পদ্মা সেতু বাঁচাতে মৈনট – গোপালপুর হতে পারে মাওয়া ঘাটের বিকল্প

শরিফ হাসান, news39.net: পদ্মা সেতু বাচাতে মৈনট – গোপালপুর হতে পারে মাওয়া ঘাটের বিকল্প ফেরিরুট। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এই ব্যাপারে চিন্তাভাবনা চলছে বলেও জানা যায়। ‘সম্প্রতি, পদ্মা সেতুর পিলারে ২৩ দিনের মধ্যে চারবার ধাক্কা খেয়েছে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের বাংলাবাজার রুটে চলাচলকারী ফেরি। সবশেষ গত শুক্রবার, আগস্ট সকালে বাংলাবাজার ঘাট থেকে শিমুলিয়া ঘাটে আসার পথে কাকলি নামে একটি ফেরি সেতুর ১০ নম্বর পিলারটিতে ধাক্কা দেয়।

শুক্রবার নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী মাওয়া ঘাটে গিয়ে জানান, বারবার ফেরির ধাক্কার পর সেতু এড়িয়ে ফেরি চলাচলের জন্য ঘাট স্থানান্তরের চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন পেলে ঘাট স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

এক্ষেত্রে সম্ভাব্য ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের গোপালপুর ও ঢাকার দোহারের মৈনট ঘাটকে ফেরি চলাচলের বিকল্প রুট হিসেবে বিবেচনা করার দাবি সামনে এসেছে। ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের গোপালপুর থেকে ঢাকার দোহার উপজেলার মৈনট রুটে বর্তমানে ফেরি ছাড়া লঞ্চ, ট্রলার, স্পিডবোটসহ অনেক নৌযান চলাচল করে। ফরিদপুরের নগরকান্দা, সদরপুর ও ভাঙ্গা উপজেলাসহ আশপাশের এলাকার হাজারো যাত্রী প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গোপালপুর-মৈনট নৌরুট দিয়েই যাতায়াত করেন। এ নৌপথ দিয়ে যাত্রীরা স্পিডবোটে মাত্র ২০ মিনিটে পদ্মা নদী পার হতে পারেন। মৈনট থেকে দেড় ঘণ্টায় ঢাকা পৌঁছানো যায়।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, গোপালপুর-মৈনটঘাট রুটে ফেরি চালু হলে পদ্মা সেতুর সঙ্গে ফেরির ধাক্কা এড়ানো যাবে। পাশাপাশি মানুষের সময় ও অর্থ বাঁচবে। দুই পাশের রাস্তা সংস্কার আর ফেরি ঘাট স্থাপন করলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে এ রুটে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করা সম্ভব।

ইজারাদার হিসেবে গোপালপুর-মৈনট ঘাট পরিচালনা করেন দোহারের মাহমুদপুর ইউনিয়নের মেম্বার মো. আবুল কাশেম। ঘাটটি আবুল কাশেম মেম্বারের মামা আব্দুল আলিম মৃধার নামে ছয় কোটি ৩৫ লাখ টাকায় ইজারা নেওয়া। এ রুট চালুর জন্য শুধু প্রয়োজন পদ্মা নদীতে ড্রেজিং, সংযোগ সড়ক চওড়া এবং ঘাট নির্মাণ করা।

উল্লেখ্য, গোপালপুর-মৈনট রুটে ফেরি চলাচলের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গত বছরের ৩১ জানুয়ারি এলাকা পরিদর্শন করেন তৎকালীন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব পংকজ কুমার। সেদিন তিনি পদ্মা সেতু চালু হলে কোন রুটে ফেরি চলাচল সহজ হবে বলে জানিয়েছিলেন।

সেসময় ফরিদপুর সদরপুর এমপি নিক্সন চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ফেরি ঘাটটি চালুকরণের বিষয়টি আমার নির্বাচনী ওয়াদা। পুরো প্রক্রিয়া শেষের পথে। আগামী ৪-৫ মাসের মধ্যে ফেরি চালু হবে।

তবে সেই পরিদর্শন কার্যক্রমের পর করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রকোপ দেখা দেয় দেশে। তারপর থমকে যায় এই রুটে ফেরি চলাচলের আলোচনাও। এতদিন এই অঞ্চলের মানুষের যে ভোগান্তি হতো তা লাঘব হবে।

নিক্সন চৌধুরী সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমকে বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নে বিশ্বাসী। বর্তমান পরিস্থিতি ও এ রুটে ফেরি চলাচলের বিষয় নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ফেরি চালু হবে।

দোহারে ৫০ জনের করোনা শনাক্ত

দোহারে নতুন করে আরও ৫০ জনেরে দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৮১ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ৭ আগষ্ট শনিবার উপজেলা থেকে ৯২টি নমুনা পাঠানো হয়। এ থেকে ৫০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৫৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। নতুন করোনা শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ৭২৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৮১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। উপজেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৩৩ জন মারা গেছেন। বাসায় থেকে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ৪০৪ জন। এ ছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়ে উপজেলার ১৫ জন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, দোহার উপজেলায় ২৪ ঘন্টায় ৩০৪ জনকে কোবিডের ভ্যক্সিন দেওয়া হয়েছে। এপর্যন্ত দোহার উপজেলায় মোট ৬২২৯ জনকে সিনোফার্মা টিকা দেওয়া হয়েছে।

মহরম মাস নিয়ে মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র দোহারের সন্তান সাদীর কলাম

আশুরার গুরুত্ব, করণীয় ও বর্জনীয়

মোঃ দেলোয়ার হোসাইন সাদী, মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত, দোহারের কৃতি সন্তানঃ মহররম অর্থ সম্মানিত। এ নামের মাঝেই ফুটে উঠেছে এ মাসটির অবস্থান। আর এ মাসের দশম দিনকে আশুরার দিন বলা হয়। নিম্নে কুরআন ও হাদীসের আলোকে এ দিনটির গুরুত্ব, করণীয় ও বর্জনীয় তুলে ধরা হলো।

আশুরা সম্মানিত মাসসমূহের একটি দিন
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,
إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنْفُسَكُمْ.
অর্থ- আল্লাহ তা‘আলার বিধান মতে মাসের সংখ্যা মোট বারোটি, আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টির দিন হতেই। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং এ মাসসমূহে তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না। (সূরা তওবা, আয়াত ৩৬)
এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা চারটি মাসকে ‘আশহুরে হরুম’ বা সম্মানিত মাস বলে অভিহিত করেছেন। মর্রম মাস এ চারটি মাসের অন্যতম। আর এ মহররম মাসের দশম দিনকে আশুরার দিন বলা হয়।

আশুরা ‘শাহরুল্লাহ’ তথা আল্লাহর মাসের একটি দিন
আগেই বলা হয়েছে, মহররম মাসের দশম দিনকে আশুরার দিন বলা হয়। আর একাধিক হাদীসে মহররমকে ‘শাহরুল্লাহ’ তথা আল্লাহর মাস বলা হয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা রাযি. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ شَهْرُ اللهِ الْمُحَرَّمُ.
রমযানের পর সর্বশ্রেষ্ঠ রোযা হলো ‘আল্লাহর মাস’ মর্হরমের রোযা। (জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৪০)

আশুরার দিনে মূসা আ. শোকরানা রোযা রাখতেন
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন,
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَوَجَدَ الْيَهُودَ صِيَامًا، يَوْمَ عَاشُورَاءَ، فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا هَذَا الْيَوْمُ الَّذِي تَصُومُونَهُ؟ فَقَالُوا: هَذَا يَوْمٌ عَظِيمٌ، أَنْجَى اللهُ فِيهِ مُوسَى وَقَوْمَهُ، وَغَرَّقَ فِرْعَوْنَ وَقَوْمَهُ، فَصَامَهُ مُوسَى شُكْرًا، فَنَحْنُ نَصُومُهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَنَحْنُ أَحَقُّ وَأَوْلَى بِمُوسَى مِنْكُمْ فَصَامَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় এসে দেখতে পেলেন, ইহুদিরা আশুরার দিনে রোযা রাখে। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, কী ব্যাপার তোমরা এ দিনে রোযা রাখছ যে? তারা বলল, এটি একটি মর্যাদাপূর্ণ দিন। এ দিনে আল্লাহ তা‘আলা মূসা আ. ও তাঁর কওমকে ফেরাউনের কবল থেকে রক্ষা করেন আর ফেরাউন ও তার কওমকে সমুদ্রে ডুবিয়ে মারেন। তাই শোকর আদায় করার জন্য মূসা আ. এ দিনে রোযা রেখেছেন। আমরাও এ দিনে রোযা রাখি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মূসা আ.এর বিষয়ে আমরা তোমাদের চেয়ে বেশি হকদার। এরপর তিনি রোযা রাখলেন এবং অন্যদেরকেও রোযা রাখতে আদেশ করলেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৩০)
উক্ত হাদীস হতে বোঝা যায়, এ দিনে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বিশেষ কুদরতের প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন। সমুদ্রের মধ্যে পথ করে দিয়ে মূসা আ. ও তাঁর অনুসারীদেরকে রক্ষা করেছেনে। আর সেই পথ পারি দিতে গিয়ে ফেরাউন ও তার কওম ডুবে মরেছে। তাই শোকর আদায় করার জন্য মূসা আ. এ দিনে রোযা পালন করতেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও গুরুত্বের সঙ্গে রোযা রাখতেন
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন,
مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَحَرَّى صِيَامَ يَوْمٍ فَضَّلَهُ عَلَى غَيْرِهِ إِلَّا هَذَا اليَوْمَ، يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَهَذَا الشَّهْرَ يَعْنِي شَهْرَ رَمَضَانَ.
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আশুরার দিন এবং রমযান মাসে যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোযা রাখতে দেখেছি, সেরূপ অন্য কখনো দেখিনি। (সহীহ বুখারী, হাদীস ২০০৬)
এ হাদীস হতে বোঝার যায়, আশুরার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুবই গুরুত্বের সঙ্গে রোযা পালন করতেন। এমনকি জাহেলি যুগেও তিনি এ দিনের রোযার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন,
كَانَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ تَصُومُهُ قُرَيْشٌ فِي الجَاهِلِيَّةِ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُهُ، فَلَمَّا قَدِمَ المَدِينَةَ صَامَهُ، وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ، فَلَمَّا فُرِضَ رَمَضَانُ تَرَكَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، فَمَنْ شَاءَ صَامَهُ، وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ.
জাহেলি যুগে কুরায়শরা আশুরার দিনে রোযা রাখত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও রোযা রাখতেন। মদীনায় আসার পরেও তিনি এ দিনে রোযা রাখেন এবং অন্যদেরকে রোযা রাখতে আদেশ করেন। এরপরে যখন রমযানের রোযা ফরয হলো, তখন আশুরার রোযা (ফরয হিসেবে) রাখা ছেড়ে দেন। এরপর যে রোযা রাখার ইচ্ছা করত, সে রোযা রাখত আর যে রোযা না রাখার ইচ্ছা করত, সে রোযা রাখত না। (সহীহ বুখারী, হাদীস ২০০২)

এ দিনের রোযার বদৌলতে বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ হয়
সাহাবী হযরত আবু কাতাদাহ রাযি. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ، أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ، وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ، وَصِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ، أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ.
আমি আল্লাহ তা‘আলার নিকট আশাবাদি যে, আরাফার দিনের রোযার ওসিলায় তিনি পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। আমি আল্লাহ তা‘আলার নিকট আরো আশাবাদি যে, আশুরার দিনের রোযার ওসিলায় তিনি পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬২)

উক্ত হাদীস হতে বোঝা যায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশা করতেন, আশুরার দিনের রোযার বদৌলতে আল্লাহ তা‘আলা বিগত এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। তাঁর উম্মত হিসেবে আমরাও আল্লাহ তা‘আলার নিকট এ আশা করতে পারি।

নয় বা এগারো তারিখেও রোযা রাখা উচিত
সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন,
حِينَ صَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّهُ يَوْمٌ تُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ إِنْ شَاءَ اللهُ صُمْنَا الْيَوْمَ التَّاسِعَ قَالَ: فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ، حَتَّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নিজে আশুরার দিনে রোযা রাখা শুরু করলেন এবং অন্যদেরকে রোযা রাখতে আদেশ করলেন, তখন সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এই দিনটিকে তো ইহুদি-খ্রিস্টানরা সম্মান করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইনশাআল্লাহ, আগামী বছর নয় তারিখেও রোযা রাখব। ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, আগামী বছর আসার আগেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকাল হয়ে যায়। (সহীহ মুসলিম, হাদিস ১১৩৪)
উক্ত হাদীস হতে বোঝা যায়, ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য হওয়া থেকে বাঁচার জন্য নয় তারিখেও রোযা রাখা উচিত। যদি কোনো কারণে নয় তারিখে রোযা রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে এগারো তারিখে অবশ্যই রোযা রাখবে।
অপর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
صُومُوا يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَخَالِفُوا فِيهِ الْيَهُودَ، صُومُوا قَبْلَهُ يَوْمًا، أَوْ بَعْدَهُ يَوْمًا. (رواه الإمام أحمد في مسنده برقم ২১৫৪، وفي التعليق عليه: إسناده ضعيف، قلت: وله شواهد عدة قوية.)
তেমরা আশুরার দিন রোযা রাখবে। আর রোযা রাখার ক্ষেত্রে ইহুদিদের বিপরীত করবে এভাবে যে, তার আগে একদিন কিংবা তার পরে একদিন রোযা রাখবে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২১৫৪)

তওবা ও ইস্তিগফারের সুবর্ণ সুযোগ
হযরত আলী রাযি.-কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিল, রমযানের পরে আর কোনো মাস আছে, যাতে আপনি আমাকে রোযা রাখতে বলেন? উত্তরে তিনি বললেন, ঠিক এই প্রশ্ন এক সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে করেছিলেন, তখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তিনি উত্তরে বলেছিলেন,
إِنْ كُنْتَ صَائِمًا بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ، فَصُمُ الْمُحَرَّمَ، فَإِنَّهُ شَهْرُ اللهِ، فِيهِ يَوْمٌ تَابَ فِيهِ عَلَى قَوْمٍ، وَيَتُوبُ فِيهِ عَلَى قَوْمٍ آخَرِينَ. (رواه الإمام الترمذي في جامعه برقم ৭৪১، في باب بَابُ مَا جَاءَ فِي صَوْمِ الْمُحَرَّمِ، وقال: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ.)
রমযানের পরে যদি তুমি রোযা রাখতেই চাও, তবে মহররম মাসে রাখো। কেননা এটা আল্লাহ তা‘আলার মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ তা‘আলা একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তওবা কবুল করবেন। (জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৪১)
উক্ত হাদীস থেকে বোঝা যায়, আশুরার দিনে আল্লাহ তা‘আলা পূর্ববর্তী উম্মতের তওবা কবুল করেছেন এবং এ উম্মতের তওবা কবুল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই এ দিনে আল্লাহ তা‘আলার দরবারে বেশি বেশি ইস্তিগফার পাঠ করা এবং খালেস দিলে তওবা করা প্রতিটি
মুমিনের কর্তব্য।

আশুরা সংশ্লিষ্ট বানোয়াট বর্ণনা
আশুরার দিনটির গুরুত্ব প্রমাণ হওয়ার জন্য উপরোল্লিখিত আয়াত ও হাদীসসমূহই যথেষ্ট। কিন্তু বড়ই দুঃখের বিষয়, অনেকেই এ দিনের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগের বশে জাল হাদীস ও অনেক ভিত্তিহীন কথাবার্তার আশ্রয় নিয়ে থাকেন। এরকম কিছু ভিত্তিহীন বর্ণনা নিচে উল্লেখ করা হলো,
আশুরার দিন আল্লাহ তা‘আলা হযরত ঈদরীস আ.-কে আসমানে উঠিয়ে নিয়েছিলেন। এ দিনেই তিনি হযরত ইবরাহীম আ.-কে অগ্নিকু- থেকে রক্ষা করেছেন, মূসা আ.-কে তাওরাত দিয়েছেন, ঈসমাঈল আ.-এর জন্য আসমান থেকে দুম্বা পাঠিয়েছন, ইউসুফ আ.-কে জেলখানা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এ দিনেই ইয়াকূব আ. তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান। এ দিনেই আইয়ূব আ.-কে আরোগ্য দান করা হয়, ইউনুস আ.-কে মাছের পেট থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। এ দিনেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বাপর সব গুনাহ ক্ষমা করা হয়। এ দিনেই ইউনুস আ.-এর কওমের তওবা কবুল করা হয়, ঈসা আ.-কে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়, সুলায়মান আ.-কে রাজত্ব দান করা হয়। এ দিনেই আসমান-জমিন, নদী-নালা, পাহাড়-পর্বত ও সমুদ্ররাজি সৃষ্টি করা হয়। এ দিনেই আল্লাহ তা‘আলা লওহে মাহফূয ও কলম সৃষ্টি করেছেন। এ দিনেই আল্লাহ তা‘আলা আদম আ. ও জিবরাঈল আ.-কে সৃষ্টি করেছেন। এ দিনেই ইবরাহীম আ. ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়াতে জন্মগ্রহণ করেছেন। এ দিনেই দাউদ আ.-এর গুনাহ ক্ষমা করা হয়, এ দিনেই আল্লাহ তা‘আলা আরশে সমাসীন হন।

আশুরার আমল সম্পর্কে বানোয়াট কতগুলো বর্ণনা
নিচে আরো কয়েকটি ভিত্তিহীন বর্ণনা উল্লেখ করা হলো,
مَنْ صَامَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ كُتِبَتْ لَهُ عِبَادَةُ سِتِّينَ سَنَةً بِصِيَامِهَا وَقِيَامِهَا.
যে ব্যক্তি আশুরার তারিখে রোযা রাখে, তার আমলনামায় ষাট বছর রোযা রাখার এবং ষাট বছর রাত জেগে নামায পড়ার সওয়াব লিখে দেওয়া হয়।
مَنْ صَامَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ أُعْطِي ثَوَابَ عَشَرَةِ آلَافِ مَلَكٍ.
যে ব্যক্তি আশুরার তারিখে রোযা রাখে, তাকে দশ হাজার ফেরেশতার সওয়াব দেওয়া হবে।
مَنْ صَامَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ أُعْطِي ثَوَابَ أَلْفِ حَاجٍّ وَمُعْتَمِرٍ.
যে ব্যক্তি আশুরার তারিখে রোযা রাখে, তাকে এক হাজার হাজী ও উমরাকারীর সওয়াব দেওয়া হবে।
مَنْ صَامَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ أُعْطِي ثَوَابَ عَشَرَةِ آلَافِ شَهِيدٍ.
যে ব্যক্তি আশুরার তারিখে রোযা রাখে, তাকে দশ হাজার শহীদের সওয়াব দেওয়া হবে।
مَنْ صَامَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ كُتِبَ لَهُ أَجْرُ سَبْعِ سَمَاوَاتٍ.
যে ব্যক্তি আশুরার তারিখে রোযা রাখে, তার আমলনামায় সাত আসমানের সওয়াব লিখে দেওয়া হবে।
مَنْ أَفْطَرَ عِنْدَهُ مُؤْمِنٌ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ فَكَأَنَّمَا أَفْطَرَ عِنْدَهُ جَمِيعُ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ.
আশুরার তারিখে যার নিকটে কোনো রোযাদার মুমিন ইফতার করল, যেন উম্মতে মুহাম্মাদীর সকলে তার নিকট ইফতার করল।
مَنْ أَشْبَعَ جَائِعًا فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ فَكَأَنَّمَا أَطْعَمَ جَمِيعَ فُقَرَاءِ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَشْبَعَ بُطُونَهُمْ.
যে ব্যক্তি আশুরার তারিখে কোনো ক্ষুধার্তকে পরিতৃপ্ত সহকারে খাবার খাওয়াবে, সে যেন উম্মতে মুহাম্মাদীর সকল ফকীরকে আহার করালো এবং তাদের উদর পূর্ত করে দিল।
مَنْ مَسَحَ يَدَهُ عَلَى رَأْسِ يَتِيمٍ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ رُفِعَتْ لَهُ بِكُلِّ شَعْرَةٍ عَلَى رَأْسِهِ دَرَجَةٌ فِي الْجَنَّةِ.
যে ব্যক্তি আশুরার তারিখে কোনো এতিমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিল, মাথার প্রতিটি চুলের বদৌলতে জান্নাতে তার মর্যাদা বুলন্দ হবে।
বিভিন্ন পুস্তিকা ও পত্র-পত্রিকায় এان সব কথা উল্লেখ করা হয়ে থাকে এবং বিভিন্ন ওয়ায-মাহফিলে এগুলো বলা হয়ে থাকে। অথচ এগুলোর কোনোটাই গ্রহণযোগ্য সূত্র দ্বারা প্রমাণিত নয়। এগুলো বিশ্বাস করা জায়েয নয়। ওয়াযে বা বক্তৃতায়, বলায় বা লেখায় এগুলো উল্লেখ করাও ঠিক নয়।
ইমাম বায়হাকী রহ. ‘ফাযায়েলুল আওকাত’ গ্রন্থে একটি জাল বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। উক্ত কথাগুলো সেই জাল বর্ণনারই অংশবিশেষ। ইমাম বায়হাকী রহ. উক্ত জাল বর্ণনাটি উল্লেখ করার পর তাঁর শায়খের বরাত দিয়ে বলেছেন,
هَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ، وَإِسْنَادُهُ ضَعِيفٌ بِمَرَّةٍ وَأَنَا أَبْرَأُ إِلَى اللَّهِ مِنْ عُهْدَتِهِ، وَفِي مَتْنِهِ مَا لَا يَسْتَقِيمُ، وَهُوَ مَا رُوِيَ فِيهِ مِنْ خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرَضِينَ وَالْجِبَالِ كُلِّهَا فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ، وَاللَّهُ تَعَالَى يَقُولُ: {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} وَمِنَ الْمُحَالِ أَنْ تَكُونَ السِّنَّةُ كُلُّهَا فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ، فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى ضعْفِ هَذَا الْخَبَرِ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

(বিস্তারিত জানতে দেখুন, আলআসরারুল মারফুআহ ২৯৪-৩০০; আলমানারুল মুনীফ ৪৭-৫২; তানযীহুশ শরীয়াহ ২/১৪৯-১৫১; এসব হাদীস নয় ২/১১৮-১২৫)

আশুরায় বর্জনীয় কতগুলো বিষয়
আশুরাকে কেন্দ্র করে সমাজে নানান কুপ্রথা ও বিদআত সৃষ্টি হয়েরছ। কিছু কিছু কাজ এমনও করা হয়, যেগুলো শিরক পরযায়ের। এ সকল কুপ্রথার নেপথ্যে রয়েছে শিয়াসম্প্রদায়। তাদের দৃষ্টিতে আশুরার গুরুত্ব কেবল কারবালার ঘটনা এবং শাহাদাতে হুসায়নকেই কেন্দ্র করে। এ দিকে লক্ষ করে তারা তাজিয়া, মরসিয়া, হায় হুসায়ন বলে আহাজারী, বুক চাপড়ানো, শোক পালন, বিবাহ বা অন্যান্য অনষ্ঠান হতে বিরত থাকা, এ দিনকে অশুভ মনে করা, শরবত পান করানো, খিচুরি পাক করে বিতরণ ইত্যাদি প্রথা চালু করেছে। এদের সাথে তাল মিলিয়ে সমাজের মূর্খ ও বিদআতী লোকেরাও এসব ইসলামবিরোধী বিষয়কে দ্বীন ও শরীয়ত হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে। যা থেকে বেঁচে থাকা সকল মুসলিমের জন্য আবশ্যক।

                                               

দোহার নবাবগঞ্জের ফলের বাজারে আগুনঃ পুড়ছে সাধারণ মানুষ

শরিফ হাসান, মিথুন এইচ জয় ও মোঃ আল-আমিন, news39.net:
দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে উঠেছে মৌসুমি ফল। চলছে হরদম কেনা-বেচা। এছাড়া এসময়ে কোভিড-১৯সহ বেড়েছে বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ। তাই, ফলের চাহিদাও অনেক। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এসব ফলের রয়েছে ভীষণ চাহিদা। এছাড়া, অতিথি আপ্যায়নেও এসব ফল দোহার-নবাবগঞ্জে আদর্শ খাবার। দোহার উপজেলার বিশেষ করে জয়পাড়া বাজারসহ মেঘুলা, নারিশা, মুকসুদপুর, লটাখোলা, কার্তিকপুর এবং বাংলা বাজার এবং নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা, বারুয়াখালী, শিকারীপাড়া, নবাবগঞ্জ বাজার, বাগমারা, কোমরগঞ্জ, গালিম, চুড়াইন সহ প্রায় প্রতিটি বাজারের এসব রসালো ফলের দাম আকাশ্চুম্বী। বিভিন্ন ফলের মধ্যে বিশেষ করে ডাব ,আনারস, আখ, বিলাতিগাব, ডালিম এবং খেজুরের দাম মধ্যবিত্তদের হাতের নাগালের বাহিরে। কোভিড আক্রান্ত রোগীদের স্বজনদের এসব ফল কিনতে হিমশিম খেতে দেখা যায়। এদিকটায় যেন নজর নেজনপ্রশাসনের। তাই বাজার লাগামহীন। আর এই লাগামহীন বাজারে ফলের দামের আগুনে পুড়ছে সাধারণ মানুষ।

রোগীর জন্য ডাব কিনতে আসা জুবায়ের হাসান জানান, আমি আমআর আন্টির জন্য একটা ডাব কিনতে এসেছি। এসে দেখি ডাবের মধ্যে আগুন লেগেছে। আগে যে ডাব ৭০-৯০ টাকায় কিনতাম সে ডাব এখন ১৩০-১৫০ টাকা। দুটি ডাব কিনতে এসেছিলাম, ২টি ডাবের দাম ৩০০ টাকা চাইলো। তাই, একটাই কিনে নিয়ে যাচ্ছি।

এবিষয়ে, জয়পাড়া বাজারে ডাব বিক্রেতা সুমনের (৩৫) কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা গাছে থেকেই ডাব পেরে এনে বাজারে বিক্রি করি। আমরা ডাব বেশি দামে কিনেছি, সেজন্য বেশী দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। তাছাড়া জয়পাড়া বেশ কয়েকটি হাসপাতাল থাকায় ডাবের চাহিদা বেশি। দূর থেকেও ডাব নিয়ে আসতে হয়৷

তিনি আরও বলেন, আগে যে পরিমাণ ডাব গাছ ছিল, এখন সে তুলনায় ডাব গাছ কম। তাই, ডাবের দাম বেশী দিয়ে কিনে আনতে হয়।

অন্যদিকে গরম বেশী হওয়ায়, দোহার-নবাবগঞ্জে বেড়েছে রসালো ফল আনারসের চাহিদা।
বাগমারা বাজারে কথা হয় ফলক্রেতা আল আমিন সাথে। তিনি জানান, বউ অসুস্থ, তাই আনারস কিনতে এসেছি। কিন্তু এখন দেখি যে দাম তা আমাদের হাতের নাগালের বাহিরে। এক জোড়া আনারস দাম চাচ্ছে ২০০ টাকা। রমজান মাসেও এত দাম ছিলনা। এরচেয়ে অন্যকিছু নিয়ে যাই।

এবিষয়ে আনারস বিক্রিতা হানিফ ব্যাপারী বলেন, প্রথম প্রথম দাম একটু বেশি। আর বর্তমানে যে আনারস বাজারে আছে সেই আনারস বড় সাইজের। কিনতে, ভাড়া দিয়ে আনতে যা খরচ হয়, এরচেয়ে নিচে বেচলে তাহলে আর লাভ হয় না৷

এদিকে দোহার-নবাবগঞ্জের আরেকটি মৌসুমি ফল আখ ও গ্যান্ডারীর দামও তুলনামূলক বেশি। জয়পাড়া কলেজ গেটের আখ কিনতে আসা আসিফ জানান, একহালি গ্যান্ডারীর দাম তিনশত টাকা চায়। গ্যান্ডারী খাওনের চেয়ে, পোলাপানরে চিনি দিয়া শরবত খাওয়ায়। এখন মৌসুমে সময় আর এই সময় যদি এত দাম হয়। তাহলে যারা গরিব মানুষ দিন আনে দিন খায়, তারা ক্যামনে খাইবো। কোন কিছুরই কোন সিস্টেম নাই। যার যেমন ইচ্ছ্বা, সেমনে চলতাছে।

আখচাষি ও বিক্রেতা ইউসুফ (৩৫) জানান, গতবছর বন্যার পানিতে আখ ডুবে যায়। এতে, আমাদের অনেক টাকা লোকসান হয়। আর এবছর এমনিতেই আখের চাষ কম হয়েছে। সেজন্যই এখন আখের দাম একটু বেশী।

এই ব্যাপারে, দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি news39.net কে বলেন, খুব শীঘ্রই দোহারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে, ন্যায়সংগত বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হবে। আর যারা অন্যায্য দামে বিক্রি করছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

দোহারে তিন মাদকসেবী আটক

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় ৩ মাদক সেবীকে আটক করেছে দোহার উপজেলা পুলিশ। পরে তাদের ভ্রাম্যমান আদালতের সামনে হাজির করলে প্রত্যেককে ৩ মাসের জেল ও এক হাজার টাকা করে জরিমানা করে আদালত।

জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দোহার থানা পুলিশের ফুলতলা ফাড়ির এসআই নান্টু কৃষ্ণ মজুমদার দোহারের মুকসুদপুর ইউনিয়নের মাধবপুর থেকে তাদের আটক করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। তারপর তাদেরকে দোহার উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ভূমি) ফজলে রাব্বীর আদালতে হাজির করা হয়। এই সময় আদালত তাদের প্রত্যেককে এক হাজার টাকা জরিমানা ও ৩ মাসের জেল প্রদান করে। এই সময় দোহার উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারি কমিশনার(ভূমি) ফজলে রাব্বি নিউজ৩৯কে বলেন, তাদেরকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ২০১৮ এর ৩৬ ধারার ১ উপধারার ২১ ক্রমিক অনুসারে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হয়। এই সময় তিনি আরো বলেন, দোহার উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে এবং মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।  আটক কৃত দুই জনের বাড়ি নবাবগঞ্জ ও একজনের বাড়ি দোহারে। নবাবগঞ্জ থেকে তারা মাদক সেবনের উদ্দেশ্যে দোহারে এসেছিল বলে আদালতের কাছে স্বীকারক্তি প্রদান করে।

দোহারে নতুন করে ২১ জনের করোনা শনাক্ত

দোহারে নতুন করে আরও ২১ জনেরে দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৩৩ জন।

আজ বুধবার সকাল ৪টা ৪৪ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ৫ আগষ্ট সোমবার উপজেলা থেকে ৩০টি নমুনা পাঠানো হয়। এ থেকে ২১ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৭০ শতাংশ। নতুন করোনা শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ৬২৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৩৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। উপজেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৩২ জন মারা গেছেন। বাসায় থেকে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ৫৭৫ জন। এ ছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়ে উপজেলার ১৫ জন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, দোহার উপজেলায় ২৪ ঘন্টায় ৩২২ জনকে কোবিডের ভ্যক্সিন দেওয়া হয়েছে। এপর্যন্ত দোহার উপজেলায় মোট ৫৬১৬ জনকে সিনোফার্মা টিকা দেওয়া হয়েছে।

দোহার নবাবগঞ্জে মরিচে এখন অনেক ঝাঝ: ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক

দোহার-নবাবগঞ্জের মরিচে এখন অনেক ঝাঝ। দোহারের জয়পাড়া বাজার, মেঘুলা বাজার, নারিশা বাজার, মুকসুদপুর বাজার, কার্তিকপুর বাজার আর নবাবগঞ্জের বান্দুরা বাজার, নবাবগঞ্জ বাজার, বাগমারা বাজার এবং কোমরগঞ্জ বাজার ঘুরে দেখা গেছে কাচা মরিচের দাম আকাশ্চুম্বী। সাধারণের ধরা-ছোয়ার বাইরে দাম। নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা মরিচে মূল্য এখন বাজার ভেদে ২০০-২৪০ টাকা। দোহারের অন্যতম বড় বাজার জয়পাড়া বাজারে ক্রেতাদের নাগালের বাহিরেই চলে যাচ্ছে মরিচসহ গাজর, শশা, পিয়াজের দাম।

নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সহজলভ্য হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন অঞ্চল হতে দোহারের জয়পাড়া বাজারে ভীড় করে ক্রেতা-বিক্রেতা। ক্রেতাদের চাহিদা সুযোগ নিয়ে ক্রমেই বিভিন্ন দ্রব্যমূল্য বেড়েই চলছে।যার ভোক্ত ভোগী সাধারন জনগন। ভালােমানের এক কেজি কাঁচামরিচ কিনতে এখন গুনতে হচ্ছে ২২০ টাকা! তবে নিম্নমানের কাঁচামরিচ ২০০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) এই প্রতিবেদক সরেজমিন দোহার- নবাবগঞ্জ উপজেলার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের তুলনায় কাচা মরিচের সরবরাহ বেশি। এ কারণে দাম খানিকটা কম। একদিন আগেও প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দক্ষিণ জয়পাড়া ক্রেতা আবুল হাসান বলেন, কয়েকদিন আগে যে কাঁচা মরিচ আমরা ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি কিনলাম, সেটাই এখন বেড়ে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ অবস্থায় মরিচ কেনা দূরে থাক, হাত দেওয়ায় মুশকিল হয়ে পড়েছিল। দাম আগের অবস্থায় ফিরলে আমাদের জন্য সুবিধা হবে।

কাঁচা মরিচ বিক্রেতা কবির হোসেন ও লাল মিয়া বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে কাঁচা মরিচের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তাই, সরবরাহ কমে গেছে। যে কারণে দাম চড়া।

মরিচ চাষী হেলাল বলেন, আমাদের খরচ বেশি। উৎপাদন কম হইছে। এখন দাম বাড়লে কি হবে, এখনতো বাইরের মরিচ সব। আমাগো মরিচের টাইম তো দামই পাই নাই। এরকম হইলে, আগামী বছর আর মরিচ চাষ করুম না।

ইউসুফপুর বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা শিরু বেগম বলেন, ১ কেজি কাঁচামরিচ যে কিনব সে সাহস করতে পারি না। গত এক সপ্তাহ ধরে, কাঁচামরিচের আকাশছোঁয়া দামে বাজারে ঝাঝ শুরু হয়েছে। তাই তরকারি খাওয়া কমাই দিছি।

এবিষয়ে দোহার উপজেলা কৃষি অফিসার ইয়াকুব মামুন জানান, দোহার উপজেলায় অন্তত ১৫ থেকে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে মরিচ উৎপাদন এর কাজে ব্যবহার করে কৃষকরা। নবাবগঞ্জে এর চেয়ে আবাদি জমি কিছু বেশি হবে। মরিচ চাষিরা বিগত ২ থেকে ৩ মাস আগেই উৎপাদনে ব্যস্ত ছিলো। কিন্তু, সেসময় দোহারে বৃষ্টি হওয়ায়, মরিচ উৎপাদন কম হয়। একই কারণে মরিচও পঁচে যায়। ফলে, দোহার-নবাবগঞ্জের কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তবে মরিচের মূল্য বাড়ায় দোহারে কৃষকদের কোন লাভ হচ্ছে না। এজন্য কৃষকদের সবজি চাষে উৎসাহ প্রদানে আমরা মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি। তাছাড়া, দোহারে কাঁচামরিচের উৎপাদন কম হওয়ায়, দাম একটু বেশি রয়েছে।

দোহারে নতুন করে ৭০ জনের করোনা শনাক্ত

 ২ হাজার ৩১৩ জন।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৪টা ০৫ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ৪ আগষ্ট বুধবার উপজেলা থেকে ১৯৫টি নমুনা পাঠানো হয়। এ থেকে ৭০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৩৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ। নতুন করোনা শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ৫৯৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩১৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। উপজেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৩২ জন মারা গেছেন। বাসায় থেকে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ৫৮৯ জন। এ ছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়ে উপজেলার ১৭ জন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অসহায় মহিলার পাশে দোহার উপজেলা প্রশাসন

শরিফ হাসান ও মোঃ আল-আমিন, news39.net:
স্বামী পরিত্যাক্ত অসহায় একজন নারী, নাম আয়েশা বেগম। বয়স ত্রিশ। বাড়ি দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের মালিকান্দা। স্বামী না থাকায় অসহায় এই নারী করুণ অবস্থায় দিনাতিপাত করছিলেন। দেখার কেউ নেই। মেয়ে এবং অনাগত শিশুর ভরণপোষণে বাবাও অক্ষম।
তবে বিষয়টি জানতে পেরেই তার বাড়িতে তাকে দেখতে ছুটে যান দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম ফিরোজ মাহমুদ নাঈমের নির্দেশে দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি। ৯ অগাস্ট, সোমবার বিকেলে আয়েশাকে দেখতে গিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটান এসি ল্যান্ড ফজলে রাব্বি। প্রশাসনের পক্ষে থেকে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ সহায়তা দেন।

এসময় এসি ল্যান্ড ফজলে রাব্বি বলেন, আয়েশা বেগম অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছিলেন। এছাড়া তিনি গর্ভবতীও। তার অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে তার বাড়িতে দেখতে যাই। তাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগীতা করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু নগদ সাহায্য দেয়া হয়েছে। সমাজের বিত্তবানদের উচিত আশেপাশের অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো।

দোহারে প্রশাসনের অভিযান ১১ জনকে জরিমানা

ঢাকার দোহারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ১১ জনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বির নেতৃত্বে দোহারের বিভিন্ন এলাকায় ও দোকানপাট বন্ধ নিশ্চিত করতে এ অভিযান চালানো হয়।

জানা গেছে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে জয়পাড়া বাজার, থানার মোড় ও পালামঞ্জ বাজারে দোকান খোলা ও স্বাস্থ্য বিধি অমান্য করার দায়ে ১১ জনেক ভ্রাম্যমাণ আদালত ১১ টি মামলায় ৪ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করেন।

সে সময় ফজলে রাব্বি news39.netকে জানান, অদ্য দোহার উপজেলার পালামগঞ্জ, জয়পাড়া বাজার এবং থানা মোড় এলাকায় উপজেলার পক্ষ থেকে মাস্ক বিতরণ এবং স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে অভিজান পরিচালনা করা হয়। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে সাধারণ জনগণের উদাসীনতা কোভিড পরিস্থিতিতে ঝুকিপূর্ণ হতে পারে। তাই এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। ঘরে থাকুন, লকডাউন মেনে চলুন।

লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে কাজ করছেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম ফিরোজ মাহমুদ, দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি, দোহার থানার পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা।