশা এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে দোকানপাট ও গণপরিবহন বন্ধ নিশ্চিত করতে এবং স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেন।সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য ও স্বাস্থ্য বিধি অমান্য করে অযথা বাহিরে বের হওয়ার কারনে ২৩ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৬ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে সকাল থেকেই মাঠে কাজ করছেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম ফিরোজ মাহমুদ, দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফজলে রাব্বি,দোহার থানার পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও উপজেলা আনসার সদস্যগণ।

দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফজলে রাব্বি জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার কারনে আজকে আমরা সাতটি বাইক জব্দ করি এবং এই বাইকগুলো আমরা থানা হেফাজতে রাখেছি। লকডাউন বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গণটিকাদানঃ নবাবগঞ্জে ৮৪০০ জনকে দেয়া হলো টিকা

মোঃ ফয়সাল/শেখ আশিক/শরিফ হাসান/মো আল-আমিন,news39.net: শনিবার নবাবগঞ্জে উদ্বোধন হয়েছে গণ টিকাদান কর্মসূচি। ৭ অগাস্ট থেকে ১২ অগাস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত এই টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। প্রতিদিন ৬০০ জনকে এই টিকাদান কয়রা হবে। গণটিকাদান কর্মসূচীতে নবাবগঞ্জে ৮৪০০জনকে দেয়া হলো টিকা । প্রথমদিনে নবাবগঞ্জের প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে ছিলো উপচেপড়া ভীড়। সেসময় স্বাস্থ্যবিধি মানাতে হিমশিম খেতে হয় প্রতিটি কেন্দ্রের কতৃপক্ষকে। প্রতিটি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ৬০০ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে, আরও ১২০০জনকে টিকা দেয়া হবে।

সকাল ৯টায় নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়ন পরিষদে যন্ত্রাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে টিকার উদ্বোধন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন ঝিলু, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দীন মঞ্জু , নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম ও নবাবগঞ্জ থানা অফিসার ইন চার্জ শেখ সিরাজুল ইসলাম লিটুসহ অন্যান্যরা।
মোট ১৪টি কেন্দ্রে মোট ৮৪০০টি টিকা দেয়া হয়েছে। দেশজুড়ে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশব্যাপী ছয় দিনে ৩২ লাখ মানুষকে টিকা দিতে গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টায় নবাবগঞ্জের ১৪টি গণটিকাদান কেন্দ্রে টিকা দেওয়া শুরু হয়। বিকাল ৩টা পর্যন্ত এ ক্যাম্পেইন চলার কথা থাকলেও টিকা শেষ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়। নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন মঞ্জু ও উপজেলা চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন ঝিলু প্রতিটি কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

কোভিড-১৯ টিকা বাস্তবায়ন কমিটির নবাবগঞ্জ উপজেলার সদস্য সচিব ডা. শহিদুল ইসলাম বলেন, এই গণটিকাদান কর্মসূচি মানুষের মধ্যে একটা উৎসাহ-উদ্দীপনার তৈরি করবে। দেশজুড়ে শুরু হওয়া এই টিকাদান কর্মসূচিতে নবাবগঞ্জের কোন মানুষকে বাদ দেওয়া হবে না। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক এই কর্মসূচির আয়াত্বাধীনে পর্যায়ক্রমে সকলকে টিকা দেয়া হবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন মঞ্জু বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে ৬০০ করে, মোট ৮৪০০ টিকা দেয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে আরও ১২০০জনকে এই কর্মসূচীর আওতায় টিকা দেয়া হবে। যারা নিতে পারেননি, তারাও পরবর্তীতে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক টিকা নিতে পারবেন। টিকা গ্রহণে মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গিয়েছে। এখন, ২৫ বছরের নিচে বয়সীরা এলেও তারা রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন না। কারণ ভোটার আইডি কার্ড দেখে স্পট রেজিস্ট্রেশন করিয়ে তারপর টিকা দেওয়া হচ্ছে।

করোনা গণটিকাদান কেন্দ্রে ছিলো উপচেপড়া ভীড়। অনেক সময়ই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হতে দেখা গিয়েছে। যদিও স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রশাসনের ছিলো সক্রিয় অংশগ্রহণ। এছাড়া, বিভিন্ন কেন্দ্রে রাজনৈতিক সমর্থকদের আগে টিকাদান এবং নারীদের টিকাদানে আলাদা বুথ স্থাপন না করায়, অনেক নারীকেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে।

গণটিকাদানঃ দোহারে ৫৬০০জনকে দেয়া হলো টিকা

মোঃ আল আমিন, শরিফ হাসান ও শেখ শামীম; news39.net: শনিবার দোহারে উদ্বোধন হয়েছে গণ টিকাদান কর্মসূচি। ৭অগাস্ট থেকে ১২অগাস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত এই টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। গণটিকাদান কর্মসূচীতে দোহারে ৫৬০০জনকে দেয়া হলো টিকা । প্রথমদিনে দোহারের প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে ছিলো উপচেপড়া ভীড়। সেসময় স্বাস্থ্যবিধি মানাতে হিমশিম খেতে হয় প্রতিটি কেন্দ্রের কতৃপক্ষকে। এছাড়া, জয়পাড়া সরকারি মডেল স্কুল নিয়মিত কেন্দ্রে শনিবার ৬৭৮টি টিকা দেয়া হয়েছে। তাই, মোট ১০টি কেন্দ্রে মোট ৬২৭৮টি টিকা দেয়া হয়েছে। দেশজুড়ে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশব্যাপী ছয় দিনে ৩২ লাখ মানুষকে টিকা দিতে গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

শনিাবর সকাল ৯টায় দোহারের ৯টি গণটিকাদান কেন্দ্রে টিকা দেওয়া শুরু হয়। বিকাল ৩টা পর্যন্ত এ ক্যাম্পেইন চলার কথা থাকলেও টিকা শেষ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়। দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম ফিরোজ মাহমুদ নাঈম প্রতিটি কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

কোভিড-১৯ টিকা বাস্তবায়ন কমিটির দোহার উপজেলার সদস্য সচিব ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, গ্রামে-গঞ্জে প্রচুর মানুষ টিকা নিতে এসেছে। আমরা মনে করি, এই গণটিকাদান কর্মসূচি মানুষের মধ্যে একটা উৎসাহ-উদ্দীপনার তৈরি করবে। দেশজুড়ে শুরু হওয়া এই টিকাদান কর্মসূচি দোহার-নবাবগঞ্জে এলাকায় চলবে ৯ অগাস্ট পর্যন্ত। এছাড়া প্রথমদিন বাদ পড়া ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ের ওয়ার্ডে টিকা দেওয়া হবে ৮ ও ৯ অগাস্ট।

কোভিড-১৯ টিকা বাস্তবায়ন কমিটির দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদ নাঈম বলেন, আজকে আমরা টিকা কর্মসূচি শুরু করলাম। কোন মানুষকে বাদ দেওয়া হবে না। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক এই কর্মসূচির আয়াত্বাধীনে দোহারের সকলকে টিকা দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ১৮ বছরের বয়সীরা এলেও তারা রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন না। কারণ ভোটার আইডি কার্ড দেখে স্পট রেজিস্ট্রেশন করিয়ে তারপর টিকা দেওয়া হচ্ছে।

কুসুম হাঁটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন আজাদ জানান, সকাল থেকেই মানুষ টিকা নিতে কেন্দ্র ভীড় জমাচ্ছে। সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছি। আমাদের এখানে স্বেচ্ছাসেবকলীগের দশজন, ছাত্রলীগের দশজন,কৃষক লীগের দশজন, এমএইচভি, আনসার,পুলিশসহ ডাক্তাররা ছিলেন। আমাদের এখানে ১০০০ থেকে ১৫০০ হাজার লোক রয়েছে। আমরা কল্পনাও করতে পারি নাই যে, এত মানুষ হবে। আমাদের ৬০০ টিকা দিয়েছে। কিন্তু আমাদের আরো টিকা দরকার ছিল এত কম টিকায় হচ্ছে না।

দোহারের মাহমুদ ইউনিয়নের চর হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিকা নিতে আসা আমিন উদ্দিন (৬৫) জানান, টিকা কেন্দ্রে ভিতরে স্বাস্থ্য বিধি মানা হচ্ছে। কিন্তু বাইরে কোন স্বাস্থ্য বিধি মানছে না জনগন। আমি টিকা নিতে পেরে, আল্লাহ কাছে শুকরিয়া জানাই।

কুসুমহাটি ইউনিয়ন পরিষদের কার্তিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে টিকা নিতে আসা মো আলাউদ্দিন(৫৫) জানান,আমি সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত ভিতরে ঢুকেছি। কিন্তু ভিতর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। কি কারনে বের করে দিলো, আমি সেটা জানি না। তবে সরকার আমাদের সুযোগ দিয়েছে টিকা দিতে কিন্ত সে সুযোগ আমরা পাচ্ছি না।

করোনা গণটিকাদান কেন্দ্রে ছিলো উপচেপড়া ভীড়। অনেক সময়ই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হতে দেখা গিয়েছে। যদিও স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রশাসনের ছিলো সক্রিয় অংশগ্রহণ। এছাড়া, বিভিন্ন কেন্দ্রে রাজনৈতিক সমর্থকদের আগে টিকাদান এবং নারীদের টিকাদানে আলাদা বুথ স্থাপন না করায়, অনেক নারীকেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে।

দোহারে নতুন করে ৮৫ জনে করোনা শনাক্ত

দোহারে নতুন করে আরও ৮৫ জনেরে দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৬৩ জনে।

শুক্রবার (৭ অগাষ্ট ) রাত ১০ টা ৪৮ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, গত রবিবার ১ আগষ্ট উপজেলা থেকে ১৭৬ টি নমুনা পাঠানো হয়। এ থেকে ৮৫ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৪৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। নতুন করোনা শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ১৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ১১৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। উপজেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৩০ জন মারা গেছেন। বাসায় আইসোলেশনে আছে৬৯২ জন এবং হাসপাতালে চিৎসাধীন রয়েছে ২০ জন।

দোহার-নবাবগঞ্জসহ দেশব্যাপী কোভিড ভ্যাকসিন দেয়ার নতুন নির্দেশনা

news39.net: দোহার-নবাবগঞ্জসহ দেশব্যাপী কোভিড ভ্যাকসিন দেয়ার নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুসারে দোহার-নবাবগঞ্জের প্রত্যেক ইউনিয়নের যে কোন একটি ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রের ৩টি বুথ এবং দোহার পৌরসভার ১,২ ও ৩নং ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রের একটি বুথে টিকা দেয়া হবে। সুরক্ষা অ্যাপসের (surokkha.gov.bd) মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন ব্যতীত কাউকে ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে না। ১৮ বছরের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।

দোহারে যেসব স্থানে টিকা দেওয়া হবে
# ৮ ই আগস্ট নয়াবাড়ি, কুসুমহাটি, রাইপাড়া মাহমুদপুর ও বিলাসপুর ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহঃ
 নয়াবাড়ী – অরংগবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় – প্রধান শিক্ষক – জামাল উদ্দিন –
০১৮৬৬ ২০ ৭৬ ৭৪
 কুসুমহাটি – শিলাকোঠা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় – প্রধান শিক্ষক – রেজাউল করিম –
০১৭২১ ৬২ ৪১ ০৫
 রাইপাড়া – ইকরাশি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় – প্রধান শিক্ষক – একলাল উদ্দিন আহমেদ –
০১৭১৮ – ৩৬ ৬২ ৩৬
 জয়পাড়া – উত্তর জয়পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় – প্রধান শিক্ষক – কল্যাণি ঘোষ –
০১৭৭১৮ ২৪ ৩৩ ৬৮
 সুতারপাড়া – ঘাটা ১নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় – প্রধান শিক্ষক – জাহাংগীর আলম –
০১৭১২ ৫৭৬৩০৪
 নারিশা – মালিকান্দা এন্ড মেঘুলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় – প্রধান শিক্ষক (দায়িত্বে; প্রিন্সিপাল) অজয় কুমার রয় – ০১৭১৬ ৮৮০৩০৯
 মুকসুদপুর – মুকসুদপুর শামসুদ্দিন শিকদার উচ্চ বিদ্যালয় – প্রধান শিক্ষক – আহসান উল্লাহ – ০১৭১৬ ৪৫৮৯২৯
 মাহমুদপুর – হোসেনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় – প্রধান শিক্ষক – মাহমুদা আক্তার – ০১৮২০১২৫৮৭১
 বিলাসপুর – পদ্মা উচ্চ বিদ্যালয়।

# ৯ ই আগস্ট মুকসুদপুর নারিশা সুতারপাড়া এবং দোহার পৌরসভার নির্ধারিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ।
সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১:০০ পর্যন্ত টিকা প্রদান চলবে।
**বৃদ্ধ মহিলা এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের সকাল ৯ টা থেকে ১১ পর্যন্ত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং এর পরও কেউ আসলে তাকে টিকা দিতে হবে।